৫ মে, ২০১৫

রুমী কবিতা (অষ্টম কিস্তি)

* * * * *
ভোরের মৃদু হাওয়া এসে তোমাকে পরশ বুলিয়ে একটি গোপন রহস্য বলে যায় -- আবার ঘুমাতে যেয়ো না।
~ জালালুদ্দিন রুমী

 * * *
তোমার জীবন দিয়ে আগুণ জ্বালাও। এবার খুঁজে নিয়ে আসো তাদেরকে যারা তোমার এই অগ্নিশিখার ভক্ত।
~জালালুদ্দিন রুমী

 * * * 
তুমি হৃদয়ের যতই গভীর থেকে গভীরে স্থান নেবে, তার প্রতিবিম্ব ততই হবে পরিষ্কার ও ঝকঝকে।" ~জালালুদ্দিন রুমী

 * * * 
যদি আলো থাকে তোমার হৃদয়ে ওই, ঘরে ফেরার পথ খুঁজে পাবে অবশ্যই।" ~জালালুদ্দিন রুমী

 * * * 
আমি তো শিখেছি প্রতিটি প্রাণ মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করবে। কিন্তু জীবনের স্বাদ পাবে খুব অল্প কিছু প্রাণ।~জালালুদ্দিন রুমী

 * * * 
তুমি এখন চুপ করো। যিনি পৃথিবীর সকল শব্দগুলোকে সৃষ্টি করেছেন তাকেই কথা বলতে দাও। তিনিই দরজা সৃষ্টি করেছেন, তিনি তালা সৃষ্টি করেছেন এবং তার চাবিও তিনিই সৃষ্টি করেছেন।~জালালুদ্দিন রুমী

 * * * 
তোমার আলোয় আমার ভালোবাসতে শেখা, তোমার সৌন্দর্যে শিখেছি আমি কবিতা লেখা।~জালালুদ্দিন রুমী

 * * * 
এখনই কি তোমার হৃদয়কে আগুণের দুর্গ বানিয়ে ফেলার সময় নয়?~জালালুদ্দিন রুমী

 * * *
বসো, স্থির হও, আর খেয়াল করে শোনো,
কারণ তুমি কিন্তু এখন মাতাল,
আর আমরা আছি ছাদের একদম কিনারায়।
~ জালালুদ্দিন রুমী

রুমী কবিতা (সপ্তম কিস্তি)


 * * *
হতাশ হয়ো না! কেননা সবচেয়ে তীব্র হতাশার মূহুর্তগুলোতে আল্লাহ আশার আলো পাঠিয়ে দেন। ভুলে যেয়ো না, চারপাশ আঁধার করে আসা ঘনকালো মেঘ থেকেই তুমুল বৃষ্টিটা হয়ে থাকে। ~জালালুদ্দিন রুমী

 * * *
তুমি ভালোবাসা খুঁজতে যেয়ো না, ও তোমার কাজ নয়। বরং খেয়াল করে দেখো তোমার ভিতরে কী কী প্রাচীর তুমি গড়ে তুলেছ যা তোমাকে ভালোবাসা থেকে বঞ্চিত করছে।  ~জালালুদ্দিন রুমী

 * * *
তোমার কাছে যা-ই আসুক না কেন তুমি কৃতজ্ঞ থেকো, কেননা তোমার কাছে যা পাঠানো হয় তা তার পক্ষ থেকে পথনির্দেশ। ~জালালুদ্দিন রুমী

 * * *
বিশ্বজগতের সবকিছু তোমার মাঝেই আছে। নিজের ভেতর থেকেই খুঁজে নাও সব। ~জালালুদ্দিন রুমী


 * * *
তুমি যা খুঁজছ সেটাও আসলে তোমাকেই খুঁজছে। ~জালালুদ্দিন রুমী

 * * *
সত্য হৃদয়কে উঁচুতে তোলে, যেমন করে পানি তৃষ্ণা মিটিয়ে সতেজ করে। ~জালালুদ্দিন রুমী

 * * *
তোমার বন্ধু হতে চেয়ে আমি আমার নিজের শত্রু হয়েছি।  ~জালালুদ্দিন রুমী

 * * *
তুমি যা ভালোবাস তার সৌন্দর্যময়তার প্রকাশ হোক তোমার কাজগুলো।  ~জালালুদ্দিন রুমী

 * * *
এমন একটা দিন
যেদিন বাতাসটা একদম যথযথ
যখন পাল তুলে রওনা হওয়া দরকার
পৃথিবীটা অপরূপ সৌন্দর্যে ভরে আছে।
এমনই একটি দিন
আজকের দিন।
~ জালালুদ্দিন রুমী

 * * *
আর এখনো, এত দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও
সূর্য কখনো পৃথিবীকে বলেনি,
'তুমি আমার কাছে ঋণী।'
চেয়ে দেখো, এমন ভালোবাসা কী করেছে,
এই সুবিশাল আকাশ হয়েছে আলোকিত।
~ জালালুদ্দিন রুমী

রুমী কবিতা (ষষ্ঠ কিস্তি)



 * * *
একটু ভিন্নভাবে দেখার চেষ্টা করো। এমনভাবে যে, তুমি দেখছো, এবং মহাবিশ্বও দেখছে তোমাকে।~রুমী

 * * *
একটি গোলাপের উপমা এই ভালোবাসা, যে প্রস্ফুটিত হয় অনন্তকাল। ~রুমী

 * * *
আমি পাখির মত করে গাইতে চাই, যে চিন্তা করেনা কে শুনলো এবং কে কী ভাবলো। ~কবি জালালুদ্দিন রুমী

* * *
আমি জানি তুমি ক্লান্ত, কিন্তু তবু এসো এদিকে, হ্যাঁ এটাই সামনে যাবার পথ।~রুমী

* * *
আর এই যে তুমি? কখন তুমি তোমার নিজের মাঝে দীর্ঘ সেই যাত্রাটি শুরু করবে।
~ জালালুদ্দিন রুমী

* * *
চাঁদকে উজ্জ্বল দেখা যায় যখন সে রাতকে এড়িয়ে যায় না।~ জালালুদ্দিন রুমী

* * *
নিজ চিন্তাগুলোর হাত থেকে নিজেকে সুরক্ষিত রাখো। ~ জালালুদ্দিন রুমী

* * *
একটা কন্ঠ আছে যে কোন শব্দ উচ্চারণ করে না। কান পাতো, শোনো। ~ জালালুদ্দিন রুমী

* * *
একটু ঠান্ডা হও, শুধুমাত্র আল্লাহর হাতই তোমার হৃদয়ের এই ভার সরানোর ক্ষমতা রাখে। ~ জালালুদ্দিন রুমী

* * *
তুমি আমাকে ভালোবাসো আমার কারণে নয় বরং তোমার নিজের অভিজ্ঞতার কারণে... তুমি আমার দিকে ফিরে তাকাও তোমার নিজের আবেগকেই অনুভব করতে।~ জালালুদ্দিন রুমী

৩ মে, ২০১৫

রুমী কবিতা (পঞ্চম কিস্তি)


 * * *
চোখ বন্ধ করো। প্রেমে পড়ো। সেখানেই থেকে যাও।
~ জালালুদ্দিন রুমী

 * * *
জেনে রেখো, তোমার শরীরটা কেবলই একটি পোশাক। তুমি বরং কোন চাদর না খুঁজে দেহটিকে খুঁজে বের করতে চেষ্টা করো। ~জালালুদ্দিন রুমী

 * * *
চোখের অশ্রুর সাথে গোপনে আসে হাসি। ধ্বংসস্তুপের নিচে রত্নভান্ডার খুঁজতে চেষ্টা করুন।
~ জালালুদ্দিন রুমী

 * * *
ফুলের বাগানে ইচ্ছেমতন ঘুরে বেড়াতে চাইলে তোমার নিজের হৃদয়ের কাঁটাগুলোকে টেনে তুলে ফেলো।
~জালালুদ্দিন রুমী

 * * *
আমার কাছে তোমাকে খুলে দাও, যেন আমি তোমার কাছে উন্মুক্ত হতে পারি।
তোমার অনুপ্রেরণা দিয়ে আমাকে জাগাও, যেন আমি আমার নিজেরটুকু দেখতে পারি।
~ জালালুদ্দিন রুমী

 * * *
তাহলে, তুমি যা সত্যিকার অর্থে মূল্য দাও, তা আঁকড়ে ধরে থাকো।
চোরেরা বরং যেন অন্য সবকিছু থেকে নিয়ে যায়।
~জালালুদ্দিন রুমী

 * * *
আর চুপ করে বসে থাকা নয়। অত চিন্তাভাবনা বাদ দাও।
তুমি সবাইকে তোমার ভালোবাসা জানিয়ে দাও।
~জালালুদ্দিন রুমী

 * * *
একাকীত্ব অনুভব করো না।
গোটা বিশ্বজগত তো তোমার ভেতরেই।
~জালালুদ্দিন রুমী

* * * *
হতে পারে খুব সাধারণ কিছুর মাঝে খুব অনন্যসাধারণ কিছু লুকিয়ে আছে। কিন্তু খুব কম মানুষই তা উপলব্ধি করতে পারে।~জালালুদ্দিন রুমী

* * * *
পেছন ফিরে দেখিয়ো না।
কেউ জানেনা ঠিক কেমন অবস্থায় পৃথিবী শুরু হয়েছিলো।
ভবিষ্যত নিয়ে ভয় করো না, কোনকিছুই চিরকাল থাকবে না।
তুমি যদি অতীত আর ভবিষ্যতেই ডুবে থাকো, তুমি বর্তমানকে হারিয়ে ফেলবে।
~জালালুদ্দিন রুমী

২১ এপ্রি, ২০১৫

অনুপ্রেরণা - ৭


[কথাগুলো বিভিন্ন অনলাইন উৎস থেকে সংগৃহীত ও অনূদিত]

​* * *
​আপনার জীবনের সুখ আপনার চিন্তার সৌন্দর্যের সাথে গভীরভাবে সম্পর্কিত। উত্তম, সুন্দর ও ইতিবাচক চিন্তা করুন।

* * *
কৃতজ্ঞতা আরো বেশি প্রাপ্তির সম্ভাবনা নিশ্চিত করে। জীবনে যা পেয়েছেন, তা নিয়ে সন্তুষ্ট থাকুন। সেগুলো না পেলেও আপনার কিছু করার ছিলো না।

* * *
অন্ধকারে ডুবে গেলে আলোর মর্ম বুঝি আমরা। কঠিন সময়ের মুখোমুখি হলে টের পাই আমরা কতটা শান্তিতে ছিলাম। সবসময় কৃতজ্ঞ থাকা উচিত।

২০ মার্চ, ২০১৫

রুমী কবিতা (চতুর্থ কিস্তি)


* * *
আমি তোমাদের না আমার হৃদয় দিয়ে ভালোবাসি, না আমার মন দিয়ে ভালোবাসি। হয়ত হৃদয়ের স্পন্দন থেমে যেতে পারে কিংবা মন ভুলে যেতে পারে। আমি তো তাদের ভালোবাসি আমার আত্মা দিয়ে যে থেমে যায় না, ভুলেও যায় না।~ জালালুদ্দিন রুমী

* * *
তুমি তাদের এড়িয়ে যাও যারা তোমাকে ভীতসন্ত্রস্ত ও দুঃখিত করে , যারা তোমায় রোগ ও মৃত্যুর দিকে টেনে নিয়ে ফেলবে। ~ জালালুদ্দিন রুমী

* * *
একটি সাদা গোলাপ প্রস্ফূটিত হয় নিভৃতে,
তোমার জিহবাকে হতে দাও সেই শুভ্র গোলাপ।
~ জালালুদ্দিন রুমী

* * *
যেখানে রয়েছে ধ্বংস, সেখানেই রয়েছে রত্নভান্ডারের সম্ভাবনা।~ জালালুদ্দিন রুমী

* * *
যখন তোমার আত্মা দিয়ে তুমি কোন কাজ করো, তখন তোমার ভেতরের এক প্রবহমান নদীকে তুমি অনুভব করো, যার নাম আনন্দ। ~ জালালুদ্দিন রুমী

* * *
সুখময় দিনগুলো তো তোমার কাছে হেঁটে আসবে না, তোমাকেই তাদের দিকে এগিয়ে যেতে হবে। ~ জালালুদ্দিন রুমী
* * * * * *
তুমি সারা পৃথিবীতে সম্পদ খুঁজে বেড়াচ্ছ, অথচ সত্যিকারের রত্নভান্ডার রয়েছে তোমার নিজের ভেতরেই। ~জালালুদ্দিন রুমী

* * * * * *
তোমার ভেতর এক সকাল অপেক্ষায় আছে উজ্জ্বল আলো হয়ে বিস্ফোরিত হবে বলে।~ জালালুদ্দিন রুমী

* * * * * *
কষ্টের উপশম কষ্টের মাঝেই আছে। ~জালালুদ্দিন রুমী

* * *
সকল স্নিগ্ধ, সুন্দর আর মোহনীয় বস্তু তাদের জন্যই সৃষ্টি করা হয়েছে যারা দেখতে পায়। ~ জালালুদ্দিন রুমী

* * *
তাকে ভালোবাসবে​ বলে বেছে নাও​ যে কখনো মরে যায়​ না। ~ জালালুদ্দিন রুমী

১৪ মার্চ, ২০১৫

মনের জানালা মাঝে # ২৫


(২৭১)
​প্লিজ ভাইয়া, বই পড়ো। ইতিহাস পড়। দুনিয়ার বিভিন্ন জায়গায় কখন কোথায় কী হয়েছিলো।
প্লিজ আপু, বই পড়ো। জেনে নাও তোমাদের আগে যারা দুনিয়ায় ছিলো তাদের কেমন জীবন ছিলো, কী হয়েছিলো।

(২৭২)
বইহীন যেন না যায় কিশোর-তরুণদের জীবন। সে জীবন অন্তত মানুষের 'মানুষ' হবার জীবন নয়, সেটি একটি পশুর জীবন। ​

(২৭৩)
খুব সাহসী ছেলেটাও চায় তার বিপদে ও সমস্যার সময়ে তার ভালোবাসার মানুষটি তাকে বলবে, "চিন্তা করো না, সব ঠিক হয়ে যাবে ইনশা আল্লাহ।"

(২৭৪)
বেশি সময় ধরে একটানা ফেসবুকে ব্রাউজিং করলে আপনার ভেতরে একটি শূণ্যতার সৃষ্টি হবে। এমনকি অনেক মানুষের অনেক বৈচিত্র্যময় আপডেটগুলো এভাবে জানতে জানতে আপনার ভেতরে ডিপ্রেশন-বিষণ্ণতা, দুঃখবোধ, অপ্রাপ্তিবোধ, হিংসা, রাগ, ঘৃণা জন্ম নেবে এবং সেগুলোর চাষ হতে থাকবে আপনার মাঝে। আমাদের সমাজের মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতির ব্যাপারে দিন দিন ফেসবুক একটি বড় কারণ হিসেবে পরিণত হয়ে যাচ্ছে।

(২৭৫)
আল্লাহ ছাড়া আমাদেরকে কেউ সাহায্য করতে পারে না, একটুও না।
আল্লাহ ছাড়া আমাদেরকে কেউ শান্তি দিতে পারে না, একটুও না।

(২৭৬)
আমাদের মুখের ভাষা বলে দেয় আমাদের হৃদয়ের অবস্থা সম্পর্কে। নোংরা কথা বলতে হলে অনেক দীর্ঘ সময় নিয়ে নোংরা কথা ভাবতে হয়। কোন কিছু আপনাআপনি তৈরি হয়ে যায় না।

(২৭৭)
এই শহরে, এই জীবনে হাসিমুখ মানুষের সাথে সাক্ষাৎ কেন যে এত দুষ্প্রাপ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে ইদানিং তা বুঝে পাইনা...

(২৭৮)
আমাদের সবচেয়ে সুন্দর ও আকাংক্ষিত স্বপ্নগুলো হওয়া উচিত জান্নাতকেন্দ্রিক।

(২৭৯)
আমাদের জীবনটা প্রিয় মানুষদেরকে ভালোবাসার জন্য, এই জীবনে আব্বা-আম্মার অপরিসীম ঋণ পরিশোধ করার চেষ্টা করার জন্যেও খুব ছোট।

(২৮০)
অকাল মৃত্যু বলে কিছু নেই।আমাদের আল্লাহ আমাদের সঠিক সময়েই মৃত্যু দান করেন। তার সিদ্ধান্তে ভুল নেই, অ-কাল নেই, সবই স-কাল। কেউ মারা গেলে ঢঙের আতিশয্যে এসব হাবিজাবি না বলে আমাদের বলা উচিত "ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রজিউন"। আমরা সবাই আল্লাহর এবং তার কাছেই আমাদের ফিরে যেতে হবে।

(২৮১)
হালকা শীতের রাতে ঢাকার রাস্তায় চলার পথে বাসের সিটে বসে কানে হেডফোন লাগিয়ে নবীদের জীবনী শুনতে পারা একটা অসাধারণ নিয়ামাত আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলার পক্ষ থেকে। আলহামদুলিল্লাহ।

(২৮২)
শেষমেষ অন্তত একটি আশা আমাদের রয়েই যায়...

আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলার সাথে সাক্ষাতের দিন সব ব্যথা আর অপ্রাপ্তি ভুলে যাবো, সেসব আর কোনদিন স্পর্শও করবে না ইনশা আল্লাহ। হে আল্লাহ! আমাদের ক্ষমা করেন, আপনার সাথে শান্তিময় সাক্ষাৎ কবুল করেন।

(২৮৩)
মুসলিমদের বীরত্ব ও সম্মানমাখা ইতিহাস পড়ে অনেকে আবেগী হয়ে পড়েন। অনেকে মনে করেন, আবেগী হয়ে কিছু হয়না। কিন্তু আমাদের জেনে রাখা উচিত, জীবনের প্রতিটি কাজের পেছনে আমাদের আবেগ জড়িয়ে থাকে, তার অনুপ্রেরণা মিশে থাকে। তাই, অতীত ইতিহাস আপনাকে যখন বড় কিছু করতে নিজেকে প্রস্তুত হতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ করবে তখন বুঝবেন ইতিহাসকে আপনি সঠিক উপায়ে গ্রহণ করতে পারছেন।

ইতিহাসের বড় শিক্ষা হলো ইতিহাস থেকে মু'মিন ব্যতীত কেউ শিক্ষা নেয় না।

(২৮৪)
মানব জীবন খুব অদ্ভুত। আপনি কয়েক হাজার মানুষের জীবনকাহিনী পড়লে বা শুনলেও দেখবেন আপনার জীবনটা একদম আলাদা। সবার জীবনই অন্যদের চেয়ে একদম আলাদা। যদিও সবার কষ্ট ও সুখগুলোরঅনেক মিল, তবু যেন পুরোটাই আলাদা...

একুশে ফেব্রুয়ারি

​ভাষার প্রতি শ্রদ্ধা সবাইই প্রকাশ করেছি, করছি। কিন্তু একটা বেদীতে, স্থাপত্যের গোড়ায় ফুল দিয়ে এসে আমরা কী বুঝাতে চাই? এই নামকাওয়াস্তে সম্মান দিয়ে ভাষার জন্য জীবন দেয়া মানুষরা আদৌ কোন উপকার পাবেন, নাকি আমরা পাবো? মুসলিমদের বিশ্বাসের সাথে এই বিষয় সরাসরি সাংঘর্ষিক। আমরা আল্লাহর কাছেই চাই, পাথরের-প্লাস্টিকের কাছে 'সম্মান' একসময় সেটার ইবাদতে পরিণত হয়। শয়তান এভাবে অজস্র জাতিকে পথভ্রষ্ট করেছে, আল্লাহর ইবাদত ঠেলে এভাবেই মূর্তিপূজার আবির্ভাব ঘটে। আখিরাতে ক্ষতি না চাইলে সাবধানতা জরুরি।

ঘরে ঘরে ডিশ সংযোগ নিয়ে শিশুদের সবার মাঝে কেমন ভাষার চর্চা হয় তা আশা করি সবাই জানে। প্রতিদিন অজস্র ভাষা হারিয়ে যাচ্ছে পৃথিবী থেকে। বাংলা ভাষাভাষীদের সংখ্যা বেশি হলেও হিন্দির সাংস্কৃতিক আগ্রাসন যেভাবে চলছে, আগামী প্রজন্ম বাংলাকে কেমন করে লালন করবে তা আল্লাহ ভালো জানেন। কয়েক প্রজন্ম পরে কী হবে তা নিয়ে আশাবাদী ভাব মারার আগে ঘরে ঘরে একটু খোঁজ নিলেই একজন টের পাবেন।

অনলাইনে বাংলা ভাষায় কিছু সার্চ দিতে গেলে গুগলের 'সাজেশন' এবং 'মোস্ট সার্চড কীওয়ার্ড' দেখে টের পাওয়া যায় এই ভাষার মানুষগুলো কতটা নোংরামি লালন করে।

ভাষার বৈচিত্র্য আল্লাহর সৃষ্টির নিদর্শনগুলোর একটি। একজন বোবা জানে কথা বলতে পারা আল্লাহর কত বড় নি'আমত। আশা করি আমরা এমন দিনকেও 'ভ্যালেন্টাইন ডে' না বানিয়ে বাংলা ভাষাকে আরেকটু শিখবো, বাংলাকেই চালু রাখবো নিজেদের আলাপে--তাতে হিন্দি আংরেজি ঢুকিয়ে 'ইশ্মার্ট' হবার চেষ্টা করবো না। আল্লাহ বাংলাদেশ ও বাংলা ভাষাকে রহম করুন।

[২১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৫]

মনের জানালা মাঝে # ২৪


​(২৬২)
​কুরআন এই কারণে নাযিল করা হয়নি যে কেউ মরে গেলে 'হুজুর' ডেকে 'খতম' করিয়ে মাইয়্যেতকে কবর দেয়া হবে। জীবনে বেঁচে থাকতে যদি কুরআন কারো কাজে না আসে, মৃত্যূতে তার পাঠে কিছুমাত্র লাভ হবে না। কুরআন তো এসেছিলো জীবিত মানুষদের এমন উপকারার্থে যেন এর নির্দেশনায় জীবনকে বদলে ক্রমাগত উন্নতি সাধন করবে মানুষ, বিশ্বমানবতা মুক্তি পাবে দুনিয়ার দাসত্ব থেকে। কুরআন তো নিছক উচ্চারণ করা কিছু শব্দমালা নয়, বরং জীবনের প্রতিটি মূহুর্তকে অর্থপূর্ণ করে দেয়ার এক মহিমান্বিত গ্রন্থ, রয়েছে প্রতিটি মূহুর্ত সঠিকভাবে চলার নির্দেশিকা। কুরআন আমাদের আল্লাহর পক্ষ থেকে আমাদের প্রতি ভালোবাসামাখা কিছু উপদেশবাণী, সাবধানবাণী, সুখবর।

(২৬৩)
ভালোবাসা পাওয়া আল্লাহর একটি নিয়ামাত। ভালোবাসার স্পর্শ পেলে তার শুকরিয়া করা উচিত আমাদের।

(২৬৪)
ফেসবুকে বাহারি প্রোফাইল পিকচার দেখতে পাই। কেউ লাগিয়ে রেখেছেন, i hate my life, i want to die.... অদ্ভুত ব্যাপারটা! মরে যেতে ইচ্ছা করলে স্রেফ একটু ঢাকা মেডিকেলের আউটডোর থেকে ঘুরে আসুন.... দেখবেন কতগুলো মানুষ বেচে থাকতে মরিয়া হয়ে আছেন... হয়ত সে সুযোগ করতে পারবেন না তারা। আল্লাহ যে জীবনটা দিয়েছেন তার শুকরিয়া করা উচিত সবসময়।

মরণ এলে চাইলেও কেউ ঠেকাতে পারে না।

(২৬৫)
​যে কথাগুলো হৃদয় থেকে বের হয়, সেগুলো সচরাচর অন্যদের হৃদয় ছুঁয়ে যায়...

(২৬৬)
জীবিত অবস্থায় যদি কুরআন থেকে নিজেকে উপকৃত করতে না পারি। মরে গেলে শত ফাতেহা পাঠ, কুরানখানি আর খতম-কাংগালি ভোজে আমার কোন উপকারই হবে না। আমাদের কুরআন স্পর্শ করা হয়না মাসের পর মাস, জীবনে নেই তার কোন প্রয়োগ, অথচ আমরা মনে করি মৃত্যুর পর তা আমাদের সুরক্ষা দিবে!

সময় ফুরিয়ে যাবার আগেই যেন আল্লাহ আমাদের বোধোদয় ঘটান...

(২৬৭)

এমন অনেক অনেক বিষয় পড়াশোনার সময়ে, জীবনের অভিজ্ঞতা থেকে প্রতিদিন সামনে আসে, যেগুলো দু'চার লাইন লেখার বদৌলতে অন্তত কিছু মানুষকে ক্ষতি থেকে বাঁচাতে লিখতে ইচ্ছে করে। সময় হয়না, শেষ পর্যন্ত পারিনা। মাঝে মাঝে মনে হয়, এগুলোতে হয়ত কারো উপকার হয় না। এর চেয়ে উত্তম উপায় আর কী হতে পারে সেটাও ভাবছি। চারপাশে এত এত খারাপ কাজ, আমার এটুকু উদ্যোগ, তাও আবার ফেসবুক পেইজে কিছু লেখা-- সেটা কী কোন অবদান রাখতে পারবে আদৌ?

(২৬৮)
উপদেশ আর কথায় অনেক সময় কাজ হয় না, মানুষ বুঝতে চায় না। সবচেয়ে বড় শিক্ষা সম্ভবত অভিজ্ঞতা। যখন কিছুতেই কাজ হয় না, তখন অনেক সময় চুপ করে দেখে যেতে হয়, শিক্ষা পেয়ে নিজ জীবনের অভিজ্ঞতা থেকে পাওয়া জ্ঞান ও বোধ মানুষটির কাজে দেয়।

(২৬৯)
জীবনের অভিজ্ঞতাগুলোর তিক্ততার মাঝে আল্লাহ অনেক সুপ্ত রাহমাত ও জ্ঞান লুকিয়ে রেখেছেন। বুদ্ধিমান মাত্রই তা তীব্রভাবে বুঝতে পারে!

(২৭০)
দাজ্জাল আসবে... নিশ্চিত আসবে।কোন সন্দেহ নেই।

সন্দেহ নেই দাজ্জাল এই পৃথিবীর বুকের সবচেয়ে বড় ভয়ংকর ফিতনাহ, পরীক্ষা, বিপদ। আমাদের ছোটবেলায় আমরা ড্রাকুলা, ভুত-পেত, ডাইনি, ঠাকুমার ঝুলি, গোপাল ভাঁড় পড়ে বড় হলেও আমাদের আব্বা-আম্মারা এ সম্পর্কে কদাচিৎ শিখেছেন বা শিখিয়েছিলেন। সুপারম্যান, স্পাইডারম্যান, ব্যাটম্যান ইত্যাদি জানলেও জানিনা রিয়েল হিরো ইমাম মাহদী সম্পর্কে। সাইয়্যিদিনা ঈসা (আলাইহিস সালাম) সম্পর্কেও জানিনা যে তিনি আমাদের কেমন করে নেতৃত্ব দিবেন।

ড বিলাল ফিলিপস আলোচনা করেছেন দাজ্জালের সত্যিকারের ঘটনা নিয়ে। আলোচনাটি দেখুন: https://www.youtube.com/watch?v=_I5ef1smVZk

বিষণ্ণতা কাটিয়ে ওঠা (পর্ব: প্রারম্ভিকা)


​​
​​আমাদের বর্তমান নাগরিক জীবনে অনেক বেশি 'ম্যাটেরিয়ালিজম' এবং অনেক বেশি 'স্ট্রেস' জড়িয়ে গেছে। সবার অনেক বেশি 'হাই হোপ/অ্যাম্বিশান' এবং চারপাশের সাথে নিজের অনেক বেশি 'অমিল'। নিজেকে নিয়ে/নিজেদেরকে নিয়ে 'এক্সপেকটেশন' এবং 'রিয়ালিটি' দুটোই ভিন্ন হয়ে যায় প্রায় সবার জীবনেই। আর এসব বিষয় আমাদের মুসলিম প্রজন্মকে, বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মকে কুরে কুরে খাচ্ছে। আমাদের চারপাশে বিভিন্ন কারণে নানান রকম ডিপ্রেসড মানুষ। 'ডিপ্রেশন' জিনিসটা আমাদের মুসলিম প্রজন্মের প্রোডাক্টিভিটিকে ভয়ংকরভাবে নষ্ট করছে।

১৫ ফেব, ২০১৫

যারা দুঃখভারাক্রান্ত, তাদের জন্য লেখা....

... ​যারা দুঃখভারাক্রান্ত, তাদের জন্য লেখা....

আমরা যেসব বোকা মানুষ দুনিয়ার জীবনের বিভিন্ন বিপদাপদ, আশংকা-ভয়, দুঃখ-কষ্টে জর্জরিত হয়ে ভারাক্রান্ত হয়ে পড়ি, তাদের জন্য আল্লাহ নিজেই হচ্ছেন সবচেয়ে বড় এবং একমাত্র শান্তি, সমাধান। মনে রাখতে হবে, আমাদের জীবনের এই কষ্ট এসেছে আমাদেরকে 'শুদ্ধ' করতে এবং 'মুক্ত' করতে। আপনার মাঝে যদি ঈমান থেকে থাকে, তবে জেনে রাখবেন আল্লাহ এই পরীক্ষা হাজির করেছেন আপনাকে তার দিকে ফিরিয়ে নিয়ে আসতে। আল্লাহ আপনাকে আরো বেশি বেশি ইস্তিগফার ও আ'মাল করাতে চান। মু'মিনদের জীবনের যেকোন পরীক্ষাই আসে কল্যাণ হিসেবে, তাই অবশ্যই সবর করার চেষ্টা করতে হবে। এই কষ্টগুলো আপনার পাপগুলোকে পুড়িয়ে আপনাকে শুদ্ধ করবে যেমন করে সোনা পুড়ে খাঁটি হয়।

১১ ফেব, ২০১৫

আপনার জীবনে উত্তম পরামর্শক না থাকলে আপনি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন

​​​স্বাভাবিক জীবন, শান্ত-স্থির জীবন আমরা একেকটা মানুষ খুব বেশি সময় ধরে পাইনা। দুনিয়ায় আমাদের জীবনকে উথাল-পাথাল করা ঘটনা, ভয়-শংকা করার মতন ঘটনা জীবনে লেগেই থাকে। এ সময়গুলোর খুব গুরুত্বপূর্ণ একটা বিষয় হলো -- 'উত্তম পরামর্শক'। আমি জীবনের অভিজ্ঞতা থেকে গভীরভাবে শিখেছি, "আল্লাহকে ভয় কর এবং সত্যবাদীদের সাথে থাকো"[১] টাইপের আদেশের একটি গভীর উপকার/প্রয়োজন/আবেদন স্পষ্ট টের পাওয়া যায় যখন আমরা সমস্যাগ্রস্ত হই।

১০ ফেব, ২০১৫

মনের জানালা মাঝে # ২৩


(২৫০)
আমরা অনেক সময় অতিরিক্ত উৎসাহ থেকে অন্যদের ব্যাপারে দু'একটা বিষয় থেকে অনেক ধারণা করে বসি। অনেক সময় আমাদের ধারণা ও মন্তব্য শিষ্টাচার ও ন্যায়ের সীমারেখা ছাড়িয়ে যায়। সন্দেহ করা ও ধারণা করা খুব খারাপ কিছু বৈশিষ্ট্য। উত্তম মানুষ হতে চাইলে অযথা সন্দেহ ও অনায্য ধারণা থেকে দূরে থাকা আবশ্যক। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই আমাদের ধারণাগুলো ভুল হয়, যা মিথ্যার নামান্তর। অস্পষ্ট জ্ঞান থেকে ধারণা করার অভ্যাসটি দূর হোক আমাদের সমাজ থেকে...

(২৫১)
খুব না চেয়ে, পরিশ্রম না করে যদি কোন মূল্যবান সম্পদ পেয়ে যাই, তাকে তখন আমরা ঠিক পাত্তা দিই না।

(২৫২)
'তিনি প্রফেশনাল' বলে কেবল চাকরি-বাকরিতে চরম সিরিয়াস বলে বুঝানো পুরোপুরি ঠিক না। দুনিয়ার জীবনটাও প্রফেশনের মতন, মৃত্যুর পর ঠিকমতন বেতন পেতে প্রফেশনাল হওয়া উচিত জীবনের প্রতিটি মূহুর্তে। যারা বুঝেনা, তারা পা হড়কে কোমর ভাঙ্গে নিয়মিতই... তাই, সফলতা পেতে প্রফেশনাল হউন।

(২৫৩)
যে আগুনের উত্তাপ ও আলো যত বেশি, তার দহনজ্বালাও তত বেশি।

(২৫৪)
এমন সিগারেটখোর দেখিনি যে দাম্ভিক ও উদ্ধত নয়।
এমন গাঁজাখোর দেখিনি যে আগে সিগারেটখোর ছিলো না।
~ জনৈক

(২৫৫)
আমরা অনেকেই আমাদের বর্তমান সময়গুলোকে নষ্ট করি অতীতের সময়কে কেমন করে নষ্ট করেছি তা ভেবে ভেবে...

(২৫৬)
অন্ধকার পছন্দ করে যারা, তারা বেশিরভাগ ডিপ্রেসড থাকে। অন্যভাবে বলা যায়, যারা ডিপ্রেশনে ভুগে, তারা অন্ধকারে থাকতে চায়। অন্ধকার পরিহার করুন, আলোকিত স্থানে থাকুন। কোথাও স্রেফ পড়ে থাকবেন না, সচল থাকুন। আগ্রহ ও উদ্যম নিয়ে কাজ করুন, তা যতই ছোট হোক।+গতকাল অন্ধকার পছন্দ করার একটি বাজে দিক নিয়ে চিন্তাভাবনাগুলো গোটা জীবনের উপলব্ধি ও অভিজ্ঞতা হলেও মূল অনুপ্রেরণা ছিলো 'নূরুন আলা নূর' আয়াতটির উপরে উস্তাদ নুমান আলী খানের এই ভিডিওটি। অসাধারণ এই আলোচনাটি দেখে ফেলুন...

www.youtube.com/watch?v=hpjuufpCDOI

(২৫৭)
আপনার হয়ত যখন কিছুই পাওয়ার সম্ভাবনা নেই দুনিয়ার জীবনে, আপনি হয়ত 'গুড ফর নাথিং', কিন্তু সেই আপনি এখন থেকে ছোট্ট ছোট্ট যা কিছুই করবেন সেটাই আপনার প্রাপ্তি। আপনি একটা ছোট্ট বাচ্চার হাসির কারণ হতে পারেন, আপনি মায়ের একটা হাসিমুখ প্রশান্তির কারণ হতে পারেন, আপনি হয়ত চেনা-অচেনা কারো একটি উপকার করলেন --এমন ছোট ছোট অর্জনই আপনাকে জীবনের বড় অর্জনে এগিয়ে নিয়ে যাবে। মনে রাখা উচিত, ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বালুকনা বিন্দু বিন্দু জল, গড়ে তোলে মহাদেশ সাগর অতল। আজকে যা ক্ষুদ্র প্রাপ্তি, তা হয়ত কিছুদিন পরের বড় প্রাপ্তির মূল কারণ হবে। আল্লাহর কাছে সাহায্য চাইতে হবে প্রতিটি সময় কেননা সমস্ত সাফল্য একমাত্র আল্লাহর কাছ থেকেই আসে।

(২৫৮)
​​সুন্দর একটি আলাপ। খুব সুন্দর, মাত্র ৬ মিনিটে মন ভালো হয়ে যাবে। হয়ত আজীবনই তা কাজে দেবে... ইনশা আল্লাহ! Don't Be Sad - Shaykh Hamza Yusuf

# ভিডিও লিঙ্ক: https://www.youtube.com/watch?v=HqfP4ADWHEQ

(২৫৯)
অন্যদের সাথে তুলনা করা বোকামি, আমাদের জীবনের আনন্দগুলো কেউ বুঝতে পারে না, আমাদের কষ্টগুলোও কেউ উপলব্ধি করতে পারে না। আল্লাহ আমাদের সবাইকে একদম আলাদা-আলাদা জীবন দিয়েছেন, প্রতিটি জীবনকে তিনি অসংখ্য নিয়ামাত দিয়ে সাজিয়েছেন। তাই, যেমনই থাকি, যতক্ষণ ঈমান আছে বুকে, আলহামদুলিল্লাহ বলে কৃতজ্ঞ হওয়াই সেরা কাজ, প্রাণ আনন্দে ভরপুর হবার কাজ।​

(২৬০)
মানবজাতিকে আল্লাহ যে বিষয়টি দিয়ে স্বস্তি ও রাহমাত দিয়েছেন সবচেয়ে বেশি তা হলো, মৃত্যু। মানব মস্তিষ্কের মাঝে অনন্তকালের কল্পনা সম্ভব হয় না। এই পৃথিবীর সর্বোচ্চ শান্তির কথা ভাবলেও তা অনন্তকাল পাওয়ার কথা ভাবতে অশান্তি লাগে। কষ্টকর মূহুর্তে থাকা লক্ষ-কোটি মানুষেরা যদি অনন্তকাল এভাবেই থাকবে বলে ভাবতো, এবং তাদের জীবন মৃত্যুহীন জানতো, নিশ্চয়ই তারা তা সহ্য করতেই পারতো না।

মৃত্যু এক অসাধারণ ঘটনা। মৃত্যু স্বস্তি দেয়, মুক্তি দেয় জীবনের ক্লান্তি থেকে। শেষ জীবনে বার্ধক্যে ক্ষয়ে যাওয়া, রোগে ধুঁকতে থাকা মানুষগুলোকে জীবনের তীব্র যাপন থেকে মুক্তির আশা দেয় মৃত্যু। যদিও মৃত্যুর পরের ভয়াবহতার আশংকা আমাদের ভীতসন্ত্রস্ত করে, তবু মৃত্যু আমাদের আশ্বস্ত করে। মৃত্যু, একটি যতি চিহ্ন, একটি পরিসমাপ্তি, একটি স্বস্তির নাম।

(২৬১)
​নীল আকাশকে দূর থেকে দেখতে যেমন লাগে, বিমানে চড়ে কাছে গেলে তেমনটা লাগে না। সমুদ্রকে তীর থেকে যেমন লাগে, জাহাজে চড়ে কাছে গেলে লাগে ভিন্নরকম। দুরত্বভেদে, সময়ভেদে একই জিনিসের রূপ ভিন্ন লাগেই। মানুষদের ক্ষেত্রেও তাই। বিভিন্ন সময়ে, ভিন্ন ভিন্ন দুরত্বে আমরা নিত্যনতুন রূপকে খুঁজে পেতেই পারি, অবাস্তব কিছু তো নয়!

অনন্য সাধারণ এক ইতিহাস : মুতার যুদ্ধ

মুতা'র যুদ্ধে রাসূলুল্লাহ (সাল্লল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আগে থেকেই তিনজন সেনাপতি নির্ধারণ করে দিয়েছিলেন। বলেছিলেন, যায়িদ বিন হারিসা মারা গেলে জাফর বিন আবু তালিব, তিনিও মারা গেলে আব্দুল্লাহ বিন রাওয়াহা হবেন মুসলিম আর্মির সেনাপতি। মুতার প্রান্তরে তারা দেখেন তখনকার শক্তিশালী রোমান সাম্রাজ্যের ১ লাখ সৈন্য আকাশ-বাতাস প্রকম্পিত করে প্রস্তুতি নিচ্ছে, তাদের পেছনে যোগ দিতে প্রস্তুতি নিচ্ছিলো রোমানদের মিত্র এবং মুসলিমদের শত্রু বিভিন্ন দল-উপদল মিলে আরো ১ লাখ সৈন্য।

এই বিশাল ২ লক্ষ বাহিনীর বিপরীতে মুসলিম বাহিনীর সৈন্যদল মাত্র ৩ হাজারের। অবিশ্বাস্য হলেও এটাই সত্য। তারা যুদ্ধের ময়দান ছেড়ে পিছিয়ে যাননি বরং তারা জানতেন তারা এসেছেন অন্যায়কারী যালিমদের ধূলোয় মিশিয়ে দিতে! শাহাদাত তাদের পরম আরাধ্য ছিলো। এ যুদ্ধে তিনজন সেনাপতিই ক্রমান্বয়ে শহীদ হন। রাদিয়াল্লাহু আনহুম।

৯ ফেব, ২০১৫

মনের জানালা মাঝে # ২২


(২৩৭)
শব্দের ক্ষমতা অনেক। শব্দ দিয়ে অনেক কিছুকে গড়ে দেয়া যায়, অনেক সুন্দরকে প্রতিষ্ঠিত করা যায়, অনেক হৃদয়কে শান্তি দেয়া যায়। শব্দ দিয়ে ধ্বংস করে দেয়া যায় অনেক কিছু, হৃদয়ে ক্ষত তৈরি করা যায়, হৃদয়কে কলুষিতও করে দেয়া যায়। শব্দ ব্যবহারের আগে তাই খেয়াল করা উচিত। কেননা এই শব্দ হয়ত একদিন আমাদের শত্রু হয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে পারে হিসাবের দিন! ​

(২৩৮)
​লিবিয়া, সিরিয়ায়, ইরাকে প্রতিদিন ঢাকার রাস্তার ইঁদুর-চিকার মতন করে মারা যাচ্ছে। এগুলো নিয়ে আজকাল দু'আ পর্যন্ত শুনিনা, দু'লাইন লেখাও দেখিনা! সত্যিকারের সমাধান তো দূরের কথা। আল্লাহ উম্মাহর এই অন্যায়ের দায়ভার থেকে আমাদের মাফ করুন, আমাদেরকে সঠিক পথে পরিচালিত করুন।

(২৩৯)
দুনিয়ার পেছনে যত ছুটি, সেটা তত দূরে চলে যায়।

(২৪০)
আল্লাহ তার বান্দাদের খুব ভালোবাসেন, খুবই!

(২৪১)
যখন সবকিছু প্রতিকূলে, তখনো নিজের চরিত্র ও ব্যবহারের সৌন্দর্য ধরে রাখার চেষ্টা করাই সফলতা। হয়ত ভালো হতে না পারছি, খারাপ যেন না হই। একদিন আল্লাহ এই কষ্টটুকুর বিনিময় অনেক উন্নতি দান করবেন ইনশাআল্লাহ।

(২৪২)
ছোটকালে শিক্ষকদের মুখে শুনেছি, ভালো পরিবেশে সবাই/সবকিছুই ভালো সার্ভিস/আউটপুট দেয়। প্রতিকূল পরিবেশে যে বেশি ভালো সার্ভিস দিতে পারে সে-ই স্পেশাল, সাকসেসফুল।

(২৪৩)
যদি প্রতিদিনের কঠিন সময়টুকুতে কারো পাশে এমন কেউ থাকে যে সবকিছুর উপরে একচ্ছত্র ক্ষমতাশালী আল্লাহর কথা স্মরণ করিয়ে দেবে, তাহলে সে একজন ভাগ্যবান মানুষ। যদি এমন কেউ পাশে না থাকে এবং সে মানুষটি আল্লাহর কুরআন ঘেঁটে তার দিকনির্দেশনা ও অনুপ্রেরণা গ্রহণ করে তাহলে সে আরো বেশি ভাগ্যবান মানুষ। যেকোন অবস্থাতেই আল্লাহ আমাদেরকে তার নিয়ামাতে ডুবে থেকে সেগুলোর শুকরিয়া করার তাওফিক দিন।

(২৪৪)
একজন ​ নাক-কান-গলা (ENT) স্পেশালিস্ট ডাক্তার পরিষ্কারভাবে বললেন, কানে কটন বাড (cotton bud) নামক ​জিনিসটা ​ব্যবহার করার নাকি কোনই প্রয়োজন নেই। ​কানে​ যা পরিষ্কার করতে আমরা অস্থির হয়ে যাই, সেটা নাকি একটা সময় পরে আপনাতেই বের হয়ে যায়। সেটা কোন সমস্যার কিংবা ক্ষতিকর কিছু নয়। অনেকের বেশি বেশি কানে চুলকানি হওয়ার চিন্তাভাবনা বেশিরভাগ মানসিক। ​আর​ যদি খুবই চুলকায়, তাহলে ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে হবে। কানে গুতোগুতি করে অনেক মানুষই কানের পর্দায় ফুটো তৈরি করে ইনফেকশনের সৃষ্টি করেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।​ সচেতনতা জরুরী!!

(২৪৫)
গতিশীল বাসে চড়ে কোথাও যাবার পথে সাথে খাবার পানীয় না থাকলে যেমন অজস্র নলকূপ দেখেও লাভ নেই, আবার বাস থামিয়ে পানি নিতে নামলে তখন সেই বাসটা মিস হবার+বাসের ভাড়া+সময়মতন গন্তব্যে পৌঁছা টাইপের বিশাল পার্থক্যের ক্ষতি থাকে। তেমনি জীবনের চলার পথেও অনেক কিছু আমাদের উপকৃত করতে পারে না। উপকারের ডালা চোখে দেখলেও আমরা থাকে দৌড়ের উপরে, দৌড়... দৌড়... অসুস্থ দৌড়...

(২৪৬)
অনেক সময় প্রাপ্য ও কাঙ্খিত সদাচারণের জায়গায় মন্দ ব্যবহার পেয়ে অনাকাঙ্খিত কোথাও থেকে যত্ন-আত্মি পেলে লজ্জায় মাটির সাথে মিশে যেতে ইচ্ছা করে। আমি এক নাদান বান্দা আল্লাহর, সারাটি জীবন ঘুরেফিরে পূর্বেকার চিন্তার ভুল প্রমাণ পেতে পেতে ক্লান্ত। পৃথিবীর আনাচে-কানাচে আজো কত স্বার্থবিহীন ভালো মানুষ যে ছড়িয়ে আছে! আল্লাহ তাদেরকে হিফাযত করুন এবং উত্তম প্রতিদান দিন।

(২৪৭)
হারানোর আগে বোঝা যায় না কী ছিলো আগে...

(২৪৮)
দুনিয়া যে লক্ষ্য হিসেবে খুব দুর্বল এবং লজ্জাজনক তা এই ক্ষণস্থায়ী হওয়ার ব্যাপারটা থেকেই বোঝা যায়। আল্লাহর কাছে যখন ফিরে যাবো আমরা, তখন এই দুনিয়ার কাজের প্রতিফল হিসেবে পাবো উত্তম ও অনন্তকালের পুরষ্কার ও শাস্তি।ছোট ছোট কাজ তো দূরে থাক, বড় কাজ করেও দুনিয়াতে লোকের স্মৃতিতে থাকা যায় না, কিন্তু মহান আল্লাহর কাছে ছোট কাজ করেও প্রিয় হয়ে অনন্ত জগতের সফলদের দলে যাওয়া যায়।  আল্লাহ আমাদেরকে সত্যিকারের সফলতা অর্জনের তাওফিক দান করুন।

(২৪৯)
আমরা অনেকসময় ভুল করে নিজেদেরকে বেশ মূল্যবান মনে করতে থাকি। আসলে আমাদের কারো তেমন মূল্য নেই। আমরা কেউ চলে গেলে সেই অভাব পূরণ হয়েই যায়। চাকুরিস্থলে কেউ চলে গেলে তার প্রতিস্থাপন খুব দ্রুতই হয়ে যায়। পরিবারে কেউ চিরকালের জন্য চলে গেলেও সে অভাব পূরণ হয়ে যায়। কোন অভাবই অপূরণীয় নয়, আমরা কেউই খুব আহামরি কিছুই না। কত-শত ধ্যানী-জ্ঞানী, বিজ্ঞানী, নেতা, বিপ্লবী, দার্শনিকেরা দুনিয়া থেকে চলে গেছেন আর তাদের স্রেফ স্মরণসভায় আলাপ করা হয় কিছুকাল, একসময় কেউ মনে রাখে না। খুব জোর অল্প কয়েক দশক বা একটি শতকের বেশি কেউ দুনিয়ায়

সচরাচর স্মৃতিতে থাকে না। আমরা সবাই বিস্মৃত হয়ে যাব।

৮ ফেব, ২০১৫

হয়ত পৃথিবীর শেষ সময়ের খুব কাছাকাছি আমরা

অবাক হয়ে নিজের বুক চেপে হৃদস্পন্দন নিলাম। এইতো, পৃথিবীর এই সময়টায় বাংলাদেশ নামের এক দেশে বেচে আছি। কতদিন আছি জানিনা কেননা একে তো মৃত্যু ব-দ্বীপ বলেন অনেকে। 'যে মারা যাচ্ছে সে জানেনা কেন মারা যাচ্ছে, যে মারলো সে জানেনা কেন হত্যা করছে' -- রাসূলুল্লাহর সাবধানবানী দেয়া এমন সময়টা কি চলে এলো নাকি? এ তো তাহলে ভয়ংকর সেই সময় যখন খুবই সতর্ক থাকতে হবে, এমন সময়ে অসচেতন হলেই অনেকের মৃত্যু সরাসরি জাহান্নামে নিয়ে যাবে।

যেদিন দেশজুড়ে অগণিত খুন, আগুনে দহনে, বোমায়-গুলিতে মানুষ মরে লাশ হয়ে গেলো, সেদিনও চেলসি-ম্যানইউ, মুভি-সং, হ্যাং-আউট, ক্রাশের গল্প লিখে রাত কাটিয়েছে অনেক তরুণ-তরুণী, যুবক-যুবতী। অনেকগুলো বছর ধরে একটি রাস্ট্রীয় ও সামাজিক পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে অন্যায়কে হজম, লালন করার উপযোগী করে। এখন সেই প্রজন্মে ছেয়ে আছে দেশ যারা নির্বিকার, ক্যারিয়ারভাবনায় মজে থাকা, সমাজ ও রাজনীতি অসচেতন, অমানবিকতায় ভরপুর একদল অদ্ভুত প্রাণী।

হয়ত পৃথিবীর শেষ সময়ের খুব কাছাকাছি আমরা। হয়ত আর কয়েকশত বছরের মাঝে কিংবা হয়ত আরো কম বা বেশি সময় পরে কিয়ামাতপূর্ব বড় ঘটনা ঘটবে। হয়ত দাজ্জালের ফিতনাতে অন্ধভাবে ডুবে যাওয়ার মানুষ তৈরি হচ্ছে এখন এসবের মধ্য দিয়েই। আল্লাহ আমাদের হিফাজত করুন। অন্যায় যখন গৃহীত সবখানে, অনিয়ম যখন নিয়ম, অত্যাচারী যখন সম্মানিত --তখনও যেন আল্লাহ আমাদেরকে সরল-সঠিক পথে পরিচালিত করেন। আল্লাহ যেন অন্যায়কারীদের হাত গুড়িয়ে দেন। আল্লাহ যেন আমাদের এমন ঈমান দান করেন যা আমাদের জান্নাতে নিয়ে যাবে। নিশ্চয়ই সমস্ত ক্ষমতার মালিক কেবলমাত্র আল্লাহ।

[০৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৫]

পৃথিবীর জীবনটা তো জান্নাত নয়

পৃথিবীর জীবনটা তো জান্নাত নয়। এটা পরিপূর্ণ শান্তির স্থান নয়। জান্নাতে পা দেয়ার আগে আমরা অ্যাবসোলুট শান্তি পাবো না। দুনিয়ার জীবনে আমাদের হৃদয় ভাঙবে, চুরমার হয়ে যাবে। আপনার ঈমান যতই বৃদ্ধি পাবে, আল্লাহ ততই নিত্যনতুন কষ্ট এনে হাজির করবেন আপনার সামনে পরীক্ষা হিসেবে। আপনি তখন শান্তি খুঁজুন সলাতে, সাওম পালনে, দান-সাদাকার মাঝে।

মু'মিনের জীবন তো ঝড় তুফানের আঘাতে জর্জরিত থাকবেই

মু'মিনের জীবন তো ঝড় তুফানের আঘাতে জর্জরিত থাকবেই। একজন শাইখের আলোচনায় শুনেছিলাম যিনি কুর'আনুল কারীমের কিছু কথা নিজের ভাষায় বলছিলেন, মুমিনের জীবনের তুলনা সেই ঘাস-লতাপাতার মতন; প্রতিটি দমকা বাতাসের মতন বিপদাপদ যাদের নুইয়ে দেয়, কষ্টভরা হৃদয়ে আল্লাহর কাছে সমর্পিত হওয়ায়। আর কাফিরদের জীবন সেই বৃক্ষের মতন যা ছোটখাটো ঝড়ো বাতাসে ঠায় দাঁড়িয়ে থাকে কিন্তু জোরে কোন ঝড় এলে তা শেকড়শুদ্ধ উপড়ে যায়।

৩ ফেব, ২০১৫

আমাদের পরবর্তী সময় তো পূর্ববর্তী সময়ের চেয়ে বেশি খারাপ

বিগত শতকের শেষভাগে মৃত্যুবরণ করা সিরিয়ার শাইখ আলী আল-তানতাওয়ির (রাহিমাহুল্লাহ) একটা কথা ক'দিন আগে ড. ইয়াসির ক্বাদি লিখেছিলেন যা আমার খুবই পছন্দ হয়েছিলো। শাইখ আলী যা বলেছিলেন তা অনেকটা এমন যে, জীবনের এমন কোন যুগ তিনি পাননি যে সময়ের ক্ষতি ও খারাপগুলো তাকে কষ্ট ও দুঃখে জর্জরিত করেনি। অথচ সেই সময়টা চলে যাবার পরে তিনি সেই 'কষ্টকর সময়টা' কতই না ভালো ছিলো তা মনে করে স্মৃতিচারণ করেছেন, বেদনার্ত হয়েছেন।

অল্প কিছু লোকের কূটবুদ্ধির কাছে গোটা সভ্যতা এখন বন্দী

আমার খুব আফসোস হয় যখন বুঝি আমরা সাধারণ মানুষদের জীবন কিছু মানুষের কাছে কীটপতঙ্গের চেয়েও বেশি 'সিলি'। অল্প কিছু মানুষ কেমন করে ট্র্যাপ করে, প্ল্যান করে লক্ষ-কোটি মানুষের জীবনকে ছকে বেঁধে নিজেরা ক্ষমতা ও সম্পদগুলো ভোগ করে। সাধারণ মানুষগুলোকে তাদের নিম্ন বুদ্ধিমত্তার কারণে এবং 'ভোগের আকাঙ্ক্ষার' কারণে সহজেই ধুলো দেয়া যায়।

কারণ? আমাদের সমাজে এখন চারপাশে প্রচুর 'ম্যাটেরিয়ালিস্টিক' লোকজন। ভালো চাকরি, ভালো বাড়ি, ভালো গাড়ি, ব্র্যান্ড মোবাইল, ব্র্যান্ড অমুক, ব্র্যান্ড তমুকের আকাঙ্ক্ষা, স্বপ্নে, দৌড়ে সবার জীবন প্রায় পুরোপুরি অকুপাইড। এসবের বাইরে কেউ চিন্তা করতে পারছে না। অনেক পিএইচডি আর ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ার মানুষগুলোর চিন্তার দৌড় ঐ শেষমেষ ক্যারিয়ার-ফিউচারের বাইরে নয় দেখলে খুবই কষ্ট হয়।

বড় বড় কর্পোরেশন এবং তাদের অ্যাডভার্টাইজিং এত বেশি জীবনঘনিষ্ট হয়ে আছে যে আমাদের গভীরতাহীন-মূর্খ-অসহায় আমজনতার মুক্তির সম্ভাবনা খুবই কম দেখি। এই জীবনের সমাপ্তি যে যেকোন সময়েই হতে পারে এবং এর পরের অনন্তকালের জগতটা যে খুব সহজ কিছু নয়-- এমন বোধ মানুষের মাঝে জায়গা না পেলে ম্যাটেরিয়ালিজম নিয়ে ডুবে থেকেই একেকটা জীবনের সমাপ্তি হতেই থাকবে। কী যে অসহায় লাগে ভাবলে, কী কষ্ট যে লাগে ভাবলে!

# উস্তায নু'মান আলী খান ম্যাটেরিয়ালিজম নিয়ে কিছু কথা বলেছেন, অনেক দামী কথা: www.youtube.com/watch?v=VcXpFqjaU3Y

[৩০ জানুয়ারি, ২০১৫]