facebook লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
facebook লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

২ ডিসে, ২০১৫

"ফেসবুকে লোকে শুধু ভালোটাই দেখায়, খারাপ ঢেকে রাখে"--এই সমালোচনা করা কতটুকু যুক্তিযুক্ত?

​"ফেসবুকে লোকে শুধু ভালোটাই দেখায়, খারাপ ঢেকে রাখে "-- এমন মন্তব্য করে 'মানুষের' সমালোচনা করাটাও এক ধরণের মূর্খতা যদি ​কেউ পুরো ব্যাপারটা মাথায় না রাখে।

এখানে ​কেউ 'শো অফ' করাটা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারে কেননা​ লোক দেখানো কাজ ভালো নয়, ক্ষতি অনেক।​​ লোক দেখানো প্রবণতা আমাদের এমন মানুষ বানিয়ে ফেলতে থাকে যা আমরা পছন্দ করিনা।​ নিজেদের অজান্তেই আমরা তখন ভিন্ন কোন বাজে মানুষে পরিণত হতে থাকি।​ আবার, লোককে নিজের ভালো দেখিয়ে তাদের হিংসা বাড়িয়ে ​দেয়ার ফলে নানানভাবে ​নিজের ক্ষতি হবার রাস্তাও তৈরি হয়।

কিন্তু লোকে দেখালে​ তো​ ভালোটাই দেখায়, দেখাবেই। লোকে সুন্দর পোশাক পরে সামনে আসার মানে কিন্তু এই দাবী করা নয় যে তার পোশাকের নিচে লজ্জার বিষয় নেই।​ যারা ভালো দেখায়, তার মানে অন্তত তারা ভালো বিষয়টা বুঝে। তারা ভালোকে 'কেয়ার' করে, ভালোকে 'উত্তম' বলে মনে করে। এটা কি একটা ভালো নয়? মুসলিম হিসেবে আমাদের কাজ কি 'ভালো'কে প্রতিষ্ঠিত করা ও ছড়িয়ে দেয়া নয়?

যারা প্রকাশ্যেই খারাপ কথা বলে, খারাপ কাজ করে, তারা তো আরো খারাপ। তারা তো সমাজে আরেক মাত্রার খারাপকে প্রতিষ্ঠিত করে, ছড়িয়ে দিতে থাকে।​ যারা খারাপ বিষয় লোকের সামনে উন্মোচিত করে তারা খারাপ কাজের সাক্ষী থাকার ব্যাপারটা ভয়ও করেনা। হয়ত গোপন ব্যাপারটা আল্লাহ ক্ষমা করে দিতেন ইস্তিগফার করায়, এখন অনেকে সাক্ষী রয়ে গেলো, এই কাজের হিসেবে তারাও অংশ হয়ে গেলো।

​বেশি ​সমালোচনা ঠিক নয়। অন্যদের উদ্দেশ্য বোঝা আমাদের মানবীয় যোগ্যতার অতীত। তাই সমালোচক হিসেবে নিজেকে বেশি পন্ডিত মনে হলে নিজেকে সতর্ক করা উচিত। আল্লাহ বান্দাকে গায়েব না জানিয়ে নানানভাবে বিনয়ী থাকতে বাধ্য করার পরিবেশ তৈরি করে রেখেছেন। অন্যের ব্যাপারে নির্দ্বিধায় সমালোচনা করার ক্ষেত্রে এটাও একটা সাবধান থাকার বিষয়।

সব সমস্যার বেশি সরলীকরণ করলে সমস্যা। জটিল সমস্যার সরল সমাধান চাইতে গেলে সব হারাতে হয়। একই বুঝ দিয়ে সবাইকে বুঝতে গেলেও বিপদ।

[১২ নভেম্বর, ২০১৫]

৬ মে, ২০১৫

এত কিছু পড়ি ফেসবুকে আর ওয়েবসাইটগুলোতে প্রতিদিন, উপকার কতটুকু?

​এই যে এত শত-শত শব্দ ফেসবুকের নিউজ-ফিড জুড়ে, এত সহজলভ্য কি বাংলা শব্দেরা আগে কখনো ছিলো? ছিলো না। শুধু বাংলা নয়, পৃথিবীতেই শব্দেরা কখনো এতটা সহজলভ্য, এতটা সস্তা ছিলো না। কত লেখক এখন, কত আবেগ এখন! আবেগ প্রকাশ হয় ইমোটিকন দিয়ে। 'কোলন ডি' চেপে দেয়া মানুষরা বেশিরভাগ সময়েই দাঁত বের করে হাসা দূরে থাক, মুচকিও হাসে না। আবেগের স্ফূরণ কি এতই সহজ?

৩০ জানু, ২০১৫

এই ইন্টারনেট, এইসব প্রযুক্তি কি আমাদের লাভের চেয়ে ক্ষতি বেশি করছে না?

ফেসবুকে অনেক তথ্য-- সত্য বা মিথ্যা, সৌম্য বা অশ্লীল, খারাপ বা ভালো। এত বেশি পেইজ, এত বেশি প্রোফাইল, এত বেশি কথা, এত বেশি কমেন্ট যে এখন অনেক কথাবার্তা দেখলেই এক ধরণের নিরাসক্তি চলে আসে। সবারই কথা বলার সুযোগ থাকায় ইডিয়ট ও মূর্খদের বেহুদা প্যাঁচাল অনেক বেশি থাকে তাই সেসবের মাঝে পড়ে এখন ফেসবুকে আর ব্লগে লোকের কথায় আমরা খুব কমই প্রভাবিত হই। অনেক ক্ষেত্রেই অনলাইনে বিভিন্ন তথ্য দেখে বিশ্বাস করে পরে সেগুলো মিথ্যা প্রমাণিত হতে দেখে সেই প্রবঞ্চিত হওয়ার অভিজ্ঞতা অনেক কিছুই বিশ্বাস করতে ভেতর থেকে বাধা দেয়। ফলে অনেক সত্য কথাও অবহেলা ও অবজ্ঞায় হারিয়ে যায়। আমরা অনেক সুন্দর সুন্দর কথা দেখি কিন্তু বাস্তব জগতে সুন্দর চিন্তার মানুষের চরম আকাল দেখে সেসব সুন্দর কথা তো দূরে থাক, সেগুলোর পেছনের মানুষগুলোকেও অনেকক্ষেত্রে বিশ্বাস করতে ও সম্মান করতে ইচ্ছা করে না।

২৯ ডিসে, ২০১৪

সেই সময়ে আমাদের পরিবার ও বন্ধুবান্ধবদের জন্য হাতে অনেক সময় থাকতো

অনেকদিন আগের কথা...

যখন 'উইন্ডো' ছিলো ঘরের জানালার চারকোনা ফাঁকা জায়গা এবং 'অ্যাপ্লিকেশন' ছিলো কাগজের উপরে কিছু লেখা। যখন 'কীবোর্ড' ছিলো একটি পিয়ানো এবং 'মাউস' ছিলো একটি প্রাণী। যখন 'ফাইল' ছিলো গুরুত্বপূর্ণ অফিসিয়াল বস্তু এবং 'হার্ড ড্রাইভ' ছিলো অশান্তিময় পথযাত্রা, যখন 'কাট' করা হতো ছুরি দিয়ে এবং 'পেস্ট' করা হতো আঠা দিয়ে। যখন 'ওয়েব' ছিলো  মাকড়শার জাল এবং 'ভাইরাস' ছিলো ফ্লু। যখন অ্যাপেল এবং ব্ল্যাকবেরি ছিলো শুধুই ফল...

সেই সময়ে আমাদের পরিবার ও বন্ধুবান্ধবদের জন্য হাতে অনেক সময় থাকতো।

[শাইখ যাহির মাহমুদের ফেসবুক পেজ থেকে অনূদিত, ২৩ আগস্ট, ২০১৪]

২৬ ডিসে, ২০১৪

ফেসবুকে ব্যবহারকারীদের ​ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও সামাজিক ক্ষতি হচ্ছে অনেক

​কমবেশি সবাই বুঝি, সময়ের সাথে সাথে ফেসবুক শক্তিশালী মাধ্যম হয়ে গেছে। রাজনৈতিক বিষয়ে ও ইস্যুতে কোন পক্ষের শক্তি বৃদ্ধি ও হ্রাস করতে মিডিয়া হিসেবে ফেসবুক কতটুকু সক্ষম সেটা গবেষণার বিষয় হলেও সামাজিক ও ব্যক্তিগত বিষয়গুলো এর ভূমিকা যে অত্যন্ত বেশি তা প্রশ্নাতীত নিশ্চিত বিষয়।

আমি বলতে চাইছি, আমাদের আত্মিক বিষয়গুলোর কথা ভেবে আমাদের অত্যন্ত সাবধান হওয়া প্রয়োজন। নিজ স্পিরিচুয়ালিটি এবং সামাজিক সম্পর্কগুলো নষ্ট করতে ফেসবুক এখন খুব ঠুনকো সহজ বিষয়। একদিকে যেমন অন্যদের খুশি করতে কিছু লিখলে তা আমাদের কাজকে আখিরাতের পুরষ্কারের পরিবর্তে শাস্তি পাওয়ার সুযোগ করে দেয়, অন্যদিকে নিজ অসচেতনতায় লেখা আজেবাজে বিষয় ও শব্দ অন্যদের মনকে কলুষিত করলে তার দায়ভার আমাদের উপরেও বর্তাবে আখিরাতে। ফেসবুক অজস্র দাম্পত্য সম্পর্ককে নষ্ট-ধ্বংস-যন্ত্রণাবিদ্ধ করতে কাজ করেছে,করছে,করবে। সাবধান হওয়া অত্যন্ত জরুরী।

​​ ​ইন্টারনেট ও আমাদের অনুপকারী জ্ঞানের মাতাল চর্চা

​​কেন যেন আজ হঠাৎ ছেলেবেলার স্মৃতি মনে পড়ে গেলো। জীবনটা কতই না সহজ ছিলো। এই স্মৃতিকাতরতা আমার স্রেফ ভাবাবেগে ডুবে থাকা টাইপ নয়, আমাদের বাল্যের সহজতার সাথে এ সময়কে মেলাতে চেষ্টা করছিলাম। আমার যতটুকু মনে পড়ে, আমার কৈশোরটাও এতটা জটিল ছিলো না। আমার সামনে যা কিছু ঘটনা থাকতো, যে ক'জন মানুষ থাকতো, তাদের প্রতি খেয়াল করে জীবনের রুটিনকে সাজিয়ে নিতে চেষ্টা করতাম। ওটুকুর মাঝে সহজতা ছিলো জীবনে।

এখনকার জীবনে আমাদের সবারই মনে হয় অনেক অনেক সম্পর্ক ও চাপ। মোবাইল-ফেসবুক-ইন্টারনেটের যুগের যে মানসিক চাপ, তা বোধহয় পূর্বেকার সময়ের মানুষদের সাথে অনেক আলাদা। এই যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ভালো দিকগুলোকে অস্বীকার করছি না, সেসবের জন্যই ব্যবহার করতে আসা আমাদের সবার।

১০ নভে, ২০১৪

কিশোর-কিশোরীদের ফেসবুক ম্যানিয়া ও অধঃপতন : উন্নতিকল্পে কিছু সম্ভাব্য পরিকল্পনা


ফেসবুকের আশেপাশে থাকা আমার প্রায় ৭ বছর হয়ে এলো। এতটুকু বুঝি, এখানে ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা, যাদের জীবনে ঠিক বিশেষ কোন মিশন নেই, ভিশন নেই, সময় কাটানোর মতন 'এন্টারটেইনমেন্ট' নেই-- তাদেরকে নষ্ট-ভ্রষ্ট-বিপথগামী করতে ফেসবুকের মতন শক্তিশালী সোশাল মিডিয়া কমই আছে এখন। এমনকি ভার্সিটি পড়ুয়া ছেলেমেয়েদের চিন্তার বিষয়কে বদলে দিতে পারে সোশাল মিডিয়ায় ট্রেন্ডিং টপিকগুলো। অর্থাৎ, একটানা যে টপিকের  আলাপ হোমপেইজে ভাসতে থাকবে, বইপুস্তক-হালাকা-ক্লাস/দারস বিহীন ইন্টেলেকচুয়াল লেভেলের ছেলেমেয়েরা সেদিন শুধু সেইসব টপিক নিয়েই চিন্তা করতে থাকবে। এভাবে নোংরামির বিষেদাগার, সমালোচনা, অতিমাত্রায় ফানে বিষগ্রস্ত হয়ে বদলে যেতে দেখেছি অনেককে। ফেসবুকে সহজে ছেলে/মেয়েদের কাছে পাওয়া যায়, কমিউনিকেট করা যায়, ছবি দেখা যায়-- এসব কারণেও অনেকে ফেসবুকে আগ্রহ করে। কিন্তু চিন্তা করে দেখলেই ভয় পেতে হয় যে এরকম কোন একটি কিশোর/কিশোরী, তরুণ/তরুণী যদি আমাদের নিজ পরিবারের কখনো হয়, তাহলে তার উত্তম বেড়ে ওঠা কেমন হতে পারে?

২৮ সেপ, ২০১৪

ফেসবুকে লোকের সুখ প্রদর্শনের ব্যাপারটা ইন্টারেস্টিং

​​​ফেসবুকে লোকজনের সুখ প্রদর্শনের ব্যাপারটা ইন্টারেস্টিং। এখানে এলে মনে হয় যেন দেশের মানুষ সিঙ্গাপুর, নেপাল, থাইল্যান্ড, কক্সবাজার, সিলেটে বেড়াচ্ছে তো বেড়াচ্ছেই... বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সাথে তাদের স্ত্রীরা। ফেসবুকের হোমপেইজে ভরা বিভিন্ন ফ্রাইড চিকেনের প্লেটের ছবি, ডিএসএলআর ক্যামেরাতে অনেক চকচকে পুরুষ-নারীর যুগল, যাদের প্রায় সবাই প্রেম নামক হারাম সম্পর্কতে যুক্ত, যাদের প্রতিটি মূহুর্তই যিনা হিসেবে আল্লাহর কাছে গৃহীত হচ্ছে। কারো আবার নতুন আইফোন, নতুন আইপ্যাড, মোটর সাইকেল, গাড়ির নিত্যনতুন ছবি দেখবেন...

অথচ এই দেশে খুব অল্প পরিমাণ মানুষের কাছে খুব বেশি পরিমাণ সম্পদ আটকে আছে। ফ্রাইড চিকেনে ঢুকলে প্রায় হাজার টাকার মামলা। এককালে অনেক টাকা বেতন পাওয়া ইঞ্জিনিয়ারদের লাইনের বি,এস,সি ইঞ্জিনিয়ারিং পাশ করেও আজকাল খুব কম ছেলেমেয়েই দশ-বারো হাজারের বেশি টাকার বেতনে ঢুকতে পারে। মেডিকেলে যারা পড়ে, তাদের তো ৬ বছর পেরিয়ে অনারারী (অনাহারী বলে পরিচিত) ডাক্তার থাকার সময়ে বিনা বেতনে কাজ করে, খ্যাপ দিয়ে পেটে ভাত যোগাতে হয়। দেশে চাকুরির বাজারের অবস্থা খুবই সঙ্গীন তা পাগলেও জানে, রাস্তার কুকুরেও হয়ত বুঝে। খুব কম ছেলেই জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাশ করে ভালো চাকরির স্বপ্ন দেখার সাহস করে যদি মামা-চাচা না থাকে! এসব বুঝে সবাই, বুঝে না শুধু শো অফে অস্থির থাকা অসুস্থ মানসিকতার রোগীর দল।

২৬ জুন, ২০১৪

ফেসবুকে প্রচুর সময় নষ্ট হয়

ফেসবুকে প্রচুর সময় নষ্ট হয় আমার। খুব সম্ভব প্রায় সবারই এভাবে অবলীলায় সময় নষ্ট হয় ফেসবুকে। ফেসবুক তথা ভার্চুয়াল ওয়ার্ল্ড এক অদ্ভুত ভ্রমময় জায়গা। নিজের পছন্দের কথা শুনতে ও শুনাতেই সবাই ফ্রেন্ড লিস্ট সাজায়। ভুল হোক, শুদ্ধ হোক -- পরবর্তীতে অনেক বেশি রেসপন্স পাওয়ার পরে মানুষটি ভুলে যায় প্রকৃতপক্ষে খুব কম লোকই তার মতন মত ধারণ করে। আমার জীবনের উপলব্ধি হলো-- এই সমাজে তীব্র খারাপের সংখ্যা যেমন কম, ভালো করতে চাওয়া দল-মতের মানুষও খুব কম। কিন্তু আছে প্রচুর জাহেল বা অজ্ঞ-মূর্খ লোক, ভালো-খারাপকে আলাদা করার আগ্রহও বা জ্ঞান নাই যাদের; তারা প্রকারান্তরে খারাপদেরকেই সাহায্য করে। নিজের সমমনা লোকদের ফ্রেন্ড লিস্টে/গ্রুপে/ফলো লিস্টে নিয়ে "অনেক বেশি কাজ হচ্ছে/ অনেক ভালো আছি/ আমাদের মতটাই সঠিক/ আমরাই ঠিক ভাবছি/আমরা জনমত বদলে দিচ্ছি" টাইপের মূর্খতা আর অজ্ঞতায় ভরা চিন্তা যেই বিভ্রমে রেখে দেয় আমাদেরকে তা অনেক ক্ষতিকর।

১৫ এপ্রি, ২০১৪

ভয়ংকর ফেসবুক

​আপনি যখন ফেসবুকে নিয়মিত থাকবেন, মোটামুটি নিশ্চিত থাকুন আপনি আর আগের মতন নিজেকে খেয়াল করতে পারেন না। আপনি সবসময় অন্যদের বিষয়গুলোকে আপনার নিজের বিষয়ের উপরে না হলেও সাথে সাথে ভাবতে থাকেন। মানুষের সাথে তুলনা করার রোগটি এবং দরকারে-অদরকারে, ভালো এবং খারাপে মানুষের সাথে তাল মিলানোর উদগ্র কামনা আপনার ফেসবুকে সময় কাটানোর সাথে সাথে বাড়তে থাকে। আপনার মনোযোগ আর আগের মতন গভীর থাকে না, আপনি একটু পর পর কে কী বললো সেটা নিয়ে ভাবতে থাকেন। আপনার চিন্তা যতই তুচ্ছ আর অদরকারী হোক, আপনার আলু-পটলের তরকারি খাওয়ার বিষয়টা হোক বা আজকে একটা ভালো রেজাল্ট করেছেন-- সেটাই হোক, সবার *প্রতিক্রিয়া* আপনার মূল ক্রিয়াকেই প্রভাবিত করে। অন্যদের প্রতিক্রিয়া আপনার কাছে এতই বড় হয়ে যায় যে আপনার নিজস্ব পছন্দ, আপনার নৈতিকতা, আপনার আদর্শ বিষয়গুলো আপনি তেমন একটা ভাবতেই পারেন না।

১৮ মার্চ, ২০১৪

ফেসবুকে তর্ক তো অনেকটাই জীবন ধ্বংসকারী

​​আমি জীবন থেকে জেনেছি, আমাদের এখনকার সময় দ্বীন হিসেবে ইসলামকে বেছে নেয়া মানুষগুলো এক অন্যমাত্রার। তারা ঠিক আমাদের পূর্বের কয়েক প্রজন্মের মানুষদের বেশিরভাগের মতন আনুষ্ঠানিকতা ও বিশ্বাস হিসেবে ইসলাম বেছে নেননি, বরং প্রচুর টানাপোড়েন, কষ্ট ও এই জীবনের অর্থ ও জীবনকে ধারণ করার আবশ্যকীয় ত্রাণকারী হিসেবে পেয়েছেন -- ইসলাম। চারদিকে যখন শয়তানী বুদ্ধির জয়জয়কার, নাস্তিক ও ইসলামবিদ্বেষীদের আগ্রাসন এসেছে পরিকল্পনার মাধ্যমে সুচতুরভাবে শিক্ষাক্ষেত্রে, সাহিত্যে, সঙ্গীত ও সংস্কৃতিতে, পথ চলতে প্রতিটি ব্যানার-ফেস্টুন আর বিলবোর্ডে, চাকুরিক্ষেত্রের বিভিন্ন নিয়মাবলীতে -- তখনো সত্যসন্ধানী মানুষেরা খুঁজে বের করে নিয়েছেন তাদের দুনিয়া ও আখিরাতের রক্ষা করবে যেই বিধান, সেই ইসলামকে। এ তো শুধু ভাষায় লেখা কিছু কথা নয়, এই বিষয়গুলো উপলব্ধির, অনুভবের...

২৪ নভে, ২০১৩

ফেসবুক : অগোচরে ক্ষতি করতে থাকা এক ভয়ংকর

​ফেসবুকের মাধ্যমে আমার ব্যক্তি জীবনে কিছু প্রাপ্তি আছে বটে, কিন্তু ফেসবুক থেকে সম্ভাব্য ক্ষতির কথা ভাবে যে পরিমাণ ভীতি আমার মাঝে কাজ করে তার পরিমাণ বোধকরি অনেক অনেকগুণ বেশি। একটা জিনিস খুব ভয় হয়। তা হলো, সহজেই যাচ্ছেতাই লেখা যায়। লিখতেই আছি, কমেন্টে, পোস্টে, ইনবক্সে -- যেন লেখাটা কিছুই নয়। খুব অবহেলায় অনেক লিখেছি অনেক জায়গায় অনেক কিছু...

ফেসবুকের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহারে আমাদের মনগুলো কীভাবেই না পরিবর্তিত আর পথভ্রষ্ট হয়েছে। একটা কিছু হলেই ফেসবুকে পোস্ট দেয়ার একটা উদগ্র বাসনা ভিতরে কাজ করে। ছবি আপলোড করে লাইক আর কমেন্টেই যেন ফুটে উঠে আমার *গ্রহণযোগ্যতা* সবার কাছে কতটুকু, কিংবা আমরা দেখতে কতটুকু সুন্দর। একটা কিছু লিখেই অপেক্ষায় থাকি লাইক আর কমেন্টের। যেখানে উদ্দেশ্যগুলো হবার কথা আল্লাহর সন্তুষ্টি। খুব ক্ষীণ একটা লাইনের ওপারে আমাদের অজান্তেই সেটা হয়ে যায় কিছু লাইক আর কমেন্ট প্রাপ্তি...

একটা বড় ক্ষতি হলো, আমাদের অনুভূতিগুলোকে পানসে করে দেয়া। প্রতিটা জিনিসই যখন ফেসবুকে, তখন সামনাসামনি অনেকদিন/অনেকক্ষণ পর পাওয়া মানুষটার সাথে কথা/অনুভূতি ভাগাভাগির গভীরতাটা থাকেই না। অথচ আমি দ্বীনের শিক্ষাতে শিখেছিলাম, বিরতি দিয়ে দিয়ে ভাইদের সাথে মিলিত হতে এতে করে পারস্পারিক সম্প্রীতি বাড়বে।

আমরা সবাই ভেবে নিয়েছি আমাদের অভিমত খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তাই সমস্ত বিষয়ে লাগামহীন মন্তব্য, তর্ক, কুরূচিপূর্ণ শব্দ দিয়ে ভরিয়ে দিচ্ছি ইনবক্স/কমেন্টবক্স/পোস্টগুলো। আমাদের যোগ্যতা, জ্ঞানের গভীরতা এবং সেই সাথে সময়ের ব্যবহার কতটুকু 'ইফেক্টিভ' হচ্ছে সেই হিসেবে এইসব কাজ অকল্পনীয় ক্ষতিকর হয়ে যাচ্ছে। আখিরাতে জবাবদিহিতার বিষয়টা আমাদের ভাবায় না?

বাস্তব জীবনে কেউ বাঁকা কথা বললে সহ্য করে নিই আমরা, জানি কে কীভাবে আমাকে জানে। অনেক অপমানকে গায়ে না মাখলেও চলে। ফেসবুকে কেউ কাউকে কিছু বললে *উপযুক্ত শিক্ষা* না দিলে পেটের ভাত যেন চাউল হয়ে যাবে ভাব নিয়ে মাঠে নেমে পড়তে দেখেছি অনেককে। আল্লাহ মাফ করুন আমাদের। এমন কত বড় বড় অন্যায়ের অংশ হয়ে যাচ্ছি লাইক/শেয়ারের মাধ্যমে, কত সহজেই, ভেবে কি দেখেছি?

নিশ্চিত যে অনন্তকালের জীবন, তাকে জটিল বা ব্যর্থ করে দেয়ার এই অদ্ভুত আয়োজনে আমরা কত আগ্রহেই না যোগ দেই প্রতিদিন। ভালো কাজের সংখ্যা আমাদের এমনিতেই কম। লাইক/কমেন্ট/শেয়ারের লোভ, চ্যাটিং-এ মানুষের সাথে অনর্থক আলাপের আগ্রহ আমাদের কোথায় ঠেলে দিচ্ছে প্রতিদিন... ভেবে দেখেছি কি আপন মনে? আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা আমাদেরকে ক্ষমা করুন, সরল সঠিক পথে পরিচালিত করুন।

- এই প্রসঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ দু'টি লিঙ্ক:

1. Faceboook : The Hidden Danger : Yasmin Mogahed http://www.suhaibwebb.com/society/entertainment/facebook-the-hidden-danger/

2. Fiqh of Facebook : http://www.suhaibwebb.com/society/media/the-fiqh-of-facebook/

২৩ নভেম্বর, ২০১৩

২২ জুল, ২০১৩

সমাজে অশ্লীলতা যখন ক্রমাগত ভয়াবহ হচ্ছে তখন তরুণরা কী করতে পারে?

এই চলমান সমাজে অশ্লীলতা ভয়াবহ থেকে ভয়াবহতর হচ্ছে। একজন কিশোর-তরুণের অশ্লীলতাবিহীন বেড়ে ওঠা সত্যিই কষ্টসাধ্য মনে হয়েছে আমার কাছে। একবার আমার একটা লেখা [১] একটা পেইজে শেয়ার হয়েছিলো, লেখাতে অবিবাহিত ভাই ও বোনদেরকে পবিত্র জীবনসঙ্গীর জন্য অপেক্ষার তাগিদ ছিলো আমাদের ইসলামের ইতিহাসে সেরা মানুষদের উদাহরণ টেনে। সেখানে কয়েকজন মানুষ *সত্যিকারের* অবিশ্বাস নিয়ে নির্দেশ করেছিলেন 'এমন (পবিত্র) ছেলে-মেয়ে এই সমাজে আছে নাকি?' তার প্রোফাইল ঘুরে, কমেন্ট পড়ে আমার বিশ্বাস হয়েছিলো সে সত্যিই কল্পনা করতে পারেনা এই সমাজে সত্যিকারের পবিত্র মনের মুসলিম এবং মুসলিমাহ আছে। আমার বড্ড কষ্ট হয়েছিলো সেই মানুষটার প্রতি। কত অশান্তই না সেই অন্তর! সুবহানাল্লাহ!

একজন তরুণ ভাইয়ের জন্য কিছু বিষয় আমার অভিজ্ঞতা থেকে শেয়ার করবো। শুধুই ব্যক্তিগত মত। আমি ব্যক্তিগতভাবে টেলিভিশন/স্যাটেলাইট চ্যানেল সম্পূর্ণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে জীবনে অনেক আগেই বাদ দিতে পেরেছিলাম। তাই মাঝে মাঝে বিভিন্ন কারণে টিভি দেখতে গিয়ে নির্লজ্জ কমার্শিয়ালগুলোর অত্যাচার দেখে ভীত হয়েছি। ক'দিন আগে দেখলাম -- বডি স্প্রের কারণে কাউন্টার দিয়ে এক ভারতীয় নায়ক দেখছে কতগুলো মেয়ে তার প্রতি শারীরিকভাবে 'অ্যাট্রাক্টেড' বোধ করছে। আরেকজনের সাথে তার এই বিষয়ে প্রতিযোগিতাও হচ্ছিলো!! নারীদেরকে পণ্য থেকে কামুক করে কতটা নীচে নামিয়ে এনেছে এমন কমার্শিয়ালে ভাবতেই ঘেন্না হয়। আল্লাহ আমাদের রক্ষা করুন ধ্বংসের দিকে ধাবমান এই নোংরা সংস্কৃতি থেকে।

২৮ জুন, ২০১৩

ফেসবুক যখন ইগো প্রকাশের নিপুণ মাধ্যম

ফেসবুক একসময় এমন ছিলো না, জ্ঞানের প্রতিযোগিতা, সৌন্দর্যের প্রতিযোগিতা, দাম্পত্য জীবনের সুখ প্রদর্শনের প্রতিযোগিতা, ক্ষমতার দাপট দেখানোর প্রতিযোগিতা, নিজের ব্যক্তিগত-পারিবারিক-রাজনৈতিক-সামাজিক সবকিছুই ফিল্টারবিহীনভাবে প্রকাশ করা এবং যাবতীয় ইগো প্রকাশের উন্নত এবং ঝামেলাহীন ড্রেইনেজ সিস্টেম এই ফেসবুক। ইগোকে প্রশ্রয় দান করলে তা সেই ব্যক্তিকেই খুবলে খুবলে খায়, সে আরো বন্দী হয়ে যায় নিজের নফসের কাছে। বাস্তব জগতের কারাগারে বন্দী থাকলে সেই শিক দেখা যায়, কিন্তু নিজের নফসের কাছে, হিংসা-পরশ্রীকাতরতা-ক্রোধ-অহংকার-দম্ভ আমাদেরকে যেই শিকের আড়ালে বন্দী করে রাখে তা চোখে দেখা যায় না, তা অদৃশ্যমান। কিন্তু সেগুলো বড়ই ভয়ঙ্কর। ফেসবুকের উসিলায় আমাদের এই ভয়াবহ কারাগারে বন্দী হওয়াটা সহজ থেকে সহজতর হয়ে গেছে।

আসলে নিজেকে মুক্ত করার এই প্রক্রিয়া নিজেদের ভিতর থেকেই আসে, নিজেকে খেয়াল করতে হয় গভীর করে, আগ্রহভরে। আল্লাহর কাছে সাহায্য চাইতে হয়, আল্লাহ ছাড়া কেউ সাহায্য করার নেই, তিনি যাকে ইচ্ছা তাকেই দান করেন। আল্লাহ আমাদের জন্য কঠিন জিনিসও সহজ করে দিতে পারেন, সহজ জিনিসও কঠিন করে দিতে পারেন। আল্লাহ আমাদের জন্য কোন কিছু সহজ করে না দিলে তা কখনো সহজ হয় না। বান্দা চাইলে আল্লাহ তাকে অবশ্যই দান করেন, এই চাওয়া আমাদের ভিতর থেকে আর্তি হয়ে আসা প্রয়োজন। আল্লাহ আমাদের মুসলিম ভাই ও বোনদেরকে ক্ষমা করুন, পরিচালিত সরল ও সঠিক পথে।

প্রখ্যাত তাবিঈ ইমাম আল-হাসান আল-বাসরি (রাহিমাহুল্লাহ) খুব সুন্দর একটা কথা বলেছিলেনঃ

"বুদ্ধিমান ব্যক্তির জিহবা তার হৃদয়ের পেছনে থাকেঃ সে যখন কথা বলতে চায়, প্রথমে সে চিন্তা করে। যদি শব্দগুলো তার জন্য কল্যাণকর হয় তাহলে সে তা বলে। আর যদি কথাগুলো তার জন্য অকল্যাণকর হয় তাহলে সে চুপ থাকে।

একজন মূর্খ ব্যক্তির জিহবা তার হৃদয়ের সামনে থাকেঃ সে কথা বলার সময় খুব কমই চিন্তা করে এবং তার জন্য কল্যাণকর বা অকল্যাণকর যা-ই হোক সে বলে ফেলে।"


আমাদের প্রকৃত কল্যাণ ও অকল্যাণ নিয়ে হিসেব করা উচিত আখিরাতের কথা চিন্তা করে। এটা নিশ্চিত, বিষয়টা সহজ না এবং আমাদের জন্য চিন্তা করা ও কাজ করা সচরাচর বেশ কঠিন হয়ে যায়। কিন্তু যেই আখিরাত সত্য এবং সেখানকার কল্যাণ ও অকল্যাণও সত্য -- তার জন্য একটুখানি প্রচেষ্টা যদি করি আজকে, আল্লাহ আমাদের রাহমাত দান করবেন এবং আমরা ধীরে ধীরে নিজেদের উন্নত করতে পারব। কোন দীর্ঘযাত্রার প্রথম পদক্ষেপটাই না নিলে কেউ কখনোই কোথাও পোঁছাতে পারতাম না। এই শুরু করাটাই আসল, 'বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম' বলে আমাদের এই যাত্রাটি শুরু হয়ে যাক আজই, এক্ষুনি! ইনশা আল্লাহ...

* quote collected from the page of Imam Omar Suleiman

[২৮ জুন, ২০১৩]

ফেসবুকে কল্যাণকর কথাতেও ডিসেনসিটাইজড হওয়া

আমার প্রথম ফেসবুক একাউন্ট যদি হিসেব করি, আমি তখন থেকে প্রায় সাড়ে পাঁচ বছর ধরে একটানা ফেসবুকে ছিলাম/আছি। জীবনের কেন্দ্রে যেদিন থেকে সজ্ঞানে আল্লাহকে আনতে চেয়েছি, তখন থেকে ফেসবুকিং জিনিসটাতেও ভিন্নতা এসেছিলো, আসাই স্বাভাবিক। আমি শতাধিক মানুষকে চিনি যারা এমন করেই বদলেছেন।

ইদানিং আমার মনে হয় আমি সবচাইতে বেশি যে বিষয়টাতে ক্ষতিগ্রস্ত তা হলো -- 'ডিসেনসিটাইজেশন'... নাহ, আমি কোন নেগেটিভ বিষয়ে অনুভূতিহীন হয়ে যাবার কথা বলছি না। বলছি ভালো কথাতেই অবশ হয়ে যাওয়া।

৫ অক্টো, ২০১২

ফেসবুকে নির্লজ্জতার প্রসার ও কিছু চিন্তা


আধুনিক তরুণ প্রজন্মের বিশাল একটা অংশ এখন ফেসবুক ব্যবহার করে। প্রযুক্তির উন্নয়নের সাথে সাথে এই সোশাল নেটওয়ার্কিং সাইটগুলোতে সবারই ব্যাপক পদসঞ্চালন। টুইটার ও ফেসবুকের মাধ্যমে ক্ষণিকের মাঝেই জেনে যাওয়া যায় সারা পৃথিবীর অনেক খবর। আন্তর্জাতিক সাংবাদিকগণ তাদের ব্যক্তিগত টুইটার অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে থাকেন খুবই নিয়মিভাবে। তেমনি সমস্ত ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানও এখানে সংযুক্ত হয়েছে সহজেই মানুষের কাছে পৌছাতে, তাদের কাছে নিজেদের সেবা ও পণ্য সম্পর্কে জানিয়ে দেয়া, ভোক্তাদের কাছ থেকে ফিডব্যাক নেয়া এবং সেই অনুযায়ী ব্যবসার উৎপাদন বৃদ্ধি করার নজীর রয়েছে পর্যন্ত। শিক্ষক, বুদ্ধিজীবী এবং খেলোয়ার ও অন্যান্য সেলিব্রিটিরাও তাদের ভক্তদের অনেক কাছে চলে যেতে ব্যবহার করে ফেসবুক, টুইটারসহ অন্যান্য সোশাল নেটওয়ার্ক।