১৮ এপ্রি, ২০১৩

অনেক কষ্টের সময়েও যেন অন্তত এই কথাগুলো স্মরণে থাকে

খুব বেশি কিছু না। শত শত পাতার বই মুখস্তের বিষয় না, সাত সমুদ্র তের নদী পার হয়ে জ্ঞানগর্ভ আলোচনা শোনাও না, প্রিয়জনের হাতের স্পর্শে আশ্বস্ত হয়ে কিছু শিখতে যাওয়াও নয়। যখন যে কঠিন সময়ে সবকিছু ফেলে চলে যায়, যখন একদম অসহায় হয়ে যাই শত্রুতায়, বিপদে, কষ্টে, পরীক্ষায়; তখনো শুধু এই কথাটুকু হলেও যেন স্মরণে থাকে--

তিনি আমাকে ফেলে যাননি, যাবেন না। আমি যখনই তাকে স্মরণ করব, তিনিও করবেন। তিনি আমার সবচাইতে আপন, আমাকে তিনি ভালোবাসায় সিক্ত করে রেখেছেন বলেই এই নিঃশ্বাস নিতে পারছি। আমাদের জীবন এখানেই শেষ নয়, এই নিঃশ্বাসের শেষে শুরু হবে অনন্তজীবন। সফলতা হবে সেই জীবনে। আমার এই ক্ষুদ্রতা ও অসহায়ত্বও একটা রাহমাত কেননা একারণেই তাকে অনুভব করছি গভীর করে। আমার অশ্রুভেজা প্রার্থনা, আমার স্মরণ কখনো বিফলে যেতে পারেনা। এই চাওয়া, এই আর্তি তো সেই মহান সত্ত্বার কাছে, যার হাতে সকল ক্ষমতা। তিনি চাইলেই ধ্বসে যাবে পাহাড়-পর্বত, প্রাণ চলে যাবে জালিমের, অকল্পনীয় উপায়ে তিনি হয়ত আমার সামনে হাজির করবেন এমন জিনিস যা কেবল হৃদয়ের স্বপ্ন-কল্পনাই। যিনি সমস্ত ক্ষমতার অধিকারী, যিনি প্রবল প্রতাপশালী রাজাধিরাজ পবিত্র সত্ত্বা, যিনি জানেন আমার মনের গূঢ়তম চিন্তাটাও, তিনি আমাকে দেখছেন আমি কতটুকু তাকে অনুভব করি, আর কাছে কতটা ভিখিরি হয়ে চাইতে পারি, তার সন্তুষ্টি পেতে কতটা ত্যাগ আমি স্বীকার করতে প্রস্তুত আছি। পুরষ্কারের বেলা তো কেবলই তার। যেদিন তিনি পুরষ্কার দিবেন সেদিন জালিম-অন্ধ ভোগবাদীরা সবাই অসহায় হয়ে থরথর করে কাঁপবে ভয়ে। সেদিন তিনি তার প্রিয় বান্দাদের নিজ অনুগ্রহে অভাবমুক্ত করবেন চিরকালের জন্য। সেদিন কেবল তারই ক্ষমতা থাকবে, সবার সাময়িক জারিজুরি রহিত হবে তার আগেই। সেই মহান আল্লাহর জন্যই তো এই জীবন। এই কষ্ট, এই ত্যাগ, এই যন্ত্রণা, এই অশ্রুভেজা চোখ, এই আহত শরীর, এই আহত হৃদয়, এই সবর ---- সবই তো তোমার জন্য হে রাহমান, সবই তোমার জন্য হে গাফুরুল ওয়াদুদ। তোমার ভালোবাসায় আমাদের সিক্ত করো!! :'(

[১৭ এপ্রিল, ২০১৩]