society লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
society লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

৫ ডিসে, ২০১৫

আল্লাহর প্রিয় বান্দা হতে হলে হৃদয়টা স্বচ্ছ হতে হয়

 

এমন কিছু মানুষের সাথে দেখা হয়েছে আমার জীবনে যারা হয়ত 'হুজুর' টাইপ না, তাদের ইসলামের বুঝগুলোও স্পষ্ট না। হয়ত ধর্মের ব্যাপারে আগ্রহও কম। কিন্তু মানুষগুলোর চিন্তা বেশ স্বচ্ছ। তারা যে ভুল কাজগুলো করেন, সেগুলো করলে তারা স্বীকার করে, তারা অন্য কাউকে ইচ্ছাকৃতভাবে আঘাত করে না, গীবত করে না অযথাই অন্যকে ছোট করে নিজে বড় হতে গিয়ে। তারা মানুষের অনুভূতিকে শ্রদ্ধা করে এমনকি ভিন্নমতের হলেও। এরকম মানুষগুলোর হৃদয়ে যে আলো দেখতে পাই, তা আমি অনেক 'কড়া ধার্মিক' ভাব ধরা টাইপের লোকদের কাছে কানাকড়িও পাইনি। এই মানুষগুলোর সান্নিধ্যে থাকতেও স্বস্তি লাগে।

ইসলাম যদি মড়ার ধর্ম হতো, যা মানুষকে মূল্য দেয় না -- তাহলে ইসলাম যুগ-যুগান্তর ধরে ভিন্ন ধর্মের, ভিন্ন রঙের, ভিন্ন সমাজের লোকদের কাছেও গৃহীত হত না। ক্রিশ্চিয়ানিটির চার্চ যেভাবে মানুষের উপরে ক্ষমতা ও জোরপূর্বক 'বিধি বিধান' প্রয়োগ করে মানুষকে যন্ত্রণা দিয়ে তাদেরকে ধর্ম থেকে তাড়িয়েছে। ফলে আজো পশ্চিমাদের মাঝে রিলিজিয়ন চার্চের বাইরে আসবে ভাবলেই আঁতকে ওঠে, ইসলাম নিয়েও তাদের ভয়টার পেছনে ধর্মের 'ঐতিহাসিক' ঘটনাগুলোর প্রভাব আছে। সেই একই পথের লোক এই ইসলামের নাম ধরেও অনেক থাকে, যাদের উপস্থিতি মানুষকে ইসলামকে ভুল বুঝায়, ইসলামের বিষয়ে ভুল ধারণা দেয়। এদের কঠোরতা আর সংকীর্ণতার খপ্পরে পড়ে মানুষ ইসলামের 'এক্সট্রিম' থেকে পালিয়ে বাঁচতে চায়। অথচ এসব লোকেরা আদতে ইসলামের মর্মই বুঝেনি। স্রেফ নিজেদের ক্ষুদ্রতাকে সুন্দর রূপ দিতে ধর্মের নৌকায় পা দিয়ে লোকের কাছে 'দাম' নিতে, 'পাত্তা' নিতে ধার্মিকের চেহারা/শব্দ/ভাব নেয়।

মানুষকে ভালোবাসতে হয়, মানুষকে মর্যাদা দিতে হয়। মানুষের চিন্তাকে মূল্য দিতে হয়। 'সহীহ পথে আছি' ভেবে তাই অন্যদের দিকে ভ্রূকূটি করে তো সেই একচোখা-উদ্ধত মানুষটা আল্লাহর সৃষ্টি মানুষকেই ছোট করে; সে আবার এসব করে আল্লাহকে কেমন করে পাবে?

আল্লাহ প্রতিটি মানুষকে প্রতিবেলা খাওয়াচ্ছেন, পরাচ্ছেন, শ্বাস নেওয়াচ্ছেন পরম ভালোবাসায়। হয়ত বুঝ এলে অবুঝ লোকটাও আল্লাহর গুণকীর্তন করেই জীবন কাটিয়ে দেবে। তবু এমন মানুষের উপরে আমাদের কতিপয় 'ধার্মিকদের' কেমন অদ্ভুত 'অহংবোধ' কাজ করে? মানুষের সাথে দেখা হলেই নিজেকে 'সুপিরিয়র' কেন ভাবতে হবে? হলেই না হয় ইনফেরিওর, মেনেই নিন না আপনি তার চেয়ে অনেক কিছুতেই ছোট। মেনে নিন!

আল্লাহর প্রিয় বান্দা হতে হলে হৃদয়টা স্বচ্ছ হতে হয়। ভালোবাসতে শিখতে হয়। যার হৃদয়ে মাখলূকের প্রতি ভালোবাসা নেই, সে আল্লাহকে ভালোবাসার দাবী কীভাবে করতে পারে? কঠিন হৃদয়ের মানুষরা আল্লাহর থেকে অনেক দূরে। মানুষকে ভালোবাসতে হয়। ভালোবাসতে হয় সবাইকে, কোন 'যদি' ও 'কিন্তু' ছাড়াই যে ভালোবাসা...

[১৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৫]

২৮ নভে, ২০১৫

নিজেদের 'বিশুদ্ধ' মুসলিম মনে করে সন্দেহ আর ঘৃণায় কেন ডুবে থাকা?

 

মানুষ পৃথিবীতে আল্লাহর প্রতিনিধি। অন্যেরা যখন তা ভুলে থাকে, তখন মুসলিমরাই সেই প্রতিনিধির দায়িত্বধারী। মজার ব্যাপার হলো, এই মুসলিমদের মধ্যে অল্প কিছুই সচেতন মুসলিম। এই সচেতনদের মাঝে অনেকেরই রয়েছে 'গ্রুপিং' মেন্টালিটি। নিজেদের 'বিশুদ্ধ' মনে করার বিভ্রম এবং অন্যদের 'অশুদ্ধ' মনে করে তাদের থেকে দূরে থাকার এক বিচিত্র বিশ্বাস ও সংস্কৃতি বেশিরভাগে 'গ্রুপের' লোকদের মাঝে বিরাজমান।

সংকীর্ণতার চর্চা করতে করতে নিজেদেরকে বিশাল এই পৃথিবী ও সৃষ্টিজগতের স্রষ্টার প্রতিনিধি থেকে সংকীর্ণমনা খুঁতখুঁতে নেগেটিভ মেন্টালিটির কিছু মানসিক প্রতিবন্ধীতে পরিণত করে ফেলেছি আমরা আমাদেরকেই। তাইতো, নিজেদের 'ইসলাম পালন' নিজেদেরও উপকার করে করেনা, অন্য মুসলিমদের, অন্য ধর্মের লোকদের উপকার তো দূরে থাক। অন্যদের বিশ্বাস, অন্যদের সাথে মেলামেশা যখন এতই অপছন্দ ও ঘৃণার, তখন তারা কেমন করে জানবে আল্লাহ এত সুন্দর একটা জীবনবিধান পৃথিবীতে পাঠিয়ে রেখেছেন। শেষমেষ, এসব বিশুদ্ধতাবাদী মুসলিমরা আত্মতুষ্টি পাওয়ার চেষ্টাতেই পৃথিবীর জীবনটা পার করে ফেলে। তাদের 'বিশুদ্ধ' ও সহীহ চিন্তাধারার অহং তাদের ভয়াবহ মানুষে পরিণত করে চলেছে। নতুন এই ভয়ংকর রোগ এখন বাংলাদেশের মাঝে ছড়িয়ে চলেছে প্রতিনিয়ত।

আবার, এই স্রোতে গা না ভাসিয়ে হৃদয়টাকে অনেক বড় করে চলা মানুষও কম নেই। হয়ত তাদের অনেক কটাক্ষ শুনতে হয়, তাদের অনেক বেশি জ্বালা ও যন্ত্রণা সইতে হয় সবখান থেকেই। মুসলিম নামের মানুষগুলোর কাছ থেকেও, অমুসলিমদের কাছ থেকেও। ইসলাম যে ভালোবাসার, শান্তির তা ভুলে যেতে বসেছি আমরা। ইসলাম কেবলমাত্র প্রয়োজনের ক্ষেত্রেই কঠোর এবং সেটাও সমাজে শান্তি আনয়নের জন্য। তাই বলে অপরের সাথে আচরণের কঠোরতা এবং ভালোবাসাহীনতার, খুঁতখুঁতানি ও সন্দেহের এই বৈপরীত্যময় চর্চা এসেছে কাদের হাত ধরে?

ভালোবাসা, দয়া, রাহমা এগুলো সবই আল্লাহর গুণবাচক ব্যাপার। ভালোবাসলে তাতে ক্ষতির কিছু নেই। আপনি ভুল মানুষকে বিশ্বাস করতে পারেন, বিশ্বাস করে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন। কিন্তু বিশ্বাস একটি সম্পূর্ণ পজিটিভ বিষয়। কেবলমাত্র সাহসী, সৎ লোকেরাই বিশ্বাস করতে পারে-- হোক তা যেমনই বিশ্বাস।

ঈমানে রোগ লেগে থাকা লোকেরা নিঃসংকোচে ভালোবাসতে পারে না, বিশ্বাস করতেও পারেনা। ঈমান আছে কিনা তা বুঝতে ভলিউমের পর ভলিউম বই ঘাঁটতে হয় না। এত কঠিন বিষয় আল্লাহ মানবজাতির প্রতি দান করেন নাই, তিনিই সমস্ত জ্ঞান ও প্রজ্ঞার মালিক। মুসলিমরা ভালোবাসতে পারে, অন্যের কষ্টকে অনুধাবন ও উপলব্ধি করতে পারে, সহজেই মিশতে পারে, দয়া করতে পারে শত পৃষ্ঠার যুক্তিমার্কা আলোচনা ছাড়াই।

সংকীর্ণতার জিঞ্জির ভেঙ্গে মুক্তি পেতে চাইলে ভালোবাসতে শিখতে হবে, অসংকোচ ভালোবাসা।

[০৭ অক্টোবর, ২০১৫]

২৭ নভে, ২০১৫

প্লুরালিজম কী?


[প্লুরালিজম এখন একটি বৈশ্বিক শব্দ। অনেকেই এই ধরনের চিন্তা ও আনুসঙ্গিক বিষয়কে বর্তমান সময়ের উত্তাল বিশ্বে শান্তি আনয়নে, হিংসা-জিঘাংসা নিরসনে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলে মনে করেন। এই লেখাটি প্লুরালিজম ডট অর্গ ওয়েবসাইট থেকে নেয়া প্লুরালিজমের ইন্ট্রুডাকশন সেকশনের ভাবানুবাদ]

প্লুরালিজমের আইডিয়াটা মূলত প্রথম এসেছিলো ১৯৯০ সালের দিকে হার্ভার্ড কলেজের প্রফেসর তার স্টুডেন্টদের নিয়ে মাল্টিপল রিলিজিয়ন নিয়ে কাজ করার সময়। ১৯৯৭ সালে পর এইটা একটা রূপ পায় আমেরিকাতে। বিগত কয়েক বছর ধরে এইটা থিওলজিস্টদের কাছে বেশ গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে পরিগণিত হচ্ছে।

১) প্লুরালিজম শুনতে হয়ত মনোলিজম টাইপের শব্দের বিপরীত শোনায়। শাব্দিক অর্থটা এমন হলেও, আসলে এটা কেবল ধর্মীয় চেতনার বৈচিত্র্যকে বুঝায় না। এই টার্মিনোলজিটা সময়ে প্রয়োজনেই এসেছে। মূলত প্রতিটি ধর্মীয় চেতনার গোষ্ঠির মাঝে নিজ নিজ চিন্তাধারার ব্যাপারে প্রকটতা কাজ করে। কেবলমাত্র নিজেদের নিয়েই থাকার ফলে কোন বৈচিত্র্যকেই তারা মেনে নেয় না, আর অন্য চেতনার মানুষদের সাথে কোন কথাবার্তাও হয়না। তাই, প্লুরালিজম কেবল বৈচিত্র্যকে গ্রহণ করাই না, বরং আগ্রহী হয়ে এগিয়ে গিয়ে অন্য ধর্ম চেতনা আর বিশ্বাসকে জানতে চাওয়ার মাধ্যমে চলমান অস্থিরতা আর গোঁড়ামির সংকট কমানোর একটা আইডিয়া প্লুরালিজম।

২) প্রতিটা ধর্মবিশ্বাস ভিন্ন ভিন্ন চেতনার প্রতিফলন হলেও, তাদের মাঝে কিছু মূল সাদৃশ্য আছে। তাই, প্লুরালিজমের আরেক নাম হলো এই বিশ্বাসগুলোর মাঝে যেসব মিল আছে -- তাদের খুঁজে বের করা। সাধারণত সবাই আধা-সত্য জিনিসের উপরে বিশ্বাস করে বসে থাকে, অজ্ঞানতার কারণে কেবল অন্য ধর্মের প্রতি বিরূপ হতে থাকে। এই সংহতি বা সহ্য ক্ষমতাকে বাড়ানো সমগ্র বিশ্বের প্রেক্ষাপটে খুবই দরকারি। তাই ধর্মগুলোর নিজেদের মধ্যে বিশ্বাসসমূহের জ্ঞানের শেয়ারিং এখানে গুরুত্বপূর্ণ।

৩) যদিও ধর্ম থেকে ধর্ম আলাদা বিশ্বাসের উপরে দাঁড়ানো, তবু এখানে সাদৃশ্যগুলোর উপরে ভিত্তি করে দেখা যায় যে নিজেদের চাওয়াগুলো এক পর্যায়ে একই থাকে। অনেক বেশি পার্থক্য সত্বেও এই সাদৃশ্যের চেতনাকে লালন করে পরস্পর সম্পর্ক উন্নয়নটা প্লুরালিজমের একটা গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

৪) প্লুরালিজম মূলত বিভিন্ন ধর্মের চেতনার মানুষদের মাঝে কথাবার্তা ও ডায়লোগকে বুঝায়। অর্থাৎ, কেবলমাত্র নিজের ধর্মকে নিয়ে জেনে বসে থাকা নয়, বরং পারস্পরিক জ্ঞান শেয়ার করার মাধ্যমে অন্যের বিশ্বাসকে গ্রহণ করাই না, বরং নিজেদের উদ্যোগে তাদের সাথে মিলগুলো খুঁজে প্রকৃত উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে পথ চলা হলো প্লুরালিজম।

রেফারেন্স:

# ওয়েবসাইট - http://pluralism.org/pages/pluralism/what_is_pluralism
[ইউটিউব ভিডিও] -  www.youtube.com/watch?v=XgW3vP7p3no
[বই] Quest for Meaning - Developing the philosophy of Pluralism : Tariq Ramadan

১৩ আগ, ২০১৫

আশা ও ভালোবাসার কথা



মানুষ তার চারপাশের পরিবেশ দ্বারা খুব বেশি প্রভাবিত। যখন আপনি এমন কিছু মানুষের সান্নিধ্য পাবেন যারা স্বপ্ন দেখতে ভালোবাসে, যারা এই চলমান অন্যায়-অস্থিরতা-হত্যা-খুনের পৃথিবীর মাঝেও অদম্য আশাবাদের সুতোয় মালা গাঁথে--তখন আপনিও আশাবাদী হবেন আপনার জীবন নিয়ে। তখন নিজ জীবনকেও সম্ভাবনার আধার মনে হবে, মনে হবে একদিন চারপাশকে নিয়ে আপনি সুখ আনতে পারবেন। টের পাবেন আপনি বিশ্বাস করছেন যে চলমান কষ্টের সময়টা কেটে গেলেই আপনি আবার সুন্দর সময় খুঁজে পাবেন। এই আশাবাদের তরী বেয়ে চলেই এসেছে মানবজাতি এতটা পথ। নতুবা প্রতিটি মানুষের জীবনেই যে ভীষণ ধাক্কা আসে জীবনের একেকটি ক্ষেত্রে, মানুষকে পরাজিত হয়ে পদদলিত হতে থাকতে হত। কিন্তু সম্ভাবনাকে আঁকড়েই মানুষ এগিয়ে যায়।

১৮ মে, ২০১৫

শিক্ষার সাথে উত্তম আচরণের কোন সম্পর্ক আছে কি?


শিক্ষা আমাদের আচরণকে পরিশীলিত করে। এই কথা কতবারই তো শুনেছি। তোহ, আসলেই কি শিক্ষিতজনেরা পরিশীলিত ও সুন্দর আচরণের হয়ে থাকেন? কিংবা, যারা হন, তারা কেন হন? চিন্তা করে দেখলে বোঝা যায়, শিক্ষা মানেই পথ পাড়ি দেয়া। সে পথে আমাদের ইচ্ছেমতন না, একটা নিয়মতান্ত্রিক ছাঁচে পথ চলতে হয়। সেখানে একটা শৃংখলার মাঝে প্রতিষ্ঠানে উপস্থিত হতে হয়, সময় অনুযায়ী প্রস্তুতি নিয়ে পরীক্ষা দিতে হয়। এসবের মাঝে প্রকৃত শিক্ষা হয় শৃংখলার। কোথায় কেমন করে চলতে হয়, সেটার একটা অনুশীলন হয়। একটা বিষয়কে গভীরভাবে বিভিন্নভাবে চিন্তা করার দলবদ্ধ আয়োজন সেখানে থাকে। দলগতভাবে সমস্যা নিয়ে সামাজিকভাবে সম্পর্ক উন্নয়নের মাধ্যমে চিন্তাভাবনা করা হয় শিক্ষার্জনের সময়ে। সবার ব্যক্তিগত স্বপ্ন, দৃষ্টিভঙ্গি, চিন্তাভাবনার একটা প্রস্ফূটন হয় শিক্ষার মাধ্যমে। সবচেয়ে বড় কথা, নানান বয়সের, নানান পেশার, নানান পরিবারের, নানান মতবাদের মানুষদের সাথে নারী-পুরুষ ব্যতিরেকে মিথস্ক্রিয়া ও আচার-আচরণের একটি অনুশীলন হয় শিক্ষার্জনের সময়ে। এই সামাজিকতার শিক্ষা অনেক বড় শিক্ষা।

১৪ মার্চ, ২০১৫

একুশে ফেব্রুয়ারি

​ভাষার প্রতি শ্রদ্ধা সবাইই প্রকাশ করেছি, করছি। কিন্তু একটা বেদীতে, স্থাপত্যের গোড়ায় ফুল দিয়ে এসে আমরা কী বুঝাতে চাই? এই নামকাওয়াস্তে সম্মান দিয়ে ভাষার জন্য জীবন দেয়া মানুষরা আদৌ কোন উপকার পাবেন, নাকি আমরা পাবো? মুসলিমদের বিশ্বাসের সাথে এই বিষয় সরাসরি সাংঘর্ষিক। আমরা আল্লাহর কাছেই চাই, পাথরের-প্লাস্টিকের কাছে 'সম্মান' একসময় সেটার ইবাদতে পরিণত হয়। শয়তান এভাবে অজস্র জাতিকে পথভ্রষ্ট করেছে, আল্লাহর ইবাদত ঠেলে এভাবেই মূর্তিপূজার আবির্ভাব ঘটে। আখিরাতে ক্ষতি না চাইলে সাবধানতা জরুরি।

ঘরে ঘরে ডিশ সংযোগ নিয়ে শিশুদের সবার মাঝে কেমন ভাষার চর্চা হয় তা আশা করি সবাই জানে। প্রতিদিন অজস্র ভাষা হারিয়ে যাচ্ছে পৃথিবী থেকে। বাংলা ভাষাভাষীদের সংখ্যা বেশি হলেও হিন্দির সাংস্কৃতিক আগ্রাসন যেভাবে চলছে, আগামী প্রজন্ম বাংলাকে কেমন করে লালন করবে তা আল্লাহ ভালো জানেন। কয়েক প্রজন্ম পরে কী হবে তা নিয়ে আশাবাদী ভাব মারার আগে ঘরে ঘরে একটু খোঁজ নিলেই একজন টের পাবেন।

অনলাইনে বাংলা ভাষায় কিছু সার্চ দিতে গেলে গুগলের 'সাজেশন' এবং 'মোস্ট সার্চড কীওয়ার্ড' দেখে টের পাওয়া যায় এই ভাষার মানুষগুলো কতটা নোংরামি লালন করে।

ভাষার বৈচিত্র্য আল্লাহর সৃষ্টির নিদর্শনগুলোর একটি। একজন বোবা জানে কথা বলতে পারা আল্লাহর কত বড় নি'আমত। আশা করি আমরা এমন দিনকেও 'ভ্যালেন্টাইন ডে' না বানিয়ে বাংলা ভাষাকে আরেকটু শিখবো, বাংলাকেই চালু রাখবো নিজেদের আলাপে--তাতে হিন্দি আংরেজি ঢুকিয়ে 'ইশ্মার্ট' হবার চেষ্টা করবো না। আল্লাহ বাংলাদেশ ও বাংলা ভাষাকে রহম করুন।

[২১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৫]

৮ ফেব, ২০১৫

হয়ত পৃথিবীর শেষ সময়ের খুব কাছাকাছি আমরা

অবাক হয়ে নিজের বুক চেপে হৃদস্পন্দন নিলাম। এইতো, পৃথিবীর এই সময়টায় বাংলাদেশ নামের এক দেশে বেচে আছি। কতদিন আছি জানিনা কেননা একে তো মৃত্যু ব-দ্বীপ বলেন অনেকে। 'যে মারা যাচ্ছে সে জানেনা কেন মারা যাচ্ছে, যে মারলো সে জানেনা কেন হত্যা করছে' -- রাসূলুল্লাহর সাবধানবানী দেয়া এমন সময়টা কি চলে এলো নাকি? এ তো তাহলে ভয়ংকর সেই সময় যখন খুবই সতর্ক থাকতে হবে, এমন সময়ে অসচেতন হলেই অনেকের মৃত্যু সরাসরি জাহান্নামে নিয়ে যাবে।

যেদিন দেশজুড়ে অগণিত খুন, আগুনে দহনে, বোমায়-গুলিতে মানুষ মরে লাশ হয়ে গেলো, সেদিনও চেলসি-ম্যানইউ, মুভি-সং, হ্যাং-আউট, ক্রাশের গল্প লিখে রাত কাটিয়েছে অনেক তরুণ-তরুণী, যুবক-যুবতী। অনেকগুলো বছর ধরে একটি রাস্ট্রীয় ও সামাজিক পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে অন্যায়কে হজম, লালন করার উপযোগী করে। এখন সেই প্রজন্মে ছেয়ে আছে দেশ যারা নির্বিকার, ক্যারিয়ারভাবনায় মজে থাকা, সমাজ ও রাজনীতি অসচেতন, অমানবিকতায় ভরপুর একদল অদ্ভুত প্রাণী।

হয়ত পৃথিবীর শেষ সময়ের খুব কাছাকাছি আমরা। হয়ত আর কয়েকশত বছরের মাঝে কিংবা হয়ত আরো কম বা বেশি সময় পরে কিয়ামাতপূর্ব বড় ঘটনা ঘটবে। হয়ত দাজ্জালের ফিতনাতে অন্ধভাবে ডুবে যাওয়ার মানুষ তৈরি হচ্ছে এখন এসবের মধ্য দিয়েই। আল্লাহ আমাদের হিফাজত করুন। অন্যায় যখন গৃহীত সবখানে, অনিয়ম যখন নিয়ম, অত্যাচারী যখন সম্মানিত --তখনও যেন আল্লাহ আমাদেরকে সরল-সঠিক পথে পরিচালিত করেন। আল্লাহ যেন অন্যায়কারীদের হাত গুড়িয়ে দেন। আল্লাহ যেন আমাদের এমন ঈমান দান করেন যা আমাদের জান্নাতে নিয়ে যাবে। নিশ্চয়ই সমস্ত ক্ষমতার মালিক কেবলমাত্র আল্লাহ।

[০৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৫]

৩ ফেব, ২০১৫

আমাদের পরবর্তী সময় তো পূর্ববর্তী সময়ের চেয়ে বেশি খারাপ

বিগত শতকের শেষভাগে মৃত্যুবরণ করা সিরিয়ার শাইখ আলী আল-তানতাওয়ির (রাহিমাহুল্লাহ) একটা কথা ক'দিন আগে ড. ইয়াসির ক্বাদি লিখেছিলেন যা আমার খুবই পছন্দ হয়েছিলো। শাইখ আলী যা বলেছিলেন তা অনেকটা এমন যে, জীবনের এমন কোন যুগ তিনি পাননি যে সময়ের ক্ষতি ও খারাপগুলো তাকে কষ্ট ও দুঃখে জর্জরিত করেনি। অথচ সেই সময়টা চলে যাবার পরে তিনি সেই 'কষ্টকর সময়টা' কতই না ভালো ছিলো তা মনে করে স্মৃতিচারণ করেছেন, বেদনার্ত হয়েছেন।

অল্প কিছু লোকের কূটবুদ্ধির কাছে গোটা সভ্যতা এখন বন্দী

আমার খুব আফসোস হয় যখন বুঝি আমরা সাধারণ মানুষদের জীবন কিছু মানুষের কাছে কীটপতঙ্গের চেয়েও বেশি 'সিলি'। অল্প কিছু মানুষ কেমন করে ট্র্যাপ করে, প্ল্যান করে লক্ষ-কোটি মানুষের জীবনকে ছকে বেঁধে নিজেরা ক্ষমতা ও সম্পদগুলো ভোগ করে। সাধারণ মানুষগুলোকে তাদের নিম্ন বুদ্ধিমত্তার কারণে এবং 'ভোগের আকাঙ্ক্ষার' কারণে সহজেই ধুলো দেয়া যায়।

কারণ? আমাদের সমাজে এখন চারপাশে প্রচুর 'ম্যাটেরিয়ালিস্টিক' লোকজন। ভালো চাকরি, ভালো বাড়ি, ভালো গাড়ি, ব্র্যান্ড মোবাইল, ব্র্যান্ড অমুক, ব্র্যান্ড তমুকের আকাঙ্ক্ষা, স্বপ্নে, দৌড়ে সবার জীবন প্রায় পুরোপুরি অকুপাইড। এসবের বাইরে কেউ চিন্তা করতে পারছে না। অনেক পিএইচডি আর ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ার মানুষগুলোর চিন্তার দৌড় ঐ শেষমেষ ক্যারিয়ার-ফিউচারের বাইরে নয় দেখলে খুবই কষ্ট হয়।

বড় বড় কর্পোরেশন এবং তাদের অ্যাডভার্টাইজিং এত বেশি জীবনঘনিষ্ট হয়ে আছে যে আমাদের গভীরতাহীন-মূর্খ-অসহায় আমজনতার মুক্তির সম্ভাবনা খুবই কম দেখি। এই জীবনের সমাপ্তি যে যেকোন সময়েই হতে পারে এবং এর পরের অনন্তকালের জগতটা যে খুব সহজ কিছু নয়-- এমন বোধ মানুষের মাঝে জায়গা না পেলে ম্যাটেরিয়ালিজম নিয়ে ডুবে থেকেই একেকটা জীবনের সমাপ্তি হতেই থাকবে। কী যে অসহায় লাগে ভাবলে, কী কষ্ট যে লাগে ভাবলে!

# উস্তায নু'মান আলী খান ম্যাটেরিয়ালিজম নিয়ে কিছু কথা বলেছেন, অনেক দামী কথা: www.youtube.com/watch?v=VcXpFqjaU3Y

[৩০ জানুয়ারি, ২০১৫]

১৩ জানু, ২০১৫

'ইসলামিক' নারীবাদীদের উচিত যথেচ্ছা সমালোচনা করায় সতর্ক হওয়া

​কিছু ছোটভাই প্রায়ই মজা করতো ফেসবুকে দাওয়াহ নাকি মদের বারে গিয়ে দাওয়াত দেওয়ার মতন। এই ধরণের কথায় আমি "হ্যাঁ/না" টাইপের মতামত প্রকাশ করিনি কখনো। তবে এটা সত্য, ফেসবুকে ভালো কথাতে কখনো কখনো কাজে লাগে, বেশিরভাগ সময়ে লাগেনা। ফেসবুকের সবচেয়ে খারাপ জিনিস হলো এত সহজে লেখা যায় ও ছড়ানো যায় যে সত্য-মিথ্যা, কুতসা, নিন্দা, গীবত, অশ্লীলতা খুব সহজেই দূরে চলে যায়। আবার ভালো কথা বলিয়েরা বলতে বলতে কী বলছেন তা হারিয়ে ফেলেন।

২৬ ডিসে, ২০১৪

​বদলে যাওয়া সামাজিক সম্পর্ক ও আমাদের শিশুদের শৈশব হারিয়ে যাওয়া নিয়ে কিছু কথা

সবারই শৈশব স্মৃতিময়, মধুময়। সম্ভবত শৈশবের ব্যাপারটাই আল্লাহ এমন করে আমাদের বুকে গড়ে দেন। যন্ত্রণায় অনেক সময়েই শৈশবের স্মৃতিগুলো আরাধ্য ভালোলাগা হয়ে ওঠে। ইদানিংকার শিশুদের শৈশব দেখে আমার নিজের শৈশবের কথা মনে পড়ে। আমরা তো আমাদের শিশুদের শৈশব কেড়ে নিয়েছি।

আজ থেকে ২০ বছর আগেও আমাদের সামাজিক সংস্কৃতি অনেকটাই স্থির ছিলো। গল্পের বইতে পড়ে থাকতাম, সেটাই ছিলো বিনোদন আমার। আমার মতন অনেকেই ছিলো। আসরের আজান হলেই কেবল কিছু ছেলেপিলে বাসার বাইরে বের হবার অনুমতি পেতো। ঢাকার অলিগলির রাস্তায় ক্রিকেট বল নিয়ে বা ফুটবল নিয়ে খেলা, রাতে আবার এশার পরে মাসজিদের সামনে থেকে গলির মাথা পর্যন্ত একটু গপশপ করা... শুক্রবারের সকালে ন'টা পর্যন্ত পড়ে তারপর খেলতে বের হওয়া টাইপের ব্যাপার ছিলো।

২০ অক্টো, ২০১৪

লালমনিরহাটে খ্রিষ্টান মিশনারীদের আগ্রাসন

​​​ক'দিন আগে এক ভাই তাঁর লেখায় লিখেছিলেন লালমনিরহাটে এক স্কুলে বাচ্চারা খাওয়ার পূর্বে বিসমিল্লাহ না বলে বলে,বান্দা যীশুর নামে চাই! কী ভয়াবহ!

আমার জীবনের একটা বড় অভিজ্ঞতা ছিলো এই বছরের শুরুতে লালমনিরহাট ভ্রমণ--'মিশনারী রোডে' বাস থেকে নামতে যখন হলো, তখন টের পেয়েছিলাম এই শহরে 'মিশনারীরা' খুব তৎপর। পরবর্তীতে জেলা শহরের প্রাঙ্গনে যখন অজস্র চার্চ, চার্চ স্কুল, মিশনারী স্কুলের ভীড়ে তেমন কোন ন্যুনতম সরকারি/ইসলামিক প্রতিষ্ঠান তুলনা করার মতনও চোখে পড়লো না তখন টের পেয়েছি এই শহরে ওদের কর্মযজ্ঞ কী ভয়ংকর! এরপর আশেপাশে কয়েকটা মাদ্রাসা আর মক্তবে গিয়ে বুঝেছিলাম মিশনারীরা স্কুল দিয়ে, স্কুলে ফ্রি পড়িয়ে, স্কুলে চাল দিয়ে, মাঝে মাঝে বিভিন্ন গিফট দিয়ে কেমন করে মানুষকে তাদের দিকে আকর্ষণ করেছে। অর্থকষ্টে থাকা বাবামায়েরা সন্তানদের জন্য ইসলামিক স্কুলগুলোর আবেদন হারিয়ে 'মিশনারী স্কুলে' এগিয়ে যাচ্ছে।

৮ এপ্রি, ২০১৪

ভয় হয় সন্তানদের জন্য কেমন সমাজ যে রেখে যাচ্ছি তা ভেবে

​​মাঝে মাঝে খুব ভয় আর আফসোস লাগে আমাদের সন্তানদের জন্য কেমন একটা সমাজ যে রেখে যাচ্ছি তা ভেবে। নিজেদের তারুণ্য আর যৌবনটাই অশ্লীলতা-নোংরামি-নির্লজ্জতা-পাপাচারের স্রোতের বিপরীতে হাঁচড়ে-পাচড়ে বেঁচে থাকার চেষ্টাতে কেটেছে তাই জানি এখনকার মুসলিম কিশোর-কিশোরীদের জীবনটা কতই না কঠিন। এখনকার সকল মুসলিম সন্তানদের অভিভাবকদের আর দোষ দিতে আগ্রহ পাইনা বিয়েতে বড় প্রতিবন্ধকতা বাবা-মা হয়ে তৈরি করার জন্যই কেননা তাদের ধারণাতেও সম্ভবত নেই যে এই সন্তানগুলো কতটা যুদ্ধ করে নিজেদের নফসকে নিয়ন্ত্রণের পিছনে। চারপাশে বন্যার পানির মতন নির্লজ্জতা আর পাপাচারের উপকরণ, নিজেকে আশ্বাস দেয়ার যেই 'বিয়ে' ব্যাপারটা, সেটাও অর্থনৈতিক-সামাজিক-পারিবারিক কারণের বেড়াজালে দূর-বহুদূর...

২৮ জুন, ২০১৩

যে ছেলেটা মুসলিম হিসেবে বাঁচতে চায় তার জীবনটাই ভয়াবহ

যে ছেলেটা মুসলিম হিসেবে বাঁচতে চায় তার জীবনটাই ভয়াবহ। বন্ধুদের আড্ডায় কানকে সংযত রাখতে হয়, মুখে রাগ নিয়ে কথা বলা যায় না, বান্ধবীদের সাথে সবাই চিকেন খেতে গেলে সেখান থেকে কৌশলে সরে আসতে হয়, যত্রতত্র চকচকে বিলবোর্ড দেখে চোখ নামাতে হয়, বাসে-ট্রেনে চলতে গেলেও চোখ নামিয়ে সংযম করতে হয়। চারিদিকে ছাগু বলার লোকের অভাব নেই অবয়ব দেখে, শত্রুতা তো আছেই সবার। সবশেষে ঘরে ফিরতে হয়। প্রতিদিন-প্রতিমূহুর্তের এমন যুদ্ধযাত্রাগুলো সামলেই পড়াশোনা, চাকরি-বাকরি করা। একসময় এই যুদ্ধেও তার ক্লান্ত লাগতে থাকে। ছাত্রজীবন পেরিয়ে বছরের পর বছর চাকুরি করে বেতনের স্বর্বস্ব দিয়ে বাবা-মায়ের সংসারে দিলেও এমন সন্তানরা তখনো 'কমবয়েসি' থাকে। এমন সন্তানরা যখন বিয়ে করতে যায় তখন প্র্যাক্টিসিং মুসলিম পরিবারের লোকেরা অনেক অনেক টাকা খোঁজে, বাড়িঘর খোঁজে ঢাকা শহরে, শক্তপোক্ত আত্মীয় খোঁজে, তাদের মুখনিঃসৃত শব্দগুলো থাকে প্রখর, তীব্র ধারালো, নোংরা...

২২ মার্চ, ২০১২

বিজ্ঞাপন : ডিসটার্ব

আমি টেলিভিশন দেখি কালেভদ্রে। মূলত পেশাগত জীবনের ব্যস্ততা এবং জীবনে ভালোলাগা-মুগ্ধতার বিষয়সমূহ বদলে উন্নত হওয়ায় বিনোদনের সকল পর্যায়ে টেলিভিশনের অস্তিত্ব আমার জীবনে একদমই নেই এখন। ক'দিন আগে এশিয়া কাপে বাংলাদেশের খেলা দেখতে বসেছিলাম। বিটিভিতে খেলা সম্প্রচারে অর্থায়ন করেছে বাংলালিংক। তাই প্রতি ওভারের বল শেষ হলেই বিজ্ঞাপন বিরতি হচ্ছিলো।

৩ নভে, ২০১০

বদলে যাওয়া নিয়ে কিছু কথা


আমরা উত্তরোত্তর আধুনিক হচ্ছি। উন্নত থেকে উন্নততর।

আগে আব্বা আম্মারা তাদের মধ্যে কথাবার্তা 'মেলামেশা' ছাড়াই বিয়া-শাদী করেছিলেন। সারাটা জীবন কাটিয়ে দিয়েছেন। আমাদের দেখলে গলার কণ্ঠ নামায়া ঝগড়া করতেন। কথায় কথায় তারা বাপের বাড়ি 'যাও', 'যাবো' বলতে পারতেন না, বলতেন না... একাট্টা হয়ে দু'জনে মিলে যুদ্ধ করে সংসার নামের নৌকাটার হাল ধরতেন চরম দুর্দিনেও...

আমরা 'দেখাদেখি' 'মিলামিলি' আর 'মিশামিশি' ছাড়া কল্পনাই করতে পারিনা বিয়েশাদী। আধুনিকা মেয়েরা অচেনা ছেলেদের সাথে বিয়ে করাকে "শুয়ে পড়া" বলে 'ডিনোট' করতে পছন্দ করেন। আধুনিক আমাদের পুলাপাইনরা ফেসবুকে দিনে রাতে স্ট্যাটাস বদলায়া "সিঙ্গেল" থেকে "ইন আ রিলেশনশিপ" আর "ইটস কম্পলিকেটেড" বানায়......ভাইস ভার্সা।