৮ মার্চ, ২০১৪

হাফিজের কবিতা [১] : আশা ও আনন্দ

​কেউ যদি আমার সাথে বসে,
আর আমরা আমাদের সেই প্রিয়তমকে নিয়ে আলাপ করি

যদি আমি তার অন্তরে স্বস্তি বয়ে আনতে না পারি.
যদি আমি তাকে আগের চেয়ে ভালো অনুভব করাতে না পারি
তাকে নিয়ে এবং এই পৃথিবীকে নিয়ে,

তাহলে হাফিজ,
দ্রুত ছুটে যাও মসজিদে আর সিজদাবনত হও --

কেননা তুমি এইমাত্র
আমার জানা একমাত্র পাপটি করেছ।

-- পারস্যের কবি হাফিজ

[আই হার্ড গড লাফিং: পোয়েমস অফ হোপ এন্ড জয়]

৭ মার্চ, ২০১৪

শামস তাবরিজি [১]



অতীত আমাদের মনে ঘন কুয়াশার মত। আর ভবিষ্যত? সম্পূর্ণ একটা স্বপ্ন। আমরা ভবিষ্যত কেমন হবে তা ধারণাই করতে পারি না, যেমন পারিনা অতীতকে বদলে দিতে।~ শামস তাবরিজি

 * * *
যখন সবাই কিছু একটা হতে চাইছে, তখন তুমি বরং কিছুই হতে যেয়ো না। শূণ্যতার সীমানায় নিজেকে মেলে দাও। মানুষের উচিত একটা পাত্রের মতন হওয়া। একটি পাত্রের মধ্যকার শূণ্যতা যেমন তাকে ধরে রাখে, তেমনি একজন মানুষকে ধরে থাকে তার নিজের কিছুই না হয়ে থাকার সচেতনতা। ~ শামস তাবরিজি

 * * *
"লোকের ছলচাতুরি আর প্রতারণা নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ো না। কিছু লোক যদি তোমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে এবং তোমাকে কষ্ট দিতে চায়, তবে আল্লাহও তো তাদের জন্য  কৌশল করছেন। যারা ফাঁদ পাতে তারা তাদের নিজেদের পাতা ফাঁদেই পড়ে যায়। কোন খারাপ কাজই শাস্তিবিহীন থাকে না, কোন ভালো কাজই পুরষ্কার ছাড়া যায় না। ন্যায়বিচারের উপরে বিশ্বাস রাখো এবং বাকিটা ছেড়ে দাও। ~ শামস তাবরিজি

 * * *
শেখার জন্য তুমি পড়াশোনা করো, কিন্তু বুঝতে হলো তোমার প্রয়োজন ভালোবাসা। ~ শামস তাবরিজি

 * * *
​এই​ পথ কোথায় গিয়ে ঠেকেছে তা জানার চেষ্টা করা অর্থহীন। তুমি শুধু প্রথম ধাপটি নিয়ে চিন্তা করো, পরেরগুলো এমনিতেই চলে আসবে।" ~ শামস তাবরিজি ​

 * * *
পৃথিবীটা সুউচ্চ পর্বতের মতন, এখানে প্রতিধ্বনি নির্ভর করে তোমার উপরেই। তুমি যদি ভালো কিছুর জন্য চিৎকার করো, পৃথিবীও তোমাকে তেমন প্রতিদান দিবে। তুমি যদি খারাপ কথা বলে চিৎকার দাও, সে তোমাকে তেমনই ফেরত দিবে। কেউ যদি তোমার সম্পর্কে খারাপ কিছু বলে, তাদের সম্পর্কে ভালো কথা বলো। পৃথিবীকে বদলে দিতে তোমার হৃদয়কে বদলে দাও। ~ শামস তাবরিজি

 * * *
জীবনের পরিবর্তনগুলোর বিরুদ্ধে রুখে না দাঁড়িয়ে বরং আত্মসমর্পণ করুন। জীবনকে আপনার বিরুদ্ধে না রেখে বরং আপনার সঙ্গী করে নিন। "আমার জীবনটা পুরো উলটে যাবে" মনে করে দুশ্চিন্তা করতে যাবেন না। আপনি কেমন করে জানেন সেই ওলটানো জীবন এই সোজা অবস্থাটির চেয়ে ভালো হবে না? ~ শামস তাবরিজি

[উদ্ধৃতিগুলোর ইন্টারনেট থেকে ইংরেজিতে সংগৃহীত এবং অনুবাদকৃত]

৬ মার্চ, ২০১৪

মনের জানালা মাঝে # ৯


(৯০)
মানুষের কাছে ভালোবাসা পাবার যে আর্তিটা আমাদের ভেতরে কাজ করে সে ভালোবাসাটুকু যদি আমরা আল্লাহর বান্দাদের প্রতি বিলিয়ে দিই, আল্লাহ নিশ্চয়ই আমাদের অভাবটুকুও পূরণ করে দিবেন।

(৯১)
ফেসবুকে সম্ভবত বেশিরভাগ মানুষ নিজেকে 'শো' করতে আসে। যারা তাদের প্রদর্শনের উপকরণ কম পায় কিংবা চায়না অথবা এর চাইতে এক কাঠি বেশি সরেস, তারা মূলত অন্যদের উষ্টা দিয়ে আনন্দ পেতে আসে। একটা কথা যেমনই হোক, তাতে কিছু বিরোধিতা করে নিজের বিশেষত্ব প্রমাণের চেষ্টা না করলে হয় না। এই উপলব্ধিটা তাদের কখনই হয়ত হয় না যে পৃথিবীর তাবৎ জিনিসের সমালোচনা করা সম্ভব, কিন্তু কোন কিছুর ভেতর থেকে সৌন্দর্য ও শিক্ষা পেতে হলে নিজের ভেতরে কিছু থাকতে হয়। অপরকে অপমানিত, লাঞ্ছিত ও বিপর্যস্ত করে আমাদের ঠিক বিশেষ কোন অর্জন হয় না, নিজের দেমাগকে সন্তুষ্ট করা ছাড়া।

ভালোবাসা শিখতে হয়, মুগ্ধ হতে মন তৈরি করার চেষ্টা করতে হয়... কিন্তু ঘৃণা করা শিখতে হয়না, রাগ করতে শিখতে হয়না, রাগ সামলাতে পরিশ্রম ও সাধনা করতে হয়। সব সৃষ্টিশীল ও ধ্বংসকারী বিষয়গুলোই এমন পরস্পর বিপরীতধর্মী।

এভাবে আমরা মূলত আমাদের অহং (ইগো) বাড়িয়ে তুলি যত্ন করে, নিজেকে নিজে ধ্বংস করতে থাকি, আমাদের সাথে আমাদের রবের সম্পর্কে দুরত্ব সৃষ্টি হয়ে যায়, যোজন যোজন দূরে চলে যাই অন্তরের আনন্দ থেকে... একটু একটু করে...

(৯২)
নিজেই যখন নিজের শত্রু, তখন আর অন্য লোকের দরকার হয় না... দোষ চাপানো, রাগ-ক্ষোভেরও প্রয়োজন পড়ে না।

(৯৩)
কখনো কখনো একই ধরণের কিছু মানুষ এবং তাদের চিন্তাভাবনা সম্পর্কে আমরা যত কম জানতে পারি, আমাদের মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য তা ততটাই উত্তম। ‪

#এড়িয়ে_যেতে_পারাই_সফলতা‬

(৯৪)
এগিয়ে যেতে হলে আপনাকে ছাড় দিতে হবে, অনেক কিছু না দেখার এবং না অনুভব করার চেষ্টা করতে হবে। সবকিছুকে গুরুত্ব দিয়ে আঁকড়ে ধরে থাকলে এগিয়ে যেতে পারবেন না, আপনাকে নিয়তই পরাজিত হতে হবে জীবনের বাঁকে বাঁকে...

(৯৫)
দুশ্চিন্তা আপনার আগামীকালের সমস্যা দূর করতে পারবে না, বরং আজকের শান্তিটুকু দূর করে দিবে।

(৯৬)
কোন কিছুর কারণে যদি আপনার মাঝে সুখ অনুপস্থিত থাকে, জেনে রাখুন তা পেলেও আপনি এমনই থাকবেন। একবার কোথায় যেন পড়েছিলাম, সুখ আসলে আমাদের মনের একটা পছন্দ, কোন অবস্থা নয়। কথাটা নিগূঢ় সত্য...


(৯৭)
চলার পথে সকল কুত্তার ঘেউঘেউ আমলে নিয়ে তার উত্তর দিতে গেলে আপনি সঠিকভাবে গন্তব্যে পৌঁছতে পারবেন না।

(৯৮)
জীবনে কোন বিষয়গুলোকে এড়িয়ে যেতে হবে -- এই শিক্ষাটা জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষাগুলোর একটি। ভুল করবেন তো, ধরা খেতেই হবে।

(৯৯)
এভাবে সবাই একদিন মরে যাবে। কেউ বিখ্যাত অভিনেতা হতে পারে, কেউ বিখ্যাত ব্যবসায়ী, কেউ বিখ্যাত রূপবিক্রেতা, কেউ সুস্বাস্থ্যের অথবা রুগ্ন, অখ্যাত হলেও যেতে হবে, সম্পদ থাকলেও যেতে হবে, রিক্ত অসহায় হলেও যেতে হবে। চলে যাবার এই মিছিল আমাদের অঙ্গুলিনির্দেশ করে জীবনের অর্থ আছে, এই অজস্র রহস্যের পৃথিবীর নাগাল পেরিয়ে অনন্তের পথে পা বাড়ালেই একসময় রহস্যের জাল ছিন্ন হয়ে পরিষ্কার হয়ে যেতে থাকবে ক্রমশ।

এই সবই মহান আল্লাহর সৃষ্টি। তিনি আমাদেরকে একটা সময়ের জন্য পৃথিবীতে পাঠিয়েছেন, এখানে আমরা চোখের সামনে দেখা জ্ঞান দিয়ে সব বিচার করি। অন্যায় দেখে দেখে অনেকেই ভাবি এটাই স্বাভাবিক, ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র জ্ঞান নিয়ে এই বিশাল বিশ্ব পৃথিবীকে বিচার করতে বসে যাই। এটা বুঝতে খুব বেশি জ্ঞান লাগে না যে এগুলোর পেছনে যিনি আছেন, তিনি একজন প্রবল ক্ষমতাশালী ও জ্ঞানী, যিনি রাজাধিরাজ। সকল অন্যায়ের বিচার আল্লাহ একদিন করবেন। তিনি সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম বিচারে মুক্তি দিবেন অসহায় ভালো মানুষদের; যারা তাকে ভয় করে পৃথিবীতে নিজেকে রক্ষা করেছে তাদেরকে তিনি করবেন পুরষ্কৃত।

আমরা সেই বিশাল মাঠে পুরষ্কার নিতে আগ্রহী কিনা এটি একটি বড় প্রশ্ন --আমাদের কাজেই এর উত্তর মিলবে প্রতিদিন। এই পৃথিবীতে খ্যাতি, সম্পদ, যশ, সুখের খোঁজে এতটা ব্যতিব্যস্ত যেন না হই যে তা আমাদের পরকালের সত্যিকারের জগতকে ভুলিয়ে দিবে। আল্লাহ আমাদেরকে দয়া করুন, রহম করুন, ক্ষমা করুন, তার পছন্দের পথে পরিচালিত করুন।

মনের জানালা মাঝে # ৮



(৮০)
সবকিছুর একটা শ্রেষ্ঠ সময় থাকে, একটা সময় নির্দিষ্ট সময় থাকে যেসময় সে পূর্ণ বিকশিত হয়, শক্তিশালী হয়। নাইট কুইন ঠিক রাতেই বেলাতেই যেমন সুশোভিত হয়। চাঁদ পূর্ণ আলোকে আলোকিত হয় পূর্ণিমার রাতে, একটি মাসকে চাঁদের জীবন ধরলে ঠিক ১৪ এবং ১৫ তম দিনটিও চাঁদের যৌবন, সে রাতগুলোতে তার উপচে পড়া আলোয় ভেসে যায় বিশ্বচরাচর। পূর্ণিমার পরেও চাঁদ থাকে, আলো দেয়, পূর্ণিমার মতন আর হয়না।

সৃষ্টির মাঝে এমন দ্যোতনা বুঝি আরো অনেক খুঁজে পাওয়া যাবে। শ্রেষ্ঠ সময়টি পেরিয়ে গেলে যা থাকে, তা শুধুই সময়ের অতিক্রমণ। সঠিক সময়ের কাজগুলোর মূল্য অনেক। প্রকৃতির সাথে মানুষের অনেক মিল, সৃষ্টিজগতের বিশালতার মাঝে তাই শেখার আছে অনেক কিছু। অন্ততঃ সবাই-ই সেই মহান স্রষ্টা, আল-খালিকের হাতের নিপুণতায় তৈরি। শেখার আছে অনেক কিছু, কিন্তু আমরা শিখিনা...  

(৮১)
প্রতিটা মানুষই একেকজন যোদ্ধা। প্রত্যেকের জীবনেই রয়েছে বেদনা-যন্ত্রণা-কষ্টের মহাকাব্য। প্রতিটি সফল মানুষের রয়েছে খুবই কষ্টকর অতীত। সফলতার পাওয়ার স্বপ্নে বিভোর থেকে আমরা ভুলে যাই কষ্ট করা যে অবধারিত।  কষ্ট তাই স্বাভাবিক। বিষয় হলো, কষ্টটা কার জন্য করছি। যদি জীবনের ঘটনাগুলোকে আল্লাহর দেয়া পরীক্ষা, আমাদের জন্য আল্লাহর পছন্দ হিসেবে মেনে নিই, তাহলে জীবনটা সরল হয়ে যায়।  দিনশেষে মোটা দাগে কষ্টের আলাপ একটাই --কষ্ট সবাই করে। কেউ করে আল্লাহর জন্য, কেউ করে দুনিয়ার জীবনের সাময়িক কিছু সফলতার আশায়।

(৮২)
কোন মানুষের কাছে কিছু আশা করা মানেই নিজের মাঝে যন্ত্রণার সৃষ্টি করা। 'এক্সপেকটেশন' কখনই ভালো বিষয় না। কেবল আল্লাহর কাছে আশা করা যায়, দু'আ করে, কেননা ওটা কোনদিন ব্যর্থ হবে না। সঠিকভাবে করা প্রতিটি দু'আ গ্রহণ হয়, তার অফুরন্ত ভান্ডার থেকে পাওয়া যাবেই, এখন অথবা আখিরাতে।  তবু ঘুরে ফিরে মানুষের কাছে আশা করি, মনে হয়, ভালোবাসা পাওয়া যেন আমার অধিকার, যেন কিছুটা যত্ন-সম্মান আর সহমর্মীতা পাওয়ারই কথা-- এটা খুবই ভুল চিন্তা। মানুষ কোনদিন কিছুতেই আমাদের মনের আশা কিছুতেই পূরণ করতে পারবে না।

চিন্তার জগতটা আর ধরণটা তাই বদলে দিতে হবে। নইলে জ্বলে-পুড়ে খাক হয়ে যেই কষ্ট পাবেন -- সেটার কোন 'মিনিং' নেই, বিনিময়ে এই জীবনে কিছু পাবো না; আখিরাতেও পাওয়া যাবে না কিছুই।

(৮৩)
অনেক কিছুই লেখার ইচ্ছা ছিলো জীবনে। সময় পেরিয়ে যাচ্ছে কল্পনার চেয়ে দ্রুতবেগে। পেছনে ফিরে তাকালে বুক হু হু করে ওঠে। যখন বুঝি অনেক কিছুই হবে না জীবনে, কিছুতেই হবে না -- তখন কেমন যেন হাহাকার লাগে। জীবনটা অনেক ছোট, খুব বেশি অনিশ্চয়তার। অথচ সবাই কেমন শক্তপোক্ত হয়ে চলে, নিশ্চিত তারা ভ্রমের মাঝে আছে। ভ্রমের মাঝে থাকার আনন্দ অনেক, নিজেদের সুখী করা যায়। অর্থহীন কথা আর চিন্তা দিয়ে নিজেদেরকে *বুঝ* দেওয়া যায়।

(৮৪)
আমি সারাজীবন এখানে, ওখানে, সেখানে আমার সমস্যাগুলোর উৎস খুঁজে বেড়িয়েছি। সমাধানও খুঁজেছি যত্রতত্র...

অবশেষে জেনেছি সমস্যা আমার মাঝেই ছিলো, আমার মনে, আমার আত্মার মাঝে। সমাধানও আমার হাতেই ছিলো, আমার নাগালেই ছিলো...

(৮৫)
আমরা ভুল থেকে শিক্ষা না নিলে, ভুলগুলোই আমাদেরকে শিক্ষা দেয়...

(৮৬)
যখন কিছু দেখার প্রতি দৃষ্টিভঙ্গিটা আমরা বদলে ফেলি, যা দেখি তা বদলে যায়।

(৮৭)
আমি জীবনে এমন অনেক সমস্যা ও আতঙ্কে জর্জরিত ছিলাম, যা আসলে কখনো পৃথিবীতে ছিলো না।

(৮৮)
একসময় আমি সংখ্যায় বিশ্বাসী ছিলাম। এখন আমি গুণগত মানে বিশ্বাসী।

(৮৯)
অনেক সময় কিছু যখন প্রকট দুনিয়াবী এবং আজেবাজে ফালতু কথা শুনতে না চাইলেও শুনতে হয় তখন সেসব কথার প্রত্যুত্তরে মনে মনে অনেকে যেসব কথা বলেন, বক্তারা সেসব শুনতে পেলে কেমন খেপতো ভাবলে চেপে রাখা হাসি প্রকাশ হয়ে যেতে পারে।

সামনে বসেও সম্মান/সমীহ বজায় রেখে বিরক্তিকর কথার উত্তর মনে মনে দেয়ার বিষয়টা বেশ দারুণ!! :P

২৩ ফেব, ২০১৪

জীবনের বাস্তবতা : আমাদের জীবনের কষ্টগুলো কি এমনি এমনি?

​​কিছু বিষয় আছে যেগুলো ঠিক ভাষায় প্রকাশ করা যায় না। কত কঠিন সময় যে মানুষের জীবনে আসে, যার শতভাগের একভাগ অন্য কোন মানুষ অনুভব করতে পারবে না, কেবল যিনি ভুগছেন, তিনিই বুঝেন। তখন সদ্য মাধ্যমিক পাশ করেছি, একটা ইংরেজি ম্যাগাজিনে 'মায়ের লেখা সন্তানের প্রতি চিঠিতে' একটা লাইন লেখা ছিলো, "Fiction ends where fact begins", যা আমার সেই কিশোর হৃদয়ে দাগ কেটেছিলো। বাল্যজীবনে আর কৈশোর জীবনে আমি অজস্র গল্প-উপন্যাসে ডুব দিয়ে থেকেছি, তারুণ্যে আর যৌবনের উপলব্ধিগুলো আমাকে শিখিয়েছে, আমাদের একটা জীবন কখনো গল্প-উপন্যাস, পত্রিকার টুকরো ঘটনা বা অভিজ্ঞতার সাথে কখনই মিলে না, অন্য কোন মানুষও তা উপলব্ধি করতে পারবে না। এই একেকটা মানুষের গোটা বিষয়গুলোর একমাত্র সাক্ষী যিনি, তিনিই পারবেন সত্যিকারের সঠিক পুরষ্কার দিতে, শাস্তি দিতে, ভালোবাসা দিতে...

বুক যখন খা খা করে তখন কী করবো?

​দিনের মাঝে বড় ক্লান্ত লাগে অনেক সময়... হৃদয়টাতে কেমন শূণ্যতা অনুভব হয়। অনেকগুলো বছর ধরে এই খা-খা অনুভূতিকে কেমন করে দূর করা যায় ভেবেছি। একসময় ভাবতাম হয়ত আমার সফল হতে হবে। অনেক সফলতা পেয়েছিলাম আলহামদুলিল্লাহ, সেই অনুভূতিরা পিছু ছাড়েনি। এরপর ভেবেছিলাম হয়ত সঙ্গী পেলে বর্তে যাবো। অনেক ভালো মানুষের সান্নিধ্য পেয়েছি, কিন্তু মানুষ পাশে থাকতে পারে, তার পাশে চলতে পারে, কিন্তু হৃদয় আর অনুভূতি আমাদের নিজেরই, সেখানে কেউ ভাগ বসাতে পারে না। অনেকে সুন্দর কথা বলতে পারবে, উত্তম উপদেশ আর আশার বাণী দিয়ে অনুপ্রেরণা দিতে পারবে -- কিন্তু হৃদয়ের শূণ্যতাকে পূর্ণ করার ক্ষমতা কোন মানুষের নেই...

১৭ ফেব, ২০১৪

খেলাধূলা যখন ভয়ংকর এন্টারটেইনমেন্ট নেশা

এককালে আমি খুবই খেলাপাগলা ছিলাম। যেই বয়সে সবাই কার্টুন দেখতে আর কমিকস বই পড়তে দৌড়াইতো, সেই বয়সে আমি আমার বন্ধুর মামার বাসায় গিয়ে (ডিশের লাইন ছিলো) স্টার স্পোর্টসে মামার পাশে বসে দিন-রাত সাউথ আফ্রিকা ভার্সাস ইন্ডিয়ার টেস্ট সিরিজ দেখতাম। অ্যালান ডোনাল্ড, শন পোলক, প্যাট সিমকক্স আর ল্যান্স ক্লুজনার বোলিং করে দিনভর, রাহুল দ্রাভিদ আর টেন্ডুলকার ডাবল সেঞ্চুরি হাঁকায়। সেই আমলে জিম্বাবুয়ের কোচ ছিলো ডেভ হটন, ম্নাঠে অ্যান্ডি ফ্লাওয়ার, হিথ স্ট্রিকদের কাঁপাকাপি ব্যাপার। সেই প্রাইমারি স্কুল টাইমে কয়জন এমন খেলা দেখতো জানিনা। তখন আমার একটা খাতায় পৃথিবীর যাবতীয় ক্রিকেট টিমের ১৪জন প্লেয়ারের নাম লেখা ছিলো। ১৯৯৪ সালে ক্লাস টু-থ্রিতে পড়লেও পুরো বিশ্বকাপের সব খেলা দেখেছিলাম। সাদা কাগজে সাইনপেন দিয়ে  ডিজাইন করে খেলার রেজাল্টগুলো সংরক্ষণ করেছিলাম। এইসব এখনো আমার কাছে আছে...

১৬ ফেব, ২০১৪

[গ্রন্থচারণ] আযকারে মাসনূনাহ : ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম

​এমন একটা বইয়ের নাম বলবো যা হয়ত কারো জীবন বদলে দিবে। আমার খুব প্রিয় বইটার কথা বলতে চাইছি, যে বইটি আমার জীবনে একটি ভিন্ন ধরণের কল্যাণময়তার মাত্রা সৃষ্টি করেছে তা আমি নিঃসন্দেহে ও নিঃসঙ্কোচে বলতে পারি, আলহামদুলিল্লাহ। আগে কিছু দু'আ জানতাম কুরআন পড়তে পড়তে এবং হাদিস থেকে। সেগুলোই ঘুরে-ফিরে পড়তাম। একসময় এক ছোট ভাইয়ের কল্যাণে "আযকারে মাসনূনাহ" বইটি হাতে পেলাম। বেশি বেশি দু'আ করার আগ্রহ ছিলো, তাই হাতে নিয়েও নিলাম। এরপর আমরা অনেকেই একবারে ৩-৪ কপি করে কিনেছি যেন নিকট বন্ধু ও আত্মীয়দের হাদিয়াস্বরূপ বইটি দেয়া যায়। বইটা পড়ে জানতে পেরেছি কেমন পরিস্থিতিতে, কোন বিষয়গুলোতে আমাদের প্রিয় নবী, দুনিয়ার সেরা মানুষ রাসূল  (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কীভাবে কোন কোন দু'আ করেছিলেন।

অবাক ভালোবাসা


আমার জীবন থেকে আরেকটি বছরের আরেকটি 'ভালোবাসা দিবস' চলে গেলো। অনেক উদ্দামতা, অনেক যৌবনের তরঙ্গের সাক্ষী হয়ে রইলাম আবার। বন্ধুর কাছে শুনলাম, তার কলিগকে গত পহেলা ফাল্গুনে এবং 'ভ্যালেন্টাইন ডে' পালনের এই ১৩-১৪ ফেব্রুয়ারিতে কক্সবাজার যেতে হচ্ছিলো অফিসের কাজে। তিনি দু'দিনের যাত্রাপথে বহু কষ্টে ছুটে-ফিরে একটা সিট পেয়েছেন, এদিকে বাসস্ট্যান্ডে অনেক ভীড়, পর্যাপ্ত সিট নেই বাসে! 'ভালোবাসার' কামতরঙ্গ ছুটে এবার কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতকেও ভাসিয়ে দিয়েছে হয়ত... আল্লাহই জানেন। বিগত বেশ কয়েক বছর থেকে এইসব দিনগুলোতে সম্ভব হলে ঘরেই থাকি, খারাপ লাগা আর অপছন্দনীয়তায়। এবারেও ছুটির দিন থাকায় তার ব্যতিক্রম হয়নি। মনে আছে, প্রায় দু'বছর আগে একটা লেখা লিখেছিলাম আমার পূর্বেকার জীবনের অভিজ্ঞতা মিলিয়ে একটা লেখা লিখেছিলাম 'এর বেশি ভালোবাসা যায় না ও আমার প্রাণপাখি ময়না' শিরোনাম দিয়ে: http://idream4life.blogspot.com/2012/02/blog-post_7635.html

৯ ফেব, ২০১৪

আপনার অস্থিরতা এবং অশান্তিগুলোর একটি সহজ সমাধান


আমরা কে না অশান্তিতে থাকি? কার হৃদয়টা অস্থির নয়? আমার এটুকু জীবনে আমি স্কুল-কলেজ-ভার্সিটি-অফিসের সর্বত্রই অস্থির মানুষের প্রবল বিচরণ দেখেছি, নিজের কথা তো জানিই। বিষয়টা হলো, এই অস্থিরতা কেন? অশান্তিটা কেন? কীভাবে তার সমাধান করা যেতে পারে তা ভেবে কে কী করলাম সেটা গুরুত্বপূর্ণ।

মাঝে মাঝেই জীবনে পেছন দিকে তাকিয়ে অনুভব করি, এই গোটা জীবনের কত পরিশ্রম - স্কুল, কলেজে কতই না কষ্ট করে সবাই পড়ে। জীবনের ছোট ছোট আচরণগুলো আব্বা-আম্মা শিক্ষা দেন, শিক্ষকরা শেখান। আমরা নিজেদের গড়ি। শার্টের বুকের বোতামটা খোলা না রাখাও শিক্ষা, বড়রা সামনে থাকলে পায়ের উপরে পা তুলে না-বসাও একটা শিক্ষা। কাউকে পানি খেতে এগিয়ে দিলে উপরে ধরতে হয় না, কারণ তিনি যেখানে মুখ দিবেন সেখানে আমার হাত না-লাগা উচিত -- এটাও একটা শিক্ষা। এমন হাজারো শিক্ষা গলাধঃকরণ করে তবু সবাই একসময় কেমন যেন উলটে যায়, জীবনের লক্ষ্য কী জিজ্ঞাসা করলে অন্তঃসারশূণ্য কথা বলে। অনেক পিএইচডি ডিগ্রিধারী মানুষও সম্পূর্ণ মূর্খদের মতন কথা বলে একসময়, কারণ তাদের জীবনটা কোন একটা সময় এমন কিছু লক্ষ্যে গড়তে শুরু করেছিলেন তারা, যা হয়ত কেবলই পৃথিবীর বস্তুগত বিষয়ভিত্তিক, তাতে আমাদের জীবন, এই অন্তর, এই সত্ত্বার অস্তিত্ব, ভবিষ্যত নিয়ে ভাবনার কোন খোরাক ছিলনা। মনগড়া জীবনদর্শন দিয়ে জীবনকে চালিয়ে নেয়া...

৪ ফেব, ২০১৪

ছোট থেকেই তো অনেক বড় হয় সবকিছু

​কলেজ জীবনে বন্ধুরা চকচকে উজ্জ্বল চেইনের বড় ডায়ালের ঘড়ি, ক্যাটস-আই টিশার্ট, নাইকি জুতা নিয়ে ঘুরাঘুরি করতো 'পার্টজ' নিতে। এখন হয়ত সেই জায়গায় আইপ্যাড, আইফোন দিয়ে রিপ্লেস হয়েছে। আলহামদুলিল্লাহ, এইরকম দামী ঘড়ি টাইপের জিনিসের দিকে আমার মন লালায়িত হতো না, বরং তাকে এক টুকরা কাঠ দেখতে যেমন লাগে, অমন লাগতো। নিজের এইরকম ভিন্নতার কারণে খুব অস্বস্তি লাগতো, আমার মতন কাউকে ডানে-বামে পেতাম না। থাকলেও হয়ত তারাও আমার মতন চুপ থাকতো।

ভ্রমণে বের হলে অনেক কিছু শেখা যায়

​ভ্রমণে অনেক অভিজ্ঞতা হয়। ভ্রমণে বের হয়ে অনেক রকমের আর্থিক ও সামাজিক অবস্থানের মানুষের সাথে পরিচয় হয়, আল্লাহর সৃষ্টির বৈচিত্র্যকে দেখার সুযোগ হয়। না চাইলেও অন্যদের বিচিত্র আচরণগুলো 'বিনা প্রতিবাদ ও সমালোচনাতে' মেনে নিতে হয়; অনেকক্ষেত্রেই মানুষ বাইরে থাকার সময়টুকুতে সহজাত 'কুৎসা রটানোর' সুযোগ পায় না, এগুলোর ফলে 'ধৈর্য ও সহিষ্ণুতার' সাথে তাদের পরিচয় ঘটে, পরিচয় হতে তারা বাধ্য হয়।

কয়েক বছর ধরে চাকুরিজীবনের দমবন্ধ এক লম্বা ছুটিহীন জীবনের মাঝে হাঁসফাঁস করছিলাম। আল্লাহ সুযোগ জুটিয়ে দেয়ার পরে বেশ ক'দিন অনেক জায়গা ঘুরে, অনেক মানুষের সাথে মিশে, অনেক অনেক ঘটনা পেরিয়ে আলহামদুলিল্লাহ অনেক কিছু শিখলাম। এই শেখা পয়েন্ট করে করে লেখার মতন না, বেশিরভাগই উপলব্ধিতে মিশে গেছে, যা পৃথিবীটাকে দেখার চোখটাকে আগের চেয়ে অনেক অন্যরকম করে বদলে দিয়েছে।

২ ফেব, ২০১৪

[গ্রন্থচারণ] ঈমানী দুর্বলতা : শাইখ সালিহ আল মুনাজ্জিদ



বইয়ের নাম: ঈমানী দুর্বলতা 
লেখক : শাইখ মুহাম্মাদ সালিহ আল-মুনাজ্জিদ 
মূল্য: ৩০ টাকা (প্রায়) 

এরকম রত্নের টুকরা টাইপের জিনিস না পড়া একটা বোকামি এবং অনুচিত কাজ। অবশ্যই পড়া উচিত এই বই। ঈমানের ফকিন্নি টাইপের অবস্থা নিয়ে দুনিয়ার ডিগ্রি, টাকা-পয়সা, সম্মান-খ্যাতি, রূপ-সৌন্দর্য, সুখের সংসারের কোনই মূল্য নাই। দুনিয়া পেয়ে আখিরাত হারানোর কোনই মূল্য নেই। আবার, সেই চরম দুর্ভাগা হয়েও লাভ নেই, যারা আখিরাত এবং দুনিয়া উভয়ই হারালো…

বইটিতে উল্লেখ আছে –
অন্তঃকরণের বিষয়টি খুবই স্পর্শকাতর এবং গুরুত্বপূর্ণ। অন্তঃকরণকে আরবিতে কালব (পরিবর্তনশীল) বলা হয়েছে এ কারণেই যে, তা দ্রুত পরিবর্তনশীল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ
“অন্তঃকরণকে কালব বলা হয়েছে বেশি বেশি পরিবর্তন হবার কারণে। অন্তঃকরণের উদাহরণ হলো একটি পাখির পালকের মত যা গাছের ডালে ঝুলানো আছে, বাতাসে সেটিকে এদিকে সেদিকে ঘুরাচ্ছে”। [আহমাদ ৪/৪০৮, সহীহ আল জামে ২৩৬৫]

২৪ জানু, ২০১৪

প্রাইভেসি

​প্রাইভেসি তো আজকাল খুব গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার। তবে, আমি শত্রুর হাত থেকে বাঁচতে প্রাইভেসির কথা বলছি না। এইসব অতি-টেকি যুগের আগের আমলের একটা প্রাইভেসি ছিলো না? সেটার কথা মনে পড়লো। টিন-এজের মাঝের দিকে, বন্ধুদের কেউ কেউ একটু বড় হয়ে 'প্রাইভেসি' পেয়ে আলাদা রুম পেতো। ছুটির দিন ক'জন একসাথে হয়ে 'প্রাইভেসি'-পাওয়া বন্ধুদের বাসায় তাদের রুমে যাওয়া হত আড্ডার উদ্দেশ্যে, তখনই জানতাম প্রাইভেসিওয়ালাদের কম্পিউটারে 'হিডেন' কিছু ফোল্ডার অনেকের 'এক্সাইটমেন্ট' থাকতো। এসব জানার পরে এক ধরণের আতঙ্ক থেকে আর কখনো ঐরকম বন্ধুদের ঘরে সেঁধিয়ে যাবার সুযোগ দিতাম না নিজেকে।

মনের জানালা মাঝে # ৭


(৭১)
কোন কিছু দিতে হলে নিজের কাছে যথেষ্ট থাকতে হয়। যে রিক্ত, শূণ্য সে কখনো অনেকজনকে দান করতে পারে না। সূর্যের আলো থাকে তাই সে আলো বিলায়। জ্ঞান এবং প্রাণের শক্তি বা অনুপ্রেরণার ক্ষেত্রেও ব্যাপারটা এমন। যারা জ্ঞানী, তাদের অনেক থাকে বলেই তারা যেখানে যান জ্ঞান ছড়িয়ে দিতে পারেন। যিনি অনুপ্রেরণা দিবেন, তার ভেতরেও যথেষ্ট উৎসাহ, অনুপ্রেরণা আর মনের শক্তি না থাকলে তিনি দিতে পারেন না, পারবেন না। আমরাও তাই যেন ভুল কারো কাছে আশা না করি।। যার-তার কাছে উদ্দীপনা আর আশার কথা শুনতে চাইলে কি আর হয়? তাদের সামর্থ্য আর যোগ্যতার কথাও মাথায় রাখা জরুরী বটে!

(৭২)
কেন শুধু বেশি বেশি দুশ্চিন্তা মানুষের? এই পৃথিবীর কিছুই তো কারও নয়, ছিলো না, হবেও না। সাময়িক এই ভ্রমণে এত চাপ নেবার কিছু নেই। যিনি অনাদি-অনন্ত তার কথা ভাবুন, দুঃচিন্তা-দুর্ভাবনা চলে যাবে।

(৭৩)
আমি আমার শত্রুর ঘৃণার কাছে পরাজিত হইনি, তাদের আমি এড়িয়ে গেছি নিশ্চিন্তে, নির্বিকারভাবে। কিন্তু কাউকে কোন কারণে নিজ থেকে অপছন্দ করে কথা বলার পরেও তার ভালোবাসা পেয়ে সেথায় পরাজিত হয়েছি, লজ্জায় অধোবদন হয়েছি নিজে নিজেই, নিঃশব্দে। 

সেদিন থেকেই শিখেছি, মনের কাছে জিততে হলে ভালোবাসা দিয়েই কেবল জেতা যায়। শর্তহীন, চিন্তাহীন, দ্বিধাহীন ভালোবাসা... সম্পর্কগুলোর মাঝেও শান্তি আসে কেবলই ভালোবাসায়।

(৭৪)
আমার জীবনের তীব্র এক উপলব্ধি হলো, আমরা চারপাশে যেসব গল্প-তত্ব-রোমান্টিকতা-মিষ্টি কথা শুনে বড় হই, পথ চলি তার প্রায় সবই প্রচন্ড তীব্রভাবে জীবনবিমুখ আর অবাস্তব। এই ভ্রমের মাঝে থেকে ভ্রমকে বাস্তব করার চেষ্টাতেই সবাই কেমন হুমড়ি খেয়ে পড়ে, যার ফলশ্রুতিতে নানাবিধ অশান্তি, বুকের মাঝে শূণ্যতায় বসবাস করে সবাই। প্রেম-ভালোবাসার প্রায় সবই মিথ্যে আর অলীক গল্প, মুভি-উপন্যাসের সবই প্রায় জীবনবিমুখ অস্বাভাবিক কাহিনী।

খানিক আগে একজন এক প্রেমের কৌতুক বলছিলো, উপস্থিত সবাই হাসলো। আমিও ভেবে দেখলাম, এরকম কথা অবাস্তব বলেই সবাই মজা পেলো, সত্য গল্প আমজনতাদের কেউ মজা পায় না, হিংসা করে। কিন্তু তরুণ মনেরা এগুলোকেই সত্য ভেবে ভ্রমকে সত্য করতে চায়। যন্ত্রণাও পায়। এই জীবন খুব সহজ কিছু না, এই জীবন আসলে মুসাফিরের পথ চলার; উপভোগ করার না। যারা উপভোগ করতে মন দেয়, তারা পথ হারিয়ে ফেলে।

(৭৫)
আমরা অনেকেই নিজেদের জীবনের শুরুর সময়গুলো পার হয়ে শেষ সময়ে এসে নিজেদের সত্যিকারের কাজগুলো শুরু করেছি। শেষ এসে যে কাজ শুরু করেছি, তার জন্য সূচনার দিকের সফলতা পাওয়া আপাতদৃষ্টিতে সম্ভব না। কিন্তু, এই সময়েরই কি শেষ আছে? জীবনের শেষ হলো অনন্তের জগতের শুরু। তবে, আমরা যদি সময়গুলোর সঠিক ব্যবহার করতে চেষ্টা করি, আল্লাহকে কাছে চাই তাহলে আল্লাহ আমাদের সূচনা আর শেষ উভয়কেই প্রাপ্তিতে ভরে দিবেন ইনশা আল্লাহ। আল্লাহ আমাদের উপরে খুশি হলে পাপগুলোকেও পুণ্যে রূপান্তরিত করে দিতে পারেন।

আল্লাহর ভান্ডার অফুরন্ত, তার কাছে চাইলে তিনি দান করেন। আর আল্লাহর সাথে সম্পর্ক যদি সুন্দর হয়, জীবনের স্বর্বস্ব দিয়ে কেবল তার জন্যই আমরা বাঁচি, তাহলে আমরা শেষে এসে শুরু করলেও আমাদের সূচনাও প্রাপ্তিতে ভরে যাবে, গোটা জীবনটাই তখন সফলতায় ভরে যাবে। শেষে এসে শুরু করলেও তখন সূচনাতেও অনেক কিছু পাবো..

শেষটা খারাপ হলে সফল সূচনা অর্থহীন হয়ে যায়।
শেষটা সুন্দর হলে খারাপ সূচনা মনেই থাকেনা।

(৭৬)
যারা মানুষদের মাঝে তুলনা করে তারা বোকা। অবস্তুগত কিছুকে পাল্লায় তুলে নিখুঁত হিসাবের জায়গা পৃথিবী না। এভাবে বিচারে দুইটি পাল্লা মাপার প্রক্রিয়া কোনদিন পরমভাবে সঠিক হবেনা পৃথিবীতে। তাই, মানুষকে হিসেব করা বাদ দিয়ে এগিয়ে চলুন কর্তব্য বুঝে। হিসেব হোক অন্তরের ভেতরের আপনার অবস্থার সাথে, বাইরের পৃথিবী নয়। হৃদয়ের প্রশান্তি গরীবেও পায়, ধনীয় পায়। খারাপ থেকে ভালো হতে চাওয়া মানুষটাও পায়। নিজের ভেতরেই নিজেকে খুঁজে নিন, বুঝে নিন।

(৭৭)
মানুষ খুব অদ্ভুত। আপনি তার কাছে কখনই কিছু প্রত্যাশা করলে সে তা পূরণ করবেই এমন আশা করতে পারেন না। যে মানুষ প্রকৃতপক্ষে আল্লাহর প্রতিই অকৃতজ্ঞ, সে একজন মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞ হবে এমনটা আশা করাই কেমন যেন বোকামি মনে হয়। এই জীবনে, কত মানুষ আপনাকে আশার বাণী শোনাবে, কথা দিবে রঙ্গিন ফানুশ ওড়ানোর মতন করে; কিন্তু ওয়াদা পূরণের সময় ধানাই পানাই করবে। বস্তুগত বা অবস্তুগত যেকোন কথার প্রতিদানের ব্যাপারেই কেন যেন সবসময় এমনই হয়!

(৭৮)
মানুষের কাছে প্রত্যাশা করতে নাই, সেক্ষেত্রে অবশ্যই কষ্ট পেতে হবে। আসলে, মানুষের কাছে কিছু পেলে তাতেও তার প্রতি খুব বেশি উচ্ছ্বসিত হতে নেই। যে কোন কিছুর প্রকৃত দাতা আল্লাহ, তাই প্রতিটি প্রাপ্তির কৃতজ্ঞতা তারই প্রতি হওয়া উচিত। বিভিন্ন মানুষ মূলত প্রাপ্তির উপলক্ষ হয়। তেমনিভাবে কিছু চাইতে হলে আল্লাহর কাছেই চাওয়া উচিত। তিনি চাইলে দিবেন, তিনি না চাইলে সমগ্র পৃথিবী চাইলেও আপনি কিছুই পাবেন না, শূণ্য আর রিক্ত হয়ে পড়ে থাকবেন।

(৭৯)
বনের বাঘে খায় না, মনের বাঘে খায়। চিবায়া চিবায়া খায়। কুড়মুড় করে খায়... 

তাই, মনের বাঘ হইতে সাবধান।

২৩ জানু, ২০১৪

কৈশোর-তারুণ্য ও যৌবনের জন্য সহজ পর্নোগ্রাফি

​আপনি শহরের রাস্তায় চলবেন আর আশেপাশের হুড তোলা রিকসায়, সিএনজির দিকে জোড়া নারী-পুরুষের নির্লজ্জতার শঙ্কায় তাকাতে অস্বস্তিতে থাকবেন না -- এমনটা মনে হয় খুব কম মানুষেরই হয় ইদানিং। সেদিন বাসে করে এক তিন রাস্তার মোড় পার হচ্ছি, একদিকে শীতের প্রসাধনীর বিলবোর্ডে অর্ধনগ্ন নারী, চোখ ফিরিয়ে বামে তাকাতেই একটি ফার্নিচারের বড় বিজ্ঞাপন, তাতে এক নারী সি-বিচে আধশোয়া, এবার সামনে তাকাতে আরেকটা পণ্যের একই রকম বিজ্ঞাপন। শেষে জানালা থেকে চোখ ফিরিয়ে হাতের উপরে চোখ স্থির করতে হলো। বিজ্ঞাপনগুলোর অবস্থা এমনই যে বাসের টিকিট বিক্রি করতেও এখন নারীর ছবি থাকে। বিশাল বিশাল বিলবোর্ডে এক তৈরিপোশাক ব্র্যান্ডের বিজ্ঞাপন দেখে মনে হয় নারী ছাড়া কেউ পোশাক পরে না আর পড়লেও দেশের নারীরা হয়ত স্লিভ পরেননা। এমনকি, ফার্নিচারেও নারী, ড্রিংসেও নারী -- সকলেই আঁটোসাঁটো পোশাকের, অথবা অর্ধনগ্না। মোবাইল অপারেটরদের বিষয় নিয়ে নতুন করে বলার নেই, তরুণদের ডিজুস করা, বন্ধু ছাড়া লাইফ ইম্পসিবলের ট্যাবলেট গিলিয়ে সমাজকে ঘুণপোকা ধরানোর কাজটা ওদের হাতে হয়েছে আজ থেকে দশ বছর আগে থেকেই।

দুঃখের সময়ে যখন খুঁজে পাই না কী করবো

​জীবনের এই বন্দরে বসবাস, কত রকম আনন্দ-বেদনা আসবে। কিছুই থাকে না স্থায়ী হয়ে, না সুখ, না দুঃখ। কষ্টগুলোও আসে, থেকে চলে যায়। সুখের বন্যা বয়ে যায়, আবার ক'দিন বাদেই জীবনের সুখের সময় খুঁজতে বের হতে হয়। বারবার তাঁর কথা ভুলে যাই, বিস্মৃত হয়ে যাই তাই হয়ত আল্লাহ এমন বৈচিত্র্য দিয়েই আমাদের ব্যস্ত রাখেন -- যেন গন্তব্য আর এই চলার পথের দুই ভিন্ন স্বাদকে এক করে বিভ্রান্ত না হই। জীবনে কঠিন সময় আসে, কখনো কখনো সবাই অবিশ্বাস করতে শুরু করে, কাছের মানুষরাও আশাহত হয়ে যেতে পারে, সবকিছুর হিসেব একদম উলটে পালটে যেতে পারে। অনেক কিছু হয়ত ছিলো চারপাশে, এক দমকা হাওয়ায় হয়ত সব হারিয়ে যেতে পারে। অথচ, এই সবকিছুকে উপলব্ধি করতে পারাও একটা ক্ষমতা, এই অস্তিত্বের প্রতিটি মূহুর্তই অনেকগুলো *প্রাপ্তির* উপরেই দাঁড়ানো।

২১ জানু, ২০১৪

​ বিয়ে আপনার জীবনের সমস্যাগুলোকে অলৌকিকভাবে সমাধান করে দিবে না

​"বিয়ে আপনার জীবনের সমস্যাগুলোকে অলৌকিকভাবে সমাধান করে দিবে না। বিয়ে কিন্তু সবসময় আপনার একাকীত্ব থেকে মুক্তির কিংবা বর্তমান অবস্থাটা থেকে বের হবার কোন পথ নয়। ভাই ও বোনদের উচিত বিয়ে জীবনটাকে যাদুমন্ত্র দিয়ে বদলে দিবে এমন আশা না করে ব্যক্তিগত ও আত্মিক উন্নতির জন্য চেষ্টা করা।

বিয়ে ব্যক্তিগত উন্নয়নের একটি বিশাল মাধ্যম হতে পারে, হতে পারে আমাদেরকে উত্তম মানুষ হয়ে বদলে যাওয়ার জন্য সাহায্যকারী, ইন শা আল্লাহ। একজন মানুষের প্রতি আল্লাহর শ্রেষ্ঠ নি'আমাতগুলোর একটি হলো সুখী-সুন্দর বিয়ে; এবং এর ফলে একটি পরিবারের সৃষ্টি, সেই পরিবারের সেবা-যত্ন করা -- যা সেরা ইবাদাতগুলোর অন্তর্ভুক্ত। কিন্তু যে ব্যক্তি নিজের ব্যক্তিগত উন্নতির জন্য এখনই তেমন কোন কাজ করতে পারছে না, কীভাবে আশা করা যায় যে আরেকজন মানুষের আরো কিছু দায়দায়িত্ব ও মালপত্র কাঁধে নিয়ে সেই কাজটি তার জন্য সহজ হবে, এমনকি যখন সেই মানুষটিও নিখুঁত নন?

আপনি নিজেই কি আপনাকে বিয়ে করতে রাজি হতেন? যদি না হন, তাহলে সেই আকাঙ্খিত অবস্থায় যেতে আপনার আরো কী কী করতে হবে? যদি হয়ে থাকেন, তাহলে কি ভেবেছেন আপনার ভালো গুণাবলীকে আরো বৃদ্ধি করতে আপনি কী করতে পারেন।"

-- মারিয়াম আমির ইব্রাহিমি

[মিশরীয় বোনটির ফেসবুক পোস্ট থেকে অনূদিত]

​ বিয়ে হলো দু'জনের ভালোবাসার মেলবন্ধন, কোন লড়াই নয়

"যখন আমি শুনি কেউ হয়ত আগামীতে বিয়ে করতে যাচ্ছে এবং আলাপ করছে যে তারা তাদের সম্ভাব্য স্বামী বা স্ত্রীর ব্যাপারে কী কী "মেনে নিবে না/সহ্য করবে না", তখন আমি বেশ উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ি। কারো এমন চিন্তা নিয়ে বিয়ে করতে যাওয়া উচিত নয় যেন তারা লড়াইয়ে যাচ্ছে অন্যকে আঘাত করার জন্য যুদ্ধাস্ত্র হাতে প্রস্তুত রেখে এবং নিজেকে রক্ষা করতে বর্ম আচ্ছাদিত হয়ে।

বিয়ে হলো দু'জনের ভালোবাসার মেলবন্ধন, কোন লড়াই নয়। সেখানে শুধুমাত্র নিজের ভেতরকার দুর্বলতাগুলো এবং নফসের সাথে যুদ্ধ করা ছাড়া কোন যুদ্ধ নেই এবং অস্ত্রু বলতে আছে শুধুই দু'আ, তাওয়াক্কুল (আল্লাহর উপরে পরিপূর্ণ নির্ভরশীলতা) এবং স্বামী কিংবা স্ত্রী হিসেবে সফল হবার জন্য দৃঢ় একটি সংকল্প -- যা এই দুনিয়া এবং আখিরাতের জন্যেও।"

-- উম্মু যাকিয়্যাহ

['দি জার্নাল অফ উম্মু যাকিয়্যাহ' থেকে অনূদিত]

১০ জানু, ২০১৪

আমাদের হৃদয়টার যত্ন নেয়া প্রয়োজন

আমরা কত্তো কিছুই তো করি... নিজের জন্য, অন্যের জন্য। অন্য কারো সুখের জন্য নিজেকে বিলিয়ে দিতেও চেষ্টা করি। যারা আল্লাহর সন্তুষ্টি চাই, তাদের চেষ্টাও থাকে যত বেশি পারা যায় লোকের সামনে হোক অথবা অগোচরেই হোক, বেশি বেশি অন্যের উপকার করতে থাকা। কখনো জনমভোর অন্যের জন্য করে একসময় কষ্ট পেয়ে যাওয়া, অথবা কারো ভালো করতে গিয়ে যেন হয়ত নিজের ক্ষতি হলেও মেনে নিই, ভালোবাসা থেকে, দয়া থেকে। অন্যের জন্য নিজের কেমন ধরণের ক্ষতি মেনে নিচ্ছি, সেটা নিয়েও একপ্রস্ত চিন্তা করার আছে...

মনে হয় একটা অন্যরকম ব্যাপার আছে, যেটা হয়ত আমাদের চিন্তা থেকে এড়িয়ে যায়--  আল্লাহ যেদিন আমাদেরকে দাঁড় করাবেন, সেদিন আমরা কারো ভাই হিসেবে না, কারো বোন হিসেবে না, কারো ছেলে কিংবা মেয়ে হয়ে নয়, কারো সন্তান কিংবা বাবা/মা হয়েও নয়, কারো স্বামী বা স্ত্রী হয়েও নয় -- আমরা দাঁড়াবো 'আমি' হয়ে। যেই আমি আমার অন্তরটাকে ধারণ করতাম, যেই আমি আমার হৃদয় নিয়ে কাজ করেছি পৃথিবীতে... বাইরে যা-ই করেছি, হৃদয় জানতো আসল উদ্দেশ্য কী ছিলো, কী করতে পারা যেত অথচ হয়ত করা হয়নি... এমন আরো অনেক কিছু...