১৬ ফেব, ২০১৪

অবাক ভালোবাসা


আমার জীবন থেকে আরেকটি বছরের আরেকটি 'ভালোবাসা দিবস' চলে গেলো। অনেক উদ্দামতা, অনেক যৌবনের তরঙ্গের সাক্ষী হয়ে রইলাম আবার। বন্ধুর কাছে শুনলাম, তার কলিগকে গত পহেলা ফাল্গুনে এবং 'ভ্যালেন্টাইন ডে' পালনের এই ১৩-১৪ ফেব্রুয়ারিতে কক্সবাজার যেতে হচ্ছিলো অফিসের কাজে। তিনি দু'দিনের যাত্রাপথে বহু কষ্টে ছুটে-ফিরে একটা সিট পেয়েছেন, এদিকে বাসস্ট্যান্ডে অনেক ভীড়, পর্যাপ্ত সিট নেই বাসে! 'ভালোবাসার' কামতরঙ্গ ছুটে এবার কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতকেও ভাসিয়ে দিয়েছে হয়ত... আল্লাহই জানেন। বিগত বেশ কয়েক বছর থেকে এইসব দিনগুলোতে সম্ভব হলে ঘরেই থাকি, খারাপ লাগা আর অপছন্দনীয়তায়। এবারেও ছুটির দিন থাকায় তার ব্যতিক্রম হয়নি। মনে আছে, প্রায় দু'বছর আগে একটা লেখা লিখেছিলাম আমার পূর্বেকার জীবনের অভিজ্ঞতা মিলিয়ে একটা লেখা লিখেছিলাম 'এর বেশি ভালোবাসা যায় না ও আমার প্রাণপাখি ময়না' শিরোনাম দিয়ে: http://idream4life.blogspot.com/2012/02/blog-post_7635.html

৯ ফেব, ২০১৪

আপনার অস্থিরতা এবং অশান্তিগুলোর একটি সহজ সমাধান


আমরা কে না অশান্তিতে থাকি? কার হৃদয়টা অস্থির নয়? আমার এটুকু জীবনে আমি স্কুল-কলেজ-ভার্সিটি-অফিসের সর্বত্রই অস্থির মানুষের প্রবল বিচরণ দেখেছি, নিজের কথা তো জানিই। বিষয়টা হলো, এই অস্থিরতা কেন? অশান্তিটা কেন? কীভাবে তার সমাধান করা যেতে পারে তা ভেবে কে কী করলাম সেটা গুরুত্বপূর্ণ।

মাঝে মাঝেই জীবনে পেছন দিকে তাকিয়ে অনুভব করি, এই গোটা জীবনের কত পরিশ্রম - স্কুল, কলেজে কতই না কষ্ট করে সবাই পড়ে। জীবনের ছোট ছোট আচরণগুলো আব্বা-আম্মা শিক্ষা দেন, শিক্ষকরা শেখান। আমরা নিজেদের গড়ি। শার্টের বুকের বোতামটা খোলা না রাখাও শিক্ষা, বড়রা সামনে থাকলে পায়ের উপরে পা তুলে না-বসাও একটা শিক্ষা। কাউকে পানি খেতে এগিয়ে দিলে উপরে ধরতে হয় না, কারণ তিনি যেখানে মুখ দিবেন সেখানে আমার হাত না-লাগা উচিত -- এটাও একটা শিক্ষা। এমন হাজারো শিক্ষা গলাধঃকরণ করে তবু সবাই একসময় কেমন যেন উলটে যায়, জীবনের লক্ষ্য কী জিজ্ঞাসা করলে অন্তঃসারশূণ্য কথা বলে। অনেক পিএইচডি ডিগ্রিধারী মানুষও সম্পূর্ণ মূর্খদের মতন কথা বলে একসময়, কারণ তাদের জীবনটা কোন একটা সময় এমন কিছু লক্ষ্যে গড়তে শুরু করেছিলেন তারা, যা হয়ত কেবলই পৃথিবীর বস্তুগত বিষয়ভিত্তিক, তাতে আমাদের জীবন, এই অন্তর, এই সত্ত্বার অস্তিত্ব, ভবিষ্যত নিয়ে ভাবনার কোন খোরাক ছিলনা। মনগড়া জীবনদর্শন দিয়ে জীবনকে চালিয়ে নেয়া...

৪ ফেব, ২০১৪

ছোট থেকেই তো অনেক বড় হয় সবকিছু

​কলেজ জীবনে বন্ধুরা চকচকে উজ্জ্বল চেইনের বড় ডায়ালের ঘড়ি, ক্যাটস-আই টিশার্ট, নাইকি জুতা নিয়ে ঘুরাঘুরি করতো 'পার্টজ' নিতে। এখন হয়ত সেই জায়গায় আইপ্যাড, আইফোন দিয়ে রিপ্লেস হয়েছে। আলহামদুলিল্লাহ, এইরকম দামী ঘড়ি টাইপের জিনিসের দিকে আমার মন লালায়িত হতো না, বরং তাকে এক টুকরা কাঠ দেখতে যেমন লাগে, অমন লাগতো। নিজের এইরকম ভিন্নতার কারণে খুব অস্বস্তি লাগতো, আমার মতন কাউকে ডানে-বামে পেতাম না। থাকলেও হয়ত তারাও আমার মতন চুপ থাকতো।

ভ্রমণে বের হলে অনেক কিছু শেখা যায়

​ভ্রমণে অনেক অভিজ্ঞতা হয়। ভ্রমণে বের হয়ে অনেক রকমের আর্থিক ও সামাজিক অবস্থানের মানুষের সাথে পরিচয় হয়, আল্লাহর সৃষ্টির বৈচিত্র্যকে দেখার সুযোগ হয়। না চাইলেও অন্যদের বিচিত্র আচরণগুলো 'বিনা প্রতিবাদ ও সমালোচনাতে' মেনে নিতে হয়; অনেকক্ষেত্রেই মানুষ বাইরে থাকার সময়টুকুতে সহজাত 'কুৎসা রটানোর' সুযোগ পায় না, এগুলোর ফলে 'ধৈর্য ও সহিষ্ণুতার' সাথে তাদের পরিচয় ঘটে, পরিচয় হতে তারা বাধ্য হয়।

কয়েক বছর ধরে চাকুরিজীবনের দমবন্ধ এক লম্বা ছুটিহীন জীবনের মাঝে হাঁসফাঁস করছিলাম। আল্লাহ সুযোগ জুটিয়ে দেয়ার পরে বেশ ক'দিন অনেক জায়গা ঘুরে, অনেক মানুষের সাথে মিশে, অনেক অনেক ঘটনা পেরিয়ে আলহামদুলিল্লাহ অনেক কিছু শিখলাম। এই শেখা পয়েন্ট করে করে লেখার মতন না, বেশিরভাগই উপলব্ধিতে মিশে গেছে, যা পৃথিবীটাকে দেখার চোখটাকে আগের চেয়ে অনেক অন্যরকম করে বদলে দিয়েছে।

২ ফেব, ২০১৪

[গ্রন্থচারণ] ঈমানী দুর্বলতা : শাইখ সালিহ আল মুনাজ্জিদ



বইয়ের নাম: ঈমানী দুর্বলতা 
লেখক : শাইখ মুহাম্মাদ সালিহ আল-মুনাজ্জিদ 
মূল্য: ৩০ টাকা (প্রায়) 

এরকম রত্নের টুকরা টাইপের জিনিস না পড়া একটা বোকামি এবং অনুচিত কাজ। অবশ্যই পড়া উচিত এই বই। ঈমানের ফকিন্নি টাইপের অবস্থা নিয়ে দুনিয়ার ডিগ্রি, টাকা-পয়সা, সম্মান-খ্যাতি, রূপ-সৌন্দর্য, সুখের সংসারের কোনই মূল্য নাই। দুনিয়া পেয়ে আখিরাত হারানোর কোনই মূল্য নেই। আবার, সেই চরম দুর্ভাগা হয়েও লাভ নেই, যারা আখিরাত এবং দুনিয়া উভয়ই হারালো…

বইটিতে উল্লেখ আছে –
অন্তঃকরণের বিষয়টি খুবই স্পর্শকাতর এবং গুরুত্বপূর্ণ। অন্তঃকরণকে আরবিতে কালব (পরিবর্তনশীল) বলা হয়েছে এ কারণেই যে, তা দ্রুত পরিবর্তনশীল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ
“অন্তঃকরণকে কালব বলা হয়েছে বেশি বেশি পরিবর্তন হবার কারণে। অন্তঃকরণের উদাহরণ হলো একটি পাখির পালকের মত যা গাছের ডালে ঝুলানো আছে, বাতাসে সেটিকে এদিকে সেদিকে ঘুরাচ্ছে”। [আহমাদ ৪/৪০৮, সহীহ আল জামে ২৩৬৫]

২৪ জানু, ২০১৪

প্রাইভেসি

​প্রাইভেসি তো আজকাল খুব গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার। তবে, আমি শত্রুর হাত থেকে বাঁচতে প্রাইভেসির কথা বলছি না। এইসব অতি-টেকি যুগের আগের আমলের একটা প্রাইভেসি ছিলো না? সেটার কথা মনে পড়লো। টিন-এজের মাঝের দিকে, বন্ধুদের কেউ কেউ একটু বড় হয়ে 'প্রাইভেসি' পেয়ে আলাদা রুম পেতো। ছুটির দিন ক'জন একসাথে হয়ে 'প্রাইভেসি'-পাওয়া বন্ধুদের বাসায় তাদের রুমে যাওয়া হত আড্ডার উদ্দেশ্যে, তখনই জানতাম প্রাইভেসিওয়ালাদের কম্পিউটারে 'হিডেন' কিছু ফোল্ডার অনেকের 'এক্সাইটমেন্ট' থাকতো। এসব জানার পরে এক ধরণের আতঙ্ক থেকে আর কখনো ঐরকম বন্ধুদের ঘরে সেঁধিয়ে যাবার সুযোগ দিতাম না নিজেকে।

মনের জানালা মাঝে # ৭


(৭১)
কোন কিছু দিতে হলে নিজের কাছে যথেষ্ট থাকতে হয়। যে রিক্ত, শূণ্য সে কখনো অনেকজনকে দান করতে পারে না। সূর্যের আলো থাকে তাই সে আলো বিলায়। জ্ঞান এবং প্রাণের শক্তি বা অনুপ্রেরণার ক্ষেত্রেও ব্যাপারটা এমন। যারা জ্ঞানী, তাদের অনেক থাকে বলেই তারা যেখানে যান জ্ঞান ছড়িয়ে দিতে পারেন। যিনি অনুপ্রেরণা দিবেন, তার ভেতরেও যথেষ্ট উৎসাহ, অনুপ্রেরণা আর মনের শক্তি না থাকলে তিনি দিতে পারেন না, পারবেন না। আমরাও তাই যেন ভুল কারো কাছে আশা না করি।। যার-তার কাছে উদ্দীপনা আর আশার কথা শুনতে চাইলে কি আর হয়? তাদের সামর্থ্য আর যোগ্যতার কথাও মাথায় রাখা জরুরী বটে!

(৭২)
কেন শুধু বেশি বেশি দুশ্চিন্তা মানুষের? এই পৃথিবীর কিছুই তো কারও নয়, ছিলো না, হবেও না। সাময়িক এই ভ্রমণে এত চাপ নেবার কিছু নেই। যিনি অনাদি-অনন্ত তার কথা ভাবুন, দুঃচিন্তা-দুর্ভাবনা চলে যাবে।

(৭৩)
আমি আমার শত্রুর ঘৃণার কাছে পরাজিত হইনি, তাদের আমি এড়িয়ে গেছি নিশ্চিন্তে, নির্বিকারভাবে। কিন্তু কাউকে কোন কারণে নিজ থেকে অপছন্দ করে কথা বলার পরেও তার ভালোবাসা পেয়ে সেথায় পরাজিত হয়েছি, লজ্জায় অধোবদন হয়েছি নিজে নিজেই, নিঃশব্দে। 

সেদিন থেকেই শিখেছি, মনের কাছে জিততে হলে ভালোবাসা দিয়েই কেবল জেতা যায়। শর্তহীন, চিন্তাহীন, দ্বিধাহীন ভালোবাসা... সম্পর্কগুলোর মাঝেও শান্তি আসে কেবলই ভালোবাসায়।

(৭৪)
আমার জীবনের তীব্র এক উপলব্ধি হলো, আমরা চারপাশে যেসব গল্প-তত্ব-রোমান্টিকতা-মিষ্টি কথা শুনে বড় হই, পথ চলি তার প্রায় সবই প্রচন্ড তীব্রভাবে জীবনবিমুখ আর অবাস্তব। এই ভ্রমের মাঝে থেকে ভ্রমকে বাস্তব করার চেষ্টাতেই সবাই কেমন হুমড়ি খেয়ে পড়ে, যার ফলশ্রুতিতে নানাবিধ অশান্তি, বুকের মাঝে শূণ্যতায় বসবাস করে সবাই। প্রেম-ভালোবাসার প্রায় সবই মিথ্যে আর অলীক গল্প, মুভি-উপন্যাসের সবই প্রায় জীবনবিমুখ অস্বাভাবিক কাহিনী।

খানিক আগে একজন এক প্রেমের কৌতুক বলছিলো, উপস্থিত সবাই হাসলো। আমিও ভেবে দেখলাম, এরকম কথা অবাস্তব বলেই সবাই মজা পেলো, সত্য গল্প আমজনতাদের কেউ মজা পায় না, হিংসা করে। কিন্তু তরুণ মনেরা এগুলোকেই সত্য ভেবে ভ্রমকে সত্য করতে চায়। যন্ত্রণাও পায়। এই জীবন খুব সহজ কিছু না, এই জীবন আসলে মুসাফিরের পথ চলার; উপভোগ করার না। যারা উপভোগ করতে মন দেয়, তারা পথ হারিয়ে ফেলে।

(৭৫)
আমরা অনেকেই নিজেদের জীবনের শুরুর সময়গুলো পার হয়ে শেষ সময়ে এসে নিজেদের সত্যিকারের কাজগুলো শুরু করেছি। শেষ এসে যে কাজ শুরু করেছি, তার জন্য সূচনার দিকের সফলতা পাওয়া আপাতদৃষ্টিতে সম্ভব না। কিন্তু, এই সময়েরই কি শেষ আছে? জীবনের শেষ হলো অনন্তের জগতের শুরু। তবে, আমরা যদি সময়গুলোর সঠিক ব্যবহার করতে চেষ্টা করি, আল্লাহকে কাছে চাই তাহলে আল্লাহ আমাদের সূচনা আর শেষ উভয়কেই প্রাপ্তিতে ভরে দিবেন ইনশা আল্লাহ। আল্লাহ আমাদের উপরে খুশি হলে পাপগুলোকেও পুণ্যে রূপান্তরিত করে দিতে পারেন।

আল্লাহর ভান্ডার অফুরন্ত, তার কাছে চাইলে তিনি দান করেন। আর আল্লাহর সাথে সম্পর্ক যদি সুন্দর হয়, জীবনের স্বর্বস্ব দিয়ে কেবল তার জন্যই আমরা বাঁচি, তাহলে আমরা শেষে এসে শুরু করলেও আমাদের সূচনাও প্রাপ্তিতে ভরে যাবে, গোটা জীবনটাই তখন সফলতায় ভরে যাবে। শেষে এসে শুরু করলেও তখন সূচনাতেও অনেক কিছু পাবো..

শেষটা খারাপ হলে সফল সূচনা অর্থহীন হয়ে যায়।
শেষটা সুন্দর হলে খারাপ সূচনা মনেই থাকেনা।

(৭৬)
যারা মানুষদের মাঝে তুলনা করে তারা বোকা। অবস্তুগত কিছুকে পাল্লায় তুলে নিখুঁত হিসাবের জায়গা পৃথিবী না। এভাবে বিচারে দুইটি পাল্লা মাপার প্রক্রিয়া কোনদিন পরমভাবে সঠিক হবেনা পৃথিবীতে। তাই, মানুষকে হিসেব করা বাদ দিয়ে এগিয়ে চলুন কর্তব্য বুঝে। হিসেব হোক অন্তরের ভেতরের আপনার অবস্থার সাথে, বাইরের পৃথিবী নয়। হৃদয়ের প্রশান্তি গরীবেও পায়, ধনীয় পায়। খারাপ থেকে ভালো হতে চাওয়া মানুষটাও পায়। নিজের ভেতরেই নিজেকে খুঁজে নিন, বুঝে নিন।

(৭৭)
মানুষ খুব অদ্ভুত। আপনি তার কাছে কখনই কিছু প্রত্যাশা করলে সে তা পূরণ করবেই এমন আশা করতে পারেন না। যে মানুষ প্রকৃতপক্ষে আল্লাহর প্রতিই অকৃতজ্ঞ, সে একজন মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞ হবে এমনটা আশা করাই কেমন যেন বোকামি মনে হয়। এই জীবনে, কত মানুষ আপনাকে আশার বাণী শোনাবে, কথা দিবে রঙ্গিন ফানুশ ওড়ানোর মতন করে; কিন্তু ওয়াদা পূরণের সময় ধানাই পানাই করবে। বস্তুগত বা অবস্তুগত যেকোন কথার প্রতিদানের ব্যাপারেই কেন যেন সবসময় এমনই হয়!

(৭৮)
মানুষের কাছে প্রত্যাশা করতে নাই, সেক্ষেত্রে অবশ্যই কষ্ট পেতে হবে। আসলে, মানুষের কাছে কিছু পেলে তাতেও তার প্রতি খুব বেশি উচ্ছ্বসিত হতে নেই। যে কোন কিছুর প্রকৃত দাতা আল্লাহ, তাই প্রতিটি প্রাপ্তির কৃতজ্ঞতা তারই প্রতি হওয়া উচিত। বিভিন্ন মানুষ মূলত প্রাপ্তির উপলক্ষ হয়। তেমনিভাবে কিছু চাইতে হলে আল্লাহর কাছেই চাওয়া উচিত। তিনি চাইলে দিবেন, তিনি না চাইলে সমগ্র পৃথিবী চাইলেও আপনি কিছুই পাবেন না, শূণ্য আর রিক্ত হয়ে পড়ে থাকবেন।

(৭৯)
বনের বাঘে খায় না, মনের বাঘে খায়। চিবায়া চিবায়া খায়। কুড়মুড় করে খায়... 

তাই, মনের বাঘ হইতে সাবধান।

২৩ জানু, ২০১৪

কৈশোর-তারুণ্য ও যৌবনের জন্য সহজ পর্নোগ্রাফি

​আপনি শহরের রাস্তায় চলবেন আর আশেপাশের হুড তোলা রিকসায়, সিএনজির দিকে জোড়া নারী-পুরুষের নির্লজ্জতার শঙ্কায় তাকাতে অস্বস্তিতে থাকবেন না -- এমনটা মনে হয় খুব কম মানুষেরই হয় ইদানিং। সেদিন বাসে করে এক তিন রাস্তার মোড় পার হচ্ছি, একদিকে শীতের প্রসাধনীর বিলবোর্ডে অর্ধনগ্ন নারী, চোখ ফিরিয়ে বামে তাকাতেই একটি ফার্নিচারের বড় বিজ্ঞাপন, তাতে এক নারী সি-বিচে আধশোয়া, এবার সামনে তাকাতে আরেকটা পণ্যের একই রকম বিজ্ঞাপন। শেষে জানালা থেকে চোখ ফিরিয়ে হাতের উপরে চোখ স্থির করতে হলো। বিজ্ঞাপনগুলোর অবস্থা এমনই যে বাসের টিকিট বিক্রি করতেও এখন নারীর ছবি থাকে। বিশাল বিশাল বিলবোর্ডে এক তৈরিপোশাক ব্র্যান্ডের বিজ্ঞাপন দেখে মনে হয় নারী ছাড়া কেউ পোশাক পরে না আর পড়লেও দেশের নারীরা হয়ত স্লিভ পরেননা। এমনকি, ফার্নিচারেও নারী, ড্রিংসেও নারী -- সকলেই আঁটোসাঁটো পোশাকের, অথবা অর্ধনগ্না। মোবাইল অপারেটরদের বিষয় নিয়ে নতুন করে বলার নেই, তরুণদের ডিজুস করা, বন্ধু ছাড়া লাইফ ইম্পসিবলের ট্যাবলেট গিলিয়ে সমাজকে ঘুণপোকা ধরানোর কাজটা ওদের হাতে হয়েছে আজ থেকে দশ বছর আগে থেকেই।

দুঃখের সময়ে যখন খুঁজে পাই না কী করবো

​জীবনের এই বন্দরে বসবাস, কত রকম আনন্দ-বেদনা আসবে। কিছুই থাকে না স্থায়ী হয়ে, না সুখ, না দুঃখ। কষ্টগুলোও আসে, থেকে চলে যায়। সুখের বন্যা বয়ে যায়, আবার ক'দিন বাদেই জীবনের সুখের সময় খুঁজতে বের হতে হয়। বারবার তাঁর কথা ভুলে যাই, বিস্মৃত হয়ে যাই তাই হয়ত আল্লাহ এমন বৈচিত্র্য দিয়েই আমাদের ব্যস্ত রাখেন -- যেন গন্তব্য আর এই চলার পথের দুই ভিন্ন স্বাদকে এক করে বিভ্রান্ত না হই। জীবনে কঠিন সময় আসে, কখনো কখনো সবাই অবিশ্বাস করতে শুরু করে, কাছের মানুষরাও আশাহত হয়ে যেতে পারে, সবকিছুর হিসেব একদম উলটে পালটে যেতে পারে। অনেক কিছু হয়ত ছিলো চারপাশে, এক দমকা হাওয়ায় হয়ত সব হারিয়ে যেতে পারে। অথচ, এই সবকিছুকে উপলব্ধি করতে পারাও একটা ক্ষমতা, এই অস্তিত্বের প্রতিটি মূহুর্তই অনেকগুলো *প্রাপ্তির* উপরেই দাঁড়ানো।

২১ জানু, ২০১৪

​ বিয়ে আপনার জীবনের সমস্যাগুলোকে অলৌকিকভাবে সমাধান করে দিবে না

​"বিয়ে আপনার জীবনের সমস্যাগুলোকে অলৌকিকভাবে সমাধান করে দিবে না। বিয়ে কিন্তু সবসময় আপনার একাকীত্ব থেকে মুক্তির কিংবা বর্তমান অবস্থাটা থেকে বের হবার কোন পথ নয়। ভাই ও বোনদের উচিত বিয়ে জীবনটাকে যাদুমন্ত্র দিয়ে বদলে দিবে এমন আশা না করে ব্যক্তিগত ও আত্মিক উন্নতির জন্য চেষ্টা করা।

বিয়ে ব্যক্তিগত উন্নয়নের একটি বিশাল মাধ্যম হতে পারে, হতে পারে আমাদেরকে উত্তম মানুষ হয়ে বদলে যাওয়ার জন্য সাহায্যকারী, ইন শা আল্লাহ। একজন মানুষের প্রতি আল্লাহর শ্রেষ্ঠ নি'আমাতগুলোর একটি হলো সুখী-সুন্দর বিয়ে; এবং এর ফলে একটি পরিবারের সৃষ্টি, সেই পরিবারের সেবা-যত্ন করা -- যা সেরা ইবাদাতগুলোর অন্তর্ভুক্ত। কিন্তু যে ব্যক্তি নিজের ব্যক্তিগত উন্নতির জন্য এখনই তেমন কোন কাজ করতে পারছে না, কীভাবে আশা করা যায় যে আরেকজন মানুষের আরো কিছু দায়দায়িত্ব ও মালপত্র কাঁধে নিয়ে সেই কাজটি তার জন্য সহজ হবে, এমনকি যখন সেই মানুষটিও নিখুঁত নন?

আপনি নিজেই কি আপনাকে বিয়ে করতে রাজি হতেন? যদি না হন, তাহলে সেই আকাঙ্খিত অবস্থায় যেতে আপনার আরো কী কী করতে হবে? যদি হয়ে থাকেন, তাহলে কি ভেবেছেন আপনার ভালো গুণাবলীকে আরো বৃদ্ধি করতে আপনি কী করতে পারেন।"

-- মারিয়াম আমির ইব্রাহিমি

[মিশরীয় বোনটির ফেসবুক পোস্ট থেকে অনূদিত]

​ বিয়ে হলো দু'জনের ভালোবাসার মেলবন্ধন, কোন লড়াই নয়

"যখন আমি শুনি কেউ হয়ত আগামীতে বিয়ে করতে যাচ্ছে এবং আলাপ করছে যে তারা তাদের সম্ভাব্য স্বামী বা স্ত্রীর ব্যাপারে কী কী "মেনে নিবে না/সহ্য করবে না", তখন আমি বেশ উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ি। কারো এমন চিন্তা নিয়ে বিয়ে করতে যাওয়া উচিত নয় যেন তারা লড়াইয়ে যাচ্ছে অন্যকে আঘাত করার জন্য যুদ্ধাস্ত্র হাতে প্রস্তুত রেখে এবং নিজেকে রক্ষা করতে বর্ম আচ্ছাদিত হয়ে।

বিয়ে হলো দু'জনের ভালোবাসার মেলবন্ধন, কোন লড়াই নয়। সেখানে শুধুমাত্র নিজের ভেতরকার দুর্বলতাগুলো এবং নফসের সাথে যুদ্ধ করা ছাড়া কোন যুদ্ধ নেই এবং অস্ত্রু বলতে আছে শুধুই দু'আ, তাওয়াক্কুল (আল্লাহর উপরে পরিপূর্ণ নির্ভরশীলতা) এবং স্বামী কিংবা স্ত্রী হিসেবে সফল হবার জন্য দৃঢ় একটি সংকল্প -- যা এই দুনিয়া এবং আখিরাতের জন্যেও।"

-- উম্মু যাকিয়্যাহ

['দি জার্নাল অফ উম্মু যাকিয়্যাহ' থেকে অনূদিত]

১০ জানু, ২০১৪

আমাদের হৃদয়টার যত্ন নেয়া প্রয়োজন

আমরা কত্তো কিছুই তো করি... নিজের জন্য, অন্যের জন্য। অন্য কারো সুখের জন্য নিজেকে বিলিয়ে দিতেও চেষ্টা করি। যারা আল্লাহর সন্তুষ্টি চাই, তাদের চেষ্টাও থাকে যত বেশি পারা যায় লোকের সামনে হোক অথবা অগোচরেই হোক, বেশি বেশি অন্যের উপকার করতে থাকা। কখনো জনমভোর অন্যের জন্য করে একসময় কষ্ট পেয়ে যাওয়া, অথবা কারো ভালো করতে গিয়ে যেন হয়ত নিজের ক্ষতি হলেও মেনে নিই, ভালোবাসা থেকে, দয়া থেকে। অন্যের জন্য নিজের কেমন ধরণের ক্ষতি মেনে নিচ্ছি, সেটা নিয়েও একপ্রস্ত চিন্তা করার আছে...

মনে হয় একটা অন্যরকম ব্যাপার আছে, যেটা হয়ত আমাদের চিন্তা থেকে এড়িয়ে যায়--  আল্লাহ যেদিন আমাদেরকে দাঁড় করাবেন, সেদিন আমরা কারো ভাই হিসেবে না, কারো বোন হিসেবে না, কারো ছেলে কিংবা মেয়ে হয়ে নয়, কারো সন্তান কিংবা বাবা/মা হয়েও নয়, কারো স্বামী বা স্ত্রী হয়েও নয় -- আমরা দাঁড়াবো 'আমি' হয়ে। যেই আমি আমার অন্তরটাকে ধারণ করতাম, যেই আমি আমার হৃদয় নিয়ে কাজ করেছি পৃথিবীতে... বাইরে যা-ই করেছি, হৃদয় জানতো আসল উদ্দেশ্য কী ছিলো, কী করতে পারা যেত অথচ হয়ত করা হয়নি... এমন আরো অনেক কিছু...

জীবনটা এমন ছিলো না আগে

জীবনটা এমন ছিলো না আগে... শুধু আমার না, প্রায় কারোই জীবন এমন ছিলো না, সময়ের সাথে সাথে বদলে যায়। একসময় যা আমাকে মুগ্ধ করতো, এখন করে না, যা আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ মনে হতো না, এখন তা যেন খুব জীবন্ত আর আপন লাগে। এরকম আমরা কমবেশি সবাই অনুভব করি। সময়ের সাথে সাথে আমাদের জীবন বদলায়, আল্লাহ তার অপার ভালোবাসায় আর করুণায় আমাদেরকে অনেক কিছু দেন, অনেক কিছু থেকে সরিয়ে দেন। 

এই কথাগুলো আমি এভাবে কখনো বলিনি, কারণ ঠিক এভাবেই আগেও ভাবিনি -- ইদানিং জীবন থেকে নতুন করে শিখলাম, কোন কিছুর অনুপস্থিতির কারণে কখনো হাল ছেড়ে দিতে নাই, আল্লাহ কখন কী ঠিক করে রেখেছেন আমরা জানিনা। হয়ত একদিন না-থাকা জিনিসটা ফিরে আসে, তখন আফসোস যা হয়, তা হলো হাল ছেড়ে দেয়ায় যা যা ক্ষতি হয়েছে তার জন্য। আমরা রেগে গেলে ভুল হয়ে যায়, গালাগালি, বাজে কথা, ক্ষতি করে বসা -- একসময় ভুল বুঝে তাদের সাথে আমার সব মিটমাট হয়ে গেলেও, সেই ক্ষতিগুলো রয়ে যায়। তেমনি জীবনে কোন কিছুর কারণে যদি আমল তথা ভালো কাজের অভাব হয় -- একদিন সেই সমস্যা দূর হয়ে গেলে যদি আমাদের জীবনে আর সময় না থাকে, যাবার সময় চলে আসে -- ক্ষতিগ্রস্তই তো হয়ে যাবো। 

৬ জানু, ২০১৪

সফল হতে কী লাগে?

একটি ছোট্ট ব্যক্তিগত উপলব্ধি হলো আজো। হয়ত লেখার মতন তেমন কিছু না, তবুও লিখেই না হয় ফেলি...

আমার ৪ বছরের পিচ্চি ভাতিজিটাকে আদর করার সময় আজ উচু চেয়ারের একদম উপরের সরু কাঠের উপরে তুলে দাঁড় করিয়ে আমি হালকা করে ছেড়ে দিলাম। সে দাঁড়িয়ে থাকলো, থাকতে পারলো। একটা বিশ্বাস ছিলো তার, চাচ্চু ধরে আছে ওকে, পড়বে না। আমাকে বলছিলো, "চাচ্চু, ধরো কিন্তু আমাকে ভালো করে।" সে খেয়াল করেনি আমি হালকা ছেড়ে দিয়েছিলাম ঐ মূহুর্তে, আমার আঙ্গুলগুলো ওর শরীর থেকে দু' এক ইঞ্চি দূরে ছিলো।

সত্যসন্ধানীদের কথা ভেবে

জীবনে সত্যসন্ধানীদের অনেক ছোট ছোট আলাপ জেনেছি। সালমান আল ফারেসি (রাদিয়াল্লাহু আনহু) সম্পর্কে জেনে যেমন হেঁচকি তুলে কেঁদেছি, তেমনি আরো অনেকের কথা শুনে। মনে আছে, ড বিলাল ফিলিপ্স নিজের জীবন নিয়ে একটা সাক্ষাতকারে দিয়েছিলেন, ইউটিউব থেকে ডাউনলোড করে দেখার সময় তার অর্ধেক গিয়ে আবেগরুদ্ধ হয়ে গিয়েছিলাম নিজের অবস্থার শোচনীয়তা ভেবে।

# মনোমুগ্ধকর বক্তা ইমাম আওলাকির (রাহিমাহুল্লাহ) কন্ঠে রাসূলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সাহাবী সালমান আল ফারেসির (রাদিয়াল্লাহু আনহু) সত্যের সন্ধানে ছুটে বেড়ানোর অতি মনোহর সেই গল্প শুনে নিতে পারেন : এই লিঙ্কে ক্লিক করে

# ড বিলাল ফিলিপস ছিলেন ইসলামের সম্পূর্ণ ভিন্নধারার এক লোক। কেমন করে ঘুরতে ঘুরতে তিনি এলেন এই পথে, আল্লাহ ইতোমধ্যেই তাকে দিয়ে কত কিছুই না করিয়ে নিয়েছেন (হাফিজাহুল্লাহ), সেই জীবনের গল্প দেখে নিন এই লিঙ্ক থেকে : https://www.youtube.com/watch?v=NtR-Z3c1720

সব কিছুর পরে একটাই আশা, একটাই স্বস্তি

​ইদানিং যা হয়, তেমন কোন পড়াশোনাই হয়না, তবে গুতাই এখানে-ওখানে। প্রায়ই আবিষ্কার করি, আমার বলা/চিন্তা করা সব কথাই আসলে বলা হয়ে গেছে, স্কলাররা বলে দিয়ে গেছেন। পড়া হয়নি তাই জানিনা। অনেকসময় ব্যাপক চিন্তাভাবনা করে একটা কথা ভেবে বের করে রাখার পরে দেখেছি অমুক কথার চেয়ে অনেক সুন্দর করে আরো বিস্তৃত কথা সংক্ষেপে বলে গিয়ে গেছেন অন্য কোন পূর্বেকার মানুষ, যাদের আল্লাহ জ্ঞানের আলোয় আলোকিত করেছিলেন। তাদের কথাবার্তা পড়লে বলার কিছু খুঁজে পাইনা। নিজের পুরোনো কথাবার্তাগুলোর কথা ভেবে লজ্জিত হয়ে যাই, না জানি কী লিখে রেখেছি সেখানে...

১ জানু, ২০১৪

কবিতা : তোমাকে



আমার অবসরের একেকটি অংশ তোমার জন্যই।
অবাক হলে? হবারই কথা। কী অদ্ভুত কথা!
আমার অবসরে আবার তুমি কোত্থেকে, তাইনা?
আমার অবসর তো অখন্ড নয়, খন্ডিত অবসর।
সেখানে একাকীত্ব আছে, নিঃসঙ্গতা নয়। আছে সঙ্গীহীনতা।

১৫ ডিসে, ২০১৩

পৃথিবীর বিভিন্ন সময়ের ফিতনাহ এবং ঈমানের পরীক্ষা নিয়ে ভাবনা

ছোটবেলা থেকে আমার মনে কিছু প্রশ্ন ছিলো, সেগুলো কেমন করে যেন ভেতরেই রয়ে গিয়েছিলো। আমার অবাক লাগতো রাসূলুল্লাহকে (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যারা আল-আমিন বলে ডাকত, তারা কেন পরে তার কথাগুলোকে অবিশ্বাস করতে কিংবা এড়িয়ে যেতে পারত? নবীদের জীবনী পড়ে আমি খুবই অবাক হতাম, ফিরাউন কীভাবে এত এত শিশুকে হত্যা করার নির্দেশ দিতে পেরেছিলো? নূহ আলাইহিস সালামের ছেলে কেমন করে ঈমান না এনে থাকতে পারলো? আরেকটু বড় হয়ে পড়লাম ইমাম হাসান-হোসেনকে (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) এজিদ-সীমার হত্যা করেছিলো কেমন করে, হাজ্জাজ বিন ইউসুফ অবলীলায় হত্যা করেছিলো আল্লাহর রাসূলের (সা) সাহাবাদের। আমার অবাক লাগতো হাদিসে পড়া বনী ইসরাইলের সেই ছেলেটার কথা ভেবে, যিনি তার উস্তায এক বৃদ্ধের কাছ থেকে শিক্ষালাভ করে গোপনে আল্লাহর প্রতি ঈমান এনেছিলেন। পরে বৃদ্ধকে হত্যা করেও সেই ছেলেকে হত্যা করতে পারছিলো না অত্যাচারী শাসক, শেষে "বিসমিল্লাহির রব্বিল গুলাম" বলে হত্যা করার পর যখন অজস্র মানুষ ঈমান আনলো, তখন বিশাল অগ্নিকুন্ডলী বানিতে তাতে ঈমানদারদের ফেলে দেয়া হলো। অথচ খুবাইবকে (রাদিয়াল্লাহু আনহু) সবাই মিলে আয়োজন করে কষ্ট দিয়ে দিয়ে কেমন করে হত্যা করতে পারলো? বীরে মাউনার ঘটনাটাও আমাকে খুব কষ্ট দিতো। অবাক লাগতো আব্দুল্লাহ বিন উবাইদের মতন লোকগুলোর কথা ভেবে। রাসূলুল্লাহর (সা) মতন এমন একটা রাহমাত, এমন একটা মানুষকে দেখেও কীভাবে অন্তরে মুনাফিকি নিয়ে থাকা যায়?

৫ ডিসে, ২০১৩

মনের জানালা মাঝে # ৬



(৬০)
অদ্ভুত এক ইগোসম্পন্ন লোকের সমাজ এটা। এখানে ছেলেরা ব্যক্তিত্ব মনে করছে ড্যাম কেয়ার হওয়াতে, মেয়েরা পণ্যের আঙ্গিকে কেয়ারলেস হয়ে অন্যদের কাছে "অ্যাপ্রিশিয়েটেড" হবার মাঝে স্মার্টনেস খুঁজে পাচ্ছে। এখানে কেউ কোমল না, এখানে কেউ বিনয়ী না। এখানে কেউ পারস্পারিক সহানুভূতি আর কোমল কথায় সৌন্দর্য খুঁজে পায় না। যদি পারতাম, অনেকের পায়ে ধরে অনুরোধ করতাম, ভাই একটু কোমল হও, বিনয়ী হও। এভাবে যাচ্ছেতাইভাবে চলে নিজেদের আখিরাত তো বটেই, দুনিয়াটাও অন্য সবার জন্য ধ্বংসের আর অশান্তিতে ভরে দিচ্ছে।

(৬১)
যদি এমন হয় যে জীবনের ঘটনাগুলো, মানুষগুলো যেন চারপাশ থেকে চেপে ধরেছে, যদি রাগে-ক্ষোভে-যন্ত্রণায় এমন ইচ্ছে করে যে  পারলে ভেঙ্গেচুরে ফেলে দেই সবকিছু...

হ্যাঁ, ঠিক সেইরকম কষ্ট আর যন্ত্রণা হতেই পারে। তবে, তখন ভেবে দেখবেন, রাগ করে লাভ নেই, বরং ক্ষতি। আপনার এই কষ্টের কারণ হতে পারে আপনার আদর্শ, আপনার নীতি, আপনার ভেতরের ভালো যা আছে তার অনড় অবস্থান। যারা ক্রমশ বদলে যায়, তাদের কেউ বাঁকা করতে পারে না। দ্বীন মানতে চাওয়া অনড় মানুষদের অসহায় যন্ত্রণাময় অবস্থার প্রকৃত উদ্ধারকারী আল্লাহ। হয়ত চোখের সামনে কেবলই অকুল পাথার, কোন উপায় নেই সমাধানের, যন্ত্রণাবিনাশের। এমতাবস্থায় আপনার সমস্ত কষ্ট তাকে বলুন, জীবনের হাল তার কাছেই ছেড়ে দেন, যিনি সমস্ত সৃষ্টিজগতের মালিক। ইনশা আল্লাহ, তিনি পথ দেখাবেন, সমস্যা থেকে বেরিয়ে যাবার সমাধান করে দিবেন। রাগ থেকে দূরে থাকুন। রাগ শুধু গড়ে দেয়া জিনিসকে ধ্বংস করে, কিছু গড়ে দিতে পারে না।

(৬২)
না-দেখা, না-জানা, না-বোঝার জগতটা আছে তাই মানুষ খুব বেশি অসম্পূর্ণ তা বোঝা যায়। আল্লাহর প্রতি সম্পূর্ণরূপে দায়বদ্ধ, নির্ভরশীল, অসহায়... এসব বুঝতে বেশি জ্ঞান লাগে না, একট ক্ষুদ্র বোধ, অনুভূতি আর উপলব্ধি শক্তি লাগে।

(৬৩)
ফেসবুকের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহারে আমাদের মনগুলো কীভাবেই না পরিবর্তিত আর পথভ্রষ্ট হয়েছে। একটা কিছু হলেই ফেসবুকে পোস্ট দেয়ার একটা উদগ্র বাসনা ভিতরে কাজ করে। ছবি আপলোড করে লাইক আর কমেন্টে যেন ফুটে উঠে আমার *গ্রহণযোগ্যতা* সবার কাছে, আমার দেখতে কতটুকু সুন্দর লাগে সেটা। একটা কিছু লিখেই অপেক্ষায় থাকি লাইক আর কমেন্টের। যেখানে উদ্দেশ্যগুলো হবার কথা আল্লাহর সন্তুষ্টি। খুব ক্ষীণ একটা লাইনের ওপারে আমাদের অজান্তেই সেটা হয়ে যায় কিছু লাইক আর কমেন্ট প্রাপ্তি...

নিশ্চিত যে জীবন, তাকে জটিল বা ব্যর্থ করে দেয়ার এই অদ্ভুত আয়োজনে আমরা কত আগ্রহেই না যোগ দেই প্রতিদিন। ভালো কাজের সংখ্যা আমাদের এমনিতেই কম। লাইক/কমেন্ট/শেয়ারের লোভ, চ্যাটিং-এ মানুষের সাথে আলাপের আগ্রহ আমাদের কোথায় ঠেলে দিচ্ছে প্রতিদিন... ভেবে দেখেছি কি আপন মনে?

(৬৪)
আমরা জানি মানুষ অন্ধকারের মাঝে আলোর কাঙ্গাল। অন্ধকারের ঝড়ো হাওয়াতে অল্প আলোর উৎসগুলো যেন নিভু নিভু করে। তাইতো, জীবনের কঠিন সময়েও আমাদের উচিত আত্মার আলোকে শক্তিশালী করে জ্বালিয়ে দেয়া।

(৬৫)
ফেসবুকের কথা ভাবলেই কেমন লাগে যেন! বাজে নামের বাজে পেইজ থেকে/ফেইক আইডি থেকে ভালো মেসেজ দেয়ার সাথে আমার মনে পড়ে গোবরের কোটিং দিয়ে কাউকে রঙ্গিন কাগজে মুড়ে যেন উপহার দেয়া। যত সুন্দর দেখতেই হোক তা দুর্গন্ধ ছড়াবেই। 

(৬৬)
সুন্দর হলো সত্য। সত্যই সুন্দর। সুন্দর সংখ্যায় কম হবেই, তাও সত্য। তাতে ভড়কে যাবার কিছু নেই। সুন্দরকে যারা পছন্দ করেন, যারা মূল্য দেন -- তারা খুঁজে নিবেন নিজ দায়িত্বে। আলো জ্বালিয়ে রাখলে, আলোর যাদের প্রয়োজন, তারা সেখানে ছুটে আসবে।

(৬৭)
ভালো মানুষ হওয়াটাই মূল, ভালো কথা ক্রমাগত সঠিকভাবে বলতে পারাটা, ভালো কাজটা যেভাবেই হোক করতে পারাটাই মুখ্য। জীবনের বাকিটা তো এমনিতেই হয়ে যায়, হয়ে যাবেই ইনশা আল্লাহ। সেসব থেমে থাকে না ...

(৬৮)
যখন কাউকে আপনার গল্প বলতে গিয়ে দেখলেন আপনার চোখ আর ভিজে উঠছে না, তখন বুঝবেন আপনি দুঃখ কাটিয়ে উঠেছেন।

(৬৯)
কখনো কখনো আমাদের জীবনে কিছু মানুষকে পেয়ে যাই, পরিস্থিতি আর সময়ের কারণে যাদের জন্য নিঃশব্দ অশ্রু ছাড়া আর কিছু দেয়ার থাকে না।

(৭০)
নিঃসন্দেহে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা আমাদের নিঃশব্দ, নিঃসঙ্গ সময়ের দু'আ শোনেন, আমাদের মনের কথা জানেন। একদিন আমরা সবাই তার সামনে হাজির হব, তার সান্নিধ্যে পূর্ণ হবো। সেদিন যারা হাসিমুখে থাকবে, তাদের মাঝে প্রিয়জনদের খুঁজে পাওয়ার আনন্দ হয়ত কল্পনাও করতে পারিনা। আল্লাহ যেন সেইদিন সকল মুসলিম ভাই-বোনদের হাসিমুখে থাকার তাওফিক দেন।

১ ডিসে, ২০১৩

রুমী কবিতা (প্রথম কিস্তি)



* * *
এই পথটা তোমার, তুমি পথ চলো একা
তোমার চলার পথে হয়ত কেউ সঙ্গী হবে
কিন্তু তোমার পথটা অন্য কেউ হেঁটে দিবে না।
~ জালালুদ্দিন রুমী

* * *
তুমি হয়ত শাখা-প্রশাখায় যা কিছু খুঁজে বেড়াচ্ছ, তা শুধু শেকড়েই পাওয়া যায়। ~ রুমী

* * *
শুধুমাত্র এই হৃদয় দিয়েই তুমি আকাশ ছুঁতে পারো।"  -- রুমী

* * *
আঁকড়ে ধরে রাখা আর চলে যেতে দেয়ার এক ভারসাম্য হলো জীবন। ~ রুমী

* * *
গলে যাওয়া বরফের মতন হও। নিজেকে দিয়ে নিজেকে ধুয়ে দাও।" -- রুমী

* * *
দুঃখ করো না। তুমি যা হারাও তা অন্য কোন রূপে তোমার কাছে ফিরে আসে।" -- রুমী

* * *
তোমার চালাকি বিক্রি করে মুগ্ধতা কিনে নিয়ে এসো।" -- রুমী

* * *
কড়া নাড়ো, তিনি তোমায় দরজা খুলে দেবেন
বিলীন হয়ে যাও, তিনি তোমায় সূর্যের মত উজ্জল করবেন
লুটিয়ে পড়ো, তিনি তোমায় বেহেশতে তুলে নেবেন
নিজেকে রিক্ত করো, তিনি তোমায় সবকিছু দিয়ে পূর্ণ করবেন।
 ~ জালালুদ্দিন রুমী

* * *
তোমার নিজের হৃদয়ের মাধুর্য খুঁজে বের করো, তখন সম্ভবত সবার হৃদয়ের মাধুর্য তুমি খুঁজে পাবে। ~ জালালুদ্দিন রুমী


* * *
খাঁচার বন্দীশালা থেকে তুমি পালিয়েছ,
তোমার ডানা দু'টো তুমি মেলে ধরেছ,
এবার উড়াল দাও।
~ জালালুদ্দিন রুমী