২৬ অক্টো, ২০১২

ক্রিকেট ম্যাচ, চিয়ার গার্ল আর আমাদের ডিসেনসিটাইজড হওয়া

জীবনের একটা সময় কাটিয়েছিলাম, যখন কোন ক্রিকেট খেলা মিস দিতাম না। পড়াশোনার বাইরে বিনোদন বলতে তখন কেবলই ছিল গল্পের বই পড়া আর ক্রিকেট দেখা। তাই মন দিয়ে দেখা গত শতাব্দীর শেষ দশকের অজস্র ক্রিকেটিয় খবর অবললীলায় বলতে পারতাম।

খেলার মাঠে চিয়ার গার্লদের উদ্বোধন ও তাদের নিয়মিত উপস্থিতির পর থেকে কখনো ক্রিকেট খেলা দেখতে টেলিভিশনের সামনে বসতে সাহস করতে পারিনি। বাবা-মা-ভাই-বোন সবাই মিলেই একটা সময় খেলা দেখা হত। অথচ চিয়ার গার্লদের ওই পোশাকে নর্তন কুর্দন এবং তাদের প্রতি ক্যামেরার আকর্ষণের কথা যা স্মৃতিতে আছে, সেটাই আতঙ্ক জাগায় মনে।


নিজের অজান্তেই অনেক নোংরামিতে ডিসেনসিটাইজড হয়েছি জীবনে। কিম্ভূত আর খারাপ জিনিসকে নরমাল ভাবতে ভাবতে তাকে স্বাভাবিক করে নিয়েছি অনেক কিছুতেই। কিন্তু চিয়ার গার্ল জিনিসটাকে সহ্য করে অবলীলায় খেলা দেখা মুসলিম ও মুসলিমাহদের অন্তরের ঈমানী শক্তির কথা ভাবলেও নিজেকে খুব তুচ্ছ লাগে।

তখন মনে হয়, সবারই মনে হয় মন আর অনুভূতি অনেক পবিত্র, আমি হয়ত শুধু এত দুর্বল। অথবা সবাই হয়ত অন্তরে এতটাই নোংরা হয়ে গেছে অন্তরে যে এই পাপকে তাদের আর পাপ মনে হয়না...

আল্লাহ আমাদেরকে ছোট-বড় সব ধরণের পাপ থেকে বেঁচে থাকার তাওফিক দান করুন।

আল্লাহ আমাদের বলেছেনঃ

♥ "…নির্লজ্জতার কাছেও যেয়ো না, প্রকাশ্য হোক কিংবা অপ্রকাশ্য…"[সূরা আনআম - ১৫১]
♥ "যারা পছন্দ করে যে, ঈমানদারদের মধ্যে ব্যভিচার প্রসার লাভ করুক, তাদের জন্যে ইহাকাল ও পরকালে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি রয়েছে…" [আন নূর:১৯]
♥ "মুমিনদেরকে বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টি নত রাখে এবং তাদের যৌনাঙ্গর হেফাযত করে। এতে তাদের জন্য খুব পবিত্রতা আছে… " [সূরা আন নূর :৩০]
♥ "আমি মানুষ সৃষ্টি করেছি এবং তার মন নিভৃতে যে কুচিন্তা করে, সে সম্বন্ধেও আমি অবগত আছি।…" [সূরা ক্বাফ -১৬]

সবশেষে আরেকটা গুরুত্বপূর্ণ কথা বলবো, এই চিন্তাটা জাগিয়েছিলেন ইয়াসমিন মোজাহেদ তার একটা লেখায়...

চোখ হলো মনের দরজা, চোখ দিয়ে দেখি আর অন্তরে আমরা অনুভব করি, তাকে ধারণ করি। যেই চোখ দিয়ে আপনি অশ্লীল ও নোংরা জিনিস দেখছেন, আপনি কীভাবে আশা করেন সেই অন্তরে আল্লাহ রব্বুল আলামীনকে ধারণ করতে পারবেন। আল্লাহ হলেন মহাপবিত্র, মহাসুন্দর, মহামহিম।