kobita লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
kobita লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

২৬ জুল, ২০১৪

তারিক রমাদানের কবিতা: জীবন


জীবন
বাবা-মায়ের ইন্তেকাল করা এবং বিদায় নিতে দেখা
সন্তানদের বেড়ে ওঠা এবং বিদায় নিতে দেখা
নিজেদের বয়স বাড়তে দেখা এবং বিদায় নেয়া

কিছু মানুষ বিদায় নিবে এবং বেঁচে রবে
বাদবাকিরা চলে যাবে, ফিরবে না কোনদিন।

আমরা সবাই তাঁর
তার কাছেই ফিরে যাবো
তার মুখোমুখি হবো আমরা, একদম একা।

-- তারিক রমাদান

* * *
[ড. তারিক রমাদানের অফিসিয়াল ফেসবুক পেইজে 'LIFE' শিরোনামে একটি কবিতা প্রকাশিত হয় ২২ জুলাই, ২০১৪ তারিখে। বিষয়বস্তু ভালো লাগায় ধুম অনুবাদের চেষ্টা করলাম]

১ জানু, ২০১৪

কবিতা : তোমাকে



আমার অবসরের একেকটি অংশ তোমার জন্যই।
অবাক হলে? হবারই কথা। কী অদ্ভুত কথা!
আমার অবসরে আবার তুমি কোত্থেকে, তাইনা?
আমার অবসর তো অখন্ড নয়, খন্ডিত অবসর।
সেখানে একাকীত্ব আছে, নিঃসঙ্গতা নয়। আছে সঙ্গীহীনতা।

১৪ আগ, ২০১৩

যে লোহিত ঝর্ণাধারা সিক্ত করে পৃথিবীর জমিন

দেখেছি রক্তাক্ত ভাইয়ের বুলেটে ঝাঁঝরা হয়ে যাওয়া শরীরের ছবি,
দেখেছি শহীদ করে দেহটিকে পুড়িয়ে দেয়া ভাইদের কৃষ্ণবর্ণ অবশেষ,
সপ্তদশী বোনটি মৃত্যুকে আলিঙ্গন করেছে জিহাদের ময়দানে, ভালোবাসায়।
দেখেছি সন্তানহারা পিতার​​ ঈমান, কয়েক ঘন্টা পরেই নির্বিকার উক্তি,
'দুঃখপ্রকাশে আসিনি, আমাদের লক্ষ্য অন্যায়কারী অত্যাচারীদের উচ্ছেদ।'
আল্লাহর পথে মৃত্যুর প্রত্যয়ে অপেক্ষারত প্রৌঢ়ের নিশ্চিন্ত চেহারা দেখেছি।
শিশু সন্তানকে হারানো মায়ের চেহারাতে ভাসতে দেখেছি দৃঢ়তা। এভাবেই
রক্ত পিচ্ছিল পথ পেরিয়ে জয় আসে সত্যের, মুক্তি পায় মানবতা, একদিন।

সাক্ষী থাকছি হাজার হাজার মৃত্যুর; নমরূদ, ফিরাউনের অত্যাচার
হামানের বড়ত্বের নিস্ফল দম্ভ, আদ-সামুদ-মাদইয়ানবাসীর দাম্ভিকতার।
চোখে ভাসে মুসলিম নামের মুনাফিকদের পরিচয়, সূরা মুনাফিকুন।
আমি মুসলিম তাই ভাইয়ের মৃত্যুতে চোখ ঝরে শ্রাবণধারা, জ্বলে অন্তর
যন্ত্রণায় অসহ্য লাগে শরীর; বলে উঠি, 'আল্লাহুম্মা ইন্না নাজআলুকা...'
ইসরায়েলে তৈরি কাঁদানে গ্যাসে কায়রোর কুয়াশাচ্ছন্ন। ট্যাঙ্ক, বুলডোজার,
স্নাইপার গান, রাইফেল,হেলিকপ্টারে রাবায়া আর নাহদা স্কয়ার ঘেরা।
তারা শাহাদাতের স্বপ্নদরজায় প্রবেশ করছেন আল্লাহর নাম মুখে নিয়ে,
প্রশান্ত আত্মাদের সম্ভাসন জানাচ্ছেন নূরের তৈরি একদল পবিত্র আত্মা।

নীলনদের তীরে নতুন ফেরাউন আজ, হাজার মুসলিমের শাহাদাতে তাই
উন্মত্ত আনন্দ আজ জেরুজালেমের ঘরবাড়িতে। অথচ সৌদ পরিবার,
দুম্বার ঠ্যাং চিবুচ্ছে। কায়রোর রাজপথের রক্তের নহর দেখে তাড়া করে
তেলবিক্রির টাকা বস্তায় পাঠিয়েছে সেনাশাসককে। হতভাগা আলেমরা
নির্ভাবনায় বিভক্ত করছে মুসলিমদেরকে নিত্যনতুন হঠকারী চিন্তায়।
মুসলিম উম্মাহ আজ শতধাবিভক্ত --দাড়ি কতটা লম্বা হবে হবে,
তারাবিহ কত রাকাত, নারীর মুখখানি ঢাকতেই হবে নাকি হবে না।
এমন তর্কে উন্মত্ত ব্যস্ততা দেখে হাসিমুখে ঘুমায় নেতানিয়াহুর দল।

আজ প্রয়োজন উমার, উসামা, খালিদ, খুবাইব, জাফরের মত প্রাণ।
অথবা আবু উবাইদা ইবনুল জাররাহ, তারিক বিন জিয়াদের দৃঢ়তা
আল-আকসার পথে দৃঢ়চেতা সালাহ আদ-দীনের তেজোদীপ্ততা।
হে কাদির, হে লাতিফ, আমাদের ক্ষুদ্র প্রাণগুলোতে ঈমানী তেজ দিন,
দয়া করুন যেন এক কালিমার পতাকার নিচে সবাই সমবেত হই।
মিথ্যাবাদী, অত্যাচারীর হাত থেকে যেন মুক্ত করতে পারি মানবতাকে।

১৪ আগস্ট, ২০১৩
রাত : ০৯ টা ০৩ মি।

৪ আগ, ২০১৩

বাঁধভাঙ্গা পানির স্রোতের মতন শব্দগুলো

হঠাৎ বাঁধভাঙ্গা পানির স্রোতের মতন শব্দগুলো যেন
বুকের ভেতর থেকে প্রচন্ড বেগে বেরিয়ে আসতে চাইছে।
ভোরের সূর্যের অস্ফূট আলোয় ভিজে যাওয়া ঢাকা শহরে
দালান-কোঠাগুলোর সারিতে এক ক্ষুদ্র কোণের গুমোট কক্ষে
আঙ্গুল চেপে গণনাযন্ত্রের পাতায় লিখছি একেকটি অক্ষর।
কোন বিশেষ কিছু বলতে নয়, স্রেফ হালকা হতে, নির্ভার হতে।

এই যে এই সময় চলে গেলো, তা আর কখনো ফিরে আসবে না।
আমার এই শব্দ, এই অনুভূতি, এই আবেগগুলো আর হুবহু রবে না।
বালুঘড়ি দেখেছিলাম, ঝরঝর করে ঝরার সময় কেমন অস্থির লাগত।
এইতো শেষ হয়ে গেলো, কে উলটে দেবে এরপর? শেষ দেখার এক তাড়না।
অথচ এই সময় আমার, এটাও শেষ হয়ে যাবে। জীবনটা বালুঘড়ির মতন
ঝরছে দ্রুতবেগে যেটুকু বাকি আছে। ঝরে নিঃশেষ হবো, মানুষ তো আমি!

যেখানে আমার শেষ, সেখানেই তাঁর শুরু। আমার সবটুকুই তার দয়া।
আমার চিন্তারা যেখানে অসহায়, দৃষ্টি যেখানে আটকে যায়, অজানাকে ভয়।
সেখানে তাকে খুঁজে পাই। ভালোবাসায় আশ্বস্ত করেন। জানিয়ে দেন পারব না।
এই না পারাতে নেই অসহায়তা, এই না পারাতেই মর্যাদা এই জন্মের।
যেন ফিরে ফিরে যাই তার কাছে। স্রষ্টা আর সৃষ্টির ব্যবধানকে উপলব্ধি করতে।

কেউ বলে কাহহার, তা সত্যি। আমি বুঝি রাহমান, বুঝি গাফুরুল ওয়াদুদ।
আমার হৃদয়ের এই শূণ্যতা, এই অনুভূতির এলোমেলো ঢেউগুলো, পবিত্র স্বপ্ন
আমার প্রতিটি নিঃশ্বাসের অস্থির আর্তিগুলো, চোখের অশ্রু, ভালোবাসা,
আমার অসহায় প্রতিটি ক্ষণ, আর অনুভূতিগুলোর সবই তো মানবের অপাঠ্য।
বাধ্য হয়ে আশ্লেষে, অশ্রুসিক্ত হয়ে ফিরে যাই তার কাছেই; যিনি রাহমান।

স্বপ্ন কারখানা
০৪ আগস্ট, ২০১৩

১১ ফেব, ২০১২

এখনো বাতাস বইছে চারিধারে

এখনো বাতাস বইছে চারিধারে, আজো দিন শেষে রাত নেমেছে ।
অথচ ওযুর পানির রঙ লাল যেন হয়ে ঝরছিলো -- উষ্ণ রক্তের মতন
মুয়াজ্জিনের আজানের ধ্বনি বুক কাঁপিয়ে দেয় হঠাৎ
ইমামের অশ্রুভেজা চোখের তিলাওয়াত কানে ভেসে আসে যেন
"আর যারা আল্লাহর রাস্তায় নিহত হয়, তাদের মৃত বলো না,
বরং তারা জীবিত, কিন্তু তোমরা তা বুঝো না। "

২১ জানু, ২০১২

স্বপ্নবেলার ভালোবাসা

এক সুবিশাল সমাবেশের কথা হয়ত হঠাৎ করেই স্মরণ হয়
স্মরণ হয় চারিদিকে থাকা অজস্র মানুষদের কথা।
আমরা একসাথেই ছিলাম -- তারপর একে একে এলাম
কেউ আগে, কেউবা পরে এই মাটির পৃথিবীর স্পর্শে।

আমি বাবার পাশে বসে থেকে তার জীবনস্পন্দন অনুভব করি,
এই মানুষটির আদর্শ আর ভালোবাসায় আমার জীবনভোর ডুবে থাকা।
লোকে বলে, যেতে নাকি হবেই, চলে যাওয়াই নিয়ম।
আমি যেতে চাইনা বলে মায়ের হাতখানি চেপে ধরি কেন?

অথচ ফিরে যাওয়ার মাঝেই নাকি আসবার কারণ গেঁথে আছে।
চলে গেলে নাকি অনন্তের জীবন -- যার শুরু আছে, শেষ নেই।
সেই জগতের মুক্তির জন্য সুন্দরাত্মাদের অশ্রু ঝরে অহর্নিশি।
আমি সেই আত্মাদের ভালোবাসি, আমি তাদের সান্নিধ্য চাই অনাদিকালে।

ভালোবাসা মানে কি ভোগ করতে চাওয়া? যখন সবই তো নশ্বর আর ক্ষণস্থায়ী !
আমি বুঝি ভালোবাসা মানে বুকে জড়িয়ে থাকা, হৃদয় জুড়ানোর অনুভূতি।
আমি এই ভালোবাসার স্পর্শের ছড়িয়ে যাবো জগত থেকে অনন্তে
ফিরদাউসের বাগানে বাবা-মায়ের হাত ধরে ঘুরবো স্বপ্নময়তায়।

আমার স্বপ্নগুলো স্তব্ধ হয়না আর। আমার স্বপ্ন ফিরে আসে অতীত থেকে অনন্তে
আমার স্বপ্নেরা আঁকড়ে ধরে স্রষ্টার আলোতে উদ্ভাসিত আত্মার স্পর্শকে
স্বপ্নেরা ছড়িয়ে দিতে চায় ভালোবাসার আবীরা রাঙ্গা স্বপ্নলোকের সুন্দরকে
স্বপ্ন পাখা মেলে ভাই-বোন-বন্ধুদের নিয়ে কাটানো সুখের বেলাতে, আদনের বাগানে।

মধ্যরাত্রি। ঢাকা

২২ নভে, ২০১১

মন আর মায়াজাল [কবিতা]



ইদানিং এই এই চারপাশ, এই ঘুমভাঙ্গা ভোর,
এই মায়ামাখা মায়ের মুখ, বাবার উজ্জ্বল শুভ্র চেহারা,
সবকিছুকে আমার স্মৃতিময় লাগতে থাকে।
স্মৃতিকাতর হয়ে সবাইকে ভালোবাসায় একবার করে ছুঁই,
বন্ধুদেরকে বুকে জড়িয়ে ধরে ঘাড়ে মাথা ছুঁইয়ে দিই,
তারপর "আসি তবে বন্ধু" বলে বিদায় নিয়ে ফিরি।

১৭ নভে, ২০১১

বিচ্ছুরিত আলোর নতুন প্রত্যয়

পথ চলতে আঁধারের সমুদ্র দেখে হতচকিত
স্বাপ্নিক আশাবাদী আত্মায় জাগে বিষের যন্ত্রণা।
আলো না থাকাকেও ওরা আলো বলতে চায়, কিন্তু
আমি বুঝেছি এটি আঁধার, যা আসলে আলোর বিচ্ছিন্নতা।
এই সমাজের আলোক উৎসগুলোর ছড়িয়ে পড়ার
পথ রুদ্ধ করে দেয় কিছু আলোকময় অন্ধকার অবয়ব,
তাদের বিশালাকার মূর্তিতে মুগ্ধ হয়, আর
অবনত হয় সহস্র মস্তক -- কিশোরীর দল, কিশোর ছেলে।
আলো বঞ্চিত করতে হলে কি তোমায় অন্ধকার করে দিতে হবে? নাহ!
আলোর ছুটে আসা ধারাকে বিচ্ছিন্ন করে ছড়িয়ে দিলেই ষড়যন্ত্র সফল।
একদল তাজা প্রাণ এই ছায়াকেই আলো মনে করে বেড়ে ওঠে,
ভালোবেসে গড়ে তোলে আঁধার-প্রাঙ্গন।
দীর্ঘ সময় আবছা আলোয় কাটালে সূর্যালোকে সবাই বিরক্ত হয়।
অথচ সেই আলোই আসলে তার বেঁচে থাকার প্রাণশক্তির সঞ্চয়।
সত্যকে দেখে ছিটকে পড়ে তাজা প্রাণগুলো, প্রতিবাদ করে তখনই
মিথ্যে দেখে যখন ভুলে যায় সত্যের সুগন্ধময় বিচরণ।
অথচ, প্রতিটি হীরের টুকরা হতে পারে আলোর উৎস।
সমাজের প্রতিটি আলোকময় আত্মা হতে পারে তেমনি
একেকটি আলোকজ্বল আলোর সৌন্দর্যময় ঝলকানি
হতে পারে সত্যের আর সুন্দরের সুসজ্জিত বাহন।
এই অন্ধকার বিদীর্ণ করে আসতে চাওয়া আলোকে দেখা যায় আজ
এই আলোর দল আর কখনো অপবর্তিত হবেনা।
ঝলসে উঠবে অজস্র আলোক আভার বিচ্ছুরিত সত্যে
অনন্তকালের এক সত্য চিরন্তন আলোর সাথে মিশে যাবার দৃঢ় প্রত্যয়ে, স্বপ্নে।

** অনেকদিন পরে কাব্য লেখার একটা প্রচেষ্টা করলাম। এরকম অনুভূতি দিয়ে কাব্য লেখা যায়, তা দেখেছি এই বাংলার বড় বড় কবিদের মাঝে। কাজী নজরুল ইসলাম, ফররুখ আহমদ, আল মাহমুদ লিখেছেন অসাধারণ কাব্য। এই শতাব্দীর কবি মতিউর রহমান মল্লিক, আসাদ বিন হাফিজ -- যারা শব্দ দিয়ে খোদার ভালোবাসা জাগানিয়া আর সমাজকে নিয়ে আশা দেখানিয়া মানুষ। আল্লাহ তাদের সকলের রুহের মাগফিরাত দান করুন এবং তাদের উত্তম বিনিময় দান করুন।

.....
ঢাকা, বাংলাদেশ
১৭/১১/২০১১

৩০ জানু, ২০১১

জানি চলে যাবো একদিন

জানি একদিন চলে যাবো।
এই সকালের ঘাসগুলো আর আমার পায়ের স্পর্শ পাবেনা।
জানি সেদিন ঝরে যাওয়া পাতাদের আর কেউ মাড়িয়ে ঝুরঝুর করে দেবেনা।

জানি আটকে পড়া চড়ুইটাকে আর আমার মতন করে কেউ জানালা দিয়ে বের করে দেবেনা।
এই আমার আর পথ চলতে চলতে থেমে যাওয়া ঠেলাগাড়িটাকে ঠেলে দেয়া হবেনা।

সেদিন যেমন মায়ের কপালে হাত বুলিয়ে দিচ্ছিলাম তখন মনে হচ্ছিলো-- কতদিন আমার মামণিকে এভাবে পাবো জানিনা! এই মায়ের কোলে কোলেই বড় হয়েছি কতগুলো বছর! এই ছোট শরীরটার উপর কতনা পরিশ্রম বাড়িয়েছি সেই ছোট্টবেলায়। মামনির কত রাত যে ঘুম হয়নি আমার জন্য তা তো গুণেও হয়ত শেষ করা যাবেনা!

আজ আদরের ছোট বোনটার সাথে অভিমান করে কথা বলছি না দুপুর থেকে, হয়ত সে এখনো বুঝেনি আমাকে ফেলে রেখে বাসায় চলে এলো বলে এতটা পথ হেঁটে ফিরেছি নিজেকে কষ্ট দিতেই। তবু ওর উপর রাগ করবো না, ভালোবাসা একটুও কমবে না। কালই হয়ত ও চাইবে বলে সন্ধ্যাবেলায় বাইরে ছুটে যাবো সিংগাড়া নিয়ে আসতে।
কারণ, মাঝে মাঝেই মনে হয়-- একদিন হয়ত চাইলেও আর এত কাছে পাবো না, এভাবে করে ভালোবাসতে পারবো না।

মাঝে মাঝে অনেকের উপর অনেক রাগ হয়। অনেক মানুষের উপর! কেন তারা এত কষ্ট দিতে পারে অন্যদেরকে? প্রতিহিংসার আগুনে জ্বলি না। খানিকক্ষণ নিজেকে বুঝাই, রাগ অন্যায়ের জন্ম দেয়...
এই যালিম মানুষদের বেশিরভাগের জন্যই করুণা হয়-- হায়! যদি তোমরাও একটু অনুধাবন করার ক্ষমতা হতো-- এই ছন্নছাড়া অল্প ক'দিনের বেড়াতে আসাটা খুব দম্ভের কিছু নয়।

ইদানিং কারো উপর রাগ করিনা, আক্রোশ দেখাই না। হয়ত কিছুদিন পরেই চলে যাবো একদম সবাইকে ছেড়ে-- এই মাঠ-ঘাট-প্রান্তর আর প্রিয়জনদের ছেড়ে।
সকালের স্নিগ্ধ আলোর পরশ হয়ত সেদিন চলে যাওয়া অনেকের মতন আমিও পাবো না।
রাতের এই জোছনার আলোতে পথে আমার ছায়াটাকে আলাদা করে দেখতে পাবো না। ছায়ার মাথাটাকে পা দিয়ে চেপে দেয়ার চেষ্টা করতে করতে বাসার গেটে চলে আসা হবেনা।

একদিন হয়ত চাইলেও কিছুই বলতে পারবো না, শুধু অনুভব করে যাবো। হয়ত সেদিন সব বুঝেও না বলতে পারার আক্ষেপে যন্ত্রণাদগ্ধ হবো।
অথবা হয়ত একদিন কেবলি ভালোবাসা পাবো। যে ভালোবাসা পেলে আর কিছু লাগেনা! আনন্দে আর স্মিত হাসিতে কেটে যাবে অনন্তকাল।

একদিন......... কতদূরেই না চলে যাবো!!

(পুনশ্চঃ এটা কবিতা নয়, কেবলি স্রোতের মতন করে ভাবনাদের বয়ে যাওয়া)
--------------------------
১৮ ডিসেম্বর ২০১০, রাত ১০:০৭

৩ নভে, ২০১০

লোকে আমায় কাব্য লিখতে নিষেধ করে

লোকে আমায় কাব্য লিখতে নিষেধ করে
কাব্যে তারা খুঁজে পান স্থবিরতা
কাব্য নাকি কঠিন লাগে!!

অথচ আমি জানি আমি 'কাব্য' লিখতে পারিনা!
আমি চাই শুধু শব্দগুলো দিয়ে অনুভূতির মালা গেঁথে যেতে
অবিশ্রান্ত; অপার ভালোবাসায় আর অনুপ্রেরণায়,
কখনবা হতাশা আর তীব্র কষ্টের অনুভূতিতে।

কাব্য ছাড়া ভালোবাসা কী করে প্রকাশ হবে?
আমার অনুভূতিগুলোর আঁচড়ে কীভাবে
রূপ পাবে শত সহস্র শব্দমালা
আর ভালোবাসার রাতগুলো, স্বপ্নগুলো!


আজ তোমাদের মাঝে এসেছি,
এই জনারণ্যে-- লোকায়তনে
আমাকে ছড়িয়ে দেয়ার অভিপ্রায়ে।
আমার শব্দ আর ঐকতান নিয়ে,
তোমাদের মাঝে মিশে যেতে
আমি এসেছি তোমাদের মাঝে
নিঃসঙ্গ এই সাঁঝে।

ভালো থেকো বন্ধুরা,
আবারো কাব্য! -- তাই করিয়ো ক্ষমা...


২৫ সেপ্টেম্বর ২০১০, সন্ধ্যা ০৬:৪৩