কয়েকটা ভাবনা ভাবাচ্ছিলো বছরের প্রথম দিনে, হয়ত সবাইকে নতুন বছরের চাওয়া-পাওয়া নিয়ে হইচই করতে দেখে। আমারো সবার মতন কী পেলাম কী চাই টাইপের ভাবনা কাজ করলো। পিছনে তাকিয়ে দেখি, অনেক ক্ষয়, ভুল, পাপ। সামনে অজানা জীবন, অনেক কাজ, আবশ্যক মৃত্যু। দুনিয়াতে এসে কেবল মৃত্যুটাই আমার নিশ্চিত ছিল, এরপরেও অনেক কিছু পেয়েছি, পাচ্ছি। একদিন মালাকুল মাওত এসে হাজির হবেন, জানিনা আমার রূহ কি পানির জগ থেকে পানি ঝরার মতন ঝরে পড়বে, নাকি কাটাভরা গাছের শাখা ভেজা উলের মধ্য দিয়ে টেনে বের করার মতন যন্ত্রণা দিয়ে বের হবে। আমি কি পারব
reading লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
reading লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
১ জুল, ২০২২
২৬ ডিসে, ২০১৬
শুদ্ধ সাহিত্যের স্রষ্টা নসীম হিজাযী ও তার উপন্যাসসমূহ
নসীম হিজাযী দুনিয়া ছেড়ে চলে গেছেন অনেক আগেই। কিন্তু প্রায়ই তার বইগুলো ঘেঁটে তার মতন লেখকের প্রয়োজনীয়তা যে কী ভীষণ অনুভব করি তা বলার মতন না। আল্লাহ তার কাজগুলোকে কবুল করে নিন, তার ভুলত্রুটি মাফ করে তাকে জান্নাতুল ফিরদাউসের মেহমান করে নিন। সুস্থ সাহিত্য, ইসলামের চেতনায় ভাস্বর, শক্তিশালী ভাষা ও দৃশ্যপট তৈরির কাজটা তিনি করেছেন নিপুণ দক্ষতায়।
৮ আগ, ২০১৫
যেভাবে বই পড়া যেতে পারে
আমাদের জীবনের আয়ু তো সীমিত। বেঁচে থাকার সময়গুলো আল্লাহ আমাদেরকে দিয়েছিলেন যেন তার উত্তম ব্যবহারে সৎকর্ম করে আমাদেরকে জাহান্নামের আগুণ থেকে বাঁচাতে পারি। কী করেছি আজ অবধি? কতখানি কী সংগ্রহ করেছি? নিয়্যাহ কি ঠিক ছিলো? এখনো কি আছে? সত্যিই কি আল্লাহর জন্য জীবন ধারণ করছি? এখন? এই মূহুর্তে? চোখটা বন্ধ করলে কি অনুভব করতে পারি যে আমি আমার সর্বস্ব নিয়ে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলার দরবারে দাঁড়িয়ে আছি, আমার সবকিছুর হিসেব হবে? চিন্তা করতে গেলে আমার কাছে কেমন যেন মনে হয়, আমি পরীক্ষার হলে বসে আছি, অনেক্ষণ ধরে প্রশ্ন দেখেছি কিন্তু তেমন কিছুই লিখিনি -- সেই খাতা জমা দিতে হবে এখনই, আমি নিশ্চিত বুঝতে পারছি আমার তো পাশ করা হবেনা... বুক ধরফর করে ওঠে। নিশ্চয়ই আমরা ক্ষতির মধ্যে নিমজ্জিত, আল্লাহ আমাদেরকে রক্ষা করুন।
৪ জুন, ২০১৫
[গ্রন্থচারণ] বিদায়াতুল হিদায়াহ : ইমাম আল-গাজ্জালি
ইমাম আবু হামিদ আল-গাজ্জালী এমন একজন মানুষ যিনি প্রায় হাজার বছর আগে পৃথিবী ছেড়ে চলে গেছেন কিন্তু তার লেখায় তিনি এমন সব বিষয় নিয়ে লিখেছেন, এমন জ্ঞান শিখিয়েছেন যা প্রকৃতপক্ষে আমাদের মুসলিম সভ্যতার ও মুসলিম মানসের জন্য খুবই দরকারি। তিনি যে শুধুই মুসলিমদের একজন বড় আলেম তা নয়, বরং গোটা বিশ্বের সমস্ত ধর্মের, অজস্র ভাষাভাষী মানুষদের কাছে পৌঁছেছেন তার লেখনীর মাধ্যমে। এটা তার জ্ঞানের, তার লেখনীর গভীরতার একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য। তিনি জীবনকে দেখেছিলেন সাধারণদের চেয়ে ভিন্ন চোখে। দ্বীনের ইলমের সাথে তার সুগভীর জীবনবোধ তার লেখনীগুলোকে করেছে ভিন্নমাত্রার। বস্তুত তিনি জীবনের অভিজ্ঞতা থেকে যা দেখেছেন, উপলব্ধি করেছেন এবং কাজে করেছেন --সে বিষয়গুলোকেই তার লেখার মাঝে এনেছেন। তিনি এমন সাহিত্য লিখে ছেড়ে দেননি যার সাথে তার কর্মের ও চিন্তার সম্পৃক্ততা ছিলো না; তার জীবনী থেকে এমন বিষয়গুলো সুস্পষ্ট হয়ে ওঠে। এই শক্তিশালী বৈশিষ্ট্যটিই হয়ত তার মৃত্যুর হাজার বছর পরেও তার লেখনীকে সবসময় 'সমসাময়িক' করে রেখেছে, মুসলিম মনে ও মানসে আবেদন জারী রেখেছে।
২৯ ডিসে, ২০১৪
[গ্রন্থচারণ] সুবহে সাদিক : খুররম মুরাদ
আমরা কেউ একদিনে বদলে যেতে পারিনা। কত ভুল প্রতিদিন করি, কত যে পাপ করি। শয়তান এসে হাল ছাড়িয়ে দেয়ার জন্য কত যে কুমন্ত্রণা দেয়!! এই পৃথিবীর প্রতিটা মানুষেরই লক্ষ্য আদর্শ মানুষটির মতন হওয়া হলেও কেউ কোনদিন পুরোপুরি তেমন, হতে পারবে না। তাই কেউ কখনো *অ্যাবসোলিউট* ভালো মানুষ হতে পারবে না দুনিয়াতে, তাই তার আজীবনই বিনয়ী থাকতে হবে এই ভেবে যে সত্যিকারের ভালো মানুষ হওয়া তার ঢের দেরি।
আত্মার উন্নয়ন এক অতি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। সবার প্রথমে দরকার জীবনটার উদ্দেশ্য নির্ধারণ করা। জীবনের উদ্দেশ্য আল্লাহকে সন্তুষ্ট করা, আল্লাহর জন্যই আমাদের এই জীবন। সেই বিষয়টা যেই অবস্থাতেই আছি, সেই অবস্থাতেই নিজেকে বুঝানো। অর্থাৎ, জীবনটাকে অর্থবহ আর শান্তিপূর্ণ করতে হলে আল্লাহর পথে গিয়ে যেতে হবে, সেই জন্য দৃঢ় সংকল্প করতে হবে। হৃদয়ের যত্ন নিতে হবে, এই যত্ন তার বেড়ে ওঠা ও পরিপুষ্টির জন্য দরকার। আমাদের হৃদয়কে পরিশুদ্ধ করার মাঝে রয়েছে সফলতা। যিনি হৃদয়কে পরিশুদ্ধ করতে পারেন, তিনি তো সত্যিকার সফল। আমাদের লক্ষ্য তো জান্নাত লাভ করা, আর তা অর্জন করা সম্ভব আল্লাহ সন্তুষ্টির মাধ্যমে। জান্নাত লাভ কোনভাবেই আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন ছাড়া সম্ভব নয়। অন্যদিকে রব্বুল আলামীনের সন্তুষ্টি পেলেই জান্নাত অর্জন সম্ভব। তাই, যেভাবেই হোক, জীবনের প্রতিটি কাজের উদ্দেশ্যই হতে হবে আল্লাহকে সন্তুষ্ট করা। এতেই সফলতা, এতেই শান্তি, এতেই পরিতৃপ্তি...
২১ অক্টো, ২০১৪
[গ্রন্থচারণ] মুহম্মদ বিন কাসিম: নসীম হিজাযী
ঈদের ছুটিতে একটা স্নিগ্ধ দিন ছিলো গতকাল। আমার সারাটা দিন কেটেছে মুহম্মদ বিন কাসিমের সাথে। হাজার বছর আগের ইতিহাস আর তার দৃশ্যপটগুলোতে ডুবে ছিলাম গোটাদিন।
সেই ষষ্ঠ শতকেই ইসলাম এসেছিলো ভারতবর্ষে আরব ব্যবসায়ীদের সাথে। তারা সমুদ্র পেরিয়ে জাহাজে চড়ে এসেছিলো ব্যবসা করতে ঠিকই, কিন্তু তাদের আমল-আখলাক ও সম্পদের বিনিময়ের সৌন্দর্য মুগ্ধ করেছিলো ভারত মহাসাগরের তীরবর্তী বন্দরগুলোর মানুষদের। পরবর্তীতে অনেক মানুষই ইসলাম গ্রহণ করে। আরবদের বহনকারী এমনই বাণিজ্য জাহাজগুলোকে আক্রান্ত করে সিন্ধুরাজ দাহিরের নির্দেশে দেবলের রাজা। আক্রান্ত হয় মুসলিম নারী ও পুরুষেরা, নির্যাতিত হয় বন্দীরা। নিপীড়িতা এক মুসলিম বোন লুকিয়ে চিঠি লিখে পাঠান তখনকার বসরার শাসনকর্তা হাজ্জাজ বিন ইউসুফের বরাবরে। মুসলিম মুজাহিদরা এই অত্যাচারকে মেনে নিবে না এমন আত্মবিশ্বাস থেকে লেখা এই চিঠিটি পৌঁছে যায় বসরায়। রাজা দাহিরের অত্যাচারে অত্যাচারিত মুসলিম বোনের কান্নাজড়ানো চিঠি হাতে পেয়ে মানবতাকে মুক্ত করে ইসলামকে ছড়িয়ে দিতে মুহম্মদ বিন কাসিম সেনাপতি হিসেবে সিন্ধু অভিযানে বের হন। মাত্র ১৭ বছর বয়স, কিন্তু কী ভীষণ তার বীরত্বগাঁথা! ঈমানের তেজোদীপ্ততা তার এবং তার সঙ্গীদের বীরত্বকে হাজারগুণ বাড়িয়ে দিয়েছিলো। তাদের অল্প কিছু মুজাহিদসমৃদ্ধ সেই সেনাদল জাহাজে চড়ে ভারতবর্ষে এসে দেবল, আরোর, ব্রাহ্মণাবাদের যুদ্ধগুলোতে হিন্দু শাসকদের অত্যাচারের বেড়াজালকে ছিন্নভিন্ন করে প্রতিটি যুদ্ধে পরাজিত করেছিলো, মুক্ত করেছিলো সাধারণ মানুষকে, দিয়েছিলো স্বাধীনতা ও মুক্তির স্বাদ।
এই ইতিহাসকে উপন্যাসের আদলে পাওয়া যাবে নসীম হিজাযীর মুহম্মদ বিন কাসিম বইটিতে। অসাধারণ বইটি মিস করা ঠিক না। নসীম হিজাযীর অনবদ্য সাহিত্যগুলোতে ডুব দিয়ে অবগাহন করুন ইতিহাস আর উদ্দীপনার মিলিত স্রোতে।
ঈদের ছুটিতে একটা স্নিগ্ধ দিন ছিলো গতকাল। আমার সারাটা দিন কেটেছে মুহম্মদ বিন কাসিমের সাথে। হাজার বছর আগের ইতিহাস আর তার দৃশ্যপটগুলোতে ডুবে ছিলাম গোটাদিন।
সেই ষষ্ঠ শতকেই ইসলাম এসেছিলো ভারতবর্ষে আরব ব্যবসায়ীদের সাথে। তারা সমুদ্র পেরিয়ে জাহাজে চড়ে এসেছিলো ব্যবসা করতে ঠিকই, কিন্তু তাদের আমল-আখলাক ও সম্পদের বিনিময়ের সৌন্দর্য মুগ্ধ করেছিলো ভারত মহাসাগরের তীরবর্তী বন্দরগুলোর মানুষদের। পরবর্তীতে অনেক মানুষই ইসলাম গ্রহণ করে। আরবদের বহনকারী এমনই বাণিজ্য জাহাজগুলোকে আক্রান্ত করে সিন্ধুরাজ দাহিরের নির্দেশে দেবলের রাজা। আক্রান্ত হয় মুসলিম নারী ও পুরুষেরা, নির্যাতিত হয় বন্দীরা। নিপীড়িতা এক মুসলিম বোন লুকিয়ে চিঠি লিখে পাঠান তখনকার বসরার শাসনকর্তা হাজ্জাজ বিন ইউসুফের বরাবরে। মুসলিম মুজাহিদরা এই অত্যাচারকে মেনে নিবে না এমন আত্মবিশ্বাস থেকে লেখা এই চিঠিটি পৌঁছে যায় বসরায়। রাজা দাহিরের অত্যাচারে অত্যাচারিত মুসলিম বোনের কান্নাজড়ানো চিঠি হাতে পেয়ে মানবতাকে মুক্ত করে ইসলামকে ছড়িয়ে দিতে মুহম্মদ বিন কাসিম সেনাপতি হিসেবে সিন্ধু অভিযানে বের হন। মাত্র ১৭ বছর বয়স, কিন্তু কী ভীষণ তার বীরত্বগাঁথা! ঈমানের তেজোদীপ্ততা তার এবং তার সঙ্গীদের বীরত্বকে হাজারগুণ বাড়িয়ে দিয়েছিলো। তাদের অল্প কিছু মুজাহিদসমৃদ্ধ সেই সেনাদল জাহাজে চড়ে ভারতবর্ষে এসে দেবল, আরোর, ব্রাহ্মণাবাদের যুদ্ধগুলোতে হিন্দু শাসকদের অত্যাচারের বেড়াজালকে ছিন্নভিন্ন করে প্রতিটি যুদ্ধে পরাজিত করেছিলো, মুক্ত করেছিলো সাধারণ মানুষকে, দিয়েছিলো স্বাধীনতা ও মুক্তির স্বাদ।
এই ইতিহাসকে উপন্যাসের আদলে পাওয়া যাবে নসীম হিজাযীর মুহম্মদ বিন কাসিম বইটিতে। অসাধারণ বইটি মিস করা ঠিক না। নসীম হিজাযীর অনবদ্য সাহিত্যগুলোতে ডুব দিয়ে অবগাহন করুন ইতিহাস আর উদ্দীপনার মিলিত স্রোতে।
৩০ জুল, ২০১৪
[গ্রন্থচারণ] বিয়ে - স্বপ্ন থেকে অষ্টপ্রহর : মির্জা ইয়াওয়ার বেইগ
আজকে একটি বইয়ের ব্যাপারে লেখা প্রয়োজন মনে করছি যা এই সমাজে, এই সময়ের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বইটির নাম "বিয়ে : স্বপ্ন থেকে অষ্টপ্রহর" যা লিখেছেন শাইখ মির্জা ইয়াওয়ার বেগ। বিয়ে আমাদের প্রতিটি মানুষের জীবনের স্বপ্ন থাকে, একসময় সেটা আটপৌরে হয়ে যায়। নামকরণের দিক থেকে হিসেব করলে বইটি অসাধারণ হয়েছে এবং নামকরণ সার্থক হয়েছে। একজন মানুষ বিয়েকে স্বপ্ন হিসেবে কেমন করে, কী করে সুন্দর একটি বিয়ের দিকে আগানো যায় এবং বিয়ে যখন জীবনের একটা অংশ হয়ে যায় তখনো যে বিয়েকে নিজেদের উদ্যোগে কীভাবে সুন্দর ও স্বাস্থ্যকর সম্পর্ক হিসেবে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া যায় সেই বিষয়ে আলোকপাত করেছেন। ইসলামী জ্ঞানে ভাস্বর লেখক অল্প কথায় ছোট কলেবরে তার দীর্ঘ জীবনের অভিজ্ঞতার আলোকে দাম্পত্য নিয়ে খুব সুন্দর করে তুলে ধরেছেন এই বইটিতে।
আজকে একটি বইয়ের ব্যাপারে লেখা প্রয়োজন মনে করছি যা এই সমাজে, এই সময়ের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বইটির নাম "বিয়ে : স্বপ্ন থেকে অষ্টপ্রহর" যা লিখেছেন শাইখ মির্জা ইয়াওয়ার বেগ। বিয়ে আমাদের প্রতিটি মানুষের জীবনের স্বপ্ন থাকে, একসময় সেটা আটপৌরে হয়ে যায়। নামকরণের দিক থেকে হিসেব করলে বইটি অসাধারণ হয়েছে এবং নামকরণ সার্থক হয়েছে। একজন মানুষ বিয়েকে স্বপ্ন হিসেবে কেমন করে, কী করে সুন্দর একটি বিয়ের দিকে আগানো যায় এবং বিয়ে যখন জীবনের একটা অংশ হয়ে যায় তখনো যে বিয়েকে নিজেদের উদ্যোগে কীভাবে সুন্দর ও স্বাস্থ্যকর সম্পর্ক হিসেবে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া যায় সেই বিষয়ে আলোকপাত করেছেন। ইসলামী জ্ঞানে ভাস্বর লেখক অল্প কথায় ছোট কলেবরে তার দীর্ঘ জীবনের অভিজ্ঞতার আলোকে দাম্পত্য নিয়ে খুব সুন্দর করে তুলে ধরেছেন এই বইটিতে।
১৬ ফেব, ২০১৪
[গ্রন্থচারণ] আযকারে মাসনূনাহ : ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম
এমন একটা বইয়ের নাম বলবো যা হয়ত কারো জীবন বদলে দিবে। আমার খুব প্রিয়
বইটার কথা বলতে চাইছি, যে বইটি আমার জীবনে একটি ভিন্ন ধরণের কল্যাণময়তার
মাত্রা সৃষ্টি করেছে তা আমি নিঃসন্দেহে ও নিঃসঙ্কোচে বলতে পারি,
আলহামদুলিল্লাহ। আগে কিছু দু'আ জানতাম কুরআন পড়তে পড়তে এবং হাদিস থেকে।
সেগুলোই ঘুরে-ফিরে পড়তাম। একসময় এক ছোট ভাইয়ের কল্যাণে "আযকারে মাসনূনাহ"
বইটি হাতে পেলাম। বেশি বেশি দু'আ করার আগ্রহ ছিলো, তাই হাতে নিয়েও নিলাম।
এরপর আমরা অনেকেই একবারে ৩-৪ কপি করে কিনেছি যেন নিকট বন্ধু ও আত্মীয়দের
হাদিয়াস্বরূপ বইটি দেয়া যায়। বইটা পড়ে জানতে পেরেছি কেমন পরিস্থিতিতে, কোন
বিষয়গুলোতে আমাদের প্রিয় নবী, দুনিয়ার সেরা মানুষ রাসূল (সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কীভাবে কোন কোন দু'আ করেছিলেন।
৯ ফেব, ২০১৪
আপনার অস্থিরতা এবং অশান্তিগুলোর একটি সহজ সমাধান
আমরা কে না অশান্তিতে থাকি? কার হৃদয়টা অস্থির নয়? আমার এটুকু জীবনে আমি স্কুল-কলেজ-ভার্সিটি-অফিসের সর্বত্রই অস্থির মানুষের প্রবল বিচরণ দেখেছি, নিজের কথা তো জানিই। বিষয়টা হলো, এই অস্থিরতা কেন? অশান্তিটা কেন? কীভাবে তার সমাধান করা যেতে পারে তা ভেবে কে কী করলাম সেটা গুরুত্বপূর্ণ।
মাঝে মাঝেই জীবনে পেছন দিকে তাকিয়ে অনুভব করি, এই গোটা জীবনের কত পরিশ্রম - স্কুল, কলেজে কতই না কষ্ট করে সবাই পড়ে। জীবনের ছোট ছোট আচরণগুলো আব্বা-আম্মা শিক্ষা দেন, শিক্ষকরা শেখান। আমরা নিজেদের গড়ি। শার্টের বুকের বোতামটা খোলা না রাখাও শিক্ষা, বড়রা সামনে থাকলে পায়ের উপরে পা তুলে না-বসাও একটা শিক্ষা। কাউকে পানি খেতে এগিয়ে দিলে উপরে ধরতে হয় না, কারণ তিনি যেখানে মুখ দিবেন সেখানে আমার হাত না-লাগা উচিত -- এটাও একটা শিক্ষা। এমন হাজারো শিক্ষা গলাধঃকরণ করে তবু সবাই একসময় কেমন যেন উলটে যায়, জীবনের লক্ষ্য কী জিজ্ঞাসা করলে অন্তঃসারশূণ্য কথা বলে। অনেক পিএইচডি ডিগ্রিধারী মানুষও সম্পূর্ণ মূর্খদের মতন কথা বলে একসময়, কারণ তাদের জীবনটা কোন একটা সময় এমন কিছু লক্ষ্যে গড়তে শুরু করেছিলেন তারা, যা হয়ত কেবলই পৃথিবীর বস্তুগত বিষয়ভিত্তিক, তাতে আমাদের জীবন, এই অন্তর, এই সত্ত্বার অস্তিত্ব, ভবিষ্যত নিয়ে ভাবনার কোন খোরাক ছিলনা। মনগড়া জীবনদর্শন দিয়ে জীবনকে চালিয়ে নেয়া...
আমরা কে না অশান্তিতে থাকি? কার হৃদয়টা অস্থির নয়? আমার এটুকু জীবনে আমি স্কুল-কলেজ-ভার্সিটি-অফিসের সর্বত্রই অস্থির মানুষের প্রবল বিচরণ দেখেছি, নিজের কথা তো জানিই। বিষয়টা হলো, এই অস্থিরতা কেন? অশান্তিটা কেন? কীভাবে তার সমাধান করা যেতে পারে তা ভেবে কে কী করলাম সেটা গুরুত্বপূর্ণ।
মাঝে মাঝেই জীবনে পেছন দিকে তাকিয়ে অনুভব করি, এই গোটা জীবনের কত পরিশ্রম - স্কুল, কলেজে কতই না কষ্ট করে সবাই পড়ে। জীবনের ছোট ছোট আচরণগুলো আব্বা-আম্মা শিক্ষা দেন, শিক্ষকরা শেখান। আমরা নিজেদের গড়ি। শার্টের বুকের বোতামটা খোলা না রাখাও শিক্ষা, বড়রা সামনে থাকলে পায়ের উপরে পা তুলে না-বসাও একটা শিক্ষা। কাউকে পানি খেতে এগিয়ে দিলে উপরে ধরতে হয় না, কারণ তিনি যেখানে মুখ দিবেন সেখানে আমার হাত না-লাগা উচিত -- এটাও একটা শিক্ষা। এমন হাজারো শিক্ষা গলাধঃকরণ করে তবু সবাই একসময় কেমন যেন উলটে যায়, জীবনের লক্ষ্য কী জিজ্ঞাসা করলে অন্তঃসারশূণ্য কথা বলে। অনেক পিএইচডি ডিগ্রিধারী মানুষও সম্পূর্ণ মূর্খদের মতন কথা বলে একসময়, কারণ তাদের জীবনটা কোন একটা সময় এমন কিছু লক্ষ্যে গড়তে শুরু করেছিলেন তারা, যা হয়ত কেবলই পৃথিবীর বস্তুগত বিষয়ভিত্তিক, তাতে আমাদের জীবন, এই অন্তর, এই সত্ত্বার অস্তিত্ব, ভবিষ্যত নিয়ে ভাবনার কোন খোরাক ছিলনা। মনগড়া জীবনদর্শন দিয়ে জীবনকে চালিয়ে নেয়া...
২ ফেব, ২০১৪
[গ্রন্থচারণ] ঈমানী দুর্বলতা : শাইখ সালিহ আল মুনাজ্জিদ
বইয়ের নাম: ঈমানী দুর্বলতা
লেখক : শাইখ মুহাম্মাদ সালিহ আল-মুনাজ্জিদ
মূল্য: ৩০ টাকা (প্রায়) এরকম রত্নের টুকরা টাইপের জিনিস না পড়া একটা বোকামি এবং অনুচিত কাজ। অবশ্যই পড়া উচিত এই বই। ঈমানের ফকিন্নি টাইপের অবস্থা নিয়ে দুনিয়ার ডিগ্রি, টাকা-পয়সা, সম্মান-খ্যাতি, রূপ-সৌন্দর্য, সুখের সংসারের কোনই মূল্য নাই। দুনিয়া পেয়ে আখিরাত হারানোর কোনই মূল্য নেই। আবার, সেই চরম দুর্ভাগা হয়েও লাভ নেই, যারা আখিরাত এবং দুনিয়া উভয়ই হারালো…
বইটিতে উল্লেখ আছে –
অন্তঃকরণের বিষয়টি খুবই স্পর্শকাতর এবং গুরুত্বপূর্ণ। অন্তঃকরণকে আরবিতে কালব (পরিবর্তনশীল) বলা হয়েছে এ কারণেই যে, তা দ্রুত পরিবর্তনশীল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ
“অন্তঃকরণকে কালব বলা হয়েছে বেশি বেশি পরিবর্তন হবার কারণে। অন্তঃকরণের উদাহরণ হলো একটি পাখির পালকের মত যা গাছের ডালে ঝুলানো আছে, বাতাসে সেটিকে এদিকে সেদিকে ঘুরাচ্ছে”। [আহমাদ ৪/৪০৮, সহীহ আল জামে ২৩৬৫]
৪ অক্টো, ২০১৩
জীবনের চক্রগুলো থেকে মুক্তি মিলে কেমন করে?
মনে পড়ে সেই সময়গুলোর কথা, প্রথম চাকুরিতে ঢুকেছি। অসহায় অনভিজ্ঞ যুবকের
কাঁধে অনেক দায়িত্ব। অল্প ক'টা টাকা বেতন পাই, কিছুই হয় না সে টাকায়। বাসের
লাইনে দাঁড়িয়ে থাকি, হাতল ধরে ঝুলতে ঝুলতে যাতায়াত করি, সকালে বেরিয়ে বাড়ি
ফিরি রাতে এশার পরে। চাকুরি জীবনে এসে সপ্তাহের ৬ টি দিনই এই অদ্ভুত চক্রে
বাঁধা পড়ে বারবারই মনে হত -- এই জীবন চাইনা, এই জীবনের অর্থ নেই কোন। ফেলে
আসা ১৬ বছরের পড়াশোনা যথেষ্টই ঠিকমতন করে এলাম, এরপরেও এই অর্থহীন চক্রে
ঘোরার নাম কি জীবন হতে পারে? টাকা টাকা টাকা, ভোগ... অন্যদের বানানো
সিস্টেমে আমি একটা কাঁচামালমাত্র। ওরা যেভাবে সব তৈরি করেছে, এভাবেই জীবনকে
চালিয়ে দিলে কী অর্থ এই প্রাণের? প্রশ্নগুলো ভেতরে গুমরে মরলেও বলার মতন
কেউ ছিলো না। তখনকার ভাবনাগুলোকে এমন গুছিয়ে ছিলো না সেটাও নিশ্চিত।
৯ এপ্রি, ২০১৩
জীবনকে বদলে দিতে প্রয়োজন কেবল একটি উদ্যোগ
আমি মাঝে মাঝে পেছনে ফিরে তাকাই, আমার অতীতে। আর দশজনের মতন সময় অতিক্রমণ হলেও, সাফল্য কম ছিলো না আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলার অশেষ রাহমাতে। যখন থেকে জীবনে ভাবতে শুরু করেছিলাম এত পরিশ্রম আমি করে আসলে কী অর্জন করব, কেন এই পৃথিবীতে এলাম, কেন আমার জীবন একজন আমেরিকানের জীবন থেকে কম সুবিধাসম্পন্ন হবে (তখন আমি ভাবতাম আমি আম্রিকায় জন্মাইলে অনেক কিছু করে ফেলতাম একাডেমিক্যালি) এরকম শত-শত প্রশ্ন। আমি অনেকগুলো বছর একটা অদ্ভুত যন্ত্রণার মাঝে অব্যক্ত প্রশ্ন নিয়ে হাবুডুবু খেয়েছি, কাউকে বলা সম্ভব হয়নি/বলে লাভ হয়নি কারণ তেমন কাউকে পেতাম না যাদের এইসব প্রশ্নের উত্তর নিয়ে মাথ্যাব্যথা আছে। কেন যেন মনে হয়, বেশিরভাগ মানুষই জানেনা সে কেন জীবন কাটাচ্ছে পৃথিবীতে। সে একটা ফোন না থাকায়, ভার্সিটিতে ভর্তি হতে না পারায় মন খারাপ করে, অথচ সে যদি আজ থেকে ২০০ বছর আগে জন্ম নিত, তখন কি এই বিষয়গুলোতে মন খারাপ হত? কী অদ্ভুত না? এই জিনিসটা তবু কেন আমাদের এত মর্মবেদনার কারণ হবে? কোথা থেকে এলাম, কোথায় যাব, কে আমাকে সৃষ্টি করেছেন -- এসব উত্তর যা-তা ভাবে যার-তার কাছ থেকে পাওয়া অস্বাস্থ্যকর, সে আমার বিচিত্র অভিজ্ঞতা এই জীবনের। রীতিমতন আতঙ্ক লাগে যেখানে সেখানে 'ক্রিটিক্যাল' বিষয়ের কিছু শিখতে গেলে! তবে, অভিজ্ঞতা ও জীবনকে উপলব্ধি করতে আমি সবখান থেকে শিখতে রাজি।
২৯ জানু, ২০১৩
আলাপন : কুরআনকে বুঝতে হবে যেই উপায়ে
বয়ঃসন্ধিকালের সেই কিশোর সময়ের মতন মিটমিট করে হাসি, আবার খানিক পরে ভেউ ভেউ করে কাঁদি। কেউ খেয়াল করে দেখলে হয়ত আমাকে পাগলই ঠাওরাবে। অথচ আমার মনে হচ্ছিলো, কুরআনের আলোচনা কেমন করে জীবনকে পালটে দেয়! সকালে আলোচনা শুনতে শুনতে ভাবছিলাম -- তারুণ্যের সময়টায় ভেসে যেতে যেতে কখনো বুকের পুরোটা জুড়ে প্রশান্তির এই বাতাস আবার কখনো অনুভব করতে পারব। বাসে চড়ে জানালার পাশে বসে এয়ারপোর্ট রোড পার হবার সময় হেডফোনে বক্তার কাছে অর্ধপৃথিবীর শাসক উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু এর জীবনের কান্নাকাটির ঘটনা শুনে ভেজা চোখ মুছতে গিয়ে আমার লজ্জা আর সংকোচটুকু চলে গেল।
৫ জানু, ২০১৩
স্বপ্নচারণ গ্রন্থচারণ
ঘরের যেই ছোট্ট কোণে আমার বসবাস, তার একহাত দুরত্বে সাজানো আমার রত্নভান্ডারের একাংশ। আলোকিত মানুষদের কাছ থেকে এখনো তেমন কিছু নিতে পারিনি জীবনে... চেষ্টায় আছি!
♥ "... হে আমার পালনকর্তা, আমার জ্ঞান বৃদ্ধি করুন।"♥
-- [সূরা আত ত্বা-হা : ১১৪]
আমরা তো প্রার্থনা করতে শিখেছি মুসা আলাইহিস সালামের মতন করে :
♥ ".. হে আমার পালনকর্তা আমার বক্ষ প্রশস্ত করে দিন। এবং আমার কাজ সহজ করে দিন। এবং আমার জিহবা থেকে জড়তা দূর করে দিন।" ♥
-- [সূরা আত ত্বা-হা : ২৫-২৭]
#স্বপ্নচারণ #গ্রন্থচারণ
♥ "... হে আমার পালনকর্তা, আমার জ্ঞান বৃদ্ধি করুন।"♥
-- [সূরা আত ত্বা-হা : ১১৪]
আমরা তো প্রার্থনা করতে শিখেছি মুসা আলাইহিস সালামের মতন করে :
♥ ".. হে আমার পালনকর্তা আমার বক্ষ প্রশস্ত করে দিন। এবং আমার কাজ সহজ করে দিন। এবং আমার জিহবা থেকে জড়তা দূর করে দিন।" ♥
-- [সূরা আত ত্বা-হা : ২৫-২৭]
#স্বপ্নচারণ #গ্রন্থচারণ
১৮ ডিসে, ২০১২
৫ ডিসে, ২০১২
একটি বন্ধু এবং একটি বইয়ের কথা
আমাদের একটা বন্ধুসার্কেল ছিলো, বহুমাত্রিক। আমাদেরই ফ্রেন্ড সার্কেলে এক
বন্ধুর আন্তর্জাতিকভাবে পেটেন্ট পাওয়া রিসার্চ আছে, পিএইচডি প্রায় শেষ করে
ফেললো। দুই হাতের আঙ্গুল দিয়ে গুণে বিশ্বের নামকরা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়া
ছেলেদের হিসেব করতে হবে। কিন্তু অসাধারণ প্রতিভার এতজনের কাউকেই আমার তেমন
একটা হিংসে হত না সেই স্কুলজীবন থেকেই। আজকেও হয়না। অবশ্য এখন জানি,
কেবলমাত্র দ্বীনের জ্ঞানে এগিয়ে থাকা এবং দানশীলতায় এগিয়ে থাকা মানুষদের
ছাড়া কাউকে হিংসা করার নিষেধ। তাই এখন দুনিয়ার বিভিন্ন কাজে এগিয়ে থাকা
মানুষদের প্রতি এমন হিংসাকে প্রশ্রয় দেবার প্রশ্নই উঠেনা।
১৩ নভে, ২০১২
ইমাম গাজ্জালীর বই বিদায়াতুল হিদায়াহ-এর উপরে অডিও লেকচার
'হুজ্জাতুল ইসলাম' নামে পরিচিত ইমাম গাজ্জালী (রহিমাহুল্লাহ) আমার কাছে খুব আকর্ষণীয় মানুষ ছিলেন স্কুল জীবন থেকে যখন স্কুলের ইসলাম শিক্ষা স্যার বিভিন্ন আলোচনায় মুগ্ধ হয়ে উনার ব্যাপারে বলেছিলেন। এই আগ্রহটা চাপা পড়ে গিয়েছিল 'কিমিয়ায়ে সা'আদাত' বইটা পড়তে গিয়ে। একদিন বইটা থেকে খাওয়ার আদব অনুচ্ছেদটা পড়ার পর ওই সময়েই খুব চিন্তিত হয়ে গিয়েছিলাম নিজেকে নিয়ে। খাওয়ার মতন একটা কাজে কত যে সূক্ষ্ম বিষয় মিশে আছে তা বুঝে এবং নিজের সীমাবদ্ধতা বুঝে দমে গিয়েছিলাম!
এরপর আধযুগের বেশি সময় পেরিয়ে যাবার পর ক'দিন আগে আবার ইমাম গাজ্জালীকে পড়তে চেয়েছি একটা বিশেষ বিষয়ে জানতে গিয়ে। আমি ইসলামের অপ্রাতিষ্ঠানিক ছাত্র হিসেবে সম্ভাব্য অনেক জায়গাতে একটা বিষয় নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি করেও সন্তুষ্ট হতে না পেরে শেষ জায়গা হিসেবে ইমাম গাজ্জালির বই খুঁজলাম। আলহামদুলিল্লাহ এইবার কিমিয়ায়ে সা'আদাত বইটার একটা নির্দিষ্ট অনুচ্ছেদ আবারো অনেক কিছু শেখালো। অনেক গভীর আর আমার প্রশ্নের উত্তর পেলাম।
অনেক উৎসাহী হয়ে ইমাম গাজ্জালির বই কিনতে গেলাম কাঁটাবনে। কিন্তু এহইয়াউ উলুম আদ-দ্বীন বইটা হাতে নিয়ে দেখলাম অনেক বিশাল ভলিউম, আর তার অনুবাদ পড়ে আগ্রহ হারিয়েই গেলো। যদিও পাঠকদের অনেকের কাছে অনুবাদটা মাওলানা মুহিউদ্দিন খানের অনুবাদটি পছন্দের যা ৫টি খন্ডে সমাপ্ত হয়েছে। সেই বই পড়ার সময়, সাহস আর আগ্রহ কোনটাই আর না থাকায় বিরসমুখে বাসায় ফিরলাম খালিহাতে। লম্বা পথের যাওয়া আর আসার একই রকম হলে মনটা বদলে গেলো... কিছু পজিটিভ, কিছু নেগেটিভ।
এরপর আধযুগের বেশি সময় পেরিয়ে যাবার পর ক'দিন আগে আবার ইমাম গাজ্জালীকে পড়তে চেয়েছি একটা বিশেষ বিষয়ে জানতে গিয়ে। আমি ইসলামের অপ্রাতিষ্ঠানিক ছাত্র হিসেবে সম্ভাব্য অনেক জায়গাতে একটা বিষয় নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি করেও সন্তুষ্ট হতে না পেরে শেষ জায়গা হিসেবে ইমাম গাজ্জালির বই খুঁজলাম। আলহামদুলিল্লাহ এইবার কিমিয়ায়ে সা'আদাত বইটার একটা নির্দিষ্ট অনুচ্ছেদ আবারো অনেক কিছু শেখালো। অনেক গভীর আর আমার প্রশ্নের উত্তর পেলাম।
অনেক উৎসাহী হয়ে ইমাম গাজ্জালির বই কিনতে গেলাম কাঁটাবনে। কিন্তু এহইয়াউ উলুম আদ-দ্বীন বইটা হাতে নিয়ে দেখলাম অনেক বিশাল ভলিউম, আর তার অনুবাদ পড়ে আগ্রহ হারিয়েই গেলো। যদিও পাঠকদের অনেকের কাছে অনুবাদটা মাওলানা মুহিউদ্দিন খানের অনুবাদটি পছন্দের যা ৫টি খন্ডে সমাপ্ত হয়েছে। সেই বই পড়ার সময়, সাহস আর আগ্রহ কোনটাই আর না থাকায় বিরসমুখে বাসায় ফিরলাম খালিহাতে। লম্বা পথের যাওয়া আর আসার একই রকম হলে মনটা বদলে গেলো... কিছু পজিটিভ, কিছু নেগেটিভ।
৩১ অক্টো, ২০১২
অনন্য গ্রন্থ রিয়াদুস সলিহীন পড়াশোনা
রিয়াদুস সলিহীন গ্রন্থটি ইমাম নববী (রহিমাহুল্লাহ) এর সংকলন। এই মানুষটা মাত্র ৪৫ বছর বেঁচে ছিলেন, ভাবলে শ্রদ্ধায় বুক আর্দ্র হয়ে আসে। তার এই মহতী গ্রন্থটি সমগ্র বিশ্বের স্কলারদের কাছেই সমাদৃত।
আমি ডক্টর বিলাল ফিলিপস, ইমাম সুহাইব ওয়েবকে দেখেছি এই বইটি থেকে শিখতে উৎসাহিত করেছেন। এই গ্রন্থে ইমাম নববী বিষয়বভিত্তিক কুরআনের আয়াত এবং হাদিস একসাথে করেছেন। এই বিষয়গুলো এতই সুন্দর করে সাজানো যে হাদিস এবং কুরআনের বিশাল জগতে কোথা থেকে কী পড়বো এই টেনশনে পড়তে হয়না। বরং আমাদের তরুণ প্রজন্মকে সুন্দর একটা নির্দেশনা দিবে এই গ্রন্থ। কেবল হাতে নেয়াই আসল কাজ।
২ অক্টো, ২০১২
[গ্রন্থচারণ] কুরআন অধ্যয়ন সহায়িকা : খুররম মুরাদ
ওস্তাদ খুররম মুরাদের লেখা 'Way To Quran' বইটার বাংলা অনুবাদ আমি সেদিন দোকানে পেয়ে চোখ বন্ধ করে খামচে ধরে কিনে ফেলেছি! বইটার নাম 'কুরআন অধ্যয়ন সহায়িকা'। এরকম রত্ন টাইপের জিনিসের দাম এত কম! বইটা হাতে নিয়ে বুক কেমন টলমল করে উঠেছিল। যেদিন ইংরেজিতে বইটা পড়তে শুরু করেছিলাম, অল্প ক'পৃষ্ঠা পড়ে বারবার মনে হচ্ছিল, আমি যদি অনুবাদ করে সবাইকে পড়তে দিতাম, সবার কতইনা উপকার হত!! এই বইটা উনি কুরআন পড়ার ব্যাপারে যারা শিক্ষানবীস, কোথায় কেমন করে পড়লে বেশি উপকৃত হওয়া যেতে পারে, তাদের জন্য কিছু দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। অনেকটা আমার মতন ছেলেপিলেদের জন্য। বাংলা অনুবাদটাও বেশ সুন্দর লাগলো পড়ে। কুরআন ছাড়া জীবনে কোন কিছুই ঠিকমতন করতে পারবনা আমরা, পারিনা, হয়না। এত সুন্দর এই মহান গ্রন্থটিকে কত অবহেলাতেই না আমরা ফেলে রাখি।
ইনশাআল্লাহ এই বইটি আমাদের উপকারে আসবে সবারই। দারুণ এই বইটার লিঙ্কঃ
- ইংরেজি ওয়েব লিঙ্ক - http://www.scar.utoronto.ca/%7Emsa/text/
- ইংরেজি পিডিএফ লিঙ্ক - https://www.box.com/s/3b8a83bd1a5b3df161f1
- বাংলা পিডিএফ ডাউনলোড লিঙ্ক : http://www.mediafire.com/?lts6tg2oj4nx0c2
ওস্তাদ খুররম মুরাদ কুরআন নিয়ে আমাদের জন্যই হয়ত বলেছিলেন সুন্দর একটা কথা:
"কেউ যদি কুরআনের শরণাপন্ন হওয়া সত্ত্বেও অন্তরে সংস্পর্শ না লাগে, হৃদয় আলোড়িত না হয়, জীবন অপরিবর্তিত থেকে যায়, খালি হাতে ফিরেন, যেভাবে এসেছিলেন ঠিক সেভাবেই প্রত্যাবর্তন করেন, তাহলে তার চেয়ে মর্মান্তিক দুর্ভাগ্য আর কি হতে পারে?"
আল্লাহ যেন আমাদের দুর্ভাগাদের দলে না ফেলেন। আল্লাহ যেন তার এই গ্রন্থটিকে বুকে রেখে তার উপর আমল করে তার সন্তুষ্টি অর্জনপূর্বক দুনিয়া থেকে আমাদের নিয়ে যান তার কাছে। নিঃসন্দেহে আমরা সবাই আল্লাহরই এবং আমাদেরকে তার কাছেই ফিরে যেতে হবে...
* * * *
বইটি সম্পর্কে কিছু প্রয়োজনীয় তথ্য
বইয়ের নাম: কুরআন অধ্যয়ন সহায়িকা
লেখক: খুররম মুরাদ
সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য: ৬৫ টাকা
প্রকাশক: বাংলাদেশ ইসলামিক সেন্টার।
১৭ অক্টো, ২০১১
আমাদের লেখালেখি, সাহিত্য এবং শেষ নিয়ে কথা
শীর্ষেন্দুর বইয়ের প্রতি আমার একটা বিশেষ দুর্বলতা ছিলো -- সেটা পার্থিব পড়ে খুব বেশি মনে হয়েছিলো। ভাবনার গভীরে, চরিত্রগুলোর প্রতিটির চিন্তাধারাকে পাঠক হিসেবে এক্সপ্লোর করার ব্যাপারটা অত্যন্ত আনন্দের সাথে উপভোগ করতাম। চয়নের অনুভূতিগুলো যেন বুঝতে পারতাম, হেমাঙ্গের কথাও মনে হয় আজো। কী যেন নাম ছিলো মেয়েটার ঝিমলি নাকি অঞ্জলী আর একটা প্রবাসী মেয়েটা -- তাদের চরিত্রের স্বরূপগুলো অনুভব করতে পেরেছিলাম এটা মনে আছে। প্রায় বছর দশেক আগের স্মৃতি হিসবেও এই স্মৃতিচারণ মন্দ হলোনা!
এতে সদস্যতা:
পোস্টগুলি (Atom)
















