১৬ জুল, ২০১৩

স্রেব্রেনিকা হত্যাকান্ড এবং একটি ১১ জুলাই

কিছু কথা কখনই খুব কাছের কাউকে ছাড়া আমি সচরাচর বলিনা। বলতে গেলে অনুভূতির অতিশায়ন হয়ে বদলে যায় কিনা এমন একটা চিন্তাও থাকে। যেমন, আজ যখন ইফতারের ঠিক আগে প্লেটটা ছোট ছোট কিছু সাদামাটা আইটেম দিয়ে পূরণ হয়ে গেলো, হঠাৎ মনে হলো আমারই এক ভাই কায়রোর পথে বসে ইফতার করছে কী দিয়ে?

মূহুর্তেই আরব সাগর পেরিয়ে আমার এই দু'চোখ যেন চলে যায় সিরিয়া, ফিলিস্তিন, আলজেরিয়া, মিশরের পথে প্রান্তরে। ওদিকে সোমালিয়ায়, কাছেই রোহিঙ্গা ভাই-বোনেরা কতই না যন্ত্রণা সহ্য করে চলেছেন জীবন ধরে -- কেবল মুসলিম বলেই। আমার আফগানী, ইরাকী ভাই-বোনেরা আমার মতই রোজাদার, তাদের কি এত আয়োজন করে খাওয়া দাওয়া হচ্ছে? কত মা সন্তানহারা হয়ে খেতে বসে আকুল হয়ে কাঁদছেন হয়ত সন্তানটির জন্য, দু'আ করছেন তাদের জন্য প্রাণভরে... রেখেছি কারো খবর? এমনকি আমি ত অফিস শেষে আজকে বাসায় ফেরার সময়ও কারো খবর নিয়েই ফিরিনি!

৩০ জুন, ২০১৩

মৃত্যুর চাইতে বড় দুঃসংবাদ পাপীদের জীবনে কি হতে পারে?

মনে কি পড়ে এই তো কিছুদিন আগেই কত মানুষ আমাদের ছেড়ে চলে গেলেন। আমাদের অন্তরে কি দাগ কাটেনি একটুও? স্মরণ হয়নি আমাদের একদিন আমরাও তাদের মতন চলে যাবো? অথচ আমরা তাদের ভুলে গিয়ে আবার আগের মতন খিস্তি খেউড় আর হতাশার আলাপে ডুবে গেছি, আমাদের পাওয়া না পাওয়ার দিব্যি আলাপে আনন্দ খুঁজে নিয়েছি। যতক্ষণ বেঁচে আছি ততক্ষণই ভালো আছি, এখনো সম্ভাবনা আছে সুন্দর কিছুর, অনন্তকালে মুক্তি পাওয়ার। মৃত্যুর চাইতে বড় কোন দুঃসংবাদ পাপীদের জীবনে কি আর হতে পারে? মৃত্যু ত মুমিনদের সুসংবাদ -- এই দুনিয়ার পরীক্ষা পেরিয়ে অনন্তকালের শান্তির...

 ৩০/০৬/২০১৩

আমাদের জীবনটা একটা পথচলা

আমাদের জীবনটা একটা পথ চলার মতন, এই পথে আমরা মুসাফির। আল্লাহ পৃথিবীতে আমাদের পাঠিয়েছেন, তারই কাছে ফিরে যাবো। যাওয়া সুনিশ্চিত, যেমনটাই হোক এই পথচলার দৈর্ঘ্য। খুব অদ্ভুত বিষয় হলো, মুসাফির যেমন ট্রেনে চড়ে যাবার সময় তার গন্তব্যে যেই ট্রেন যাবে সেটা ছাড়া অন্যগুলোতে চড়ে বসার কথা নয়, আমাদেরও তেমনি উচিত নয় গন্তব্যে নিয়ে যাবে যেই কাজ তা ছাড়া অন্য কাজে নিজেদের ব্যস্ত রাখা। জান্নাত ছিলো আমাদের আদি নিবাস, আদম আলাইহিস সালাম সেখান থেকেই এই পৃথিবীতে পা রেখেছিলেন। আমাদের ফিরে যাওয়া তখনই সার্থক হবে যেদিন জান্নাতে পা দিতে পারবো। এই কথাটা মনে রেখেই পথ চলা দরকার। যে কাজের, চিন্তার, কথার কোন সংশ্লিষ্টতা নেই আমাকে জান্নাতের পথে এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার, তাতে লেগে থাকা বোকামিই... ভুল করলে, যাচ্ছেতাই আচরণ করলে সেগুলো আমাদের ভুল পথে নিয়ে যাবে, গন্তব্যও হবে ভুল -- আমরা জাহান্নামে নিপতিত হবো। আল্লাহ আমাদেরকে জান্নাতি হিসেবে কবুল করে নিন।

একদিন ইমাম আহমাদকে তার ছেলে প্রশ্ন করলেন, “বাবা, আমরা কবে শান্তি পাবো?”
 তিনি (রাহিমাহুল্লাহ) উত্তর দিলেন, “জান্নাতে আমাদের প্রথম পদচিহ্নটি রাখার মূহুর্তটি থেকেই।”

“তুমি আখিরাতের সন্তান হও, দুনিয়ার জীবনের সন্তান হয়ো না, নিশ্চয়ই সন্তান তার মা-কে অনুসরণ করে।” — ইমাম ইবনুল কায়্যিম“

আমি এমন মানুষদের (সাহাবা) সান্নিধ্য অর্জন করেছিলাম যারা তাদের কোন সৎকাজকে ছেড়ে দেয়া যতটা ভয় করতেন তা তোমরা তোমাদের পাপকাজের পরিণামকে যতটুকু ভয় কর তার চাইতেও বেশি।”— আল-হাসান আল-বাসরী (রাহিমাহুল্লাহ)

২৮ জুন, ২০১৩

ফেসবুক যখন ইগো প্রকাশের নিপুণ মাধ্যম

ফেসবুক একসময় এমন ছিলো না, জ্ঞানের প্রতিযোগিতা, সৌন্দর্যের প্রতিযোগিতা, দাম্পত্য জীবনের সুখ প্রদর্শনের প্রতিযোগিতা, ক্ষমতার দাপট দেখানোর প্রতিযোগিতা, নিজের ব্যক্তিগত-পারিবারিক-রাজনৈতিক-সামাজিক সবকিছুই ফিল্টারবিহীনভাবে প্রকাশ করা এবং যাবতীয় ইগো প্রকাশের উন্নত এবং ঝামেলাহীন ড্রেইনেজ সিস্টেম এই ফেসবুক। ইগোকে প্রশ্রয় দান করলে তা সেই ব্যক্তিকেই খুবলে খুবলে খায়, সে আরো বন্দী হয়ে যায় নিজের নফসের কাছে। বাস্তব জগতের কারাগারে বন্দী থাকলে সেই শিক দেখা যায়, কিন্তু নিজের নফসের কাছে, হিংসা-পরশ্রীকাতরতা-ক্রোধ-অহংকার-দম্ভ আমাদেরকে যেই শিকের আড়ালে বন্দী করে রাখে তা চোখে দেখা যায় না, তা অদৃশ্যমান। কিন্তু সেগুলো বড়ই ভয়ঙ্কর। ফেসবুকের উসিলায় আমাদের এই ভয়াবহ কারাগারে বন্দী হওয়াটা সহজ থেকে সহজতর হয়ে গেছে।

আসলে নিজেকে মুক্ত করার এই প্রক্রিয়া নিজেদের ভিতর থেকেই আসে, নিজেকে খেয়াল করতে হয় গভীর করে, আগ্রহভরে। আল্লাহর কাছে সাহায্য চাইতে হয়, আল্লাহ ছাড়া কেউ সাহায্য করার নেই, তিনি যাকে ইচ্ছা তাকেই দান করেন। আল্লাহ আমাদের জন্য কঠিন জিনিসও সহজ করে দিতে পারেন, সহজ জিনিসও কঠিন করে দিতে পারেন। আল্লাহ আমাদের জন্য কোন কিছু সহজ করে না দিলে তা কখনো সহজ হয় না। বান্দা চাইলে আল্লাহ তাকে অবশ্যই দান করেন, এই চাওয়া আমাদের ভিতর থেকে আর্তি হয়ে আসা প্রয়োজন। আল্লাহ আমাদের মুসলিম ভাই ও বোনদেরকে ক্ষমা করুন, পরিচালিত সরল ও সঠিক পথে।

প্রখ্যাত তাবিঈ ইমাম আল-হাসান আল-বাসরি (রাহিমাহুল্লাহ) খুব সুন্দর একটা কথা বলেছিলেনঃ

"বুদ্ধিমান ব্যক্তির জিহবা তার হৃদয়ের পেছনে থাকেঃ সে যখন কথা বলতে চায়, প্রথমে সে চিন্তা করে। যদি শব্দগুলো তার জন্য কল্যাণকর হয় তাহলে সে তা বলে। আর যদি কথাগুলো তার জন্য অকল্যাণকর হয় তাহলে সে চুপ থাকে।

একজন মূর্খ ব্যক্তির জিহবা তার হৃদয়ের সামনে থাকেঃ সে কথা বলার সময় খুব কমই চিন্তা করে এবং তার জন্য কল্যাণকর বা অকল্যাণকর যা-ই হোক সে বলে ফেলে।"


আমাদের প্রকৃত কল্যাণ ও অকল্যাণ নিয়ে হিসেব করা উচিত আখিরাতের কথা চিন্তা করে। এটা নিশ্চিত, বিষয়টা সহজ না এবং আমাদের জন্য চিন্তা করা ও কাজ করা সচরাচর বেশ কঠিন হয়ে যায়। কিন্তু যেই আখিরাত সত্য এবং সেখানকার কল্যাণ ও অকল্যাণও সত্য -- তার জন্য একটুখানি প্রচেষ্টা যদি করি আজকে, আল্লাহ আমাদের রাহমাত দান করবেন এবং আমরা ধীরে ধীরে নিজেদের উন্নত করতে পারব। কোন দীর্ঘযাত্রার প্রথম পদক্ষেপটাই না নিলে কেউ কখনোই কোথাও পোঁছাতে পারতাম না। এই শুরু করাটাই আসল, 'বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম' বলে আমাদের এই যাত্রাটি শুরু হয়ে যাক আজই, এক্ষুনি! ইনশা আল্লাহ...

* quote collected from the page of Imam Omar Suleiman

[২৮ জুন, ২০১৩]

আন্তরিক কাজকেই আমরা পছন্দ করি মুখভরা বুলি নয়

মানুষের মুখভরা প্রচুর বুলি, প্রচুর জ্ঞানগর্ভ কথার অলংকার, প্রচুর উপদেশবাণী মনে হয় খুব কমই আমরা গ্রহণ করি। আমরা সম্ভবত অনেক বেশি শিক্ষা গ্রহণ করি অন্যদের আন্তরিক কাজগুলো থেকে, তাদের জীবন দিয়ে করা বিভিন্ন আচরণ ও কাজ থেকে। জীবন তিন দশকের শেষভাগে এসেও আমি দেখলাম আজকে যখন একজন অবসরপ্রাপ্ত সিনিয়র অফিসার অফিসে ঘুরতে এলেন, তখন আমি কীভাবে তাকে অভ্যর্থনা দিবো, কীভাবে কথা বলবো এটার একটা ধারণা পেতে আমি শেখার জন্য তাকাচ্ছিলাম একজন সিনিয়র কলিগের দিকে, যার অন্য অনেক আচরণের বেশ কিছু আমার পছন্দ ছিলো। অথচ উনি আমাকে কখনো উপদেশ দিতে আসেননি, শেখাতে আসেননি।আমি দেড় বছর ধরে তাকে দেখে নিজে থেকেই এই আস্থাটি রেখেছি তার উপরে।

একটু বেখেয়াল হলেই চেপে ধরে যেই ভুল

একটা ভুল আমার জীবনে একটু বেখেয়াল হলেই চেপে ধরে ঘায়েল করে ফেলে আমাকে,আমি বারবার পথচ্যুত হই। ব্যাপারটা হলো, জীবনের মূল উদ্দেশ্য কখনই পার্থিব কিছু অর্জন করা  নয়। কখনো পৃথিবীর সমস্ত সুখ এক করে পেলেও তা আমার চিরস্থায়ী হবে না, কখনও প্রাপ্তিগুলো আমাদের পরিপূর্ণ শান্তি দিবে না। এই অন্তর পৃথিবীতে কখনই পূর্ণ হবার নয়, এই পৃথিবীর মতই আমাদের সুখগুলোও ক্ষণস্থায়ী। পৃথিবীর মাটিতে যেকোন রকমের প্রাপ্তিতে ভরপুর থাকা ঝকঝকে চকচকে মানুষগুলো কখনই আমাদের আলোচ্য বিষয় না। এই জীবনে আমাদের আসলে হারানোর কিছু নাই।

যে ছেলেটা মুসলিম হিসেবে বাঁচতে চায় তার জীবনটাই ভয়াবহ

যে ছেলেটা মুসলিম হিসেবে বাঁচতে চায় তার জীবনটাই ভয়াবহ। বন্ধুদের আড্ডায় কানকে সংযত রাখতে হয়, মুখে রাগ নিয়ে কথা বলা যায় না, বান্ধবীদের সাথে সবাই চিকেন খেতে গেলে সেখান থেকে কৌশলে সরে আসতে হয়, যত্রতত্র চকচকে বিলবোর্ড দেখে চোখ নামাতে হয়, বাসে-ট্রেনে চলতে গেলেও চোখ নামিয়ে সংযম করতে হয়। চারিদিকে ছাগু বলার লোকের অভাব নেই অবয়ব দেখে, শত্রুতা তো আছেই সবার। সবশেষে ঘরে ফিরতে হয়। প্রতিদিন-প্রতিমূহুর্তের এমন যুদ্ধযাত্রাগুলো সামলেই পড়াশোনা, চাকরি-বাকরি করা। একসময় এই যুদ্ধেও তার ক্লান্ত লাগতে থাকে। ছাত্রজীবন পেরিয়ে বছরের পর বছর চাকুরি করে বেতনের স্বর্বস্ব দিয়ে বাবা-মায়ের সংসারে দিলেও এমন সন্তানরা তখনো 'কমবয়েসি' থাকে। এমন সন্তানরা যখন বিয়ে করতে যায় তখন প্র্যাক্টিসিং মুসলিম পরিবারের লোকেরা অনেক অনেক টাকা খোঁজে, বাড়িঘর খোঁজে ঢাকা শহরে, শক্তপোক্ত আত্মীয় খোঁজে, তাদের মুখনিঃসৃত শব্দগুলো থাকে প্রখর, তীব্র ধারালো, নোংরা...

ফেসবুকে কল্যাণকর কথাতেও ডিসেনসিটাইজড হওয়া

আমার প্রথম ফেসবুক একাউন্ট যদি হিসেব করি, আমি তখন থেকে প্রায় সাড়ে পাঁচ বছর ধরে একটানা ফেসবুকে ছিলাম/আছি। জীবনের কেন্দ্রে যেদিন থেকে সজ্ঞানে আল্লাহকে আনতে চেয়েছি, তখন থেকে ফেসবুকিং জিনিসটাতেও ভিন্নতা এসেছিলো, আসাই স্বাভাবিক। আমি শতাধিক মানুষকে চিনি যারা এমন করেই বদলেছেন।

ইদানিং আমার মনে হয় আমি সবচাইতে বেশি যে বিষয়টাতে ক্ষতিগ্রস্ত তা হলো -- 'ডিসেনসিটাইজেশন'... নাহ, আমি কোন নেগেটিভ বিষয়ে অনুভূতিহীন হয়ে যাবার কথা বলছি না। বলছি ভালো কথাতেই অবশ হয়ে যাওয়া।

৯ জুন, ২০১৩

ইউ টার্ন

আমি অসহায় এক বালক ছিলাম, কিশোর ছিলাম, তরুণ ছিলাম। শত-শত হাজার-হাজার বিষয় জানতে-শুনতে হয়েছে যা আমি চাইনি, জেনে-মনে রেখেও কখনো আনন্দবোধ করিনি তেমন। ভার্সিটির হলে থেকে বলিউড আর হলিউডের সর্বস্ব জানা হয়েছিলো চারদিকে শুনেই। শখ করে দশটা হিন্দি মুভিও দেখিনি জীবনে, আমি তবুও ওদের অনেক নায়ক-নায়িকার কার সাথে কার সম্পর্ক-বিয়ে তা ঠিকই জেনেছি। হয়ত কানে শুনে এখন পত্রিকায় পড়লে চোখে পড়ে। কোনদিন কোন গেমস খেলতে না বসলেও কয়টা বস পার হয়ে কম্পানি অফ হিরোস, কল অফ ডিউটি, কাউন্টার স্ট্রাইক, ফিফাতে কী কী ফিচার এসেছে তা আমি ঠিকই জেনেছিলাম। ক্লাসমেট-জুনিয়রদের বদৌলতে দেশের কোন ভার্সিটিতে মেয়ের সংখ্যা কেমন আনুপাতিক, তাদের কারা কেমন, কোন নায়িকার কয়টা বিয়ে, কার গার্লফ্রেন্ড কে, কে কার এক্স-গার্লফ্রেন্ড, কোথায় কবে কাকে কার সাথে দেখা গেছে... এরকম অপ্রয়োজনীয় তথ্যভান্ডারের মাঝে ডুবে থাকতাম।

৫ জুন, ২০১৩

শুধু তোমার কাছেই এই চাওয়া

হে আল্লাহ! আমি জানি আপনি আমাকে যতটা সুন্দর করে সৃষ্টি করেছিলেন, যতটা যত্ন ও ভালোবাসায় আমাকে অজস্র রাহমাতে পরিপূর্ণ করেছিলেন আমি ততই সবকিছুকে পায়ে ঠেলে নাফরমানিতে আর ভুলে ডুবে ছিলাম। নিজের অবস্থান নিজেই নিচ থেকে নিচে নামিয়েছি, অমর্যাদা করেছি নিজের, যুলুম করেছি নিজের উপরে। হে আল্লাহ, নিজের ভুলেই আপনার কাছ থেকে সরে গেছি দূর থেকে দূরে। হে আল্লাহ, যখন এই পৃথিবীর সব মানুষ আমার উপরে হতাশ হয়, ক্ষুব্ধ হয়, তখনো ঠিক ঐ মূহুর্তেই আমার তাওবা কবুল করে আমাকে ভালোবাসায় জড়িয়ে দিতে কেবল আপনিই থাকেন। কষ্টের সেই কঠিন সময়টাতে খুব ভালো করে বুঝি আপনি গাফুরুল ওয়াদুদ-- আপনি প্রেমময় ও ক্ষমাশীল। 

হে আল্লাহ! জীবনের ভুলগুলোর দিকে তাকিয়ে শত-শতবার উপলব্ধি করেছি আমি কতটা বোকা, অলস, একগুঁয়ে, দুর্বল চিত্তের, দুর্বল ঈমানের পাপী বান্দা। এই আত্মখেদ জেগে ওঠার সময় শয়তান আমাকে আরো দূরে ঠেলে দিতে চায় আপনার পথ থেকে। হে আল্লাহ, নিশ্চয়ই আপনি তাওবা কবুল করেন। আপনি আমাকে ক্ষমা করুন। জীবনের ভুলগুলো থেকে শিক্ষা নিয়ে আগামীর জীবনকে আপনার সন্তুষ্টির জন্যই তৈরি করার জন্য তাওফিক দিন। 

হে আল্লাহ, আপনিই তো একমাত্র দাতা। আপনি ছাড়া আমাদের আর কেউ নেই। আমরা দুর্বল, আমরা শুধু আপনার কাছেই হাত পেতে ভিক্ষা চাইছি। যেসব গুণাবলী অর্জন করলে আপনার আরো কাছে যেতে পাবো, আপনার ভালোবাসা পেতে পারব, সেগুলো অর্জন করার তাওফিক দিয়ে দিন। আপনার প্রিয় কাজগুলোকে ভালোবাসার তাওফিক দিয়ে দিন।হে রব্বুল আলামীন, অপর মুসলিম ভাইদের প্রতি ভালোবাসা আমাদের মাঝে তৈরি করে দিন, তাদের প্রতি খারাপ ধারণা পোষণ করা থেকে আমাদের অন্তরকে রক্ষা করার এবং অন্তরকে পরিশুদ্ধ করার তাওফিক দান করুন। 

হে আল্লাহ, সৎপথের সন্ধান পাওয়ার পর গোমরাহীর পথে আর যেন কখনো ফিরে না যাই। হে আল-মুজিব, আমাদেরকে আপনার পথের উপরে দৃঢ় ও অবিচল থাকার তাওফিক দিন। হে গাফুরুর রাহীম, হে আর-রাযযাক, আমাদের সকল অভাব ও অসহায়ত্ব থেকে কেবলমাত্র আপনার কাছেই আশ্রয় চাইছি। হে আল জাব্বার, আল-মুতাকাব্বির, আল-কারীম, আমাদেরকে দয়া করুন। জান্নাতী হবার জন্য যেসব গুণাবলী প্রয়োজন আপনি আমাদেরকে দান করুন। হে আল-কারিম, আল-মান্নান, আপনি ছাড়া আমাদের আর কেউ নেই যে কিছু দিবে, আমরা শুধু আপনার কাছেই ভিক্ষা চাই। হে গাফুরুর রাহীম, আমাদেরকে ক্ষমা করুন, আমাদেরকে জীবনকে কবুল করুন, আমাদের তাওবা কবুল করুন, আমাদের দু'আ কবুল করুন। হে আল্লাহ! এই জমীনের বুকে এই উম্মাহকে আপনি বিজয় দান করুন।

৩১ মে, ২০১৩

কেউ পারবে না আমার পাশে দাঁড়াতে

যখন জানি পৃথিবীর কেউ পারবে না এইসব সময়ে আমার পাশে দাঁড়াতে, আমাকে সাহায্য করতে, আমার কষ্টগুলোর ভাগ নিয়ে আমাকে পথ দেখাতে, তখন সেই মহিমান্বিত গ্রন্থখানি হাতে নিয়ে পাতা ওল্টাই অসহায়ের মতন, পিপাসার্ত আর ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে -- সেই 'নূর' কুরআন যে এভাবে কথা বলে তা একদমই নতুন করেই উপলব্ধি করছি যেন! 'আল ফুরকান' -- সত্য মিথ্যার প্রভেদকারী, জীবনের প্রতিটি কঠিনতম ধাপে তা নতুন করে শেখাচ্ছে আমাকে। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা জগতে যা হয়, যা হবে, যা হবে -- এই সব বিষয়ই জানিয়ে রেখেছেন, কী করতে হবে তাও বলে দিয়েছেন। খুঁজে নিতে হবে সেখান থেকেই... আমাদের মহাপবিত্র রাহমানকে ছাড়া আর কাকে ভালোবাসব? আর কে আমাকে পথ দেখাতে পারবে? আর কে আমার অশান্ত হৃদয়কে শান্ত করবে, আমার করণীয় বলে দিবে? কেউ না... সমস্ত ক্ষমতা কেবল তারই, আর কারো কোন ক্ষমতা নেই...

সেদিন পড়ছিলাম এইরকম কিছু কথা। হৃদয়কে শীতল করে দেয়... 

 
"যা কিছু আকাশসমূহে রয়েছে এবং যা কিছু যমীনে আছে, সব আল্লাহরই। যদি তোমরা মনের কথা প্রকাশ কর কিংবা গোপন কর, আল্লাহ তোমাদের কাছ থেকে তার হিসাব নেবেন। অতঃপর যাকে ইচ্ছা তিনি ক্ষমা করবেন এবং যাকে ইচ্ছা তিনি শাস্তি দেবেন। আল্লাহ সর্ববিষয়ে শক্তিমান। রসূল বিশ্বাস রাখেন ঐ সমস্ত বিষয় সম্পর্কে যা তাঁর পালনকর্তার পক্ষ থেকে তাঁর কাছে অবতীর্ণ হয়েছে এবং মুসলমানরাও সবাই বিশ্বাস রাখে আল্লাহর প্রতি, তাঁর ফেরেশতাদের প্রতি, তাঁর গ্রন্থসমুহের প্রতি এবং তাঁর পয়গম্বরগণের প্রতি। তারা বলে আমরা তাঁর পয়গম্বরদের মধ্যে কোন তারতম্য করিনা। তারা বলে, আমরা শুনেছি এবং কবুল করেছি। আমরা তোমার ক্ষমা চাই, হে আমাদের পালনকর্তা। তোমারই দিকে প্রত্যাবর্তন করতে হবে। আল্লাহ কাউকে তার সাধ্যাতীত কোন কাজের ভার দেন না, সে তাই পায় যা সে উপার্জন করে এবং তাই তার উপর বর্তায় যা সে করে। 

হে আমাদের পালনকর্তা, যদি আমরা ভুলে যাই কিংবা ভুল করি, তবে আমাদেরকে অপরাধী করো না। হে আমাদের পালনকর্তা! এবং আমাদের উপর এমন দায়িত্ব অর্পণ করো না, যেমন আমাদের পূর্ববর্তীদের উপর অর্পণ করেছ, হে আমাদের প্রভূ! এবং আমাদের দ্বারা ঐ বোঝা বহন করিও না, যা বহন করার শক্তি আমাদের নাই। আমাদের পাপ মোচন কর। আমাদেরকে ক্ষমা কর এবং আমাদের প্রতি দয়া কর। তুমিই আমাদের প্রভু। সুতরাং কাফের সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে আমাদের কে সাহায্যে কর।"

---- [সূরা আল বাকারাহ, আয়াতঃ ২৮৪-২৮৫-২৮৬]

১১ মে, ২০১৩ 

৪ মে, ২০১৩

হৃদয়ের ক্ষত সারাবো কেমনে

মানব হৃদয়ের কিছু অব্যক্ত যন্ত্রণা থাকে, যেগুলো ছোট থেকে বড় হবার সময়ে মানুষ চোট খেতে খেতে ক্ষত করে ফেলে। শরীরের ক্ষতগুলো দেখা যায়, হৃদয়ের ক্ষত দেখা যায় না। সেই ক্ষতের উপরে আবার চোট পেলে যেই যন্ত্রণা মাত্রাছাড়া হয়ে যায়। কখনো সেই যন্ত্রণা আত্মসম্মানবোধে লাগায়, কখনো নিজের উপরে নিজেকে বীতশ্রদ্ধ করে তোলে, কখনো মনে হয় পৃথিবীটাই নির্মম, কখনো আবার শুধু নিজেকেই কপালপোড়া অভাগা মনে হয়... মনে হতেই পারে, মানব মনের ধরণটাই অমন। কিন্তু আসলেই কি তাই? হয়ত নিজের ভুলের কারণেই যন্ত্রণার সৃষ্টি হয়েছিল, হতে পারে দুর্ভাগ্যক্রমে কিছু ঘটে গিয়েছিলো...

৩ মে, ২০১৩

ভিন্ন দ্যোতনাঃ কঠিন কাজ সহজ

ইদানিং সবকিছুতে একটা ভিন্ন দ্যোতনা খুঁজতে চেষ্টা করি, বা অন্য ভাষায় বলা যায়, খানিক চেষ্টা করে সবকিছুর মাঝে ভিন্ন একটা মাত্রা খুঁজে পাই, একই জিনিসটা অন্যরকম লাগে। আজকের মতন শত-শত দিন জুমু'আর সলাত শেষে দু'আ করেছি ইমামের সাথে। আজকের কয়েক মিনিটব্যাপী লম্বা দু'আতে একটা বাক্য কানে আটকে গেলো, "হে আল্লাহ! নেক কাজের প্রতি আমাদের ভালোবাসা তৈরি করে দিন।" বিশাল মসজিদের সামনের মুসল্লিদের মাথার উপরে দিয়ে দূর সিলিংটার দিকে আমার দৃষ্টি অস্পষ্ট হয়ে এই কথাটার অনুভূতিটা বুকের এমাথা থেকে ওমাথায় জানান দিতে থাকলো। জীবনটাকে বদলে ক্রমাগত উন্নত করতে চেষ্টা করা এই আমার মতন করে অনেকেই জানেন একটুখানি খারাপ অভ্যাস ত্যাগ করা বা ভালো অভ্যাস তৈরি করা যেন তিনফুট বেড়ের গাছ কোপানোর প্রতিটি মূহুর্তের মতন কঠিন।

৩০ এপ্রি, ২০১৩

উপলব্ধি বা দর্শনঃ জীবন কি কেবল বিভ্রম?

কত যে কথা লিখতাম আগে খাতায়, ডায়েরিতে -- অনুভূতি-উপলব্ধি সবকিছুই!! পড়তে পড়তে একসময় থেকে বুঝতে শুরু করেছিলাম, যা বলতে চাই আমি তার প্রায় সবই অনেকে বলে গেছেন। আগের সব বাদ দিলাম, এইতো কয়েক বছর আগে বিপুল চিন্তাভাবনা করে ফেসবুকে একবার একটা অনুভূতি লেখার পরে এক ভাই কমেন্ট করলো "ভাই, প্লেটোর chariot allegory তে এইরকম বিষয়েই ব্যাখ্যা করেছে।" গিয়ে দেখি সত্যিই তাই! সেদিন প্রথম এই টাইপের আনন্দমিশ্রিত ধাক্কা খাই।

২৮ এপ্রি, ২০১৩

ফেসবুক জীবনঃ লাইক শেয়ার আর কমেন্টের ভালোলাগা

ফেসবুকে প্রথম সাইনআপ করেছিলাম ৫ বছর পেরিয়ে গেছে। তখন থেকে শুরু করে পেশাগত জীবনে কম্পিউটার জড়িয়ে থাকায় খুব কমই বড় সময়ের দুরত্ব হয়েছিলো। জীবনের অভিজ্ঞতার সাথে সাথে এই দীর্ঘ সময়ে আমার চিন্তা ও উপলব্ধির বিবর্তন হয়েছে, ফেসবুকও যার একটি অংশ। বিগত শাহবাগী-পরবর্তী সময় থেকে এখন অবধি উত্তাল ফেসবুক দেখে অনেক কথা মনে হচ্ছিল...... কেন এত সময় দেয়া এখানে? প্রচুর শেয়ার পাবার নিয়াতেই ছবি এডিট হয়? অনেক লাইক পাওয়ার আনন্দ উপভোগের আশায় স্ট্যাটাস দেয়া হয়? পেইজ প্রমোট করতে নোংরা নামের অজস্র পেইজ খুলে লাইক চেয়ে বেড়ানোতে কী লাভ? পেইজের অ্যাডমিন হওয়ায় কীসের এত অস্থিরতা? কী লাভ? ছবি আপলোড করে কেন এত লাইক ও কমেন্ট পেতে ইচ্ছা করে? কেউ আমাকে স্মার্ট, কিউট, সুইট বললে তাতে কীসের এত আনন্দ? সাহায্য চাওয়ার নামে নিজের অ্যাকাউন্টে টাকা জমা করে মেরে দেয়া, সম্পূর্ণ বানোয়াট ও মিথ্যার প্রচার সর্বোচ্চ হলো যেন সর্বত্র। কথার সত্যতা যাচাই ছাড়াই ছড়াচ্ছে যা-তা।

সাভার ট্র্যাজেডির শত শত লাশ এবং একটি জুমু'আ

জুমু'আর সলাতে নিয়মিত হয়েছিলাম যতদূর মনে পড়ে সেই ক্লাস ওয়ান-টু থেকে, সাত বছর বয়সের সময়েই। খুবই অপ্রত্যাশিত ঘটনা ছাড়া কোনদিন মিস করেছি বলে মনে পড়েনা। তবে আজকের মতন ব্যতিক্রম দিন খুব বেশি ছিলো না। আজ সলাতের পরে একজন মাইয়্যেতের জানাজা পড়লাম। এরপর সম্মানিত ইমাম সাহেবের সাথে দু'আতে হাত তুলেছিলাম তিন-চারতলা বিশাল মসজিদে হাজার হাজার মুসল্লি একসাথে-- এরকম উচ্চস্বরে কান্নার শব্দ আমি জুমু'আর সময়ে শুনিনি আগে। সাভারে নিহত দ্বীনি ভাইবোনদের জন্য জান্নাতের দু'আ, অসুস্থদের দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠার জন্য দু'আ মহান আল্লাহর কাছে। দু'আর সময়ে সব মানুষের সাথেই আবেগ বাঁধ মানছিল না -- সবাই জানে এ কেমন দুর্যোগ চলছে। বিশাল বিশাল স্লাবের নিচে চাপা পড়ে থাকা হাড়গোড় গুঁড়া হয়ে যাওয়া মানুষদের কথা মনে হচ্ছিলো।

২৪ এপ্রি, ২০১৩

যদি নিজেকে ফালতু মনে হয় এবং বদলে যেতে চান তাহলে আপনার জন্য

সকালে ভোরের আলো ফুটছিলো যখন, তখন স্মৃতি হাতড়াচ্ছিলাম। খুব সম্ভব কলেজে পড়ি তখন, কোন স্যার হয়ত বলেছিলেন যা আমার মনে পড়ে এমন করে -- "জীবনকে এমন করে গড়বে যেন তুমি যখন পৃথিবী ছেড়ে চলে যাবে, তখন যেন এই অনুভূতিটা নিয়ে যেতে পারো যে এই পৃথিবীকে আগের চাইতে ভালো করে রেখে গেলে।"   

১৯ এপ্রি, ২০১৩

কোন আড়ালে পালাবো বলো?

কৈশোরে আমার একটা শখ ছিলো, কোন ডায়েরি পেলে প্রতিটি পাতার নিচে লিখে রাখা বিভিন্ন লেখক ও দার্শনিকদের উদ্ধৃতিগুলো পড়তাম। উপদেশ পেতে আমার বড়ই ভালো লাগত সেই বয়সে-- বড় ভাই, স্যার, মসজিদের ইমাম সবার উপদেশ আমি গোগ্রাসে গিলতাম আর চিন্তাভাবনা করতাম, খুবই আনন্দ লাগত। সেই সময়ে পড়া একটা উক্তি আমার আজকে মনে পড়ছে, কে বলেছিলেন মনে নেই -- "অন্ধকারে তুমি কি সেটাই তোমার চরিত্র।" একই রকমের একটা কথা পড়েছিলাম একবার, "নির্জনতায় মানুষ ফেরেশতার চাইতে উত্তম নইলে শয়তানের চাইতে অধম।" এই কথাতেও চিন্তার খোরাক পেয়েছিলাম। আজকে হঠাৎ এই বাণী দু'টো মনে পড়ে যাওয়ায় ভাবছিলাম, আসলেই চিন্তাজাগানো কথা এগুলো। সবার সামনে আমরা অনেক সুন্দর ভালোমানুষের রূপ ধরে থাকতে পারি, সুন্দর কথা বলতেই পারি, হাসিমুখে তাদের সামনে বিনম্র ভালোমানুষের ভাব দেখাতে পারি। কিন্তু যখন আমি নির্জনতায় রুমে একা, তখন শয়তান এসে ওয়াসওয়াসা দেয়, মনের ভিতরে কুচিন্তা ও কুধারণাদের আগমন হয়। মাথায় হয়ত থাকে, কেউ তো আর দেখতে পাচ্ছে না, সমস্যা কী? সেরকম সময়ে অনেক ভালোমানুষের ভিতর থেকেও ভয়াবহ জন্তু-জানোয়ার বেরিয়ে আসতে পারে। কিন্তু আসলে আমরা কি কখনো *আড়ালে* থাকতে পারি?

১৮ এপ্রি, ২০১৩

আল্লাহর উপরে আস্থা আমরা কেন রাখি? কীভাবে রাখি?

গভীর কষ্ট, যন্ত্রণা আর চাপের মাঝেও আমাদের সেই মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলার উপরেই আস্থা রাখা উচিত যিনি মুসা আলাইহিস সালামের সামনের লোহিত সাগরকে ভাগ করে পথ তৈরি করে দিয়েছিলেন, যিনি ইবরাহিম আলাইহিস সালামকে দগ্ধ করতে চাওয়া অগ্নিকুন্ডকে শান্তিময় শীতল করে দিয়েছিলেন, যিনি বদরের প্রান্তরের মানুষগুলোকে জয়ী করতে ফেরেশতাদের পাঠিয়েছিলেন, যিনি বৃদ্ধ বয়সে জাকারিয়া আলাইহিস সালামকে দান করেছিলেন ইয়াহইয়া (আ) এর মতন সন্তান, যিনি বৃদ্ধ ইবরাহিম আলাইহিস সালামকে দান করেছিলেন ইসমাইল ও ইসহাক দু'জন নাবী (আলাইহিমুস সালাম)। আল্লাহর নির্দেশেই শিশু ইসমাইলের পায়ের আঘাতে তৈরি হয়েছিলো আমাদের বিষ্ময় ও রাহমাতপূর্ণ যমযম কূপ, খটখটে রৌদ্রে তৈরি করা নূহ আলাইহিস সালামের কিশতিকেও তিনিই ভাসিয়েছিলেন পাহাড় ডুবে যাওয়া পানির প্রবাহে।

আমাদের কাছে যা অসম্ভব, সেটা তার কাছে কোন ব্যাপারই না, কারণ তিনিই সৃষ্টিকর্তা। তিনি তাদেরকেই সাহায্য করেন যিনি তার উপরে বিশ্বাস রাখে, আস্থা রাখে। এই আস্থা কোন 'terms and conditions' দিয়ে তৈরি হওয়া না, এই আস্থা আমাদের পরম আস্থা। হৃদয়ের সমস্ত ভালোবাসা, বিশ্বাস, আস্থা, নির্ভরতা কেবল তার উপরে সঁপে দিয়েই আমরা নির্ভার হই। আমাদের মালিক আমাদেরকে যখন ইচ্ছা তখন দান করেন, আমাদের জীবনের ও অস্তিত্বের প্রতিটি জিনিসই তার দান। এই দান আরো বাড়বে, আমরা যতই শুকরিয়া করব, যতই পাগলের মতন চাইবো। আল্লাহ যখন দান করেন, কীভাবে দান করেন, কোথা থেকে আসে তা বোঝার যোগ্যতা মানুষের হয়না, সেই শক্তি ও ক্ষমতা ক্ষুদ্র মানুষের নেই। নিশ্চয়ই আল্লাহ পরম শক্তিশালী, সর্বজ্ঞানী, ইবাদাতের যোগ্য একমাত্র সত্ত্বা। সমস্ত প্রশংসা কেবলই আল্লাহর যিনি রাহমান, যিনি রাহীম। আল্লাহ আমাদেরকে তার প্রতি সবসময়, প্রতিক্ষণে, প্রতিমূহুর্তে প্রশান্তচিত্তে কৃতজ্ঞ থাকার তাওফিক দিন।

[১৭ এপ্রিল, ২০১]

অনেক কষ্টের সময়েও যেন অন্তত এই কথাগুলো স্মরণে থাকে

খুব বেশি কিছু না। শত শত পাতার বই মুখস্তের বিষয় না, সাত সমুদ্র তের নদী পার হয়ে জ্ঞানগর্ভ আলোচনা শোনাও না, প্রিয়জনের হাতের স্পর্শে আশ্বস্ত হয়ে কিছু শিখতে যাওয়াও নয়। যখন যে কঠিন সময়ে সবকিছু ফেলে চলে যায়, যখন একদম অসহায় হয়ে যাই শত্রুতায়, বিপদে, কষ্টে, পরীক্ষায়; তখনো শুধু এই কথাটুকু হলেও যেন স্মরণে থাকে--

তিনি আমাকে ফেলে যাননি, যাবেন না। আমি যখনই তাকে স্মরণ করব, তিনিও করবেন। তিনি আমার সবচাইতে আপন, আমাকে তিনি ভালোবাসায় সিক্ত করে রেখেছেন বলেই এই নিঃশ্বাস নিতে পারছি। আমাদের জীবন এখানেই শেষ নয়, এই নিঃশ্বাসের শেষে শুরু হবে অনন্তজীবন। সফলতা হবে সেই জীবনে। আমার এই ক্ষুদ্রতা ও অসহায়ত্বও একটা রাহমাত কেননা একারণেই তাকে অনুভব করছি গভীর করে। আমার অশ্রুভেজা প্রার্থনা, আমার স্মরণ কখনো বিফলে যেতে পারেনা। এই চাওয়া, এই আর্তি তো সেই মহান সত্ত্বার কাছে, যার হাতে সকল ক্ষমতা। তিনি চাইলেই ধ্বসে যাবে পাহাড়-পর্বত, প্রাণ চলে যাবে জালিমের, অকল্পনীয় উপায়ে তিনি হয়ত আমার সামনে হাজির করবেন এমন জিনিস যা কেবল হৃদয়ের স্বপ্ন-কল্পনাই। যিনি সমস্ত ক্ষমতার অধিকারী, যিনি প্রবল প্রতাপশালী রাজাধিরাজ পবিত্র সত্ত্বা, যিনি জানেন আমার মনের গূঢ়তম চিন্তাটাও, তিনি আমাকে দেখছেন আমি কতটুকু তাকে অনুভব করি, আর কাছে কতটা ভিখিরি হয়ে চাইতে পারি, তার সন্তুষ্টি পেতে কতটা ত্যাগ আমি স্বীকার করতে প্রস্তুত আছি। পুরষ্কারের বেলা তো কেবলই তার। যেদিন তিনি পুরষ্কার দিবেন সেদিন জালিম-অন্ধ ভোগবাদীরা সবাই অসহায় হয়ে থরথর করে কাঁপবে ভয়ে। সেদিন তিনি তার প্রিয় বান্দাদের নিজ অনুগ্রহে অভাবমুক্ত করবেন চিরকালের জন্য। সেদিন কেবল তারই ক্ষমতা থাকবে, সবার সাময়িক জারিজুরি রহিত হবে তার আগেই। সেই মহান আল্লাহর জন্যই তো এই জীবন। এই কষ্ট, এই ত্যাগ, এই যন্ত্রণা, এই অশ্রুভেজা চোখ, এই আহত শরীর, এই আহত হৃদয়, এই সবর ---- সবই তো তোমার জন্য হে রাহমান, সবই তোমার জন্য হে গাফুরুল ওয়াদুদ। তোমার ভালোবাসায় আমাদের সিক্ত করো!! :'(

[১৭ এপ্রিল, ২০১৩]