depression লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
depression লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

১৯ এপ্রি, ২০২০

ডিপ্রেশনে ভোগা মানুষের সাথে যে আচরণ অবশ্যই পরিতাজ্য

আমরা মুসলিমরা পারস্পরিক দ্বীনের কথা, উপকারী কথা স্মরণ করিয়ে দিবো, এটা ঈমানেরই একটা দাবি। এই কাজটা হয় আল্লাহকে ভালোবেসে, অপরকে ভালোবেসে। আমরা জানি আল্লাহই সকল হিদায়াতের মালিক, তিনি সুন্দর, তিনি কোমলচিত্ত। তাই, কাউকে উপদেশ দিতে হলে সেটা হবে ভালোবেসে। যাকে চিনিনা, এমন কাউকে অপ্রয়োজনীয় ও অযাচিত উপদেশ দেয়াও উচিত নয়; তা করতে হয় প্রজ্ঞার সাথে। তবে যাদের আমরা চিনি, জানি, ভালোবাসি, তাদের যদি আমরা দেখি বিষণ্ন, দুঃখে জর্জরিত, তখন সচেতনভাবেই পাশে থাকা উচিত। তাকে এমন কথা বলা উচিত নয় যাতে সে আহত হয়। বরং বুদ্ধিমত্তার সাথে, ভালোবেসেই কথা বলতে হবে যে জিনিসটায় তার উপকার হয়। মানুষ অনেক সময় উপদেশ ছাড়াই কাছের মানুষদের সান্নিধ্যে পেলেই সঠিক বুঝ পেয়ে যায়, অনেক সময় তাদের হয়ত বকা দিতে হয়। এই ব্যালান্সটা তখনই সম্ভব, যখন আমরা ওই মানুষটাকে জানবো ও ভালোবাসবো।

তবে কেউ যখন ডিপ্রেসড থাকে, তার অবস্থা আসলে তার নিজের নিয়ন্ত্রণে থাকে না বলেই সে ডিপ্রেশনে ভুগে। সচেতনভাবেই তাদের পাশে থাকতে হবে, উপদেশও খেয়াল করে দেয়া উচিত। অন্তত এমন কথা বলা উচিত নয় যা হয়ত তাকে আরো আহত করবে। সচরাচর যে বিষয়গুলো সহজেই একজন ডিপ্রেশনে ভোগা মানুষকে আমরা বলে ফেলি কিন্তু সেগুলো তাকে কষ্টও দিতে পারে এমন বিষয়গুলো হলো--




১) "জীবনের ভালো বিষয়গুলোর দিকে দেখো" 

- আসলে সে তো ভালো দিক ত সে দেখতে পাচ্ছে না বলেই সে বিষণ্ণ, ডিপ্রেসড। এভাবে বললে হয়ত তাকে অন্যায়ভাবে জাজ করা হয়ে যেতে পারে। সে মনে করতে পারে সে জীবনের ভালো দিকগুলো দেখতে পায় না, সে আসলে অকৃতজ্ঞ। এই ইঙ্গিতে সে নিজের প্রতি আস্থা হারিয়ে ফেলতে পারে। আমরা এই উপদেশগুলো মানুষটিকে বুঝে তবেই দিবো...

২) "সবর করো, ধৈর্য ধরো!" 

- কেউ যদি ডিপ্রেসড থাকে, তাকে যদি বলতে থাকা হয় যে "ধৈর্য ধরো... ধৈর্য ধরো"-- অনেক সময়েই এটা এক ধরনের জাজমেন্ট করা হয়। এতে করে বলেই দেয়া হচ্ছে ইঙ্গিতে যে সে সবর করছে না, যে আসলে ধৈর্যহীন। হয়ত তার এখন এই কথাটা শোনা প্রয়োজন নেই, বরং যে কথা শুনলে, তার আল্লাহর উপরে, নিজের উপরে আস্থা বৃদ্ধি পাবে এমন কথা বললে সে হয়ত আপনাতেই ধৈর্যধারণ করবে আল্লাহর কাছ থেকে বিনিময় পাওয়ার আশায়...

৩) "এই দোয়া পড়ো, ঐ দোয়া পড়ো..." 

- দু'আ করলে, আল্লাহর স্মরণ করলে তা অবশ্যই মানুষের হৃদয়কে প্রশান্ত করে, মনের শান্তির কারণ হয়। আল্লাহ কুরআনে বলেছেন "যারা বিশ্বাস স্থাপন করে এবং তাদের অন্তর আল্লাহর যিকির দ্বারা শান্তি লাভ করে; জেনে রাখ, আল্লাহর যিকির দ্বারাই অন্তর সমূহ শান্তি পায়।" [১]। কিন্তু কেউ যখন ডিপ্রেসড, তাকে গিয়ে যদি আমরা বলে ফেলি যে, "এই দোয়া পড়ো, ঐ দোয়া পড়ো..." তাতে হয়ত একটা জাজমেন্ট স্পষ্ট থাকে যে আসলে ডিপ্রেসড ব্যক্তি দোয়া পড়ে না। এতটুকু জ্ঞানও হয়ত তার নাই! আল্লাহ তো অন্তরের কথাই জানেন, একদম দোয়ার শব্দই তো লাগে না, তাইনা? এটা আমরা জেনে বুঝেই যদি তার প্রতি সহমর্মী হয়ে আরো উপকারী পদ্ধতি হিসেবে দোয়ার কিছু একটা সামনে রেখে দিই, আল্লাহ জানেন, হয়ত নিজে থেকেই সে আগ্রহী হয়ে আল্লাহর কাছে আরবি দোয়াগুলো দিয়েই চাইবে। কিন্তু আমাদের আচরণ হতে হবে ভারসাম্যপূর্ণ ও ভালোবাসাপূর্ণ।

8)"আরেহ, বাদ দাও এইসব ডিপ্রেশন, এগুলা কোনো ব্যাপারই নাহ.." 

- এই কথা বলা খুব বাজে একটা কাজ। যে মানুষ বিষণ্ণতায় ভোগেনি সে ভাবতেও পারে না এর অনুভূতিটা কেমন। এখনকার সামাজিক জীবনে এটা নানানভাবে লোকজনকে আঁকড়ে ধরে। তবে ঈমানদারগণ ইনশাআল্লাহ সহজেই বেরিয়ে আসতে পারবে। এই বিশ্বাস নিজে রেখে অপর ভাই/বোনের পাশে দাঁড়িয়ে তাকে উদারতার হাত বাড়িয়ে দেয়া দরকার। কিন্তু এসব অনুভূতিগুলোকে যখন তুড়ি মেরে উড়িয়ে দিতে বলা হয়, তখন সে এতে সংকুচিত হয়ে যাবে, আরো খারাপ ফিল করবে, অপমানিত অনুভব করবে। আমরা হয়ত তাকে আরো সুন্দর কোনো কাজে তার সংগী করে নিতে পারি যাতে লোকের উপকার আছে, যেখানে ব্যস্ত হয়ে সে বিষণ্ণ অনুভূতিকে নিয়ে ব্যস্ত থাকার সুযোগ পাবে না।

৫) "তোমার চেয়েও লোকে অনেক খারাপ অবস্থায় আছে ..."

- এই ব্যাপারটা আমাদের মধ্যে খুব প্রচলিত। হয়ত যখন তখন অসাবধান হয়ে অন্যকে আমরা বলে বসি, "দেখো তুমি এটুকুতেই এরকম মন খারাপ, ওই যে দেখো ইয়েমেনের লোকেরা না খেয়ে আছে। ওদের দিকে তাকিয়ে হলেও ভালো থাকো।" -- এটা ঠিক নয়। ইয়েমেনের শিশুরা খেতে পারছে না, এটা খুবই বড় সত্য। কিন্তু তার মানে তো এটা না যে আমাদের জীবনের কষ্টগুলো মিথ্যে। বরং, অপরের দিকে ভালোবাসা আমাদের নিজেদেরকেও ভালোবাসার পথ সুগম করে দেয়। পরোপকার করতে চাওয়ার ইচ্ছে আমাদের অন্তরকে উদার করে দেয়, ঈমানকে বাড়িয়ে দেয়। তাই এমনভাবে না বলে বরং মানুষটি যেভাবে নিজের কষ্টকে ভুলে ভালো কাজে উৎসাহী হবে, আল্লাহর প্রতি ভরসা রেখে জীবনের কাজে ব্যস্ত হবে এমন কিছু বলা উচিত।

মোটকথা, সচেতনভাবে মানুষের সাথে ভালোবাসা ছড়িয়ে দিতে হবে। অনেকসময় আমাদের অনেকের কেবল প্রয়োজন হয় ভালোবাসা, সহমর্মিতা। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা আমাদেরকে উত্তম আখলাক দান করুন, দ্বীনের উত্তম বুঝ দান করুন, আমাদেরকে জান্নাতুল ফিরদাউস নসীব করুন।

রেফারেন্সঃ
[১] সূরা আর-রাদ, আয়াত ২৮ http://tanzil.net/#trans/bn.bengali/13:28
[২] শেইখ আজহার নাসেরের আলোচনা শুনুনঃ https://www.youtube.com/watch?v=MPhYITkCJ_0

১৯ জানু, ২০১৬

বিদায় ২০১৫ : পাওলো কোয়েলহো


বিদায় ২০১৫
সবাইকে জানতে হয় কখন কোনো একটা পর্যায় শেষ হয়। যতটুকু প্রয়োজন, তার চেয়ে বেশি সময় তাকে থাকার জন্য যদি আমরা জোর খাটাই, আমরা শান্তি হারিয়ে ফেলবো। আরো হারাবো সেই পর্যায়টির মধ্য দিয়ে যাওয়ার কারণে যা শেখা যায় সে ব্যাপারগুলোকেও।

কোনো একটি পর্যায়ের শেষ, দরজা বন্ধ হওয়া, অধ্যায়ের পরিসমাপ্তি — যে নামটিই আমরা দেই না কেন, যা গুরুত্বপূর্ণ তা হলো জীবনের যে মূহুর্তগুলো শেষ হয়ে গেলো, তাদের ছেড়ে দেয়া।

আপনি কি চাকরিটা হারিয়েছেন? ভালোবাসার সম্পর্কটি শেষ হয়ে গেছে? বাবা-মায়ের বাড়িটি ছেড়ে আসতে হয়েছে? দেশ ছেড়ে প্রবাসে গিয়েছেন? দীর্ঘকাল ধরে চলা বন্ধুত্বের সম্পর্কটি হঠাৎ শেষ হয়ে গেছে?

আপনি দীর্ঘ সময় কাটিয়ে দিতে পারবেন কেন এমনটা হলো তা ভাবতে ভাবতে।

আপনি নিজেকে নিজে বলতেই পারেন– যে জিনিসটি আপনার জীবনে এতটা দৃঢ়ভাবে ছিলো, এতটা গুরুত্বপূর্ণ ছিলো তা হঠাৎ করে কেন এমন করে ধূলিস্মাত হয়ে গেলো তার কারণ উদঘাটন না করে আপনি আর একটি পদক্ষেপও দিবেন না সামনের দিকে।

কিন্তু এমন আচরণ আপনার সাথে জড়িয়ে থাকা সবগুলো মানুষকে তীব্র কষ্টের মাঝে রাখবে – আপনার বাবা-মা, আপনার স্বামী কিংবা স্ত্রী, আপনার ভাই-বোন, সন্তান, বন্ধুদের।

সবাই তাদের নিজ অধ্যায়গুলো শেষ করে চলেছে, নতুন পাতা উল্টেছে, জীবনে সবাই যখন এগিয়ে চলেছে তখন আপনাকে স্থির দাঁড়িয়ে থাকতে দেখলে সবার খারাপ লাগবে।

সবকিছুই পেরিয়ে যায়। সবচেয়ে  ভালো যে কাজটি আপনি করতে পারেন তা হলো সত্যিকারভাবে পার হয়ে যেতে দিন।

সে কারণেই যে কাজটি সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ (যত কষ্টেরই হোক না কেন) তা হলো স্মৃতিগুলো ধ্বংস করে ফেলা। এগিয়ে চলুন, এতিমদের অনেক কিছু দান করুন, আপনার কাছে থাকা বইগুলো বিক্রি করুন নয়ত উপহার দিয়ে দিন।

আপনি যা কিছু দেখতে পান, তার সবকিছুই অদৃশ্য জগতের একটা স্পষ্ট প্রতিচ্ছবি– তাই কিছু স্মৃতিদের হাত থেকে নিজেকে মুক্তি দেয়া মানে অন্যান্য স্মৃতিদের সেখানে কিছু জায়গা করে দেয়া।

যা কিছু যাবার যেতে দিন। মুক্তি দেন সেগুলোকে। নিজেকে তাদের থেকে দূরে সরিয়ে নিন। জীবনকে কেউ কখনো স্পষ্ট করে বুঝতে পারে না; তাই আমরা কখনো জয়ী হই এবং কখনো হেরে যাই।

কোন কিছুর বিনিময় চেয়ে কাজ করবেন না, আশা করবেন না আপনার কাজগুলো প্রশংসিত হবে। তেমনি আশা করবেন না আপনার প্রতিভার স্ফূরণ হবে, আপনার ভালোবাসা কেউ বুঝতে পারবে।

আপনার আবেগের টেলিভিশনে একই অনুষ্ঠান একটানা বারবার করে দেখা বন্ধ করুন যেখানে আপনি দেখতে পান কেমন করে আপনার একটা ক্ষত হয়েছিলো আর তাতে আপনি কতটাই না ভুগেছেন– এমন ব্যাপার তো আপনাকে শুধুই বিষাক্ত করে চলেছে, আর কিছুই নয়।

আপনার ভালোবাসার যে সম্পর্কটি ভেঙ্গে গেছে, তাকে গ্রহণ করতে না পারার মতন ভয়ংকর ব্যাপার তো আর নেই। তেমনই ভয়ংকর হলো এমন কাজ যার কোন শুরু হবার তারিখ নেই, এমন সিদ্ধান্ত যা সবসময় ‘উপযুক্ত মূহুর্তটির’ জন্য ঝুলিয়ে রাখা হয়।

একটা নতুন অধ্যায় শুরু করার আগে আগেরটা শেষ হতে হয়। নিজেকে বলুন যে যা চলে গেছে তা আর ফিরে আসবে না। নিজেকে সেই সময়টার কথা মনে করিয়ে দিন যখন আপনি সেই মানুষটি কিংবা সেই জিনিসগুলো ছাড়াই আপনি বেঁচে থাকতে পারতেন — কোনো কিছুই তো অপূরণীয় নয়। একটা অভ্যাস তো আর অভাব নয়। হয়ত কথাটি বেশি সরল শোনাচ্ছে, হয়ত ব্যাপারটি খুব বেশি কঠিন, কিন্তু এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

কিছু চক্র বন্ধ হয়। তা কোন অহংকার, অযোগ্যতা, দম্ভের জন্য নয় বরং স্রেফ তা আপনাকে সাথে আর যায় না। দরজা বন্ধ করুন, স্মৃতিখাতাকে বদলে ফেলুন, ঘরদোর পরিষ্কার করুন, ধুলোবালি ঝেড়ে ফেলুন।

আপনি যা ছিলেন তা থেকে বদলে আপনি প্রকৃতপক্ষে যা , সেটিই হয়ে যান।

—– পাওলো কোয়েলহো

১৪ ডিসে, ২০১৫

ভাঙ্গবেন তবু মচকাবেন না? এই ভয়াবহ ভুল থেকে বেরিয়ে আসুন!



সমাজে আমাদের অজান্তেই অনেক কিছু শেখানো হয়। তার মধ্যে একটি হলো, 'ভাঙ্গব তবু মচকাবো না' নাকি শক্তপোক্ত মানুষ হবার যোগ্যতা। অথচ, এটা স্পষ্ট অহং তথা 'ইগো'ওয়ালা কথা। কী অদ্ভুত খারাপ একটা বিষয় চালু হয়ে আছে আমাদের অনেক মানুষের মাঝে!

মুসলিমদের আল্লাহ নিয়মিত বিপদ দেন, পরীক্ষা করেন। তারা ভারাক্রান্ত হয়ে থাকে। কাফিরদের রশি আল্লাহ ছেড়ে দিয়ে রাখেন, তারা সহজে বিপদে বাঁকা হয় না। মুমিনদের তুলনা হলো ঘাস কিংবা লতাগুল্মের মতন। প্রতিটি দমকা হাওয়া তাদের উপরে দিয়ে বয়ে যায়, তাদের নাড়িয়ে দেয়। কাফিরদের তুলনা হলো বিশাল বৃক্ষের মতন। হাওয়া তাদের উপরে প্রভাবই ফেলে না। কিন্তু বড় একটা ঝড় এলে তারা শেকড় সহ উপড়ে যায়, সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়।

মানুষ হিসেবে আমাদের উচিত 'vulnerable' (ভালনারেবল) হওয়া। ওই কথার সাথে মিলিয়ে বলতে গেলে তা হবে 'প্রচুর মচকে যাওয়া'। আমাদের মাঝে অজস্র মানুষ আছে, অন্যের কাছে নিজের দুর্বলতা প্রকাশের ভয়ে 'rigidity' (শক্তিশালী হিসেবে) দেখায়, কৃত্রিমভাবে নিজেকে শক্তপোক্ত করে প্রকাশ করে। তারা নিজেকে সারাক্ষণ চাপের মধ্যে রাখে, সত্যিকারের সত্ত্বাটাকে অন্যের কাছে প্রকাশ করে না।

কিন্তু, আপনি যখন ঠিক আপনার মতন হয়ে অন্যের সাথে মিশবেন, ঠিক সত্যিকারের আপনি যখন অন্যের সাথে আলাপচারিতা করবেন তখন আপাতদৃষ্টিতে অনেকে দুর্বল মনে করতেও পারে। ফলশ্রুতিতে আপনাকে আহত করতেও পারে। কিন্তু আপনি এই 'মচকে' যাওয়াতেও কিছুতেই পুরোপুরি ভেঙ্গে পড়বেন না। ব্যথা সারিয়ে, ভুলটুকু বুঝে সংশোধিত হয়ে, নিজেকে আবার খুব সহজেই এই ধাক্কা থেকে কাটিয়ে উঠতে পারবেন। আপনি আবার হৃদয় উন্মুক্ত করে অন্যদেরকে আপনার কাছে টেনে আনতে পারবেন। আবার, আপনি এবার আগের চেয়ে বেশি শক্তিশালী হলেন, আপনি অনেক ব্যথাকেই এখন দূর থেকেই চিনতে পারেন, কাটিয়েও উঠতে পারেন। খারাপ মানুষদের কারণে আপনি আপনার হৃদয়ের কোমলতা, সজীবতাকেও হারাবেন না। কেননা, অনেক মানুষই খারাপ লোকের দ্বারা আহত হয়ে বিধ্বংসী হয়ে ওঠে। এই ভুল সিদ্ধান্তে সে নিজেও ধ্বংস হয়, আরো অনেককে ধ্বংস করে।


আপনি যখন হৃদয় উন্মুক্ত করে ভালোবাসতে পারবেন, তখন আপনি অনেক শক্তিশালী মানুষ। মানুষের প্রতি সন্দেহ-সংশয়-বিতৃষ্ণা নিয়ে তাদের কাছে গেলে তারা সহজেই বুঝতে পারে আপনি একজন 'দূরের মানুষ'। আপনি তখন সত্যিকারের দুর্বল। কেবলমাত্র সাহসীরাই অন্যকে বিশ্বাস করতে পারে, কেবলমাত্র সাহসীরাই ভালোবাসতে পারে। কেবলমাত্র সৎ অন্তঃকরণ যাদের, তারাই অকপট হতে পারে, সরল, ভঙ্গুর হতে পারে, তারাই জেনুইন (genuine), ভালনারেবল (vulnerable) হতে পারে।

পৃথিবীতে আপনি ক্রমাগত আঘাতপ্রাপ্ত হবেন। হতেই হবে। এটাই জগতের রীতি। তবে এই আঘাতে নিয়মিত মচকাতে থাকুন, কাঁদুন, আহত হোন। আবার জেগে উঠুন।

হৃদয় আপনারই, আপনার মৃত্যুর আগে কেউ একে কেড়ে নিতে পারবেন না। একে নিয়ে খুব দুশ্চিন্তার কিছু নেই। আপনি যা, তেমনটিই হোন। আপনি যেমন, তেমন স্পষ্ট, সরল ও সত্যিকার আপনাকে উপস্থাপন করুন অন্যদের কাছে।

'ভাঙ্গবো তবু মচকাবো না' বলে অহং নিয়ে চলে কী লাভ? শেষ পর্যন্ত ভেঙ্গে টুকরো টুকরো হয় অহংভরা মিথ্যুক, শয়তান। ভালনারেবল (vulnerable) হোন, সরল হোন, আপনি যেমন তেমনটিই হোন। 'প্রকৃত' আপনাকে আঁকড়ে ধরে সংশয় থেকে বেরিয়ে আসুন। সাহসী হয়ে ভালোবাসুন। হয়ত ধাক্কা খাবেন, আহত হবেন; কিন্তু তবু কখনো ধ্বংস হবেন না ইনশা আল্লাহ। আরো বেশি শক্তিশালী হতেই থাকবেন, আরো বেশি 'মানুষ' হতে থাকবেন। মানুষের মতন মানুষ....

[০২ ডিসেম্বর, ২০১৫]

৬ মে, ২০১৫

বিষণ্ণতা কাটিয়ে ওঠা (দ্বিতীয় পর্ব) : শরীরের সচেতনতা


ডিপ্রেশনে ভুগতে থাকলেই অনেকে অন্ধকার পছন্দ করতে শুরু করে। কম-কম খায় কেননা খাওয়ায় অরুচি হয়। কিছুতেই ভালো লাগে না বলে পারলে অন্ধকার ঘরের কোণার দিকে পড়ে থাকে। এই অভ্যাস একসময় মানুষকেই দখল করে ফেলে। ডিপ্রেশনই তখন মানুষটাকে কন্ট্রোল করতে শুরু করে।

ডিপ্রেশন থেকে মুক্তির জন্য অনেকে অনেক কিছু বলে। সত্যিকার অর্থে, ডিপ্রেশন কাটিয়ে উঠতে প্রথমেই দরকার নিজের ইচ্ছা হওয়া। আপনি যখন নিজেকে বিষণ্ণ রূপে দেখতে অপছন্দ করবেন, তখনই আপনার নিজেকে আপনি প্রথম সাহায্যটি করবেন। 

গুটিয়ে পড়ে থেকে কী লাভ? প্রকৃতপক্ষে, আপনার দুর্দশায় অন্য কারো তেমন কিছুই আসে যায় না। আপনি বিষণ্ণতায় কেমন রকমের কষ্টে ভুগছেন তা অন্যেরা চাইলেও অনুভব করতে পারবে না তাই কাউকে দোষ দিয়েও লাভ নেই। আপনার নিজেকে নিজেরই সাহায্য করতে হবে। অন্য কেউ আপনাকে টেনে তুলবে না কখনই। এই আশা করাও ভুল, অনুচিত এবং বোকামি। তাছাড়া, আল্লাহ রব্বুল আ'লামীন তাদেরই সাহায্য করেন যারা নিজেদের সাহায্য করে। আল্লাহর সমস্ত সৃষ্টিই 'সিস্টেমেটিক' উপায়ে চলছে, সেগুলো একটা ছন্দের মধ্যে আবর্তিত। তাই, আপনাকে নিজের সুদিন বয়ে আনতে প্রচন্ড ইচ্ছাশক্তি তৈরি করতে হবে নিজের ভেতরে। 

বিষণ্ণতা কাটিয়ে ওঠা (প্রথম পর্ব) : নিজের প্রতি অনুগ্রহ করা


এখনকার সময়ে বিষণ্ণতা নানান কারণে হয়। বংশগতভাবে, মানসিকতার কারণে কিংবা পারিপার্শ্বিক কারণে বিষণ্ণতা গেঁড়ে বসে আমাদের মাঝে। বিষণ্ণতা একদমই নেই এমন মানুষ বেশ বিরল, এমনকি এখনকার অনেক পরিসংখ্যান বলে যে বর্তমান সমাজব্যবস্থায় শিশুরাও বিষণ্ণতায় ভুগে। অর্থাৎ, বিষণ্নতায় ভোগা মোটেই খুব অস্বাভাবিক কিছু নয় এখনকার সময়। তবে, বিষণ্ণতা পুষে রাখা মানসিক,শারীরিক এবং আত্মিক স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর।  আমাদের কি আসলে নিজেদের ক্ষতি করার অধিকার আছে? বিষণ্ণ হয়ে অসুস্থ হতে থাকার সুযোগ কি আছে? বিষণ্ণতায় নাওয়া-খাওয়া ভুলে যাওয়া, কর্তব্য পালনে অবহেলা, ত্যক্ত-বিরক্ত থাকা স্বাভাবিক কিছু বিষয়। কিন্তু আল্লাহ কি আমাদেরকে সেই অনুমতি দিয়েছেন?

১৪ মার্চ, ২০১৫

বিষণ্ণতা কাটিয়ে ওঠা (পর্ব: প্রারম্ভিকা)


​​
​​আমাদের বর্তমান নাগরিক জীবনে অনেক বেশি 'ম্যাটেরিয়ালিজম' এবং অনেক বেশি 'স্ট্রেস' জড়িয়ে গেছে। সবার অনেক বেশি 'হাই হোপ/অ্যাম্বিশান' এবং চারপাশের সাথে নিজের অনেক বেশি 'অমিল'। নিজেকে নিয়ে/নিজেদেরকে নিয়ে 'এক্সপেকটেশন' এবং 'রিয়ালিটি' দুটোই ভিন্ন হয়ে যায় প্রায় সবার জীবনেই। আর এসব বিষয় আমাদের মুসলিম প্রজন্মকে, বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মকে কুরে কুরে খাচ্ছে। আমাদের চারপাশে বিভিন্ন কারণে নানান রকম ডিপ্রেসড মানুষ। 'ডিপ্রেশন' জিনিসটা আমাদের মুসলিম প্রজন্মের প্রোডাক্টিভিটিকে ভয়ংকরভাবে নষ্ট করছে।

১৫ ফেব, ২০১৫

যারা দুঃখভারাক্রান্ত, তাদের জন্য লেখা....

... ​যারা দুঃখভারাক্রান্ত, তাদের জন্য লেখা....

আমরা যেসব বোকা মানুষ দুনিয়ার জীবনের বিভিন্ন বিপদাপদ, আশংকা-ভয়, দুঃখ-কষ্টে জর্জরিত হয়ে ভারাক্রান্ত হয়ে পড়ি, তাদের জন্য আল্লাহ নিজেই হচ্ছেন সবচেয়ে বড় এবং একমাত্র শান্তি, সমাধান। মনে রাখতে হবে, আমাদের জীবনের এই কষ্ট এসেছে আমাদেরকে 'শুদ্ধ' করতে এবং 'মুক্ত' করতে। আপনার মাঝে যদি ঈমান থেকে থাকে, তবে জেনে রাখবেন আল্লাহ এই পরীক্ষা হাজির করেছেন আপনাকে তার দিকে ফিরিয়ে নিয়ে আসতে। আল্লাহ আপনাকে আরো বেশি বেশি ইস্তিগফার ও আ'মাল করাতে চান। মু'মিনদের জীবনের যেকোন পরীক্ষাই আসে কল্যাণ হিসেবে, তাই অবশ্যই সবর করার চেষ্টা করতে হবে। এই কষ্টগুলো আপনার পাপগুলোকে পুড়িয়ে আপনাকে শুদ্ধ করবে যেমন করে সোনা পুড়ে খাঁটি হয়।

১১ ফেব, ২০১৫

আপনার জীবনে উত্তম পরামর্শক না থাকলে আপনি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন

​​​স্বাভাবিক জীবন, শান্ত-স্থির জীবন আমরা একেকটা মানুষ খুব বেশি সময় ধরে পাইনা। দুনিয়ায় আমাদের জীবনকে উথাল-পাথাল করা ঘটনা, ভয়-শংকা করার মতন ঘটনা জীবনে লেগেই থাকে। এ সময়গুলোর খুব গুরুত্বপূর্ণ একটা বিষয় হলো -- 'উত্তম পরামর্শক'। আমি জীবনের অভিজ্ঞতা থেকে গভীরভাবে শিখেছি, "আল্লাহকে ভয় কর এবং সত্যবাদীদের সাথে থাকো"[১] টাইপের আদেশের একটি গভীর উপকার/প্রয়োজন/আবেদন স্পষ্ট টের পাওয়া যায় যখন আমরা সমস্যাগ্রস্ত হই।

৮ ফেব, ২০১৫

পৃথিবীর জীবনটা তো জান্নাত নয়

পৃথিবীর জীবনটা তো জান্নাত নয়। এটা পরিপূর্ণ শান্তির স্থান নয়। জান্নাতে পা দেয়ার আগে আমরা অ্যাবসোলুট শান্তি পাবো না। দুনিয়ার জীবনে আমাদের হৃদয় ভাঙবে, চুরমার হয়ে যাবে। আপনার ঈমান যতই বৃদ্ধি পাবে, আল্লাহ ততই নিত্যনতুন কষ্ট এনে হাজির করবেন আপনার সামনে পরীক্ষা হিসেবে। আপনি তখন শান্তি খুঁজুন সলাতে, সাওম পালনে, দান-সাদাকার মাঝে।

মু'মিনের জীবন তো ঝড় তুফানের আঘাতে জর্জরিত থাকবেই

মু'মিনের জীবন তো ঝড় তুফানের আঘাতে জর্জরিত থাকবেই। একজন শাইখের আলোচনায় শুনেছিলাম যিনি কুর'আনুল কারীমের কিছু কথা নিজের ভাষায় বলছিলেন, মুমিনের জীবনের তুলনা সেই ঘাস-লতাপাতার মতন; প্রতিটি দমকা বাতাসের মতন বিপদাপদ যাদের নুইয়ে দেয়, কষ্টভরা হৃদয়ে আল্লাহর কাছে সমর্পিত হওয়ায়। আর কাফিরদের জীবন সেই বৃক্ষের মতন যা ছোটখাটো ঝড়ো বাতাসে ঠায় দাঁড়িয়ে থাকে কিন্তু জোরে কোন ঝড় এলে তা শেকড়শুদ্ধ উপড়ে যায়।

৩ ফেব, ২০১৫

আমাদের পরবর্তী সময় তো পূর্ববর্তী সময়ের চেয়ে বেশি খারাপ

বিগত শতকের শেষভাগে মৃত্যুবরণ করা সিরিয়ার শাইখ আলী আল-তানতাওয়ির (রাহিমাহুল্লাহ) একটা কথা ক'দিন আগে ড. ইয়াসির ক্বাদি লিখেছিলেন যা আমার খুবই পছন্দ হয়েছিলো। শাইখ আলী যা বলেছিলেন তা অনেকটা এমন যে, জীবনের এমন কোন যুগ তিনি পাননি যে সময়ের ক্ষতি ও খারাপগুলো তাকে কষ্ট ও দুঃখে জর্জরিত করেনি। অথচ সেই সময়টা চলে যাবার পরে তিনি সেই 'কষ্টকর সময়টা' কতই না ভালো ছিলো তা মনে করে স্মৃতিচারণ করেছেন, বেদনার্ত হয়েছেন।

১০ নভে, ২০১৪

​সবাই খুব হতাশার কথা বলে চারপাশে

​সবাই খুব হতাশার কথা বলে চারপাশে। একটু স্বপ্ন দেখতে, প্রশান্ত মনের কথা শুনতে বহুত কষ্ট করতে হয়!

সত্যিকার অর্থে চারপাশে তাকালে আশাবাদী হবার কথা কি? পথে বের হলে দেখতে পাই বাসের/লেগুনার হেলপাররা ইচ্ছে হলে পারলে ধাক্কা দিয়ে লোক নামায়। এভাবে অনেক মানুষ আহত হচ্ছে প্রতিনিয়ত। ইচ্ছেমতন বাস থামিয়ে লোক নেয়া, প্রতিটি বাসে কন্ডাকটর আর প্যাসেঞ্জারের ক্যাচাল এবং মুখ ভরা গালি শুনতে গিয়ে গা ঘিনঘিনিয়ে ওঠে। প্রায় প্রতিদিন দেখি গাড়ির সাথে রিকসা বা সিএনজি লেগে গেছে, বডি নষ্ট বা ট্যামা হয়ে যায়, এতেও আহত হয় লোকে। পথের ধারে কনস্ট্রাকশন কাজ চলে, ফুটপাথে ফেরিওয়ালায় ভর্তি। কোথায় যাবো অসহায় একেকটি মানুষ আমরা?

২৭ আগ, ২০১৪

যখন মনে হয় "নাহ! আর পারছি না"

​​​​আমাদের অনেকের জীবনেই মাঝে মাঝে কিছু সময় আসে যখন মনে হয় "আর হবে নাহ/আর পারছি না",অথবা হয়ত কখনো জীবনের মূহুর্তগুলো এতই কঠিন লাগে যে আর আশা খুঁজে পাইনা, নিজের উপরে বিশ্বাস হারিয়ে যেতে থাকে। হয়ত কখনো কোন ভুলের কারণে হওয়া কষ্ট এত তীব্র হয় যে মনে হতে পারে জীবনের ফেলে আসা পথগুলো/কষ্টগুলো/প্রচেষ্টাগুলো আসলে ভুল ছিলো। আবার এমনও মনে হয়, আমি যে জীবন কাটাচ্ছি, হয়ত এ থেকে খুব ভালো কিছু দূরে থাক, এই কঠিন পৃথিবীতে কোনরকম কিছু করেও টিকে থাকতে পারবো বলে আশা করা যায় না...

২৬ আগ, ২০১৪

আশাহত না হবার অনুরোধ জানাই

আমি আমার মুসলিম ভাইদের আশাহত না হবার অনুরোধ জানাই।

যখন বন্ধুদের মাঝে, আত্মীয়মহলে কিংবা পথে-ঘাটে আপনার মুখের দাড়ি কিংবা টাখনুর উপরে কাপড়, টিভিতে অবাধ নগ্নতা থেকে চোখ দূরে রাখা, মেয়েবন্ধু কিংবা মেয়ে-কলিগদের সাথে 'খাজুইরা আলাপ' থেকে নির্বিকার থাকা, মেয়ে 'কাজিনদের' সাথে অপ্রয়োজনীয় খুনসুঁটি না করা, হারাম অর্থোপার্জন 'সুদ' নিয়ে করা অর্থনৈতিক লেনদেনে সাবধান হয়ে থাকা, গান না শোনা, ইসলামী আলোচনা ও হালাকায় আগ্রহ থাকা নিয়ে আশেপাশে সবাই একটু হাসি-তামাশা ও অবাক হয়...

তখন জেনে রাখবেন, আপনি আল্লাহর এমন কিছু বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত যারা প্রচন্ড ভাগ্যবান। খুব অল্প মানুষই নামসর্বস্ব মুসলিম হবার পরে নিজেদেরকে বদলে ফেলার পথে আছে। আপনি এমন এক দায়িত্ব কাঁধে নিয়ে আছেন যে দায়িত্ব নিয়েছিলেন পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ মানুষটি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)। তিনি যে মূহুর্তটিতে দ্বীনের দায়িত্ব পেয়েছিলেন, তখন গোটা দুনিয়ায় তার পাশে একটি মানুষও ছিলো না। কিয়ামত পর্যন্ত যত মানুষ আসবে, তাদের সবাইকে আল্লাহর বাণী পৌঁছে দেয়ার দায়িত্ব ঐ মানুষটির দু'টি কাঁধে ছিলো-- ভেবে দেখুন তার সেই অনুভূতিটুকু...

জান্নাতকে ঘিরে রাখা হয়েছে অনাকর্ষণীয় সব বস্তুতে। জাহান্নামের চারপাশে আকর্ষণীয় বস্তু। দুনিয়ার  চাকচিক্য, গার্লফ্রেন্ড, সুদী ব্যাঙ্কের টাকা, বন্ধুদের সাথে পার্টিতে গিয়ে মদ-হুইস্কি-বিয়ার খাওয়া --আপনার অন্তরকে অন্ধকের থেকে অন্ধকারে নিয়ে চলে যেতে থাকবে। আপনি এমন বস্তুর থেকে যত দূরে থাকতে পারবেন, নিজেকে তত বেশি ভাগ্যবান মনে করতে পারবেন। আখিরাতের অনন্তকালের কষ্টের সাথে দুনিয়ার কষ্টগুলো তুলনাহীন।

তাই, যত কষ্টই হোক, আখিরাতের অনন্তজগতের সুখস্বপ্নকে বুকে নিয়ে
আমি আমার ভাইদেরকে আশাহত না হবার আহবান জানাচ্ছি।

[১৮ আগস্ট, ২০১৪]

২১ জুল, ২০১৪

কৃতজ্ঞতা

আল্লাহর এক অসাধারণ নিয়ামাত ​বাতাসের মাঝে ডুবে থেকে আমরা বাতাসের মূল্য ও বিশুদ্ধ বাতাসের মর্ম বুঝিনা, কিন্তু কিছুটা হয়ত বুঝতে পারে তারা যখন কেউ থাকে অ্যাজমা রোগী, নাক দু'টোর ফুটোকে তখন সুঁইয়ের ডগার মতন ক্ষুদ্র ছিদ্র মনে হয়, বুক আকুলি-বিকুলি করতে থাকে একটু বাতাসের জন্য...

আমাদের জীবনের ভালোবাসার বা সম্পর্কগুলোর ক্ষেত্রেও আমরা বড্ড উদাসীন থাকি। অনেক মানুষদের কাছে পাওয়া আদর, যত্ন-আত্মি ভালোবাসাকে আমরা 'স্বাভাবিক' প্রাপ্তি হিসেবে হিসেব করে বেখেয়াল থাকি। অথচ মানুষের প্রতিটি সুন্দর আচরণই কষ্টের একটা ফলাফল। ভালো মানুষেরা সেগুলো নিয়মিত প্রচেষ্টার পরে তবেই অর্জন করেন। এমনকি মা-বাবার ভালোবাসাও সবক্ষেত্রে একই না। এই জগতেও অনেক মা-বাবা আছেন চরম বেখেয়াল, আবার অনেকে আছেন তাদের সর্বস্ব বিলিয়ে দেন সন্তানের জন্য... তাই কোনকিছুই যে আপনাআপনি হয়না বা আমরা এমনিতেই পাইনা সে কথা আমাদের মাথায় রাখা উচিত।

আমাদের চারপাশে অনেক নিদর্শন আছে যা দেখে আমাদের বুঝে নেয়া উচিত আল্লাহর নিয়ামাত। মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞ হওয়া উচিত কেননা যে মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞ হয় না, সে আল্লাহর প্রতিও হয় না। একইভাবে, যে আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞ হয় না, তার প্রকৃতপক্ষে বান্দাদের প্রতি কৃতজ্ঞ হবার প্রশ্নই আসে না। আল্লাহ আমাদেরকে কৃতজ্ঞ বান্দা হবার তাওফিক দান করুন, অন্য বান্দাদের প্রতি সহমর্মী হবার তাওফিক দিন।

[১০ জুলাই, ২০১৪]

৮ এপ্রি, ২০১৪

স্যাডনেস ইজ... SADNESS IS...

​​ছেলেবেলার এক বন্ধু এখন ডাক্তার। তার সাথে দেখা করতে গিয়েছিলাম ঢাকার এক হাসপাতালে। খানিক পরেই ফোন পেলাম আরেক সহপাঠী অ্যাক্সিডেন্ট করেছে, হাসপাতালে ভর্তি হতে এসেছে। অগত্যা ছুটে গেলাম, এক্সরে করে দেখা গেলো পায়ের হাড় দু'টুকরো হয়ে ভেঙ্গে গেছে। ওর আব্বা-আম্মা আর স্ত্রীর  কান্নাকাটি, হৃদয়বিদারক পরিস্থিতি। বাইরে চেয়ারে বসে থেকে দেখলাম কয়েকজন বৃদ্ধা হুইলচেয়ারে বসে আছেন, মলিন মুখ, চোখে শূণ্যতা তাদের। নাকে স্পিরিটের গন্ধ, কানে কান্নার শব্দ, চোখের সামনে অনেকজন রোগী... অস্থির এক অসহায়ত্ব!

ডাক্তার বন্ধুটির সাথে দেখা হবার পরেই বলছিলো ইদানিং 'মৃত্যু' নিয়ে ওর 'ডিসেনসিটাইজড' হয়ে যাওয়ায় খারাপ লাগার কথা নিয়ে-- খুব সহজেই নাকি তার সিনিয়রদের বলে "আজকে কী হইসে জানেন স্যার? পেশেন্টটা মরেই গেলো"... কিন্তু দীর্ঘকালের বন্ধুত্বের সুযোগে আমি জানি ওর অন্তরটা খুব সুন্দর। মৃত্যু নিয়ে এই নির্বিকারতা অনুভব করে ওর খারাপ লাগছে কারণ এই মৃত্যু নিয়েই একসময় অনেক আলাপ করতাম আমরা, সেই কিশোরবেলাতে... হয়ত পেশাগত কারণে ভয়াবহ আর কষ্টময় ঘটনা "মৃত্যু"র সাক্ষী হতে হতে তার কাছে সহজ হয়ে গেছে। কিন্তু আমার কাছে তো তা সহজ হয়নি। আমার কাছে হাসপাতালের ওয়ার্ডে বেড না পেয়ে বারান্দায় লাইন ধরে পড়ে থাকা মানুষগুলোর চেহারায় দেখে নিজেকে অকৃতজ্ঞ মনে হতে থাকে খুব। অপরাধবোধ আর খারাপ লাগায় কেমন ছোট্ট হয়ে যাই নিজের কাছেই...

১ এপ্রি, ২০১৪

নাটক-সিনেমা-উপন্যাসে সবকিছু এক্সট্রিম হয় কিন্তু বাস্তব জীবন তেমন নয়

নাটক-সিনেমায় সবকিছু বেশি বেশি হয়। যখন প্রেম হয়, তখন বেশি বেশি। নায়ক নায়িকা কলেজে ব্যাগ ছাড়া বই বহনকালে ঠুয়া খেয়েই প্রেমে পড়ে যায়। আবার তাদের ট্র্যাজেডিটাও বেশি বেশি। রাস্তার রিকসাওয়ালা কোটিপতি চৌধুরী সাহেবের মেয়ের সাথে প্রেম করে। রোমিও আর জুলিয়েটের পরিবারের শত দ্বন্দ্বের পরেও তাদের পেরেম চলতেই থাকে। একটা বেকুব মরে দেখে অপরজনেও আত্মহত্যা করে। এইরকম 'এক্সট্রিম' (Extreme) বিষয় মানব জীবনের জন্য স্বাভাবিক না। আসলে, বাস্তবতা আর নাটক-উপন্যাসের কোন তুলনাই চলে না।

বাস্তব জীবন অনেক অন্যরকম। এখানকার ট্র্যাজেডিতে এইরকম প্রেম কাহিনী থাকে না। এই ট্র্যাজেডিতে আত্মসম্মানবোধ রাখতে, সামাজিক মর্যাদা অটুট রাখতে যে কষ্ট হয়, তার মাঝে সব পেরেম-টেরেম হারিয়ে যায়, পালিয়ে যায়। বাস্তব জীবনে রাস্তার পাশের খুপরিতে বড় হওয়া পিচ্চিটার কাছে ডাবগাছের শাখাটা নিয়ে আনন্দের খেলাধূলার অংশ থাকে। চৌধুরী সাহেবদের কাছে চাঁদাবাজের আতঙ্ক, মেয়ের বেয়াড়া হয়ে যাওয়া, শাশুড়ির ক্যান্সার ধরা পড়ায় কেমোথেরাপির শিডিউল সামলানোর মতন কষ্ট থাকে। সব চৌধুরী সাহেবরা এখন নাইট ড্রেস পরে ডুপ্লেক্সে ঘুমাতে পারে না।

বাস্তব জীবনটা সুন্দর, তবে ভাষায় অপ্রকাশ্য। প্রতিটি মানুষের জীবনই একেকটা গল্পের চেয়েও বেশি। প্রত্যেকের জীবনেই সুন্দর কিছু গল্প আছে, কিছু প্রাপ্তি আছে, কিছু তীব্র বেদনা আছে। সব মিলিয়েই, সবাই মানুষ। এই সকল অপ্রাপ্তি-বঞ্চনা-গঞ্জনার বিপরীতে উত্তম প্রতিদান মিলিয়ে দিবেন আল্লাহ। বেঁচে থাকার সুখ আর দুঃখ সবই আল্লাহর জন্যই। সবাই আমরা তারই, তার কাছেই তো ফিরে যাবো। দুনিয়াতে এসে এই ফিরে যাওয়া অবধি কাহিনীগুলো হোক অনন্যসুন্দর এক ভালোবাসার মহাকাব্য...

[৩১ মার্চ, ২০১৪]

২৩ ফেব, ২০১৪

জীবনের বাস্তবতা : আমাদের জীবনের কষ্টগুলো কি এমনি এমনি?

​​কিছু বিষয় আছে যেগুলো ঠিক ভাষায় প্রকাশ করা যায় না। কত কঠিন সময় যে মানুষের জীবনে আসে, যার শতভাগের একভাগ অন্য কোন মানুষ অনুভব করতে পারবে না, কেবল যিনি ভুগছেন, তিনিই বুঝেন। তখন সদ্য মাধ্যমিক পাশ করেছি, একটা ইংরেজি ম্যাগাজিনে 'মায়ের লেখা সন্তানের প্রতি চিঠিতে' একটা লাইন লেখা ছিলো, "Fiction ends where fact begins", যা আমার সেই কিশোর হৃদয়ে দাগ কেটেছিলো। বাল্যজীবনে আর কৈশোর জীবনে আমি অজস্র গল্প-উপন্যাসে ডুব দিয়ে থেকেছি, তারুণ্যে আর যৌবনের উপলব্ধিগুলো আমাকে শিখিয়েছে, আমাদের একটা জীবন কখনো গল্প-উপন্যাস, পত্রিকার টুকরো ঘটনা বা অভিজ্ঞতার সাথে কখনই মিলে না, অন্য কোন মানুষও তা উপলব্ধি করতে পারবে না। এই একেকটা মানুষের গোটা বিষয়গুলোর একমাত্র সাক্ষী যিনি, তিনিই পারবেন সত্যিকারের সঠিক পুরষ্কার দিতে, শাস্তি দিতে, ভালোবাসা দিতে...

বুক যখন খা খা করে তখন কী করবো?

​দিনের মাঝে বড় ক্লান্ত লাগে অনেক সময়... হৃদয়টাতে কেমন শূণ্যতা অনুভব হয়। অনেকগুলো বছর ধরে এই খা-খা অনুভূতিকে কেমন করে দূর করা যায় ভেবেছি। একসময় ভাবতাম হয়ত আমার সফল হতে হবে। অনেক সফলতা পেয়েছিলাম আলহামদুলিল্লাহ, সেই অনুভূতিরা পিছু ছাড়েনি। এরপর ভেবেছিলাম হয়ত সঙ্গী পেলে বর্তে যাবো। অনেক ভালো মানুষের সান্নিধ্য পেয়েছি, কিন্তু মানুষ পাশে থাকতে পারে, তার পাশে চলতে পারে, কিন্তু হৃদয় আর অনুভূতি আমাদের নিজেরই, সেখানে কেউ ভাগ বসাতে পারে না। অনেকে সুন্দর কথা বলতে পারবে, উত্তম উপদেশ আর আশার বাণী দিয়ে অনুপ্রেরণা দিতে পারবে -- কিন্তু হৃদয়ের শূণ্যতাকে পূর্ণ করার ক্ষমতা কোন মানুষের নেই...

২৩ জানু, ২০১৪

দুঃখের সময়ে যখন খুঁজে পাই না কী করবো

​জীবনের এই বন্দরে বসবাস, কত রকম আনন্দ-বেদনা আসবে। কিছুই থাকে না স্থায়ী হয়ে, না সুখ, না দুঃখ। কষ্টগুলোও আসে, থেকে চলে যায়। সুখের বন্যা বয়ে যায়, আবার ক'দিন বাদেই জীবনের সুখের সময় খুঁজতে বের হতে হয়। বারবার তাঁর কথা ভুলে যাই, বিস্মৃত হয়ে যাই তাই হয়ত আল্লাহ এমন বৈচিত্র্য দিয়েই আমাদের ব্যস্ত রাখেন -- যেন গন্তব্য আর এই চলার পথের দুই ভিন্ন স্বাদকে এক করে বিভ্রান্ত না হই। জীবনে কঠিন সময় আসে, কখনো কখনো সবাই অবিশ্বাস করতে শুরু করে, কাছের মানুষরাও আশাহত হয়ে যেতে পারে, সবকিছুর হিসেব একদম উলটে পালটে যেতে পারে। অনেক কিছু হয়ত ছিলো চারপাশে, এক দমকা হাওয়ায় হয়ত সব হারিয়ে যেতে পারে। অথচ, এই সবকিছুকে উপলব্ধি করতে পারাও একটা ক্ষমতা, এই অস্তিত্বের প্রতিটি মূহুর্তই অনেকগুলো *প্রাপ্তির* উপরেই দাঁড়ানো।