১৩ আগ, ২০১৩

এখনকার বিয়ের অনুষ্ঠানগুলো

এক ছোট ভাই প্রশ্ন করেছিলো, ভাইয়া এখনকার বিয়ের অনুষ্ঠানগুলোর অবস্থা তো খুবই খারাপ হয়। গান-বাদ্য, ছেলে-মেয়ের মেলামেশা, নাচানাচিগুলো, ডিজে... এসব থেকে কীভাবে মুক্তি পাওয়া যায়?

উত্তর আর কী দিবো? কাছের বন্ধুদের জীবনের অভিজ্ঞতাগুলো দেখে-শুনে বুঝেছি এখানে 'ইসলামিক্যালি মডিফিকেশন' করার সুযোগ নেই বললেই চলে, বেশিরভাগ অনৈসলামিক কাজ। পারিবারিক আর সামাজিক চাপে পিষ্ট হয়ে করতে হয়। এখন অনেক ধাপ থাকে বিয়েতে, আমি এতটা 'ব্যাকডেটেড'(!) যে ঠিক সব জানিও না। তবু শুনেছি -- মেহেদি ১, মেহেদি ২, গায়ে হলুদ ১, গায়ে হলুদ ২, বিয়ে, বৌভাত, (রিসিপশন)। এগুলো থেকে যারা কমায়, তারা মূলত টাকার ঠেলাতে পড়ে কমায়।

এককালে হিন্দুয়ানা নানান সংস্কৃতিতে তাল মিলিয়ে আমাদের এই দেশীয় বিয়েতে কনেকে সাজুগুজু করে স্টেজে বসে থেকে ভিডিও/ফটোর জন্য পোজ দিলে হত। একধাপ বেশি হতো যখন 'গায়ে হলুদ' হতো আর গাইর-মাহরাম পুরুষরাও গিয়ে তার মুখে হলুদ ডলতে যেত, চারপাশ থেকে শ'খানেক জোড়া চোখ সেজে থাকা কনের সৌন্দর্যে হারাম উপায়ে মুগ্ধ হত। এখন তো সবার সাথে তারাও নাচে, উদ্দামতায়; শয়তানও নাচে সেই পার্টিগুলোতে, আনন্দে উদ্বেল হয়ে... এখন তাতে পাশ্চাত্য, ভারতীয়সহ তাবৎ পৃথিবীর নোংরা বিষয়গুলো স্থান পাচ্ছে। কেউ জানেই না কী করে, কেন করে!!

গুরুত্বপূর্ণ কথা হলো, উদ্দেশ্য ঠিক করা। কেন এই অনুষ্ঠান? যারা আল্লাহকে খুশি করতে জীবনযাপন করে, তারা এমনিতেই জানি, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হিসেবে এইসবের স্থান ইসলামি বিয়েতে নাই। সুন্নাহ তো খুবই সহজ। মুহর ঠিক করা, খুতবা, ওয়ালিমা (সাধ্যানুযায়ী) হলেই হলো। আর কিছুই না। ইসলাম জীবনকে সহজ করে, সুন্দর করে। নারী-পুরুষের অবাধ মেলামেশার পাপাচারের সুযোগ ইসলাম দেয় না। একটা সুন্দর বিষয় শিখেছিলাম। ইসলামে যা কিছু নিষিদ্ধ নয়, বাদবাকি সবই তো করা যায়। খেয়াল রাখতে হবে কী কী নিষেধ, এটা তো যে কোন মুসলিমই বুঝে (যারা বুঝতে চায়)। আমাদের সামনে যেসব ঘটনা সুন্নাহ হিসেবে জেনেছি তাতে আছে বিয়েতে কম খরচ উত্তম, তাতে অপব্যয় মুক্ত থাকা উচিত, গরীবদের অংশগ্রহণ থাকা উচিত। এগুলো আল্লাহ পছন্দ করেন। খুব ভালো করে জানি, অধিকাংশ বাবা-মা-অভিভাবকরা *সমাজের কাছে মুখ টিকিয়ে রাখতে* এসব অনুষ্ঠানের জন্য অস্থির থাকেন, চাপ দেন। অথচ আল্লাহর কাছে কী করে মুখ দেখাবো সেই হিসেব করা হয়না।

একটা কথা জানি, আল্লাহকে ছেড়ে মানুষের দাসত্ব করা এইসব সংস্কৃতিকে একদম বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে চেইন ভেঙ্গে ফেলার জন্য বর-কনে উভয়ের এবং তাদের পারিবারিক সমঝোতার প্রয়োজন হয়। তবু, একবারেই হয়ত কিছু হবেনা। এখনকার অনেক ভাই-বোনেরা নিজেদেরকে চলমান নোংরা সংস্কৃতি থেকে নিজেদেরকে আলাদা করার আপ্রাণ প্রয়াসে এসব অনুষ্ঠানের ইতরামি, নোংরামি, বাহুল্য এড়িয়ে ছোটখাটো আয়োজনে সারছেন। হয়ত তাদের পারিবারিক পূর্ণ সমর্থন নেই। তবে ইনশা আল্লাহ তাদের পরের প্রজন্ম সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরে দুনিয়ার শান্তি এবং আখিরাতের মুক্তি অর্জন করবে।

আমরা তো সেই উম্মাহ, যাদের শেষ সময়ে ঈমান টিকিয়ে রাখা জলন্ত কয়লা হাতের মুষ্ঠিতে ধরে রাখার চাইতে কঠিন হবে। জাহান্নামি এসব সংস্কৃতি থেকে মুক্তি পেতে কষ্ট তো করতে হবেই, ধৈর্যধারণকারীদের জন্যই তো সুসংসবাদ। তবে হ্যাঁ, একান্ত আমার ব্যক্তিগত বিশ্বাস হলো -- এসব সংস্কৃতিকে ইসলামাইজেশনের কিছু নেই। এগুলোর প্রায় পুরোটাই নষ্টধারার, তাই এদের ছুঁড়ে ফেলে মসজিদকেন্দ্রিক সমাজের সেই সোনালিযুগে ফিরে যাবার সংকল্প করলে ইনশা আল্লাহ সব সহজ হবে। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলার সাহায্য তো সন্নিকটে...

স্বপ্ন কারখানা, ঢাকা নগরী।
১২ আগস্ট, ২০১৩