shahitto লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
shahitto লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

২৪ ডিসে, ২০১৫

এবার তবে নিশ্চুপ থাকা হোক

 

প্রতিটি মানুষের জীবনই কষ্টের। এমনকি যে অপরাধ করতে করতে নিজেকে জুলুম করছে, সে-ও তার অপরাধবোধ, গ্লানি ঢাকতে অন্য কিছু করে নিজেকে ব্যস্ত রাখে। অথচ রোগে যখন সে ভুগতে থাকে, অথবা যখন মরে যায়, তাকে কাফনের কাপড়ে পেঁচিয়ে মাটির নিচে রেখে আসা হয়। যুগে যুগে শত-শত ক্ষমতালোভী শাসকগুলো এভাবেই বিদায় নিয়েছে। এরপর, একসময় তারা হয়েছে ইতিহাসে বিলীন। কেউ জানেনা, খোঁজ রাখেনা।

ভাবলে কেমন অদ্ভুত লাগে, না? যে মানুষটি হয়ত পৃথিবীর কোনো একটি কোণে, এই যেমন ইয়েমেনে কিংবা সিরিয়ায় আজ একটা পথচারী কিশোর হেঁটে চলতে গিয়ে বোমার আঘাতে মরেই গেলো। কেন মরলো, কে মারলো-- বুঝলোই না। আবার হয়ত হেবরনে, পশ্চিম তীরে অথবা কাশ্মীরে দখলদারী আর্মির হাতে একটা কিশোর হয়ত বন্দী হলো যখন, তখন তার বয়েসি পশ্চিমা ছেলেগুলো পার্টি করে, নাইটক্লাবিং করে কোমর দোলাচ্ছে। বন্দী ছেলেটি অপরাধ সে বুঝলোও না, তাকে গরম পানিতে পুড়িয়ে, বেয়নেটে খুঁচিয়ে মেরে ফেলা হলো। লাশটাও ফেরত গেলো না। কিশোরের মা আহাজারি করে বাকিটা জীবন পার করবে। অথবা হয়ত সেই অভাগী মা একদিন নিজেই গুলি খেয়ে মরে যাবেন।

জীবন-মৃত্যুর এই খেলা যখন চলছে, তখনই কেউ আবেগঘন প্রেম করছে, কেউ ঝগড়া করছে, কেউ ঠকাচ্ছে, কেউ বার্থডে কেক কাটছে। সবকিছুরই সাক্ষী থাকছে অনেকগুলো রূহ, অনেকজন ইনসানের। তখনই আকাশে হয়ত আলোচ্ছটা জ্বললো উল্কাপিন্ডের। ফুল ফুটছে বাগানে, একজন গার্ডেনার বছর ধরে বসে ছিলেন নাইটকুইনকে ফুটতে দেখবেন বলে। একদল ডলফিন ঝুপ করে লাফ দিলো। পৃথিবীময় সৌন্দর্যের এই নিপুণ বাগানে কত ঘটনা! কত সৃষ্টি, কত প্রেম, কত ভালোবাসা চারপাশে। তবুও নিষ্ঠুর মানুষগুলোই হত্যা করে, কী পেতে চায় কে জানে? হিংসায় জ্বলে-পুড়ে নিজেই ডুবে যায় অনল দহনে।

এত অনুভূতি ধারণ করতে পারে কি কোনো অন্তর? আমাদের হৃদয়ের মাঝেই তো আকাশের মতন বিশালতা আছে, তবু কি পারি এই পৃথিবীর বৈচিত্র্যকে অনুভূতিতে ধারণ করতে? তীব্রতম কষ্টের মূহুর্তগুলো কোনো সাহিত্যে থাকে না, কেউ লিখতে পারে না। তেমনি সর্বোচ্চ আনন্দের মূহুর্তও পাওয়া যায় না কোথাও। মানুষ পারেনা সুন্দর কিংবা কষ্টকে শব্দে ধারণ করতে।

বাকি সবই খুব অগভীর, প্রদর্শনী কেবল। অগভীর অনুভূতিহীনতায় সবাই ভেসে যায়। অবাক পৃথিবীতে অনেকেই লিখতে চেয়েছে, একসময় হয়ত শ্রান্ত হয়ে নিশ্চুপ হয়ে যেতে চেয়েছে। পারবে না বলে ছেড়ে দিতে চেয়েছে কেউ কেউ।

যিনি বানিয়েছেন সব, সমস্ত সুন্দর-অসুন্দর,ভালো-মন্দগুলো নিয়ে তিনিই বলা উত্তম। থাকুক তবে সকল শব্দ। এবার তবে নিশ্চুপ থাকা হোক।

**************
৩০ নভেম্বর, ২০১৫
সন্ধ্যা ৬-১৫ মিনিট

১১ আগ, ২০১৫

স্মৃতিময় স্মৃতিকাতরতা


তখন সন্ধ্যাবেলা
আঁধার ঘনিয়ে আসছিলো ক্রমেই। সারাটি দিন ছিলো বৃষ্টির বর্ষণ। শুধু যে বর্ষার বর্ষণ তা নয়, উত্তাল সমুদ্রের নিম্নচাপের প্রভাবও বটে। অপেক্ষাকৃত অচেনা পথে আনমনে হাঁটছিলাম, সামনের ভেজা পিচঢালা রাস্তা আর সন্ধ্যার আকাশ যেন মিশে গেছে চোখের সামনেই। হঠাৎ মাগরিবের আজান শুরু হলো কাছেই কোথাও। সুমধুর আজানের ধ্বনি, ঢাকায় এমন সুমধুর আজান সচরাচর কানে আসে না। উত্তর দিতে শুরু করতেই একটু পরেই কানে এলো আরেকটা কোথাও আজান শুরু হবার ধ্বনি। সহসাই মনে হলো, এরপর কোন মুফতি সাহেবের সাক্ষাৎ পেলে জেনে নিতে হবে এতগুলো মসজিদে আজান হলে কি একটার উত্তর দিলেই চলবে কিনা। পরে আবার মনে হলো, সেটাই তো হবার কথা, হয়ত কখনো শুনেছিলামও এমন মাস'আলা, কেন যেন স্পষ্ট মনে নেই এখন!

৬ মে, ২০১৫

এত কিছু পড়ি ফেসবুকে আর ওয়েবসাইটগুলোতে প্রতিদিন, উপকার কতটুকু?

​এই যে এত শত-শত শব্দ ফেসবুকের নিউজ-ফিড জুড়ে, এত সহজলভ্য কি বাংলা শব্দেরা আগে কখনো ছিলো? ছিলো না। শুধু বাংলা নয়, পৃথিবীতেই শব্দেরা কখনো এতটা সহজলভ্য, এতটা সস্তা ছিলো না। কত লেখক এখন, কত আবেগ এখন! আবেগ প্রকাশ হয় ইমোটিকন দিয়ে। 'কোলন ডি' চেপে দেয়া মানুষরা বেশিরভাগ সময়েই দাঁত বের করে হাসা দূরে থাক, মুচকিও হাসে না। আবেগের স্ফূরণ কি এতই সহজ?

৬ নভে, ২০১৪

চলে যাওয়া মানে এক অদ্ভুত জগতে পদার্পণ

​জানি একদম সবকিছু ছেড়ে চলে যাবো একদিন। বিদায়টা সাহিত্যের শব্দালংকারের ঝংকারে মাতানো মিষ্টি কোন অনুভূতির মতন মতন না। বিদায়টার সাথে আমার শীতের ঘাসের উপরের স্নিগ্ধ শিশির কিংবা পূর্ণিমা রাতের জোছনার বৃষ্টিতে ভিজে যাওয়ার মতন না। বিদায়টা কঠিন, অনেক কঠিন। ইদানিং একে-একে বিদায় নেয়া অনেকের মৃত্যুর কথা শুনে শ্বদন্ত বের করে কথা বলা মানুষগুলোর নির্বিকারতা দেখে মাঝে মাঝে বিষ্ময়ের মাঝে হারিয়ে যাই; শীতল শিহরণ বয়ে চলে আমার শরীর জুড়ে, মেরুদন্ড বেয়ে। মৃত্যুকে আমি ভয় করি। ভয়হীন এই মানুষগুলো কি মৃত্যুর পরবর্তী জীবন নিয়ে কি খুবই আত্মবিশ্বাসী? নাকি তাদের কাছে সেগুলো মূল্যহীন? নাকি তারা চিন্তা করতেও অনাগ্রহী এবং বেখবর? জানিনা আমি...

২০ অক্টো, ২০১৪

তরুণ কবির কাছে লেখা চিঠি : রেইনার মারিয়া রিলকা


​​​এই পোস্টের কথাগুলো বিখ্যাত ঔপন্যাসিক রেইনার মারিয়া রিলকার লেখা 'লেটার্স টু আ ইয়াং পোয়েট' নামক গ্রন্থটি থেকে বেছে নেয়া কিছু অংশমাত্র। পুরো চিঠিটি পড়তে চাইলে ক্লিক করুন এখানে। অনুবাদ করেছি আমি, মাঝে মাঝে কথাগুলো পড়তে বেশ লাগে! 

জীবনের যেসব বিষয় নিয়ে হিসাব-নিকাশ মেলেনি, সেগুলোর ব্যাপারে ধৈর্য ধরুন। সেই উত্তর-না-পাওয়া প্রশ্নগুলোকেই ভালোবাসতে চেষ্টা করুন, যেমন করে আপনি গ্রহণ করে থাকেন বন্ধ দরজার একটি ঘর অথবা ভিনদেশি ভাষায় লেখা কোন একটা বই। এখনই সব উত্তর খুঁজতে ব্যস্ত হবেন না। আপনাকে সেই প্রশ্নগুলোর উত্তর এখন দেয়া হবে না কেননা সেসব জেনে আপনি ঠিকভাবে বাঁচতে পারবেন না। তাছাড়া, এই বিষয়গুলো হলো অভিজ্ঞতার পথ দিয়ে যাওয়া। জীবনের এই দিনগুলোতে আপনার এই প্রশ্নগুলো বুকে নিয়েই বাঁচতে হবে। হয়ত, সময়ের সাথে কোন একদিন, আপনি নিজের অজান্তেই ধীরে ধীরে প্রশ্নগুলোর উত্তর জেনে যাবেন।
~রেইনার মারিয়া রিলকা [লেটার্স টু আ ইয়াং পোয়েট]

* * * * * *
নিজের বেড়ে ওঠার গোটা সময়টাতে তুমি ধীরস্থিরভাবে এবং সতর্কভাবে বেড়ে ওঠো। যখন কেবল সম্ভবত নিজের ভেতরের গভীরতম অনুভূতিগুলো তোমাকে তোমার প্রশ্নের উত্তর দিতে পারে তখন অন্যদের দিকে তাকিয়ে এবং অন্য কোথাও থেকে উত্তর খোঁজার মাঝে নিজের বেড়ে ওঠার ক্ষেত্রে চরম ক্ষতি মনে হয় আর হতে পারে না।
~রেইনার মারিয়া রিলকা [লেটার্স টু আ ইয়াং পোয়েট]

* * * * * *
অতএব প্রিয় বন্ধু আমার, যদি কখনো এমন দুঃখ-কষ্ট এসে তোমাকে জর্জরিত করে ফেলে যারা তোমার গোটা জীবনে পাওয়া কষ্টগুলোর চেয়েও বড়, যা তোমার সমস্ত কাজের উপরে কষ্টের ছায়া বিছিয়ে দেয়, কখনো ভীত হয়ে যেয়ো না। তোমাকে অবশ্যই ভাবতে হবে যে তোমার ভেতরে কিছু ঘটে চলেছে; মনে রেখো জীবন তোমায় ভুলে যায়নি; সে তোমাকে তার হাতে আঁকড়ে ধরেছে এবং তোমাকে পড়ে যেতে দেবে না। তুমি কেন তোমার জীবন থেকে অস্বস্তি, অশান্তি, ব্যথা, বিষণ্ণতাকে দূর করে দিতে চাইবে যখন তুমি জানই না তারা এসে তোমারই ভেতরে কী দারুণ সব অর্জনকে পূর্ণ করে চলেছে?
-- রেইনার মারিয়া রিলকা ['লেটার্স টু আ ইয়াং পোয়েট' বই থেকে অনূদিত]

* * * * * *
যারা আপনাকে সাধারণ কিছু স্নিগ্ধ ও শান্ত কথা বলে একটুখানি স্বস্তি এনে দিতে চেষ্টা করেন, তাদের দেখে  এমনটা ভেবে বসবেন না যে তাদের জীবনটা যন্ত্রণাবিহীন। তার জীবনেও দুঃখ-কষ্ট এবং যন্ত্রণা থাকতে পারে যা হয়ত আপনার চাইতেও বেশি। যদি তেমনটা না-ই হতো, তাহলে তিনি এমন কিছু শব্দ কখনো খুঁজে পেতেন না।
~রেইনার মারিয়া রিলকা [লেটার্স টু আ ইয়াং পোয়েট]

* * * * * *
এমন এক ভালোবাসাতে বিশ্বাস করুন যা আপনার জন্য জমা আছে যেমন থাকে উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া সম্পদ। দৃঢ় বিশ্বাস রাখুন সেই ভালোবাসার মাঝে এমন সুবিশাল শক্তি আর আশীর্বাদ আছে যার মাঝে আপনি যত ইচ্ছা তত ঘুরে বেড়াতে পারবেন এবং সেই ভালোবাসার বৃত্ত থেকে বাইরে পা দেয়ার দরকারই আপনার হবে না। [রেইনার মারিয়া রিলকার উদ্ধৃতি অনুসরণে]

* * * * * *
কোন মানুষের সাথে আপনার সর্বশেষ কথোপকথন যা হয়েছিলো, তিনি কেবলই সেই মানুষটি নন। বরং, প্রকৃতপক্ষে আপনার সাথে তার গোটা সম্পর্কটি জুড়ে তিনি আপনার সাথে যেমন ছিলেন সেটিই তিনি।~রেইনার মারিয়া রিলকা

* * * * * *
আপনার প্রতিদিনের জীবন যদি খুব সেকেলে ও আনন্দহীন হয়, তাহলে দিনকে দোষ দিবেন না, বরং নিজেকে দোষারোপ করুন। নিজেকে বলুন যে আপনি এমন ভালো  একজন কবি নন যে দিনের ঐশ্বর্য থেকে কিছু পরিমাণ বের করে নিয়ে আসতে পারে। স্মরণ রাখবেন, স্রষ্টার কাছে অভাব বলতে কিছু নেই, যেমন নেই কোন আনন্দহীন জায়গা।
-- রেইনার মারিয়া রিলকা [লেটার্স টু আ ইয়াং পোয়েট]

* * * * * *
আমার কাছে দু'জন মানুষের সম্পর্কের বন্ধন ভালো রাখার জন্য যে জিনিসটা সবচেয়ে বড় কাজ বলে মনে হয় তা হলো: পরস্পরের নির্জনতার একাকীত্বের হাত থেকে পরস্পরকে আগলে রাখা।
~ রেইনার মারিয়া রিলকা [লেটার্স টু আ ইয়াং পোয়েট]

* * * * * *
একটা উত্তম বিয়ে সেটাই যেখানে দু'জন তাদের পরস্পরকে নিজ নিজ একাকীত্বের অভিভাবক বানিয়ে দেয়। ~ রেইনার মারিয়া রিলকা [লেটার্স টু আ ইয়াং পোয়েট]

* * * * * *
খেয়াল রাখুন কোন কিছুর স্রেফ বাইরের আবরণ যেন আপনাকে বিভ্রান্ত না করে।
~ রেইনার মারিয়া রিলকা [লেটার্স টু আ ইয়াং পোয়েট]

* * * * * *
জীবনে যা ঘটেছে তা থেকে খুব দ্রুত কোন সিদ্ধান্ত নিতে যেয়োনা, স্রেফ পেরিয়ে যেতে দাও সময়টাকে। তা না হলে অতীতকে অভিযোগের চোখে দেখাটা খুব সহজ হয়ে যাবে। অথচ তোমার বর্তমানে তুমি যা কিছুর সাথে পরিচিত হয়ে চলেছ, তারা খুব স্বাভাবিকভাবে এই অতীতের সাথে সম্পর্কিত।
~রেইনার মারিয়া রিলকা [লেটার্স টু আ ইয়াং পোয়েট]

* * * *
কোন মানুষের সাথে আপনার সর্বশেষ কথোপকথন যা হয়েছিলো, তিনি কেবলই সেই মানুষটি নন। বরং, প্রকৃতপক্ষে আপনার সাথে তার গোটা সম্পর্কটি জুড়ে তিনি আপনার সাথে যেমন ছিলেন সেটিই তিনি।~রেইনার মারিয়া রিলকা

১১ আগ, ২০১৪

সুখ কোথায়?

​একদম সুনসান নিরবতা মনে হয় ঢাকা শহরে হয়ে ওঠে না। তিলোত্তমা নগরীতে​ সবসময়েই​ অনেক লোকের আনাগোনা চলতেই থাকে। একটু জায়গা পেলেই যেন মাটি ফুঁড়ে জেগে উঠে ডেভেলপার কোম্পানির নতুন প্রজেক্ট। নতুন অ্যাপার্টমেন্টগুলোতে নতুন কিছু সংসার --নতুন দম্পতি, পুরোনো দম্পতি, ব্যাচেলর। ​যেকোন এক ​নির্ঘুম রাতে জেগে উঠে আলো-আঁধারির মাঝে জানালা দিয়ে, বারান্দা দিয়ে বাইরে উঁকি দিলেই অন্য কাউকে পাওয়া যায় দূরে কোথাও -- এক টুকরো মোবাইলের আলোতে জেগে থাকা কিশোর, কিশোরী। অথবা হয়ত কোন তরুণ বা তরুণী। এভাবেই অপচয় হয় কৈশোরের, তারুণ্যের।

১১ মার্চ, ২০১২

স্বাপ্নিক কথন

একটা ফুলের নাম বলো
-- গোলাপ, সাদা গোলাপ।
একটা পাখির নাম বলো, যার রঙ ভালো লাগে
-- ফিঙ্গে, কী কোমল রঙ তার !
একটা সবুজতার নাম বলো
-- পদ্মপাতা
আকাশ ভালো লাগে তোমার?
-- ভীষণ ! যখন মেঘগুলো ছুটে ছুটে যায়
তুমি না অপেক্ষায় আছ?
-- হুমম! সেই-ই তো!


কষ্ট পেলে কী ভাবো?
-- এ আমার পরীক্ষা। ধৈর্য্যশীলদের সাথে তিনি থাকেন, তাই ধৈর্য্যকে ধারণ করতে চাই।
হঠাৎ অশান্তি লাগে না বুকে?
-- লাগে তো ! প্রায়ই লাগে।
তখন কী করো তুমি?
-- এই তুমি জানো না বুঝি? তার স্মরণেই তো আত্মা শান্তি পায়। প্রিয় বইটার ১৩ : ২০ দেখে নিয়ো আরেকবার। স্মরণ করতে থাকি।
মাশাআল্লাহ! তুমি রাতের নির্জনতা পছন্দ করো?
-- উমম... শেষ রাতেরটা! অযু করে মনটা একাগ্র করে পাই।

তোমার উপরে অনেক চাপ পড়লে, দিশেহারা হয়ে যাও না?
-- একটু তো লাগেই! কিন্তু আমি তো জানি সাধ্যের অতিরিক্ত কিছু চাপানো হয়নি। চেষ্টা করতে থাকি তাঁর কাছে প্রার্থনা করতে করতে
বৃষ্টি ভালো লাগে?
-- বৃষ্টি শেষে গাছের ডালে ঝাঁকি দিয়ে দেখেছো? পানি ঝরে পড়ে কীভাবে!
বাহ! তুমি কি পিচ্চিদের ভালোবাসো?
-- ভীষণ! ওদের সাথে মিশে গিয়ে নিস্পাপ জীবনটাকে অনুভব করতে চাই।
সুবহানাল্লাহ! আচ্ছা, তুমি স্বপ্ন দেখো?
-- দেখিনা আবার? মা-বাবা আর তোমার হাত ধরে সাথে আমাদের পিচ্চিগুলোকে ওই সুন্দর লেকের উপর দিয়ে বাগানে আমরা হাঁটবো অনন্তকালের আনন্দে -- অমন কিছু স্বপ্নই তো প্রেরণা দেয় আমাকে!
মাঝে মাঝে লাল গোলাপ চলে?
-- (হেসে ফেলে) বারে! সাদা ভালো লাগে শুভ্রতার জন্য। লালের মাঝে থাকে ভালোবাসার গভীরতা।
মানুষকে কোন উপহার দিতে পছন্দ করো?
-- সবচাইতে বেশি করে দুআ করি। আর অন্য কিছুই তো এই দুনিয়া ওই দুনিয়া দুটোকেই স্পর্শ করেনা!
কেউ ভুল করে ক্ষমা চাইলে?
-- ক্ষমা করে ফেলতে চাই। ভুলেও যেতে চেষ্টা করি। কষ্ট লাগে, তবুও। কারণ আল্লাহ তো তাহলে আমাকে ক্ষমা করে দিবেন। আমার জীবনেই কী কম ভুল? সূরা শুআরার ৩৭-৪০ পড়েছ না?
সুন্দর ভাবনা তো! আচ্ছা, সংসার নিয়ে ভেবেছ?
-- টোনাটুনির সংসারই আমার পছন্দ।
রাগ হলে কী করো?
-- কথাই বলিনাহ। চুপ করে দূরে সরে থাকি।
(মুচকি হেসে) ভালো থেকো। তোমার জন্য একটু চাইবো
-- (ফিক করে হেসে ফেলে) আমিও তো ! আল্লাহ হাফিয!
আল্লাহ হাফিয

* * * * * * *
বিশেষ দ্রষ্টব্যঃ কথপোকথনের পুরোটাই কল্পনা। একজন মানুষের মনের একান্ত কল্পনা। বাস্তবতার লেশমাত্র নাই :-) 

৯ জুল, ২০১১

আঁধারের পথে

অন্ধকার গুহার মাঝে থেকে বাইরের আলো মাঝে মাঝে চুইয়ে আসতে দেখে অনেকবার স্বপ্ন দেখেছিলাম ওই আলোতে যাওয়ার। তারপর মুক্তির উপত্যকায় যাবো বলে... প্রার্থনা করেছি শত-সহস্রবার ওই আলোর স্পর্শে নিজেকে ধন্য করবো বলে। অথচ এই গুহা থেকে বের হবার পথ আমি খুঁজে পেতাম না। গহন কালো আঁধারে নক্ষত্রালোকের আলোও চোখে আসতো না। ক্লান্ত হয়ে ফিরে আসতো দৃষ্টিরা, ফিরে আসতো হৃদয়ের অনুভূতিরা -- যারা শান্তি খোঁজে।

একদিন দিক নির্দেশনা পেলাম সেই অন্ধকার থেকে মুক্তির, আলোর পথে যাবার। দিনের আলোর উদ্ভাসনে নিজেকে বিলিয়ে দিতে একটুও অপারগ ছিলাম না। যাদের নির্দেশনায় সেই আলোর দেখা পেলাম, তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতায় আকন্ঠ নিমজ্জিত ছিলাম অজস্রকাল।

একজন একজন করে সবাই ফেলে চলে গেলো একাকী নির্জন অরণ্যে। শ্বাপদদের মাঝে একান্ত একা। আমি চিৎকার করে ডাকি। সবাই হারিয়ে গেছে। আমি হতবিহবল হয়ে কাঁদতে থাকি। আমার চিৎকার কেউ শুনতে পায় না। আমি অনোন্যপায় হয়ে ফিরে যেতে থাকি সেই গুহায়। যেখানে অন্ধকার, যেখানে বিষাক্ত বিচ্ছুর দল আছে। কিন্তু হিংস্র শ্বাপদের ভয় নেই। আর অল্পকাল সঙ্গী পেলে হয়ত চলে যেতে পারতাম মুক্তির উপত্যকায়। যেখানে যুদ্ধ চলে একদল শীর্ণকায় সাদা মনের মানুষদের সাথে হিংস্র অসুরদের। সেই সাধারণ মানুষদের চোখে মুখে দৃঢ়তার ছাপ, হৃদয়ে সুন্দরতম স্বপ্ন। সেই স্বপ্ন অসুরদের হাতে মৃত্যুর ভয়কে অতিক্রম করে যায়। ঝর্ণার পানিতে অবগাহন করে তারা একদিন ফেলবে স্বস্তির নিঃশ্বাস... সেই ঝর্ণার কোমলতা তাদের হাতছানি দিয়ে ডাকে।

আমি গল্প শুনতাম গুহাবাসী এক বৃদ্ধের কাছে। তিনি বলে গিয়েছিলেন অজস্র ঘটনা। মাঝে মাঝে পাখিদের কাছে শুনতে পাই খবর। আমার বিশ্বাস দৃঢ় হয়। তবু আমি জানি। আমি শূণ্যচারী। আমি আজ নিঃস্ব। আমি আজ নিঃসঙ্গ গ্রহচারী। এই আঁধারের মাঝে পড়ে থেকে স্বপ্ন দেখা যায়না। একদিন অসুরের দল আমাকে একলা পেয়ে তেড়ে নিয়ে চলে যাবে সেই উপত্যকায়। যেখানে হয়ত ছিটকে গেলেই পড়ে যাবো অতল গহবরে। যার নিচে শুনেছিলাম আগুণের কুন্ডলী। ভয়ে স্তব্ধ হয়ে যায় অনুভূতিগুলো! কাঁপতে থাকে হাত-পা-অন্তরাত্মা...


আজ যেন সবই গল্প। একলা দাঁড়িয়ে হতবুদ্ধি হয়ে আমি আবার অন্ধকার গুহায় ফিরে যাই। গ্রাস করে নিতে তাকে অন্ধকার। খানিক পরেই হয়ত পথ হারিয়ে যাবে আমার। আবার সেই সরীসৃপের মত করে বেঁচে থাকা । আবার হারিয়ে যাবো এই হতাশায়, আবার হারিয়ে যাবো বিষাক্ততায়। তারপর? পরিণাম তো সেই গল্পের মতই! আমি তো আর নতুন কেউ নই! কেবল ইতিহাসের উপাত্তে নব্য সংযোজন...

হয়ত হারিয়ে যাবার আগে এই-ই আমার শেষ চিৎকার....
 

৩০ জানু, ২০১১

আমার দুঃখিনী মায়ের প্রতি

মা, আজ তোমার কাছে নতজানু হয়ে ক্ষমা চাইছি মা। সত্যি বলছি মা, খোদার কসম, আমার চোখে অশ্রু বয়ে চলেছে অবিরাম। মা জানো, আমি এই দুঃখবোধকে কীভাবে চাপাবো জানি না, তাই তোমাকে লিখতে বসেছি মা। জানি তুমি পাবেনা, জানি নপুংসকের দল তার আগেই এটা কেড়ে নেবে। তবু তোমায় না লিখলে আমার অপরাধবোধগুলো যে আমাকে কুরে কুরে খাবে গো মা!


মা, সে-ই কবে তুমি আমাদের মা হয়েছিলে বলতে পারো? আজ অনেক বছর হলো, তাইনা? তোমার সন্তানেরা এলো তোমার কোল জুড়ে। কত স্বপ্নই না ছিলো তাদের নিয়ে তোমার। তুমি স্বপ্ন দেখতে চেয়েছিলে একদল সুন্দর প্রজন্মের। তারা আকাশে বাতাসে আনন্দের হর্ষধ্বনি করবে... তারা তোমার মুখে হাসি ফোটাবে। সেই স্বপ্ন তো তোমার অমূলক ছিলো না গো মা। তুমি তো কম কষ্টে মা হওনি। তুমি দেখেছিলে, তোমার জন্য কতগুলো প্রাণ তাদের বুকের তাজা খুন ঝরিয়েছিলো। তুমি জানতে একদিন তুমি মুক্তি পাবে। সেদিন তোমার সন্তানেরা তোমার মুখ উজ্জ্বল করবে। এই আশা করাটা তোমার অধিকার ছিলো-- তুমি তো আর কম কষ্ট সহ্য করনি!

মা গো, তুমি চল্লিশটা বছর ধরে দেখছো মা-- কী অবর্ণনীয় নোংরা হয়েছে তোমার সন্তানেরা। মা গো, আজ তোমারই বাড়ির সীমানায় কতগুলো অসচ্চরিত্র, লাজহীন মেয়েদের উলঙ্গ নৃত্য দেখতে খরচ করছে তোমারই সন্তানেরা। এক ভাই যখন একবেলা খেতে পায় না, তখন হাজার হাজার টাকা খরচ করে আরেকজন প্রমোদানন্দ করে মা, তার অনেক খায়েশ! মা, এসব তো তোমারই দোষ। তুমি ভেবেছিলে তোমার এক সন্তান অপরজনকে না দিয়ে খাবে না। তুমি ভেবেছিলে তারা একে অপরের সাথে মন খুলে আলাপ করবে, অপরের ভুল দেখলে প্রতিবাদ করে তাকে শুধরে দেবে। তারা ভালোবাসার এক পরিবার রচনা করবে! কোথায় গো মা? এতগুলো বছর পর তোমার সন্তানেরা অনেক দল হয়েছে। তাদের মধ্যে যারা শক্তিশালী, তারা আজ অপর সবাইকে ছুরি চাকু দিয়ে হত্যা করতে চায়। কেউ চায় তার অর্থ দিয়ে সবকিছু কিনে অন্যদের ভিটেছাড়া করতে। মা গো, তুমি এই-ই চেয়েছিলে?

পড়শিদের সুন্দরী মেয়েগুলো যখন স্বল্পবসনে ঘুরে বেড়ায়, আমার বেশিরভাগ ভাইগুলো তাদের গিলে গিলে খায়। ওই বাড়ির লম্পট ছেলেটা দেখতে সুন্দর হলেও আমার বোনেরা ওর ঠোঁটের স্পর্শ পাওয়ার জন্য লাইন ধরে দাঁড়ায়, জানো মা? ওরা জানে আমাদের এই দুর্বলতা, আর তাই সুযোগ পেলেই মেয়েগুলো আর ছেলেগুলো আমাদের আঙ্গিনায় আসে, ঢলাঢলি করে, তারপর অনেক টাকা নিয়ে চলে যায়। আমি জানি মা, এসব কথা জেনে তুমি কখনই সহ্য করতে পারবে না, কিন্তু মা এই সত্য তো একদিন না একদিন তুমি জানবেই। একদিন হয়ত ওদের বাড়ির মেয়েগুলো, ওদের বাসার সুন্দর গাছ আর জলাশয়ের লোভে তোমাকেই বেচে দিতে পারে ওরা! -- এই আশংকা আমায় স্বস্তি দেয় না গো মা।

আমরা তোমাকে মা মা করে চিৎকার করেছি, তোমার মাটিকে সোনা সোনা বলে দাবী করেছি। আবার তোমাকেই বেচে দিতে যাছি পড়শিদের কাছে। মা, এই অসহায় সন্তানকে ক্ষমা করো। মা, এই দুর্বল সন্তানটা তোমাকে অনেক ভালোবাসতো মা। মা, আমার চোখের ঝরঝর ঝরে যাওয়া অশ্রুগুলো কেবলি তোমাকে ভালোবেসে-- বিশ্বাস করো। তোমাকে ওরা কীভাবে কলংকিত করতে পারে ভেবে আমি শিউরে উঠছি ক্রমাগত। মা গো, আমার ভাইগুলোকে অনেক বুঝাতে চাইছি, চেয়েছি। কিন্তু ওরা একদম মজে গেছে মা। শরাব, অর্থ, নারীর লোভে ওরা ভুলেই গেছে এই সম্পত্তি, এই বাড়িঘরের দেখাশোনার দ্বায়িত্বটা তুমি কতটা আদর করে দিয়েছিলে আমাদের।


ওরা আজ তোমার প্রতি ভালোবাসার অনুভূতি নিয়ে ব্যবসা করে। মা, বড় বোন মাঝে মাঝেই পড়শির বাড়ি বেড়াতে যায়। ফিরে এসে আমাদের নতুন নতুন আদেশ করে। জানো, সবগুলো কাজই কেমন যেন অদ্ভূত, তবু পালন করি। তুমি তো শিখিয়েছিলে বড়দের নির্দেশ পালন করতে! আমি তো তোমার কথাগুলো শুনি, ওরা কেন তবে এমন? ওরা কেন তোমার প্রতি সমস্ত প্রতিজ্ঞাই ভুলে গেলো?


আমি জানিনা আমার কী হবে। আমি জানিনা তোমার কী হবে মা। আমাকে ক্ষমা করিও। আমাকে ক্ষমা করিয়ো। আমি জানি তুমি আমার দুখিনি মা। তোমাকে কিছু দিতে পারলাম না মা। আমি ভীষণ লজ্জিত, মাগো! আমায় ক্ষমা করো।
---------
 ২৬ ডিসেম্বর ২০১০, দুপুর ০৩:৩০

স্বপ্নগাঁথা রূপকথা

একদেশে এক রাজা ছিল। তার রাজত্বে সুখের অন্ত ছিলো না। রাজ্যের সব লোক সুখে ছিলো। সেই রাজ্যে কেউ মিথ্যা কথা বলতো না। কেউ অভাবে থাকলেও রাজা ও তার মন্ত্রীরা এসে খোঁজ করতো তার খাওয়া দাওয়া চলে কিনা। না হলে রাজকোষ থেকে তাদের সাহায্য করা হতো। মোটকথা, রাজ্যের সবার মুখে কেবলি রাজার গুণগান।

সেই রাজ্য ক্রমাগত বড় হতে থাকলো। রাজার প্রতি অনুগত যোদ্ধাদের সংখ্যাও বাড়তে লাগলো আর তারা সবাই মিলে ছুটে যেতে লাগলো রাজ্যের দৈর্ঘ্য বড় করার জন্য। রাজাও খুশি তার বাহিনীর উপর। তার চাইতে সে আরো বেশি খুশি ছিলো তার রাজকুমারের প্রতি। অমন রাজকুমার পাওয়া আনন্দেরই ব্যাপার বটে। পিতার সমস্ত সুন্দর গুণাবলী রপ্ত করেছিলো সে। রাজকুমারের বীরত্বের গাঁথা-গল্প রাজ্যের রমনীকূলের কানে মুখে চলতো। অমন শৌর্যবীর্যের অধিকারী যেই রাজকুমার, তাকে পছন্দ হবেই না কেন? কিন্তু রাজকুমারের এসবে ভ্রূক্ষেপ ছিলো না। সে জানতো, তার কাজ সে করে গেলে একদিন কুঁচবরণ রাজকন্যার মতন সুন্দরী অপরূপা ঠিকই তার অন্দর আলোকিত করবে।

রাজকুমারকে নিয়ে রাজার অনেক আশা ছিলো। তার আশা, তার মৃত্যুর পর তার ছেলে হাল ধরবে রাজ্যের। কিন্তু সে তার ছেলের বীরত্বের চাইতে তার ছেলের শিক্ষাদানের গুণাবলীতে আরো বেশি আশাবাদী ছিলো। রাজকুমার কখনই তার সিপাহসালারদের রণকৌশল শেখাতে কার্পণ্য করে না। বরং, রাজকুমার চাইতো তার সেনাবাহিনীর সবাই তার মতই অসাধারণ বীরত্ব অর্জন করুক। সবাই যখন ক্ষুরধার যুদ্ধবাজ হবে, তখনই তো তাদের সফলতা!

কিন্তু সেই সুখ বেশিদিন রইলো না। রাজ্যের কিছু হিংসুটে দুষ্ট লোক শত্রুদের রাজ্যের দৈত্যদের সাথে আঁতাত করলো। কিছু দৈত্য মানুষের রূপ ধারণ করে রাজ্যে ঘুরে বেড়াতো। তাদের ডেকে এনে সেই লোকগুলা রাজদরবারের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ফাঁস করতে লাগলো। শত্রুরাও জানলো রাজকুমার আর তার সিপাহসালারদের কী করে ভুলিয়ে রাখা যায়। তারা যদি কিছুদিন তাদের যুদ্ধকৌশল নিয়ে চর্চা না করে, তাহলে ক্রমেই তাদের দুর্বল করে দেয়া যাবে। রাজকুমার আর তার সৈন্যেরা প্রতিদিন কয়েকবেলা করে তাদের নিশানা চর্চা করতো। দৈত্যরা এই জিনিসটাকে খুব ভয় পেতো।

একদিন রাজা চলে গেলেন। নতুন রাজকুমার হবে রাজা। কিন্তু সবাই শোকগ্রস্ত। কেউই কাজে মনোযোগী না। এমন সময়ে দৈত্যরা তাদের মনিবের আদেশে প্রথমে সৈনিকদের লক্ষ্য করলো। সাহায্যকারী লোকদের সাহায্যে কিছু সুন্দরীদের দিয়ে কানপড়া দিলো তাদের। তারপর, সৈনিক, উজীর-নাজির-সিপাহসালাররাও মদ-শূরায় মত্ত হয়ে চিত্তবিভ্রম হয়ে পড়ে রইলো এক নাচনেওয়ালীর আড্ডায়। সেদিন হঠাৎ রাজ্য আক্রমণ হলো। দৈত্যের দল কাউকে রেহাই দিলো না। সমগ্র রাজ্যে রক্তের বন্যা বয়ে গেলো। শুধু রাজকুমারের মতন কিছু বীর, যারা সজাগ ছিলো সেদিন--তারাই কেবল প্রাণ নিয়ে পালাতে পারলো।

রাজকুমার গহীন বনে ছুটে চললো। তার পেছন পেছন ছুটছিলো প্রজাদের অনেকেই। খাল-বিল-নদী-পাহাড় পেরিয়ে তারা ছুটছে তো ছুটছেই। অনেক বছর চলে গেলো, অনেক সময় পেরিয়ে গিয়ে তারা থামলো। গায়ে তাদের ছিন্ন বস্ত্র। বেশিরভাগকেই হারিয়েছে তারা পথে। রাজকুমার একা ছুটে চলছিলো। তার মনে অনেক দুঃখ। বন জুড়ে কেবলি ভয়। একটা বুলবুলি পাখি এলো তার কাছে। রাজকুমারের কাছে কিছু সৈন্য জানিয়েছে তারা বেঁচে আছে, তারা একটু সুস্থ হলেই আবার রাজ্যের খোঁজে যাবে।

এরপর শুধু অপেক্ষার পালা। আশ্রয়হীনভাবে, ছিন্ন পোশাকে কেবলি তারা অপেক্ষায় ছিলো। তারপর একদিন এক পাখি উড়ে এলো তাদের হারানো রাজ্য থেকে। তার পায়ে লেখা চিঠি থেকে জানতে পারলো রাজ্যের শত্রু রাজার মৃত্যু হয়েছে। নতুন রাজা অনেক উদার মানুষ। তাদের ডেকে পাঠিয়েছে। আনন্দভরা মন নিয়ে আবার রাজ্যের পথে বেরিয়ে এলো তারা। পথে অনেকেই যোগ দিতে শুরু করলো। নিজেদের রাজ্যে ফিরে গেলে নিশ্চয়ই তাদের ফেলে দেবে না। তারা সেই রাজ্যে ফিরে গেলে কত আনন্দ হবে, এই ছিলো পথের কষ্ট ভুলে যাবার সবচাইতে বড় সান্তনা।

তারপর সবকিছু ভুলে গিয়ে পথ চলতো রাজকুমার। পথের ক্লান্তি তাকে ছেঁকে ধরতো, বিশালাকার দৈত্যরা পথে আক্রমণ করতো, খাবলে ধরতো গায়ের কাপড়, হত্যা করবে বলে তারা পিছু ছুটতো! কৌশল করে সে পালিয়ে বাঁচতো। রাজকুমার হতাশ হতো না কেননা সে জেনেছিলো একদিন সে তার গন্তব্য পৌঁছবেই। সেদিন তাকে ফুল দিয়ে বরণ করে নেয়া হবে। নতুন রাজকুমারী ফুলময়ী তাকে জানিয়েছে তার বীরত্বের অনেক গল্প শুনেছে সে। কথাটা ভেবে আনন্দে ভরে যায় রাজকুমারের মন। খালি পায়ে কাঁটাভরা পথে হেঁটে চলেছে তো কী হয়েছে? এই পথের শেষ মঞ্জিল হলো এক সুন্দর বাগান দিয়ে। ফুল-ফল-স্বচ্ছপানির স্রোত... সেই অপেক্ষাতেই আছে সে।

স্বপ্ন নিয়েই হেঁটে চলে সে... সুখের দিন তো বেশি দূরে নয়!

----------
১০ ডিসেম্বর ২০১০, রাত ১১:৪৮

২ সেপ, ২০১০

আমিও রোদ্দুর কী হতে চেয়েছিলাম অমলকান্তির মতন !

আমার অনেক কিছু ইচ্ছে করে। লিখতে বড্ড ইচ্ছে করে... ইচ্ছে করে লিখে লিখে পাতা ভরিয়ে দিবো। ইচ্ছে করে কখনো কল্পনাগুলোকে সত্য করে ডানা ছড়িয়ে দিতে দিবো।

ইচ্ছে করে অমলকান্তির মতন রোদ্দুর হতে... অমলকান্তি রোদ্দুর হতে পারেনি। অথচ ওর বন্ধুরা সবাই পেরেছিল, কেউ ডাক্তার কেউ ইঞ্জিনিয়ার, কেউবা শিক্ষক।

সবাই পারলো। শুধু অমলকান্তিই পারেনি। সে তো রোদ্দুর হতে চেয়েছিলো। সবকিছু ছেড়ে রোদ্দুর কেন? আমার বড্ড তারা হতে ইচ্ছে করে যেমনি করে, ওভাবেই? জানিনা। হয়ত অমনটাই কিছু হবে। আমিও চেয়েছিলাম তারা হয়ে রাতের আকাশটায় জেগে থাকতে, মানুষ হয়ে এই ভারসদৃশ জীবনটা বয়ে বেড়াতে চাইনি।

বন্ধুরা সবাই অনেক কিছু হয়ে গেলো। ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, ব্যরিস্টার... আর আমি আগের স্বপ্নচারীই থেকে গেলাম... শুধু স্বপ্ন দেখে বেলা কেটে যায়... অপসৃয়মান সূর্যালোকে তাকিয়ে মাঝে মাঝে বুঝি দু'একটা নিঃশ্বাস ফেলি বৈকি! দিন শেষে সন্ধ্যা নামে... আমি দিগন্তে চেয়ে থাকি...

রোদ্দুরও হতে পারলাম না। পারলাম না রাতের আকাশের তারা হতে... একদম একজন মানুষই রয়ে গেলাম... হয়ত আমাকে নিয়ে আমার কোন বন্ধু একসময় কবিতা লিখবে, "স্বপ্নচারী রোদ্দুর হতে চেয়েছিলো, চেয়েছিলো আকাশের তারা হতে"......

[২ সেপ্টেম্বর, ২০১০]