৫ মে, ২০১২

টুকরো টুকরো ভালোলাগা - ৩



গতকালের ভোরটা আমার জন্য ছিলো স্নিগ্ধ সময়। একদিকে সাপ্তাহিক ছুটির দিন -- জুমুআর দিন, সেই সাথে বৃষ্টি ছিলো ঝির ঝির। স্নিগ্ধ সকাল বলতে অমনটাকে বোঝাবেই। প্রিয় বইটা হাতে নিয়ে কিছুক্ষণ বসে ছিলাম, শারীরিক অসুস্থতাটা তার আগের দিন কাটিয়ে উঠেছি, মানসিক প্রশান্তি এসেছিলো সুন্দর সকালের আবহাওয়ায়। আত্মিক প্রশান্তিটাও এসেছিলো বইটা হাতে নিয়ে -- পড়ছিলাম আমার প্রিয়তম জনের কথাগুলো, আমার প্রতি তাঁর ভালোবাসা, নির্দেশাবলী, উপদেশাবলী একসাথে করে দিয়েছেন তিনি যেখানে!


আমি ইসলামকে নতুন করে আবিষ্কার করেছি কয়েক বছর হলো। এই সময়েও অনেক জায়গায় অজস্র সময় বিলি করে এসেছি জ্ঞানার্জন ভেবেই -- অথচ আমার আত্মিক অর্জন তীব্র রকমের রিক্ত ছিলো তা এখন টের পাচ্ছি। অনেকদিন আগে ইমাম সুহাইব ওয়েব এবং নুমান আলী খানকে তাদের আলোচনাতে বলতে শুনছিলাম -- মুসলিম তরুণদের নেশা হওয়া দরকার কুরআন। কুরআন ছাড়া এই দুনিয়ায় অপার সৌন্দর্য্যময় জ্ঞানের উৎস এমন কিছুই নেই যেখানে পার্থিব জ্ঞান এবং আত্মিক জ্ঞান -- দুটোই অর্জিত হয়। শুধু কুরআনই আমাদের নেশা হওয়া দরকার আসলেই। প্রতিদিন পথে চলতে এই শ্রেষ্ঠ শব্দমালা মুখস্ত করার চেষ্টায় মুখে আয়াত আওড়ানো, বাসায় ফিরে অন্ততপক্ষে দুটো আয়াত পড়ে তা অনুধাবন করার চেষ্টা করা যে আমাদের আল্লাহ আমাদেরকে কী জানিয়ে দিয়েছেন এই জীবনটা চালানোর জন্য।

যেহেতু আমার পড়াশোনায়, আমার বসবাসের এলাকায়, পরিবারে, পরিচিতদের মাঝে তেমন কেউ ছিলো না -- যারা কুরআনকে গভীর করে জানেন, তাই অনলাইনের রত্নভান্ডারে মন দেয়া ছাড়া আমার উপায় ছিলো না। আমার মনে হয় এমন মানুষ খুব কম না, বরং বেশিরভাগই আমার মতন। কীভাবে কুরআন পড়বো খুঁজে পাচ্ছিলাম না।

অনেকদিন অনেক রকমের অ্যাপ্রোচ চালানোর পর যা আবিষ্কার করলাম তা হলোঃ

  • স্কলারদের ও দা'ঈদের তাফসীর আলোচনাগুলো শুনলে তাফসীর বই পাঠ সহজ হয়। তাদের আলোচনায় থাকে কী প্রেক্ষিতে আয়াতগুলো নাযিল হয়েছে নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে। আয়াতগুলোর মূল বিষয় কী, কুরআনের ভাষার অলংকার ও সৌন্দর্য্য। উস্তাদ নুমান আলী খান, ইমাম সুহাইব ওয়েব-এর আলোচনা আমার খুবই ভালো লাগে।
  •  আরেকটা খুব বেশি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো -- আয়াতের কনটেক্সগুলো। সেইটা তাফসীরে আলোচিত হয়। একটা আয়াতের পেছনের ব্যাকগ্রাউন্ড জেনে, শব্দ অলংকারে আল্লাহর সুবহানাহু ওয়া তা'আলার অপার মাধুর্যের ছাপ পেয়ে, সেগুলোকে হৃদয়ে গেঁথে যখন তাফসীর পড়া হয় -- তখন সেই কুরআন পাঠ অন্যরকম মাত্রা পায়।
  • পড়তে পড়তে মাঝে মাঝে দু'একটা পয়েন্ট টুকে রাখি, নিজেকে স্মরণ করাতে, প্রিয়জনদের সাথে আলোচনা করতে। আবার মনে করি, পরে কখনো সময় পেলে সেই মোহময় গুলোকে নিয়ে দু'চার লাইন লিখবো। সেই লেখার নাম দেয়া যেতে পারে -- "একজন মোহমুগ্ধ মানুষের ভালোলাগা কথকতা" !! 

কুরআনুল কারীমের কথাগুলো আমি আমার আগের চাইতে অনেক বেশি গভীর থেকে বুঝতে পারছি এখন, মজা পাচ্ছি -- তার কারণ হলো এই স্টাইলটা আয়ত্ব করে পড়া। আগে আলোচনা শুনি, মাঝে মাঝে হালকা নোট টুকে নিই। তারপর তাফসীরের বই থেকে পড়ি। আমি যখন শুকনা শুকনা আয়াতের অর্থ পড়তাম -- কেন একদমই কোন আলাদা টাইপের মজা পেতাম না তা এখন টের পাচ্ছি। কুরআন এতো বেশি দারুণ জিনিস এটা কেন আগে পড়িনি -- এটা ভেবে খুব আফসোস লাগে!!

আমি জানি এই কথাগুলো বলার মতন কোন যোগ্যতাই আমার নাই। আমি কুরআনের জ্ঞানে খুবই রিক্ত-শূণ্য একটা মুসলিম। বলতে গেলে মুগ্ধ মনে, হৃদয়ে পড়া শুরু করেছি মাত্র। তবু এই উপলব্ধিগুলো একটা লেখাতে লিখে শেয়ার করলাম শুধুমাত্র তাদের জন্য, যারা এখনো কুরআন হাতে নিয়ে বুকে শান্তি পাইনা পুরোপুরি। যারা আমার আগের সময়গুলোর মতন করে হাতে নিয়ে ভাবতে থাকি পড়বো! আবার পড়েও অনেক সময় যখন মনেও থাকে না কী শিখলাম। অথচ কুরআন আমাদের মানবজাতির পথের দিশা, এখানেই আছে কোথায় শান্তি, কীসে মুক্তি, সবকিছু, একদম সব!! এই অসাধারণ বইটাকে পড়ে মুগ্ধ হওয়া ছাড়া আর কোন উপায়ই নেই -- এমনটাই বলেন সব স্কলাররা।

আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা যেন আমাদের সঠিক জ্ঞানের দিকে এগিয়ে নিয়ে যান, আমাদের জ্ঞানকে বৃদ্ধি করে দেন, আমাদের রাহমাত দান করেন, আমাদেরকে কবুল করেন এবং আমাদেরকে এমন যোগ্যতা দান করেন যা দ্বারা আমরা তাকে সন্তুষ্ট করতে পারি।

1 টি মন্তব্য:

  1. ভাল লাগল খুব। যখন কিছু কিছু সুরা'র অর্থ বুঝতে পারলাম, মুগ্ধ হয়ে গেলাম। মানুষ সফল জীবনের জন্য ডেল কার্নেগি টাইপের কত শত বই পড়ে, অথচ দু' একটি সুরা'র অর্থ জেনে দেখলাম সাফল্যের সব সুত্র আল-কুরআনেই নিহিত।
    কুরআন মাজীদ আল্লাহ তা'লার শাশ্বত বাণী যা তিনি আমাদের বলছেন - এই উপলব্ধিটা খুব প্রয়োজন। ছোটবেলায় গৎ বাধা কয়েকটি সুরা শিখলেই এই উপলব্ধিটা হয় না। মুখস্ত করা সেই সুরা গুলো দিয়েই নামায চালিয়ে নিতাম, এর চেয়ে বেশি কিছু নয়। মনে পড়ে সুরা আর-রাহমান বুঝে পড়তে গিয়ে প্রথম যেদিন কান্না আসলো সেদিন কুরআন তিলাওাতের আসল মর্ম বুঝলাম। কুরআন বুঝে পড়তে গিয়ে নব নব উপলদ্ধি আবিস্কারে অভিভূত হয়ে যাই আর ভাবি এখন অনেক পথ রয়ে গেল বাকি।

    উত্তরমুছুন

আপনার মূল্যবান মতামত জানিয়ে যান লেখককে