২০ অক্টো, ২০১৪

তরুণ কবির কাছে লেখা চিঠি : রেইনার মারিয়া রিলকা


​​​এই পোস্টের কথাগুলো বিখ্যাত ঔপন্যাসিক রেইনার মারিয়া রিলকার লেখা 'লেটার্স টু আ ইয়াং পোয়েট' নামক গ্রন্থটি থেকে বেছে নেয়া কিছু অংশমাত্র। পুরো চিঠিটি পড়তে চাইলে ক্লিক করুন এখানে। অনুবাদ করেছি আমি, মাঝে মাঝে কথাগুলো পড়তে বেশ লাগে! 

জীবনের যেসব বিষয় নিয়ে হিসাব-নিকাশ মেলেনি, সেগুলোর ব্যাপারে ধৈর্য ধরুন। সেই উত্তর-না-পাওয়া প্রশ্নগুলোকেই ভালোবাসতে চেষ্টা করুন, যেমন করে আপনি গ্রহণ করে থাকেন বন্ধ দরজার একটি ঘর অথবা ভিনদেশি ভাষায় লেখা কোন একটা বই। এখনই সব উত্তর খুঁজতে ব্যস্ত হবেন না। আপনাকে সেই প্রশ্নগুলোর উত্তর এখন দেয়া হবে না কেননা সেসব জেনে আপনি ঠিকভাবে বাঁচতে পারবেন না। তাছাড়া, এই বিষয়গুলো হলো অভিজ্ঞতার পথ দিয়ে যাওয়া। জীবনের এই দিনগুলোতে আপনার এই প্রশ্নগুলো বুকে নিয়েই বাঁচতে হবে। হয়ত, সময়ের সাথে কোন একদিন, আপনি নিজের অজান্তেই ধীরে ধীরে প্রশ্নগুলোর উত্তর জেনে যাবেন।
~রেইনার মারিয়া রিলকা [লেটার্স টু আ ইয়াং পোয়েট]

* * * * * *
নিজের বেড়ে ওঠার গোটা সময়টাতে তুমি ধীরস্থিরভাবে এবং সতর্কভাবে বেড়ে ওঠো। যখন কেবল সম্ভবত নিজের ভেতরের গভীরতম অনুভূতিগুলো তোমাকে তোমার প্রশ্নের উত্তর দিতে পারে তখন অন্যদের দিকে তাকিয়ে এবং অন্য কোথাও থেকে উত্তর খোঁজার মাঝে নিজের বেড়ে ওঠার ক্ষেত্রে চরম ক্ষতি মনে হয় আর হতে পারে না।
~রেইনার মারিয়া রিলকা [লেটার্স টু আ ইয়াং পোয়েট]

* * * * * *
অতএব প্রিয় বন্ধু আমার, যদি কখনো এমন দুঃখ-কষ্ট এসে তোমাকে জর্জরিত করে ফেলে যারা তোমার গোটা জীবনে পাওয়া কষ্টগুলোর চেয়েও বড়, যা তোমার সমস্ত কাজের উপরে কষ্টের ছায়া বিছিয়ে দেয়, কখনো ভীত হয়ে যেয়ো না। তোমাকে অবশ্যই ভাবতে হবে যে তোমার ভেতরে কিছু ঘটে চলেছে; মনে রেখো জীবন তোমায় ভুলে যায়নি; সে তোমাকে তার হাতে আঁকড়ে ধরেছে এবং তোমাকে পড়ে যেতে দেবে না। তুমি কেন তোমার জীবন থেকে অস্বস্তি, অশান্তি, ব্যথা, বিষণ্ণতাকে দূর করে দিতে চাইবে যখন তুমি জানই না তারা এসে তোমারই ভেতরে কী দারুণ সব অর্জনকে পূর্ণ করে চলেছে?
-- রেইনার মারিয়া রিলকা ['লেটার্স টু আ ইয়াং পোয়েট' বই থেকে অনূদিত]

* * * * * *
যারা আপনাকে সাধারণ কিছু স্নিগ্ধ ও শান্ত কথা বলে একটুখানি স্বস্তি এনে দিতে চেষ্টা করেন, তাদের দেখে  এমনটা ভেবে বসবেন না যে তাদের জীবনটা যন্ত্রণাবিহীন। তার জীবনেও দুঃখ-কষ্ট এবং যন্ত্রণা থাকতে পারে যা হয়ত আপনার চাইতেও বেশি। যদি তেমনটা না-ই হতো, তাহলে তিনি এমন কিছু শব্দ কখনো খুঁজে পেতেন না।
~রেইনার মারিয়া রিলকা [লেটার্স টু আ ইয়াং পোয়েট]

* * * * * *
এমন এক ভালোবাসাতে বিশ্বাস করুন যা আপনার জন্য জমা আছে যেমন থাকে উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া সম্পদ। দৃঢ় বিশ্বাস রাখুন সেই ভালোবাসার মাঝে এমন সুবিশাল শক্তি আর আশীর্বাদ আছে যার মাঝে আপনি যত ইচ্ছা তত ঘুরে বেড়াতে পারবেন এবং সেই ভালোবাসার বৃত্ত থেকে বাইরে পা দেয়ার দরকারই আপনার হবে না। [রেইনার মারিয়া রিলকার উদ্ধৃতি অনুসরণে]

* * * * * *
কোন মানুষের সাথে আপনার সর্বশেষ কথোপকথন যা হয়েছিলো, তিনি কেবলই সেই মানুষটি নন। বরং, প্রকৃতপক্ষে আপনার সাথে তার গোটা সম্পর্কটি জুড়ে তিনি আপনার সাথে যেমন ছিলেন সেটিই তিনি।~রেইনার মারিয়া রিলকা

* * * * * *
আপনার প্রতিদিনের জীবন যদি খুব সেকেলে ও আনন্দহীন হয়, তাহলে দিনকে দোষ দিবেন না, বরং নিজেকে দোষারোপ করুন। নিজেকে বলুন যে আপনি এমন ভালো  একজন কবি নন যে দিনের ঐশ্বর্য থেকে কিছু পরিমাণ বের করে নিয়ে আসতে পারে। স্মরণ রাখবেন, স্রষ্টার কাছে অভাব বলতে কিছু নেই, যেমন নেই কোন আনন্দহীন জায়গা।
-- রেইনার মারিয়া রিলকা [লেটার্স টু আ ইয়াং পোয়েট]

* * * * * *
আমার কাছে দু'জন মানুষের সম্পর্কের বন্ধন ভালো রাখার জন্য যে জিনিসটা সবচেয়ে বড় কাজ বলে মনে হয় তা হলো: পরস্পরের নির্জনতার একাকীত্বের হাত থেকে পরস্পরকে আগলে রাখা।
~ রেইনার মারিয়া রিলকা [লেটার্স টু আ ইয়াং পোয়েট]

* * * * * *
একটা উত্তম বিয়ে সেটাই যেখানে দু'জন তাদের পরস্পরকে নিজ নিজ একাকীত্বের অভিভাবক বানিয়ে দেয়। ~ রেইনার মারিয়া রিলকা [লেটার্স টু আ ইয়াং পোয়েট]

* * * * * *
খেয়াল রাখুন কোন কিছুর স্রেফ বাইরের আবরণ যেন আপনাকে বিভ্রান্ত না করে।
~ রেইনার মারিয়া রিলকা [লেটার্স টু আ ইয়াং পোয়েট]

* * * * * *
জীবনে যা ঘটেছে তা থেকে খুব দ্রুত কোন সিদ্ধান্ত নিতে যেয়োনা, স্রেফ পেরিয়ে যেতে দাও সময়টাকে। তা না হলে অতীতকে অভিযোগের চোখে দেখাটা খুব সহজ হয়ে যাবে। অথচ তোমার বর্তমানে তুমি যা কিছুর সাথে পরিচিত হয়ে চলেছ, তারা খুব স্বাভাবিকভাবে এই অতীতের সাথে সম্পর্কিত।
~রেইনার মারিয়া রিলকা [লেটার্স টু আ ইয়াং পোয়েট]

* * * *
কোন মানুষের সাথে আপনার সর্বশেষ কথোপকথন যা হয়েছিলো, তিনি কেবলই সেই মানুষটি নন। বরং, প্রকৃতপক্ষে আপনার সাথে তার গোটা সম্পর্কটি জুড়ে তিনি আপনার সাথে যেমন ছিলেন সেটিই তিনি।~রেইনার মারিয়া রিলকা

মনের জানালা মাঝে # ১৮


(১৯২)
আঁধার নিয়ে শত-শতবার সমালোচনা করা, ​আহাজারি​ করার চেয়ে বরং অন্তত ১টা আলোর বাতি জ্বালানোও উত্তম। আমাদের প্রতিটি কাজই আমাদেরকে আল্লাহর কাছে অথবা আল্লাহর কাছ থেকে দূরে নিয়ে যায়।​

(১৯৩)
গল্প করার সময়, কথা বলার সময় সুন্দর শব্দগুলোকে পছন্দ করাটা যেন অনেকটা রিফ্রেশারের মতন। কিছু প্রিয়মুখ, প্রিয়জনদের সাথে যখন আলাপ হবে, তখন অতীতের তিক্ততা, গ্লানির গল্প করে যদি কাজে না লাগে, তাহলে পুরো এড়িয়েই যাওয়া উচিত। বরং কিছু সুন্দর শব্দ দিয়ে ঘেরা আলাপ করা যেতে পারে।

(১৯৪)
শুভ্রতা, স্নিগ্ধতা, স্বপ্নময়তা, ভালোবাসা, জান্নাত, বাগান, সাদাকাহ, আতিথেয়তা, মেহমান, উপহার, ফুল, সৌরভ, ভালো মানুষ, বিনয়ী, উদার, পরোপকারী, ভদ্র, সাহায্যকারী, নিরহংকার, আশাবাদ, সুন্দর ভবিষ্যত, হাসিমুখ কথা -- এরকম শব্দগুলো নিজেরাই কেমন একটা সুন্দর অনুভূতির জানান দেয়, তাইনা? এরকম সুন্দর শব্দ দিয়ে তৈরি বাক্যগুলোও অন্তরকে শান্তি দেয়। যদি সম্ভব হয়,  বাজে কথা ছেড়ে ভালো কথা নয় কেন?

(১৯৫)
আপনি যা অপছন্দ করে তাকে ধ্বংস করে গুঁড়িয়ে দেয়ার চেয়ে বরং আপনি যা ভালোবাসেন তাকে ছড়িয়ে দিন চারপাশে। ফুলের সুগন্ধ তো সবাই ভালোবাসে...

(১৯৬)
কখনো কখনো মানসিক ক্লান্তিগুলো শারীরিক ক্লান্তির চেয়ে শত-সহস্রগুণ বেশি শক্তিশালী এবং ক্ষতির দিক থেকেও মারাত্মক। তবু আমরা অনেক সময়েই মানসিক ক্লান্তি দূর করার উপায় খুঁজে পাইনা।

(১৯৭)
মানুষ আশা করে অন্যেরা তাকে বুঝবে। অথচ তা অসম্ভব। অন্য কেউ আপনার জীবনটার গলি-ঘুঁপচি জানে না, ধারণাও করতে পারবে না। তাই আপনাকে বোঝা সম্ভবও নয়। মিছে আশা করে ঠকবেন না। তার চেয়ে বরং নির্বিকার হোন, প্রত্যাশা কমিয়ে ফেলুন। মানুষের কাছে আশা না করে বরং প্রার্থনা করুন কেবলই আল্লাহর কাছে। আল্লাহ চাইলে আপনার প্রত্যাশাগুলো পূরণ হতেও পারে, হয়ত সেই মানুষটাই করবে। পদ্ধতিটা ভিন্ন...

(১৯৮)
একজন বই পড়ুয়া মানুষের সাথে থাকলে প্রতিদিন দেখবেন আপনি যেন বদ্ধ ঘরেও হিমেল বাতাসের পরশ পাচ্ছেন। তিনি প্রতিদিন আপনাকে নিত্য নতুন ধারণা, নতুন দৃষ্টিভঙ্গি, অনুপ্রেরণাময় গল্প, জীবনেতিহাস জানাবেন। পাঠিকা বা পাঠকের সাথে কাটানো সময়গুলো তাই অনেক 'অবোরিং' হয়। আপনি প্রতিদিন কিছু না কিছু পড়েন তো?​​

​​ (১৯৯)
পরীক্ষার রেজাল্টের দিনে মা-ছেলের কথোপকথন....
মা : কী রে, রেজাল্ট কী তোর?
ছেলে: (কুরআনের আয়াত আওড়িয়ে)
"পার্থিব জীবন ক্রীড়া-কৌতুক, সাজ-সজ্জা, পারস্পরিক অহমিকা এবং ধন ও জনের প্রাচুর্য ব্যতীত আর কিছু নয়" (৫৭:২০)  
:P :P

লালমনিরহাটে খ্রিষ্টান মিশনারীদের আগ্রাসন

​​​ক'দিন আগে এক ভাই তাঁর লেখায় লিখেছিলেন লালমনিরহাটে এক স্কুলে বাচ্চারা খাওয়ার পূর্বে বিসমিল্লাহ না বলে বলে,বান্দা যীশুর নামে চাই! কী ভয়াবহ!

আমার জীবনের একটা বড় অভিজ্ঞতা ছিলো এই বছরের শুরুতে লালমনিরহাট ভ্রমণ--'মিশনারী রোডে' বাস থেকে নামতে যখন হলো, তখন টের পেয়েছিলাম এই শহরে 'মিশনারীরা' খুব তৎপর। পরবর্তীতে জেলা শহরের প্রাঙ্গনে যখন অজস্র চার্চ, চার্চ স্কুল, মিশনারী স্কুলের ভীড়ে তেমন কোন ন্যুনতম সরকারি/ইসলামিক প্রতিষ্ঠান তুলনা করার মতনও চোখে পড়লো না তখন টের পেয়েছি এই শহরে ওদের কর্মযজ্ঞ কী ভয়ংকর! এরপর আশেপাশে কয়েকটা মাদ্রাসা আর মক্তবে গিয়ে বুঝেছিলাম মিশনারীরা স্কুল দিয়ে, স্কুলে ফ্রি পড়িয়ে, স্কুলে চাল দিয়ে, মাঝে মাঝে বিভিন্ন গিফট দিয়ে কেমন করে মানুষকে তাদের দিকে আকর্ষণ করেছে। অর্থকষ্টে থাকা বাবামায়েরা সন্তানদের জন্য ইসলামিক স্কুলগুলোর আবেদন হারিয়ে 'মিশনারী স্কুলে' এগিয়ে যাচ্ছে।

১৪ অক্টো, ২০১৪

চরিত্রবান সন্তান পেতে হলে দরকার ভালো বই


আমার জীবনের খুব বড় একটা সময় আমি সাহিত্যে ডুব দিয়ে থেকেছি। আমার বাল্য আর কৈশোরের পুরোটাই ছিলো বইয়ের মাঝে হারিয়ে যাওয়া। বাংলা সাহিত্য, বিদেশি সাহিত্যের অনুবাদগুলো যেখানে পেতাম পড়ে ফেলতাম। আল্লাহ যেটুকু জ্ঞান দিয়েছেন সেটুকুকে পূর্ণ ভালোবাসায় ব্যবহার করা হয়েছিলো বইপাঠে। জীবনে পরবর্তীতে টের পেয়েছি আমার যেকোন পড়াশোনায় পৃষ্ঠা সংখ্যার তুলনায় অনেক বেশি হয় উপলব্ধি ও অনুধাবন। রবীন্দ্র-নজরুল, শরত-বঙ্কিম, সুনীল-শীর্ষেন্দু-সমরেশ, গোর্কি-তলস্তয়-শেক্সপিয়র পেরিয়ে একসময় ঘোর ভাঙ্গে ভার্সিটি লাইফে এসে। বাস্তব জীবন আর পেছনের হাজার হাজার দিনের কল্পনার জগতে বহু বহু পরিস্থিতি পেরিয়ে আসা জীবনের ফারাকটুকুকে বুঝতে ও নিজের অন্তরকে তা বুঝাতে অনেক বেশি সময় চলে গিয়েছিলো। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের চারপাশে অর্থহীন এক প্রকান্ড স্বাধীনতা, স্বেছাচারিতার সুযোগগুলোকে কেন অপছন্দ হতো, এটা নিজেকে বুঝাতে হয়েছিলো। সেসময় দেশে ও বিশ্বে যেসব মর্মস্পর্শী ঘটনা ঘটতো যেগুলোতে চারপাশের প্রায় সবার নিরুদ্বেগ থাকাটা মেনে নিতেও কষ্ট হতো।

১ অক্টো, ২০১৪

মনের জানালা মাঝে # ১৭



(১৮০)
প্রতিনিয়ত অনেক ছোট ছোট বিদায় নিতে হয় আমাদের। বিদায় নিই বন্ধুদের কাছ থেকে, পরিবারের কাছ থেকে, সহকর্মীদের কাছ থেকে, দ্বীনী ভাইদের/বোনদের কাছ থেকে। প্রতিটি বিদায়ই যেন অনুচ্চারিত শব্দে একটি কথা আমাদের বলে যায়-- একদিন পৃথিবীর সবকিছুর কাছ থেকে বিদায় নিতে হবে!

(১৮১)
শব্দ আপনাকে অনেক অর্থ দেবে ঠিকই, কিন্তু ব্যাখ্যা খুঁজতে আপনাকে ঐ নৈঃশব্দ্যের কাছেই ফিরে যেতে হবে।~লালবৃত্ত

(১৮২)
আশাহত হয়ে হয়ত তুমি ভেবেছিলে তপ্ত রৌদ্রের তেজে ক্লান্ত-শ্রান্ত-বিদ্ধস্ত হয়ে যাবে!
কিন্তু টের কি পাওনি আল্লাহ চাইলেই আকাশে মেঘ জমিয়ে শান্তির বৃষ্টি ঝরাতে পারেন?

(১৮৩)
চারিদিকে জীবনের এত আয়োজন, কেবল জীবনটাই কোন ফাঁকে মূল্যহীন হয়ে পড়লো। ~লালবৃত্ত

(১৮৪)
মুভিতে দেখা বিয়েগুলোর সাথে আপনার বিয়ের তুলনা করতে যাবেন না। মুভির বিয়েগুলো লিখেছে স্ক্রিন-রাইটাররা, আপনারটা লিখেছেন আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা। ~জনৈক

(১৮৫)
আল্লাহর সাথে কথোপকথনের অভ্যাসটা খুব সুন্দর! প্রতি মূহুর্তে এটা অনুভব করে কথা বলা যে তিনি আমাকে শুনছেন, আমার প্রতিটি আবেগ আর কথার উত্তর তিনি দিচ্ছেন, আমার প্রতিটি দোয়ার উত্তর তিনি প্রতিদান হিসেবে দিবেন। সুবহানাল্লাহ!

(১৮৬)
আখিরাতে বিচারের দিনে আল্লাহ আমাদের কাজগুলোকে গুণে দেখবেন না, বরং সেগুলোকে ওজন করবেন। তাই আমাদের কাজগুলোর পরিমাণ নয় বরং তাদের গুণগত মান গুরুত্বপূর্ণ।

(১৮৭)
যে পাহাড়ের চুড়া যতটা বেশি খাড়া এবং যেখানে উঠতে যত বেশি পরিশ্রম, সেই পাহাড়ের চুড়া থেকে চারপাশের দৃশ্য তত বেশি নয়নাভিরাম সুন্দর মনে হয়...

(১৮৮)
কারো চরিত্র সম্পর্কে যদি ধারণা পেতে চান তাহলে খেয়াল করুন তার বন্ধুদের প্রতি।

(১৮৯)
প্রচন্ড কঠিন, দুর্যোগময়, কষ্টকর সময়েও একজনের পক্ষে শান্তি খুঁজে পাওয়া সম্ভব যদি তিনি আল্লাহর দিকে মুখ ফিরিয়ে নিয়ে তার কাছে সাহায্য প্রার্থনা করেন।

(১৯০)
কখনো কখনো অন্য কারো হৃদয়কে প্রশান্ত করতে আপনার মুখের কয়েকটি শব্দই যথেষ্ট।

(১৯১)
আপনি যখন কাউকে উপদেশ দিতে যাবেন তখন কথা সংক্ষিপ্ত করুন, অনর্থক বাক্যগুলো এড়িয়ে যান।

২৯ সেপ, ২০১৪

সমাজের ক্রমবর্ধমান অশ্লীলতার শেষ কোথায়?

​ওরা সংশয় ছুঁড়ে দেয়-- এত প্রেরণা দিয়ে কী হবে? এত সচেতনতা দিয়ে কী হবে? ওরা বলে ওঠে, সমাজের সবাই ভেসে যাচ্ছে, ঘরে ঘরে এখন সবাই নাটক-সিনেমাতে বুঁদ হয়ে আছে, প্রেমের সাগরে ডুবে শরীরের উত্তাপে পুড়ে চলেছে তরুণ-তরুণীরা যখন, তখন তোমাদের এসব লিখে কী হবে?

২৮ সেপ, ২০১৪

ফেসবুকে লোকের সুখ প্রদর্শনের ব্যাপারটা ইন্টারেস্টিং

​​​ফেসবুকে লোকজনের সুখ প্রদর্শনের ব্যাপারটা ইন্টারেস্টিং। এখানে এলে মনে হয় যেন দেশের মানুষ সিঙ্গাপুর, নেপাল, থাইল্যান্ড, কক্সবাজার, সিলেটে বেড়াচ্ছে তো বেড়াচ্ছেই... বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সাথে তাদের স্ত্রীরা। ফেসবুকের হোমপেইজে ভরা বিভিন্ন ফ্রাইড চিকেনের প্লেটের ছবি, ডিএসএলআর ক্যামেরাতে অনেক চকচকে পুরুষ-নারীর যুগল, যাদের প্রায় সবাই প্রেম নামক হারাম সম্পর্কতে যুক্ত, যাদের প্রতিটি মূহুর্তই যিনা হিসেবে আল্লাহর কাছে গৃহীত হচ্ছে। কারো আবার নতুন আইফোন, নতুন আইপ্যাড, মোটর সাইকেল, গাড়ির নিত্যনতুন ছবি দেখবেন...

অথচ এই দেশে খুব অল্প পরিমাণ মানুষের কাছে খুব বেশি পরিমাণ সম্পদ আটকে আছে। ফ্রাইড চিকেনে ঢুকলে প্রায় হাজার টাকার মামলা। এককালে অনেক টাকা বেতন পাওয়া ইঞ্জিনিয়ারদের লাইনের বি,এস,সি ইঞ্জিনিয়ারিং পাশ করেও আজকাল খুব কম ছেলেমেয়েই দশ-বারো হাজারের বেশি টাকার বেতনে ঢুকতে পারে। মেডিকেলে যারা পড়ে, তাদের তো ৬ বছর পেরিয়ে অনারারী (অনাহারী বলে পরিচিত) ডাক্তার থাকার সময়ে বিনা বেতনে কাজ করে, খ্যাপ দিয়ে পেটে ভাত যোগাতে হয়। দেশে চাকুরির বাজারের অবস্থা খুবই সঙ্গীন তা পাগলেও জানে, রাস্তার কুকুরেও হয়ত বুঝে। খুব কম ছেলেই জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাশ করে ভালো চাকরির স্বপ্ন দেখার সাহস করে যদি মামা-চাচা না থাকে! এসব বুঝে সবাই, বুঝে না শুধু শো অফে অস্থির থাকা অসুস্থ মানসিকতার রোগীর দল।

২৫ সেপ, ২০১৪

অনুপ্রেরণা - ৫


* * *
হাল ছাড়বেন না! ভালো কিছু হতে সময় লাগেই...

* * *
ঠিক যেই মূহুর্তে আমরা আল্লাহকে ভুলে যাই, আমরা আসলে সবকিছুকেই হারিয়ে ফেলি এবং ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে যাই।

* * *
প্রচন্ড কঠিন, দুর্যোগময়, কষ্টকর সময়েও একজনের পক্ষে শান্তি খুঁজে পাওয়া সম্ভব যদি তিনি আল্লাহর দিকে মুখ ফিরিয়ে নিয়ে তার কাছে সাহায্য প্রার্থনা করেন

* * *
যে মানুষটার সাথে আমরা ভালো হবার প্রতিযোগিতা করতে পারি সে হলো আমাদের গতকালকের আমি।

* * *
জ্ঞানী মানুষেরা সবসময় চুপ থাকেন না, কিন্তু তারা জানেন কখন চুপ থাকতে হয়।

* * *
যে আল্লাহর সামনে হাঁটু গেঁড়ে সিজদাহ করতে পারে সে সবার সামনে দৃঢ় হয়ে শক্তভাবে দাঁড়িয়ে থাকতে পারে।

* * *
দুশ্চিন্তা আপনার আগামীকালের সমস্যা দূর করতে পারবে না, বরং আজকের শান্তিটুকু দূর করে দিবে।

১৮ সেপ, ২০১৪

অনুপ্রেরণা - ৪


ইসলাম পালনের মানে এই না যে আমরা আনন্দ ও উৎসব করতে পারবো না। ইসলাম আমাদের সব রকমের আনন্দের সুযোগ দিয়েছে কিন্তু তা হতে হবে যাবতীয় পাপকাজ মুক্ত।

* * *
দোয়া করা ছাড়বেন না। যতই আশাহীন আর কঠিন লাগুক সময়। বিশ্বাস রাখুন। আল্লাহ নিশ্চয়ই প্রশান্তি লাভের ব্যবস্থা করে দেবেন।

 * * *
সুন্দর একটা দিন শুরু করার চাবি হলো ফজরের সলাত।

 * * *
আল্লাহর জন্য বাঁচা -- এই কথাটির মানে হলো আপনি কী সেই ব্যাপারে কম খেয়াল করে আল্লাহ আপনাকে কেমন করে চান সেই বিষয়েই বেশি মন দেয়া।

 * * *
দুনিয়ার প্রতি ভালোবাসা আপনাকে আখিরাত ভুলিয়ে দেবে।

 * * *
হে আল্লাহ! আমার অন্তরকে দুনিয়ার আকর্ষণ থেকে মুক্ত করে আখিরাতের সাথে যুক্ত করে দেন। আমীন।

 * * *
যখন আপনি যেভাবে ভেবেছিলেন সেভাবে জীবনের ঘটনাগুলো না ঘটে তখন আল্লাহর উপরে বিশ্বাস রাখুন। নিশ্চয়ই আপনার ব্যাপারে তার উত্তম পরিকল্পনা আছে।

 * * *
বারবার তাওবা করতে স্মরণ করিয়ে দিন নিজেকে। যতবারই ভুল করে ফেলুন না কেন, মনে রাখবেন আল্লাহ তাওবাকারীদেরকে ভালোবাসেন।

 * * *
দোয়ার শক্তির ব্যাপারে আশা হারিয়ে ফেলবেন না! মনে রাখবেন আল্লাহ আপনার সমস্ত দোয়াই কবুল করেন যতক্ষণ তা আপনার জন্য কল্যাণকর হয়।

 * * *
হৃদয় ভেঙ্গে যাওয়ার কষ্টগুলো আমাদেরকে স্মরণ করিয়ে দেয় আমার হৃদয়ে ভালোবাসার সর্বোচ্চ আসনে আল্লাহ ছাড়া এই পৃথিবীর অন্য কোন কিছুকেই বসিয়ে দেয়া উচিত নয়।

 * * *
যখন আপনার জীবনে আল্লাহ ছাড়া আর কিছুই থাকেনা, তখন উপলব্ধি করতে পারবেন আল্লাহই আপনার জন্য যথেষ্ট।

 * * *
আপনি যখন কারো জন্য দোয়া করেন তখন আপনি আসলে আপনারই উপকার করেন কেননা তখন ফেরেশতারাও আপনার জন্য সেই দোয়াটি করে।

 * * *
আপনার কাজ করার সময়টা এখনই! পরে করবেন ভেবে কিংবা আলসেমি করে অমূল্য সময়কে নষ্ট করবেন না!

 * * *
শব্দ দিয়ে অনেক কিছুকে গড়ে দেয়া যায়, আবার ধ্বংস করে দেয়া যায় অনেক কিছু, শব্দ ব্যবহারের আগে তাই খেয়াল করা উচিত।

 * * *
আপনি কষ্ট-যন্ত্রণা অথবা বিষণ্ণতায় ভুগছেন? তাহলে কুরআন পড়ুন যা সমস্যার সমাধান, সঠিক নির্দেশনা ও অন্তরের সকল রোগের চিকিৎসা দেবে।

১১ সেপ, ২০১৪

রাতের দ্বিপ্রহরে ঝুম বৃষ্টি

​রাতের দ্বিপ্রহরে ঝুম বৃষ্টি...  বৃষ্টিফোঁটাদের তীব্রবেগে কংক্রিটের রাস্তায়, ইটপাথরের ভবনগুলোর দেয়ালে আছড়ে পড়ার শব্দ কানে আসছে। দিনভর উত্তপ্ত আবহাওয়া পেরিয়ে আসা এই প্রকৃতিতে যেন নিমিষেই শীতল স্নিগ্ধতা ছড়িয়ে দিচ্ছে আকাশ ভেঙ্গে অঝোর ধারায় নেমে আসা পানির ধারা... বর্ষাধারা ঝরে যাওয়ায় একটা অন্যরকম গন্ধ এখন প্রকৃতিতে...

এই বৃষ্টি এক অদ্ভুত সুন্দর সৃষ্টি আল্লাহর যা মানব মনকে সবসময় স্নিগ্ধ আর্দ্র ও সতেজ করেছে। মনের মাঝে অন্যরকম এক দ্যোতনা, এক ভিন্ন রকম অনুভূতি এনে দেয় বর্ষাধারা। আলহামদুলিল্লাহ! প্রশংসা আল্লাহর যিনি আমাদেরকে এমন অসাধারণ সৌন্দর্য অনুভব করার যোগ্যতা দিয়েছেন, সুযোগ দিয়েছেন।

১০ সেপ, ২০১৪

আপনার অকৃতজ্ঞতা অন্যদের জন্য কষ্টকর

​​হ্যাঁ, অনেক সময় আপনার-আমার অকৃতজ্ঞতা ও বোধহীনতা অন্যদের জন্য বেশ কষ্টকর বটে!

ধরুন, আপনি কোথাও নিমন্ত্রিত হয়ে খেতে বসলেন। খেতে বসেই খাবারের মেনু দেখে বলতে শুরু করে দিলেন আপনি কী কী পছন্দ করেন না, কী কী খাবেন না। তিনি আপনার জন্য এই আয়োজনটুকুতে সাধ্যমতন সুস্বাদু করার চেষ্টা করলেও শুধুমাত্র আপনার অসময়োপযোগী মন্তব্য তাকে কষ্টকর ও বিব্রতকর অবস্থায় ফেলে দিতে পারে। হয়ত বাসায় মা কিংবা স্ত্রী রান্নাবান্না শেষ করে খাবার টেবিলে সব গুছিয়ে খেতে বসেছেন-- এমন সময় আমাদের কথা "পানি নেই জগে"। অথচ দিব্যি একটুখানি কষ্ট করে উঠে গেলেই জগে পানি ভরে এনে এতক্ষণ একটানা কষ্ট করা মানুষটাকে স্বস্তি ও ভালোলাগা দেয়া সম্ভব।

৯ সেপ, ২০১৪

বাংলার মুসলিমরা জানেই না মুসলিম ইতিহাস কত সমৃদ্ধ ও ঐশ্বর্যময়

​​আফসোস হয়! মাত্র কয়েকটা বছর আগেও আমি মুসলিমদের অনেক ইতিহাস জানতাম না। জানতাম না ইহুদি-খ্রিষ্টান শয়তানগুলোর হাতে হত্যা হওয়া আমার লক্ষ লক্ষ মুসলিম ভাইবোনদের ইতিহাস। ক্রুসেডের ইতিহাস। যখন সালাহ আদ-দীন আইয়ুবী জয় করেছিলেন আল-আকসা, তখনো মুসলিম বিশ্বের অনেক নেতারা আরাম-আয়েশে আর পরস্পর বিবাদে মত্ত ছিলো। ইতিহাস বারবার কাঁদায়। অনেক পরে হলেও জেনেছি স্পেনের ইতিহাস, সেই তারিক বিন যিয়াদকে, যিনি স্পেনের মাটিতে পা দিয়ে জাহাজ পুড়িয়ে সাথীদের বলেছিলেন সামনে এগিয়ে জয় কিংবা মৃত্যুকে আলিঙ্গন করতে হবে, কেননা পেছনে রইলো শুধুই উত্তাল সমুদ্র। জয় তারা পেয়েছিলেন। এমন অনেক নাম আছে, যাদের ইতিহাস পাঠ শুধু প্রবাহ বাড়িয়ে দেয় রক্তকণিকাদের, কেঁপে ওঠে শরীর, আবেগাপ্লুত হয় মন, অশ্রুসিক্ত হয় নয়ন। বীরত্বে ভরা সেই ইতিহাস, ঈমানে টগবগিয়ে থাকা সেই মানুষদের অসম বীরত্বের সেই ইতিহাস আমাদের। যথেষ্ট আগ্রহী হওয়া সত্বেও এই পরিপূর্ণ সেক্যুলার শিক্ষাব্যবস্থায় মুসলিম ইতিহাস জানতে পারিনি, বেশিরভাগ বাংলাদেশীই পারে না। হায় আফসোস!

২ সেপ, ২০১৪

ফেসবুকে আমরা কেন বিভিন্ন জিনিস শেয়ার করি?

​​​আচ্ছা, ফেসবুকে আমরা কেন বিভিন্ন জিনিস শেয়ার করি? প্রথমত, বলা যায় যে আমরা শেয়ার করি কেননা আমরা চাই আমরা যে জিনিসটিকে ভালো মনে করি, যাতে আনন্দ পাই তা যেন অন্যরাও পায়। যদি সেটা কোন 'নিউজ' হয়? হয়ত সেটা আতঙ্কের বিষয়, অথবা বড় কোন ক্ষতিকর কিছু হয়, তাহলেও তা শেয়ার করে থাকি। কিন্তু বিষয়টা হলো, আমরা কোন সোর্স থেকে শেয়ার করছি? ফেসবুকে শত-শত/হাজার হাজার পেইজ আছে, ইউজার একাউন্ট আছে। ইচ্ছে হলেও পেইজ/গ্রুপ/একাউন্ট খোলা যায়। এগুলোর অনেকেই হয়ত উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে মিথ্যা/গুজব/অশ্লীলতা ছড়ায়। আমাদের সজ্ঞানে ও অগোচরে প্রতিটি *লাইক* কিন্তু বিভিন্ন তথ্য/পোস্ট/লিঙ্কের প্রচার ও প্রসারে ভূমিকা রাখে। আমাদের খুব সতর্ক থাকা উচিত এই বিষয়ে।

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন:
“কোন ব্যক্তির মিথ্যাবাদী হওয়ার জন্য এতটুকুই যথেষ্ট যে, সে যা শুনে তাই বলে বেড়ায়।” [মুসলিম]
#রিয়াদুস সলিহীন: ১৫৪৭

১ সেপ, ২০১৪

কাকে ভালোবাসছি, কী ভালো লাগছে এসব আমরা চাইলেই প্রভাবিত করতে পারি

​​একটা চিন্তা আমাকে অনেক তাড়িয়ে নিয়ে বেড়াত সেই ছোটবেলা থেকেই। আমার চারপাশের সবাই যেসব নিয়ে আনন্দিত হতো, যা ভালোবাসত --আমার সেসবে আগ্রহ কমই হতো। একটা ছোট্ট উদাহরণ হলো-- যখন সবাই বিকেল ৪টা বাজতেই বাসার বাইরে গিয়ে ক্রিকেট বা ফুটবল খেলতে শুরু করতো, তার কয়েক ঘন্টা আগে থেকেই হয়ত কোন একটা উপন্যাস কিংবা অ্যাডভেঞ্চারের গল্পে আমি ডুব দিয়ে আছি। যে বয়সে সবাই আর্সেনাল, চেলসি আর রিয়াল মাদ্রিদের কে কাকে পাস দিলো, কয় গোল করলো সেই হিসেব-নিকেশ করতো, তখন আমার সময় কাটত ক্যাম্পাসের নানান রকম মনোকষ্টে ভুগতে থাকা ছোটভাই, বন্ধুদের সঙ্গ দিয়ে, আলাপ করে তাদের বেদনা হালকা করার চেষ্টা করতে করতে। দিনের বেশিরভাগ সময়ে খেলতে থাকা আর খেলা নিয়ে আলাপ করা ছেলেগুলোর সাথে আমার পছন্দের এক বিশাল ভিন্নতা স্পষ্ট হয়ে দেখতে পেতাম। আমি যেসব কাজ করতাম, সেটা হয়ত বাধ্য হয়ে করতাম যার সবই পছন্দের ছিলো তা নয়, কিন্তু যারা কল অফ ডিউটি, এজ অফ এম্পায়ার, কাউন্টার স্ট্রাইক আর ফিফা নিয়ে থাকতো তার কাজগুলো খুবই অর্থহীন আর সময় নষ্ট লাগতো বলে অপেক্ষাকৃত কম অর্থহীন অন্য কিছুতে ব্যস্ত থেকে সময় কাটাতে চাইতাম...

৩১ আগ, ২০১৪

এইচএসসি পরীক্ষার রেজাল্ট : পরীক্ষার্থীদের সফলতা-ব্যর্থতায় কী আসে যায়?

​​​আজকে এইচএসসি রেজাল্ট হবে। বাংলাদেশে যাবতীয় ছোট ছোট পরীক্ষাগুলোর রেজাল্ট নিয়েও প্রচুর 'সাসপেন্স' তৈরি হয়। এতে ভালো/খারাপ করায় জীবনের গতিপথে আহামরি কিছু বদলে যায়না। সেই আমলে বোর্ড স্ট্যান্ড করা ভাইদের ভার্সিটিতে এসে বছরের পর বছর ধরে অকৃতকার্য হতে দেখেছি। আবার প্রথমবার খুবই খারাপ ফল হওয়ায় দ্বিতীয়বার পরীক্ষা দিয়ে ভার্সিটিতে ঢুকে কোন কোন ছেলেকে ক্লাসে ফার্স্ট হতেও দেখেছি।

এসব পরীক্ষাগুলো আসলে জীবনের তুলনায় অনেক কম গুরুত্ব বহন করে। এই পরীক্ষায় ভালো করে "মুই কি হনু" ভেবে আকাশে ওড়ার যেমন কিছু নেই, তেমনি খারাপ করে' "আমি শেষ হয়ে গেছি" মনে করাটাও নিরর্থক এক বোকামি। আমাদের জীবনের প্রতিটি ধাপই আমাদের জন্য কিছু 'মেসেজ' বয়ে নিয়ে আসে। আল্লাহ আমাদেরকে কিছু বুঝিয়ে দেন যেন আমরা আরো নিজেদের উন্নত করি, আরো বেশি পরিশ্রমী হতে চেষ্টা করি, যেন ঈমানকে আরো বেশি বেশি বাড়াতে চেষ্টা করি...

৩০ আগ, ২০১৪

অনুপ্রেরণা -৩

​​​
 * * * আল্লাহর কাছে নিজ দুর্বলতা ও অক্ষমতাকে স্বীকার করতে লজ্জা পাবেন না কেননা আল্লাহ আপনার সেই দুর্বলতাকে শক্তিতে পরিণত করতে সাহায্য করবেন।

* * *
​মনে রাখবেন, আল্লাহ ক্ষমা করতে কখনো ক্লান্ত হন না।

* * *
জ্ঞানার্জনের ​ ফলে আমাদের অনেক বেশি বিনয়ী হবার কথা। যদি জ্ঞান অর্জন আমাদেরকে উদ্ধত করে দেয় ​ তাহলে ​ আমরা কী নিয়াতে কী শিখছি তা নিয়ে চিন্তা করা দরকার।​

 * * *
প্রশান্তি খুঁজতে বরং সলাতে দাঁড়িয়ে পড়ুন।

প্রেমের কারণে বেশিরভাগ ছেলেপিলে অশান্তিতে থাকে

​ছাত্র যখন ছিলাম, চারপাশে দেখতাম হারাম প্রেম ও প্রেমসংক্রান্ত ঘটনা। যে সম্পর্কটি আগাগোড়া আল্লাহর অপছন্দকে ঘিরে, তাতে ভালো কিছু কোনদিন দেখিনি। দেখচছি প্রচুর রক্তাক্ত হৃদয়, প্রচুর আউলা-ঝাউলা ছেলেপিলে। ছ্যাঁকা খাওয়া, পিছনে ঘুরা, ডেটিং ইত্যাদি নানান ঘটনা। সময়ের পর সময় অপচয় সবার। এক মেয়ের কারণে অন্য অনেকের সাথে শত্রুতা, ত্রিভুজপ্রেমের মারামারি, রিফিউজড হয়ে গাঁজা টানতে বসা -- ইত্যাদি নানান ঘটনা পেরিয়ে কেউ কেউ বিয়ে করেছিলো। যে সম্পর্ক আল্লাহকে অসন্তুষ্ট করে, তাতে কেমন করে শান্তি থাকতে পারে সে কথা ভাবতাম। ক'দিন আগে জানলাম ছেলেটি পরকীয়া করছে। মেয়েটি তার ঘরের সব কথা বান্ধবীদের বলে বেড়ায়...  কোথা থেকে কত কান হয়ে কতই না ঘটনা কানে আসে! না শোনার চেষ্টা করতে হয়...

২৯ আগ, ২০১৪

বইপড়ুয়ারা অনেক কিছু করতে পারে

​ছোটবেলায় অনেক অনেক বই পড়া হতো। আমার ছেলেবেলায় ঢাকার সেই এলাকাটায় ছিলো না মাঠ, পুকুর, গাছ বেয়ে ওঠার মতন কোন গাছ। কিন্তু আমার ছিলো অনেক অনেক বই। আল্লাহ যুগিয়েছিলেন বলেই চারপাশে বইওয়ালা অদ্ভুত মানুষ ছিলেন সেই সময়। তাদের কাছ থেকে নিয়মিত বই সংগ্রহ করতে পারতাম। প্রতিদিন বইতে ডুব দিয়ে থাকতাম কয়েকটা ঘন্টা। আমার বাল্যকালের সেরা স্মৃতি ঐ বইগুলোর সাথেই! গোয়েন্দাকাহিনী, রহস্যোপন্যাস, অ্যাডভেঞ্চার, ট্রাভেলগ, কবিতা, গল্প, উপন্যাস, ক্লাসিকস... আরো কত কী! কিন্তু বইপড়ুয়াদের সাথে সময় কাটানো হয়নি আমার কোনদিনই। একলা আমার পাঠক জগত! সময়ের সাথে সাথে নানান পরীক্ষা, কলেজ-ভার্সিটি যাওয়ার পথে একসময় পাঠকের মৃত্যু ঘটলো।

জীবনে যা হয় তা আসলে কল্যাণময়



এক রাজার একজন কর্মচারি ছিলো যে সবসময় যেকোন অবস্থাতেই রাজাকে বলতো, "রাজা মশাই, কখনো মন খারাপ করবেন না কেননা আল্লাহ যা করেন সবকিছুই নিখুঁত ও সঠিক।"

একদিন তারা শিকারে বের হয় এবং এক হিংস্র প্রাণি তাদের আক্রমণ করে। রাজার কর্মচারীটি সেই প্রাণীকে মেরে ফেলতে সমর্থ হলেও রাজাকে তার একটি আঙ্গুল হারানো থেকে রক্ষা করতে পারেনি। কৃতজ্ঞ না হয়ে বরং ক্ষিপ্ত হয়ে রাজা তাকে বলে ওঠে, "আল্লাহ যদি ভালো হতেন তাহলে আমাকে এই আক্রমণে পড়ে আঙ্গুল হারাতে হতো না।"

২৮ আগ, ২০১৪

আল্লাহ গোটা দুনিয়াকে 'সিস্টেমেটিক' করে চালিয়ে থাকেন

​ফেসবুকে লেখালেখিকে অনেক বেশি সস্তা মনে হয়। হোমপেইজের ফিডে ইসলামের ডিপ-ডিপার-ডিপেস্ট থটগুলোকে যখন মুড়ি-মুড়কির মতন আজেবাজে নিক, ছাইয়া নিক থেকে সমাধান লিখে ভরিয়ে দেয়া হয়, তখন নিজের উপরে ঘেন্না জন্মায়, যেই প্ল্যাটফর্মে আছে সেটার উপরেও রাগ হয়। অনেকবারই এইসব ফিতনাহ থেকে বেঁচে থাকতে ফেসবুকে লগিন করাই ছেড়েছিলাম। এসব দেখে ড. তারিক রমাদানের একটা কথা মাথায় চলে আসে প্রায়ই--
“আমরা যখন জটিল সমস্যার জন্য সরলীকৃত সমাধান দিতে চাই তখন আমরা সবকিছু হারাই।"