৪ আগ, ২০১৩

যদি জানতাম কবিতা লিখে কোন ব্যবধান কমানো যাবে

যদি জানতাম কবিতা লিখে কোন ব্যবধান কমানো যাবে,
যদি বুঝতাম একটা কবিতা কখনো হৃদয়ের জ্বালা জুড়াবে ,
হয়ত কবিতা লিখতে বসতাম আমি, অল্প ক'টা লাইনের।

কবিতাকে ফেলে রেখে এসেছি বহুদূর, ইচ্ছে করেই, সজ্ঞানে।
যেদিন বুঝেছি কাব্যবিলাস নিতান্তই সময়ক্ষেপন। এই বিশাল
পৃথিবীর মাঝে কোন পরিবর্তন হয়না কবিতায়, কোন বেলায়।

ক্ষুদ্র এই জীবনে নিন্তান্ত শব্দমোহে, শব্দচ্ছটায় আলোকিত হয়ে
হয়ত রুচবে না আমার অভাগা ভাইদের না খাওয়া একটা বেলা।
রক্তাক্ত ভাইয়ের যন্ত্রণার উপশম হবেনা পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তরে।

ভোরের আলোর স্নিগ্ধতায় হৃদয়ের বিচ্ছিন্ন যন্ত্রণাগুলোকে বিন্যস্ত করতে
কীবোর্ড চেপে লিখছি কিছু কথা, যাকে আমি বলি আচমকা সৃষ্ট অকবিতা।
যে শব্দগুচ্ছের মাঝে কষ্ট, শূণ্যতা আর একরাশ সহমর্মিতা লুকিয়ে আছে।


স্বপ্ন কারখানা
০৪ আগস্ট, ২০১৩

যে বিষয় শুধুই উপলব্ধির

আল্লাহর রাহমাতে ছোটবেলা থেকে কুরআনকে নিয়ে দিনগুলো চলার অভ্যাস তৈরি হলেও নিজের ভুলে একটা সময় এসে এই সম্পর্কে ভাটা পড়ে গেলো। সমরেশ, শীর্ষেন্দু আর সুনীলের বইগুলোর মোটা মোটা ভলিউম প্রথম থেকে শেষ পাতা গিলতে শুরু করলাম, নতুন ভালোবাসায় পুরনো একটা মধুর সম্পর্ক হালকা হতে শুরু করলো।

'সেই বেলার কুরআন শেখায় আভিজাত্য কম ছিলো, কিন্তু গভীরতা আর আন্তরিকতা ছিলো অন্যমাত্রার' --এই বিষয়টা উপলব্ধি করলাম আজকে জুমু'আতে খতীব সাহেব কুরআন নিয়ে আলাপ করছিলেন যখন। ইখলাস জিনিসটার মাত্রা সত্যিই অন্যরকম। তখন যেই আয়াত পড়তাম, সেই একটা আয়াতের গভীরতা বুকের গহীনে দাগ কেটে থাকত। মনে আছে যখন পড়েছিলাম, 'যে ব্যক্তি আল্লাহর উপরে ভরসা করে, আল্লাহ তা'আলাই তার জন্য যথেষ্ট হবেন' -- তখন সেই জীবনের প্রতিদিনের প্রতিমূহুর্ত আমি চেষ্টা করেছিলাম প্রাণপণে একটা অসম্ভবকে সম্ভব করতে। ব্যক্তিজীবনের সবচাইতে শক্তিশালী পার্থিব অর্জন আমার এই আয়াতের শক্তির উপরে ভিত্তি করেই ছিলো। এখন আমি হয়ত অনেক বেশি জানি সেই সময়ের তুলনায়, অথচ শক্তি কাজ করেনা তেমন। যা কমে গেছে তা হলো *ইখলাস*, sincerity.

২ আগ, ২০১৩

সৌন্দর্যের সংজ্ঞা আমাদের সমাজে আর দেশে-দেশে আলাদা

এক ছোটভাই সাজিদ ইরানের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করে, সে ফেসবুকে লিখেছে --
"দেশে দেখেছি মেয়েরা চিকন হওয়ার জন্য খাওয়া দাওয়া করেনা । রাতে ভাতের বদলে শসা খায়।স্লিম না হইলে বিয়ের ক্ষেত্রে সমস্যা।
আমার এক রুমমেট মৌরিতানিয়ান । মামা কঠিন ট্যলেন্ট। ওদের দেশে নাকি মোটা মেয়ে ছাড়া বিয়েই হয়না। তাই মায়েরা ঠেসে ঠুসে খাওয়ায়।
তাই যারা আফ্রিকায় বিয়ে করতে চান তারা বেশি বেশি খান এবং প্রচুর মোটা হউন।"

কথাগুলোতে আনন্দের খোরাক আছে বৈকি!!

২২ জুল, ২০১৩

সমাজে অশ্লীলতা যখন ক্রমাগত ভয়াবহ হচ্ছে তখন তরুণরা কী করতে পারে?

এই চলমান সমাজে অশ্লীলতা ভয়াবহ থেকে ভয়াবহতর হচ্ছে। একজন কিশোর-তরুণের অশ্লীলতাবিহীন বেড়ে ওঠা সত্যিই কষ্টসাধ্য মনে হয়েছে আমার কাছে। একবার আমার একটা লেখা [১] একটা পেইজে শেয়ার হয়েছিলো, লেখাতে অবিবাহিত ভাই ও বোনদেরকে পবিত্র জীবনসঙ্গীর জন্য অপেক্ষার তাগিদ ছিলো আমাদের ইসলামের ইতিহাসে সেরা মানুষদের উদাহরণ টেনে। সেখানে কয়েকজন মানুষ *সত্যিকারের* অবিশ্বাস নিয়ে নির্দেশ করেছিলেন 'এমন (পবিত্র) ছেলে-মেয়ে এই সমাজে আছে নাকি?' তার প্রোফাইল ঘুরে, কমেন্ট পড়ে আমার বিশ্বাস হয়েছিলো সে সত্যিই কল্পনা করতে পারেনা এই সমাজে সত্যিকারের পবিত্র মনের মুসলিম এবং মুসলিমাহ আছে। আমার বড্ড কষ্ট হয়েছিলো সেই মানুষটার প্রতি। কত অশান্তই না সেই অন্তর! সুবহানাল্লাহ!

একজন তরুণ ভাইয়ের জন্য কিছু বিষয় আমার অভিজ্ঞতা থেকে শেয়ার করবো। শুধুই ব্যক্তিগত মত। আমি ব্যক্তিগতভাবে টেলিভিশন/স্যাটেলাইট চ্যানেল সম্পূর্ণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে জীবনে অনেক আগেই বাদ দিতে পেরেছিলাম। তাই মাঝে মাঝে বিভিন্ন কারণে টিভি দেখতে গিয়ে নির্লজ্জ কমার্শিয়ালগুলোর অত্যাচার দেখে ভীত হয়েছি। ক'দিন আগে দেখলাম -- বডি স্প্রের কারণে কাউন্টার দিয়ে এক ভারতীয় নায়ক দেখছে কতগুলো মেয়ে তার প্রতি শারীরিকভাবে 'অ্যাট্রাক্টেড' বোধ করছে। আরেকজনের সাথে তার এই বিষয়ে প্রতিযোগিতাও হচ্ছিলো!! নারীদেরকে পণ্য থেকে কামুক করে কতটা নীচে নামিয়ে এনেছে এমন কমার্শিয়ালে ভাবতেই ঘেন্না হয়। আল্লাহ আমাদের রক্ষা করুন ধ্বংসের দিকে ধাবমান এই নোংরা সংস্কৃতি থেকে।

২১ জুল, ২০১৩

এই রমাদানে

এই রমাদানে আগের কয়েক বছরের মতন হুলুস্থূল প্ল্যান করিনি। অনেক ভিডিও দেখে, অনেক লেখা পড়ে, আলাপ আলোচনা ও অনেক পরিকল্পনা করে সবশেষে কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে থাকার বিষয়টাকে সজ্ঞানে সম্পূর্ণরূপে এড়িয়ে গেছি। আগের বছরগুলোতে রমাদান শেষে সবসময়ে মন আমার ভারাক্রান্ত হয়ে থাকত। আমার উপলব্ধি, কিছু সময় একান্তই নিজের করে নিতে হয়, তাই আমাদের সবারই ভিতরে যা আছে, সেটুকু নিয়ে আল্লাহর সাথে সম্পর্ক উন্নয়নের সুযোগ রমাদান। গত জুমু'আতে খতীব সাহেব বলছিলেন, রমাদান হলো ক্ষমা লাভের সুযোগ, তাই বেশি বেশি ইস্তিগফার করার মাস। কথাটা বুকে দাগ কেটেছে।

রোজার আগে স্রেফ ঠিক করেছিলাম নিজের গোড়াটাকে শক্ত করা দরকার। তাই, সলাতের ব্যাপারে খুব যত্নবান হবো, আর কুরআনুল কারীম পড়বো একটানা। মুফতি তাকী উসমানীর (তাফসীরে তাওযীহুল কুরআন) তাফসীর সেটটা এতদিন ধরে বিছানা থেকে এক হাত দূরে টেবিলের উপরে সাজিয়ে রেখেছিলাম। তাকিয়ে দেখলেও কেমন আলাদা অনুভূতি হত, নেড়েচেড়ে দেখতাম মাঝে মাঝে। বুক হু হু করে উঠতো অজ্ঞতার তুচ্ছতায়, এখনো করে। আমার আল্লাহ আমার জীবনে ঠিকভাবে জন্য এতকিছু জানিয়ে দিয়েছেন, আমি পড়েই দেখিনি। আখিরাতে কুরআন শাফা'আতকারী হবে তো এই অধমের? এমন প্রশ্নের উত্তর পাওয়ার সাহসও করিনা...

ফেসবুক কী এনে দিচ্ছে আমাদের জীবনে ভাবছি তো?

ব্যাপারটা এমন না যে ফেসবুকে রাশি-রাশি ভারা-ভারা স্কলার বসবাস করেন। বরং ব্যাপারটা পুরাই উলটা। একসময় আমরা ইসলাম শিখতাম কখনো স্কুলের ইসলাম শিক্ষা স্যার, এলাকার মসজিদের ইমামের কাছে ছোট-খাটো প্রশ্ন করে। ফিকহের বই ছিলো বাসায়, সেগুলো দেখে তাহারাত, সলাত, সিয়ামের মতন বিষয় শিখতাম। কুরআনুল কারীমের অনুবাদ, রিয়াদুস সলিহীন, বুখারী, মুসলিম শরীফ পড়া হত মন দিয়ে; শেখার আগ্রহে। আমাদের অনেকেরই এমনই হিসেব ছিলো।

এই তো কয়েক বছর আগে থেকে ফেসবুকে যেই জিনিস দেখে ভালো লাগত তা হলো কয়েকজন ভাই এবং আপুর লেখা যেখানে ইসলামের উপলব্ধি ছিলো। সেখান থেকে নিজের জায়গাগুলো খুঁজে বের করে প্রয়োগ করার সময় সাহায্য পেতাম। কখন যেন এই জায়াগাটা যুদ্ধক্ষেত্র হয়ে গেলো। দু'চার বছর আবেগ ভিজিয়ে ইসলাম শেখা, অ্যাকাডেমিকভাবে ইসলামের স্পর্শ না নেওয়া মানুষগুলো সকাল বিকাল শ্লীল-অশ্লীল শব্দ দিয়ে পারস্পরিক আক্রমণ শুরু করে দিলো। এখন যেখানে সেখানে ফাতওয়া পাওয়া যায়। স্কলারদের তুলাধুনা করা হয়। অনেক ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র বিষয় নিয়ে তোলপাড়। ব্যক্তিজীবনে, নিজের মাঝেই ইসলাম ঠিকমতন প্রয়োগ না করলেও ফেসবুকে সমালোচনার ঝড়ের উৎসধারা হতে আমাদের ভুল হয়না।

পুরুষ হয়ে নারীর পর্দা নিয়ে খুব চিন্তিত?

আমার যেইসব ভাইয়েরা নতুন করে ইসলামকে আঁকড়ে ধরতে চাইছেন এবং  সত্যিকার অর্থেই আল্লাহকেই কেবল খুশী করতে চান , তাদের জন্য ক্ষুদ্র একটা অনুরোধ -- দয়া করে নারীর পর্দা নিয়ে অনলাইন অফলাইনে একটা শব্দও লেখার আগে নিশ্চিত করুন নিজের চোখের সংযম।

নারীরা কখনো কোথায় কীভাবে কী আবৃত করবে, কী পরবে, কতটুকু খোলা রাখবে -- সেইটা নিয়ে গবেষণাপত্র পাঠ করার আগে চিন্তা করুন কোথায়, কীভাবে, কখন আপনি গায়ের মাহরাম নারীদের এড়িয়ে, সরিয়ে, দূরে থেকে নিজেকে সামলাতে পারবেন। নারীর দিকে দৃষ্টিনিবদ্ধ করার অনুমুতি কিন্তু আপনার নেই, তাই নিজেকে আগে পাপরাশি থেকে রক্ষা করুন, শয়তানের ওয়াসওয়াসা থেকে নিজেকে হিফাজত করুন।

টেলিভিশনে প্রচুর কমার্শিয়াল, কম্পিউটারে হিন্দি-ইংরেজি মুভি দেখে উঠে ফেসবুকে বসে অনেক মানুষ পোশাকের দৈর্ঘ্য প্রস্থ উচ্চতা আর রঙ নিয়ে কথা বলতেই পারে, আল্লাহই ভালো জানেন তাদের চোখ গায়ের মাহরাম নারীর দিকে আটকে থাকে... নাকি থাকে না। এই রামাদান মাসের বরকতময় সময়কে কাজে লাগিয়ে আল্লাহ আমাদের নিজেদের ব্যক্তিগত চরিত্রকে উন্নত করার তাওফিক দান করুন।

১৬ জুল, ২০১৩

আগামীর ভ্রমণ পরিকল্পনা, প্রস্তুতি ও ঘরবাড়িরগুলোর আলাপ

মাঝে মাঝে কিছু মানুষের মৃত্যুর সংবাদ পাই। অনেক অনাড়ম্বর। খুব কাছের মানুষগুলো তাদের ব্যাপারে যে সাক্ষ্য দেয় তা হৃদয়স্পর্শী। শুনে মনে হয়, আল্লাহ বোধকরি তাকে জান্নাতবাসী করবেন। আবার, পরম আড়ম্বরে দেখি অনেকের মৃত্যু হয়। পত্রিকা, টেলিভিশন, টক-শো, ফিচার, স্মরণসভায় বক্তাদের মিলনায়তন কাঁপানো আলাপ। ব্যক্তিজীবনে তারা চরিত্রহীন এবং সাধারণ মানুষকে যথেষ্টই যন্ত্রণা দিয়েই দীর্ঘজীবন ধরে সবাইকে যন্ত্রণা দিয়ে তাদের বিদায় হয়েছে। তখনই অনুভব করি, আসলে আমাদের পরিচিতি, সম্পর্ক, খ্যাতি, আরাম-আয়েশ, বন্ধন, জাঁকজমক বিষয়গুলো খুবই ঠুনকো। এই পৃথিবীর কোন কিছু পাওয়ার আশা করে নিজেকে বিলিয়ে দেয়াটাই বোকামি, মূর্খতা। যাবার বেলায় সবাই শূণ্যহাতে বিদায় নেয় -- এই উপলব্ধিটা এই আঙ্গিকে হলে বেশ খা খা করে বুকটা।

আমি তো দেখেছি প্রতিটি মানুষই একেকজন যোদ্ধা

আমি তো দেখেছি আল্লাহর সৃষ্ট প্রতিটি মানুষই একেকজন যোদ্ধা। তাদের জীবনযুদ্ধগুলো একদম অন্যরকম। প্রত্যেকেরই পেয়েছি অনেক দীর্ঘসময় নিয়ে করার মতন গল্প। কারো সাথে কারো তেমন মিল পাইনা, প্রত্যেকের প্রেক্ষাপট, দৃষ্টিভঙ্গি, অনুভূতি আর জীবনদর্শনগুলো ছিলো স্বতন্ত্র। যাদের পেয়েছি আল্লাহর বান্দা হয়ে জীবন ধারণ করতে চাওয়া মানুষ, তাদের জীবনের পরীক্ষাগুলো যেন আরো বেড়ে যেতে দেখেছি! এসব বুঝেই কখনো কাউকে উপহাস করতে পারিনা, সাহস হয়না সমালোচনার ঝড় বইয়ে দিতে। জানি, এক আল্লাহই মানুষের জীবন সহজ করে দেন। যারা দু'আ করে, যারা আল্লাহর উপরে বিশ্বাস রাখে যে তিনিই সমস্ত ক্ষমতার মালিক, তিনিই সমস্যা দেন, আবার তিনিই তা সমাধান করে দেন -- তাদের দেখেছি জীবন নিয়ে দুঃশ্চিন্তা কম, তাদের দেখেছি সমস্ত ভার আল্লাহর উপরে ছেড়ে দিয়ে পরম শান্তিতে শুকরিয়া জ্ঞাপন করতে।

স্রেব্রেনিকা হত্যাকান্ড এবং একটি ১১ জুলাই

কিছু কথা কখনই খুব কাছের কাউকে ছাড়া আমি সচরাচর বলিনা। বলতে গেলে অনুভূতির অতিশায়ন হয়ে বদলে যায় কিনা এমন একটা চিন্তাও থাকে। যেমন, আজ যখন ইফতারের ঠিক আগে প্লেটটা ছোট ছোট কিছু সাদামাটা আইটেম দিয়ে পূরণ হয়ে গেলো, হঠাৎ মনে হলো আমারই এক ভাই কায়রোর পথে বসে ইফতার করছে কী দিয়ে?

মূহুর্তেই আরব সাগর পেরিয়ে আমার এই দু'চোখ যেন চলে যায় সিরিয়া, ফিলিস্তিন, আলজেরিয়া, মিশরের পথে প্রান্তরে। ওদিকে সোমালিয়ায়, কাছেই রোহিঙ্গা ভাই-বোনেরা কতই না যন্ত্রণা সহ্য করে চলেছেন জীবন ধরে -- কেবল মুসলিম বলেই। আমার আফগানী, ইরাকী ভাই-বোনেরা আমার মতই রোজাদার, তাদের কি এত আয়োজন করে খাওয়া দাওয়া হচ্ছে? কত মা সন্তানহারা হয়ে খেতে বসে আকুল হয়ে কাঁদছেন হয়ত সন্তানটির জন্য, দু'আ করছেন তাদের জন্য প্রাণভরে... রেখেছি কারো খবর? এমনকি আমি ত অফিস শেষে আজকে বাসায় ফেরার সময়ও কারো খবর নিয়েই ফিরিনি!

৩০ জুন, ২০১৩

মৃত্যুর চাইতে বড় দুঃসংবাদ পাপীদের জীবনে কি হতে পারে?

মনে কি পড়ে এই তো কিছুদিন আগেই কত মানুষ আমাদের ছেড়ে চলে গেলেন। আমাদের অন্তরে কি দাগ কাটেনি একটুও? স্মরণ হয়নি আমাদের একদিন আমরাও তাদের মতন চলে যাবো? অথচ আমরা তাদের ভুলে গিয়ে আবার আগের মতন খিস্তি খেউড় আর হতাশার আলাপে ডুবে গেছি, আমাদের পাওয়া না পাওয়ার দিব্যি আলাপে আনন্দ খুঁজে নিয়েছি। যতক্ষণ বেঁচে আছি ততক্ষণই ভালো আছি, এখনো সম্ভাবনা আছে সুন্দর কিছুর, অনন্তকালে মুক্তি পাওয়ার। মৃত্যুর চাইতে বড় কোন দুঃসংবাদ পাপীদের জীবনে কি আর হতে পারে? মৃত্যু ত মুমিনদের সুসংবাদ -- এই দুনিয়ার পরীক্ষা পেরিয়ে অনন্তকালের শান্তির...

 ৩০/০৬/২০১৩

আমাদের জীবনটা একটা পথচলা

আমাদের জীবনটা একটা পথ চলার মতন, এই পথে আমরা মুসাফির। আল্লাহ পৃথিবীতে আমাদের পাঠিয়েছেন, তারই কাছে ফিরে যাবো। যাওয়া সুনিশ্চিত, যেমনটাই হোক এই পথচলার দৈর্ঘ্য। খুব অদ্ভুত বিষয় হলো, মুসাফির যেমন ট্রেনে চড়ে যাবার সময় তার গন্তব্যে যেই ট্রেন যাবে সেটা ছাড়া অন্যগুলোতে চড়ে বসার কথা নয়, আমাদেরও তেমনি উচিত নয় গন্তব্যে নিয়ে যাবে যেই কাজ তা ছাড়া অন্য কাজে নিজেদের ব্যস্ত রাখা। জান্নাত ছিলো আমাদের আদি নিবাস, আদম আলাইহিস সালাম সেখান থেকেই এই পৃথিবীতে পা রেখেছিলেন। আমাদের ফিরে যাওয়া তখনই সার্থক হবে যেদিন জান্নাতে পা দিতে পারবো। এই কথাটা মনে রেখেই পথ চলা দরকার। যে কাজের, চিন্তার, কথার কোন সংশ্লিষ্টতা নেই আমাকে জান্নাতের পথে এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার, তাতে লেগে থাকা বোকামিই... ভুল করলে, যাচ্ছেতাই আচরণ করলে সেগুলো আমাদের ভুল পথে নিয়ে যাবে, গন্তব্যও হবে ভুল -- আমরা জাহান্নামে নিপতিত হবো। আল্লাহ আমাদেরকে জান্নাতি হিসেবে কবুল করে নিন।

একদিন ইমাম আহমাদকে তার ছেলে প্রশ্ন করলেন, “বাবা, আমরা কবে শান্তি পাবো?”
 তিনি (রাহিমাহুল্লাহ) উত্তর দিলেন, “জান্নাতে আমাদের প্রথম পদচিহ্নটি রাখার মূহুর্তটি থেকেই।”

“তুমি আখিরাতের সন্তান হও, দুনিয়ার জীবনের সন্তান হয়ো না, নিশ্চয়ই সন্তান তার মা-কে অনুসরণ করে।” — ইমাম ইবনুল কায়্যিম“

আমি এমন মানুষদের (সাহাবা) সান্নিধ্য অর্জন করেছিলাম যারা তাদের কোন সৎকাজকে ছেড়ে দেয়া যতটা ভয় করতেন তা তোমরা তোমাদের পাপকাজের পরিণামকে যতটুকু ভয় কর তার চাইতেও বেশি।”— আল-হাসান আল-বাসরী (রাহিমাহুল্লাহ)

২৮ জুন, ২০১৩

ফেসবুক যখন ইগো প্রকাশের নিপুণ মাধ্যম

ফেসবুক একসময় এমন ছিলো না, জ্ঞানের প্রতিযোগিতা, সৌন্দর্যের প্রতিযোগিতা, দাম্পত্য জীবনের সুখ প্রদর্শনের প্রতিযোগিতা, ক্ষমতার দাপট দেখানোর প্রতিযোগিতা, নিজের ব্যক্তিগত-পারিবারিক-রাজনৈতিক-সামাজিক সবকিছুই ফিল্টারবিহীনভাবে প্রকাশ করা এবং যাবতীয় ইগো প্রকাশের উন্নত এবং ঝামেলাহীন ড্রেইনেজ সিস্টেম এই ফেসবুক। ইগোকে প্রশ্রয় দান করলে তা সেই ব্যক্তিকেই খুবলে খুবলে খায়, সে আরো বন্দী হয়ে যায় নিজের নফসের কাছে। বাস্তব জগতের কারাগারে বন্দী থাকলে সেই শিক দেখা যায়, কিন্তু নিজের নফসের কাছে, হিংসা-পরশ্রীকাতরতা-ক্রোধ-অহংকার-দম্ভ আমাদেরকে যেই শিকের আড়ালে বন্দী করে রাখে তা চোখে দেখা যায় না, তা অদৃশ্যমান। কিন্তু সেগুলো বড়ই ভয়ঙ্কর। ফেসবুকের উসিলায় আমাদের এই ভয়াবহ কারাগারে বন্দী হওয়াটা সহজ থেকে সহজতর হয়ে গেছে।

আসলে নিজেকে মুক্ত করার এই প্রক্রিয়া নিজেদের ভিতর থেকেই আসে, নিজেকে খেয়াল করতে হয় গভীর করে, আগ্রহভরে। আল্লাহর কাছে সাহায্য চাইতে হয়, আল্লাহ ছাড়া কেউ সাহায্য করার নেই, তিনি যাকে ইচ্ছা তাকেই দান করেন। আল্লাহ আমাদের জন্য কঠিন জিনিসও সহজ করে দিতে পারেন, সহজ জিনিসও কঠিন করে দিতে পারেন। আল্লাহ আমাদের জন্য কোন কিছু সহজ করে না দিলে তা কখনো সহজ হয় না। বান্দা চাইলে আল্লাহ তাকে অবশ্যই দান করেন, এই চাওয়া আমাদের ভিতর থেকে আর্তি হয়ে আসা প্রয়োজন। আল্লাহ আমাদের মুসলিম ভাই ও বোনদেরকে ক্ষমা করুন, পরিচালিত সরল ও সঠিক পথে।

প্রখ্যাত তাবিঈ ইমাম আল-হাসান আল-বাসরি (রাহিমাহুল্লাহ) খুব সুন্দর একটা কথা বলেছিলেনঃ

"বুদ্ধিমান ব্যক্তির জিহবা তার হৃদয়ের পেছনে থাকেঃ সে যখন কথা বলতে চায়, প্রথমে সে চিন্তা করে। যদি শব্দগুলো তার জন্য কল্যাণকর হয় তাহলে সে তা বলে। আর যদি কথাগুলো তার জন্য অকল্যাণকর হয় তাহলে সে চুপ থাকে।

একজন মূর্খ ব্যক্তির জিহবা তার হৃদয়ের সামনে থাকেঃ সে কথা বলার সময় খুব কমই চিন্তা করে এবং তার জন্য কল্যাণকর বা অকল্যাণকর যা-ই হোক সে বলে ফেলে।"


আমাদের প্রকৃত কল্যাণ ও অকল্যাণ নিয়ে হিসেব করা উচিত আখিরাতের কথা চিন্তা করে। এটা নিশ্চিত, বিষয়টা সহজ না এবং আমাদের জন্য চিন্তা করা ও কাজ করা সচরাচর বেশ কঠিন হয়ে যায়। কিন্তু যেই আখিরাত সত্য এবং সেখানকার কল্যাণ ও অকল্যাণও সত্য -- তার জন্য একটুখানি প্রচেষ্টা যদি করি আজকে, আল্লাহ আমাদের রাহমাত দান করবেন এবং আমরা ধীরে ধীরে নিজেদের উন্নত করতে পারব। কোন দীর্ঘযাত্রার প্রথম পদক্ষেপটাই না নিলে কেউ কখনোই কোথাও পোঁছাতে পারতাম না। এই শুরু করাটাই আসল, 'বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম' বলে আমাদের এই যাত্রাটি শুরু হয়ে যাক আজই, এক্ষুনি! ইনশা আল্লাহ...

* quote collected from the page of Imam Omar Suleiman

[২৮ জুন, ২০১৩]

আন্তরিক কাজকেই আমরা পছন্দ করি মুখভরা বুলি নয়

মানুষের মুখভরা প্রচুর বুলি, প্রচুর জ্ঞানগর্ভ কথার অলংকার, প্রচুর উপদেশবাণী মনে হয় খুব কমই আমরা গ্রহণ করি। আমরা সম্ভবত অনেক বেশি শিক্ষা গ্রহণ করি অন্যদের আন্তরিক কাজগুলো থেকে, তাদের জীবন দিয়ে করা বিভিন্ন আচরণ ও কাজ থেকে। জীবন তিন দশকের শেষভাগে এসেও আমি দেখলাম আজকে যখন একজন অবসরপ্রাপ্ত সিনিয়র অফিসার অফিসে ঘুরতে এলেন, তখন আমি কীভাবে তাকে অভ্যর্থনা দিবো, কীভাবে কথা বলবো এটার একটা ধারণা পেতে আমি শেখার জন্য তাকাচ্ছিলাম একজন সিনিয়র কলিগের দিকে, যার অন্য অনেক আচরণের বেশ কিছু আমার পছন্দ ছিলো। অথচ উনি আমাকে কখনো উপদেশ দিতে আসেননি, শেখাতে আসেননি।আমি দেড় বছর ধরে তাকে দেখে নিজে থেকেই এই আস্থাটি রেখেছি তার উপরে।

একটু বেখেয়াল হলেই চেপে ধরে যেই ভুল

একটা ভুল আমার জীবনে একটু বেখেয়াল হলেই চেপে ধরে ঘায়েল করে ফেলে আমাকে,আমি বারবার পথচ্যুত হই। ব্যাপারটা হলো, জীবনের মূল উদ্দেশ্য কখনই পার্থিব কিছু অর্জন করা  নয়। কখনো পৃথিবীর সমস্ত সুখ এক করে পেলেও তা আমার চিরস্থায়ী হবে না, কখনও প্রাপ্তিগুলো আমাদের পরিপূর্ণ শান্তি দিবে না। এই অন্তর পৃথিবীতে কখনই পূর্ণ হবার নয়, এই পৃথিবীর মতই আমাদের সুখগুলোও ক্ষণস্থায়ী। পৃথিবীর মাটিতে যেকোন রকমের প্রাপ্তিতে ভরপুর থাকা ঝকঝকে চকচকে মানুষগুলো কখনই আমাদের আলোচ্য বিষয় না। এই জীবনে আমাদের আসলে হারানোর কিছু নাই।

যে ছেলেটা মুসলিম হিসেবে বাঁচতে চায় তার জীবনটাই ভয়াবহ

যে ছেলেটা মুসলিম হিসেবে বাঁচতে চায় তার জীবনটাই ভয়াবহ। বন্ধুদের আড্ডায় কানকে সংযত রাখতে হয়, মুখে রাগ নিয়ে কথা বলা যায় না, বান্ধবীদের সাথে সবাই চিকেন খেতে গেলে সেখান থেকে কৌশলে সরে আসতে হয়, যত্রতত্র চকচকে বিলবোর্ড দেখে চোখ নামাতে হয়, বাসে-ট্রেনে চলতে গেলেও চোখ নামিয়ে সংযম করতে হয়। চারিদিকে ছাগু বলার লোকের অভাব নেই অবয়ব দেখে, শত্রুতা তো আছেই সবার। সবশেষে ঘরে ফিরতে হয়। প্রতিদিন-প্রতিমূহুর্তের এমন যুদ্ধযাত্রাগুলো সামলেই পড়াশোনা, চাকরি-বাকরি করা। একসময় এই যুদ্ধেও তার ক্লান্ত লাগতে থাকে। ছাত্রজীবন পেরিয়ে বছরের পর বছর চাকুরি করে বেতনের স্বর্বস্ব দিয়ে বাবা-মায়ের সংসারে দিলেও এমন সন্তানরা তখনো 'কমবয়েসি' থাকে। এমন সন্তানরা যখন বিয়ে করতে যায় তখন প্র্যাক্টিসিং মুসলিম পরিবারের লোকেরা অনেক অনেক টাকা খোঁজে, বাড়িঘর খোঁজে ঢাকা শহরে, শক্তপোক্ত আত্মীয় খোঁজে, তাদের মুখনিঃসৃত শব্দগুলো থাকে প্রখর, তীব্র ধারালো, নোংরা...

ফেসবুকে কল্যাণকর কথাতেও ডিসেনসিটাইজড হওয়া

আমার প্রথম ফেসবুক একাউন্ট যদি হিসেব করি, আমি তখন থেকে প্রায় সাড়ে পাঁচ বছর ধরে একটানা ফেসবুকে ছিলাম/আছি। জীবনের কেন্দ্রে যেদিন থেকে সজ্ঞানে আল্লাহকে আনতে চেয়েছি, তখন থেকে ফেসবুকিং জিনিসটাতেও ভিন্নতা এসেছিলো, আসাই স্বাভাবিক। আমি শতাধিক মানুষকে চিনি যারা এমন করেই বদলেছেন।

ইদানিং আমার মনে হয় আমি সবচাইতে বেশি যে বিষয়টাতে ক্ষতিগ্রস্ত তা হলো -- 'ডিসেনসিটাইজেশন'... নাহ, আমি কোন নেগেটিভ বিষয়ে অনুভূতিহীন হয়ে যাবার কথা বলছি না। বলছি ভালো কথাতেই অবশ হয়ে যাওয়া।

৯ জুন, ২০১৩

ইউ টার্ন

আমি অসহায় এক বালক ছিলাম, কিশোর ছিলাম, তরুণ ছিলাম। শত-শত হাজার-হাজার বিষয় জানতে-শুনতে হয়েছে যা আমি চাইনি, জেনে-মনে রেখেও কখনো আনন্দবোধ করিনি তেমন। ভার্সিটির হলে থেকে বলিউড আর হলিউডের সর্বস্ব জানা হয়েছিলো চারদিকে শুনেই। শখ করে দশটা হিন্দি মুভিও দেখিনি জীবনে, আমি তবুও ওদের অনেক নায়ক-নায়িকার কার সাথে কার সম্পর্ক-বিয়ে তা ঠিকই জেনেছি। হয়ত কানে শুনে এখন পত্রিকায় পড়লে চোখে পড়ে। কোনদিন কোন গেমস খেলতে না বসলেও কয়টা বস পার হয়ে কম্পানি অফ হিরোস, কল অফ ডিউটি, কাউন্টার স্ট্রাইক, ফিফাতে কী কী ফিচার এসেছে তা আমি ঠিকই জেনেছিলাম। ক্লাসমেট-জুনিয়রদের বদৌলতে দেশের কোন ভার্সিটিতে মেয়ের সংখ্যা কেমন আনুপাতিক, তাদের কারা কেমন, কোন নায়িকার কয়টা বিয়ে, কার গার্লফ্রেন্ড কে, কে কার এক্স-গার্লফ্রেন্ড, কোথায় কবে কাকে কার সাথে দেখা গেছে... এরকম অপ্রয়োজনীয় তথ্যভান্ডারের মাঝে ডুবে থাকতাম।

৫ জুন, ২০১৩

শুধু তোমার কাছেই এই চাওয়া

হে আল্লাহ! আমি জানি আপনি আমাকে যতটা সুন্দর করে সৃষ্টি করেছিলেন, যতটা যত্ন ও ভালোবাসায় আমাকে অজস্র রাহমাতে পরিপূর্ণ করেছিলেন আমি ততই সবকিছুকে পায়ে ঠেলে নাফরমানিতে আর ভুলে ডুবে ছিলাম। নিজের অবস্থান নিজেই নিচ থেকে নিচে নামিয়েছি, অমর্যাদা করেছি নিজের, যুলুম করেছি নিজের উপরে। হে আল্লাহ, নিজের ভুলেই আপনার কাছ থেকে সরে গেছি দূর থেকে দূরে। হে আল্লাহ, যখন এই পৃথিবীর সব মানুষ আমার উপরে হতাশ হয়, ক্ষুব্ধ হয়, তখনো ঠিক ঐ মূহুর্তেই আমার তাওবা কবুল করে আমাকে ভালোবাসায় জড়িয়ে দিতে কেবল আপনিই থাকেন। কষ্টের সেই কঠিন সময়টাতে খুব ভালো করে বুঝি আপনি গাফুরুল ওয়াদুদ-- আপনি প্রেমময় ও ক্ষমাশীল। 

হে আল্লাহ! জীবনের ভুলগুলোর দিকে তাকিয়ে শত-শতবার উপলব্ধি করেছি আমি কতটা বোকা, অলস, একগুঁয়ে, দুর্বল চিত্তের, দুর্বল ঈমানের পাপী বান্দা। এই আত্মখেদ জেগে ওঠার সময় শয়তান আমাকে আরো দূরে ঠেলে দিতে চায় আপনার পথ থেকে। হে আল্লাহ, নিশ্চয়ই আপনি তাওবা কবুল করেন। আপনি আমাকে ক্ষমা করুন। জীবনের ভুলগুলো থেকে শিক্ষা নিয়ে আগামীর জীবনকে আপনার সন্তুষ্টির জন্যই তৈরি করার জন্য তাওফিক দিন। 

হে আল্লাহ, আপনিই তো একমাত্র দাতা। আপনি ছাড়া আমাদের আর কেউ নেই। আমরা দুর্বল, আমরা শুধু আপনার কাছেই হাত পেতে ভিক্ষা চাইছি। যেসব গুণাবলী অর্জন করলে আপনার আরো কাছে যেতে পাবো, আপনার ভালোবাসা পেতে পারব, সেগুলো অর্জন করার তাওফিক দিয়ে দিন। আপনার প্রিয় কাজগুলোকে ভালোবাসার তাওফিক দিয়ে দিন।হে রব্বুল আলামীন, অপর মুসলিম ভাইদের প্রতি ভালোবাসা আমাদের মাঝে তৈরি করে দিন, তাদের প্রতি খারাপ ধারণা পোষণ করা থেকে আমাদের অন্তরকে রক্ষা করার এবং অন্তরকে পরিশুদ্ধ করার তাওফিক দান করুন। 

হে আল্লাহ, সৎপথের সন্ধান পাওয়ার পর গোমরাহীর পথে আর যেন কখনো ফিরে না যাই। হে আল-মুজিব, আমাদেরকে আপনার পথের উপরে দৃঢ় ও অবিচল থাকার তাওফিক দিন। হে গাফুরুর রাহীম, হে আর-রাযযাক, আমাদের সকল অভাব ও অসহায়ত্ব থেকে কেবলমাত্র আপনার কাছেই আশ্রয় চাইছি। হে আল জাব্বার, আল-মুতাকাব্বির, আল-কারীম, আমাদেরকে দয়া করুন। জান্নাতী হবার জন্য যেসব গুণাবলী প্রয়োজন আপনি আমাদেরকে দান করুন। হে আল-কারিম, আল-মান্নান, আপনি ছাড়া আমাদের আর কেউ নেই যে কিছু দিবে, আমরা শুধু আপনার কাছেই ভিক্ষা চাই। হে গাফুরুর রাহীম, আমাদেরকে ক্ষমা করুন, আমাদেরকে জীবনকে কবুল করুন, আমাদের তাওবা কবুল করুন, আমাদের দু'আ কবুল করুন। হে আল্লাহ! এই জমীনের বুকে এই উম্মাহকে আপনি বিজয় দান করুন।

৩১ মে, ২০১৩

কেউ পারবে না আমার পাশে দাঁড়াতে

যখন জানি পৃথিবীর কেউ পারবে না এইসব সময়ে আমার পাশে দাঁড়াতে, আমাকে সাহায্য করতে, আমার কষ্টগুলোর ভাগ নিয়ে আমাকে পথ দেখাতে, তখন সেই মহিমান্বিত গ্রন্থখানি হাতে নিয়ে পাতা ওল্টাই অসহায়ের মতন, পিপাসার্ত আর ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে -- সেই 'নূর' কুরআন যে এভাবে কথা বলে তা একদমই নতুন করেই উপলব্ধি করছি যেন! 'আল ফুরকান' -- সত্য মিথ্যার প্রভেদকারী, জীবনের প্রতিটি কঠিনতম ধাপে তা নতুন করে শেখাচ্ছে আমাকে। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা জগতে যা হয়, যা হবে, যা হবে -- এই সব বিষয়ই জানিয়ে রেখেছেন, কী করতে হবে তাও বলে দিয়েছেন। খুঁজে নিতে হবে সেখান থেকেই... আমাদের মহাপবিত্র রাহমানকে ছাড়া আর কাকে ভালোবাসব? আর কে আমাকে পথ দেখাতে পারবে? আর কে আমার অশান্ত হৃদয়কে শান্ত করবে, আমার করণীয় বলে দিবে? কেউ না... সমস্ত ক্ষমতা কেবল তারই, আর কারো কোন ক্ষমতা নেই...

সেদিন পড়ছিলাম এইরকম কিছু কথা। হৃদয়কে শীতল করে দেয়... 

 
"যা কিছু আকাশসমূহে রয়েছে এবং যা কিছু যমীনে আছে, সব আল্লাহরই। যদি তোমরা মনের কথা প্রকাশ কর কিংবা গোপন কর, আল্লাহ তোমাদের কাছ থেকে তার হিসাব নেবেন। অতঃপর যাকে ইচ্ছা তিনি ক্ষমা করবেন এবং যাকে ইচ্ছা তিনি শাস্তি দেবেন। আল্লাহ সর্ববিষয়ে শক্তিমান। রসূল বিশ্বাস রাখেন ঐ সমস্ত বিষয় সম্পর্কে যা তাঁর পালনকর্তার পক্ষ থেকে তাঁর কাছে অবতীর্ণ হয়েছে এবং মুসলমানরাও সবাই বিশ্বাস রাখে আল্লাহর প্রতি, তাঁর ফেরেশতাদের প্রতি, তাঁর গ্রন্থসমুহের প্রতি এবং তাঁর পয়গম্বরগণের প্রতি। তারা বলে আমরা তাঁর পয়গম্বরদের মধ্যে কোন তারতম্য করিনা। তারা বলে, আমরা শুনেছি এবং কবুল করেছি। আমরা তোমার ক্ষমা চাই, হে আমাদের পালনকর্তা। তোমারই দিকে প্রত্যাবর্তন করতে হবে। আল্লাহ কাউকে তার সাধ্যাতীত কোন কাজের ভার দেন না, সে তাই পায় যা সে উপার্জন করে এবং তাই তার উপর বর্তায় যা সে করে। 

হে আমাদের পালনকর্তা, যদি আমরা ভুলে যাই কিংবা ভুল করি, তবে আমাদেরকে অপরাধী করো না। হে আমাদের পালনকর্তা! এবং আমাদের উপর এমন দায়িত্ব অর্পণ করো না, যেমন আমাদের পূর্ববর্তীদের উপর অর্পণ করেছ, হে আমাদের প্রভূ! এবং আমাদের দ্বারা ঐ বোঝা বহন করিও না, যা বহন করার শক্তি আমাদের নাই। আমাদের পাপ মোচন কর। আমাদেরকে ক্ষমা কর এবং আমাদের প্রতি দয়া কর। তুমিই আমাদের প্রভু। সুতরাং কাফের সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে আমাদের কে সাহায্যে কর।"

---- [সূরা আল বাকারাহ, আয়াতঃ ২৮৪-২৮৫-২৮৬]

১১ মে, ২০১৩