musings লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
musings লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

১৯ এপ্রি, ২০২০

মনের জানালা মাঝে # ৬০


(৫১২)
শবে বরাত বিদাত কিনা সেইটা নিয়া নানান রকমের আলাপ-আলোচনা থাকলেও হালুয়া খাওয়া যে বিদাত না সেইটা নিয়া উলামারা একমত। যত খুশি হালুয়া খান!

(৫১৩)
বিদায় তো তারই সুন্দর হয়, যার অবস্থান থাকে অর্থপূর্ণ। সুন্দর বিদায় মানে কি আর আড়ম্বর, জাঁকজমক, ঢাকঢোল? সুন্দর বিদায় হলো যতটুকু থাকা হলো, ততটুকুতে নিজ জীবনের অর্থ খুঁজে পাওয়া, রবের স্মরণ, ভালোবাসার মানুষদের অশ্রু। চাইলেই কি আর যাবার আয়োজন সুন্দর করতে পারে সবাই? সে তো তারই হয়, যার কাজ হয় সুন্দর।

(৫১৪)
যে মানুষটির কথা ভাবলে মনে হতো, তিনি এই দেশের মুসলিম সমাজের তীব্র মতপার্থক্যের ফলে সৃষ্ট অরাজকতাকে কমিয়ে একীভূত করবেন -- সেই মানুষটি আমাদের বড্ড অসহায় করে ফেলে আল্লাহর ডাকে সাড়া দিয়ে চলে গেছেন। ড. খোন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর একজন ব্যতিক্রমধর্মী আলেম ছিলেন। আল্লাহ তার এই বান্দাকে যেন জান্নাতের পেয়ালার পানি করান। আমরা একের পর এক মহান মানুষদের হারিয়ে ফেলছি নানান ভাবে। আল্লাহ আমাদের ক্ষমা করুন। [১১ মে, ২০১৬]

(৫১৫)
তবু পৃথিবীতে ভালোবাসা রয়ে যাবে।
হয়ত কেউ জীবনের যন্ত্রণায়, রোগের দংশনে বিদায় নেবে জগতসংসার ছেড়ে রবের কাছে, কেউ তারে বিদায় দিয়ে পড়ে থাকবে আমৃত্যু যুদ্ধে। এই কষ্টকর বৃত্তে তবু ভালোবাসা জয়ী হয়। রক্ত-জ্বালা-যন্ত্রণা-শংকা পেরিয়ে মানব হৃদয় প্রেমে ডুবে।

ভালোবাসুন পৃথিবীবাসীকে। দয়াময় আল্লাহ আপনায় ভালোবাসবেন। এ জগত পেরিয়ে অনন্ত জগতে পাবেন আনন্দভরা অভ্যর্থনা! ভালোবাসা-দয়া বৃথা যায় না...

(৫১৬)
করোনাভাইরাসের প্রকোপে হঠাৎ চোখের সামনে অনেক অন্যায় দেখতে পাচ্ছি স্পষ্টভাবে, পুরোনো অন্যায়ের বীজ থেকে মহীরুহ হবার কিছু দৃষ্টান্ত। কষ্ট লাগে, খারাপ লাগে, অসহায়ও লাগে। কিন্তু মনে রাখা উচিত কি নয় যে এত এত সৃষ্টি, ধ্বংস, সভ্যতা-সংস্কৃতি, রাজত্ব-বিচার, শক্তি ও প্রতাপ এগুলো একদমই মানুষের ব্যক্তি যোগ্যতা না। একদমই 'কিছু সংখ্যক' লোকেরও অর্জন না। কারোই কোনো শক্তি নাই, কারোই কোনো 'যোগ্যতা' দিয়ে কিছু ঘটে যায় না।

জীবনে দেখলাম এত অসাধারণ মানুষগুলো, কী অবহেলায় খরচ হয়ে গেলো। এত নিকৃষ্ট মানুষগুলো, কত ক্ষমতা-অর্থ কব্জা করে দাপুটে সময় কাটালো। অথচ, আগের মানুষদের একজনের তুলনায় এরা লক্ষ-কোটিজন একত্রিত হলেও কোন মূল্যই নেই। এই বিচারও দেখার সময় এই জগত না, এর পরের একটা জগত আছে, সেখানে পুঙ্খানুপুঙ্খ বিচার হয়। আমরা হয়ত চোখে সেটাই দেখবো, যেগুলা আপাত ক্ষমতা, ষড়যন্ত্র, লড়াই দিয়ে লোকে জিতবে। কিন্তু এরাও খুব খুব অল্প সময়েই শেষ হয়ে যাবে।

কে থাকে দীর্ঘ সময়? কেউ না। হয়ত আমরা চাই, আমাদের চাওয়ার মতন করে 'অন্যায়ের ধ্বংস' হোক। কিন্তু আল্লাহ ত সব কিছুর একটা নির্দিষ্ট সময় বেঁধে দিয়েছেন। তিনিই পরম ক্ষমতাবান। আর কেউ নেই। এই মহামারীর সময়ে অসহায়ত্বের এই গূঢ়তম উপলব্ধি হয়ত আমাদের প্রতি রবের পক্ষ থেকে উপহার। দিনশেষে যেকোনো উপায়েই হোক, আমরা মাটিতেই মিশে যাবো। যে যা করবো, তা সাথে নিয়ে যাবো...

১৮ এপ্রিল, ২০২০
ঢাকা, বাংলাদেশ।

মনের জানালা মাঝে # ৫৯



(৫০৮)
আপনার চোখগুলো যা দেখতে চায়, আপনি তো কেবল সেটাই দেখতে পান।

মূল দেখার বস্তুগুলো আমাদের কন্ট্রোলের বাইরে, আল্লাহ যা চান, সেটাই হয়। তাই, ঘটনাগুলো দেখতেই হয়। কিন্তু ঘটনা তো প্রতি মূহুর্তেই আমাদেরই চারপাশে অজস্র। ফ্যান ঘুরলে কাপড় নড়ে, বাইরে পাখি ডাকে, কেউ কাউকে কিছু বলতেসে, এমন হাজারো ঘটনা। এগুলোর মাঝে আমরা যেটা চাই, সেটাই কেবল খেয়াল করি। আর যা খেয়াল করি, তাকে নিজেদের ইচ্ছেমতন ব্যাখ্যা করি। রাস্তায় কেউ কাউকে থাপ্পড় দিলো-- এই দৃশ্য দেখে আপনি ভাবতে পারবেন এটা অন্যায়, ভাবতে পারবেন দুর্বলদের উপরে সবলের অত্যাচার, ভাবতে পারবেন এটা বড় ভাই ছোট ভাইকে শাসন করেছে। ঘটনা যাই হোক, যে অনুভূতি আপনি পেতে চান, আপনি নিজেকে সেটাই বিশ্বাস করান, ঘটনা তখন তেমনটিই মনে হয়।

[২৪ এপ্রিল, ২০১৬]

(৫০৯)
সচরাচর আমাদের হাসি থাকে মৃদু, উচ্চস্বরে নয়। সেটাই উত্তম। কিন্তু মাঝে মাঝে খ্যাক খ্যাক করে হাসতে হয়, মাঝে মাঝে হিহিহি করে, আবার কখনো হোহোহো করেও হাসতে হয়। কখনো হাসি হবে মুচকি, কখনো নিঃশব্দে দাঁত বের করেও হাসা উচিত। হৃদয়কে বৈচিত্র্য দিয়ে আনন্দ দেয়া উচিত, তাহলে মানুষটার ব্যক্তিত্বের মাঝেও আনন্দময় ভিন্নতা তৈরি হতে পারে।

যে প্রাণখুলে হাসতে জানে না, তার প্রাণের উচ্ছ্বলতা প্রকৃতপক্ষে মরেই থাকে। হাসিতে থাকে আমাদের হৃদয়ের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি।

(৫১০)
শাইখ হামজা ইউসুফ হ্যানসনের আব্বা মারা গেছেন ক'দিন আগে, পৃথিবীর অনেক স্কলাররাই তাদের ভালোবাসা প্রকাশ করছেন, দোয়া জানিয়ে। ৮৯ বছর বয়সে এসে তিনি মৃত্যুর কিছুকাল আগে কালেমা শাহাদাত পাঠ করেন। কী সুন্দর বিদায়! যার ছেলে সবাইকে ভালোবেসে গিয়েছে, শেখায় উদারতা, সহমর্মিতা আর জ্ঞানের গভীরতা; তার পিতা ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা পাবেন-- এটাই তো স্বাভাবিক। আল্লাহ হামজা ইউসুফের পিতাকে জান্নাতবাসী করুন এবং আমাদের উত্তম, সহজ, ঈমানী মৃত্যু দান করুন।
[১৯ এপ্রিল, ২০১৬]

৮ ডিসে, ২০১৬

মনের জানালা মাঝে # ৫৮


(৫০১)
লোকে আপনাকে অশান্তিতে রাখে না। লোকে আপনাকে যন্ত্রণা দেয় না। আপনি বরং নিজের দিকে তাকান, নিজের গভীরে, হৃদয়ে, আপনার সত্ত্বার গভীরে। আপনি যে ঘটনাতে ত্যক্ত-বিরক্ত, সেই ঘটনাতেই দিব্যি আরেকজন হাসিমুখে কাটাচ্ছে জীবন। কষ্ট-যন্ত্রণা ঘটনার মাঝে নয়, বরং ঘটনাকে আপনি কীভাবে গ্রহণ করেন, তার মাঝে। তাই সহজভাবে গ্রহণ করুন জীবন। সুখে থাকার ভিন্ন কোনো উপায় নেই।

(৫০২)
একটু ধৈর্য ধরুন, শান্ত হোন।প্রথম প্রথম অনেক কিছুই কঠিন থাকে, পরে সেগুলো সহজ হয়ে যায়।\

(৫০৩)
জীবনে পেছনের ঘটনাগুলোকে আপনি যেভাবে ব্যাখ্যা করবেন, আলাপে আনবেন, অনুভব করবেন-- সেগুলো সেভাবেই আপনাকে শক্তি দিবে অথবা ধ্বংস করবে। জীবনের ঘটনাকে আপনি যেভাবে নিবেন, জীবনের প্রভাব আপনার প্রতি অমনই হয়। ঘটনা যা-ই হোক।

(৫০৪)
চারপাশের পরিবেশে খুব অশান্তি লাগে? মানুষগুলো কি জীবনটাকে দুর্বিসহ করে তুলছে? জ্বী, এরকমটা প্রায় সমস্ত মানুষের জীবনেই হয়। ইচ্ছে করবে অন্যায়কারী, অত্যাচারী, মিথ্যুক, নির্মম মানুষগুলোর বেড়াজাল থেকে পালাতে। কিন্তু হয়ত বেশিরভাগ মানুষই পারে না। আপনি মানুষগুলোকে বদলাতেও পারবেন না। আপনি শুধু পারবেন আপনাকে বদলাতে। আমরা শুধু আমাদের নিজেদের বদলাতে পারি। আপনি আপনাকে পরিবর্তন করুন। আপনার নিজেকে বদলে দিন। আপনার শান্তিটুকু আপনার নিজের মাঝে, সেটুকু নিয়ে থাকুন। পৃথিবীতে ভালো থাকার এটা একটা গুরুত্বপূর্ণ পদ্ধতি।

(৫০৫)
আপনার জীবনটা হলো আপনার পছন্দগুলোর ফলে বেছে নেয়া সিদ্ধান্তগুলোর সমষ্টি। আপনার যদি জীবনটাকে এখন সহ্য না হয়, বুঝে নিন আপনি এমন কিছু নিয়ে পড়ে আছেন যা আপনার ভুল পছন্দ। শীঘ্রই নিজের জন্য বেছে নিন ভালো কিছু।

(৫০৬)
শব্দ দিয়ে অনেক কিছুকে গড়ে দেয়া যায়, আবার ধ্বংস করে দেয়া যায় অনেক কিছু, শব্দ ব্যবহারের আগে তাই খেয়াল করা উচিত।

(৫০৭)
সংকীর্ণতার জিঞ্জির ভেঙ্গে মুক্তি পেতে চাইলে ভালোবাসতে শিখতে হবে, অসংকোচ ভালোবাসা।

১৭ জুন, ২০১৬

মনের জানালা মাঝে # ৫৭


(৪৯৫)
যখন সবকিছু অসহ্য লাগছে, তখনো কিন্তু দেখবেন আপনার অনেককিছু আরেকজনের লাইফে কমন হলেও সে অন্যরকম আছে। আসলে, সমস্যা বেশিরভাগটাই আমাদের নিজেদের মাঝেই। নিজেকে ভালো রাখুন।

(৪৯৬)
ভালো থাকা একটা অভ্যাস। খারাপ থাকাও। মন খারাপটাও অভ্যাস। দক্ষতাও অভ্যাসের ফসল। তাই, নিজের অভ্যাস নিজে গড়ুন, যেমন ইচ্ছে হয়, তেমনটাই থাকুন!

(৪৯৭)
যিনি দিতে শিখেননি, তিনি আসলে পেতেও শেখেননি। দেয়ার আনন্দ তো পাওয়ার আনন্দের চেয়ে আকাশ সমান বড়।

(৪৯৮)
শুধু এই জন্যেই কি আরেকজনকে ঘৃণা করছেন যে তার পাপগুলো সে আপনার চেয়ে ভিন্ন পদ্ধতিতে করে?

(৪৯৯)
আপনি কেবল চেষ্টা করতে পারেন। ফলাফল ঘটানোর শক্তি-ক্ষমতা আপনার নেই, তা ঘটাতে আপনি পারবেন না। ফলাফলের চিন্তা বাদ দিন।

(৫০০)
গ্রহণ করে নিন জীবনে যা কিছু আসে, আসবে। হাসিমুখ থাকুন, চিন্তাক্লিষ্ট হয়ে দুশ্চিন্তা ও আশংকা করে নিজেকে নষ্ট করবেন না।

১২ জুন, ২০১৬

মনের জানালা মাঝে # ৫৬



(৪৮৯)
কখনো কখনো শব্দেরা আমাদের বুকের কথাগুলোকে প্রকাশের জন্য একদমই তুচ্ছ হয়ে যায়। তখন হৃদয়ের আর্তি আর কাঁপুনিগুলো এমন এক ভাষায় তরঙ্গায়িত হয় যা কেবল তিনিই শুনতে পান।

(৪৯০)
আজকের খুব তীব্র কষ্টের অনুভূতিটা আর কয়েক মাস পরে আরে এমন তীব্র লাগবে না, দেখবেন দিব্যি এটা মনে করে হাসছেন আর ভাবছেন 'আহা সময়টা কেমন করেই না পার করেছি!'... জীবনটা এমনই।

(৪৯১)
"মন ভালো নেই"-- এই কথা আওড়ায় যিনি, তার আপাতত মন ভালো হবার কোনো সম্ভাবনা নেই। এটা বলা থেকে বিরত থাকতে হবে যদি সত্যিই মন ভালো করতে চান।

(৪৯২)
এই তীব্র রোদে যখন 'গ্রীষ্মকালের' উপরে রাগ হয়, তখন একটু সচেতন মানুষ ঠিক অনুভব করতে পারেন যে অনেক ঠান্ডার দেশে মানুষ রোদের জন্য কতটা লালায়িত থাকে।   আপনার জন্য অনাকাংখিত বস্তুটি হয়ত কারো প্রবল প্রার্থনার চাওয়াও হতে পারে। ক্ষুব্ধ হবার আগে ভেবে দেখুন একটু! :)

(৪৯৩)
যে কাজ আপনার আত্মাকে আনন্দিত করে, সে কাজগুলো করুন। দেখবেন আপনি বদলে যেতে থাকবেন।

(৪৯৪)
জীবনের ভুল আর কষ্টগুলো অর্থহীন নয়। সেগুলো থেকে পাওয়া শিক্ষাই তো আমাদের সামনে আরো এগিয়ে যাওয়ার শক্তি যোগায়।

৫ জুন, ২০১৬

মনের জানালা মাঝে # ৫৫

 

(৪৮৪)
আপনার চোখগুলো যা দেখতে চায়, আপনি তো কেবল সেটাই দেখতে পান।

(৪৮৫)
কোনো ভালো কাজ করতে ইচ্ছে হলে সাথে সাথে করে ফেলুন। সংশয় করবেন না। শেষে হয়ত কাজটা করা হবেনা।

(৪৮৬)
ঘড়ির দিকে তাকিয়ে কী হবে? বরং সে যা করে, আপনিও তাই করুন। লক্ষ্যপানে ছুটতে থাকুন একটানা।

(৪৮৭)
আপনি যখন কিছু পান, তখন কিছু জিনিস থাকে যা হারান। আপনি যখন কিছু হারান, তখন কিছু জিনিস পেয়ে থাকেন। এই ভারসাম্যই জীবন। জীবনটাকে অন্যভাবেও দেখা যায়, অনুভব করা যায়।

(৪৮৮)
প্রবঞ্চিত হওয়া ভালো। উপেক্ষিত হওয়াও। নইলে কেমন করে বুঝবেন ভালোবাসা পাওয়া আর মূল্যায়িত হবার আনন্দ ও মর্যাদা?

৩ জুন, ২০১৬

মনের জানালা মাঝে # ৫৪


(৪৭৯)
আপনি যখন কিছু পান, তখন কিছু জিনিস থাকে যা হারান। আপনি যখন কিছু হারান, তখন কিছু জিনিস পেয়ে থাকেন। এই ভারসাম্যই জীবন। জীবনটাকে অন্যভাবেও দেখা যায়, অনুভব করা যায়।

(৪৮০)
বেশি ভালো কখনই ভালো না। স্বর্ণের মধ্যে ইচ্ছে করেই খাদ মেশানো হয় যেন তা টিকে থাকে। মানুষও বেশি ভালো দেখতে পেলে বুঝতে হবে তা ভঙ্গুর-- হয়ত তার খাদ দেখা যাচ্ছে না, অথবা সে আপাতত এই অবস্থায় আছে, খুব শীঘ্রই ভেঙ্গে যাবে। ভুলত্রুটি মেশানো, অতি পারফেক্ট না হওয়া মানুষগুলোই শক্তপোক্ত, বাস্তব। অবাস্তব ও কল্পনাতে তো কত কিছুই হয়, জাগতিক পৃথিবীতে সেগুলোর অস্তিত্ব রয় না।

(৪৮১)
আজকের দিনটি সুন্দর। এটা বর্তমান। আজ আমরা যদি হাল না ছেড়ে একে জীবনের সেরা দিন হিসেবে তৈরি করতে চেষ্টা করি, তা হবে বিশাল প্রাপ্তি। হাল ছাড়বেন না।

(৪৮২)
"আমি তো চারপাশে মানুষদের প্রাণ উজাড় করে ভালোবাসা বিলিয়ে দেবারই যথেষ্ট সময় পাইনা, লোকে কেমন করে এত রাগ-ক্রোধ-ঘৃণা করার সময় পায় সেটাও তো বুঝেই পাইনা!"

(৪৮৩)
সেই পুরোনো কথা! চলার পথের সকল কুত্তার ঘেউ-ঘেউয়ের জবাব দিতে গেলে আপনি কোনোদিন গন্তব্যে পৌছাতে পারবেন না। একজন জ্ঞানী মানুষ বলেছিলেন, জগতে মূলতঃ দুই ধরণের মানুষ আছে, একদল কাজ করে, অপরদল কাজের সমালোচনা করে। তাই লোকের ও লোকের কাজের সমালোচক না হয়ে বরং কর্মী হওয়ার চেষ্টা করা দরকার। সমালোচকরা তো নিকৃষ্ট প্রজাতির মানুষ।

২৬ মার্চ, ২০১৬

মনের জানালা মাঝে # ৫৩


(৪৭৪)
ভবিষ্যত নিয়ে চিন্তিত আপনি?
ভেবে দেখুন, আমাদের জীবনটা কিন্তু অনেকটা বহুতল ভবনের মতন। প্রতিটি দিনে আপনি গেঁথে চলেছেন একেকটি তলা। আপনার আজকের দিনটির উত্তম বিনির্মান আপনার আগামী দিনের মজবুত ভিত্তির গাঁথুনির আত্মবিশ্বাস দেবে। আপনার বর্তমান হলো আপনার জন্য উপহার। এই মূহুর্ত, এই দিনটি তেমন করে গড়ে তুলুন যেমনটি আপনি চান। জীবনটা খুব অমূল্য উপহার। কষ্ট -যন্ত্রণা? সেটা নেই কার জীবনে বলুন? নবী-রাসূলরা আল্লাহর প্রিয়তম ছিলেন, তারা আরো বেশি কষ্ট পেয়েছেন। এই কষ্টগুলোর মাঝে আছে মুক্তির পয়গাম, অনন্ত শান্তির প্রচ্ছন্ন বার্তা। জীবনে যা-ই আসুক, আলিংগন করে গ্রহণ করে নিন। প্রতিটি মূহুর্ত খুব সুন্দর, স্বপ্নময়। এই বর্তমানে মন দিন, উজাড় করে দিন আপনার সবটুকু। ভেংগে ফেলুন আপনার মাঝে জমে থাকা শংকা ও উদ্বিগ্নতার দেয়াল। আপনি যা চান, তা করতে থাকুন আপ্রাণ প্রচেষ্টা দিয়ে, লক্ষ্যে আপনি অবশ্যই পৌছবেন। আল্লাহ নিশ্চয়ই আপনার সাথে আছেন! তো, আর কেন ভুলে ডুবে থাকা?

(৪৭৫)
এক গুরুজন একবার উপদেশ দিচ্ছিলেন--
মনে রেখো, বেয়াদব মানুষদের থেকে সবসময় দূরে থাকবে। বেয়াদবরা কিছু গড়তে পারে না, বরং সবকিছু ধ্বংস করে দেয়। বেয়াদবরা যেকোন হিসাব-নিকাশের উর্ধ্বে ভয়ংকর ও সদাপরিতাজ্য।

(৪৭৬)
কারো প্রতি রাগ প্রকাশ না করে রাগের বিষয়টি ব্যাখ্যা করে বললে ঝগড়ার পরিবর্তে হয়ত সমাধান পাবেন।

(৪৭৭)
কোন কিছুর ব্যাপারে ধারণা করে নেয়ার আগে খুব সুপরিচিত সেই পাগলাটে পদ্ধতিটা চেষ্টা করে দেখুন; লোকে যাকে "জিজ্ঞাসা করা" বলে।

(৪৭৮) 
কোথাও গিয়ে উপস্থিত সবার চেয়ে নিজেকে উত্তম অথবা বড় মনে করাটা কিন্তু আত্মবিশ্বাস না, বরং নিজেকে কারো সাথে তুলনা করতে না যাওয়াই হলো আত্মবিশ্বাস।

২৫ ফেব, ২০১৬

কে মাথা নোয়াতে জানে না? কে?


আমরা যখন একদম ভুলে যেতে থাকি, ডুবে যেতে থাকি নিজেদের ক্ষমতা, সামর্থ্য, ষড়যন্ত্র, উদাসীনতার অদ্ভুত মোহে, তখন আল্লাহ একটা নাড়া দিয়ে দেন। ঝকঝকে আকাশ হঠাৎ কেমন অন্ধকার হয়ে গেলো, কেমন রুদ্র ঝড় ঘিরে ফেললো চারপাশ, কেমন শিলা বৃষ্টির ঠাস ঠাস আঘাতগুলো জানালার কাঁচে, শার্সিতে, গাড়ির ছাদে, গায়ের উপরে আঘাতের মতন হয়ে আমাদের সত্ত্বায় নাড়া দিয়ে যাচ্ছিলো। আমরা কি আদৌ অনুভব করতে পারি? আমরা কি পারি উপলব্ধি করতে? কেমন শিউরে উঠেছিলাম আমরা কেউ কেউ!

আমরা যখন কথা বলি, তখন আল্লাহকে মনেই রাখিনা। শ্রেষ্ঠ আর প্রিয়তম যেই মানুষ, তাকেও আল্লাহ শিখিয়েছিলেন "ইনশাআল্লাহ" বলতে, অর্থাৎ আল্লাহ যদি চান তবেই না হবে! ঝড়-ঝঞ্চার মতন দুই-একটা ঘটনায় তো গোটা কাজই তো বন্ধ হয়ে যায়। অথচ একটা ঘটনা না ঘটার হাজার হাজার উপলক্ষ থাকে যার কিছুই আমাদের হাতে নয়। তবু আমরা বুঝিনা আমরা অহংকার করি, আমরা অতিরিক্ত দম্ভ দেখাই।

'কেউ রুখতে পারবে না', 'করেই ছাড়বো', 'দেখিয়ে দিবো', 'বুঝিয়ে ছাড়বো'-- এমন কত বক্তব্য! কেউ কেউ বলে, অমুক নাকি মাথা নোয়ায় না কারো কাছে, আবার কেউ বলছি ও মাটি তোমার তরে ঠেকাই মাথা। শুধুই কি আলংকারিক মাথা নোয়ানো? আমরা নতজানু হয়ে, মাথা নুইয়ে দিই বৃষ্টিতে, ঝড়ে, সূর্য আর চাঁদের গ্রহণেও! আমরা মাথা নোয়াতে জানি, মাথা নোয়ানো ভুলতে জানিনা।

তোমার তরে এমনভাবে মাথা ঠেকানোর জন্য কবুল করে নাও প্রভু, যা তোমায় খুশি করবে, আমাদের মুক্তি দেবে!

[২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬]

২০ ফেব, ২০১৬

মনের জানালা মাঝে # ৫২

 

(৪৭০)
জীবন স্রোতে আমরা বয়ে চলি। আল্লাহ আমাদের তার ইচ্ছেমতন আয়ু দেন, আমরা নানা উপায়ে তা ব্যবহার করি। বিভিন্ন সুযোগে, বিভিন্ন সময়ে আমরা বিভিন্ন কাজে মন দেই। মজার ব্যাপার হলো, আমাদের চাওয়া অনুযায়ী জীবনে খুব কম কাজই আমরা করতে পারি। আল্লাহ চাইলে না চাওয়া কাজও করে ফেলি, আল্লাহ না চাইলে হাজার চাইলেও কিছু করতে পারিনা।

(৪৭১)
হাল ছেড়ো না বন্ধু। এই হাল না ছাড়াই তো জীবন। এই জীবন সমদ্রের পুরোটাই তো উত্তাল ঢেউ। হাল ছাড়ার কিছু নেই, দিগন্ত দেখারও কিছু নেই। যারা মনে করে হাল ঠিকই আছে, ধরে ফেলেছি-- তারাই ডুবন্ত। তাই ধরে থাকো হাল। লেগে থাকো।

(৪৭২)
আমরা জীবনে যা করি, যা অর্জন করি, যা অভুতপূর্ব জিনিস শিখি-- সব আমাদের মাঝেই ছিলো, থাকে। সময়ে সময়ে আমরা উপলব্ধি করি। কিন্তু সেই উপলব্ধি করতে একটা 'জার্নির' মধ্য দিয়ে যেতে হয়। পাওলো কোয়েলহো আলকেমিস্টে এই ব্যাপারটা বুঝিয়েছে। একটা অভিজ্ঞতার আগে-পরের আমরা একই মানুষ না। একই জিনিস আমাদের ভিন্নভাবে ধরা দেয়, দেখার চোখ বদলায়। অভিজ্ঞতা খুব খেলো কিছু না। তাই, যত তিক্ত হোক, অভিজ্ঞতার তুলনা হয় না। নিজের ভেতরেই যা ছিলো, তাকেই নতুন করে খুঁজে পেতেই আমরা ছুটে বেড়াই পৃথিবীর এই প্রান্তর থেকে অন্য প্রান্তরে।

সময়ের সাথে সাথে পৃথিবী যতটা বদলায়, দেখার চোখটা তার চেয়ে অনেক বেশিই বদলায়...

(৪৭৩)
আপনার কি মনে পড়ে শেষবার যখন মনে হয়েছিলো এই কষ্ট আর আপনি সহ্য করতে পারবেন না! আপনি পেরেছেন, এখনো পারবেন, আগামীতেও পারবেন। তাই অধৈর্য হয়েন না, আশাহত হবেন না।

১৮ ফেব, ২০১৬

মনের জানালা মাঝে # ৫১

 

(৪৬৭)
বড় হবার পর থেকে যে জিনিসটা খুব খুব ইচ্ছে হতো, তা হলো-- সবকিছু ভুলে কবে আবারো নিশ্চিন্তে বইতে ডুব দেবো। ঠিক ছোটবেলার মতন... স্বপ্নালু চোখে লেখকের লিখে যাওয়া পৃথিবীতে আমি প্রবল ভালোবাসা আর কল্পনার প্রখরতায় মনে আঁকবো লেখাগুলোর প্রতিটি দৃশ্যপট। পাঠক হবার জন্যও পৃথিবীটা খুব ছোট! চাকুরি আর দায়িত্বের বোঝা নিয়ে দিনগুলো ক্ষয়ে যায়। অথচ পড়ার ছিলো অনেক কিছু। অদ্ভুত হাহাকার লাগে! কত মানুষের কত বৈচিত্র্যময় জীবন। কূপমণ্ডূকদের মতন নিজ জগত নিয়ে মিথ্যে অহং, জান্তব ঔদ্ধত্য থেকে বেরিয়ে আসতে বইয়ের মতন দুঃসাহসী ও বিশ্বাসী বন্ধু আর কে আছে? যে পড়ে আর যে পড়ে না, তারা কি কোনোদিন সমান হতে পারে? কক্ষনো না। কোনভাবেই না!

আমাদের রব আমাদের যতটা জ্ঞান দিয়েছেন, ততটুকুই আমাদের জানা; তিনি যা শেখাননি, তার কিছুই আমরা জানিনা। নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্বজ্ঞানী।

(৪৬৮)
মানুষ বদলায়, খুব বদলায়। সময়ের সাথে সাথে বদলায় রুচি, দেখার চোখ, অনুভবের হৃদয়। পরিবর্তনকে গ্রহণ করে নেয়াই নয়, তাকে অভিনন্দিত করতে না পারলে আমরা পরাজিত হবো। মন্থর থাকা স্রষ্টার সৃষ্টির কোথাও নেই। গাছের পাতা বদলায়, রং বদলায় আকাশের, ভালোলাগা-মন্দলাগা বদলায় মানুষের হৃদয়ের, বদলে যায় নদীর গতিপথ, ছায়াপথ, নীহারিকা, নক্ষত্রালোক, মায়াবী রাতের ক্ষণগুলোও... থেমে থাকেনা আমাদের আয়ু, জীবনকাল। তাই ভাংগা গড়ার এই জীবনের পরিবর্তনকে গ্রহণ করে নেয়াতেই উপায়...


(৪৬৯)
একজন জ্ঞানী মানুষের কাছে এসে এক ব্যক্তি বলেছিলো,
- আমি তো খুব ক্ষুদ্র, আমি যতই আন্তরিক চেষ্টা করি না কেন, আমি কি আদৌ কোনো পরিবর্তন করতে পারবো কিছু?

জ্ঞানী মানুষটি বলেছিলেন,
- ক্ষুদ্র কিছুর শক্তি নেই বলছো? তাহলে অন্ধকার রাতে মশার সাথে কাটিয়ো, বুঝবে ক্ষুদ্র হলেও ডেডিকেটেড থাকলে কেউ কতটা শক্তিশালী!

২ ফেব, ২০১৬

মনের জানালা মাঝে # ৫০

 

(৪৬৪)
যে জিনিস আমরা বুঝিনা, তার প্রশংসা আমরা করিনা, তাকে আমরা ভালোবাসিনা। যে জিনিসের মর্ম আমরা বুঝিনা, তার প্রতি আমাদের মুগ্ধতা আসে না, আমরা আকর্ষণ অনুভব করিনা।

কোনো কিছু আমরা ভালোবাসিনা, পছন্দ করিনা তার মানে এটা কখনই না যে তা আসলে অমূল্যবান, অসুন্দর। মূলত আমাদের অনুভূতি আমাদের বোধের উপরে নির্ভরশীল।যা কিছু আমাদের বোধের সীমানায়  থাকে না, সে তো সুস্পষ্ট অনাকর্ষণীয়ই বটে!

(৪৬৫)
ভালোবাসা পাওয়ার সূত্র জানতে চান? সেটার ক্ষেত্রে হয়ত অনেকগুলো বিষয় থাকতে পারে, আছেও। তাই সে হিসেব লম্বা কলেবরের হবে। তবে ঘৃণার সূত্র খুব সরল। আপনি ভালোবাসলেই যে বিনিময়ে ভালোবাসা পাবেন, এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই। তবে ঘৃণা করলে তার বিনিময়ে কোনোদিন ভালোবাসা পাবেন না, তা নিশ্চিত। ঘৃণার বিনিময়ে কেবল ঘৃণাই পাওয়া যায়। ঘৃণা করে ভালোবাসা, যত্ন আর উত্তম আচরণের আশা কেবল মূর্খরাই করে। মানুষ শুধু নয়, পশুপাখিরাও ভালোবাসার অনুভূতি টের পায়। মুখের শব্দ দিয়েই কেবল আবেগের আদান-প্রদান হয় তা নয়। ভালোবাসার আলাদা তরংগ আছে যা সরাসরি হৃদয়কে আলোড়িত করে। ভালোবাসা আর ঘৃণার অনুভূতি মানুষ খুব সহজেই বুঝতে পারে।

(৪৬৬)
আপনি সারাদিন যা চিন্তা করবেন, পৃথিবীটা আপনার অমন মনে হতে থাকবে। আপনি যদি বিকৃত চিন্তা করতে থাকেন, আপনি দেখবেন চারপাশে অনেক বিকৃত মানুষ। এমনকি আপনার সাথেও সবাই বিকৃত আচরণ করছে। আপনার পৃথিবীটা আপনারই প্রতিবিম্ব। যারা নোংরা, তারা নিজের নোংরামিটাই খুঁজে পায় অন্যের মাঝে। সবার মাঝের নোংরা বিষয় নিয়ে কথা বলা, অন্যদের গায়ে কালিমা লাগানো, গীবত করা, সম্মানিতদের বেইজ্জতি করতে চাওয়া মানুষগুলো মূলত অহংকারী আর বেয়াদব, শয়তান তাদের চালকের আসনে থাকে। ধ্বংস করতে বিশেষ কোন গুণ থাকা লাগে না। আপনি সৃষ্টিশীলতার চেষ্টা না করলেই আপনি প্রবল ধ্বংসকারী হয়ে যেতে পারবেন।

সৃষ্টি করা সহজ কাজ নয়। সৃষ্টি করতে হলে একটা মানুষের নিজের ভেতরে শতবার ভাংতে হয়। নিজেকে বিলিয়ে, তার জ্বালা সহ্য করে মানুষ সৃষ্টি করে যেকোনো কিছু। ভালো মানুষেরা পারে অন্য মানুষের ভেতর থেকে ভালোটুকু বের করে আনতে।ভালো মানুষ পারে অন্যদের মাঝে আলো জ্বালাতে। ঠিক এই মূহুর্তেও আপনি সিদ্ধান্ত নিতে পারেন এই ভেবে যে আপনি সৃষ্টিশীল, সুন্দর চিন্তার কবেন নাকি কদর্য কুৎসিত সমালোচনাকারী হিসেবে নিজের অহংকারকে জারি রাখবেন। হৃদয়কে ভারমুক্ত করুন, নিজের নোংরা, কুৎসিত, কদাকার চিন্তাগুলোর চাষাবাদ না করে ভিন্ন কিছু করুন। কোনো ভালো কিছু করতে না পারলেও, খারাপ কিছু না করে থাকুন। খারাপ কিছু না করাও তো একটা ভালো কাজ, তাইনা?

২৩ জানু, ২০১৬

মনের জানালা মাঝে # ৪৯

 

(৪৬২)
জীবনটা স্বপ্নের মতন। চোখের সামনে যত অস্থিরতা, অশান্তি, উদ্বিগ্নতায় আপনি ডুবে থাকতে বাধ্য হচ্ছেন-- এগুলো সবই ক্ষণস্থায়ী। জীবনের কোনো দুঃখই যেমন দীর্ঘস্থায়ী নয়, আনন্দগুলোও তেমনি। চোখটা বন্ধ করে চিন্তা করে দেখুন, ১০-১৫-২০ বছরের পুরোনো সময়গুলোকে আপনার মনে হবে অল্প ক'দিন আগের মাত্র! এর মাঝে পৃথিবী খুবই বদলেছে, আপনার জীবনটাও। কিন্তু জীবনের অনুভূতিগূলো একই রকম আছে। সেই দুশ্চিন্তা, কষ্ট-বেদনা, হাহাকার, স্বপ্ন। হয়ত বিষয়বস্তু বদলেছে, কিন্তু জীবনের প্রতি আপনার দৃষ্টিভঙ্গিটুকুর মতই আপনার জীবন।

ভেঙ্গে পড়বেন না, খুব বেশি চিন্তায় হারিয়েও যাবেন না। জীবনটা আল্লাহর দেয়া একটা উপহার। বিশ্বাস করুন, আপনি যতই কষ্ট পেয়ে অস্থির হয়ে যান না কেন, আল্লাহ ঠিকই এই সময়ের শেষে একটা সুন্দর সমাধান রেখেছেন। আপনি যতদিনে সেই কষ্টটা সামলে উঠবেন, ততদিনে নতুন কিছু এসে হাজির হবে, হতেই হবে। এটাই দুনিয়া।জান্নাতে পা দেয়ার আগ পর্যন্ত এই উথাল-পাথাল কষ্টের মাঝে বেঁচে থাকাই জীবন। ছেড়ে দিন সব ধরণের আশা। আল্লাহ যা আপনাকে উপহার দিচ্ছেন প্রতিদিনের জীবনে, মেনে নিন। মেনে নিয়ে বর্তমানকে সাজিয়ে তোলার চেষ্টাটার মাঝেই রয়েছে জীবনে সুখী থাকার এক নির্যাস।

(৪৬৩)
আমরা কত শত ক্ষুদ্র স্মৃতি ধরে রাখি, জমিয়ে রাখি। একসময় চল ছিলো ডায়েরির পাতায় ফুল শুকিয়ে রাখা, বন্ধুদের লেখা চিঠি, স্কুল-কলেজের র‍্যাগ ডে-তে বন্ধুদের লিখে দেয়া মন্তব্য, দু'কথা। বিভিন্ন সময়ে চলে যাওয়া ঘটনার নানান পদচিহ্ন। অথচ যা যায়, চলেই যায়। খুব সুখস্মৃতিগুলো মাঝে মাঝে প্রেরণা হয়ে দাঁড়ায়, যখন জীবনের নতুন ধাক্কা এসে ফেলে দিতে নেয়, তখন পেছনের ঐ রোমন্থন অনুভূতি জাগাবে যে আপনার জীবনে প্রাপ্তি বলে অনেক কিছুই ছিলো, সে কারো ভালোবাসা হোক, অন্য কোন অর্জন হোক। এছাড়া অন্য স্মৃতিগুলো বরং ঝরে যেতে দেয়াই ভালো। যা চলে যায় তাদের চলে যেতে না দিলে কি আর আগামী আসতে পারবে? স্মৃতিতে নতুনকে আলিঙ্গন করার জায়গা দিতে তাই অযথা স্মৃতিদের ঝরে যেতে দিতে হয়। পেছনে ফিরে তাকালে কেউ আগাতে পারে না, ব্যক্তি মানুষও নয়, জাতিটাও নয়। ইতিহাস কেবল একটা স্পৃহা। শিক্ষা ও উপলব্ধিটুকু ছাড়া তা নিয়ে পড়ে থাকলে তা এগিয়ে যাবার বাধা। এমন বাধাগুলোকে জীবনে বেঁধে না রাখলেই কি নয়?

২২ জানু, ২০১৬

মনের জানালা মাঝে # ৪৮

 

(৪৫৯)
আমরা হয়ত যা কিছুকে শেষ বলে মনে করি, তা হয়তো অন্য কিছুর শুরু। খুব বেশি আনন্দিত কিংবা খুব বেশি আশাহত হবার কিছু নেই! সব শেষেরই একটা শুরু থাকে, সব শুরুরই একটা শেষ থাকে। পৃথিবীটাই এমন...

(৪৬০)
কেউ কেমন করে বুঝবে একজন পোড় খাওয়া মুসাফিরের অভিজ্ঞতা সে নিজে হেঁটে পার হয়নি নিজ শহর বা গ্রামের ঐ মোড়গুলোই, জানে না মধ্য রাতে শ্বদন্তওয়ালা নষ্ট ছেলেগুলোর চোখের তীক্ষ্ণতা। অথচ সেই মুসাফির তো হেঁটেছে বছরের পর বছর, শহরে-গ্রামে-পাহাড়ে, তিক্ত-উষ্ণ-শীতল সব তীব্র পরিবেশে। কেমন করে ছোট্ট পৃথিবীতে মজে থাকা সংকীর্ণ মনের সামনের চোখ বুঝবে হাজার মাইল অতিক্রম করা হাজার মানুষ চোখে ধরে রাখা চোখদুটোর দৃষ্টিকে। পাহাড়ে উঠে মেঘকে সাদা মনে হলেই কি আর মেঘগুলো তুলোর মতন কিংবা সাদা রঙের হয়ে যায়? দৃষ্টির, উপলব্ধির আর অভিজ্ঞতাকে গুণতিতে না ফেললেই কি আর তা হিসেবের বাইরে চলে যায়? যা তুমি দেখতেই পাও না দুই চোখে, তা তুমি কেমন করে বুঝবে হে অবুঝ অহংময় অবিনয়ী উদ্ধত মানুষ?

(৪৬১)
তুমি তো অন্যের ততটুকু দেখেই একটা ধারণা করে বসো, যতটুকু দু'চোখে দেখতে পাও। আচ্ছা, কারো জীবনের কতটুকু তুমি জানতে বা বুঝতে পারো? তুমি কি জানো না, অদেখার একটা জগত আছে? সেখানে আছে জ্বিন, ফেরেশতা আর আল্লাহর আরো অজানা অজস্র সৃষ্টি। সেই জগতটা এই জগতের চেয়ে বেশি রোমাঞ্চকর, মোহনীয় --তা জানো? সে জগতটার অস্তিত্ব তো এই জগতের সমান্তরালেই।

তুমি কি তোমার ক্ষুদ্রতা অনুভব করতে পারো? তুমি ভাবতে পারো তোমার বিছানার কাঠের ঘুণপোকাটাও রিযিক পেয়ে বেচে আছে, আটলান্টিকের তলে একটা শেওলাও এই মূহুর্তে রিযিক পাচ্ছে তোমার আল্লাহর। তুমি কি বুঝতে পারছ এই সূর্যের যে আলো তোমার জানালার ফুটো হয়ে ফিনকি দিয়ে আলো ছড়াচ্ছে, ততটুকু আলোও কিন্তু তোমার জন্য বরাদ্দকৃত, সেটাও নিখুঁত করে তোমার আল্লাহর আদেশ।

তুমি কি ভেবে দেখেছ তুমি কতটা ক্ষুদ্র, আবার একই সাথে কতটা অসামান্য বিশেষ ভালোবাসা তোমার জন্য তোমার রবের পক্ষ থেকে? এই অদ্ভুত ক্ষুদ্রতা সত্ত্বেও মূল্যায়িত হবার অনুভূতি নিয়েও কি অন্তরে তুমি ঘৃণা, অহংকার, পরনিন্দা, হিংসার চাষ করতে পারো?

তুমি হৃদয়টা খুলে দিয়ে ওই আকাশের মতন করে দিতে পারো না? চেষ্টা করেই দেখো না, প্লিজ?

২০ জানু, ২০১৬

মনের জানালা মাঝে # ৪৭

 


(৪৫৫)
যেদিন থেকে আপনি বর্তমানে বেঁচে থাকতে শিখবেন, সেদিন থেকে আপনি সুখে থাকতে পারবেন। অতীত-ভবিষ্যতের নিরর্থক বোঝা মাথায় নিয়ে কখনো সুখী হওয়া যায় না।

(৪৫৬)
মানুষ ভালোবাসা পেতে চাওয়ার কাঙ্গাল যতটুকু, সম্ভবত তার চেয়ে অনেক বেশিই কাঙ্গাল ভালোবাসা দেওয়ার জন্য। হয়ত অনেক ক্ষেত্রে পেতে চাওয়ার কাঙ্গালপনাটাই বেশি প্রকাশ হয় বলে অমন ধারণাই বেশি প্রচলিত। অথচ মানুষ হরদম এই ভীড়ের মাঝে এমন মানুষদেরকেই খুঁজে বেড়ায়, যাদের ভালোবাসা যায়। সেটাই খুঁজে পায়না। হয়রান হয়ে থাকে হৃদয়গুলো। আসলে, যারা মানুষকে কম বিচার করে, বেশি দয়া করে, সহজে মিশতে পারে, অতিরিক্ত চিন্তা না করে অন্যের উপকার করতে পারে --তারা সহজে ভালোবাসতে পারে, তারা সহজে শান্তি পেতে পারে। সুখী হবার সূত্রটা আসলে খুবই সহজ, কিন্তু নির্বোধদের কাছে তা খুবই কঠিন।

(৪৫৭)
সব ধ্বংসই কি আর ধ্বংস বয়ে আনে? ধ্বংসের মাঝে অনেকেই খুঁজে পান নতুন সৃষ্টির প্রেরণা। সকল অন্ধকারই কি আশার শেষ? যারা জানেন আঁধার কেটে যায়, যারা জানে আঁধারের অর্থ, তারা নতুন সূর্যালোকের প্রত্যয় ধারণ করেন বুকে। শয়তান যখন আদমকে (আলাইহিস সালাম) জান্নাত থেকে পৃথিবীতে আসতে দেখেছিলো, ভেবেছিলো হয়ত সে তার অপকর্ম সেরে ফেলতে পেরেছে। কিন্তু শয়তান হয়ত বুঝেনি যে ডুবুরি সমুদ্রে ডুব দিয়ে মণি-মুক্তা আহরণ করে আনে। জীবনের কষ্টগুলোতে ক্লান্ত-শ্রান্ত হয়ে পড়তে নেই। প্রতিটি কষ্টের মাঝে নতুন আনন্দের বার্তা আছে, প্রতিটি যন্ত্রণায় খুঁজে পাবেন স্বস্তির বাতাস। শুধু নিজের মতন করে জীবনকে চাইলে হবে? বরং যিনি জীবন দিয়েছেন, তার পরিকল্পনায় আস্থা রাখুন। তিনি যা পাঠাবেন, তার মাঝেই আছে ভালোবাসার চিহ্ন। জীবনে পাওয়া উপহারের ডালা খুলে দেখুন, খুঁজে পাবেন নতুন সম্ভাবনা, নতুন স্বপ্ন, নতুন অনুপ্রেরণার বার্তা।

(৪৫৮)
একজন দক্ষ মানুষ এবং নবিশ ব্যক্তির মাঝে পার্থক্য কি জানেন? নবিশ যতবার একটা কাজের জন্য চেষ্টা করেছে, দক্ষ ব্যক্তিটি তার চেয়েও অনেক বেশিবার কাজটিতে ব্যর্থ হয়েছেন।

২৪ ডিসে, ২০১৫

এবার তবে নিশ্চুপ থাকা হোক

 

প্রতিটি মানুষের জীবনই কষ্টের। এমনকি যে অপরাধ করতে করতে নিজেকে জুলুম করছে, সে-ও তার অপরাধবোধ, গ্লানি ঢাকতে অন্য কিছু করে নিজেকে ব্যস্ত রাখে। অথচ রোগে যখন সে ভুগতে থাকে, অথবা যখন মরে যায়, তাকে কাফনের কাপড়ে পেঁচিয়ে মাটির নিচে রেখে আসা হয়। যুগে যুগে শত-শত ক্ষমতালোভী শাসকগুলো এভাবেই বিদায় নিয়েছে। এরপর, একসময় তারা হয়েছে ইতিহাসে বিলীন। কেউ জানেনা, খোঁজ রাখেনা।

ভাবলে কেমন অদ্ভুত লাগে, না? যে মানুষটি হয়ত পৃথিবীর কোনো একটি কোণে, এই যেমন ইয়েমেনে কিংবা সিরিয়ায় আজ একটা পথচারী কিশোর হেঁটে চলতে গিয়ে বোমার আঘাতে মরেই গেলো। কেন মরলো, কে মারলো-- বুঝলোই না। আবার হয়ত হেবরনে, পশ্চিম তীরে অথবা কাশ্মীরে দখলদারী আর্মির হাতে একটা কিশোর হয়ত বন্দী হলো যখন, তখন তার বয়েসি পশ্চিমা ছেলেগুলো পার্টি করে, নাইটক্লাবিং করে কোমর দোলাচ্ছে। বন্দী ছেলেটি অপরাধ সে বুঝলোও না, তাকে গরম পানিতে পুড়িয়ে, বেয়নেটে খুঁচিয়ে মেরে ফেলা হলো। লাশটাও ফেরত গেলো না। কিশোরের মা আহাজারি করে বাকিটা জীবন পার করবে। অথবা হয়ত সেই অভাগী মা একদিন নিজেই গুলি খেয়ে মরে যাবেন।

জীবন-মৃত্যুর এই খেলা যখন চলছে, তখনই কেউ আবেগঘন প্রেম করছে, কেউ ঝগড়া করছে, কেউ ঠকাচ্ছে, কেউ বার্থডে কেক কাটছে। সবকিছুরই সাক্ষী থাকছে অনেকগুলো রূহ, অনেকজন ইনসানের। তখনই আকাশে হয়ত আলোচ্ছটা জ্বললো উল্কাপিন্ডের। ফুল ফুটছে বাগানে, একজন গার্ডেনার বছর ধরে বসে ছিলেন নাইটকুইনকে ফুটতে দেখবেন বলে। একদল ডলফিন ঝুপ করে লাফ দিলো। পৃথিবীময় সৌন্দর্যের এই নিপুণ বাগানে কত ঘটনা! কত সৃষ্টি, কত প্রেম, কত ভালোবাসা চারপাশে। তবুও নিষ্ঠুর মানুষগুলোই হত্যা করে, কী পেতে চায় কে জানে? হিংসায় জ্বলে-পুড়ে নিজেই ডুবে যায় অনল দহনে।

এত অনুভূতি ধারণ করতে পারে কি কোনো অন্তর? আমাদের হৃদয়ের মাঝেই তো আকাশের মতন বিশালতা আছে, তবু কি পারি এই পৃথিবীর বৈচিত্র্যকে অনুভূতিতে ধারণ করতে? তীব্রতম কষ্টের মূহুর্তগুলো কোনো সাহিত্যে থাকে না, কেউ লিখতে পারে না। তেমনি সর্বোচ্চ আনন্দের মূহুর্তও পাওয়া যায় না কোথাও। মানুষ পারেনা সুন্দর কিংবা কষ্টকে শব্দে ধারণ করতে।

বাকি সবই খুব অগভীর, প্রদর্শনী কেবল। অগভীর অনুভূতিহীনতায় সবাই ভেসে যায়। অবাক পৃথিবীতে অনেকেই লিখতে চেয়েছে, একসময় হয়ত শ্রান্ত হয়ে নিশ্চুপ হয়ে যেতে চেয়েছে। পারবে না বলে ছেড়ে দিতে চেয়েছে কেউ কেউ।

যিনি বানিয়েছেন সব, সমস্ত সুন্দর-অসুন্দর,ভালো-মন্দগুলো নিয়ে তিনিই বলা উত্তম। থাকুক তবে সকল শব্দ। এবার তবে নিশ্চুপ থাকা হোক।

**************
৩০ নভেম্বর, ২০১৫
সন্ধ্যা ৬-১৫ মিনিট

১৬ ডিসে, ২০১৫

মনের জানালা মাঝে # ৪৬



(৪৫০)
খুব সুন্দর একটা ভবিষ্যত গড়ে নিতে সুন্দর অতীত থাকা বাধ্যতামূলক নয়। নিজেকে সুযোগ দিন। আপনার হাতে সময় আছে, বর্তমানকে কাজে লাগান। পেছনের দিকে না তাকিয়ে নিজের সেরাটুকু ব্যবহার করুন বর্তমানের মাঝে...

(৪৫১)
সকল ক্ষতিই মানুষ কাটিয়ে উঠতে পারে। মানুষ পরম অভিযোজন ক্ষমতার একটি প্রাণী। যাকে ছাড়া/যা ছাড়া জীবন কল্পনাও করতে পারেননি, তার বিদায়ের পরে আপনি দিব্যি খাবেন, ঘুমাবেন, হাসবেন। কোনো কিছুই চিরস্থায়ী নয়। দুঃখ নয়, গ্লানি হয়। এমনকি আনন্দের সময়ও নয়। দুনিয়া নিজেই অস্থায়ী। এর ভেতরের প্রতিটি প্রাণী, প্রতিটি সত্ত্বা, প্রতিটি কণা অস্থায়ী, নশ্বর। এমন কিছুর প্রতি কীসের এত আকাঙ্ক্ষা, এত স্বপ্ন আর কল্পনা-জল্পনা আমাদের যা কিছু সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে শেষ হয়ে যাবে?

(৪৫২)
আপনি হয়ত অনেক ভালো কাজ করতে চান। গাছে পানি দেয়াও তেমন। সেই চিন্তা থেকে একটা গাছে পানি দিলেন নিয়মিত। পরে দেখলেন গাছটা ক্যাকটাস, সেটার পানির দরকারই নেই ওভাবে। তাতে কি আপনার ক্ষতি হলো? নাহ! এটাও শিক্ষা হলো, জীবনের এক নিগূঢ় জ্ঞানার্জন হোলো। এমন হাজারো অনাকাংখিত শিক্ষার সমন্বয়ই আমাদের জীবন।

 (৪৫৩)
সব সমস্যার বেশি সরলীকরণ করলে সমস্যা। জটিল সমস্যার সরল সমাধান চাইতে গেলে সব হারাতে হয়। একই বুঝ দিয়ে সবাইকে বুঝতে গেলেও বিপদ।

(৪৫৪)
সবকিছুর সময় আছে। সবকিছুর একটা তীব্র সময় থাকে। চাঁদ যেমন পূর্ণিমায় তার পূর্ণাঙ্গ রূপ পায়। অন্য সময়ে চাঁদের আলো ক্ষীণ থাকে, অমাবশ্যায় সে নিভেই যায়। মানুষের জীবনের অনেক কিছুই হয়ত তার সাথে মিলে যায়।

হয়ত অনেকের লেখালেখিও অমনই। হয়ত অনেক ফেবু পাতাও অমন। অনেককাল নিয়মিত শব্দগুচ্ছ ভেসে এসেছে অনেকের চোখে। দীর্ঘদিন সকালে-দুপুরে-রাতে প্রযুক্তির নানান ছোঁয়ায় খুব সাধারণ কথাগুলোও কিছু নামহীন পরিশ্রমের ফল হয়ে প্রকাশ হয়েছে নিয়মিত বিরতিতেই। হয়ত সে বিরতি দীর্ঘায়িত হবে, হয়ত অমাবশ্যার আঁধারের মতন মিলিয়ে যাবে। কে জানে তা?

সবকিছু কেবল তিনিই জানেন, যিনি সবকিছু সৃষ্টি করেছেন। তবে, গাছের পাতাও যেমন বসন্তে সুশোভিত হয়, ধীরে ধীরে শীতে এসে ঝরে পড়ে শুকিয়ে। জীবনেও আমাদের অমন কতই না চক্র রয়েছে। হতে পারে, কিছু ফেবু পাতাও অমন চক্রের অংশ। প্রযুক্তির সৃষ্টি এই পরাবাস্তব জগতের প্রদর্শনীটুকুর পেছনে তো মানবিক ও প্রাণিজ মানুষেরই সক্রিয় উপস্থিতি। তাকেও তো মানতে হয় বসন্ত-গ্রীষ্ম-শীতের নিয়ম।

প্রকৃতিপানে চেয়ে, তাতে অনুভব করে শেখার আছে অনেক কিছু। নিতান্ত সহজ সরল চেহারায় জীবনের গভীরতম জীবনোপলব্ধি ওতেই পাওয়া যায়। আল্লাহ আমাদের উপকারী জ্ঞান দান করুন, আমাদের সকল ভালো কাজকে কবুল করুন।

১৩ ডিসে, ২০১৫

মনের জানালা মাঝে # ৪৫

 


(৪৪৭)
শেষ কবে আপনি রাতের আকাশের দিকে তাকিয়ে তারা দেখেছেন? আমরা যাদের জ্বলতে দেখি টিমটিম আলোয়, সেই মূহুর্তের সেই আলোটাও তো কত শত বছর আগে ওখান থেকে বিচ্ছুরিত হয়েছিলো তা হিসেব করার বিষয়, কিন্তু অমন নক্ষত্র, গ্রহ তো ওই আকাশে, এই মহাবিশ্বে ছড়িয়ে আছে লাখে লাখে। ওদের একেকটার আকার আমাদের এই পৃথিবীর চেয়েও অনেক বড়। ওদের ওখান থেকেও আমরা একটা বিন্দুর মতই। এই বিন্দুতেই আমাদের সব। এই বিন্দুটুকুর আরো বিন্দু অংশ নিয়ে হাজার হাজার সৈনিক যুদ্ধ করেছে, সেনাপতিরা নিজেদের অমিত শক্তিশালী মনে করেছে হয়ত কোন একটা অংশ বিজয় করে। শাসকেরা নিজেদের ভাষ্কর্য উদ্বোধন করে, অফিসে অফিসে নিজের ছবি ঝোলায়; মনে করে তাদের এই শক্তি আর এই সময় হয়ত রয়ে যাবে। মহাবিশ্বের এইটুকু বিন্দুতেই শত-সহস্র ধর্ম রয়েছে যারা সবাই নিজেকে সঠিক মনে করে। এটুকুতেই রয়েছে অনিন্দ্য সুরের ঝংকার তৈরি করা লক্ষ লক্ষ সংগীতজ্ঞ, গভীর জীবনবোধ নিয়ে কবিতা ও গল্প লেখা হাজার-লক্ষ কবি আর ঔপন্যাসিক এসে চলেও গেছে। এটুকুর মাঝেই কত আঁকিয়ে যে এঁকেছেন ছবি, শিল্পে আর সংস্কৃতির চর্চার গভীরমূলে গিয়েছেন কত শত জন! এটুকুতেই রয়েছে কত প্রেমিক, কত প্রেমিকা। কত ভালোবাসা, কত টান আর কত আবেগ! কত অশ্রু আর কত হাসি। এখানেই রয়েছে হিংসা-বিদ্বেষ, কেউ কিছু পেলে অপরের জ্বালা ধরা মন্তব্য নির্নিমেষ। এটুকু জায়গায় কত মানুষের কত মত, কত ক্রোধ, কত অহং, কত ঘৃণা। অথচ এই সুবিশাল আয়োজন, এই অন্ধ ক্রোধান্ধ, আমিত্বকে জয় করার নিরুদ্দেশ যাত্রাপথে কারো কি তার ক্ষুদ্রতা নিয়ে আদৌ অনুভব হয়? এই টুকুন সৃষ্টির মাঝে, এই বিন্দুর মাঝে এত সিন্ধু যিনি স্থাপন করেছেন, তার বিশাল সৃস্টির দিকে নির্নিমেষ তাকিয়ে থেকে হয়ত আনমনেই অনুভব হবার কথা ছিলো, "হে আমাদের স্রষ্টা, আমাদের মালিক! আমাদের দয়া করুন। আমাদের চিন্তার আর হৃদয়ের সীমাবদ্ধতা ও ক্ষুদ্রতাকে সহ্য করতে না পারার এই জ্বালা থেকে মুক্তি দিন আপনার দয়া আর মহত্বের স্পর্শে।"

(৪৪৮)
জীবনটার দৈর্ঘ্য খুবই কম। কেবল একটু পেছনে তাকিয়ে দেখবেন, মনে হবে যেন ৫ বছর আগের ঘটনাটা মাত্র অল্প ক'দিন আগের! আমাদের চারপাশে অনেক খারাপ মানুষ, প্রায়ই অনেক খারাপ ঘটনা ঘটে। আমরা যদি সেসবে আটকে যাই, শংকা-চিন্তা-হতাশা-দুঃখে পড়ে আমরা তখন আমাদের সত্যিকারের লক্ষ্যে পৌঁছতে আমরা বাধাগ্রস্ত হবো। ভালো চিন্তা, হৃদয়জোড়া ভালোবাসা, উচ্ছ্বাসভরা বুকে মানুষকে হাসিমুখ করে দেয়ার মতন কাজের বিকল্প নেই।

জীবনটা খুব ছোট। যে কোন ধরণের ক্ষুদ্র/খারাপ/মন্দ চিন্তা এবং দুশ্চিন্তা/শংকার মাঝে ডুবে থাকার মাঝে কোন ন্যুনতম কল্যাণ নেই। এগুলো কাটিয়ে উঠতে হবে, কষ্টের মাত্রা, খারাপ লাগার মাত্রা যেমনই হোক না কেন। কাজের মাঝে বেঁচে থাকতে হবে-- কল্যাণকর কাজ, ভালো কাজ, আনন্দময় কাজ।

(৪৪৯)
ভালো ছাত্রত্বই কখনো ভালো বিশ্ববিদ্যালয়ের নিশ্চয়তা দেয় না। অনেক স্কুল জীবনের 'ফার্স্ট বয়/ফার্স্ট গার্ল' নানান কারণে 'ভালো কোথাও' ভর্তি হতে পারে না। ভালো রেজাল্টও ভালো চাকুরির নিশ্চয়তা দেয় না। অনেক অনার্স সিজিপিএ পাওয়া ছেলেমেয়ের চেয়ে সময়মত পাশ করে বের হতে না পারা ছেলেরা অনেক অর্থ উপার্জন করেছে/করছে এমন উদাহরণ আছে ভুরি ভুরি। সৎ থাকলেও যে আপনার গায়ে অসততার কালিমা আসবে না তা বলা যায় না, অনেক সৎ মানুষকে ষড়যন্ত্র করে ফাঁসিয়ে চাকুরিচ্যুত করা হয়েছে এমন গল্পও আমাদের অনেকের আত্মীয়দের জীবনেই আছে। চরিত্র সুন্দর হলেও যে অপবাদ আসবে না, সেটাও বলা যায় না। অপবাদ দেয়ার কাজ যারা করতে ভালোবাসে তারা তো আল্লাহর প্রিয়তম বান্দাদেরকেও ছাড়েনি।

পরিশ্রম করলেই উত্তম ফল হবে তা নিশ্চিতভাবে বলা যায় না। তবে পরিশ্রম না করলে উত্তম ফল অসম্ভব। আর হ্যাঁ, সবার পরিশ্রম একই রকম হয় না। একেকটা মানুষের জীবনের ঝড় একেকটা সময়ে আসে তীব্র হয়ে। সবার জীবন আলাদা, জীবনে পাওয়া রহমত আলাদা, জীবনের পদ্ধতি আর গড়ে ওঠা আলাদা, শক্তি আর দুর্বলতাও আলাদা। আল্লাহই সুনিপুণভাবে সবকিছু জানেন। কেবলমাত্র তার হাতেই সমস্ত ক্ষমতা। সমস্ত কিছু দেয়ার মালিকও তিনিই। তাই, কাজ করতে হবে সর্বাত্মক চেষ্টার সাথে, কিন্তু মনে রাখতে হবে ফলাফল একান্তই আল্লাহর দান। সমস্ত প্রার্থনা আর অন্তরের নিগূঢ় কথপোকথন কেবলই আল্লাহর সাথে হতে হবে।

৯ ডিসে, ২০১৫

মনের জানালা মাঝে # ৪৪



(৪৩৮)
সমস্ত রং যেখানে থাকে, সেটি হয় কালো। যেখানে কোন রং থাকে না, তার রং সাদা। হৃদয় যখন সমস্ত ক্লেদ ও পংকিলতামুক্ত হয়-- সেটি শুভ্র হৃদয়। সেটিই প্রশান্ত আত্মা।

(৪৩৯)
একদিন ঘুম থেকে উঠে দেখবেন আপনি সবসময় যে কাজগুলো করতে চেয়েছেন সেগুলো করার আর কোন সময় নেই। তাই এখনই তা করতে শুরু করুন।

(৪৪০)
আমরা যাকে ভালোবাসি, আসলেই কি বাসি? কেমন করে বুঝি সেটা? আমরা যা পছন্দ করি, আসলেই কি করি? নাকি অন্যেরা যা ভালোবাসায়, পছন্দ করায়, তা আমরা অবচেতনভাবে পছন্দ করি, ভালোবাসি, উত্তম মনে করি? আমরা কতটুকু সময় নিজের চিন্তা নিজে করি? লোকের বলা ছাচেই আমরা বেশিরভাগ চিন্তা করি, তাইনা? অথচ আমরা কেউ অন্য কারো মতন না। আমাদের জীবনগুলো পরস্পরের চেয়ে একদম আলাদা।

(৪৪১)
আমরা বেশিরভাগ মানুষ নিজেদের চিন্তার কারাগারে বন্দী থাকি। চারপাশের মানুষগুলো আমাদের বন্দী করতে চায় তাদের ব্যক্তিগত পছন্দ আরোপ করে সৃষ্ট যে কারাগার তার মাঝে। আল্লাহ মানুষকে দিয়েছেন অবারিত পৃথিবী। পৃথিবীতে খুব অল্প বিষয় নিষিদ্ধ। পৃথিবী আল্লাহর নিয়ামতে পরিপূর্ণ। উপভোগের জন্য পাপহীন বিনোদনে পৃথিবী ভরপুর।

(৪৪২)
আমাদের সাধ্যমতন পরিচ্ছন্ন ও শুভ্র পোষাক পরা উচিত। পোশাকের পরিচ্ছন্নতা আমাদের মনে প্রভাব ফেলে। সুন্দর, পরিপাটি ও পরিচ্ছন্ন পোশাক আত্মবিশ্বাস এনে দেয়। দুর্গন্ধহীন পোশাক পরা আমাদের এক ধরণের দায়িত্ব কেননা তাতে আমাদের স্কুলে, কর্মক্ষেত্রে, চলার পথে যারা আশেপাশে আসে তাদের কষ্ট হয়। ব্যক্তিগত উন্নয়নের জন্য পোশাক খুব গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। বয়স অনুযায়ী পোশাকের রঙ হতে পারে, বিশেষ করে তরুণ বয়সের ছেলেরা উজ্জ্বল রং-এর পোশাক পরলে তা নিজের জন্যই একটি পজিটিভ ইন্সপিরেশন হতে পারে। পোশাক পরবো; কী পরছি তা খেয়াল রাখবো!

(৪৪৩)
নিজেকে দয়া করুন, নিজের প্রতি রহমদীল হোন। কোন কিছু নিয়ে এতো চিন্তা করে কী হবে? প্রতিটা মানুষের জীবনের স্রোত আলাদা, একের সাথে আরেকটা মিশে না। অন্যের সাথে তুলনা করতে যাবেন না। এমনকি নিজের অতীতের সাথেও না। শুধু জেনে নিন, আপনার জীবনে সামনে যা আসে, তা আল্লাহর পাঠানো। কিছুতেই তা এড়িয়ে যেতে পারতেন না। গ্রহণ করে নিন জীবনে যা কিছু আসে, আসবে। হাসিমুখ থাকুন, চিন্তাক্লিষ্ট হয়ে দুশ্চিন্তা ও আশংকা করে নিজেকে নষ্ট করবেন না।

(৪৪৪)
সংকীর্ণতার জিঞ্জির ভেঙ্গে মুক্তি পেতে চাইলে ভালোবাসতে শিখতে হবে, অসংকোচ ভালোবাসা।

(৪৪৫)
আচ্ছা, ক'জন আমরা ঘৃণাহীন, হিংসাহীনভাবে নিঃশ্বাস নিতে পারি? পত্রিকা, চ্যানেলের খবরে, অপদার্থ বন্ধু/আত্মীয়র মুখে, ফেসবুকের পন্ডিতন্মন্য মানুষদের সমালোচনামুখর পোস্টে আমরা শুধু ঘৃণা, অবিশ্বাস, সন্দেহ, অশান্তি, পরনিন্দা, অপবাদ, মিথ্যায় ডুবে থাকি... শান্তির ঘুম কেমন করে আসবে জঞ্জালভরা হৃদয়ে, অতৃপ্ত ও অসুস্থ চোখে?

(৪৪৬)
যা কিছু সম্পর্কে আমি জানি যে তা স্থায়ী নয়, তেমন কোন কিছুর সাথে আমি নিজেকে জড়াতে চাইনা।

 ~প্রিজন ব্রেক টিভি সিরিজে মাইকেল স্কোফিল্ড

৬ ডিসে, ২০১৫

মনের জানালা মাঝে # ৪৩




(৪৩১)
আমাদের জীবনে অনেক সুযোগ আসে, অনেক ঘটনা আসে শিক্ষা হিসেবে। দেখা যায়, একই ঘটনা কাউকে অনেক বদলে ফেলে, কেউ ভেতর থেকে অনেক উপলব্ধি করতে পারে-- অপরজনের কাছে ব্যাপারটা স্রেফ একটা ঘটনা। এখানে থাকে দৃষ্টিভঙ্গি আর পূর্বেকার জ্ঞানের পার্থক্য।

(৪৩২)
আমি যতবার দূর-দুরান্তে পথে-প্রান্তরে ঘুরে বেরিয়েছি, আমার মনে হয়েছে আল্লাহ হলেন আর-রাযযাক। কীসের যোগ্যতা, কীসের কর্ম, কীসের বংশ আর কীসের মাপকাঠি, আল্লাহ সবাইকেই তার রিযিক দান করেন। আল্লাহ হয়ত বিভিন্ন উপায়ে রিযিক দেন আমাদের-- কিন্তু রিযিক বন্টনের কাজটির মালিক কেবলই তিনি। সমস্ত মানুষ, প্রাণী, উদ্ভিদ, পোকামাকড় সবাই আল্লাহর নিপুণ রিযিক বন্টন থেকেই পায়।

এদিকে মুমিনের জন্য তাকওয়া থাকলেই রিযিক দেয়ার নিশ্চয়তা আল্লাহ দিয়েছেন। বুঝিনা আমরা। অবশ্যই বেখবর। নইলে সহজ পথ ছেড়ে কি আর কঠিনে ডুবি?

(৪৩৩)
যখন আমরা কোন ভ্রমণে যাই, আমরা জানি আমরা কতটা কম শক্তিশালী; বুঝতে পারি সবকিছু কতটা অনিশ্চিত। ভ্রমণে আমরা নানান ধরণের মানুষের সাথে পরিচিত হই যা আমাদের উপলব্ধি করায় যে পৃথিবীটা কতই না বিশাল, কত বিচিত্র এখানকার মানুষ!

(৪৩৪)
বিশালতা প্রকৃতির যেমন আছে, আকাশের আছে, সমুদ্রের আছে। মানুষের মাঝেও বিশালতা আছে -- জ্ঞানের, ব্যক্তিত্বের, মেধার। তবে প্রকৃতির বিশালতা অনুভব করতেও যেমন সকল হৃদয় পারে না, মানুষেরটুকুও সবাই বুঝে না।

(৪৩৫)
গতকাল সূর্যোদয় দেখেছিলেন এমন অনেক মানুষ আজ দেখার সুযোগ পাননি, তাদের জীবনের সময় শেষ হয়ে গেছে।

আমরা নতুন দিনটি উপভোগ করার সুযোগ পেয়েছি। একটি দিন আমাদের জীবন বদলে দিতে যথেষ্ট। আজকে আবার নতুন আশায় বুক বাধতে পারবো। নতুন প্রচেষ্টায় এগিয়ে যেতে পারবো কল্যাণের পথে।

(৪৩৬)
হাসিমুখ মানুষদের আমরা ভালোবাসি। আমরা সবাই জীবনযুদ্ধে কমবেশি বিদ্ধস্ত মানুষ, হাসিমুখ প্রাণবন্ত লোকদের জীবনের উদ্যম আমরা দেখতে ভালোবাসি। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ইতিবাচক মানুষদের জীবনকে আমরা অনুপ্রেরণা হিসেবে নিই।

গোমড়ামুখো মানুষকে লোকে পছন্দ করেনা, তাদের এড়িয়ে চলে। নিজ জীবনের গ্লানি আর কষ্ট নিয়ে সবাই ত্যক্ত বিরক্ত থাকে, অন্যের কষ্ট নেবার জায়গা আর শক্তি কোথায়?

জীবনে যখন আমরা ব্যক্তিসত্ত্বার কষ্ট ছাপিয়ে অন্যের মুখে হাসি ফোটাতে পারি, অন্ততপক্ষে নিজের হাসিমুখ দিয়ে হলেও, তখন আমরা জীবনের সত্যিকার অর্থবাচকতা খুঁজে পাই। নইলে এই জীবন কি আর কোন জীবন হলো?

(৪৩৭)
যখন আমাদের হারানোর কিছু আর বাকি থাকে না, তখন আমরা নতুন করে জীবন নিয়ে পরিকল্পনা করার, সাজিয়ে নেয়ার আর গড়ে নেয়ার কাজ করতে পারি। [অনূদিত]