১৩ আগ, ২০১৩

কিছু কীটপতঙ্গ নারীর বুদ্ধিভ্রান্তিবিলাস

দেখেছ প্রিয়া, তোমাকে বলেছিলাম না এমনটা হবার নয়? আমি আর কবে আর এডগার এলান পো আর টেনিসনের কবিতা পড়ব? অথচ ইচ্ছে ছিলো দু'একটা অসাধারণ ছত্র আমি তোমাকে লিখে উৎসর্গ করবো। মনে আছে, তোমাকে পড়তে দিবো বলে রেখেছিলাম, W.B. Yeats এর 'the wild swans at coole' যেখানে সেই হাঁসগুলোর ডানা ঝাপটানোর ফলে সেই জলরাশিতে খেলে যাওয়া পানির মাঝে স্রোতটাকে কত সুন্দর করেই না বর্ণনা হয়েছিলো।

তাও যদি হতো! আর কবেই বা লংফেলো বা ওয়ার্ডসওয়ার্থের কবিতার স্পর্শে নদীকূলের পাশে গিয়ে আপ্লুত হবো অথবা ড্যাফোডিলের নাচন দেখতে আকাশের মেঘে উড়ে বেড়াবো? তোমার জন্য আমি হয়ত বেশি কিছু না, দু'একটা সনেট অন্তত লিখতে পারতাম। হয়ত তোমার চুলের স্পর্শ মুখে নিয়ে আমার দু'একটা অষ্টক তৈরি হত মধুসূদনের মতন।

এখনকার বিয়ের অনুষ্ঠানগুলো

এক ছোট ভাই প্রশ্ন করেছিলো, ভাইয়া এখনকার বিয়ের অনুষ্ঠানগুলোর অবস্থা তো খুবই খারাপ হয়। গান-বাদ্য, ছেলে-মেয়ের মেলামেশা, নাচানাচিগুলো, ডিজে... এসব থেকে কীভাবে মুক্তি পাওয়া যায়?

উত্তর আর কী দিবো? কাছের বন্ধুদের জীবনের অভিজ্ঞতাগুলো দেখে-শুনে বুঝেছি এখানে 'ইসলামিক্যালি মডিফিকেশন' করার সুযোগ নেই বললেই চলে, বেশিরভাগ অনৈসলামিক কাজ। পারিবারিক আর সামাজিক চাপে পিষ্ট হয়ে করতে হয়। এখন অনেক ধাপ থাকে বিয়েতে, আমি এতটা 'ব্যাকডেটেড'(!) যে ঠিক সব জানিও না। তবু শুনেছি -- মেহেদি ১, মেহেদি ২, গায়ে হলুদ ১, গায়ে হলুদ ২, বিয়ে, বৌভাত, (রিসিপশন)। এগুলো থেকে যারা কমায়, তারা মূলত টাকার ঠেলাতে পড়ে কমায়।

পরের নিন্দা করলাম, অতঃপর...

ভেবে দেখলাম, খেয়ালে এবং বেখেয়ালে আমি মানুষের গীবত করে পরবর্তীতে যতটা আফসোস করেছি, ততটা আফসোস আমার খুব কম পাপের কারণেই বুক জ্বালা করে হয়েছে। আফসোস আরো বেশি হয়েছে যখন অনেক দেরিতে হলেও সেই মানুষগুলোর চারিত্রিক সৌন্দর্যে বিমোহিত হয়েছি। তখনই টের পাই, যা খারাপ তা আসলে সবসময়েই খারাপ। যে মানুষটিকে আল্লাহ উপহার দিয়েছেন উত্তম চরিত্র, তার নামে কখনো কোথাও ভুলেও কিছু বলেছি, তা নিজে জেনেও পরে সেই মানুষের সামনে দাঁড়ানো সত্যিই অস্বস্তিকর এবং অশান্তির। সেই সাথে মনে হয়, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা যখন সব প্রকাশ করে দিবেন, সেইদিন সমস্ত মানুষের সামনেও লজ্জা পাওয়ার ভয়, আর আল্লাহ রব্বুল আলামিনের ন্যায়বিচারের ভয়। আল্লাহ পরনিন্দা তথা গীবত এবং মুসলিম ভাইদের সম্পর্কে মন্দ ধারণা করার অভাস থেকে আমাকে ও গোটা মুসলিম উম্মাহর ভাইবোনদেরকে রক্ষা করুন।

স্বপ্ন কারখানা, তিলোত্তমা নগরী
১২ আগস্ট, ২০১৩ ঈসায়ী

যে অদৃশ্য কারাগারে বন্দী থাকি অনেকেই

জীবনে আমরা অনেকেই খুব সহজেই যে ভুলগুলো করি তার একটা মনে হয় --অন্যদের কাছে নিজেদের জীবনের ব্যাখ্যা দিতে যাওয়া। আমি শিখেছি জীবনে, কারো কাছে ব্যাখ্যা দিতে যেয়ো না -- যে তোমাকে ভালোবাসে, সে তোমার ব্যাখ্যা না শুনলেও তোমাকে ভালোবাসবে। যে তোমাকে অপছন্দ করে সে তোমার ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট হলেও অপছন্দই করবে।

মানুষ কী মনে করলো, সে কী ভেবে বসলো -- এই বিষয়টা আমাদেরকে এক অদৃশ্য কারাগারে নিক্ষিপ্ত করে। তাদের কাছে নিজেদের ঘটনাগুলোর ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে আমাদের মানসিক শক্তি ক্ষয় হয়, সময় চলে যায়। কতই তো দেখেছি, কিছু বন্ধু/ভাই আমাকে ঘৃণা করবেন এমন আশাতেই চারপাশে চোখ বিদ্ধ করতেন কাজে-কর্মে, ভুল পেয়ে আমাকে ধরাশায়ী করে 'ঘৃণা' ছড়িয়ে চলে গেলেন। ঘৃণা করতে কষ্ট হয়না, ওটা আপনাতেই হয়। ভালোবাসা জিনিসটাই শ্রমসাপেক্ষ, বাজারি নারী-পুরুষ ভালোবাসার কথা বলছিনা, বলছি মানুষের প্রতি ভালোবাসার কথা।

জীবনটা খুব ছোট। অন্যের কাছে ব্যাখ্যা দিয়ে, তারা কী মনে করলো সেই বিষয়টাকে গুণতিতে ধরে জীবনকে অনর্থক জটিল করার কোন মানে হয় না। অন্য মানুষেরা যেন কখনো যেকোন ভালো বা খারাপে আমাদের নিয়ন্ত্রণ করতে না পারে। শুধু একজন কী ভাবলো তাতে গুরুত্ব দেয়া প্রয়োজন। শুধু তাঁর, সেই মহান আল্লাহর পছন্দকে এড়িয়ে যাওয়াই এই জীবনের সবকিছুকে অর্থপূর্ণ থেকে অর্থহীন করে দিতে পারে। এই কেন্দ্রে স্রষ্টার সাথেই হৃদয় জুড়ে থাকুক, দূর হোক স্রষ্টার সৃষ্টিদের কাছে মানসিক কারাগারের বন্দীত্ব।

স্বপ্ন কারখানা, তিলোত্তমা নগরী
১১ আগস্ট, ২০১৩ ঈসায়ী

৯ আগ, ২০১৩

তরুণদের জীবনে ঈদ এবং নারী

গাইর-মাহরাম নারীদের সান্নিধ্য পাওয়ার সুযোগ যেকোন উঠতি বয়সের ছেলে থেকে শুরু করে বৃদ্ধ সবার কাছেই কমবেশি আকর্ষণীয়। লাগেই, লাগাই স্বাভাবিক। কিন্তু আল্লাহ তা অপছন্দ করেন। এমন মেলামেশা ও সম্পর্কগুলো হারাম। 'মিক্সড গ্যাদারিং' এড়িয়ে যেতে পারা মনে হয় তেমন সহজ নয়, যখন এখনকার সমাজে সবাই 'শিরাম স্মার্ট'। এখন প্রায় বন্ধুদের সার্কেলে ছেলেমেয়ে মেলামেশা থাকে, পরিবারে 'কাজিন'দের মাঝেও তা দেখা যায়। 'কাজিন' কখনই আপন ভাই-বোন নয়, এবং আমার শোনা অনেক বাস্তব ঘটনাতে আমি এই কাজিনদের সাথে দুনিয়ার জীবনের জটিলতা সৃষ্টিকারী নোংরা ও আখিরাত ধ্বংসকারী ভয়াবহ ঘটনার আলাপ শুনেছি। সাবধান থাকা আবশ্যক।

অনৈতিক মেলামেশার মাঝে কিছুটা জৈবিক/শারীরিক আনন্দ থাকলেও 'এগজস্টেড ফিলিং' এনে দিবে, তিক্ততার স্বাদ হবে, ঘটনা/মেলামেশার পরে ফেরত এসে খারাপ লাগা তৈরি হবে এবং জীবনের জটিলতা সৃষ্টি হবে। অমুকের সাথে মিশেছেন/মিশবেন তাই তমুককে তেল দিবেন, ঘমুককে ব্যাখ্যা দিবেন, টমুক আপনাকে গলা চেপে ধরবে। পরিবারে, বন্ধুমহলে, সমাজে ইজ্জত কমে যায়, আত্মবিশ্বাস ও আত্মসম্মান হারায়। ঈমানদারদের উঁচু পর্যায়ের আত্মবিশ্বাস থাকে কেননা তারা জানেন তারা এমন কাজ করেননি, যা আল্লাহ অপছন্দ করেন। আর আল্লাহ যা অনুমুতি দিয়েছেন এমন কাজ এই দুনিয়ায় এবং আখিরাতেও সবাই জানবে--এমন ভয় হয়না। ইজ্জত তথা সম্মান আল্লাহরই হাতে, যারা আল্লাহর নির্দেশ অমান্য করে, বেইজ্জতি তাদের প্রাপ্য হয়ে যায়। আল্লাহ আমাদেরকে রহম করুন।

পুরষ্কার প্রাপ্তির দিনে আমার প্রিয়তম বাক্যগুলো

আজ ঈদ-উল-ফিতর। একমাসের সিয়াম সাধনার পুরষ্কার বিতরণী আজ, সবাই সমবেত হবো ঈদগাহে/মসজিদে ইনশা আল্লাহ। দু'আ করবো আমাদের দুনিয়ার জীবনের শান্তি ও আখিরাতের জীবনে মুক্তির প্রত্যাশায়। আমাদের গোটা মুসলিম উম্মাহ থাকবে দু'আতে। আমার যন্ত্রণাক্লিষ্ট-রক্তমাখা ভাই ও বোনেরা শুধুমাত্র আল্লাহকে রব মেনে শাহাদাহ ঘোষণা করাতেই পার্থিব সীমাহীন অত্যাচারের মুখোমুখি হচ্ছেন। আমরা অভাগা, পৃথিবীতে চলমান এই ঘটনাগুলোতে আমাদের কর্তব্য কী ছিলো এবং কী করেছি তার দায়ভার আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলার কাছে এড়াতে পারব না কিছুই।

আমাদের ঈদ হবে হয়ত সুন্দর, জামাকাপড় সুস্বাদু খাবার আর সুঘ্রাণে। কিন্তু অত্যাচারীদের আক্রমণে রক্তাক্ত প্রান্তরগুলো, পরিবারগুলোতে ভাই-বোনেরা কীভাবে ঈদ করছেন-- সেটা তো চিন্তার ও উপলব্ধির। আল্লাহ যেন আমাদেরকে ক্ষমা করেন, আমাদের দ্বীনকে বিজয়ী করেন। দুনিয়া থেকে বিদায় নিতে থাকা আমার ভাই-বোনদের যেন শাহাদাতের মর্যাদা দান করেন, আমাদেরকেও যেন ক্ষমা করেন, বিজয়ীদের দলে অন্তর্ভুক্ত হবার যেন যোগ্যতা দান করেন।

৮ আগ, ২০১৩

বোধ, শরীর মন ও আবেগ নিয়ে কিছু কথা

জীবন থেকে আমার একটা উপলব্ধি হচ্ছে, ব্যক্তিগত এবং সামষ্টিক যেকোন উন্নতির মূলে থাকতে হবে উত্তম চরিত্র, এর অভাবে বর্তমান সমাজ তথা পৃথিবীর ক্রমঅধোঃগতি হচ্ছে দ্রুতবেগে। উত্তম চরিত্রের মূলে রয়েছে উত্তম জ্ঞানার্জন (বইপড়া সর্বাগ্রে এবং সৎসঙ্গ ও অন্যান্য) যাকে বাড়াতে হবে, আমাদেরকে রোধ করতে হবে সময়ের অপচয়। জ্ঞান না থাকলে যত ভালো মনই থাকুক, তাকে ব্যবহার করা যায় না সঠিক উপায়ে। আর জ্ঞান থাকতে হবে, অবশ্যই থাকতে হবে আন্তরিকতা,ইখলাস।

একই সাথে নিজেকে যেকোন বিষয়ে প্রশ্ন করার মানসিকতাটা, নিজেকে চিন্তা করানোর পদ্ধতিটাকে গুরুত্ব দিতে হবে। জ্ঞান এবং বোধ দুইটা ভিন্ন জিনিস। একটা মানুষের কিছু জানা থাকলেই সে বুঝে -- এমন না। আমাদের সেই বোধটাকে গড়ে তোলা দরকার। আবেগ কমাতে হবে, দ্বীন এবং দুনিয়া উভয়ক্ষেত্রেই আবেগ কমিয়ে চিন্তা ও বুদ্ধিকে ব্যবহার করতে হবে। এই উপলব্ধি এবং প্রয়োগেও মনের মধ্যকার বোধের উত্তম অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ। না হলে আবেগ জ্ঞানকে অতিক্রম করে, সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত গ্রহণ সম্ভব হয় না।

৭ আগ, ২০১৩

ঈদের ছুটি আর চিরদিনের ছুটি

ইফতার শেষে মাগরিবের সলাতে সালাম ফিরাতেই ইমাম সাহেব মাইক্রোফোনে বললেন যেন সুন্নাহ সলাতের পরে কেউ নফলের নিয়াত না করে, জানাযা হবে। জানাজা ছিলো বয়ষ্ক পুরুষের। শেষ তাকবীরের আগে 'আল্লাহুম্মাগফিরলি লিহায়্যিনা... ' পড়তে শুরু করে তার অর্থটা খেয়াল হলো শব্দগুলো ধরে ধরে। কয়েক জুমু'আ আগে খতীব সাহেব এটার ব্যাখ্যা করেছিলেন, কিছু আলোচনাও করেছিলেন -- অদ্ভুত অনুভূতি হয়েছিল। জানাজার পরে আজকে মনে হলো একদিন আমার ঘরে আমার সবকিছু পড়ে থাকবে, খাতায় লেখা অর্ধেক পৃষ্ঠা, সবসময় চার্জের প্রয়োজন থাকা মোবাইল ফোনটা, অফিসের ব্যাগটা বিছানার একপাশে এলোমেলো পড়ে থাকবে। আমি থাকবো হয়ত ওই কফিনের ভেতরে, হয়ত তখন চাইতে থাকবো -- শির্ক না করা নিয়মিত নামাজ আদায় করা অনেকজন ভাই আমার জানাজাহ তে শরীক হবেন, আমার জন্য তারা দু'আ করবেন যেন অনন্তকালের জাহান্নাম থেকে মুক্তি পাই। অথচ কেউ শুনবে না, জানবে না আমি কেমন আছি। এই একাকীত্বের যাত্রাই তো সত্যিকারের একাকীত্ব...

এই সময়ে আমাদের সমাজের স্বচ্ছল অথবা ধার্মিক পরিবারদের কথা

সম্পদের প্রাচুর্য ও সচ্ছলতা একটা অদ্ভুত ধরণের অহংবোধ নিয়ে এনে দেয়, অনুভূতিবোধকেও বোধহয় ভোঁতা করে দেয়। সহমর্মিতা জিনিসটা হয়ত খেয়েই ফেলে। সমাজের উচ্চবিত্তদের কম অংশই 'মনুষ্যত্ব' ধারণ করেন বলে মনে হয় ইদানিংকার ঢাকাভিত্তিক শহুরে জীবনের অভিজ্ঞতায়। অন্যদের জায়গায় তারা কখনো নিজেদেরকে বসিয়ে করে জীবনের কষ্টগুলোকে হয়ত ভেবে দেখতে, অনুভব করতে পারেন না, বুঝতেও পারেন না তাদের কতটা যুদ্ধ করতে হয়। নিজেদের 'থাকা' কে তারা স্বাভাবিক ধরে অন্যদেরকে অবমূল্যায়ণ করেন প্রাচুর্য আর ক্ষমতার মানদন্ডে। অথচ সেই 'থাকা'টুকু তাদের সৌভাগ্য, আল্লাহর পক্ষ থেকে দেয়া কল্যাণমাত্র, যার জবাবদিহিতাও হবে আখিরাতে, কঠিনভাবেই।

৪ আগ, ২০১৩

বাঁধভাঙ্গা পানির স্রোতের মতন শব্দগুলো

হঠাৎ বাঁধভাঙ্গা পানির স্রোতের মতন শব্দগুলো যেন
বুকের ভেতর থেকে প্রচন্ড বেগে বেরিয়ে আসতে চাইছে।
ভোরের সূর্যের অস্ফূট আলোয় ভিজে যাওয়া ঢাকা শহরে
দালান-কোঠাগুলোর সারিতে এক ক্ষুদ্র কোণের গুমোট কক্ষে
আঙ্গুল চেপে গণনাযন্ত্রের পাতায় লিখছি একেকটি অক্ষর।
কোন বিশেষ কিছু বলতে নয়, স্রেফ হালকা হতে, নির্ভার হতে।

এই যে এই সময় চলে গেলো, তা আর কখনো ফিরে আসবে না।
আমার এই শব্দ, এই অনুভূতি, এই আবেগগুলো আর হুবহু রবে না।
বালুঘড়ি দেখেছিলাম, ঝরঝর করে ঝরার সময় কেমন অস্থির লাগত।
এইতো শেষ হয়ে গেলো, কে উলটে দেবে এরপর? শেষ দেখার এক তাড়না।
অথচ এই সময় আমার, এটাও শেষ হয়ে যাবে। জীবনটা বালুঘড়ির মতন
ঝরছে দ্রুতবেগে যেটুকু বাকি আছে। ঝরে নিঃশেষ হবো, মানুষ তো আমি!

যেখানে আমার শেষ, সেখানেই তাঁর শুরু। আমার সবটুকুই তার দয়া।
আমার চিন্তারা যেখানে অসহায়, দৃষ্টি যেখানে আটকে যায়, অজানাকে ভয়।
সেখানে তাকে খুঁজে পাই। ভালোবাসায় আশ্বস্ত করেন। জানিয়ে দেন পারব না।
এই না পারাতে নেই অসহায়তা, এই না পারাতেই মর্যাদা এই জন্মের।
যেন ফিরে ফিরে যাই তার কাছে। স্রষ্টা আর সৃষ্টির ব্যবধানকে উপলব্ধি করতে।

কেউ বলে কাহহার, তা সত্যি। আমি বুঝি রাহমান, বুঝি গাফুরুল ওয়াদুদ।
আমার হৃদয়ের এই শূণ্যতা, এই অনুভূতির এলোমেলো ঢেউগুলো, পবিত্র স্বপ্ন
আমার প্রতিটি নিঃশ্বাসের অস্থির আর্তিগুলো, চোখের অশ্রু, ভালোবাসা,
আমার অসহায় প্রতিটি ক্ষণ, আর অনুভূতিগুলোর সবই তো মানবের অপাঠ্য।
বাধ্য হয়ে আশ্লেষে, অশ্রুসিক্ত হয়ে ফিরে যাই তার কাছেই; যিনি রাহমান।

স্বপ্ন কারখানা
০৪ আগস্ট, ২০১৩

যদি জানতাম কবিতা লিখে কোন ব্যবধান কমানো যাবে

যদি জানতাম কবিতা লিখে কোন ব্যবধান কমানো যাবে,
যদি বুঝতাম একটা কবিতা কখনো হৃদয়ের জ্বালা জুড়াবে ,
হয়ত কবিতা লিখতে বসতাম আমি, অল্প ক'টা লাইনের।

কবিতাকে ফেলে রেখে এসেছি বহুদূর, ইচ্ছে করেই, সজ্ঞানে।
যেদিন বুঝেছি কাব্যবিলাস নিতান্তই সময়ক্ষেপন। এই বিশাল
পৃথিবীর মাঝে কোন পরিবর্তন হয়না কবিতায়, কোন বেলায়।

ক্ষুদ্র এই জীবনে নিন্তান্ত শব্দমোহে, শব্দচ্ছটায় আলোকিত হয়ে
হয়ত রুচবে না আমার অভাগা ভাইদের না খাওয়া একটা বেলা।
রক্তাক্ত ভাইয়ের যন্ত্রণার উপশম হবেনা পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তরে।

ভোরের আলোর স্নিগ্ধতায় হৃদয়ের বিচ্ছিন্ন যন্ত্রণাগুলোকে বিন্যস্ত করতে
কীবোর্ড চেপে লিখছি কিছু কথা, যাকে আমি বলি আচমকা সৃষ্ট অকবিতা।
যে শব্দগুচ্ছের মাঝে কষ্ট, শূণ্যতা আর একরাশ সহমর্মিতা লুকিয়ে আছে।


স্বপ্ন কারখানা
০৪ আগস্ট, ২০১৩

যে বিষয় শুধুই উপলব্ধির

আল্লাহর রাহমাতে ছোটবেলা থেকে কুরআনকে নিয়ে দিনগুলো চলার অভ্যাস তৈরি হলেও নিজের ভুলে একটা সময় এসে এই সম্পর্কে ভাটা পড়ে গেলো। সমরেশ, শীর্ষেন্দু আর সুনীলের বইগুলোর মোটা মোটা ভলিউম প্রথম থেকে শেষ পাতা গিলতে শুরু করলাম, নতুন ভালোবাসায় পুরনো একটা মধুর সম্পর্ক হালকা হতে শুরু করলো।

'সেই বেলার কুরআন শেখায় আভিজাত্য কম ছিলো, কিন্তু গভীরতা আর আন্তরিকতা ছিলো অন্যমাত্রার' --এই বিষয়টা উপলব্ধি করলাম আজকে জুমু'আতে খতীব সাহেব কুরআন নিয়ে আলাপ করছিলেন যখন। ইখলাস জিনিসটার মাত্রা সত্যিই অন্যরকম। তখন যেই আয়াত পড়তাম, সেই একটা আয়াতের গভীরতা বুকের গহীনে দাগ কেটে থাকত। মনে আছে যখন পড়েছিলাম, 'যে ব্যক্তি আল্লাহর উপরে ভরসা করে, আল্লাহ তা'আলাই তার জন্য যথেষ্ট হবেন' -- তখন সেই জীবনের প্রতিদিনের প্রতিমূহুর্ত আমি চেষ্টা করেছিলাম প্রাণপণে একটা অসম্ভবকে সম্ভব করতে। ব্যক্তিজীবনের সবচাইতে শক্তিশালী পার্থিব অর্জন আমার এই আয়াতের শক্তির উপরে ভিত্তি করেই ছিলো। এখন আমি হয়ত অনেক বেশি জানি সেই সময়ের তুলনায়, অথচ শক্তি কাজ করেনা তেমন। যা কমে গেছে তা হলো *ইখলাস*, sincerity.

২ আগ, ২০১৩

সৌন্দর্যের সংজ্ঞা আমাদের সমাজে আর দেশে-দেশে আলাদা

এক ছোটভাই সাজিদ ইরানের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করে, সে ফেসবুকে লিখেছে --
"দেশে দেখেছি মেয়েরা চিকন হওয়ার জন্য খাওয়া দাওয়া করেনা । রাতে ভাতের বদলে শসা খায়।স্লিম না হইলে বিয়ের ক্ষেত্রে সমস্যা।
আমার এক রুমমেট মৌরিতানিয়ান । মামা কঠিন ট্যলেন্ট। ওদের দেশে নাকি মোটা মেয়ে ছাড়া বিয়েই হয়না। তাই মায়েরা ঠেসে ঠুসে খাওয়ায়।
তাই যারা আফ্রিকায় বিয়ে করতে চান তারা বেশি বেশি খান এবং প্রচুর মোটা হউন।"

কথাগুলোতে আনন্দের খোরাক আছে বৈকি!!

২২ জুল, ২০১৩

সমাজে অশ্লীলতা যখন ক্রমাগত ভয়াবহ হচ্ছে তখন তরুণরা কী করতে পারে?

এই চলমান সমাজে অশ্লীলতা ভয়াবহ থেকে ভয়াবহতর হচ্ছে। একজন কিশোর-তরুণের অশ্লীলতাবিহীন বেড়ে ওঠা সত্যিই কষ্টসাধ্য মনে হয়েছে আমার কাছে। একবার আমার একটা লেখা [১] একটা পেইজে শেয়ার হয়েছিলো, লেখাতে অবিবাহিত ভাই ও বোনদেরকে পবিত্র জীবনসঙ্গীর জন্য অপেক্ষার তাগিদ ছিলো আমাদের ইসলামের ইতিহাসে সেরা মানুষদের উদাহরণ টেনে। সেখানে কয়েকজন মানুষ *সত্যিকারের* অবিশ্বাস নিয়ে নির্দেশ করেছিলেন 'এমন (পবিত্র) ছেলে-মেয়ে এই সমাজে আছে নাকি?' তার প্রোফাইল ঘুরে, কমেন্ট পড়ে আমার বিশ্বাস হয়েছিলো সে সত্যিই কল্পনা করতে পারেনা এই সমাজে সত্যিকারের পবিত্র মনের মুসলিম এবং মুসলিমাহ আছে। আমার বড্ড কষ্ট হয়েছিলো সেই মানুষটার প্রতি। কত অশান্তই না সেই অন্তর! সুবহানাল্লাহ!

একজন তরুণ ভাইয়ের জন্য কিছু বিষয় আমার অভিজ্ঞতা থেকে শেয়ার করবো। শুধুই ব্যক্তিগত মত। আমি ব্যক্তিগতভাবে টেলিভিশন/স্যাটেলাইট চ্যানেল সম্পূর্ণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে জীবনে অনেক আগেই বাদ দিতে পেরেছিলাম। তাই মাঝে মাঝে বিভিন্ন কারণে টিভি দেখতে গিয়ে নির্লজ্জ কমার্শিয়ালগুলোর অত্যাচার দেখে ভীত হয়েছি। ক'দিন আগে দেখলাম -- বডি স্প্রের কারণে কাউন্টার দিয়ে এক ভারতীয় নায়ক দেখছে কতগুলো মেয়ে তার প্রতি শারীরিকভাবে 'অ্যাট্রাক্টেড' বোধ করছে। আরেকজনের সাথে তার এই বিষয়ে প্রতিযোগিতাও হচ্ছিলো!! নারীদেরকে পণ্য থেকে কামুক করে কতটা নীচে নামিয়ে এনেছে এমন কমার্শিয়ালে ভাবতেই ঘেন্না হয়। আল্লাহ আমাদের রক্ষা করুন ধ্বংসের দিকে ধাবমান এই নোংরা সংস্কৃতি থেকে।

২১ জুল, ২০১৩

এই রমাদানে

এই রমাদানে আগের কয়েক বছরের মতন হুলুস্থূল প্ল্যান করিনি। অনেক ভিডিও দেখে, অনেক লেখা পড়ে, আলাপ আলোচনা ও অনেক পরিকল্পনা করে সবশেষে কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে থাকার বিষয়টাকে সজ্ঞানে সম্পূর্ণরূপে এড়িয়ে গেছি। আগের বছরগুলোতে রমাদান শেষে সবসময়ে মন আমার ভারাক্রান্ত হয়ে থাকত। আমার উপলব্ধি, কিছু সময় একান্তই নিজের করে নিতে হয়, তাই আমাদের সবারই ভিতরে যা আছে, সেটুকু নিয়ে আল্লাহর সাথে সম্পর্ক উন্নয়নের সুযোগ রমাদান। গত জুমু'আতে খতীব সাহেব বলছিলেন, রমাদান হলো ক্ষমা লাভের সুযোগ, তাই বেশি বেশি ইস্তিগফার করার মাস। কথাটা বুকে দাগ কেটেছে।

রোজার আগে স্রেফ ঠিক করেছিলাম নিজের গোড়াটাকে শক্ত করা দরকার। তাই, সলাতের ব্যাপারে খুব যত্নবান হবো, আর কুরআনুল কারীম পড়বো একটানা। মুফতি তাকী উসমানীর (তাফসীরে তাওযীহুল কুরআন) তাফসীর সেটটা এতদিন ধরে বিছানা থেকে এক হাত দূরে টেবিলের উপরে সাজিয়ে রেখেছিলাম। তাকিয়ে দেখলেও কেমন আলাদা অনুভূতি হত, নেড়েচেড়ে দেখতাম মাঝে মাঝে। বুক হু হু করে উঠতো অজ্ঞতার তুচ্ছতায়, এখনো করে। আমার আল্লাহ আমার জীবনে ঠিকভাবে জন্য এতকিছু জানিয়ে দিয়েছেন, আমি পড়েই দেখিনি। আখিরাতে কুরআন শাফা'আতকারী হবে তো এই অধমের? এমন প্রশ্নের উত্তর পাওয়ার সাহসও করিনা...

ফেসবুক কী এনে দিচ্ছে আমাদের জীবনে ভাবছি তো?

ব্যাপারটা এমন না যে ফেসবুকে রাশি-রাশি ভারা-ভারা স্কলার বসবাস করেন। বরং ব্যাপারটা পুরাই উলটা। একসময় আমরা ইসলাম শিখতাম কখনো স্কুলের ইসলাম শিক্ষা স্যার, এলাকার মসজিদের ইমামের কাছে ছোট-খাটো প্রশ্ন করে। ফিকহের বই ছিলো বাসায়, সেগুলো দেখে তাহারাত, সলাত, সিয়ামের মতন বিষয় শিখতাম। কুরআনুল কারীমের অনুবাদ, রিয়াদুস সলিহীন, বুখারী, মুসলিম শরীফ পড়া হত মন দিয়ে; শেখার আগ্রহে। আমাদের অনেকেরই এমনই হিসেব ছিলো।

এই তো কয়েক বছর আগে থেকে ফেসবুকে যেই জিনিস দেখে ভালো লাগত তা হলো কয়েকজন ভাই এবং আপুর লেখা যেখানে ইসলামের উপলব্ধি ছিলো। সেখান থেকে নিজের জায়গাগুলো খুঁজে বের করে প্রয়োগ করার সময় সাহায্য পেতাম। কখন যেন এই জায়াগাটা যুদ্ধক্ষেত্র হয়ে গেলো। দু'চার বছর আবেগ ভিজিয়ে ইসলাম শেখা, অ্যাকাডেমিকভাবে ইসলামের স্পর্শ না নেওয়া মানুষগুলো সকাল বিকাল শ্লীল-অশ্লীল শব্দ দিয়ে পারস্পরিক আক্রমণ শুরু করে দিলো। এখন যেখানে সেখানে ফাতওয়া পাওয়া যায়। স্কলারদের তুলাধুনা করা হয়। অনেক ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র বিষয় নিয়ে তোলপাড়। ব্যক্তিজীবনে, নিজের মাঝেই ইসলাম ঠিকমতন প্রয়োগ না করলেও ফেসবুকে সমালোচনার ঝড়ের উৎসধারা হতে আমাদের ভুল হয়না।

পুরুষ হয়ে নারীর পর্দা নিয়ে খুব চিন্তিত?

আমার যেইসব ভাইয়েরা নতুন করে ইসলামকে আঁকড়ে ধরতে চাইছেন এবং  সত্যিকার অর্থেই আল্লাহকেই কেবল খুশী করতে চান , তাদের জন্য ক্ষুদ্র একটা অনুরোধ -- দয়া করে নারীর পর্দা নিয়ে অনলাইন অফলাইনে একটা শব্দও লেখার আগে নিশ্চিত করুন নিজের চোখের সংযম।

নারীরা কখনো কোথায় কীভাবে কী আবৃত করবে, কী পরবে, কতটুকু খোলা রাখবে -- সেইটা নিয়ে গবেষণাপত্র পাঠ করার আগে চিন্তা করুন কোথায়, কীভাবে, কখন আপনি গায়ের মাহরাম নারীদের এড়িয়ে, সরিয়ে, দূরে থেকে নিজেকে সামলাতে পারবেন। নারীর দিকে দৃষ্টিনিবদ্ধ করার অনুমুতি কিন্তু আপনার নেই, তাই নিজেকে আগে পাপরাশি থেকে রক্ষা করুন, শয়তানের ওয়াসওয়াসা থেকে নিজেকে হিফাজত করুন।

টেলিভিশনে প্রচুর কমার্শিয়াল, কম্পিউটারে হিন্দি-ইংরেজি মুভি দেখে উঠে ফেসবুকে বসে অনেক মানুষ পোশাকের দৈর্ঘ্য প্রস্থ উচ্চতা আর রঙ নিয়ে কথা বলতেই পারে, আল্লাহই ভালো জানেন তাদের চোখ গায়ের মাহরাম নারীর দিকে আটকে থাকে... নাকি থাকে না। এই রামাদান মাসের বরকতময় সময়কে কাজে লাগিয়ে আল্লাহ আমাদের নিজেদের ব্যক্তিগত চরিত্রকে উন্নত করার তাওফিক দান করুন।

১৬ জুল, ২০১৩

আগামীর ভ্রমণ পরিকল্পনা, প্রস্তুতি ও ঘরবাড়িরগুলোর আলাপ

মাঝে মাঝে কিছু মানুষের মৃত্যুর সংবাদ পাই। অনেক অনাড়ম্বর। খুব কাছের মানুষগুলো তাদের ব্যাপারে যে সাক্ষ্য দেয় তা হৃদয়স্পর্শী। শুনে মনে হয়, আল্লাহ বোধকরি তাকে জান্নাতবাসী করবেন। আবার, পরম আড়ম্বরে দেখি অনেকের মৃত্যু হয়। পত্রিকা, টেলিভিশন, টক-শো, ফিচার, স্মরণসভায় বক্তাদের মিলনায়তন কাঁপানো আলাপ। ব্যক্তিজীবনে তারা চরিত্রহীন এবং সাধারণ মানুষকে যথেষ্টই যন্ত্রণা দিয়েই দীর্ঘজীবন ধরে সবাইকে যন্ত্রণা দিয়ে তাদের বিদায় হয়েছে। তখনই অনুভব করি, আসলে আমাদের পরিচিতি, সম্পর্ক, খ্যাতি, আরাম-আয়েশ, বন্ধন, জাঁকজমক বিষয়গুলো খুবই ঠুনকো। এই পৃথিবীর কোন কিছু পাওয়ার আশা করে নিজেকে বিলিয়ে দেয়াটাই বোকামি, মূর্খতা। যাবার বেলায় সবাই শূণ্যহাতে বিদায় নেয় -- এই উপলব্ধিটা এই আঙ্গিকে হলে বেশ খা খা করে বুকটা।

আমি তো দেখেছি প্রতিটি মানুষই একেকজন যোদ্ধা

আমি তো দেখেছি আল্লাহর সৃষ্ট প্রতিটি মানুষই একেকজন যোদ্ধা। তাদের জীবনযুদ্ধগুলো একদম অন্যরকম। প্রত্যেকেরই পেয়েছি অনেক দীর্ঘসময় নিয়ে করার মতন গল্প। কারো সাথে কারো তেমন মিল পাইনা, প্রত্যেকের প্রেক্ষাপট, দৃষ্টিভঙ্গি, অনুভূতি আর জীবনদর্শনগুলো ছিলো স্বতন্ত্র। যাদের পেয়েছি আল্লাহর বান্দা হয়ে জীবন ধারণ করতে চাওয়া মানুষ, তাদের জীবনের পরীক্ষাগুলো যেন আরো বেড়ে যেতে দেখেছি! এসব বুঝেই কখনো কাউকে উপহাস করতে পারিনা, সাহস হয়না সমালোচনার ঝড় বইয়ে দিতে। জানি, এক আল্লাহই মানুষের জীবন সহজ করে দেন। যারা দু'আ করে, যারা আল্লাহর উপরে বিশ্বাস রাখে যে তিনিই সমস্ত ক্ষমতার মালিক, তিনিই সমস্যা দেন, আবার তিনিই তা সমাধান করে দেন -- তাদের দেখেছি জীবন নিয়ে দুঃশ্চিন্তা কম, তাদের দেখেছি সমস্ত ভার আল্লাহর উপরে ছেড়ে দিয়ে পরম শান্তিতে শুকরিয়া জ্ঞাপন করতে।

স্রেব্রেনিকা হত্যাকান্ড এবং একটি ১১ জুলাই

কিছু কথা কখনই খুব কাছের কাউকে ছাড়া আমি সচরাচর বলিনা। বলতে গেলে অনুভূতির অতিশায়ন হয়ে বদলে যায় কিনা এমন একটা চিন্তাও থাকে। যেমন, আজ যখন ইফতারের ঠিক আগে প্লেটটা ছোট ছোট কিছু সাদামাটা আইটেম দিয়ে পূরণ হয়ে গেলো, হঠাৎ মনে হলো আমারই এক ভাই কায়রোর পথে বসে ইফতার করছে কী দিয়ে?

মূহুর্তেই আরব সাগর পেরিয়ে আমার এই দু'চোখ যেন চলে যায় সিরিয়া, ফিলিস্তিন, আলজেরিয়া, মিশরের পথে প্রান্তরে। ওদিকে সোমালিয়ায়, কাছেই রোহিঙ্গা ভাই-বোনেরা কতই না যন্ত্রণা সহ্য করে চলেছেন জীবন ধরে -- কেবল মুসলিম বলেই। আমার আফগানী, ইরাকী ভাই-বোনেরা আমার মতই রোজাদার, তাদের কি এত আয়োজন করে খাওয়া দাওয়া হচ্ছে? কত মা সন্তানহারা হয়ে খেতে বসে আকুল হয়ে কাঁদছেন হয়ত সন্তানটির জন্য, দু'আ করছেন তাদের জন্য প্রাণভরে... রেখেছি কারো খবর? এমনকি আমি ত অফিস শেষে আজকে বাসায় ফেরার সময়ও কারো খবর নিয়েই ফিরিনি!