১৫ ফেব, ২০১৫

যারা দুঃখভারাক্রান্ত, তাদের জন্য লেখা....

... ​যারা দুঃখভারাক্রান্ত, তাদের জন্য লেখা....

আমরা যেসব বোকা মানুষ দুনিয়ার জীবনের বিভিন্ন বিপদাপদ, আশংকা-ভয়, দুঃখ-কষ্টে জর্জরিত হয়ে ভারাক্রান্ত হয়ে পড়ি, তাদের জন্য আল্লাহ নিজেই হচ্ছেন সবচেয়ে বড় এবং একমাত্র শান্তি, সমাধান। মনে রাখতে হবে, আমাদের জীবনের এই কষ্ট এসেছে আমাদেরকে 'শুদ্ধ' করতে এবং 'মুক্ত' করতে। আপনার মাঝে যদি ঈমান থেকে থাকে, তবে জেনে রাখবেন আল্লাহ এই পরীক্ষা হাজির করেছেন আপনাকে তার দিকে ফিরিয়ে নিয়ে আসতে। আল্লাহ আপনাকে আরো বেশি বেশি ইস্তিগফার ও আ'মাল করাতে চান। মু'মিনদের জীবনের যেকোন পরীক্ষাই আসে কল্যাণ হিসেবে, তাই অবশ্যই সবর করার চেষ্টা করতে হবে। এই কষ্টগুলো আপনার পাপগুলোকে পুড়িয়ে আপনাকে শুদ্ধ করবে যেমন করে সোনা পুড়ে খাঁটি হয়।

১১ ফেব, ২০১৫

আপনার জীবনে উত্তম পরামর্শক না থাকলে আপনি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন

​​​স্বাভাবিক জীবন, শান্ত-স্থির জীবন আমরা একেকটা মানুষ খুব বেশি সময় ধরে পাইনা। দুনিয়ায় আমাদের জীবনকে উথাল-পাথাল করা ঘটনা, ভয়-শংকা করার মতন ঘটনা জীবনে লেগেই থাকে। এ সময়গুলোর খুব গুরুত্বপূর্ণ একটা বিষয় হলো -- 'উত্তম পরামর্শক'। আমি জীবনের অভিজ্ঞতা থেকে গভীরভাবে শিখেছি, "আল্লাহকে ভয় কর এবং সত্যবাদীদের সাথে থাকো"[১] টাইপের আদেশের একটি গভীর উপকার/প্রয়োজন/আবেদন স্পষ্ট টের পাওয়া যায় যখন আমরা সমস্যাগ্রস্ত হই।

১০ ফেব, ২০১৫

মনের জানালা মাঝে # ২৩


(২৫০)
আমরা অনেক সময় অতিরিক্ত উৎসাহ থেকে অন্যদের ব্যাপারে দু'একটা বিষয় থেকে অনেক ধারণা করে বসি। অনেক সময় আমাদের ধারণা ও মন্তব্য শিষ্টাচার ও ন্যায়ের সীমারেখা ছাড়িয়ে যায়। সন্দেহ করা ও ধারণা করা খুব খারাপ কিছু বৈশিষ্ট্য। উত্তম মানুষ হতে চাইলে অযথা সন্দেহ ও অনায্য ধারণা থেকে দূরে থাকা আবশ্যক। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই আমাদের ধারণাগুলো ভুল হয়, যা মিথ্যার নামান্তর। অস্পষ্ট জ্ঞান থেকে ধারণা করার অভ্যাসটি দূর হোক আমাদের সমাজ থেকে...

(২৫১)
খুব না চেয়ে, পরিশ্রম না করে যদি কোন মূল্যবান সম্পদ পেয়ে যাই, তাকে তখন আমরা ঠিক পাত্তা দিই না।

(২৫২)
'তিনি প্রফেশনাল' বলে কেবল চাকরি-বাকরিতে চরম সিরিয়াস বলে বুঝানো পুরোপুরি ঠিক না। দুনিয়ার জীবনটাও প্রফেশনের মতন, মৃত্যুর পর ঠিকমতন বেতন পেতে প্রফেশনাল হওয়া উচিত জীবনের প্রতিটি মূহুর্তে। যারা বুঝেনা, তারা পা হড়কে কোমর ভাঙ্গে নিয়মিতই... তাই, সফলতা পেতে প্রফেশনাল হউন।

(২৫৩)
যে আগুনের উত্তাপ ও আলো যত বেশি, তার দহনজ্বালাও তত বেশি।

(২৫৪)
এমন সিগারেটখোর দেখিনি যে দাম্ভিক ও উদ্ধত নয়।
এমন গাঁজাখোর দেখিনি যে আগে সিগারেটখোর ছিলো না।
~ জনৈক

(২৫৫)
আমরা অনেকেই আমাদের বর্তমান সময়গুলোকে নষ্ট করি অতীতের সময়কে কেমন করে নষ্ট করেছি তা ভেবে ভেবে...

(২৫৬)
অন্ধকার পছন্দ করে যারা, তারা বেশিরভাগ ডিপ্রেসড থাকে। অন্যভাবে বলা যায়, যারা ডিপ্রেশনে ভুগে, তারা অন্ধকারে থাকতে চায়। অন্ধকার পরিহার করুন, আলোকিত স্থানে থাকুন। কোথাও স্রেফ পড়ে থাকবেন না, সচল থাকুন। আগ্রহ ও উদ্যম নিয়ে কাজ করুন, তা যতই ছোট হোক।+গতকাল অন্ধকার পছন্দ করার একটি বাজে দিক নিয়ে চিন্তাভাবনাগুলো গোটা জীবনের উপলব্ধি ও অভিজ্ঞতা হলেও মূল অনুপ্রেরণা ছিলো 'নূরুন আলা নূর' আয়াতটির উপরে উস্তাদ নুমান আলী খানের এই ভিডিওটি। অসাধারণ এই আলোচনাটি দেখে ফেলুন...

www.youtube.com/watch?v=hpjuufpCDOI

(২৫৭)
আপনার হয়ত যখন কিছুই পাওয়ার সম্ভাবনা নেই দুনিয়ার জীবনে, আপনি হয়ত 'গুড ফর নাথিং', কিন্তু সেই আপনি এখন থেকে ছোট্ট ছোট্ট যা কিছুই করবেন সেটাই আপনার প্রাপ্তি। আপনি একটা ছোট্ট বাচ্চার হাসির কারণ হতে পারেন, আপনি মায়ের একটা হাসিমুখ প্রশান্তির কারণ হতে পারেন, আপনি হয়ত চেনা-অচেনা কারো একটি উপকার করলেন --এমন ছোট ছোট অর্জনই আপনাকে জীবনের বড় অর্জনে এগিয়ে নিয়ে যাবে। মনে রাখা উচিত, ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বালুকনা বিন্দু বিন্দু জল, গড়ে তোলে মহাদেশ সাগর অতল। আজকে যা ক্ষুদ্র প্রাপ্তি, তা হয়ত কিছুদিন পরের বড় প্রাপ্তির মূল কারণ হবে। আল্লাহর কাছে সাহায্য চাইতে হবে প্রতিটি সময় কেননা সমস্ত সাফল্য একমাত্র আল্লাহর কাছ থেকেই আসে।

(২৫৮)
​​সুন্দর একটি আলাপ। খুব সুন্দর, মাত্র ৬ মিনিটে মন ভালো হয়ে যাবে। হয়ত আজীবনই তা কাজে দেবে... ইনশা আল্লাহ! Don't Be Sad - Shaykh Hamza Yusuf

# ভিডিও লিঙ্ক: https://www.youtube.com/watch?v=HqfP4ADWHEQ

(২৫৯)
অন্যদের সাথে তুলনা করা বোকামি, আমাদের জীবনের আনন্দগুলো কেউ বুঝতে পারে না, আমাদের কষ্টগুলোও কেউ উপলব্ধি করতে পারে না। আল্লাহ আমাদের সবাইকে একদম আলাদা-আলাদা জীবন দিয়েছেন, প্রতিটি জীবনকে তিনি অসংখ্য নিয়ামাত দিয়ে সাজিয়েছেন। তাই, যেমনই থাকি, যতক্ষণ ঈমান আছে বুকে, আলহামদুলিল্লাহ বলে কৃতজ্ঞ হওয়াই সেরা কাজ, প্রাণ আনন্দে ভরপুর হবার কাজ।​

(২৬০)
মানবজাতিকে আল্লাহ যে বিষয়টি দিয়ে স্বস্তি ও রাহমাত দিয়েছেন সবচেয়ে বেশি তা হলো, মৃত্যু। মানব মস্তিষ্কের মাঝে অনন্তকালের কল্পনা সম্ভব হয় না। এই পৃথিবীর সর্বোচ্চ শান্তির কথা ভাবলেও তা অনন্তকাল পাওয়ার কথা ভাবতে অশান্তি লাগে। কষ্টকর মূহুর্তে থাকা লক্ষ-কোটি মানুষেরা যদি অনন্তকাল এভাবেই থাকবে বলে ভাবতো, এবং তাদের জীবন মৃত্যুহীন জানতো, নিশ্চয়ই তারা তা সহ্য করতেই পারতো না।

মৃত্যু এক অসাধারণ ঘটনা। মৃত্যু স্বস্তি দেয়, মুক্তি দেয় জীবনের ক্লান্তি থেকে। শেষ জীবনে বার্ধক্যে ক্ষয়ে যাওয়া, রোগে ধুঁকতে থাকা মানুষগুলোকে জীবনের তীব্র যাপন থেকে মুক্তির আশা দেয় মৃত্যু। যদিও মৃত্যুর পরের ভয়াবহতার আশংকা আমাদের ভীতসন্ত্রস্ত করে, তবু মৃত্যু আমাদের আশ্বস্ত করে। মৃত্যু, একটি যতি চিহ্ন, একটি পরিসমাপ্তি, একটি স্বস্তির নাম।

(২৬১)
​নীল আকাশকে দূর থেকে দেখতে যেমন লাগে, বিমানে চড়ে কাছে গেলে তেমনটা লাগে না। সমুদ্রকে তীর থেকে যেমন লাগে, জাহাজে চড়ে কাছে গেলে লাগে ভিন্নরকম। দুরত্বভেদে, সময়ভেদে একই জিনিসের রূপ ভিন্ন লাগেই। মানুষদের ক্ষেত্রেও তাই। বিভিন্ন সময়ে, ভিন্ন ভিন্ন দুরত্বে আমরা নিত্যনতুন রূপকে খুঁজে পেতেই পারি, অবাস্তব কিছু তো নয়!

অনন্য সাধারণ এক ইতিহাস : মুতার যুদ্ধ

মুতা'র যুদ্ধে রাসূলুল্লাহ (সাল্লল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আগে থেকেই তিনজন সেনাপতি নির্ধারণ করে দিয়েছিলেন। বলেছিলেন, যায়িদ বিন হারিসা মারা গেলে জাফর বিন আবু তালিব, তিনিও মারা গেলে আব্দুল্লাহ বিন রাওয়াহা হবেন মুসলিম আর্মির সেনাপতি। মুতার প্রান্তরে তারা দেখেন তখনকার শক্তিশালী রোমান সাম্রাজ্যের ১ লাখ সৈন্য আকাশ-বাতাস প্রকম্পিত করে প্রস্তুতি নিচ্ছে, তাদের পেছনে যোগ দিতে প্রস্তুতি নিচ্ছিলো রোমানদের মিত্র এবং মুসলিমদের শত্রু বিভিন্ন দল-উপদল মিলে আরো ১ লাখ সৈন্য।

এই বিশাল ২ লক্ষ বাহিনীর বিপরীতে মুসলিম বাহিনীর সৈন্যদল মাত্র ৩ হাজারের। অবিশ্বাস্য হলেও এটাই সত্য। তারা যুদ্ধের ময়দান ছেড়ে পিছিয়ে যাননি বরং তারা জানতেন তারা এসেছেন অন্যায়কারী যালিমদের ধূলোয় মিশিয়ে দিতে! শাহাদাত তাদের পরম আরাধ্য ছিলো। এ যুদ্ধে তিনজন সেনাপতিই ক্রমান্বয়ে শহীদ হন। রাদিয়াল্লাহু আনহুম।

৯ ফেব, ২০১৫

মনের জানালা মাঝে # ২২


(২৩৭)
শব্দের ক্ষমতা অনেক। শব্দ দিয়ে অনেক কিছুকে গড়ে দেয়া যায়, অনেক সুন্দরকে প্রতিষ্ঠিত করা যায়, অনেক হৃদয়কে শান্তি দেয়া যায়। শব্দ দিয়ে ধ্বংস করে দেয়া যায় অনেক কিছু, হৃদয়ে ক্ষত তৈরি করা যায়, হৃদয়কে কলুষিতও করে দেয়া যায়। শব্দ ব্যবহারের আগে তাই খেয়াল করা উচিত। কেননা এই শব্দ হয়ত একদিন আমাদের শত্রু হয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে পারে হিসাবের দিন! ​

(২৩৮)
​লিবিয়া, সিরিয়ায়, ইরাকে প্রতিদিন ঢাকার রাস্তার ইঁদুর-চিকার মতন করে মারা যাচ্ছে। এগুলো নিয়ে আজকাল দু'আ পর্যন্ত শুনিনা, দু'লাইন লেখাও দেখিনা! সত্যিকারের সমাধান তো দূরের কথা। আল্লাহ উম্মাহর এই অন্যায়ের দায়ভার থেকে আমাদের মাফ করুন, আমাদেরকে সঠিক পথে পরিচালিত করুন।

(২৩৯)
দুনিয়ার পেছনে যত ছুটি, সেটা তত দূরে চলে যায়।

(২৪০)
আল্লাহ তার বান্দাদের খুব ভালোবাসেন, খুবই!

(২৪১)
যখন সবকিছু প্রতিকূলে, তখনো নিজের চরিত্র ও ব্যবহারের সৌন্দর্য ধরে রাখার চেষ্টা করাই সফলতা। হয়ত ভালো হতে না পারছি, খারাপ যেন না হই। একদিন আল্লাহ এই কষ্টটুকুর বিনিময় অনেক উন্নতি দান করবেন ইনশাআল্লাহ।

(২৪২)
ছোটকালে শিক্ষকদের মুখে শুনেছি, ভালো পরিবেশে সবাই/সবকিছুই ভালো সার্ভিস/আউটপুট দেয়। প্রতিকূল পরিবেশে যে বেশি ভালো সার্ভিস দিতে পারে সে-ই স্পেশাল, সাকসেসফুল।

(২৪৩)
যদি প্রতিদিনের কঠিন সময়টুকুতে কারো পাশে এমন কেউ থাকে যে সবকিছুর উপরে একচ্ছত্র ক্ষমতাশালী আল্লাহর কথা স্মরণ করিয়ে দেবে, তাহলে সে একজন ভাগ্যবান মানুষ। যদি এমন কেউ পাশে না থাকে এবং সে মানুষটি আল্লাহর কুরআন ঘেঁটে তার দিকনির্দেশনা ও অনুপ্রেরণা গ্রহণ করে তাহলে সে আরো বেশি ভাগ্যবান মানুষ। যেকোন অবস্থাতেই আল্লাহ আমাদেরকে তার নিয়ামাতে ডুবে থেকে সেগুলোর শুকরিয়া করার তাওফিক দিন।

(২৪৪)
একজন ​ নাক-কান-গলা (ENT) স্পেশালিস্ট ডাক্তার পরিষ্কারভাবে বললেন, কানে কটন বাড (cotton bud) নামক ​জিনিসটা ​ব্যবহার করার নাকি কোনই প্রয়োজন নেই। ​কানে​ যা পরিষ্কার করতে আমরা অস্থির হয়ে যাই, সেটা নাকি একটা সময় পরে আপনাতেই বের হয়ে যায়। সেটা কোন সমস্যার কিংবা ক্ষতিকর কিছু নয়। অনেকের বেশি বেশি কানে চুলকানি হওয়ার চিন্তাভাবনা বেশিরভাগ মানসিক। ​আর​ যদি খুবই চুলকায়, তাহলে ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে হবে। কানে গুতোগুতি করে অনেক মানুষই কানের পর্দায় ফুটো তৈরি করে ইনফেকশনের সৃষ্টি করেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।​ সচেতনতা জরুরী!!

(২৪৫)
গতিশীল বাসে চড়ে কোথাও যাবার পথে সাথে খাবার পানীয় না থাকলে যেমন অজস্র নলকূপ দেখেও লাভ নেই, আবার বাস থামিয়ে পানি নিতে নামলে তখন সেই বাসটা মিস হবার+বাসের ভাড়া+সময়মতন গন্তব্যে পৌঁছা টাইপের বিশাল পার্থক্যের ক্ষতি থাকে। তেমনি জীবনের চলার পথেও অনেক কিছু আমাদের উপকৃত করতে পারে না। উপকারের ডালা চোখে দেখলেও আমরা থাকে দৌড়ের উপরে, দৌড়... দৌড়... অসুস্থ দৌড়...

(২৪৬)
অনেক সময় প্রাপ্য ও কাঙ্খিত সদাচারণের জায়গায় মন্দ ব্যবহার পেয়ে অনাকাঙ্খিত কোথাও থেকে যত্ন-আত্মি পেলে লজ্জায় মাটির সাথে মিশে যেতে ইচ্ছা করে। আমি এক নাদান বান্দা আল্লাহর, সারাটি জীবন ঘুরেফিরে পূর্বেকার চিন্তার ভুল প্রমাণ পেতে পেতে ক্লান্ত। পৃথিবীর আনাচে-কানাচে আজো কত স্বার্থবিহীন ভালো মানুষ যে ছড়িয়ে আছে! আল্লাহ তাদেরকে হিফাযত করুন এবং উত্তম প্রতিদান দিন।

(২৪৭)
হারানোর আগে বোঝা যায় না কী ছিলো আগে...

(২৪৮)
দুনিয়া যে লক্ষ্য হিসেবে খুব দুর্বল এবং লজ্জাজনক তা এই ক্ষণস্থায়ী হওয়ার ব্যাপারটা থেকেই বোঝা যায়। আল্লাহর কাছে যখন ফিরে যাবো আমরা, তখন এই দুনিয়ার কাজের প্রতিফল হিসেবে পাবো উত্তম ও অনন্তকালের পুরষ্কার ও শাস্তি।ছোট ছোট কাজ তো দূরে থাক, বড় কাজ করেও দুনিয়াতে লোকের স্মৃতিতে থাকা যায় না, কিন্তু মহান আল্লাহর কাছে ছোট কাজ করেও প্রিয় হয়ে অনন্ত জগতের সফলদের দলে যাওয়া যায়।  আল্লাহ আমাদেরকে সত্যিকারের সফলতা অর্জনের তাওফিক দান করুন।

(২৪৯)
আমরা অনেকসময় ভুল করে নিজেদেরকে বেশ মূল্যবান মনে করতে থাকি। আসলে আমাদের কারো তেমন মূল্য নেই। আমরা কেউ চলে গেলে সেই অভাব পূরণ হয়েই যায়। চাকুরিস্থলে কেউ চলে গেলে তার প্রতিস্থাপন খুব দ্রুতই হয়ে যায়। পরিবারে কেউ চিরকালের জন্য চলে গেলেও সে অভাব পূরণ হয়ে যায়। কোন অভাবই অপূরণীয় নয়, আমরা কেউই খুব আহামরি কিছুই না। কত-শত ধ্যানী-জ্ঞানী, বিজ্ঞানী, নেতা, বিপ্লবী, দার্শনিকেরা দুনিয়া থেকে চলে গেছেন আর তাদের স্রেফ স্মরণসভায় আলাপ করা হয় কিছুকাল, একসময় কেউ মনে রাখে না। খুব জোর অল্প কয়েক দশক বা একটি শতকের বেশি কেউ দুনিয়ায়

সচরাচর স্মৃতিতে থাকে না। আমরা সবাই বিস্মৃত হয়ে যাব।

৮ ফেব, ২০১৫

হয়ত পৃথিবীর শেষ সময়ের খুব কাছাকাছি আমরা

অবাক হয়ে নিজের বুক চেপে হৃদস্পন্দন নিলাম। এইতো, পৃথিবীর এই সময়টায় বাংলাদেশ নামের এক দেশে বেচে আছি। কতদিন আছি জানিনা কেননা একে তো মৃত্যু ব-দ্বীপ বলেন অনেকে। 'যে মারা যাচ্ছে সে জানেনা কেন মারা যাচ্ছে, যে মারলো সে জানেনা কেন হত্যা করছে' -- রাসূলুল্লাহর সাবধানবানী দেয়া এমন সময়টা কি চলে এলো নাকি? এ তো তাহলে ভয়ংকর সেই সময় যখন খুবই সতর্ক থাকতে হবে, এমন সময়ে অসচেতন হলেই অনেকের মৃত্যু সরাসরি জাহান্নামে নিয়ে যাবে।

যেদিন দেশজুড়ে অগণিত খুন, আগুনে দহনে, বোমায়-গুলিতে মানুষ মরে লাশ হয়ে গেলো, সেদিনও চেলসি-ম্যানইউ, মুভি-সং, হ্যাং-আউট, ক্রাশের গল্প লিখে রাত কাটিয়েছে অনেক তরুণ-তরুণী, যুবক-যুবতী। অনেকগুলো বছর ধরে একটি রাস্ট্রীয় ও সামাজিক পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে অন্যায়কে হজম, লালন করার উপযোগী করে। এখন সেই প্রজন্মে ছেয়ে আছে দেশ যারা নির্বিকার, ক্যারিয়ারভাবনায় মজে থাকা, সমাজ ও রাজনীতি অসচেতন, অমানবিকতায় ভরপুর একদল অদ্ভুত প্রাণী।

হয়ত পৃথিবীর শেষ সময়ের খুব কাছাকাছি আমরা। হয়ত আর কয়েকশত বছরের মাঝে কিংবা হয়ত আরো কম বা বেশি সময় পরে কিয়ামাতপূর্ব বড় ঘটনা ঘটবে। হয়ত দাজ্জালের ফিতনাতে অন্ধভাবে ডুবে যাওয়ার মানুষ তৈরি হচ্ছে এখন এসবের মধ্য দিয়েই। আল্লাহ আমাদের হিফাজত করুন। অন্যায় যখন গৃহীত সবখানে, অনিয়ম যখন নিয়ম, অত্যাচারী যখন সম্মানিত --তখনও যেন আল্লাহ আমাদেরকে সরল-সঠিক পথে পরিচালিত করেন। আল্লাহ যেন অন্যায়কারীদের হাত গুড়িয়ে দেন। আল্লাহ যেন আমাদের এমন ঈমান দান করেন যা আমাদের জান্নাতে নিয়ে যাবে। নিশ্চয়ই সমস্ত ক্ষমতার মালিক কেবলমাত্র আল্লাহ।

[০৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৫]

পৃথিবীর জীবনটা তো জান্নাত নয়

পৃথিবীর জীবনটা তো জান্নাত নয়। এটা পরিপূর্ণ শান্তির স্থান নয়। জান্নাতে পা দেয়ার আগে আমরা অ্যাবসোলুট শান্তি পাবো না। দুনিয়ার জীবনে আমাদের হৃদয় ভাঙবে, চুরমার হয়ে যাবে। আপনার ঈমান যতই বৃদ্ধি পাবে, আল্লাহ ততই নিত্যনতুন কষ্ট এনে হাজির করবেন আপনার সামনে পরীক্ষা হিসেবে। আপনি তখন শান্তি খুঁজুন সলাতে, সাওম পালনে, দান-সাদাকার মাঝে।

মু'মিনের জীবন তো ঝড় তুফানের আঘাতে জর্জরিত থাকবেই

মু'মিনের জীবন তো ঝড় তুফানের আঘাতে জর্জরিত থাকবেই। একজন শাইখের আলোচনায় শুনেছিলাম যিনি কুর'আনুল কারীমের কিছু কথা নিজের ভাষায় বলছিলেন, মুমিনের জীবনের তুলনা সেই ঘাস-লতাপাতার মতন; প্রতিটি দমকা বাতাসের মতন বিপদাপদ যাদের নুইয়ে দেয়, কষ্টভরা হৃদয়ে আল্লাহর কাছে সমর্পিত হওয়ায়। আর কাফিরদের জীবন সেই বৃক্ষের মতন যা ছোটখাটো ঝড়ো বাতাসে ঠায় দাঁড়িয়ে থাকে কিন্তু জোরে কোন ঝড় এলে তা শেকড়শুদ্ধ উপড়ে যায়।

৩ ফেব, ২০১৫

আমাদের পরবর্তী সময় তো পূর্ববর্তী সময়ের চেয়ে বেশি খারাপ

বিগত শতকের শেষভাগে মৃত্যুবরণ করা সিরিয়ার শাইখ আলী আল-তানতাওয়ির (রাহিমাহুল্লাহ) একটা কথা ক'দিন আগে ড. ইয়াসির ক্বাদি লিখেছিলেন যা আমার খুবই পছন্দ হয়েছিলো। শাইখ আলী যা বলেছিলেন তা অনেকটা এমন যে, জীবনের এমন কোন যুগ তিনি পাননি যে সময়ের ক্ষতি ও খারাপগুলো তাকে কষ্ট ও দুঃখে জর্জরিত করেনি। অথচ সেই সময়টা চলে যাবার পরে তিনি সেই 'কষ্টকর সময়টা' কতই না ভালো ছিলো তা মনে করে স্মৃতিচারণ করেছেন, বেদনার্ত হয়েছেন।

অল্প কিছু লোকের কূটবুদ্ধির কাছে গোটা সভ্যতা এখন বন্দী

আমার খুব আফসোস হয় যখন বুঝি আমরা সাধারণ মানুষদের জীবন কিছু মানুষের কাছে কীটপতঙ্গের চেয়েও বেশি 'সিলি'। অল্প কিছু মানুষ কেমন করে ট্র্যাপ করে, প্ল্যান করে লক্ষ-কোটি মানুষের জীবনকে ছকে বেঁধে নিজেরা ক্ষমতা ও সম্পদগুলো ভোগ করে। সাধারণ মানুষগুলোকে তাদের নিম্ন বুদ্ধিমত্তার কারণে এবং 'ভোগের আকাঙ্ক্ষার' কারণে সহজেই ধুলো দেয়া যায়।

কারণ? আমাদের সমাজে এখন চারপাশে প্রচুর 'ম্যাটেরিয়ালিস্টিক' লোকজন। ভালো চাকরি, ভালো বাড়ি, ভালো গাড়ি, ব্র্যান্ড মোবাইল, ব্র্যান্ড অমুক, ব্র্যান্ড তমুকের আকাঙ্ক্ষা, স্বপ্নে, দৌড়ে সবার জীবন প্রায় পুরোপুরি অকুপাইড। এসবের বাইরে কেউ চিন্তা করতে পারছে না। অনেক পিএইচডি আর ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ার মানুষগুলোর চিন্তার দৌড় ঐ শেষমেষ ক্যারিয়ার-ফিউচারের বাইরে নয় দেখলে খুবই কষ্ট হয়।

বড় বড় কর্পোরেশন এবং তাদের অ্যাডভার্টাইজিং এত বেশি জীবনঘনিষ্ট হয়ে আছে যে আমাদের গভীরতাহীন-মূর্খ-অসহায় আমজনতার মুক্তির সম্ভাবনা খুবই কম দেখি। এই জীবনের সমাপ্তি যে যেকোন সময়েই হতে পারে এবং এর পরের অনন্তকালের জগতটা যে খুব সহজ কিছু নয়-- এমন বোধ মানুষের মাঝে জায়গা না পেলে ম্যাটেরিয়ালিজম নিয়ে ডুবে থেকেই একেকটা জীবনের সমাপ্তি হতেই থাকবে। কী যে অসহায় লাগে ভাবলে, কী কষ্ট যে লাগে ভাবলে!

# উস্তায নু'মান আলী খান ম্যাটেরিয়ালিজম নিয়ে কিছু কথা বলেছেন, অনেক দামী কথা: www.youtube.com/watch?v=VcXpFqjaU3Y

[৩০ জানুয়ারি, ২০১৫]

৩০ জানু, ২০১৫

এই ইন্টারনেট, এইসব প্রযুক্তি কি আমাদের লাভের চেয়ে ক্ষতি বেশি করছে না?

ফেসবুকে অনেক তথ্য-- সত্য বা মিথ্যা, সৌম্য বা অশ্লীল, খারাপ বা ভালো। এত বেশি পেইজ, এত বেশি প্রোফাইল, এত বেশি কথা, এত বেশি কমেন্ট যে এখন অনেক কথাবার্তা দেখলেই এক ধরণের নিরাসক্তি চলে আসে। সবারই কথা বলার সুযোগ থাকায় ইডিয়ট ও মূর্খদের বেহুদা প্যাঁচাল অনেক বেশি থাকে তাই সেসবের মাঝে পড়ে এখন ফেসবুকে আর ব্লগে লোকের কথায় আমরা খুব কমই প্রভাবিত হই। অনেক ক্ষেত্রেই অনলাইনে বিভিন্ন তথ্য দেখে বিশ্বাস করে পরে সেগুলো মিথ্যা প্রমাণিত হতে দেখে সেই প্রবঞ্চিত হওয়ার অভিজ্ঞতা অনেক কিছুই বিশ্বাস করতে ভেতর থেকে বাধা দেয়। ফলে অনেক সত্য কথাও অবহেলা ও অবজ্ঞায় হারিয়ে যায়। আমরা অনেক সুন্দর সুন্দর কথা দেখি কিন্তু বাস্তব জগতে সুন্দর চিন্তার মানুষের চরম আকাল দেখে সেসব সুন্দর কথা তো দূরে থাক, সেগুলোর পেছনের মানুষগুলোকেও অনেকক্ষেত্রে বিশ্বাস করতে ও সম্মান করতে ইচ্ছা করে না।

২৮ জানু, ২০১৫

#WhoisMuhammad : আল্লাহ যাকে করেছেন সর্বোচ্চ সম্মানিত (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)

​[আমি আমার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে ভালোবাসি, তার বলে যাওয়া কথাগুলোকে বুকের ভেতরে নিয়ে কাজ করতে চেষ্টা করি। তিনি যা ভালো বলেছেন, তাকে ভালো মনে করে করতে চাই, অর্জন করতে চেষ্টা করি। তিনি যা নিষেধ করেছেন তা থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করি। শার্লি হেবদো টাইপের যত নোংরামি নাটক মঞ্চস্থ হয় এই দুনিয়ায়, তা আমাদের এই পবিত্র চরিত্রের মানুষটি সম্মান ও ইজ্জতের প্রতি একটি আঁচড়ও দিতে পারে না। আমাদের ভালোবাসার মানুষটিকে (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নিয়ে আমার এই ক্ষুদ্রতম আয়োজন, যার অধিকাংশ কথা আমি 'রিয়াদুস সলিহীন' গ্রন্থের আলোকে লিখেছি।]

হত্যাকারী ইসরাইলি ফোর্সের খুনী নারীদেরকে গার্নিয়ার কোম্পানীর সেলিব্রেশন​​

[লিখেছিলাম গতবছর ২০১৪ সালের আগস্টে, গাজায় ইসরাইলি বাহিনী কর্তৃক নিরস্ত্র মানুষদেরকে নির্বিচারে হত্যাকান্ড চালানোর পরে।]

​​০৬ আগস্ট, ২০১৪

Garnier বা গার্নিয়ার পণ্য আমাদের দেশেও বেশ প্রচলিত। L'oreal পণ্যটিরও বেশ কদর আছে বাংলাদেশি নারীদের মাঝে। যেমনটিই থাকুক, ওরা ফিলিস্তিনিদের সদ্য হত্যাযজ্ঞে যুক্ত থাকা IDF তথা ইসরাইল ডিফেন্স ফোর্সের নারীদের প্রোফাক্ট স্পন্সর করেছে। মুখে আর চুলে যখন গার্নিয়ার বা লোরেল পন্য মাখবে আমাদের বোনেরা, তারা যেন অনুভব করে তাদের ফিলিস্তিনি বোন আর শিশুদের রক্ত মাখছে।

১৪ জানু, ২০১৫

মনের জানালা মাঝে # ২১


(২২৩)
গহন অন্ধকার রাতের বেলায় আলোর আশায় তৃষ্ণার্ত কোন দ্বীপবাসী মানুষ হয়ত অস্থির হয়ে ভোরের সূর্যের অপেক্ষা করে। আশা করে সূর্যালোকে তার প্রাণ ফিরে আসবে, সে গড়ে তুলবে তার জীবন। মিষ্টি রোদ্দুরের আলো চাওয়া লোকটি যদি দেখতে পায় সেই সূর্য তাকে স্নিগ্ধ আলো না দিয়ে হয়ত প্রখর উত্তাপে দিশেহারা করে দিচ্ছে, সে তখন সেই উত্তাপ কখন ম্লান হবে সেই আশায় ব্যাকুল হয়। এই আশা, এই ক্রমাগত যুঝতে থাকা, এই অন্ধকার রাত কিংবা উত্তপ্ত সূর্যের বর্তমান মিলিয়েই আমাদের জীবন। শুধু আল্লাহ সত্যি, তিনি সবসময় সবকিছু জানেন, শুনেন। তার কাছে ফিরে যাওয়ার মাঝেই রয়েছে জীবনের প্রকৃত সত্য দর্শন...

(২২৪)
আমাদের জীবনটা ক্ষণস্থায়ী। তার চেয়েও বেশি ক্ষণস্থায়ী আমাদের কষ্ট, আনন্দ, ভালোবাসা, ঘৃণার অনুভূতিগুলো। এত শত শব্দ লেখি, এত রকম কথা বলি... সবই একসময় বিস্মৃতি হয়ে যাবে। কেউ মনে রাখবে না আমাদেরকে। রয়ে যাবে আমাদের চিহ্নগুলো, অল্প কিছুকাল। তারপর এমন হয়ে যাবো, যেন ছিলামই না কোনদিন। এভাবেই প্রায় সবাইই হারিয়ে গেছে সময়ের স্রোতে ভেসে। আমাদের এইসব প্রচেষ্টা, এইসব ভাবনা, এইসব লেখালেখি -- হয়ত কিছুই নয়। হয়ত এগুলো কেবল হারিয়ে যেতেই জন্ম নিয়েছে। আসল তো বুকের ভেতরের ছোট্ট মাংসপিন্ডটি, যে সৃষ্টি করে ভাবনা, ভালোবাসা, ঘৃণা, ক্রোধ ও উপহাসের শব্দ ও অনুভূতিগুলো। ঐটা নিয়েই সবাই চলে যায়... ঐটাতেই প্রতিফলিত হয় আমাদের ভবিষ্যত, অনন্তকালের ভবিষ্যত...

(২২৫)
বাইরের সৌন্দর্য আকর্ষণ করে, ভেতরের সৌন্দর্য মুগ্ধ করে।

(২২৬)
হাল ছাড়বেন না! ভালো কিছু হতে সময় লাগেই...

(২২৭)
জীবনের কাজগুলোর প্রায়োরিটি সেট করা খুব খুব বেশি গুরুত্বপূর্ণ। একই সময়ে অনেক কাজ ভালো লাগে বা করার দরকার মনে হয়। কিন্তু বেশি প্রয়োজনীয় কাজটা খুঁজে বের করতে না পারলে ক্ষতি গুণতে হয় জীবনে... আল্লাহ আমাদের সময়ে ও কাজে বারাকাহ দিন।

(২২৮)
কখনো কখনো হয়ত আমাদের কাছের মানুষদের আত্মিক ও মানসিক ব্যাধির ভয়াবহতা আমাদের কল্পনার অধিক হয়। আমাদের হৃদয় হয়ত তা ভাবতে বা মানতে চায় না...

(২২৯)
অনেক সহজ কাজও আসলে অনেক কঠিন। আল্লাহ কেবল সহজ করে দেন, নইলে হাজার চেষ্টা করেও কিছু করা যায় না। প্রতিটি কাজই অনেক কঠিন, বিশেষ করে ভালো কাজগুলো। আল্লাহ আমাদেরকে মাফ করুন।

 (২৩০)
পৃথিবীর জীবনটাতে সবাই অলীক অবাস্তবতায় ডুবে থাকে। কিছু মানুষ বিভ্রম দেখে মরুভূমির তপ্ত বালুতে হেঁটে হেঁটে মরীচিকার মাঝে, কেউ বিভ্রম দেখে সিনেপ্লেক্সের আরামকেদারায় বসে চোখে ত্রিমাত্রিক চশমা দিয়ে। সবই বিভ্রম, অনুভূতি আলাদা। দিনশেষে... পার্থিব জিনিসগুলোর সবই হারিয়ে যায়, সবই মিথ্যে ডুবে থাকা...

(২৩১)
মানব জীবনে যন্ত্রণা কখনো কমে না, শুধুমাত্র যন্ত্রণার রূপান্তর ঘটে, ধরণ বদলে যায়। যন্ত্রণার অবসান কেবল জান্নাতে পা রাখলে তবেই সম্ভব।

(২৩২)
একটা বইনেশায় ডুবে থাকা প্রজন্ম ছাড়া বড় ধরণের কোন উন্নতি সম্ভব না এই সমাজে। এমনকি ব্যক্তিগত উন্নতি ও শান্তিলাভের জন্যও প্রচুর পড়াশোনা দরকার।

(২৩৩)
পৃথিবীর মানুষগুলোর মন খুব অপূর্ণতায় ভরপুর। যেহেতু এই পৃথিবী জান্নাত নয়, তাই একটা মানুষকে যতই যত্ন করা হোক, যতই সেবা করা হোক, যতই প্রয়োজনীয় বস্তু দিয়ে সাজিয়ে দেয়া হোক -- সে তবু সন্তুষ্ট হবে না, অতৃপ্তিতে জ্বলবে। নিশ্চয়ই মানুষ অকৃতজ্ঞ ও বেঈমান।

(২৩৪)
আজকাল পত্রিকার দিকে তাকানো হয় খুব কম, তাই পত্রিকাওয়ালাদের নোংরামির অনেক কিছুই জানা হয় না। আজকে দেখলাম প্রথম আলো ফিলিস্তিনের মুক্তি আন্দোলনের প্রাণ যে হামাস, তাদেরকেও এরা জঙ্গী সংগঠন হিসেবে উল্লেখ করেছে! কী স্থূল ইসলামবিদ্বেষ, কী চরম মিথ্যাচার!! এমন জঘন্য প্রোপাগান্ডার সাথে জড়িত প্রথম আলোর এইসব ইতর সাংবাদিকদের আল্লাহ হিদায়াত দিন, নইলে তাদের ধ্বংস করে দিন। প্রথম আলো খুব শীঘ্রই জনগণের কাছে ধিকৃত, নিন্দিত হবে। এরকম অজস্র পত্রিকা এই দেশে ছিলো। ১০-২০ বছরের বেশি তারা মিথ্যাচার করে টিকতে পারেনি অতীতে, আগামীতেও পারবে না ইনশাআল্লাহ। সত্য সবসময়েই সুন্দর এবং স্থায়ী।

(২৩৫)
যে হৃদয়ে শান্তি নেই, সে অন্যদের শান্তি দিতে পারে না।
যে হৃদয়ে স্নিগ্ধতা নেই, সে অন্যদের স্নিগ্ধ অনুভূতি দিতে পারে না।
যে হৃদয়ে ভালোবাসা নেই, সে অন্যদের ভালোবাসতে পারে না।

(২৩৬)
ফজরের সলাতের পরের স্নিগ্ধ আলো আমাদের হৃদয়ের জন্য আরোগ্য।

১৩ জানু, ২০১৫

'ইসলামিক' নারীবাদীদের উচিত যথেচ্ছা সমালোচনা করায় সতর্ক হওয়া

​কিছু ছোটভাই প্রায়ই মজা করতো ফেসবুকে দাওয়াহ নাকি মদের বারে গিয়ে দাওয়াত দেওয়ার মতন। এই ধরণের কথায় আমি "হ্যাঁ/না" টাইপের মতামত প্রকাশ করিনি কখনো। তবে এটা সত্য, ফেসবুকে ভালো কথাতে কখনো কখনো কাজে লাগে, বেশিরভাগ সময়ে লাগেনা। ফেসবুকের সবচেয়ে খারাপ জিনিস হলো এত সহজে লেখা যায় ও ছড়ানো যায় যে সত্য-মিথ্যা, কুতসা, নিন্দা, গীবত, অশ্লীলতা খুব সহজেই দূরে চলে যায়। আবার ভালো কথা বলিয়েরা বলতে বলতে কী বলছেন তা হারিয়ে ফেলেন।

১১ জানু, ২০১৫

চরিত্রের সাথে স্বভাবের সৌন্দর্যও খুব গুরুত্বপূর্ণ

​আমাদের একেকজনের চরিত্র এবং স্বভাব বা আচার-আচরণ দু'টো ঠিক একই জিনিস নয়, character এবং habit একই নয় বরং পার্থক্য রয়েছে। ব্যাপারটা এমন নয় যে আমাদের চরিত্র সুরক্ষিত সুন্দর রাখতে পারছি বলে স্বভাব বা ব্যবহার গৌণ ও মূল্যহীণ হয়ে গেলো। বরং, আমাদের আচার-আচরণ অন্যদেরকে আমাদের কাছে টানে অথবা দূরে সরিয়ে দেয়। আল্লাহ আমাদের উত্তম আখলাক দান করুন।

২৯ ডিসে, ২০১৪

সেই সময়ে আমাদের পরিবার ও বন্ধুবান্ধবদের জন্য হাতে অনেক সময় থাকতো

অনেকদিন আগের কথা...

যখন 'উইন্ডো' ছিলো ঘরের জানালার চারকোনা ফাঁকা জায়গা এবং 'অ্যাপ্লিকেশন' ছিলো কাগজের উপরে কিছু লেখা। যখন 'কীবোর্ড' ছিলো একটি পিয়ানো এবং 'মাউস' ছিলো একটি প্রাণী। যখন 'ফাইল' ছিলো গুরুত্বপূর্ণ অফিসিয়াল বস্তু এবং 'হার্ড ড্রাইভ' ছিলো অশান্তিময় পথযাত্রা, যখন 'কাট' করা হতো ছুরি দিয়ে এবং 'পেস্ট' করা হতো আঠা দিয়ে। যখন 'ওয়েব' ছিলো  মাকড়শার জাল এবং 'ভাইরাস' ছিলো ফ্লু। যখন অ্যাপেল এবং ব্ল্যাকবেরি ছিলো শুধুই ফল...

সেই সময়ে আমাদের পরিবার ও বন্ধুবান্ধবদের জন্য হাতে অনেক সময় থাকতো।

[শাইখ যাহির মাহমুদের ফেসবুক পেজ থেকে অনূদিত, ২৩ আগস্ট, ২০১৪]

[গ্রন্থচারণ] সুবহে সাদিক : খুররম মুরাদ


আমরা কেউ একদিনে বদলে যেতে পারিনা। কত ভুল প্রতিদিন করি, কত যে পাপ করি। শয়তান এসে হাল ছাড়িয়ে দেয়ার জন্য কত যে কুমন্ত্রণা দেয়!! এই পৃথিবীর প্রতিটা মানুষেরই লক্ষ্য আদর্শ মানুষটির মতন হওয়া হলেও কেউ কোনদিন পুরোপুরি তেমন, হতে পারবে না। তাই কেউ কখনো *অ্যাবসোলিউট* ভালো মানুষ হতে পারবে না দুনিয়াতে, তাই তার আজীবনই বিনয়ী থাকতে হবে এই ভেবে যে সত্যিকারের ভালো মানুষ হওয়া তার ঢের দেরি।

আত্মার উন্নয়ন এক অতি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। সবার প্রথমে দরকার জীবনটার উদ্দেশ্য নির্ধারণ করা। জীবনের উদ্দেশ্য আল্লাহকে সন্তুষ্ট করা, আল্লাহর জন্যই আমাদের এই জীবন। সেই বিষয়টা যেই অবস্থাতেই আছি, সেই অবস্থাতেই নিজেকে বুঝানো। অর্থাৎ, জীবনটাকে অর্থবহ আর শান্তিপূর্ণ করতে হলে আল্লাহর পথে গিয়ে যেতে হবে, সেই জন্য দৃঢ় সংকল্প করতে হবে। হৃদয়ের যত্ন নিতে হবে, এই যত্ন তার বেড়ে ওঠা ও পরিপুষ্টির জন্য দরকার। আমাদের হৃদয়কে পরিশুদ্ধ করার মাঝে রয়েছে সফলতা। যিনি হৃদয়কে পরিশুদ্ধ করতে পারেন, তিনি তো সত্যিকার সফল। আমাদের লক্ষ্য তো জান্নাত লাভ করা, আর তা অর্জন করা সম্ভব আল্লাহ সন্তুষ্টির মাধ্যমে। জান্নাত লাভ কোনভাবেই আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন ছাড়া সম্ভব নয়। অন্যদিকে রব্বুল আলামীনের সন্তুষ্টি পেলেই জান্নাত অর্জন সম্ভব। তাই, যেভাবেই হোক, জীবনের প্রতিটি কাজের উদ্দেশ্যই হতে হবে আল্লাহকে সন্তুষ্ট করা। এতেই সফলতা, এতেই শান্তি, এতেই পরিতৃপ্তি...

ঐ পারেতে সর্বসুখ বোকাদের বিশ্বাস


এক বনে এক কাক বাস করতো।
কাকটি তার জীবন নিয়ে খুবই সন্তুষ্ট ছিল। কিন্তু একদিন সে একটি রাজহাঁস দেখতে পেল...
কিন্তু কথায় আছে, "নদীর এ পার কহে ছাড়িয়া নিঃশ্বাস, ও পারেতে সর্বসুখ আমার বিশ্বাস।" কাকটি ভাবলো, আহা! রাজহাঁস কতই না সুন্দর!  নিশ্চয়ই সে এই পৃথিবীর সবচেয়ে সুখী পাখি। কাকটি তার এই ভাবনার কথা রাজহাঁসকে জানালো।

রাজহাঁস জবাব দিলো, "আসলে, আমি ভাবতাম আমিই বুঝি এখানকার সবচেয়ে সুখী পাখি যতক্ষণ না আমি একটি টিয়াকে দেখলাম... টিয়ার গায়ে আছে দু'ধরনের রং। তাই এখন আমি মনে করি, টিয়াই হলো সৃষ্টির মাঝে সবচেয়ে সুখী পাখি।"

কাক এরপর গেল টিয়ার কাছে। টিয়া তাকে বললো, "আমি ছিলাম খুব খুব সুখী, যতক্ষণ না আমি ময়ূরকে দেখতে পেলাম...... আমার গায়ে তো মাত্র দু'টি রং, আর ময়ূরের শরীরে কত বর্ণেরই না সমাহার!"

কাক এরপর চিড়িয়াখানায় গেল ময়ূরের সাথে দেখা করতে। সেখানে সে দেখতে পেল, ময়ূরকে দেখতে শত শত মানুষ ভিড় জমিয়েছে।  সবাই চলে যাওয়ার পর, কাক ময়ূরের কাছে গেল--
"ও ময়ূর, তুমি দেখতে কতই না সুন্দর! তোমাকে দেখতে প্রতিদিন হাজারো মানুষ ভিড় জমায়। আর আমি? আমাকে দেখলেই মানুষ দূর দূর করে তাড়িয়ে দেয়। তুমি নিশ্চয়ই জগতের সবচেয়ে সুখী পাখি।"

ময়ূর জবাব দিলো,
"আমিও ভাবতাম, আমিই বোধহয় এই গ্রহের সবচেয়ে সুন্দর এবং সুখী পাখি। কিন্তু এই সৌন্দর্যের কারণে আমাকে খাঁচায় বন্দি করে রাখা হয়েছে। আমি এই চিড়িয়াখানা খুব ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করেছি এবং বুঝতে পেরেছি কাকই হচ্ছে একমাত্র পাখি যাকে কখনোই খাঁচায় বন্দি করা হয় না।তাই গত ক'দিন যাবত আমি ভাবছি, ইশ! আমি যদি কাক হতাম, তাহলে যেখানে খুশি ঘুরে বেড়াতে পারতাম।"

....................
এটাই হলো আমাদের সমস্যা।
আমরা অহেতুক অন্যদের সাথে নিজেদের তুলনা করি আর দুঃখ পাই।
আল্লাহ আমাদের যা দিয়েছেন,আমরা তার কোন গুরুত্ব দিই না। এভাবে আমরা সকলেই দুঃখের দুষ্টচক্রে পড়ে ঘুরপাক খেতে থাকি।

তাই স্রষ্টা আপনাকে যা দিয়েছেন, তার গুরুত্ব দিয়ে, সুখী হওয়ার গোপন রহস্যটা বুঝতে শিখুন আর অহেতুক অন্যদের সাথে তুলনায় নিয়ে নিজে অসুখী হওয়াকে দূরে ছুড়ে ফেলুন।

* * * * * * *
শাইখ যাহির মাহমুদের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ থেকে সংগৃহীত।
অনুবাদ কৃতজ্ঞতা: ইমরান হেলাল]

মনের জানালা মাঝে # ২০


(২১২)
কোন কিছু গড়ে তুলতে অনেকদিন সময় লাগে। ভাঙ্গতে চাইলে কিছুই প্রয়োজন হয়না। অনেক সময় একটু অসতর্কতার কারণেও অনেক কিছু ভেঙ্গে চৌচির হয়ে যায়।

(২১৩)
মানুষ বড় অদ্ভুত। সে যখন জানে কেউ তার সফলতার প্রতি আশা করে, কেউ তাকে ভালোবাসে, কেউ তাকে মূল্য দেয়-- তখন সে প্রবলভাবে চেষ্টা করতে থাকে যেন তার কাজ অনেক সুন্দর হয়। ভালোবাসার অনুভূতি মানুষকে আত্মবিশ্বাস যোগায়। অন্যদিকে যখন সে বুঝতে পারে কোথাও তাকে অপছন্দ করা হচ্ছে, যখন সে সমালোচনার মুখোমুখি হয় অকারণেই, তখন সে এক ধরণের নির্বিকারতা অনুভব করে, তার আচরণ ও কাজ আরো বেশি কোমলতাবিবর্জিত হয়ে যায়, কখনো কখনো সে চায় ঐ ব্যক্তি তার কাজের সৌন্দর্যই আর দেখতে না পাক।

(২১৪)
আপনার জীবনের অপূর্ণতাগুলোই আপনার পার্থিব জীবনের পূর্ণতা। আপনার অপূর্ণতা,অপ্রাপ্তি,অশান্তি আপনাকে মনে করিয়ে দিবে আপনি এগুলোর অনুভূতিকে আখিরাতে চান না, ফলে জান্নাতের আকাঙ্ক্ষা আপনাকে আরো বেশি তীব্র হয়ে ধরা দিবে।

(২১৫)
আমরা যারা ভালো কাজের পরিকল্পনা করি, অথবা প্রতিদিন/সপ্তাহ/মাসের রুটিন তৈরি করি যেন সময় বাঁচিয়ে সময়ের উপযুক্ত ব্যবহার করে নিজেকে উন্নত করে ভালো কাজের পরিমাণ বাড়িয়ে দেয়া যায় --

তারা খুব কমই হয়ত লক্ষ্যপূরণ করতে পারি। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই রুটিন বা প্ল্যান অল্প ক'দিন গিয়ে আর সেভাবে আগায় না। তাই অনেকে নিয়মিত প্ল্যান করি, বারবার ফসকে গেলেও আরো করি কেননা রুটিন বা প্ল্যানবিহীন দিনগুলোর সময় খুবই নষ্ট হয় আর তেমন কোন কাজই হয় না।

(২১৬)
পরিকল্পনা করা বন্ধ করে দেয়া মানে নিজের পরাজয় নিশ্চিত করা। আমাদের প্রতিটি প্ল্যানমাফিক কাজ আমাদের আপাতত সফলতা না দিলেও অনেকদিন পরে জীবনের পেছনে তাকালে দেখা যায় সেই প্ল্যান করে কাজ করে এগিয়ে যাওয়া পরিশ্রমটুকু আমাদের এমন সব পথ খুলে দিয়ে এগিয়ে আসতে দিয়েছে যা অনেক অনেক বেশি সুন্দর অথচ প্রথম করা প্ল্যানিং-এর মানসিকতা ও বুদ্ধিতে আমরা জানতাম না নিজেকে আমরা এতদূর নিয়ে আসতে পারবো!

তাই কখনো রুটিন করা ও প্ল্যানিং করা বন্ধ করা উচিত নয় বরং নিয়মিত পরিকল্পনা করুন, পরিকল্পনার আপডেট করে আরো উন্নত করুন এবং প্রচেষ্টা করতে থাকুন। পথ দেখানোর মালিক আল্লাহ, তিনি আমাদের অনেক উত্তম গন্তব্যে নিয়ে যাবেন ইনশা আল্লাহ।

(২১৭)
কখনো কখনো শব্দের চেয়ে নৈঃশব্দ ভয়ংকর!!

(২১৮)
আমরা যাদের ভালোবাসি তাদেরকে মূলত নিজেদের অজান্তেই খুব বেশি অনুকরণ করে ফেলি। তাদের ভালোলাগা আমাদের কাছেও ভালোলাগা হয়ে যায়, তাদের প্রিয় জিনিসগুলো আমাদের কাছেও প্রিয় হয়ে ধরা দেয়। তাদের প্রিয় শব্দগুলো আমাদের প্রিয় হয়ে যায়, তাদের প্রিয় মানুষগুলোও আমাদের প্রিয় হয়। মানবিক ভালোবাসা অথবা ঐশ্বরিক ভালোবাসা উভয়ক্ষেত্রেই এমনটা হয়ে থাকে...

(২১৯)
কিছু মানুষ কোন খাবার খেতে সুস্বাদু লাগলেও 'মজাদার বা সুস্বাদু' না বলে বরং বলে 'সুন্দর খাবার'। তাদের কাছে পৃথিবীর সবই 'সুন্দর' আর 'পচা'!! ব্যাপারটা মজার! হিহি!

(২২০)​
যতই সময় পেরিয়ে যায়, বুঝতে পারি আল্লাহ আমাকে যে পথে ঘুরিয়েছেন সেটা আমার পছন্দ করা পথের চেয়ে হাজার হাজার গুণ বেশি কল্যাণকর আর শান্তির। আলহামদুলিল্লাহ! হে আমাদের প্রিয় রব! আপনি সত্যিই ক্ষমাশীল, প্রেমময়, রাহমান।

(২২১)
প্রতিটি আলোক উৎস নিজেকে পুড়িয়ে অন্যকে আলো দেয়। মোমবাতি নিজেকে পোড়ায়; লন্ঠন পোড়ায় নিজের তেল, নিজের সলতে এবং নিজেকে নিঃশেষ করে অন্যকে আলো দেয়।  আলো ছড়িয়ে দেয়ার, অন্যদের সাহায্য করার ব্যাপারটাই এমন। তখনই কেবল অন্যদের আলোকিত করা যায় যখন কেউ নিজেকে পোড়ায়। হয়ত, এই পুড়ে যাওয়ার মাঝে, আলোকউৎস হবার মাঝেই রয়েছে সার্থকতা। তবু এতটুকু নিশ্চিত, নিজেকে না পুড়িয়ে আলো ছড়ানো যায় না।

তবে সবাই আলো চেনে না, যারা আলোকে ভালোবাসে, যারা আলোর আকাঙ্ক্ষায় অধীর থাকে, তাদের কাছেই আলো হয় উপকারী শক্তি, প্রাণসঞ্চারক, আনন্দোদ্দীপক... তারা সেই আলোকে কাজে লাগাতে পারে।

অন্যদের কাছে আলো মানে স্রেফ আলো নামক কিছুমিছুমাত্র; আশাজাগানিয়া, ভালোবাসার কোন শক্তি নয়...

(২২২)
অমুক ফ্ল্যাটের ছেলেটা বুঝে না লাঙ্গল কিংবা পাওয়ার টিলারের মূল্য, চাষা বুঝে না জিআরই স্কোরে কী হয়, পাড়ার মস্তান বুঝে না কবিতা, স্টেশনের কুলিটা জানে না থ্রিজিতে কী এমন লাভ... তেমনি ফুল বাগানে সুন্দর, ফুল সুন্দর ফুলপ্রেমীর ঘরের ফুলদানিতে কিংবা ফুলে মুগ্ধ কোন নারীর খোঁপায়...

যে যার কদর বুঝে না, তার কাছে সেই জিনিসের মূল্য নেই। কেউ হয়ত যা পায় তা চায় না, যা পায় তা বুঝে না। উলুবনে মুক্তো ছড়িয়ে থাকলে তো লাভ নেই, মুক্তো থাকবে হারের মাঝে, সৌন্দর্যবর্ধনে, কারো প্রাণকে জুড়িয়ে দিতে।

চারিদিকে বেমানান সব মিল। অমিলের মাঝে মিলের প্রভাব, মিলের মাঝে অমিল। শান্তিপ্রেমীর অশান্তি আর অশান্তিপ্রেমীর শান্তি যেন একই রকম! বিচিত্রতা এই জগতে... ততোধিক বিচিত্র এই মানবগোষ্ঠী ও তাদের রুচি...