love লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
love লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

১৭ ফেব, ২০১৬

শান্তিতে থাকার জন্য ভালোবাসতে হয়

 শান্তিতে থাকার কিছু সার্বজনীন উপায় আছে, তা মেনে চলতেই হয়।

হৃদয়ের ভেতরটা ফাঁকা করতে পারেন? যেমন ধরুন, কারো খারাপ ব্যবহার, অন্যায়গুলোতে আহত হয়ে না থাকা? অথবা ধরুন, নিজের ব্যর্থতা, অসুস্থতা, অসহায়ত্বে ভারাক্রান্ত হয়ে আছেন?

নিজেকে ক্ষমা করতে পারেন না? নিজেকে মুক্তি দিন। ছাড় দিন। সমস্ত প্রত্যাশা থেকে নিজেকে দয়া করে ছাড় দিন। গ্রহণ করেই নিন যা হয়েছে। চেয়ে দেখুন, পৃথিবীটা অনেক বড়, লক্ষ-কোটি মানুষ এতে। আপনার মতই সবারই অনেক অপূর্ণতা-যন্ত্রণা-কষ্ট-না পাওয়ার বেদনা। আপনি যা চাইছেন, তা পেয়েও অনেকে শান্তিতে নেই। আমি এত ভাবতেও হবে না, স্রেফ নিজেকে ছাড় দিন সমস্ত জিঞ্জির থেকে।

পারবেন না লোকের খারাপটা নিয়ে আলাপ না করে থাকতে? আপনার আত্নীয় যিনি, তার ক্ষুদ্রতা নিয়ে সমালোচনা না করে থাকতে পারবেন না? মানুষ তো আপনার পছন্দের হতে পারবে না। পছন্দ-অপছন্দ আপনার মনের ব্যাপার। আপনি যাকে অপছন্দ করেন, সে কিন্তু অনেকের পছন্দের ব্যক্তি হতেই পারে। আসলে, পছন্দ আপনি করছেন কারণ আপনি যা চিন্তা করেন, সেটা আপনারই তৈরি। আপনার ভালোলাগার কারণ আপনিই, আপনার অনুভূতির মূল প্রকৌশলি আপনি নিজেই।

ভালোবাসতে পারবেন না এখন সবকিছুকে? তুচ্ছ মানুষগুলোকে ভালোবাসুন। আপনি যখন ভালোবাসতে পারবেন, তখন বুকের ভেতরে বসন্তবাতাস অনুভব করতে পারবেন। ভালোবাসতে পারার মাঝে আছে শান্তি। কিন্তু যতক্ষণ আপনি অন্যদের প্রতি ঘৃণা করা থেকে, নিজেকে তাদের চেয়ে উচ্চমানের মানুষ মনে করা থেকে, খুঁতখুঁতানি স্বভাবে অশান্তিতে থাকা থেকে বাঁচতে না পারবেন-- আপনি ততক্ষণ পর্যন্ত ভালোবাসতে পারবেন না।

যে ভালোবাসতে পারে না, সে বেদনাক্লিষ্ট ও দুর্বল মানুষ। ভালোবাসুন, দয়া করুন। উপেক্ষা করুন নেতিবাচকতাগুলোকে। কারো খুঁত আর ভুল খুঁজতে চাইলে ভালোবাসা যায় না। মানুষ ভুলে ভরা প্রাণী, অন্যায় আর অপরাধে ডুবে থাকা প্রাণী। তাকে ভালোবাসতে পারার মূল কারণটা আপনার হৃদয়। কাউকে ভালোবাসার কৃতিত্ব কেবলই আপনার।

হৃদয়কে মুক্ত করুন সমস্ত জিঞ্জির থেকে, সমস্ত অশান্তি ও অতৃপ্তির জাল থেকে, সমস্ত ঘৃণার কাঁটাতারের বেড়ায় আটকে থাকার অসহায়ত্ব থেকে। হৃদয়কে শান্তি দিন, নিজেকে ক্ষমা করুন, নিজের নেতিবাচক, ঘৃণাবাচক, অশান্তিময় চিন্তাগুলোকে উপেক্ষা করুন। চেষ্টা করুন নিজ ভালোবাসাটা চারপাশে ছড়িয়ে দেয়ার। কারণে ভালোবাসুন, অকারণে ভালোবাসুন। যখন আপনি ভালোবাসতে পারবেন-- ভালোলাগায় আপনার চোখ ভিজেও আসতে পারে! হৃদয়ে শান্তির পরশ পেতে, বুকে বসন্ত বাতাসের স্পর্শ পেতে সমস্ত ভার ফেলে দিয়ে, ঘৃণা ফেলে দিয়ে, ভালোবাসুন।

ভালোবাসার মাঝেই রয়েছে জীবনের এক গভীরতম দর্শন।

[১২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬]

১৬ নভে, ২০১৫

আমরা যাকে ভালোবাসি, আসলেই কি বাসি?

 




আমরা যাকে ভালোবাসি, আসলেই কি বাসি? কেমন করে বুঝি সেটা? আমরা যা পছন্দ করি, আসলেই কি করি? নাকি অন্যেরা যা ভালোবাসায়, পছন্দ করায়, তা আমরা অবচেতনভাবে পছন্দ করি, ভালোবাসি, উত্তম মনে করি? আমরা কতটুকু সময় নিজের চিন্তা নিজে করি? লোকের বলা ছাঁচেই আমরা বেশিরভাগ চিন্তা করি, তাইনা? অথচ আমরা কেউ অন্য কারো মতন না। আমাদের জীবনগুলো পরস্পরের চেয়ে একদম আলাদা।

আমরা বেশিরভাগ মানুষ নিজেদের চিন্তার কারাগারে বন্দী থাকি। চারপাশের মানুষগুলো আমাদের বন্দী করতে চায় তাদের ব্যক্তিগত পছন্দ আরোপ করে সৃষ্ট যে কারাগার তার মাঝে। আল্লাহ মানুষকে দিয়েছেন অবারিত পৃথিবী। পৃথিবীতে খুব অল্প বিষয় নিষিদ্ধ। পৃথিবী আল্লাহর নিয়ামতে পরিপূর্ণ। উপভোগের জন্য পাপহীন বিনোদনে পৃথিবী ভরপুর।

আচ্ছা, ক'জন আমরা ঘৃণাহীন, হিংসাহীনভাবে নিঃশ্বাস নিতে পারি? পত্রিকা, চ্যানেলের খবরে, অপদার্থ বন্ধু/আত্মীয়র মুখে, ফেসবুকের পন্ডিতন্মন্য মানুষদের সমালোচনামুখর পোস্টে আমরা শুধু ঘৃণা, অবিশ্বাস, সন্দেহ, অশান্তি, পরনিন্দা, অপবাদ, মিথ্যায় ডুবে থাকি... শান্তির ঘুম কেমন করে আসবে জঞ্জালভরা হৃদয়ে, অতৃপ্ত ও অসুস্থ চোখে?

কেন লোকের গীবত-পরনিন্দা থেকে দূরে যাইনা? কেন যাবতীয় নেগেটিভিটি থেকে সরে আসিনা? কেন সবাইকে ভালোবাসতে পারিনা? কেন লোকের উত্তম গুণাবলী নিয়েই আলাপ করিনা?

সমস্ত রং যেখানে থাকে, সেটি হয় কালো। যেখানে কোন রং থাকে না, তার রং সাদা। হৃদয় যখন সমস্ত ক্লেদ ও পংকিলতামুক্ত হয়-- সেটি শুভ্র হৃদয়। সেটিই প্রশান্ত আত্মা।

নিজেদের শত্রু যেন নিজেরাই না হই কখনো। আমাদের আত্মা যেন হয় সদাকৃতজ্ঞ, স্নিগ্ধ, ভালোবাসায় ভরপুর প্রশান্ত আত্মা।

[২৯ আগস্ট, ২০১৫]

১০ আগ, ২০১৫

তাই স্বপ্ন দেখবো বলে আমি দু'চোখ পেতেছি



আমরা একবিংশ শতাব্দীর শুরুর দিকের একটা সময় অতিক্রম করছি এখন। সময়টা কঠিন যাচ্ছে। এমন কঠিন সময় হয়ত যুগে যুগেই নির্দিষ্ট বিরতি পর পর আসে। যুগের বিচার করলে আমাদের চলে না। আজ থেকে মাত্র ১০০ বছর আগে এই পৃথিবীতেই ঘটে গিয়েছিলো নারকীয় বিশ্বযুদ্ধ। হানাহানি-খাদ্যমন্দা-ক্ষমতা দখলের লড়াইতে ডুবে ছিলো সমগ্র বিশ্ব। অনেকেই অনেক অর্জন করেছে, তারপর বছর বিশ যেতে না যেতেই আবার আরো বড় ভয়ংকর সময় -- সেই ক্ষমতা খাটানোর যুদ্ধে জাপানের হিরোশিমা নাগাসাকিকে বিষাক্ত করে দিয়ে লক্ষ লক্ষ প্রাণনাশ করে দিয়ে আমেরিকান জাতিগোষ্ঠী বিশ্বকে কব্জা করেছে আপন কৌশলে। অথচ তার দুইশ বছর আগেও ব্রিটিশ সূর্য ডুবতো না কোথাও। এমন আরো অজস্র চোখ দিয়ে দেখা যাবে "সময়"গুলো।

প্রেম-বিয়ে সংস্কৃতি এবং দুষ্টচক্রগুলো


প্রেম-ভালোবাসা এবং বিয়ে বিষয়ে আমার সাধ্যমতন কিছু অতি স্বল্প আকারে লেখা লিখেছিলাম একসময়। স্রেফ এতটুকুর কারণেই অনলাইনে এবং বাস্তব জীবনে বিভিন্ন তীর্যক তীক্ষ্ণ ভাষায় কটুক্তি ও সমালোচনা আমি শুনেছি। কিছু কথার কারণে কষ্টও পেয়েছিলাম। সে যাই হোক, আমি জানি, এই বিষয়টাতে আমি কেন বারবার গুরুত্বপূর্ণ বলতে চেয়েছি। কেবল ইচ্ছে হলেই লিখতে বসিনি, অনেক সময় নিয়েই ভেবে কথাগুলো বলতে চেয়েছি কেননা আমার জীবনের বেড়ে ওঠার সময়গুলোর অভিজ্ঞতার আলোকেই কিছু কথা জানাতে চেয়েছি। আমি প্রচুর মানুষের সাথে মিশেছি সবসময় হাইস্কুলের সময় সময় থেকেই -- আমার তা ভালো লাগত। আমি ভার্সিটি লাইফের কখনো হলের বাইরে কাটাইনি, মিশেছি, জেনেছি, সুখ-দুঃখ ভাগাভাগি করেছি। আমার এই দীর্ঘ সময়ে উপলব্ধি ছিলো বেশ কিছু যার একটি হলো, তরুণ প্রজন্মের আনপ্রোডাক্টিভিটি, সময় নষ্ট করা, দ্বীন থেকে দূরে সরে যাওয়া, মেধা কমে যাওয়ার পেছনে যেই জিনিসটাকে আমার খুব বড় মনে হত তা হলো -- প্রেম।

৩০ আগ, ২০১৪

প্রেমের কারণে বেশিরভাগ ছেলেপিলে অশান্তিতে থাকে

​ছাত্র যখন ছিলাম, চারপাশে দেখতাম হারাম প্রেম ও প্রেমসংক্রান্ত ঘটনা। যে সম্পর্কটি আগাগোড়া আল্লাহর অপছন্দকে ঘিরে, তাতে ভালো কিছু কোনদিন দেখিনি। দেখচছি প্রচুর রক্তাক্ত হৃদয়, প্রচুর আউলা-ঝাউলা ছেলেপিলে। ছ্যাঁকা খাওয়া, পিছনে ঘুরা, ডেটিং ইত্যাদি নানান ঘটনা। সময়ের পর সময় অপচয় সবার। এক মেয়ের কারণে অন্য অনেকের সাথে শত্রুতা, ত্রিভুজপ্রেমের মারামারি, রিফিউজড হয়ে গাঁজা টানতে বসা -- ইত্যাদি নানান ঘটনা পেরিয়ে কেউ কেউ বিয়ে করেছিলো। যে সম্পর্ক আল্লাহকে অসন্তুষ্ট করে, তাতে কেমন করে শান্তি থাকতে পারে সে কথা ভাবতাম। ক'দিন আগে জানলাম ছেলেটি পরকীয়া করছে। মেয়েটি তার ঘরের সব কথা বান্ধবীদের বলে বেড়ায়...  কোথা থেকে কত কান হয়ে কতই না ঘটনা কানে আসে! না শোনার চেষ্টা করতে হয়...

১০ মে, ২০১৪

ভালোবাসব বাসব রে বন্ধু


আজকে একটা সম্ভাব্য প্রেমের ধ্বংস দেখতে পেলাম !!

অফিস থেকে ফিরছিলাম, রিকসা থেকে যেখানে নামলাম, সেখানে অচেনা দু'টো ছেলে আর একটা মেয়ে দাঁড়ানো, একটা রিকসা দাঁড়ানো পাশে। সেই মেয়েটার বান্ধবীকে সম্ভবত একটা' ছেলে *লাইক* করে, সেই কথাটা বন্ধুটা মেয়েটাকে বলছিলো বলে বুঝলাম। মেয়েটা কিছু একটা উত্তর দিলো। পরে শুনলাম বন্ধুটি মেয়েটিকে বললো, ''ও কি ফ্রেন্ডশিপ টাইপের রিলেশনও করবেনা?"। মেয়েটা রিকশায় উঠতে উঠতে বললো, "তোমরা রাগ কইরো না, ঠিকাছে? ভালো থাইকোওও, বাআআই!! " (একটু সুর করে)

১৯ মার্চ, ২০১৪

আমাদের সম্পর্কগুলো সচরাচর খুব নাজুক হয়

আমাদের সম্পর্কগুলো সচরাচর খুব নাজুক হয়। টিকিয়ে রাখতে হলে শ্রম দিতে হয়, নতুনত্ব আনতে হয়। হাদিস থেকে শিখেছিলাম, বিরতি দিয়ে দিয়ে পরস্পরের সাথে মিলিত হলে সম্প্রীতি বৃদ্ধি পায়। এরপর থেকে দ্বীনি ভাইদের সাথে একটু বিরতি বজায় রাখার চেষ্টা করেছি। এতে বিরতির পরের প্রথম দেখায়, আন্তরিক উষ্ণতাটুকু অনুভব করে সেই জ্ঞানটার নিপুণতা অনুভব করেছি।

কিন্তু, পরিবারের সম্পর্ক? সেখানে তো বিরতি দেয়ার উপায় নেই। এই সম্পর্কগুলো নিত্যদিনের, আটপৌরে ব্যাপার। এখানে থাকে পারস্পারিক সাহায্য-সহযোগীতা ও নির্ভরশীলতার ব্যাপার। এখান থেকেই তৈরি হয় পরস্পরের প্রতি দয়াশীলতা। কিন্তু তবুও, প্রতিদিন একই মানুষ, একই ধরণের জীবনধারণ, বাইরে থেকে ঘরে ফেরা, পরিবার ও দেশ নিয়ে মন্তব্য -- সবকিছুতে বাক্যগুলোও যেন একই রকম...

একটা উপায় খুঁজে পেয়েছি জীবনে। তা হলো, নিজের মাঝে পরিবর্তন আনা। এই পরিবর্তন উদ্ভট কিছু নয়, বরং প্রতিদিন অন্তত কিছু শেখা। প্রতিদিন নিজেকে আগের চেয়ে একটু ভালো মানুষে উন্নীত করা। প্রতিদিন একটু কম সমালোচনা করা, একটু বেশি আশাবাদী আলাপ করা।

পরিষ্কার পানির বদ্ধ জলাধার দীর্ঘদিন একই রকম করে রেখে দিলে তাতে শ্যাওলা পাওয়া যাবে একসময়। কিন্তু, স্রোতময় সমুদ্রের মাঝে ময়লা ফেললেও তা পরিষ্কারই রয়ে যায়। আমাদের সত্ত্বাকে তাই প্রতিদিন একটু হলেও নতুন চিন্তায়, নতুন উদ্দীপনায়, নতুন ভালোবাসায় উদ্বোধন করা দরকার। আমাদের চিন্তা আর জ্ঞানের বিশালতাকে সমুদ্রের মতন করে আর ভালোবাসার ও স্বপ্নের গতিময়তাকে স্রোতের মতন করে আমাদের সত্ত্বার মাঝে আমরা ময়লা-আবর্জনা-কষ্টের জঞ্জালকে দূরে সরিয়ে দিতে পারবো ইনশা আল্লাহ।

প্রতিদিন অন্তত একটা কুরআনের আয়াত থেকে অনুধাবন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) রেখে যাওয়া মহান জীবনাদর্শ থেকে নেয়া অন্তত একটা ঘটনাকে অনুসরণের চেষ্টা করলে, নিজেকে বদলে দেয়া যায় অনেকখানি। প্রিয়জনদের সাথে আলাপচারিতায় একটা নতুন বিষয় যদি হয় এমন কিছু যা হৃদয়কে আলোকিত করে, সেই সম্পর্কগুলো গতানুগতিকতার হাত থেকে হয়ত মুক্তি পেতে পারে...

[১৮ মার্চ, ২০১৪]

১৬ ফেব, ২০১৪

অবাক ভালোবাসা


আমার জীবন থেকে আরেকটি বছরের আরেকটি 'ভালোবাসা দিবস' চলে গেলো। অনেক উদ্দামতা, অনেক যৌবনের তরঙ্গের সাক্ষী হয়ে রইলাম আবার। বন্ধুর কাছে শুনলাম, তার কলিগকে গত পহেলা ফাল্গুনে এবং 'ভ্যালেন্টাইন ডে' পালনের এই ১৩-১৪ ফেব্রুয়ারিতে কক্সবাজার যেতে হচ্ছিলো অফিসের কাজে। তিনি দু'দিনের যাত্রাপথে বহু কষ্টে ছুটে-ফিরে একটা সিট পেয়েছেন, এদিকে বাসস্ট্যান্ডে অনেক ভীড়, পর্যাপ্ত সিট নেই বাসে! 'ভালোবাসার' কামতরঙ্গ ছুটে এবার কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতকেও ভাসিয়ে দিয়েছে হয়ত... আল্লাহই জানেন। বিগত বেশ কয়েক বছর থেকে এইসব দিনগুলোতে সম্ভব হলে ঘরেই থাকি, খারাপ লাগা আর অপছন্দনীয়তায়। এবারেও ছুটির দিন থাকায় তার ব্যতিক্রম হয়নি। মনে আছে, প্রায় দু'বছর আগে একটা লেখা লিখেছিলাম আমার পূর্বেকার জীবনের অভিজ্ঞতা মিলিয়ে একটা লেখা লিখেছিলাম 'এর বেশি ভালোবাসা যায় না ও আমার প্রাণপাখি ময়না' শিরোনাম দিয়ে: http://idream4life.blogspot.com/2012/02/blog-post_7635.html

২৩ জানু, ২০১৪

দুঃখের সময়ে যখন খুঁজে পাই না কী করবো

​জীবনের এই বন্দরে বসবাস, কত রকম আনন্দ-বেদনা আসবে। কিছুই থাকে না স্থায়ী হয়ে, না সুখ, না দুঃখ। কষ্টগুলোও আসে, থেকে চলে যায়। সুখের বন্যা বয়ে যায়, আবার ক'দিন বাদেই জীবনের সুখের সময় খুঁজতে বের হতে হয়। বারবার তাঁর কথা ভুলে যাই, বিস্মৃত হয়ে যাই তাই হয়ত আল্লাহ এমন বৈচিত্র্য দিয়েই আমাদের ব্যস্ত রাখেন -- যেন গন্তব্য আর এই চলার পথের দুই ভিন্ন স্বাদকে এক করে বিভ্রান্ত না হই। জীবনে কঠিন সময় আসে, কখনো কখনো সবাই অবিশ্বাস করতে শুরু করে, কাছের মানুষরাও আশাহত হয়ে যেতে পারে, সবকিছুর হিসেব একদম উলটে পালটে যেতে পারে। অনেক কিছু হয়ত ছিলো চারপাশে, এক দমকা হাওয়ায় হয়ত সব হারিয়ে যেতে পারে। অথচ, এই সবকিছুকে উপলব্ধি করতে পারাও একটা ক্ষমতা, এই অস্তিত্বের প্রতিটি মূহুর্তই অনেকগুলো *প্রাপ্তির* উপরেই দাঁড়ানো।

২১ জানু, ২০১৪

​ বিয়ে আপনার জীবনের সমস্যাগুলোকে অলৌকিকভাবে সমাধান করে দিবে না

​"বিয়ে আপনার জীবনের সমস্যাগুলোকে অলৌকিকভাবে সমাধান করে দিবে না। বিয়ে কিন্তু সবসময় আপনার একাকীত্ব থেকে মুক্তির কিংবা বর্তমান অবস্থাটা থেকে বের হবার কোন পথ নয়। ভাই ও বোনদের উচিত বিয়ে জীবনটাকে যাদুমন্ত্র দিয়ে বদলে দিবে এমন আশা না করে ব্যক্তিগত ও আত্মিক উন্নতির জন্য চেষ্টা করা।

বিয়ে ব্যক্তিগত উন্নয়নের একটি বিশাল মাধ্যম হতে পারে, হতে পারে আমাদেরকে উত্তম মানুষ হয়ে বদলে যাওয়ার জন্য সাহায্যকারী, ইন শা আল্লাহ। একজন মানুষের প্রতি আল্লাহর শ্রেষ্ঠ নি'আমাতগুলোর একটি হলো সুখী-সুন্দর বিয়ে; এবং এর ফলে একটি পরিবারের সৃষ্টি, সেই পরিবারের সেবা-যত্ন করা -- যা সেরা ইবাদাতগুলোর অন্তর্ভুক্ত। কিন্তু যে ব্যক্তি নিজের ব্যক্তিগত উন্নতির জন্য এখনই তেমন কোন কাজ করতে পারছে না, কীভাবে আশা করা যায় যে আরেকজন মানুষের আরো কিছু দায়দায়িত্ব ও মালপত্র কাঁধে নিয়ে সেই কাজটি তার জন্য সহজ হবে, এমনকি যখন সেই মানুষটিও নিখুঁত নন?

আপনি নিজেই কি আপনাকে বিয়ে করতে রাজি হতেন? যদি না হন, তাহলে সেই আকাঙ্খিত অবস্থায় যেতে আপনার আরো কী কী করতে হবে? যদি হয়ে থাকেন, তাহলে কি ভেবেছেন আপনার ভালো গুণাবলীকে আরো বৃদ্ধি করতে আপনি কী করতে পারেন।"

-- মারিয়াম আমির ইব্রাহিমি

[মিশরীয় বোনটির ফেসবুক পোস্ট থেকে অনূদিত]

​ বিয়ে হলো দু'জনের ভালোবাসার মেলবন্ধন, কোন লড়াই নয়

"যখন আমি শুনি কেউ হয়ত আগামীতে বিয়ে করতে যাচ্ছে এবং আলাপ করছে যে তারা তাদের সম্ভাব্য স্বামী বা স্ত্রীর ব্যাপারে কী কী "মেনে নিবে না/সহ্য করবে না", তখন আমি বেশ উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ি। কারো এমন চিন্তা নিয়ে বিয়ে করতে যাওয়া উচিত নয় যেন তারা লড়াইয়ে যাচ্ছে অন্যকে আঘাত করার জন্য যুদ্ধাস্ত্র হাতে প্রস্তুত রেখে এবং নিজেকে রক্ষা করতে বর্ম আচ্ছাদিত হয়ে।

বিয়ে হলো দু'জনের ভালোবাসার মেলবন্ধন, কোন লড়াই নয়। সেখানে শুধুমাত্র নিজের ভেতরকার দুর্বলতাগুলো এবং নফসের সাথে যুদ্ধ করা ছাড়া কোন যুদ্ধ নেই এবং অস্ত্রু বলতে আছে শুধুই দু'আ, তাওয়াক্কুল (আল্লাহর উপরে পরিপূর্ণ নির্ভরশীলতা) এবং স্বামী কিংবা স্ত্রী হিসেবে সফল হবার জন্য দৃঢ় একটি সংকল্প -- যা এই দুনিয়া এবং আখিরাতের জন্যেও।"

-- উম্মু যাকিয়্যাহ

['দি জার্নাল অফ উম্মু যাকিয়্যাহ' থেকে অনূদিত]

১০ জানু, ২০১৪

আমাদের হৃদয়টার যত্ন নেয়া প্রয়োজন

আমরা কত্তো কিছুই তো করি... নিজের জন্য, অন্যের জন্য। অন্য কারো সুখের জন্য নিজেকে বিলিয়ে দিতেও চেষ্টা করি। যারা আল্লাহর সন্তুষ্টি চাই, তাদের চেষ্টাও থাকে যত বেশি পারা যায় লোকের সামনে হোক অথবা অগোচরেই হোক, বেশি বেশি অন্যের উপকার করতে থাকা। কখনো জনমভোর অন্যের জন্য করে একসময় কষ্ট পেয়ে যাওয়া, অথবা কারো ভালো করতে গিয়ে যেন হয়ত নিজের ক্ষতি হলেও মেনে নিই, ভালোবাসা থেকে, দয়া থেকে। অন্যের জন্য নিজের কেমন ধরণের ক্ষতি মেনে নিচ্ছি, সেটা নিয়েও একপ্রস্ত চিন্তা করার আছে...

মনে হয় একটা অন্যরকম ব্যাপার আছে, যেটা হয়ত আমাদের চিন্তা থেকে এড়িয়ে যায়--  আল্লাহ যেদিন আমাদেরকে দাঁড় করাবেন, সেদিন আমরা কারো ভাই হিসেবে না, কারো বোন হিসেবে না, কারো ছেলে কিংবা মেয়ে হয়ে নয়, কারো সন্তান কিংবা বাবা/মা হয়েও নয়, কারো স্বামী বা স্ত্রী হয়েও নয় -- আমরা দাঁড়াবো 'আমি' হয়ে। যেই আমি আমার অন্তরটাকে ধারণ করতাম, যেই আমি আমার হৃদয় নিয়ে কাজ করেছি পৃথিবীতে... বাইরে যা-ই করেছি, হৃদয় জানতো আসল উদ্দেশ্য কী ছিলো, কী করতে পারা যেত অথচ হয়ত করা হয়নি... এমন আরো অনেক কিছু...

২৮ সেপ, ২০১৩

যে মানুষটাকে ভালোবাসি তাকে আমাদের অবশ্যই বুঝতে হবে

"যে মানুষটাকে ভালোবাসি, তাকে আমাদের অবশ্যই বুঝতে হবে। আমাদের ভালোবাসা যদি হয় কেবল কাউকে দখল করে রাখার কোন চাওয়া, তাহলে তা ভালোবাসা নয়। আমরা যদি শুধু আমাদেরকে নিয়ে চিন্তা করি, শুধু আমাদের প্রয়োজনগুলোই বুঝি এবং অন্যদের প্রয়োজনকে এড়িয়ে যাই, তাহলে আমরা কখনই ভালোবাসতে পারবো না। যাদের ভালোবাসি তাদের প্রয়োজন, চাওয়া, ভালোলাগা এবং কষ্টগুলো আমাদেরকে অবশ্যই গভীরভাবে খেয়াল করতে। এটাই প্রকৃত ভালোবাসার পথ। আপনি যখন কাউকে সত্যিকার অর্থে বুঝতে পারবেন, তখন তাকে ক্রমাগত ভালোবেসে যাওয়া থেকে আপনি নিজেকে ঠেকাতে পারবেন না।"

[যে গ্রন্থ থেকে অনুবাদ : Peace Is Every Step: The Path of Mindfulness in Everyday Life]

২৪ সেপ, ২০১৩

প্রেম করা এবং ছ্যাঁকা খাওয়া জীবনগুলোর কথা

ভার্সিটি জীবনে অনেককে 'ছ্যাঁকা' খায়। ছ্যাকার আগে তো প্রেম হতে হয় -- আমাদের সময়ের বেশিরভাগ প্রেমের সূত্রপাত ছিলো কলেজ লাইফের কোচিং সেন্টারগুলোতে, নইলে কলেজে পড়ার সময় কোন এক 'কাজিনের বান্ধবী' টাইপের জায়গা থেকে। অথবা, 'ফোন' নাম্বার পেয়েছিলো কোন বন্ধুর কাছে -- সেই জিনিস থেকে কথা বলতে বলতে প্রেম। কিছুদিন এইসব প্রেম চলে দুর্দান্ত মুডে। ক্লাস থেকে বের হয়েই কানে ফোন নিয়ে হাঁটতে হাঁটতে রুমে ফেরা। সব বন্ধুরা একসাথে হল থেকে বের হয়ে যখন নাশতা করতে বের হয়, তখন 'প্রেমিকরা' কানে ফোন নিয়ে পেছনে থাকত। এই দৃশ্য সার্বজনীন, সকল ভার্সিটিতে, সকল সেমিস্টারের ছেলেপিলেদের মাঝে এখনো এমন দৃশ্য আছে বলে মনে হয় আমার।

ইদানিং দেখতে পাই ঢাকার রাস্তায় ব্যস্ত পথেও কিছু ছেলেমেয়ে ফোনে কথা বলতে বলতে পার হয় এবং তারা কথাতে এতটাই ডুবে থাকে যে খেয়ালই করে না বড় গাড়িগুলোকে, তারা কেবল আল্লাহর প্রচন্ড দয়ার কারণেই দুর্ঘটনা থেকে বেঁচে যায়। এইসব ছেলেমেয়েদের পথচলতে চারপাশের ব্যাপারে উদাসীন অথচ হাসিমুখ দেখে আমার কেন যেন মনে হয় অন্য প্রান্তে বিপরীত লিঙ্গেরই কেউ আছে হয়ত। তাদের মাঝে হারাম সম্পর্কের জোয়ার বইছে, শয়তান তাদের অনুভূতিতে বেশি করে উচ্ছ্বাস মাখিয়ে দিচ্ছে, ফলে এই ভালোবাসার নেশার মাতলামিতে ডুবে থাকছে তারা।আবেগের ভাগাভাগি, কিছু স্বপ্ন আর খুঁনুসুঁটি তো আনন্দেরই বটে! কিন্তু নদীতে তো জোয়ার হলে ভাটাও আসে, অনৈতিক সম্পর্কের উদ্দাম আনন্দের জোয়ার পেরিয়ে প্রেমে ভাটার টান আসে, সে টান তারা সামলাতে পারে না। সে টানে দু'জনাই ভেসে যায়, একদম হারিয়েই যায় বেশিরভাগ সময়েই। এই ভাটারই ফল ছ্যাঁকা খাওয়া। সুস্থ-স্বাভাবিক এক যুবক হতাশা আর উচ্ছন্নতাকে আলিঙ্গন করে নেয় এমন সময়ের পরেই।

২০ সেপ, ২০১৩

প্রেমে ছ্যাকা খেয়ে ব্যাঁকা হওয়া মানুষদের কী হবে জীবনে?

তখন সন্ধ্যা হয়ে এসেছে। ঢাবি'র কেন্দ্রীয় মাসজিদে মাগরিবের সলাত আদায় করে শাহবাগে অপেক্ষা করছি বাসের জন্য। ছুটির দিনের সন্ধ্যা, শিশুপার্কে আগত মানুষদের উপচে পড়া ভিড়ে বাসে জায়গা পাওয়ার আশা ত্যাগ করে হাঁটতে শুরু করলাম রমনা পার্ক লাগোয়া ফুটপাত ধরে... একটু নীরব এলাকায় আসতেই এক শক্তপোক্ত যুবককে সামনেই কানে ফোন নিয়ে রীতিমত অস্থিরভাবে ছটফটিয়ে এদিক ওদিক লাফ দিতে দেখলাম। কিছু কথা কানে আসতে একটু ধীরপায়ে হাঁটলাম, কানে এলো --

"ও কেন ছেলের সামনে হাজির হবে? আমি জানতাম, দুপুর থেকেই টের পাচ্ছিলাম যে আজকে ওকে কেউ দেখতে আসবে। শুক্রবারে ওকে দেখতে আসে আমি জানি... ও আমাকে কথা দিসিলো আব্বা-আম্মা ওর সাথে বেঈমানী করবে না। ও কেন তাহলে ছেলেপক্ষের সামনে গেলো। আজকে যদি ওর বিয়ে হয়া যাইত তাইলে যেমন কষ্ট পাইতাম, আমি এখন তেমন কষ্ট পাইতেছি..."

বিয়ে কি এমনই হওয়া উচিত?


আমরা এমন একটা সমাজে বসবাস করছি এখন, যেখানে প্রেম করার জন্য তেমন একটা ইচ্ছা/আগ্রহেরও দরকার পড়েনা, কিছু বুঝে উঠার আগেই তা একেকজনের উপরে আপতিত হয়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সমস্ত মেয়েরা এই অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হয়। বন্ধুর মাধ্যমে, ফোনে, ফেসবুকের ইনবক্সে কেবলই প্রেমের জয়গান। শ্লোগান শোনা যায়, "যদি বন্ধু হও হাতটা বাড়াও", আর এই হাত বাড়ালেও হলো, তারপরেই পথ খুলে যায় আনন্দের -- শহরের এখানে-ওখানে অজস্র আনন্দ-আবেগের ভাগাভাগি, খুঁনসুঁটি, হাসি-ঠাট্টা-উচ্ছ্বাস প্রকাশ করা যায় আরো অজস্র পথচারীদের সামনেই। আর এই অপার আনন্দকে পেতে কেবল একটা জিনিস লাগে -- "ইচ্ছা"।

কিন্তু এই সমাজেই বিয়ে করার জন্য শত-সহস্র কঠিন ধাপ আছে। সেই ধাপের একেকটা পূরণ না করতে পারলে অপরাধী-আসামী হয়ে যেতে হয় নিকটাত্মীয়-পরিবারের কাছে, সর্বোপরি *সমাজ* নামের প্রতিষ্ঠানটির কাছে। হারাম সম্পর্ক গড়া যতটাই সহজ, হালাল সম্পর্ক করা ততটাই কঠিন।

৪ মে, ২০১৩

হৃদয়ের ক্ষত সারাবো কেমনে

মানব হৃদয়ের কিছু অব্যক্ত যন্ত্রণা থাকে, যেগুলো ছোট থেকে বড় হবার সময়ে মানুষ চোট খেতে খেতে ক্ষত করে ফেলে। শরীরের ক্ষতগুলো দেখা যায়, হৃদয়ের ক্ষত দেখা যায় না। সেই ক্ষতের উপরে আবার চোট পেলে যেই যন্ত্রণা মাত্রাছাড়া হয়ে যায়। কখনো সেই যন্ত্রণা আত্মসম্মানবোধে লাগায়, কখনো নিজের উপরে নিজেকে বীতশ্রদ্ধ করে তোলে, কখনো মনে হয় পৃথিবীটাই নির্মম, কখনো আবার শুধু নিজেকেই কপালপোড়া অভাগা মনে হয়... মনে হতেই পারে, মানব মনের ধরণটাই অমন। কিন্তু আসলেই কি তাই? হয়ত নিজের ভুলের কারণেই যন্ত্রণার সৃষ্টি হয়েছিল, হতে পারে দুর্ভাগ্যক্রমে কিছু ঘটে গিয়েছিলো...

২১ ফেব, ২০১৩

আমার ভালোবাসা, আমাদের ভালোবাসা

ভালোবাসব বলে কেন আমরা এমন কাউকে ভালোবাসি, যে কখনই বুঝেনা আমাদের আর্তি আর গভীরতা। যাকে ভালোবাসি, সেওতো দুর্বল হয়ে ক্ষয়ে যায়, ভুলে যায়, মরে যায়। অল্পতেই বলে বসে বুকের গভীরে ক্ষত সৃষ্টি করে এমন কথা...

অথচ এমন কাউকেই ভালোবাসা উচিত, যে ভালোবাসা অক্ষয়, অবিনশ্বর। যে ভালোবাসা রয়ে যাবে অনন্তকাল। যেই অনুভূতির শেষ নেই, কাল নেই। ধনী-গরীবে পার্থক্য হয়না, রং-বয়সে পার্থক্য হয়না, পাপী-নিষ্পাপ সবার জন্যই রাস্তা খোলা সেই ভালোবাসার...

[২৪ জানুয়ারি, ২০১৩]

* * *

আচ্ছা, আমাদের রাগ হয় কখন? মূলতঃ তখনই, যখন আমাদের ভালোবাসার কোন কিছু হুমকির মুখে পড়ে।আমার নতুন মোবাইলটা কেউ নিয়ে ছুঁড়ে ফেলে দিলে রাগ হই, আমার মানহানিকর কোন মন্তব্য কেউ করলে রাগ হই। এমনি করেই কাকে সবচাইতে বেশি ভালোবাসি তা বোঝার উপায় হলো কীসে আমি বেশি রাগ হই সেটা বুঝতে পারলে। আমাদের মা-বাবা, স্বামী-স্ত্রী, সন্তান-সন্ততি, ভাই-বোন, অর্থ-সম্পদ, সম্মান-ইজ্জত নাকি অন্য কিছু।

সাধারণতঃ আমাদের বাবা-মা নিয়ে কেউ কটুক্তি করলে আমরা তেড়ে আসি, আমরা ক্ষেপে উঠি দেশ নিয়ে কেউ বাজে মন্তব্য করলে, আমার প্রিয় মানুষটিকে কেউ আঘাত করলে ক্ষেপে উঠি। এটাই স্বাভাবিক একটা ঘটনা প্রতিটি মানুষের জন্য। যেই মানুষ মনে করেন তিনি মুসলিম, যিনি মনে করেন তিনি আল্লাহকে রব হিসেবে মানেন, যিনি মৃত্যুর পরের জান্নাতের স্বপ্ন দেখেন -- তার জন্য তার বাবা-মা, সন্তান-সন্ততি এমনকি নিজের চাইতে বেশি প্রিয় হবার কথা এই পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ মানুষটা, যিনি আমাদের প্রিয় নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম।

আমাদেরই এই দেশের মাটিতে, আল্লাহর সৃষ্টি ও রাহমাতের এই পৃথিবীর হাওয়া বাতাস খেয়ে বড় হয়ে কিছু নরাধম, ঘৃণ্য জঘন্য কীট আমাদের প্রিয় নবী ও আল্লাহকে নিয়ে কটাক্ষ করেছে, নোংরা কথা বলেছে। এই কথা নিঃসন্দেহে প্রমাণিত হবার পরেও যদি কেউ বিশ্বাস করতে চায় এসব তারা করেনি, এরপরেও যদি এই ঘটনা ভুলে অন্য কিছুর নেশায় চুর হয়ে ভুলে থাকতে চায়, রক্ত গরম হয়ে খেপে না উঠে -- তাহলে এই ব্যাপারে কোন সন্দেহই নেই যে তার মধ্যে ঈমান নেই, সে মুসলিমদের মধ্যে গণ্য হতে পারে না। পবিত্র কুরআনুল কারীমে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা জানিয়ে দিয়েছেন মু'মিনরা কেবল মু'মিনদেরকেই বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করে। যদি আমাদের সবচাইতে বেশি ভালোবাসার জায়গাটিতে প্রিয় নবী (সা) না থাকেন, তাহলে আমরা জান্নাতে প্রবেশ করতে পারব না। আমরা কোন ধরনের মানুষ? ভেবে দেখেছি কি?

♥"যারা আল্লাহ ও পরকালে বিশ্বাস করে, তাদেরকে আপনি আল্লাহ ও তাঁর রসূলের বিরুদ্ধাচরণকারীদের সাথে বন্ধুত্ব করতে দেখবেন না, যদিও তারা তাদের পিতা, পুত্র, ভ্রাতা অথবা জ্ঞাতি-গোষ্ঠী হয়। তাদের অন্তরে আল্লাহ ঈমান লিখে দিয়েছেন এবং তাদেরকে শক্তিশালী করেছেন তাঁর অদৃশ্য শক্তি দ্বারা। তিনি তাদেরকে জান্নাতে দাখিল করবেন, যার তলদেশে নদী প্রবাহিত। তারা তথায় চিরকাল থাকবে। আল্লাহ তাদের প্রতি সন্তুষ্ট এবং তারা আল্লাহর প্রতি সন্তুষ্ট। তারাই আল্লাহর দল। জেনে রাখ, আল্লাহর দলই সফলকাম হবে।"♥
----[সূরা আল মুজাদিলাহ : ২২]

৪ ফেব, ২০১৩

সেনসিটিভিটি

সেনসিটিভ যারা, তারা এই যন্ত্রের নির্দয় যুগে বেশ কষ্টেই থাকেন। আরেকজন মানুষের কষ্টে আপনি যদি ব্যথিত হয়ে অশ্রুসিক্ত হয়ে পড়েন, যদি কারো আহাজারিতে আপনার হৃদয় গলে -- আপনাকে অনেকেই উপহাস করতে পারে। করতে পারের চাইতে বলব, করে। বন্ধুমহলে সেনসিটিভিটিকে দুর্বলতা হিসেবেই চিহ্নিত করা হয়। যে আরেকজনের কথাকে গুরুত্ব দেয়, কারো জন্য সময়ের আগেই এসে অপেক্ষা করে, কারো জন্য খেয়াল করে তার অপছন্দের কাজগুলো এড়িয়ে চলে -- বন্ধুরা তাকেই বেশ মজা করে বেশি বেশি ইউজ করে আজেবাজে উপায়ে।

ছেলেদের মহলে এটার সমস্যা বেশি প্রকট হয়। বয়ঃসন্ধিকাল থেকে এই সমস্যাগুলোকে বড়ো হতে দেখেছিলাম চারপাশে। সেনসিটিভ মানুষগুলোকে ক্রমাগত বিরক্ত করে নির্দয় আচরণ করা ছেলেদেরকে দেখেছি সুযোগ নিতে। আপাততদৃষ্টিতে এসব নিয়ে কেউ ভাবেনা। সময় কই! কিন্তু আমি একাধিকজনকে চিনি, যারা মানসিকভাবে কিছু কিছু আচরণে খুবই ভয়ংকর প্রতিক্রিয়া দিত। অনেকেই তার সার্কেলে সেনসিটিভিটির কারণে অত্যাধিক হাসিঠাট্টার কারণে এবং সেই গুণাবলির 'অ্যাবিউজ' হবার কারণে নিজেদের বদলে ফেলে 'আনইভেন রুড' হয়ে যেতে দেখেছি। অথচ, সেই মানুষগুলো একসময় অনেক সুন্দর ব্যবহার করত সবার সাথে, কেউ তাদের কাছে এলে ফিরে যেত না বিনা উপকারে।

সেনসিটিভ মানুষদেরকে বেশিরভাগ সময়েই আমার রাহমাত হিসেবে মনে হত। এই মানুষদের কাছে গিয়ে যতটা সহমর্মিতা পাওয়া যায়, তারা আরেকজনের কথাকে যতটা মূল্য দেয়, অন্যেরা তাকে কিছুতেই বুঝে দেখতে চায়না। 'রাফ এন টাফ' হয়ে পৌরুষত্ব প্রমাণের তারুণ্য-যৌবনকালে ব্যস্ত সবার মাঝে যারা সেনসিটিভিটিকে আগলে রেখেছিল, তাদেরকে আমি অনেকদিন পর পর হলেও ঘুরে ঘুরে দেখা করে এসেছি, ভালোবাসা জানিয়ে আসার চেষ্টা করেছি। সুবহানাল্লাহ! ক'দিন আগে প্রফেসর তারিক রমাদানের একটা উক্তি দেখে আমার মনের ভার যেন নেমে গেলো, ভালোলাগায় মনে ভরে গেলো। সেনসিটিভ মানুষদেরকে তাদের এই যোগ্যতা ও শক্তিটিকে দুর্বলতায় পর্যবসিত হতে না দেবার উদার আমন্ত্রণ রইলো...

“Your sensitivity is power. Don’t let people transform your qualities into weaknesses.” --- Tariq Ramadan

২১ জানু, ২০১৩

মনে জমানো রাখা রাগ-ক্ষোভের ক্ষতি কী? কীভাবে সামলানো যেতে পারে?

ব্যক্তিগত সম্পর্কের টানাপোড়েনে মনে হয় আমরা সবাই কমবেশি থাকি। আর সেই টানাটানি প্রভাব ফেলতে থাকে আমাদের মনের স্বাভাবিকতায়। যেমন ধরুন, অনেকেই যেচে পড়ে অপকার করেন, কেউ কেউ বিশ্বাসভঙ্গ করেন, কারো প্রতি অভিমান হয় কারণ তারা কথা দিয়ে কথা রাখেন না। খুব কাছের মানুষদের কাছ থেকে 'এক্সপেকটেশন' তৈরি হলেও তারা সেই ব্যাপারগুলোকে অগ্রাহ্য করেন... আবার অনেক সময় কিছু মানুষের অপরাধকে আমরা কিছুতেই ক্ষমা করতে পারিনা কারণ তাদের অপরাধ/ভুল তারা বারবার করতে থাকেন -- এরকম আরো অনেক রকমের ঘটনায় আমাদের মনকে সামলাতে একটা দুরূহ পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হয়।