ummah লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
ummah লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

১৫ ডিসে, ২০১৫

অনেকক্ষেত্রে তথাকথিত মুক্তমনা এবং ধর্মপ্রচারকরা একই রকম


অনেকক্ষেত্রে তথাকথিত মুক্তমনা এবং ধর্মপ্রচারকরা একই রকম -- শুনতে একটু কেমন কেমন লাগতে পারে। তবে ঘটনা সত্য। এটা একটা খুব সাধারণ মানসিকতা। অনেক ধর্মপ্রচারক আছেন, যারা নিজেদের চিন্তাটাকেই একমাত্র সঠিক মনে করেন, তারা ভিন্ন কোন ধারণাকে সহ্যই করতে পারেন না এবং শত্রু হিসেবে গণ্য করেন। অথচ তাদের 'মতামত' ভুল হতেও পারে, সেটা ঐশীবাণী নয়। তবে, সেই মতামতকেও তারা সঠিকতম হিসেবে ধরে অন্যদের বিরুদ্ধে অসহিষ্ণু হয়ে ওঠেন।

শুধু ধর্মপ্রচারক নয়, প্রচুর তথাকথিত মুক্তমনার দল এই ধরণের মানসিকতাকে ধারণ করে। সোজা বাংলায় এই মানসিকতাটাকে বলা যেতে পারে বাইনারি চিন্তাভাবনা। তারা মুক্তমনা হিসেবে নিজেদেরকে জাহির করলেও ভিন্নমতের প্রতি তারা আগ্রাসী মনোভাব ধারণ করেন। যুক্তি সেখানে মূল্যহীন হয়ে যায়।

এখানে খুব সুন্দর গোলকধাঁধাঁ হলো -- এই মুক্তমনা দাবী করা ক্ষুদ্রমনারা প্রকৃতপক্ষে বাধ্য করেন অন্যদের যেন তাদেরকে গ্রহণ করা হয়। যেন মুক্তমনা হবার একটি মাত্র পথ রয়েছে !! তারা মূলত ভিন্নমত থেকে পালিয়ে বাঁচতে চায়। আরেকটি বিষয় হলো, তারা মূলত নিজেদেরকে নিয়েই সন্দিগ্ধ থাকে।

বেশিরভাগ মানুষের মাঝে এই মানসিকতা আছে। এই মনগুলা খুবই বাইনারি, তারা কেবল নিজেদেরকেই সঠিক এবং অন্যদেরকে ভুল মনে করেন। এদের বেশ কিছু গুণাবলীর একটা হলো, তারা প্রচন্ড আবেগপ্রবণ হন এবং আবেগাক্রান্ত অবস্থায় সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেন। এই আবেগতাড়িত মনগুলো অন্য মানসিকতার ও অন্য মতের লোকদেরকে ভয় পায়। নিজেদের অবস্থানকে হারিয়ে ফেলার ভয়ও রয়েছে এতে। ফলে সেই ভয় তাদের পেয়ে বসে বলেই ভিন্ন মতকে প্রচন্ড শক্তিতে আক্রমণ করে ধরাশায়ী করে ফেলার চেষ্টা করে।

এই মানসিকতার ধারক মনে হয় এই সমাজে তো বটেই, এই পৃথিবীতেও প্রচুর দেখা যাচ্ছে। এই মানসিকতার মানুষগুলো দিনদিন এমন ধারণার দ্বারাই প্রভাবিত হয়ে চলেছে যেসব বুদ্ধিবৃত্তিক কোন যাচাই করা হয়না এবং অত্যন্ত দুর্বল যুক্তি বা যুক্তিহীন হয়ে থাকে।

চিন্তার উৎকর্ষ সাধন প্রয়োজন। নিজেদের প্রশ্ন করতে হবে কেন আমি এই কথা বলছি, চিন্তা করে দেখতে হবে ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি থেকে। সত্য একটা হলেও সত্যের কাছে পৌঁছানোর অনেকগুলো পথ থাকতে পারে। অন্যদের প্রতি সহমর্মিতা গড়ে তোলাও প্রয়োজন। বুদ্ধিবৃত্তিক উন্নতি এই সময়ের দাবী, এই পৃথিবীর দাবী।

লেখাটির অনুপ্রেরণাঃ
- বিষয়ঃ ডগম্যাটিক মাইন্ড/Dogmatic Mind
- বইয়ের নামঃ The Quest For Meaning : Developing the Philosophy of Pluralism, লেখক: তারিক রমাদান, প্রফেসর, অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি
- প্রাসঙ্গিক ভিডিও: http://www.youtube.com/watch?v=XgW3vP7p3no

১০ ডিসে, ২০১৫

মুসলিমরা কেন বিশ্বজুড়ে ভুক্তভোগী আর অত্যাচারিত?

বিগত বেশ কয়েক শতাব্দী থেকেই মুসলিমদের মাঝে জ্ঞানের অভাবে, শ্রেষ্ঠত্বের অভাবে, নিজেদের কন্ঠকে প্রকাশ করতে না পারায় (যার পেছনে বেশিরভাগ ভূখন্ডের কলোনিয়ালিজম দায়ী, বা সংখ্যালঘুত্ব দায়ী) তাদের মাঝে 'ভিকটিম মেন্টালিটি প্রকট হয়ে থাকে। তাই তাদেরকে কনস্পিরেসি থিওরি গেলানো যত সহজ, আর কোন ধর্ম-জাতি-আদর্শের লোকদের এতটা সহজ না। তাই কোন ছবি দেখিয়ে যদি বলা হয়, 'অত্যাচার' করা হচ্ছে -- যাচাই বাছাই ছাড়াই তখন ধরে নেয়, এটাই তো আমাদের হয়, সুতরাং 'প্রচার করার মাঝেই আমার কাজ শেষ'। ফলে এইসব প্রচার করে, গলাকাটা, বোমফাটা ছবির শেয়ারিং যত হয়, দিনশেষে ওই মানুষটার ভিতরের প্রত্যয়ও সাধারণত জাগেনা নতুন কিছু করার।

নিজেদেরকে ভুক্তভোগী মনে করার এই মানসিকতা আসলে দুর্বল চিত্তের, অযোগ্য-অপদার্থ মানসিকতার প্রকাশ। শেয়ারিং করলে যাচাই বাছাই করতে হবে সেটা কতটা সত্য। আর মাথায় রাখতে হবে, দুনিয়ার বুকে যোগ্যতা সবসময়েই সর্বাধিক গুরত্বপূর্ণ বিষয়ের একটা। নিজেদের অধিকার আদায়ে সচেষ্ট হতে হলে যোগ্যতা নিয়েই বড় হতে হবে। আপনি ক্লাসে ফার্স্ট হোন, একদিন টিচার হবেন --সম্মানিত গুরুত্বপূর্ণ পদ। আপনি অফিসের সবচাইতে আন্তরিক আর কর্মঠ কলিগ হোন -- আপনার বিশ্বস্ততা আর অসাধারণত্ব নিয়ে শত্রুভাবাপন্নরাও তেমন কিছু করতে পারবেনা।আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলেও তেমনি, আল্লাহর দ্বীনকে যারা বুকে নিয়ে জীবন চালাচ্ছে, তারা যদি হয় উত্তম চরিত্রের, নিজের আশেপাশের ভাইয়ের প্রতি অনুভূতিতে নিপুণ, দক্ষ বিজ্ঞানী, অর্থনীতিবিদ, রাজনীতিবিদ, লেখক, সাহিত্যিক, মুভি মেকার, অথবা একজন সাধারণ মানুষ যিনি নিপুণ চরিত্রের, ব্যক্তিত্বের তাহলে এমনিতেই মুসলিমদের উন্নতি হবে।

তবে অনুগ্রহ করে নিজেকে নিজেই চেক করা দরকার, আমরা কি ভুক্তভোগী থাকার মানসিকতা (victim mentality) নিয়ে গড়ে উঠছি? নাকি নিজেদের থেকেই কিছু করার ব্যাপারে প্রত্যয়ী হয়েছি? আজ থেকে ৫০ বছর আগেও এমন ছিলো না। আমেরিকার সমস্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের খুব অল্প ক'টাতেই ইহুদি শিক্ষক ছিলো। এখন প্রায় প্রতিটি বড় বিশ্ববিদ্যালয়ের ফ্যাকাল্টিগুলোতেই ইহুদি শিক্ষক আছে, যারা নিজেদের বুদ্ধি দিয়ে নিজেদের সর্বাত্মক উন্নতি করছে। বুদ্ধি আর মেধাকে বিকশিত করতে না পারলে মুসলিমদের পরাজিত হয়েই বোধহয় থাকতে হবে।

তবে আশার আলো আছে, এখন অনেকেই নিজেদেরকে উন্নত করছে সারাবিশ্বে। সারাবিশ্বে দেশে দেশে মিডিয়াতে বামপন্থী/ইসলামবিদ্বেষীদের আধিক্য সংবাদকে একপাক্ষিক করে ফেলে এখন। মিডিয়াও মানুষের মনোজগতে বিশেষ ক্ষমতা দখল করে ফেলেছে। তবে মুসলিমরা তাদের কাজগুলো করলে এই বিষয়গুলোতে বস্তুনিষ্ঠতা আসতে পারত কারণ তারা যেকোন অবস্থাতেই সত্য আর সুন্দরের পক্ষে থাকবে। বিশ্বমানুষের মুক্তির জন্য মুসলিমদের নিজেদের মনোজগতকে উন্নত করা প্রয়োজন। বুদ্ধিবৃত্তিক উন্নয়ন ও যোগ্যতা অর্জনের কোনো বিকল্প নেই।


রেফারেন্স:
# লেকচার - ড সাইয়েদ হুসেইন নসর - ফিলোসফি ম্যাটারস  http://www.youtube.com/watch?v=qAgGB407FHs

২৭ নভে, ২০১৫

প্লুরালিজম কী?


[প্লুরালিজম এখন একটি বৈশ্বিক শব্দ। অনেকেই এই ধরনের চিন্তা ও আনুসঙ্গিক বিষয়কে বর্তমান সময়ের উত্তাল বিশ্বে শান্তি আনয়নে, হিংসা-জিঘাংসা নিরসনে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলে মনে করেন। এই লেখাটি প্লুরালিজম ডট অর্গ ওয়েবসাইট থেকে নেয়া প্লুরালিজমের ইন্ট্রুডাকশন সেকশনের ভাবানুবাদ]

প্লুরালিজমের আইডিয়াটা মূলত প্রথম এসেছিলো ১৯৯০ সালের দিকে হার্ভার্ড কলেজের প্রফেসর তার স্টুডেন্টদের নিয়ে মাল্টিপল রিলিজিয়ন নিয়ে কাজ করার সময়। ১৯৯৭ সালে পর এইটা একটা রূপ পায় আমেরিকাতে। বিগত কয়েক বছর ধরে এইটা থিওলজিস্টদের কাছে বেশ গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে পরিগণিত হচ্ছে।

১) প্লুরালিজম শুনতে হয়ত মনোলিজম টাইপের শব্দের বিপরীত শোনায়। শাব্দিক অর্থটা এমন হলেও, আসলে এটা কেবল ধর্মীয় চেতনার বৈচিত্র্যকে বুঝায় না। এই টার্মিনোলজিটা সময়ে প্রয়োজনেই এসেছে। মূলত প্রতিটি ধর্মীয় চেতনার গোষ্ঠির মাঝে নিজ নিজ চিন্তাধারার ব্যাপারে প্রকটতা কাজ করে। কেবলমাত্র নিজেদের নিয়েই থাকার ফলে কোন বৈচিত্র্যকেই তারা মেনে নেয় না, আর অন্য চেতনার মানুষদের সাথে কোন কথাবার্তাও হয়না। তাই, প্লুরালিজম কেবল বৈচিত্র্যকে গ্রহণ করাই না, বরং আগ্রহী হয়ে এগিয়ে গিয়ে অন্য ধর্ম চেতনা আর বিশ্বাসকে জানতে চাওয়ার মাধ্যমে চলমান অস্থিরতা আর গোঁড়ামির সংকট কমানোর একটা আইডিয়া প্লুরালিজম।

২) প্রতিটা ধর্মবিশ্বাস ভিন্ন ভিন্ন চেতনার প্রতিফলন হলেও, তাদের মাঝে কিছু মূল সাদৃশ্য আছে। তাই, প্লুরালিজমের আরেক নাম হলো এই বিশ্বাসগুলোর মাঝে যেসব মিল আছে -- তাদের খুঁজে বের করা। সাধারণত সবাই আধা-সত্য জিনিসের উপরে বিশ্বাস করে বসে থাকে, অজ্ঞানতার কারণে কেবল অন্য ধর্মের প্রতি বিরূপ হতে থাকে। এই সংহতি বা সহ্য ক্ষমতাকে বাড়ানো সমগ্র বিশ্বের প্রেক্ষাপটে খুবই দরকারি। তাই ধর্মগুলোর নিজেদের মধ্যে বিশ্বাসসমূহের জ্ঞানের শেয়ারিং এখানে গুরুত্বপূর্ণ।

৩) যদিও ধর্ম থেকে ধর্ম আলাদা বিশ্বাসের উপরে দাঁড়ানো, তবু এখানে সাদৃশ্যগুলোর উপরে ভিত্তি করে দেখা যায় যে নিজেদের চাওয়াগুলো এক পর্যায়ে একই থাকে। অনেক বেশি পার্থক্য সত্বেও এই সাদৃশ্যের চেতনাকে লালন করে পরস্পর সম্পর্ক উন্নয়নটা প্লুরালিজমের একটা গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

৪) প্লুরালিজম মূলত বিভিন্ন ধর্মের চেতনার মানুষদের মাঝে কথাবার্তা ও ডায়লোগকে বুঝায়। অর্থাৎ, কেবলমাত্র নিজের ধর্মকে নিয়ে জেনে বসে থাকা নয়, বরং পারস্পরিক জ্ঞান শেয়ার করার মাধ্যমে অন্যের বিশ্বাসকে গ্রহণ করাই না, বরং নিজেদের উদ্যোগে তাদের সাথে মিলগুলো খুঁজে প্রকৃত উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে পথ চলা হলো প্লুরালিজম।

রেফারেন্স:

# ওয়েবসাইট - http://pluralism.org/pages/pluralism/what_is_pluralism
[ইউটিউব ভিডিও] -  www.youtube.com/watch?v=XgW3vP7p3no
[বই] Quest for Meaning - Developing the philosophy of Pluralism : Tariq Ramadan

৭ নভে, ২০১৫

ভালোবাসার সুমধুর আহবান


খুব সুন্দর এই আজানটা শুনে বুকের ভেতরটায় একটা অদ্ভুত অনুভূতি হলো। আজান তো সেই আহবান, যা ডেকে আনে সবকিছু ছেড়ে আল্লাহর পথে। কী স্নিগ্ধ আর শান্ত সেই আহবান। কী সুন্দর আর সুমধুর সেই বাণী, সেই কথাগুলো। আমার সমস্ত শব্দ দিয়েও কি পারবো সেই সৌন্দর্যময় আজানকে বিশেষায়িত করতে?

অনেকদিন আগে একবার মসজিদে যুহরের পরে বসে বসে দেখছিলাম মুয়াজ্জিন খুব দরদ দিয়ে মসজিদ পরিষ্কার করছেন। তিনি আসলে আল্লাহর ঘরের অতিথিদের জন্য আয়োজন করছিলেন, তিনি তো আল্লাহর অতিথিদের যত্ন-আপ্যায়ন করেন। যিনি আহবান করেন প্রতিদিনের নামাজে, যিনি 'আল্লাহু আকবার' বলে ঘোষণা করেন আল্লাহর বড়ত্বের--'আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রাসূলুল্লাহ' বলে তিনি সাক্ষ্য দেন নবীর (সা) রিসালাতের, ছড়িয়ে দেন সুমধুর কন্ঠে সেই ভালোবাসা আর দৃঢ়তাকে শত মানুষের, হাজার হাজার প্রাণি-পাখি-গাছপালার মাঝে।

এমন ভালোবাসা, এমন দরদ, এমন নিষ্ঠা কি রব বিফলে যেতে দেবেন? আল্লাহ যেন মুয়াজ্জিনের কন্ঠে ভেসে আসা আহবানগুলোকে আরো বরকতময় করে দেন। পৃথিবীর আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে থাকা লক্ষ-লক্ষ মুয়াজ্জিনকে যেন আল্লাহ ক্ষমা করে দেন, আল্লাহ যেন তাদের জান্নাতে উচ্চ মাকাম দান করেন। আল্লাহ যেন আমাদেরকেও ক্ষমা করে দেন।

# সুন্দর আজানটি: https://www.youtube.com/watch?v=EnmV613p7MQ

২০ অক্টো, ২০১৪

লালমনিরহাটে খ্রিষ্টান মিশনারীদের আগ্রাসন

​​​ক'দিন আগে এক ভাই তাঁর লেখায় লিখেছিলেন লালমনিরহাটে এক স্কুলে বাচ্চারা খাওয়ার পূর্বে বিসমিল্লাহ না বলে বলে,বান্দা যীশুর নামে চাই! কী ভয়াবহ!

আমার জীবনের একটা বড় অভিজ্ঞতা ছিলো এই বছরের শুরুতে লালমনিরহাট ভ্রমণ--'মিশনারী রোডে' বাস থেকে নামতে যখন হলো, তখন টের পেয়েছিলাম এই শহরে 'মিশনারীরা' খুব তৎপর। পরবর্তীতে জেলা শহরের প্রাঙ্গনে যখন অজস্র চার্চ, চার্চ স্কুল, মিশনারী স্কুলের ভীড়ে তেমন কোন ন্যুনতম সরকারি/ইসলামিক প্রতিষ্ঠান তুলনা করার মতনও চোখে পড়লো না তখন টের পেয়েছি এই শহরে ওদের কর্মযজ্ঞ কী ভয়ংকর! এরপর আশেপাশে কয়েকটা মাদ্রাসা আর মক্তবে গিয়ে বুঝেছিলাম মিশনারীরা স্কুল দিয়ে, স্কুলে ফ্রি পড়িয়ে, স্কুলে চাল দিয়ে, মাঝে মাঝে বিভিন্ন গিফট দিয়ে কেমন করে মানুষকে তাদের দিকে আকর্ষণ করেছে। অর্থকষ্টে থাকা বাবামায়েরা সন্তানদের জন্য ইসলামিক স্কুলগুলোর আবেদন হারিয়ে 'মিশনারী স্কুলে' এগিয়ে যাচ্ছে।

৩১ জুল, ২০১৪

​ বন্ধ রাফাহ ক্রসিং এবং সহস্র মৃত্যু

২০১২ সালের নভেম্বরে ইসরাইল আক্রমণ করেছিলো গাজাতে, নাম দিয়েছিলো 'অপারেশন কাস্ট লিড'। হামাসের প্রতিরোধে টিকতে পারেনি খুব বেশিদিন। তখন মিশরের প্রেসিডেন্ট ছিলেন মুহাম্মাদ মুরসি। রাফাহ ক্রসিং তখন খোলা ছিলো, তাই মুসলিম ব্রাদারহুডের অনেক সাহায্য পেয়েছিলো হামাস। সেই গ্লানিতে হিংস্র হয়ে থাকা ইসরাইল হয়ত তাই মুরসিকে প্রেসিডেন্ট থেকে সরিয়ে প্রকাশ্য হত্যাকান্ডের মাধ্যমে ক্যু করতে সাহায্য করেছিলো জেনারেল সিসিকে। এবার তাই রাফাহ বন্ধ। মিশরের সিসি, সৌদির আব্দুল্লাহ, আমিরাতের আমির মিলেছে ইসরাইলের সাথে এবং গাজ্জাবাসির উপরে অত্যাচারকে অসহনীয় করে তুলেছে। ক্রমাগত অস্ত্রের সরবরাহ দিয়ে চলেছে আমেরিকা।

টুকরো আলাপ: ড বিলালের ঢাকা ভ্রমণ

​ড বিলাল ফিলিপস আমার জীবনে বড় একজন মানুষ। যখন জন্মসূত্রে মুসলিম থাকা বিচিত্র বিশ্বাস আর আচার-সংস্কৃতির মানুষদের মাঝে পড়ে চিড়ে-চ্যাপ্টা হয়ে যাচ্ছিলাম তখন আল্লাহ এই মানুষটির লেকচারগুলো দিয়ে আমার জীবনে এক নতুন দিগন্তের সন্ধান দিয়েছিলেন। ঢাকায় ড. বিলালের লেকচারে উপস্থিত থাকার প্রবল ইচ্ছা ছিলো। কয়েক সপ্তাহ আগে থেকে প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম মনে মনে। শেষ মূহুর্তে যখন শুনলাম প্রোগ্রাম ক্যানসেল হয়ে গেছে তখন খুব চমকে যাইনি, হতভম্ব হইনি। নষ্টদের টাকা খাওয়া মিথ্যার বেসাতি নিয়ে প্রচার করা জঘন্য এক অনলাইন পত্রিকা যখন তার আগমনের আগেই মিথ্যা ছড়াচ্ছিলো তখনই টের পেয়েছিলাম এই দেশের মাটির নষ্টগুলো সেটাকে কন্টকময় করবে। আল্লাহই উত্তম পরিকল্পনাকারী। আমরা তো বড়জোর চেষ্টা করতে পারি, সফলতার মালিক আল্লাহ। ইনশাআল্লাহ নিশ্চয়ই আল্লাহ সেই মানুষগুলোর চাওয়াকে কবুল করে উত্তম প্রতিদান দিবেন যারা দ্বীনকে আরো ভালো করে বুঝতে আলোচনা শুনতে পরিকল্পনা করেছিলেন। মু'মিনদের পথ কখনই সহজ নয় কবরে পা দেওয়ার পূর্ব পর্যন্ত... আল্লাহ আমাদেরকে জান্নাতি হিসেবে কবুল করুন, আল্লাহ আমাদেরকে নষ্ট-অভিশপ্ত-মিথ্যুক হওয়া ও তাদের প্রতি সমর্থনকারী হওয়া থেকেও হেফাজত করুন। নিশ্চয়ই আমাদের সকল নামাজ, প্রার্থনা, আমাদের সকল ত্যাগ, আমাদের জীবন ও আমাদের মরণ কেবলই আল্লাহর জন্য...

[২১ জুন, ২০১৪]

২৫ নভে, ২০১৩

মালিক শাহবাজ (ম্যালকম-এক্স)

বর্তমান মিডিয়া বলতেই সবাই বুঝে বিবিসি, সিএনএন, ইন্ডিপেনডেন্ট ইত্যাদি ইত্যাদি... নতুন বিশ্বের এইরকম চেহারা হবে, সেখানে মিডিয়ার ব্যাপক প্রভাব থাকবে, তা তো বেশ পুরোনো পরিকল্পনা। হয়ত এসব অনুধাবন করে সেই খোদ আমেরিকায় অনেক বছর আগে মালিক শাহবাজ (ম্যালকম এক্স) নামক সাহসী মানুষটি একটি কথা বলেছিলেন যা আমার প্রায়ই মনে পড়ে--

"আপনি যদি সতর্ক না থাকেন তাহলে পত্রিকাগুলো আপনাকে নিপীড়িত-অত্যাচারিত মানুষদেরকে ঘৃণা করতে শেখাবে এবং যারা অত্যাচারী-নিপীড়নকারী তাদের প্রতি ভালোবাসা জাগাবে।" ~ ম্যালকম-এক্স

মালিক আল-শাহবাজ 'ম্যালকম এক্স' নামে সুপরিচিত। তিনি আফ্রো-আমেরিকান মুসলিম, ঘটনাবহুল জীবনের এক পর্যায়ে তিনি ইসলাম গ্রহণ করেন। আমেরিকায় ব্ল্যাকদের অধিকার আদায়ের এক অবিস্মরণীয় নেতা। বক্তব্য প্রদানকালীন সময়ে একদিন তাকে বিরোধীরা কয়েকজন মিলে ২১টি গুলিতে বিদ্ধ করে, সেদিনই তিনি আল্লাহর ডাকে সাড়া দিয়ে দুনিয়া থেকে বিদায় নেন।

জন্ম :  ১৯২৫, মৃত্যু : ১৯৬৫

ম্যালকম-এক্সের উদ্ধৃতি:

"ভবিষ্যত তো তাদের জন্যই যারা আজকে তা গড়ে তুলতে কাজ করে।"
~ মালিক আল-শাহবাজ (ম্যালকম এক্স)

* * *
"আপনি যদি সতর্ক না থাকেন তাহলে পত্রিকাগুলো আপনাকে নিপীড়িত-অত্যাচারিত মানুষদেরকে ঘৃণা করতে শেখাবে এবং যারা অত্যাচারী-নিপীড়নকারী তাদের প্রতি ভালোবাসা জাগাবে।"
~ ম্যালকম-এক্স মালিক শাহবাজ [১৯২৫-১৯৬৫]

* * *
"যে কোন কিছুর পক্ষে দৃঢ় হয়ে দাঁড়ায় না সে সবকিছুতেই ভেঙ্গে পড়ে।"
~ মালিক আল-শাহবাজ (ম্যালকম এক্স)

* * *
​​হোঁচট খাওয়া মানেই পড়ে যাওয়া নয়। ~ ম্যালকম এক্স

১৬ জুল, ২০১৩

স্রেব্রেনিকা হত্যাকান্ড এবং একটি ১১ জুলাই

কিছু কথা কখনই খুব কাছের কাউকে ছাড়া আমি সচরাচর বলিনা। বলতে গেলে অনুভূতির অতিশায়ন হয়ে বদলে যায় কিনা এমন একটা চিন্তাও থাকে। যেমন, আজ যখন ইফতারের ঠিক আগে প্লেটটা ছোট ছোট কিছু সাদামাটা আইটেম দিয়ে পূরণ হয়ে গেলো, হঠাৎ মনে হলো আমারই এক ভাই কায়রোর পথে বসে ইফতার করছে কী দিয়ে?

মূহুর্তেই আরব সাগর পেরিয়ে আমার এই দু'চোখ যেন চলে যায় সিরিয়া, ফিলিস্তিন, আলজেরিয়া, মিশরের পথে প্রান্তরে। ওদিকে সোমালিয়ায়, কাছেই রোহিঙ্গা ভাই-বোনেরা কতই না যন্ত্রণা সহ্য করে চলেছেন জীবন ধরে -- কেবল মুসলিম বলেই। আমার আফগানী, ইরাকী ভাই-বোনেরা আমার মতই রোজাদার, তাদের কি এত আয়োজন করে খাওয়া দাওয়া হচ্ছে? কত মা সন্তানহারা হয়ে খেতে বসে আকুল হয়ে কাঁদছেন হয়ত সন্তানটির জন্য, দু'আ করছেন তাদের জন্য প্রাণভরে... রেখেছি কারো খবর? এমনকি আমি ত অফিস শেষে আজকে বাসায় ফেরার সময়ও কারো খবর নিয়েই ফিরিনি!

১৩ জানু, ২০১২

টুকরো আলাপ: মজলুম ও জালিম

আমি নিজেকে আল্লাহর দাস বলে মনে করি। আমার জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপ আল্লাহ কুরআনে যেভাবে বলেছেন সেভাবে মানতে হবে বলে বিশ্বাস করি। আমি বিশ্বাস করি এই পৃথিবীটা অল্প কিছুদিনের একটি নিবাস -- তারপর ফিরে যেতে হবে প্রবল প্রতাপশালী এবং আমাদের রব আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলার কাছেই। এই জীবনের প্রতিটি ঘটনাই হতে হবে আল্লাহ ও তার রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নির্দেশমতে। সেটি ঘুমানো, খাওয়া, লেনদেন থেকে শুরু করে কথাবার্তার শব্দচয়ন পর্যন্ত। আমি কখনই সহ্য করবনা, একজন মু'মিন হিসেবে আমাকে কী করতে হবে, তা শিখিয়ে দেবে একজন অবিশ্বাসী, ইন্দ্রিয়ভোগী ক্ষুদ্র জঘন্য আত্মার কোন মানুষ। আমি আল্লাহকে ভয় করি, আমি বিনম্র ও শান্তিকামী, কিন্তু আল্লাহর নাফরমানীর ব্যাপারে কঠোর। এটাই আমার পরিচয় বলে মনে করি।

৩ ফেব, ২০১১

অশ্রুভরা চোখে প্রার্থনায় স্মরি তোমাদের

কেবল নিজেকে ঠেলে নিয়ে যেতে চাইছিলাম তাহরির স্কোয়ারে। অনেক মানুষ যেখানে একসাথে হয়েছে। নিশ্চিত মৃত্যুর শঙ্কা জেনেও যারা পিছু হঠছে না। বারবার মনে হচ্ছে এই রাতেও, মানুষগুলো ঘরবাড়ি ছেড়ে একদল গুন্ডা আর রক্তখেকো বাহিনীর সামনে দাঁড়িয়ে আছে...

কী তাদের আর্তি? শুধু মুক্তি চায় লোকগুলো। শ্বদন্ত বিশিষ্ট এক লোকের তিন দশকের দুঃসহ শোষণ থেকে মুক্তি। এই মুক্তি, এই স্বাধীনতার কী এক অদম্য টান!! লক্ষ লক্ষ লোককে বের করে নিয়ে পথেই রাত্রি যাপন আর মৃত্যুর হাতছানিও স্তব্ধ করতে পারেনা-- স্বাধীনতা তো এটাই!

জালিম মুবারাকের বিরুদ্ধে শ্লোগান দিয়ে এই সাধারণ মানুষগুলো যখন রক্তাক্ত হয়ে আসছে। শত সহস্র মাইল দূরে এক শহরের সুখের বাগানে এই ক্ষুদ্র আত্মা কেবলি অশ্রুপাত করে চলেছি। জানিনা কেন বুকের ভেতর দলা পাকিয়ে আসছে কষ্টগুলো, জানিনা কী অদ্ভূত ভালোবাসায় তোমাদের অনুভূতিগুলো আমাকে তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে-- তবে আমি তোমাদের সাথে একাত্ম হয়ে আছি ভাই-বোনেরা! একাত্ম তো এক আত্মা হয়ে যাওয়া তাইনা? তাহরির স্কোয়ারে যেই অদম্য প্রেরণা তোমাদের আজ ঘরছাড়া করে ধরে রেখেছে--- সেই প্রেরণাকে আমি ভালোবাসি জানো? সেই স্বাধীনতাটাকে আমি বড্ড ভালোবাসি।

আমার এই পাপাত্মা যদি তোমাদের সাথে একাত্ম হয়-- তাতে কীইবা হবে বলো? জানি কিছুই হবে না। তবু যদি হয়! কারণ, তোমাদের অশ্রু আর অন্তরের চাওয়া নিশ্চয়ই আল্লাহর না দেখা হয়না। এই আমার চোখ জুড়ে ঝরঝর করে ঝরে যাওয়া অশ্রুগুলোর যদি একটু মূল্য থেকেও যায়-- যদি আমার প্রার্থনা তোমাদের কারও ক্ষতস্থানের রক্ত ঝরাটাকে অন্ততঃ বন্ধ করতো তাড়াতাড়ি-- তবু তো সার্থক আমি!

তোমাদের এই কষ্ট দূর হোক। এই ইতিহাস যেন বিশ্বজুড়ে মানুষ স্মরণ করে আগামীতে। জালিমদের বিরুদ্ধে কোন শান্তিকামী আত্মাও পারেনা একটা সময় চুপ করে থাকতে। যখন পেছনে যাবার আর পথ থাকে না-- তখন তো সামনেই পথ খুঁজে নিতে হয়! ভাইবোনেরা, তোমাদের মুক্তির জন্য প্রার্থনা করছি বিশ্বাস করো... বিশ্বাস করো আমার অন্তর মুচড়ে কান্না আসছে কেবল যখনি তোমাদের জায়গাটায় নিজেকে নিয়ে যাচ্ছি।

আল্লাহ তোমাদের সহায় হোন। আল্লাহ তোমাদের মুক্তি দিন। হে আল্লাহ, মজলুমের আর্তি আপনার কাছে পৌঁছায় সবার আগে। এই মানুষগুলোকে মুক্তি দিন, তাদের মুক্তি দিন আল্লাহ। আপনার রোশনীর আলোতে এই মানুষগুলোর অন্তর আর আগামী দিনগুলোকে উদ্ভাসিত করে দিন। আমার কষ্টটুকু তো আর আপনি ছাড়া কাউকে বলতে পারিনা...

------
০৩ ফেব্রুয়ারী ২০১১, রাত ০১:০৩