১২ নভেম্বর, ২০১৫

মনের জানালা মাঝে # ৪১

 

(৪১৪)
​কেবলমাত্র সম্মানিত মানুষরাই অন্যদের সম্মান দিতে জানেন। যারা সম্মান দিতে জানেনা, তারা মূলতঃ নিজেরাই সম্মানের যোগ্য হয় না।

(৪১৫)
যখনই শুঁয়াপোকা ভেবেছিলো তার পৃথিবীটা একদম শেষ হয়ে গেলো -- তখনই সে উড়তে শুরু করেছিলো!

(৪১৬)
মানুষের একটি স্বভাব হ​লো, পথ হারিয়ে ফেললে আরও দ্রুত হাঁটা...

(৪১৭)
জীবনে কারো ব্যাপারে অভিযোগ রাখবেন না। জীবনে ভালো মানুষরা আপনাকে দিবে সুখ, খারাপ মানুষেরা দেবে অভিজ্ঞতা। খুব জঘন্য মানুষে​​রা আপনাকে দেবে শিক্ষা আর খুব চমতকার মানুষেরা আপনাকে দিবে স্মৃতি। [অনূদিত]

(৪১৮)
আচ্ছা ঠিকাছে, আপনি যে কোন মানুষকে অপছন্দ করতেই পারেন। এমনকি কোন কারণ ছাড়াই কাউকে অপছন্দ করতে পারেন। কিন্তু তাই বলে আপনি কাউকে অসম্মানিত, অপদস্থ, অপমানিত করতে পারেন না। [স্পিরিট সাইন্স ম্যাগাজিন থেকে অনূদিত]

(৪১৯)
যারা আবেগের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়, তারা সুখ পায় না। যারা আবেগকে চিনে নিয়ে তাকে জয় করে, তারা আবেগ থেকে উদ্ভুত আনন্দও পায়, বিপদেও পড়ে না। আবেগ এক ধরণের ফাঁদ, সেই ফাঁদে আবেগস্বর্বস্বরা নিয়মিত ভূপাতিত হয়।

(৪২০)
আসুন আমরা অনেক উদারতা নিয়ে সেই মানুষগুলোকে ক্ষমা করে দেই যারা আমাদের ভালোবাসতে পারেনি। ~পাবলো নেরুদা

(৪২১)
হাসপাতালে ঈদের ছুটি বলে তেমন কিছু নেই। রোগীরা এখানে আসে ত্রস্তব্যস্ত হয়ে, জীবনের প্রয়োজনে। জীবনকে ধারণ করতে চাওয়ার কী সীমাহীন আকাঙ্ক্ষা এই রোগে কাতর মানুষগুলোর! আমাদের জীবনটা কতই না ঠুনকো! কী অসহায় আমরা! হাসপাতালে আসার কারণটি তৈরি হবার এক মিনিট আগেও মানুষগুলো বুঝতে পারে না তাকে পড়ে থাকতে হবে বিছানায়। শক্তপোক্ত আমরা বিছানায় পড়লে টের পাই, অসমর্থ মানুষগুলোকে জগতে কেউ পাত্তা দেয় না। 'সারভাইফাল ফর দা ফিটেস্ট' হলো এই জগতের মূলনীতি। দুর্বলদের পদে পদে জ্বালা!

কত কষ্ট আর অসহায়ত্ব! হায় দুনিয়ার জীবন! তবু সবার বাঁচতে ইচ্ছে করে। শেষ প্রান্তরে গিয়েও হয়ত আরেকবার রোদভাঙ্গা সকাল দেখতে ইচ্ছে হয়, ইচ্ছে হয় ডানা মেলা গাংচিল দেখতে, ইচ্ছে হয় রাতের আকাশের স্নিগ্ধ জোছনা দেখতে সমুদ্রপাড়ে বসে! হয়ত মৃত্যুর দরজার ওপারের নিদারুণ রহস্যের ভয় তটস্থ রাখে বলেই যেতে ইচ্ছে হয়না। তবু যেতে হবে। রোগে ভুগতে থাকা মানুষগুলোকে এই কষ্টের বিনিময়ে আল্লাহ ক্ষমা করে দিবেন ইনশা আল্লাহ। ইশশ! কত কষ্ট মানুষের জীবনে! তবু আমাদের একেকটা বুকের মাঝে কতই না নির্মমতা!

(৪২২)
হে আল্লাহ, নিরস্ত্র গাজাবাসীদেরকে চারপাশ থেকে পৃথিবীর অন্যতম সর্বোচ্চ সামরিক শক্তির ইহুদিবাদী ইসরায়েল যেভাবে হত্যা করছে, আপনি এই মজলুম মুসলিম ফিলিস্তিনিদের একমাত্র অভিভাবক। হে আল্লাহ, সিরিয়াবাসীদেরকে যেভাবে নানান দলের অস্ত্রধারীরা মিলে হত্যা করছে সেই ফিতানের মাঝেও একমাত্র আপনিই অভিভাবক। হে আল্লাহ, মুসলিম উম্মাহকে একত্রিত হবার তাওফিক দিন। হে আল্লাহ, ইসরায়েলকে ধ্বংস করে দিন, কাফিরদের ধ্বংস করে দিন, তাদের বুকে ভয় ধরিয়ে দিন, তাদের সবদিক থেকে কাবু করে দিন। নিশ্চয়ই সমস্ত ক্ষমতা কেবলই আপনার। আপনি আমাদের ক্ষমা করে দিন। [১১ অক্টোবর, ২০১৫]