palestine লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
palestine লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

২৮ জানু, ২০১৫

হত্যাকারী ইসরাইলি ফোর্সের খুনী নারীদেরকে গার্নিয়ার কোম্পানীর সেলিব্রেশন​​

[লিখেছিলাম গতবছর ২০১৪ সালের আগস্টে, গাজায় ইসরাইলি বাহিনী কর্তৃক নিরস্ত্র মানুষদেরকে নির্বিচারে হত্যাকান্ড চালানোর পরে।]

​​০৬ আগস্ট, ২০১৪

Garnier বা গার্নিয়ার পণ্য আমাদের দেশেও বেশ প্রচলিত। L'oreal পণ্যটিরও বেশ কদর আছে বাংলাদেশি নারীদের মাঝে। যেমনটিই থাকুক, ওরা ফিলিস্তিনিদের সদ্য হত্যাযজ্ঞে যুক্ত থাকা IDF তথা ইসরাইল ডিফেন্স ফোর্সের নারীদের প্রোফাক্ট স্পন্সর করেছে। মুখে আর চুলে যখন গার্নিয়ার বা লোরেল পন্য মাখবে আমাদের বোনেরা, তারা যেন অনুভব করে তাদের ফিলিস্তিনি বোন আর শিশুদের রক্ত মাখছে।

৩ আগ, ২০১৪

গাযযাতে চলমান হত্যাযজ্ঞের ছবিগুলোর প্রতি সবাই কেমন যেন ডিসেনসিটাইজড হয়ে গেছে

​গাযযাতে চলমান হত্যাযজ্ঞের ছবিগুলোর প্রতি সবাই কেমন যেন ডিসেনসিটাইজড (অনুভূতিহীন) হয়ে গেছে...

এই ব্যাপারটাতে আমার কিছু বলার আছে! পশ্চিমে বেড়ে ওঠায় এরকম মৃত্যু আমরা কেবল মুভিতেই দেখেছি। আমরা এতো বেশি মুভি দেখেছি যে আমাদের কাছে গাযযায় চলমান হত্যাকান্ড আর ম্যুভির বিষয়টা একই মনে হয়, শুধুই যেন পর্দায় ভেসে থাকা কিছু নিথর দেহ! তাই আমরা নতুন করে ডিসেনসিটাইজড হয়ে পড়িনি, আমাদের বেশিরভাগ মানুষই অনেক আগে থেকেই এরকম বিষয়ে ডিসেনসিটাইজড হয়ে আছি। যারা আমাকে বলছেন এসব শেয়ার না করতে তাদের বলছি, আমি ভাল করেই জানি আপনাদের অবস্থান এবং আমি আপনাদের উপদেশটা মনে রাখব। দয়া করে বুঝতে চেষ্টা করুন যে আমার পেশাদারিত্ব এবং আবেগের মাঝে আমি এক টানাপোড়েনে আছি। আমি আল-শিফা হাসপাতাল সংলগ্ন রাস্তায় বড় হয়েছি। এ্যাম্বুলেন্সের সাইরেন প্রতিদিন সকালে আমাদের ঘুম ভাঙ্গিয়ে দিত। আমি ও আমার বন্ধু মিলে আল-শিফার বাগানে অনেক খেলাধূলা করেছি! এই ভয়াবহতা স্রেফ একটা ছবির দেখার অনেক ভিন্ন একটা ব্যাপার। আমি নিজের চোখে আল-শিফা হসপিটালের দরজা দিয়ে ক্ষতবিক্ষত শরীরগুলো দেখে বাসায় ফিরে খবর দেখেছি কিন্তু এ বিষয়ে কোন কিছুই পাইনি সেখানে। সংবাদ মাধ্যমগুলো গাযাতে চলমান হত্যাযজ্ঞ এমনিভাবেই চেপে যাচ্ছে ঠিক যেমন করে তারা সিরিয়া, বার্মা, পাকিস্তানে চলমান জুলুম ও নিপীড়নকে চেপে যাচ্ছে। আমি এসব দেখে প্রচন্ড ক্ষেপে গিয়েছিলাম, আমি এখনো ক্ষেপে আছি। আমি প্রতিজ্ঞা করেছিলাম গোটা বিশ্বকে গাযার এমন চিত্র দেখাবো যা গাযায় বসবাসকারী মানুষদের চোখগুলো প্রতিদিন দেখে। অনলাইনে হয়ত আপনারা শুধু একটা ছবিই দেখেন। কিন্তু এই ছবির পেছনে থাকে অনেকগুলো গল্প, ছবিটা কেবলই একটা মৃতদেহ নয়। একজন মানুষের দেহ থেকে যখন তার আত্মা বের হয়ে যায় তখন শুধু মানুষটিই মারা যায় না, মারা যায় ভালোবাসা, সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য, সমবেদনা, স্বপ্ন। ছবিটি দেখতে কতটা  বীভৎস সেটিই কেবল বড় ব্যাপার নয়, বরং তিলতিল করে গড়ে ওঠা জীবনগুলোর কষ্ট ও হারানোর গল্পগুলো অনেক বড় ব্যাপার।

আমি আশা করি বুঝতে পেরেছেন।

-- মুহাম্মাদ জেয়ারা

[লেখক কাডায় জন্মগ্রহণ করা ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত এক নাগরিক। তিনি চিকিৎসাবিজ্ঞানে পড়াশোনা করেছেন। তিনি একজন বক্তা এবং মূলত তরুণদের প্রতি অনুপ্রেরণাদানকারী বক্তব্য রাখেন। অনলাইনে প্রকাশিত এডুকেশনাল এবং মোটিভেশনাল ভিডিওগুলোর জন্য তিনি বেশি পরিচিত। গাযযায় বেড়ে ওঠার সময়ে জীবনের ৮টি বছর তার জীবনের একটি বড় অভিজ্ঞতা। তার ফেসবুক প্রোফাইল: https://www.facebook.com/mzeyara/]

২৭ জুল, ২০১৪

হামাস ও ইসরাইলের গাজা গণহত্যা নিয়ে কয়েকটি লিঙ্ক

​​​# প্রথম লিঙ্ক:
হামাস নেতা ওসামা হামদানের একটি সাক্ষাতকার প্রকাশিত হয়েছে আল জাযিরাতে। অনেক কিছু জানার মতন আছে এতে, বিশেষ করে হামাসের বলিষ্ঠ ও অবিচল লক্ষ্য। অভিশপ্ত ইয়াহুদিরা সবসময়েই চুক্তি লঙ্ঘন করতো, যতবারই তারা চুক্তি করে, ততবারই লঙ্ঘন করে। ওদের এইসব ফানি চুক্তি নাটক হামাস মোটেই বিশ্বাস করে না।

যতক্ষণ না পর্যন্ত তারা গাজা ছেড়ে দিচ্ছে এবং জেরুজালেমকে রাজধানী করে ফিলিস্তিন রাস্ট্রের উপরে অবৈধ দখল না ছাড়ছে, হামাস তাদের বিরুদ্ধে মুক্তি সংগ্রাম করেই যাবে। আল্লাহ সকল মুজাহিদিনকে হেফাজত করুন এবং তাদের বিজয় দান করুন।

@ http://www.aljazeera.com/news/middleeast/2014/07/hamas-leader-israelis-are-playing-games-201472685657718753.html

​​​# দ্বিতীয় লিঙ্ক:
আলজাজিরা এরাবিক প্রথমে 'ম্যসাকার এট ডন' নামে এই অনুষ্ঠান প্রচার করে। পরে আলজাজিরা ইংলিশ এটার ইংরেজি ভার্সন তৈরি করেছে। সম্প্রতি ইসরাইল ফিলিস্তিনের Shujayea শহরে যে ম্যাসাকার করেছে এ ডকুমেন্টারিতে এর ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। সেদিন সকালে হামলার এক্সক্লুসিভ সব ফুটেজ রয়েছে এ ডকুমেন্টারিতে। এক কথায় ভয়াবহ!

@ http://www.aljazeera.com/programmes/specialseries/2014/2014/07/shujayea-massacre-at-dawn-201472621348901563.html

​​​# তৃতীয় লিঙ্ক:
বিবিসির সাথে হামাস নেতা খালিদ মিশালের একটি এক্সক্লুসিভ ইন্টারভিউ প্রকাশিত হয়েছে।

@ http://www.bbc.co.uk/programmes/p023kld8

[২৭ জুলাই, ২০১৪]

ইসরাইলকে বয়কটের আন্দোলন

বিগত কিছুদিন যাবত গাজায় ইসরাইলের গণহত্যা শুরু হবার পর থেকে অনলাইনে অফলাইনে ইসরাইলকে বয়কট সংক্রান্ত অনেক কিছু পড়েছি যার সত্যতা নিয়ে সন্দিহান ছিলাম। অনেক কোম্পানিই ইসরাইলে অর্থায়ন করে কিন্তু তাদের অথেনটিক একটি তালিকা অন্তত দরকার। এসব খোঁজাখুঁজিতে গিয়ে জানলাম বিডিএস মুভমেন্ট সম্পর্কে...

BDS Movement হলো বিশ্বজুড়ে ফিলিস্তিনিদের একটি সংগঠিত আন্দোলন। বিডিএস মুভমেন্ট সত্যিকারের বয়কট, ডাইভেস্টমেন্ট ও স্যাংকশনের মাধ্যমে ইসরাইলকে জবাব দেয়ার জন্য শুরু হয়। এখন পর্যন্ত তারা বেশ সংগঠিত উপায়ে কাজ করে যাচ্ছে।

# ইসরাইলকে অর্থায়ন করা ৭টি কোম্পানির বিস্তারিত তথ্য নিয়ে একটি তালিকা:
http://www.bdsmovement.net/2014/freedom-and-justice-for-gaza-boycott-action-against-7-complicit-companies-12386

এগুলোর মাঝে বাংলাদেশের ভোক্তা হিসেবে পরিচিত পণ্যের মাঝে আপাতত হিউলেট প্যাকার্ড (এইচপি) HP কোম্পানিটিকে পেলাম পেলাম, এছাড়া গ্রুপ ফোর (G4S) সিকিউরিটি কোম্পানি বাংলাদেশেও কাজ করে।

# BDS মুভমেন্টের ওয়েবসাইট: www.bdsmovement.net

২৬ জুল, ২০১৪

রাস্ট্রের মিথ্যা প্রোপাগান্ডার মেশিন হিসেবে ব্যবহার হয় ইসরাইলি ছাত্ররা

​​​প্রথম খবরটা গতবছরের আগস্ট মাসের, পত্রিকাটা বৃটেনের দি ইন্ডিপেন্ডেন্ট, যারা বরাত দিয়েছে ইসরাইলি পত্রিকা হারেটজকে। খবরে এসেছে, ইসরাইলি সরকার তাদের ৭টি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় শত ছাত্রছাত্রীদের বৃত্তি প্রদান করবে যদি তারা বিদেশিদের কাছে ইসরাইলের ইমেজ রক্ষার জন্য ফেসবুকে পোস্ট দেয় এবং টুইটারে টুইট দেয়। (বিস্তারিত পড়ুন: http://ow.ly/zBzp2)

২১ জুল, ২০১৪

গাজা গণহত্যা - ২০১৪: ডায়েরির পাতা থেকে


১০ জুলাই, ২০১৪

আজ কয়েকদিন ধরে ফিলিস্তিনে বোমা হামলা করছে নরাধম ইহুদিবাদী ইসরাইল নামক জারজ রাস্ট্রের এয়ারফোর্স, যারা বিশ্বের চতুর্থ অস্ত্র রপ্তানিকারক দেশ। এই বিপুল অস্ত্রধারী ও প্রযুক্তিময় ইতর আর্মি ও এয়ারফোর্সের প্রতিপক্ষ গাজা নামক এক শহর, যার লোকেরা নিরস্ত্র, যাকে বিশ্বের সর্ববৃহৎ কারাগার বলেন অনেকে। আকাশে মিসাইল আর রকেট উড়লে তাদের মৃত্যুর অপেক্ষা করা ছাড়া আর কিছু করার থাকে না।

ক'দিন যাবত যাদের হত্যা করা হয়েছে তারা বেশিরভাগই নারী ও শিশু। ইসরাইল চায় না ফিলিস্তিনে নতুন প্রজন্ম আসুক। শিশুদের হত্যা করে, পুরুষদের কারাগারে নিয়ে অত্যাচার করে আহত-নিহত করে শেষ করে দিতে চায় পুরুষদের সংখ্যা যেন নতুন সন্তান না আসে পৃথিবীতে। এরাই সেই বনী ইসরাইলের বংশধর, যারা আল্লাহর নাফরমানী করাকেই নিজেদের কাজ হিসেবে ধরে নিয়েছিলো।

ইসরাইলি ইহুদিবাদী শয়তানগুলোর হত্যাকান্ডের বিরুদ্ধে কথা বলার আজ কেউ নেই। গোটা পৃথিবী আজ ফুটবল নিয়ে কাতর। মেসি মেসি করতে করতে কেটে যায় বাংলার দামাল যুবক আর পুরুষগুলোর রাত। মিডিয়া এসব বিশ্বকাপমার্কা খবরের শিরোনামে ভরে রাখে পত্রিকার পাতাগুলো।

১৯ নভে, ২০১২

ডায়েরির পাতা : ফিলিস্তিন ১

গত দু'দিন ধরে মাঝ রাতেই ঘুম ভেঙ্গে যাচ্ছে। প্রচন্ড কষ্ট বুকে নিয়ে ঘুমালে এমনই হয়। এত তীব্র কষ্ট জীবনে আর একবার লেগেছিল। টুইটারে ফিলিস্তিনের অনেকজনের কাছ থেকে জানতে পারছিলাম ক্রমাগত আপডেট। ঘন্টাখানেক আগে গাজায় ইসরাইলি বিমান ঝাঁকে ঝাঁকে আক্রমণ করেছে। আমার চোখের সামনে এক ফিলিস্তিনি বোন বললো, অমুক বাসায় ছোট্ট বাচ্চাটা মারা গেছে (সম্ভত আসলান -২ বছর) আর ওর বোনটা হাসপাতালে গেল, সম্ভবত পা হারিয়েছে। সহ্য করতে পারিনা আমি। অশ্রু আমার দু'দিন ধরে ঝরঝরিয়ে ঝরে যাচ্ছে। এমন করে কখনো দেখিনি আগে, বুঝিনি আগে।

ব্যাপারটা এমন না যে গাজা উপত্যকা অনেক বড়। প্রস্থে কয়েক কিলো আর দৈর্ঘ্যে এপ্রান্ত থেকে ওপ্রান্তে যেতে এক ঘন্টাও লাগে না। ইসরাইলি নেভি ঘিরে আছে গাজা, পৃথিবীর ৪র্থ শক্তিশালী সশস্ত্র বাহিনী (নেটে পড়লাম) কেন তাদেরকে এভাবে আটকে মেরে ফেলছে? ইসরাইল কোন রাস্ট্র ছিলনা। ফিলিস্তিন বিশাল দেশ ছিল। বৃটিশ সরকার হাজার হাজার ইহুদিদের এখানে বসতি দিয়েছিলো গত শতকের প্রথমে, ফিলিস্তিনিদের সাথে থাকতে। ওরা সবখান থেকে অর্থ নিয়ে ক্রমেই বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক চালে ফিলিস্তিনিদেরকে কোণঠাসা করে গাজা আর পশ্চিম তীরের শহর রামাল্লাতে জায়গা নিতে বাধ্য করেছে। যখন ইচ্ছা হয় বিমান হামলা করে শহীদ করে দেয় আমাদের ভাইদের বোনদের। এমন কোন পরিবার নেই ফিলিস্তিনে, যাদের কেউ ওদের হামলায় শহীদ হয়নি। অতটুকু শহরে গিজিগিজি করে ক'জন মানুষ থাকে? মৃত্যু তাদের কাছে এতই সাধারণ ব্যাপার যে বাংলাদেশে আরাম করে ঘুমাতে যাওয়া আমরা কল্পনাই করতে পারব না। কেন ওদের এভাবে মারছে? এখানেই রহস্য। একটা জাতি তোমাকে থাকার জায়গা দিল, যখন হলোকাস্টে তোমাদের পুড়িয়ে মেরে দিলো নাৎসি বাহিনী -- তোমরা কৃতজ্ঞ না হয়ে একের পর এক জায়গা নিয়ে তাদেরকেই কেন হত্যা করছ? এখানেই ইহুদিবাদের স্বরূপ। আত্মরক্ষার্থে একটা মর্টার গেলেও নাকি নেতানিয়াহু সেনাবাহিনী চালনা করবে। এই ইসরাইলকে বার্ষিক বিলিয়ন ডলার দেয় আমেরিকা। সমস্ত আন্তর্জাতিক মিডিয়া প্রচার করেছে -- "ইসরাইল হামাস সহিংসতা" অথচ গত দু'দিনে কমপক্ষে ২৫ জন মারা গেছে ইসরাইলের বিমান আক্রমণে, চারপাশ থেকে ঘিরে ধরে মেরে ফেলছে মানুষগুলোকে। তাদের ধ্বজাধারী মিডিয়া গণহত্যাকে বলছে "সংঘর্ষ। সে নাহয় দূরের কথা।

দেশে বসে আমি কি করতে পারি? ... জানিনা আসলে। আমি জেনেছি, নবী করীম সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, মুসলিম একে অপরের ভাই। এই উম্মাহ দেহের মতন। আমি এতটুকু জানি, আমার ভাইয়া যদি আজ আহত হয়ে হাসপাতালে যেতেন, নিহত হয়ে যেতেন -- আমি গান শুনতে মত্ত থাকতাম না, ব্যাট-বল পিটিয়ে ভ্রমের মধ্যে ডুবে থাকতাম না। কায়মনোবাক্যে দু'আ করতাম। চোখের পানিরা ঝরে যেত। একদিন আমাকেও অমন অবস্থায় পড়তে হতে পারে -- তখন আমার পাশে কেউ না দাঁড়ালেও যদি দূরে থেকে কেউ দু'আও করে, আমি হয়ত তাতেই সাহায্য পাব।

এত দূরের ওরা কেমন করে আমার ভাইবোন? ...আখিরাতে আপন রক্তের ভাই যদি জাহান্নামী হয়, তবে কেউ তাকে ভাই বলে ডেকে লাভ পাবনা। তাদের সাথেই থাকব, যারা একসাথে থাকবেন, তারা সবাই আল্লাহর বান্দা হিসেবে দুনিয়ায় ছিলেন, তাদের ভালোবাসা আল্লাহর ভালোবাসায় সিক্ত, তাদের চাওয়া, চিন্তা, কথা আর কাজের ছাঁচ একই -- ঠিক যেন একই পরিবারের মতন। আমি আমার সমগ্র পৃথিবীর মুসলিম উম্মাহকে আপন ভাইবোন বলেই মনে করি, অনুভব করি। মুসলিম হিসেবে এ আমার দায়িত্ব। আর এই অনুভূতি স্বতস্ফূর্ত। এতগুলো কথা লিখলাম কেবল একটা উপলব্ধিকে ছড়িয়ে দিতে -- যদি আখিরাতে আসলেই আল্লাহর সান্নিধ্য চাই, তাহলে আমরা যেন অনেক দোয়া করি আমাদের ভাইদের জন্য। কাজ করি মানুষের জন্য, মানুষের শান্তির জন্য... নিশ্চয়ই রবের পাকড়াও বড়ই কঠিন। নিশ্চয়ই সত্যপথের মানুষ আর মিথ্যার দাসত্বকারীরা এক না।

১৮ নভেম্বর ২০১২
সকাল ৮ টা ৪৫ মি

ডায়েরির পাতা : ফিলিস্তিন ২

 আমার গলা বন্ধ হয়ে আসছে কান্নার গমকে... অনবরত অশ্রু ঝরে মাথা ঝিম-ঝিম করছে। এখনি জানলাম কিছুক্ষণ আগে গাজায় ইসরাইলি বিমান হামলায় একই পরিবারের ১০ জন শহীদ হয়ে গেছে। ৩জন শিশু, ৪জন নারী। ইহুদিবাদ প্রতিষ্ঠায় অন্ধ অভিশপ্ত বনী ইসরাইলের বংশধররা স্বভাবসুলভ উন্মাদ হয়ে গেছে। গত দু'দিনে গাজায় শহীদ হয়েছে ৬০ জনের বেশি। আল্লাহ তাদের মৃত্যুকে কবুল করে নিন। এই বোনেরা তাদের সন্তানদের নিয়ে জান্নাতুল ফিরদাউসের ঝর্ণার ধারে যেন চিরকাল ধরে আনন্দ করতে পারেন -- আল্লাহ আমার মতন অসহায় বান্দাদের দোয়াগুলো কবুল করুন!!

আজ সারাদিন কাজের ফাঁকে ফাঁকে যতবার অনলাইনে এসেছি, কান্না থামাতে পারিনি, শুধু মনে হচ্ছিলো মৃত্যুর আগে তারা কতই না অসহায় অনুভব করছিল। অল্প কিছু মানুষের জন্য প্রায় ৭০০+ বার বিমান ছুটে গেছে গাজা উপত্যকার উপর দিয়ে বোমা ফেলতে ফেলতে। এই সেই বনী ইসরাইলের পথভ্রষ্ট বংশধরেরা, মুসা আলাহিস সালাম এর মতন অজস্র নবী রাসূলকে তারা বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়েছিল, তাদের অন্ধ অহংকার আর কপট ঔদ্ধত্য তাদের আল্লাহ রব্বুল আলামীনের কাছ থেকেই অভিশপ্ত করেছে। আমাদেরকে আল্লাহ করেছেন সম্মানিত, তাঁর দ্বীনের দায়িত্ব দিয়ে। একদিন ওদের বইয়ে ওদের পরাভূত করা হবেই ইনশাআল্লাহ, হয়ত সেদিন তেল আবিবের রাস্তাতে ওদের অপবিত্র রক্তের বন্যা বয়ে যাবে। আমাদের প্রথম কিবলা মাসজিদুল আকসা একদিন ওদের করায়ত্ব থেকে মুক্ত হবেই, ফিলিস্তিনি ভাইবোনদের এই রক্ত আমাদেরকে সেই সুন্দর সময়ের দিকেই নিয়ে যাচ্ছে।

ইহুদিরা এমনই। শত বছরের বেশি ওদের নীল নকশা। ওরা জ্ঞান বিজ্ঞানে সবসময়েই এগিয়ে থেকেছে, আল্লাহ তাদের অনেক রহম করেছিলেন সবসময়েই। সেটা ব্যবহার করে ওরা যেখানেই সুযোগ পায়, প্রতিষ্ঠান খুলে বসে। তাই বিবিসি, সিএনএন হোক, স্টারবাকস, ম্যাকডোনাল্ডস হোক, ফানটা, স্প্রাইট হোক, যা ছাড়া এই সময়ের মানুষ প্রায় অচল বলে মনে করে -- তাই ওদের করায়ত্ব প্রতিষ্ঠান। অজস্র প্রতিষ্ঠান থেকে উঠে আসে টাকা - তা দিয়ে কেনা বোমায় শহীদ হয় ফিলিস্তিনিরা। ওরা খবরকে ঘুরিয়ে দেয়, পৃথিবীর ইকোনমি কব্জা করে কেবল থাকার জায়গা পেতে, উড়ে এসে জুড়ে বসে। কোনদিন এই প্রচেষ্টা সফল হবেনা ইনশাআল্লাহ।

আজকে নিজের সাথে প্রতিজ্ঞা করছিলাম, যতটা সম্ভব সময়ের সদ্ব্যবহার করবো জীবনে। মানুষের উপকারে আসে -- এমন প্রতিষ্ঠান আমরা কেন তৈরি করতে পারব না? সেই প্রতিষ্ঠানের লাভের টাকায় হবে অন্য আরো দশটা মুসলিম-অমুসলিম মানুষের সাহায্য, দূর করা হবে তাদের কষ্ট। আমাদের একটা প্রজন্মই সব ঘুরিয়ে দিতে পারি। ইহুদিদের মতন শিকড় কাটা পশুগুলো যদি মাত্র একশ বছরে পৃথিবীকে ভ্রান্তির মাঝে ফেলে চুবিয়ে দিতে পারে -- আমরা সেই নোংরা শক্তির বিপরীতের আরো শতগুণ বেশি শক্তিশালী ও উপকারী হতে পারব।

আমাদের জীবনের গন্তব্য তো পরিষ্কার। আমাদের জীবনের প্রতিটি মূহুর্তই কল্যাণময়। কষ্টে থাকলেও তা আমাদের জান্নাতের পথে এগিয়ে নিয়ে যায়, যখন সুখে থাকি, তখন প্রতিটি কৃতজ্ঞতার নিঃশ্বাস আমাদেরকে আমাদের চিরজীবনের সফলতার দিকেই নিয়ে যায়। সেই দিন তো তেমনও দূরে নয়, যেদিন আমরা বিশ্বাসীরা সবাই আল্লাহর সান্নিধ্যে থাকব, আমাদের কাছে দুনিয়াটা মনে হবে হয়ত দিনের একটা বেলা ছিলাম। আমাদের হারানোর কিছু নেই। সব প্রাপ্তির এই জীবনটা কেবলই অন্যের জন্য বিলিয়ে দেয়া, শান্তি প্রতিষ্ঠার চেষ্টায় -- মহান আল্লাহর নৈকট্য লাভের স্বপ্নে... আল্লাহ আমাদেরকে কবুল করুন।

১৮ নভেম্বর ২০১২
রাত ১০-৫৮ মি