১৮ এপ্রি, ২০১৩

সফল জীবন কার? কোথায় যাব সফল হয়ে?

আমার বন্ধুর চাচী মারা গেছেন রোড অ্যাক্সিডেন্টে। ছোট্ট একটা সন্তান আছে তার। শিক্ষিকা ছিলেন, ক্লাস নিতে যাচ্ছিলেন। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলার নির্দেশ চলেই এসেছিলো, তাই তার রূহ এই পৃথিবী ছেড়ে চলে গেলো। শোকাহত বন্ধুকে বলার কিছু পাচ্ছিলাম না, নীরবতাটুকুতে শুধু দু'আ করা। আল্লাহ যেন তার বান্দাকে জান্নাতুল ফিরদাউস দান করেন। তিনি যেন আল্লাহর রাহমাতপূর্ণ অভ্যর্থনাতে গৃহীত হন কবরে।

অদ্ভুত লাগে! নিশ্চিত যাত্রা আমাদের কবরে। এই রূহ আমার পৃথিবীর কিছু না। এই শরীরে রূহ না থাকলে তা একটা লাশমাত্র। সেই শরীরে রং মেখে, কাপড় চড়িয়ে, প্রসাধন লাগিয়ে আমাদের অন্ধজীবনের অজস্র সময় কাটে। এই আত্মার যত্ন তো নেয়া হয় না তেমন। মহান আল্লাহর স্মরণে চোখের পানিতে ধুয়ে এই আত্মার যত্ন হতে পারত, খারাপ শব্দ থেকে কান সরিয়ে রেখে, নোংরা-অশ্লীলতা থেকে চোখকে সাবধানে রেখে এই যত্ন হতে পারত, মুখকে অনর্থক কথাবার্তা থেকে, আঙ্গুলকে অর্থহীন শব্দলিখন থেকে মুক্ত রেখেও এই অন্তরকে যত্নে রাখা যায়। নফস শয়তানের কাছে এমনভাবেই পরাজিত থাকে যে মুক্তির জন্য দু'রাকা'আত সলাত আদায়ও করতে পারিনা! 

১৫ এপ্রি, ২০১৩

সঙ্গ পেতে চাই

নিজের জীবনের দিকে তাকিয়ে প্রায়ই খুব ভেঙ্গে পড়তে নিই। চারপাশের দিকে চেয়ে কিছুতেই নিজেকে ধরে রাখতে পারিনা, অন্তরকে প্রশান্ত রাখতে পারিনা। এত সীমাহীন রাহমাতে ডুবে থেকেও কৃতজ্ঞ বান্দা হতে পারিনা। আল্লাহর রাহমাতে মাঝে মাঝে মনের এমন অবস্থায় যখন স্কলারদের জীবন নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি করতে যাই , তখন জীবনের অনুভূতিগুলোর কথা ভেবে আবার খুব লজ্জা পেয়ে যাই। জানি আমার মতন এই তুচ্ছ পাপাচারী বান্দার যোগ্যতা পৃথিবীর মাটিতে হেঁটে যাওয়া সেই মানুষগুলোর পায়ের ধুলোর সমানও যোগ্যতা নেই। কিন্তু, একথা সত্য -- মানুষ তার স্বপ্নের সমান বড়। স্বপ্ন এমনই, যার সাথে বাস্তবের অবস্থানের অনেক পার্থক্য থাকে, আমরা সেটার পানে ছুটে ছুটে যোগ্যতা অর্জন করি। আমাদের নির্ভরতা কেবলই আল্লাহর উপরে থাকে। তিনি তখন বারাকাহ দেন। ইসলাম তো আমাদের এমন করেই শেখায়, যত পাপিষ্ঠ-অপরাধীই হই না কেন, ইস্তিগফার করে, তাওবা করে আল্লাহর কাছে ফিরে আসার পথ মৃত্যু পর্যন্ত খোলা। হতে পারি আমি অযোগ্য, নীচ, পাপিষ্ঠ কিন্তু তবু নিজেদের শুধরে নিয়ে আখিরাতে সঙ্গ পেতে চাই আল্লাহর প্রিয় বান্দাদের, তাদেরকেই ভালোবাসতে চাই এই দুনিয়ায়।

একটু আগে স্কলারদের কথা ও জীবনীর দিকে আপনমনে চোখ বুলাচ্ছিলাম। চোখ আটকে গেলো ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বলের (রাহিমাহুল্লাহ) একটা উদ্ধৃতির দিকে। মানুষগুলো কত অসাধারণ ছিলেন সুবহানাল্লাহ! নিজেদের উপরে তারা কতই না কাজ করেছিলেন, শ্রম দিয়ে, ত্যাগ দিয়ে অর্জন করেছিলেন ঈমান। অদ্ভুত সুন্দর সেই বাক্যটি ইমাম আহমাদের --

“আমার সেরা দিনটি হলো যেদিন জেগে উঠে খাবারের তাকগুলোকে শূণ্য পাই, সেই দিনটির জন্য আল্লাহর উপর আমার নির্ভরতা (তাওয়াক্কুল) পরিপূর্ণ থাকে।” — ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল (রাহিমাহুল্লাহ)  

[মৃত্যু, ২৪১ হিজরী, বাগদাদ]

১৪ এপ্রি, ২০১৩

এই শহর, এই নতুন বছর, এই উদ্দামতা

এই নগরীতেই আমার জন্ম, এখানকার আলো-বাতাস, ধুলোমাখা রাস্তায় পা মাড়িয়েই আমার বেড়ে ওঠা। একটা কাজে বেরিয়েছিলাম সকালে। রাস্তায় আজকে যে নারকীয় অভিজ্ঞতা হলো, তা আগে কখনো হয়নি। আসরের আগে ফেরার পথে প্রবল জ্যামে বারবার বাস হার্ডব্রেক করছিলো। একবার তো সামনে সিটে বাড়ি খেয়ে নাক দিয়ে রক্ত পড়লো। রুমাল চেপে বাস থেকে নেমে হাঁটতে শুরু করলাম। সামনে অনেকদূর রাস্তার সকল বাস-ট্রাক থেমে আছে। খোঁজ নিয়ে জানলাম আশেপাশে কনসার্ট হচ্ছে তাই এত জ্যাম। ফুটপাথে হাঁটার উপায় নেই, প্রচন্ড ভীড়। এতগুলো নানান বয়সের কপোত-কপোতী ও অন্যান্যরা এই গরমে, ধুলোয়, রাজপথের নোংরা পরিবেশে কেন কষ্ট করে দাঁড়িয়ে ছিলো/পথ চলছিলো?

তারুণ্য ও বিকিয়ে দেয়া চরিত্র নিয়ে কিছু কথা

ক'দিন আগে সন্ধ্যাবেলা মেইনরোড থেকে ভিতরে এলাকার প্রশস্ত গলিতে এমাথা-ওমাথা হাঁটাহাঁটি করছিলাম। এমন সময় সামনে তিনজন ছেলে ও একটা মেয়ে পাশাপাশি হাঁটছিলো, কাঁধে স্কুলব্যাগ ঝোলানো কয়েকজনের, এটুকুন পোলাপাইন, হাঁটতে হাঁটতে অকারণেই পাশের ছেলেরা মেয়েটার সাথে 'ঠোকাঠুকি' খাচ্ছিলো। আলো-আঁধারির পথে আমার সামনে সামনে তারাও অনেকক্ষণ চক্কর দিলো। গায়ে অকারণে ঢলে পড়া ও তা 'সম্ভবত' খুশিমনে সহ্য করার এই দৃশ্য অনেক্ষণ সহ্য করে আমি পথ বদলে দিলাম।

আমরা মনে হয় ঘুরে ফিরে নিজেকেই দেখি অন্যদের মাঝে

"আমরা মনে হয় ঘুরে ফিরে নিজেকেই দেখি অন্যদের মাঝে।" -- এটা কেমন একটা অদ্ভুত টাইপের কথা না? সেদিন এক ছোট ভাইয়ের সাথে আলাপ করছিলাম, ছোটবেলা থেকে আমার কিছু প্রিয় মানুষ ছিল। সময়ের সাথে সাথে তারা অনেকেই অপ্রয়োজনীয় হয়ে হারিয়ে গেছে। তারা হয়ত বেশিরভাগ তাদের মতই আছেন, বদলেছি আমি। একসময় আমার যা ভালো লাগত, আমার এখন তা ভালো লাগেনা, আমার ভালো লাগে অন্যকিছু। তাই আমার ভালোলাগা বিষয়গুলো যাদের মাঝে আছে, তাদেরকে আমার ভালোলাগে। নিজের ভালোলাগা কী, সেইটা নিয়ে যেমন খেয়াল রাখা উচিত, তেমনি কারা আমাকে পছন্দ করে, সেটাও চিন্তা করা উচিত। চরিত্রহীন মানুষ যদি আমার ভালোবাসার তালিকায় থাকে, বা আমি যদি তাদের ভালোবাসার তালিকায় থাকি, উভয়ক্ষেত্রেই তা আতঙ্কিত হবার বিষয় -- আমার ঈমান ঠিক আছে তো?

কোন কিছু কি সহজ? আমরা কি কিছু করতে পারি?

কোন কিছু কি সহজ? আমরা কি কিছু করতে পারি? সবকিছুই তো কঠিন, যতক্ষণ না তিনি তা সহজ করে দেন, যতক্ষণ না তিনি আমার চারপাশকে একটা কাজের জন্য তৈরি করে দেন। আশেপাশের কতজন কী ভীষণ বদলে গেলো, সুন্দর থেকে সুন্দর মন-প্রাণের হয়ে গেলো। কেউ কেউ এত খারাপ হয়ে গেলো, সেই খারাপ কাজে মরেও গেলো। প্রায়ই ঘোরের মতন লাগে। এইতো সেদিন ছিলাম একসাথেই, একই আড্ডায়। আজ ছেলেগুলো নেই, আর কোনদিন পৃথিবীতে আসবে না। আমার নিজেরও অফিসে বের হবার সময় প্রায় প্রতিদিন সিঁড়ি বেয়ে নামার সময় মনে হয়, আজ কি বাসায় ফিরতে পারব দিনশেষে? আমরা তো ভীষণ দুর্বল সৃষ্টি। আমার দুর্বলতা আমি টের পেয়েছি যখন জ্বরে বিছানায় শুয়ে ঘোরে চলে গিয়েছি। অথবা অপারেশন থিয়েটারে ডাক্তারের সুঁই আর চাকুর নিচে গিয়ে মনে হয়েছিলো, আমার বিভ্রমের জীবনের সমাপ্তি কি তেমন কঠিন কিছু? যাদের চারপাশে বেঁধে রাখতাম, জুড়ে থাকতাম -- সবাই তো দূরেরই।

৯ এপ্রি, ২০১৩

জীবনকে বদলে দিতে প্রয়োজন কেবল একটি উদ্যোগ

আমি মাঝে মাঝে পেছনে ফিরে তাকাই, আমার অতীতে। আর দশজনের মতন সময় অতিক্রমণ হলেও, সাফল্য কম ছিলো না আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলার অশেষ রাহমাতে। যখন থেকে জীবনে ভাবতে শুরু করেছিলাম এত পরিশ্রম আমি করে আসলে কী অর্জন করব, কেন এই পৃথিবীতে এলাম, কেন আমার জীবন একজন আমেরিকানের জীবন থেকে কম সুবিধাসম্পন্ন হবে (তখন আমি ভাবতাম আমি আম্রিকায় জন্মাইলে অনেক কিছু করে ফেলতাম একাডেমিক্যালি) এরকম শত-শত প্রশ্ন। আমি অনেকগুলো বছর একটা অদ্ভুত যন্ত্রণার মাঝে অব্যক্ত প্রশ্ন নিয়ে হাবুডুবু খেয়েছি, কাউকে বলা সম্ভব হয়নি/বলে লাভ হয়নি কারণ তেমন কাউকে পেতাম না যাদের এইসব প্রশ্নের উত্তর নিয়ে মাথ্যাব্যথা আছে। কেন যেন মনে হয়, বেশিরভাগ মানুষই জানেনা সে কেন জীবন কাটাচ্ছে পৃথিবীতে। সে একটা ফোন না থাকায়, ভার্সিটিতে ভর্তি হতে না পারায় মন খারাপ করে, অথচ সে যদি আজ থেকে ২০০ বছর আগে জন্ম নিত, তখন কি এই বিষয়গুলোতে মন খারাপ হত? কী অদ্ভুত না? এই জিনিসটা তবু কেন আমাদের এত মর্মবেদনার কারণ হবে? কোথা থেকে এলাম, কোথায় যাব, কে আমাকে সৃষ্টি করেছেন -- এসব উত্তর যা-তা ভাবে যার-তার কাছ থেকে পাওয়া অস্বাস্থ্যকর, সে আমার বিচিত্র অভিজ্ঞতা এই জীবনের। রীতিমতন আতঙ্ক লাগে যেখানে সেখানে 'ক্রিটিক্যাল' বিষয়ের কিছু শিখতে গেলে! তবে, অভিজ্ঞতা ও জীবনকে উপলব্ধি করতে আমি সবখান থেকে শিখতে রাজি।

হাজার বছর এই বাংলার মাটি মুসলিমদের রক্তে আর অশ্রুতে ভেজা

মাত্র কয়েকশত বছর পেছনে তাকাই? বৃটিশরা যখন এই ভূখন্ড কব্জা করে নিলো, তখন অন্যায়-অত্যাচারে কিন্তু কিছু লোক হাত মিলিয়েছিলো, তারা জমিদার হয়েছিলো, নীলকর হয়েছিলো -- তারাই সুবিধাভোগী ও অন্যায়কারী স্থানীয় লোক। সাধারণ মানুষ তখনো যন্ত্রণাদগ্ধ ছিলেন, অর্থনৈতিক-সামাজিক-ধর্মীয়ভাবে তারা শোষিত ছিলেন। মাওলানা হাজী শরীয়তুল্লাহ রাহিমাহুল্লাহ (১৭৮১-১৮৪০) ফরায়েজি আন্দোলন শুরু করেছিলেন বিদ'আত-শিরকমুক্ত সমাজ গঠনে, দাওয়াতের আন্দোলন ছড়িয়ে দিয়ে। মানুষকে জ্ঞানের আলোয় মুক্ত করার এই আন্দোলনের নেতা ২০ বছর মক্কায় সেরা আলেমদের ছাত্র ছিলেন। তার পুত্র পীর মুহসীনউদ্দীন দুদু মিয়া (১৮১৯-১৮৬২) সেই আন্দোলনকে তরান্বিত করেন যিনি নিজেও মক্কায় পড়াশোনা করেন অনেকগুলো বছর। ফরায়েজি আন্দোলনে তিনি ইংরেজদের ও তাদের সমর্থনকারী জমিদারদের বিরুদ্ধে আন্দোলন রাজনৈতিক রূপ দেন। মুহসীনউদ্দীন দুদু মিয়ার সাথে সাক্ষাত হয়েছিলো সৈয়দ মীর নিসার আলী তিতুমীর (রাহিমাহুল্লাহ) যিনি কুরআনের হাফিজ ছিলেন। মুসলিমদের দাড়ির উপরে খাজনা ছিলো তখন। তিতুমীর বর্তমান চব্বিশ পরগণা, নদীয়া এবং ফরিদপুরের বিস্তীর্ন অঞ্চলের অধিকার নিয়ে সেখানে ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। স্থানীয় জমিদারদের নিজস্ব বাহিনী এবং ব্রিটিশ বাহিনী তিতুমীরের হাতে বেশ কয়েকবার পরাজয় বরণ করে। ১৮৩১ সালের ১৩ নভেম্বর বৃটিশ সৈন্যর তাদের চারদিক থেকে ঘিরে ভারী অস্ত্রশস্ত্র তিতুমীর ও তাঁর অনুসারীদের অক্রমন করে। তাদের সাধারণ তলোয়ার ও হালকা অস্ত্র নিয়ে তিতুমীর ও তার সৈন্যরা ব্রিটিশ সৈন্যদের আধুনিক অস্ত্রের সামনে দাঁড়াতে পারেনি; তিতুমীর (রাহিমাহুল্লাহ) শহিদ হন। পরবর্তীতে ফরায়েজী আন্দোলন, তিতুমীরের আন্দোলনের এমন অনুপ্রেরণা থেকেই ১৮৫৭ সালের সিপাহী বিদ্রোহ হয়। এমন মানুষদের রক্ত ও ত্যাগের বিনিময়েই ব্রিটিশরা ধীরে ধীরে কোণঠাসা হয়ে যায়, অবশেষে ভারতবর্ষ ছাড়ে ১৯৪৭ সালে।

৮ এপ্রি, ২০১৩

ঈমান নিয়ে সীমানা সুস্পষ্ট যখন

যখন ইসলামবিদ্বেষী উগ্র ঘৃণ্য নাস্তিকদল ও তাদের প্রশ্রয়-সমর্থনদাতাদের লাগাতার সীমাহীন অসভ্যতা, উগ্রতা, সীমালঙ্ঘন, আস্ফালন পরিষ্কারভাবে অবধারিত একটি মোটাদাগের রেখা টেনে স্পষ্ট করে আলাদা করে দিলো দ্বীনের প্রতি, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ভালোবাসা আর ঈমান রক্ষার তাগিদে জেগে ওঠা মুসলিমদের সাথে -- তখন বিষয়টি লক্ষ্যণীয় ও গুরুত্বপূর্ণ! এই দেশের, এই সময়ে, এই পরিস্থিতিতে কারো পক্ষে এই সুস্পষ্ট বিভাজন এড়িয়ে যাবার সুযোগ নেই। সমস্ত আলেম, সমস্ত মুসলিমদল, সকল ঈমানদার মানুষ যখন একদিকে স্থান নিয়েছে, তখন অন্যপাশে ধর্মনিরপেক্ষ নাস্তিক ইসলামবিদ্বেষীদের কাছ থেকে ইসলামের ব্যাখ্যা নিয়ে যারা স্বস্তি/আশ্রয় খুঁজতে চাইছেন তারা যে ইসলামের ধারে-কাছে নেই তা বুঝতে 'কমনসেন্স' যথেষ্ট। ইসলাম শিখতে হয় যারা জীবন ধরে দশক-দশক যাবত ইসলামের গভীরে গিয়েছেন, শিখেছেন, জীবনের প্রতি পদক্ষেপে সর্বোচ্চ সামর্থ্য দিয়ে পালন করেছেন/করার চেষ্টা করেছেন তাদের কাছ থেকে!

৭ এপ্রি, ২০১৩

আমার সফলতা, আমাদের সফলতা

জীবন থেকে কিছু অদ্ভুত জিনিস শিখছি। সবাই আমরা অনেক সুন্দর সময়ের অপেক্ষা করি। আমাদের কষ্টগুলো করাই হয় ভালো কিছুর আশায়। যেমন আন্ডারগ্র্যাজুয়েশনের চারটা বছর ত্যক্ত-বিরক্ত হওয়া শিডিউলে ক্লাস-কুইজ-ল্যাব-অ্যাসাইনমেন্ট-রিপোর্ট-ফাইনাল টাইপের চক্রগুলো কাটিয়ে একটা এমন সার্টিফিকেট নেয়া, যার পরে চাকুরি করা যায়। রেজাল্টের পরে প্রোভিশনাল সার্টিফিকেট হাতে একটা প্রশান্তি হয়, কিন্তু এরপরেই আরেক নতুন যন্ত্রণার শুরু। সবসময়েই আমাদের জীবন কাটে অপেক্ষায়। নিঃশ্বাস থাকা পর্যন্ত অন্তহীন অপেক্ষা...

৩ এপ্রি, ২০১৩

বদলে যায় চারপাশ, আমরা কি বদলাই?

আজ অফিসপাড়ায় রাস্তায় অনেক মানুষের ভীড়ে হঠাৎ করেই খেয়াল হলো, কী করলাম এই জীবনে? এইরকমই কিছু শংকা, কাজের চাপ, ভবিষ্যতের চিন্তা নিয়েই দিন পার হতো অনেকগুলো বছর আগেও। বুকের এক অংশে অজানার আশংকা, ল্যাবে-কুইজের চিন্তা, 'ভবিষ্যতে কী যে করবো' টেনশন, এক অংশে অনির্ণেয় শূণ্যতা নিয়ে অস্থির জীবন ছিলো। এক বন্ধুকে ডেকে পেয়ে গেলাম সৌভাগ্যক্রমে, বলছিলাম, কী লাভ হলো বড় হয়ে রে? এখন টেনশন করি 'বস'কে কী রিপোর্ট করব সেইটার, বেতন বাড়ানোর... সময়ের সাথে জীবনের অবস্থান বদলালেও বুকের অবস্থা অনেকটা একই। শুধু শূণ্যতা একটু বদলেছে। হয়ত বিগত কয়েকটা বছর সত্য-সুন্দরের এক স্বপ্নভান্ডার ও রত্নভান্ডারের সন্ধান পেয়ে অন্তরের অনেক শূণ্যতা পূর্ণ হয়েছে আলহামদুলিল্লাহ। তবু, কিছু পেরেশানি ও চিন্তাভাবনার বিষয়গুলো বোধহয় মৃত্যু অবধিই থাকবে। কারণ, আমি অনেকবার ভেবে দেখেছি, আমি প্রয়োজনের চাইতে অনেক কম চিন্তা করি ঐসব পেশাগত ও টাকা-পয়সা বিষয়ে। জীবনযুদ্ধে এতটুকু মনে হয় আবশ্যিক, সবাইকেই করতে হয়...

২ এপ্রি, ২০১৩

বৃষ্টিভেজা রাতে তিলাওয়াত শুনে মুগ্ধ মন

ভেজা পিচঢালা রাস্তার পথ মাড়িয়ে প্রিয় মসজিদের সিঁড়ি বেয়ে সাদা ধবধবে মার্বেল পাথরে পা রাখতেই একটু বেশি শীতলতার স্পর্শেই যেন টের পেলাম আজ বৃষ্টিভেজা সন্ধ্যা ছিলো। সলাতে দাঁড়িয়ে প্রথম রাকা'আতে ইমামের সূরা হাশরের ২১ নম্বর আয়াতটির 'লাও আনযালনা হা যাল কুরআনা আলা জাবালিল... ...ইয়াতাফাক্কারুউন" তিলাওয়াত শুনে মনে হলো, এই কন্ঠের আর্দ্রতাটাও কি আজকে একটু বেশি না? হয়ত ইমামের কন্ঠে আসলেই বেশি আবেগ ছিলো, আয়াতটি তিলাওয়াত করার সময় অর্থটা অনুভব করেই এমন হয়েছিলো তার, আমি জানিনা। তবে, আমার অনুভব হয় সলাতের সময় প্রতিটা মানুষের কুরআন তিলাওয়াতগুলো তার সব সময়ের তিলাওয়াতের চাইতে বেশি আর্দ্র, গভীর অনুভূতিময় হয়। মিশারী আল আফাসির তিলাওয়াতে আমি এটা অনুভব করেছিলাম। আমাদের ইমাম যখন খুতবায় আলোচনা করেন, তাফসিরের সময় আলোচনা করেন -- তখনকার তিলাওয়াতের সাথে সলাতের তিলাওয়াত একদমই অন্যরকম লাগে, তার 'ইহদিনাস সিরাতাল মুসতাকিম' শুনলে আমার মনে হয় যেন সত্যিই প্রচন্ড অসহায় বান্দা তার আল্লাহর কাছে সাহায্য চাইছে... সুবহানাল্লাহ! এ আমার দ্বীন, যার পরতে পরতে সৌন্দর্য গেঁথে গেঁথে আছে। আমাদের স্রষ্টা ও মালিকের কাছে নিজেকে সোপর্দ করে সব কিছুর জন্য তারই কাছে সাহায্য চাওয়ার মাঝেই কত যে শক্তি আর প্রশান্তির প্রবাহ লুকিয়ে আছে! কত সহজেই এই দ্বীনের খোঁজ দিয়েছিলেন আমার রব, এটা ভাবতেই মাঝে মাঝে মনে হয় শুধু এই নিয়ামাতটির শুকরিয়া করেই আমার গোটা জীবন কাটিয়ে দিলেও তা যথেষ্ট হবেনা।

হে রাহমান! জানিনা কবে তোমায় দেখবো, তুমি যে কত সুন্দর, তা তোমার সৃষ্টি দেখেই উপলব্ধি করতে পারি। আমাদের জীবনকে তুমি কেবল তোমার জন্যই কবুল করে নাও গো আল্লাহ, হে মহাপবিত্র, হে মহামহিম!

সূরা আল-হাশরের সেই আয়াতটি যা ইমাম তিলাওয়াত করলেন সলাতে :

♥♥ "যদি আমি এই কোরআন পাহাড়ের উপর অবতীর্ণ করতাম, তবে তুমি দেখতে যে, পাহাড় বিনীত হয়ে আল্লাহ তা’আলার ভয়ে বিদীর্ণ হয়ে গেছে। আমি এসব দৃষ্টান্ত মানুষের জন্যে বর্ণনা করি, যাতে তারা চিন্তা-ভাবনা করে।" ♥♥

--- [মহিমান্বিত কুরআন, আল হাশর, ৫৯ : ২১]

১ এপ্রি, ২০১৩

নিখুঁত শিল্পী এবং ন্যায়ের সৃষ্টি

আমি যখন বান্দরবানের পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে দূর দিগন্তে তাকিয়ে ছিলাম, তখন আমার রক্তবিন্দুর প্রতিটি কণা বোধকরি সেই সুমহান আল্লাহর সৃষ্টির সৌন্দর্যে মোহিত হয়েছিলো। বঙ্গোপসাগরের পানি ঘেঁষে বসে থাকা বিকেলেও নীল জলের তরঙ্গের দোলা আমার হৃদয়ের প্রতিটি কণাকেই দুলিয়েছিলো -- কানে বাতাস এসে ফিসফিস করে জানিয়ে গিয়েছিল, এ সেই মহান সত্ত্বার সৃষ্টি, যিনি নিরুপম, যিনি সুন্দর, যিনি নির্ভুল। রাহমানের প্রতিটি সৃষ্টির নির্ভুল ও অনুপম শৈলীকে দেখেই তার প্রতি আমাদের ভালোবাসাগুলো জেগে ওঠে, জানি এই সুশৃংখল পৃথিবীর স্রষ্টা পরম সুন্দর কেউ হতেই হবে, কাউকে থাকতেই হবে যিনি সবকিছুর মালিক, নইলে কী করে মানুষের চেহারা এত সুন্দর হয়? সকালে গাড়ির জন্য দাঁড়িয়ে থাকি যখন, সামনের মানুষগুলোর দিকে চোখ যেতে কতবার নাকমুখ এখান থেকে ওখানে সরিয়ে সাজিয়েছি কল্পনায়, নাহ! অভ্যস্ততাই শুধু না, আসলেই আমার কল্পনায় এর চাইতে সুন্দর রূপ ভাবতে পারিনা। কার্টুন নেটওয়ার্কে সেদিন অ্যালিয়েন হিসেবে মানুষের মতই ৪হাতওয়ালা প্রাণীর রূপ দেখে কেবল হাসি পাচ্ছিলো। বুঝলাম, তিনি সত্যিই সেরা শিল্পী।

লাক্সতারকা ও আমাদের বিভ্রম

আমার জীবনের একটা অনুভূতির সাথে আমার অনেক বছর যাবত অসহায় সম্পর্ক। মাঝে মাঝেই ফার্মগেইট, মহাখালি আমতলি মোড়, সাইন্স ল্যাব মোড় সহ এমন কিছু জনলোকারণ্যে বাসের অপেক্ষায় থাকতে থাকতে কেমন সবকিছু হঠাৎ Mute হয়ে যায়, আমি শুধু সবকিছুকে ধাবমান দেখতে থাকি, নিজে স্তব্ধ হয়ে যাই। শত-সহস্র লোকের ভীড়ে মনে হয়, আমি আসলে কতই না তুচ্ছ। উচ্চ মাধ্যমিকের পরে একসময় বলাকা বাসের হেলপার ধাক্কা দিয়ে বাসে এক পা উঠে যাওয়া আমাকে নামিয়ে দেয়ার পরে মনে হয়েছিলো সারাজীবন ধরে এত কষ্ট করে এত ভালো রেজাল্ট করেছি, এত মানুষের ভীড়ে আসলে সেসব একদমই কিছু না। এমন আমার প্রায়ই হয়। অনেক লোকের ভীড়ে আমি নিজের তুচ্ছতা ফিল করতাম গভীরভাবে, বুঝতাম নিজেকে আপ্রাণ যত্নে গড়ে তুললেও সেইটা আসলে অনেক মানুষের মাঝে গুণতির বিষয়ও না।

৩০ মার্চ, ২০১৩

ইমাম গাজ্জালীর মূল বাণী

"আপনি যখন দরজায় দাঁড়িয়ে কড়া নাড়ছেন, তখন সেই কাজটিও দরজা খুলে যাওয়ার একটি অংশ; আপনি যখন কোন যাত্রাপথে তখন রওয়ানা হওয়ার মাঝেই আপনার যাত্রা শুরু হয়ে গেছে, যদি কাঙ্খিত লক্ষ্যে পৌঁছতে না-ও পারেন তবু চিন্তিত হবেন না। সময় নষ্ট করা বন্ধ করুন, মৃত্যু আপনার জন্য অপেক্ষা করছে। এটাই ছিলো ইমাম গাজ্জালীর মূল বার্তা।"
--- শাইখ হামজা ইউসুফ

"If you’re knocking at the door, the knocking is itself the opening of the door; if you are journeying, your start is your beginning, don’t worry if you don’t get there. Stop wasting time. Death is waiting for you. This was the key message of Imam al-Ghazali"
---Shaykh Hamza Yusuf

২৯ মার্চ, ২০১৩

পৃথিবীতে সেই মানুষগুলোই যুগে যুগে সমাজকে বদলেছে, যারা বিশ্বাস করত যে তারা বদলে দিবে

আমরা যখন রাহমানের মহিমান্বিত গ্রন্থখানি বুকে আর পৃথিবীর সেরা মানুষটার রেখে যাওয়া পদচিহ্ন সামনে নিয়ে এগিয়ে যেতে চাই, তখন কারো বিশ্বাস হয়না। কেউ বলে, "সময় কঠিন, ওভাবে থাকা যায়না।" কারো কথা, "যুগ বদলেছে, তাল মিলাতে হবে সময়ের সাথে।" কারো কথা আবার, "সবাই খারাপ হয়ে গেছে, নষ্ট হয়ে গেছে।" কেউ কেউ বলে, "এই সমাজ আর বদলাবে না, সম্ভব না।" 

আমরা বলি, এই পৃথিবীতে সেই মানুষগুলোই যুগে যুগে সমাজকে বদলেছে, যারা বিশ্বাস করত যে তারা এটাকে বদলে দিবে। 

আমরা বিশ্বাস করি, এবং জানি, আমাদের হাতে শ্রেষ্ঠ দুই যন্ত্র আছে, যা নিমিষেই বদলে দেয় সবকিছু, যা যোগাযোগ করিয়ে দেয় পৃথিবীকে অনন্তজগতের সাথে... আমরাই পারি, আমরাই পেরেছি, আমরাই পারব। ইনশাআল্লাহ!

হবু দুলাভাই ও শ্যালিকা?

আজ সকালে বাসে দীর্ঘসময় জ্যামে আটকে আছি। এমন সময় বাসের মাঝের দিকে সিটে বসা এক লোক মোবাইলে খুব উচ্চকন্ঠে কথা বলতে শুরু করলো, অন্যপাশের কথাও শোনা যাচ্ছিলো! এরকম অহরহই ঘটে, পাত্তা দিতাম না। কিন্তু লোকটার কথার বিষয়বস্তু খুবই 'অন্যরকম' ভয়ঙ্কর! সে সম্ভবত এমন কারো সাথে কথা বলছিলো যার বোনের সাথে তার বিয়ের কথা চলছে। উচ্চস্বরে এমন কিছু কথা বলছিলো যে বাসভর্তি মানুষ উশখুশ করে তার দিকে তাকাচ্ছিলো -- "বোনেরে লাগবো না তোমার লগেই কথা কই... বউ পরে আগে শালীরে সাইজ কইরে নিই... হা, শালীরে সাইজ করতে পারলে বউ ব্যাপার না... কিই,কিই? আমি কি তোমারে খারাপ কথা বলছি? আমি সৎ লোক, খারাপ কি কথা কইতে পারি? (সুর করে)" এতটুকু হলেও হত। এরপরে সে বললো, "আল্লাহ কি বলসে জানো? ফাজকুরুনি আজকুরকুম ওয়াশকুরুলি ওয়ালা তাকফুরুন।" এটার পরে সে বুঝাইতে শুরু করলো যে চাইলেই নাকি আল্লাহ কত বেশি দিবে... [এই আয়াতের অর্থ মোটেই এমন না!]

চমৎকার মানুষ হিসেবে আমরা তাদেরকেই পাই যারা জীবনে পরাজিত হয়েছেন

অসাধারণ আর চমৎকার মানুষ হিসেবে আমরা তাদেরকেই পাই যারা জীবনে পরাজিত হয়েছেন, দুঃখ-কষ্টে ভুগেছেন, জীবনযুদ্ধে ধুঁকেছেন, অনেক কিছু হারিয়েছেন; যারা শত কষ্ট ও প্রতিবন্ধকতায় জীবনকে গভীর থেকে উপলব্ধি করেছেন। তাদের থাকে জীবনের প্রতি ভালোবাসা, স্পর্শকাতরতা, থাকে গভীর জীবনবোধ, ভাঙ্গাকে গড়ে নেয়ার প্রতি আর্তি যা তাদেরকে সহানুভূতিশীল, বিনয়ী, নম্র, দয়ার্দ্র এবং অন্যের কষ্টের ব্যাপারে সচেতন করে তোলে। অসাধারণ আর সুন্দর মানুষেরা আপনা আপনিই তৈরি হয়ে যায় না।

[Elisabeth Kubler-Ross-এর উদ্ধৃতির আলোকে]

মা এবং বৌ ছাড়া কারো সাথে অভিমান করবা না, কেউ মূল্য দিবে না

মাধ্যমিকে একজন খুব বিনয়ী ইংরেজি শিক্ষক আমাদের ক্লাস নিতেন, যার হাসিমুখ দেখলে মন ভালো হয়ে যেত। একদিন ক্লাসে স্যার beauty নিয়ে পড়ানোর সময় হঠাৎ উপদেশ হিসেবে মুখ উপচানো হাসি দিয়ে বললেন, "If you see anyone beautiful, remain 100 yards far of it" তিনি এই বক্তব্যের ব্যাখ্যাতে বুঝিয়েছিলেন যে beauty distracts our minds, it brings possibility for us to make mistakes. আমি স্কুল জীবন থেকে ব্যক্তিগত ডায়েরি ছিলো, তাতে এটা টুকে রেখেছিলাম। আমি ফিলোসফিক্যাল যেসব জিনিসই শিখতাম স্যারদের কাছে, সেসবই তুলে রাখতাম। সেক্যুলার শিক্ষাব্যবস্থাতে এই উপদেশগুলোই হৃদয়-মনের খোরাক ছিলো। তখন তো আর হাসান আল বাসরি, ইমাম গাজ্জালি, ইবনে তাইমিয়া, ইবনুল কাইয়্যিমদের মতন মানুষদের জানতাম না, তাদের আলোকিত শান্তির বাণী জানার সুযোগ ছিলো না। সেই সময়ে আগ্রহে হোক আর অনাগ্রহে হোক, স্যারের কথাটা মাথায় রাখার চেষ্টা করেছিলাম। ওইরকম সুন্দরে বিভ্রান্ত হয়ে বন্ধুরা যখন ঝাঁপ পেড়ে জীবন জটিল করত, তখন আমি ১০০হাত দূরে মনকে সরানোর চেষ্টা করতাম। মনে পড়তেই হাসি পেলো, কী অদ্ভুত আমাদের কৈশোর!

২৬ মার্চ, ২০১৩

জীবনের প্রতিটি মূহুর্তই কল্যাণের

জ্বরগ্রস্ত হয়ে বিছানার সাথে লেপ্টে ছিলাম সারাটা দিন। সাথে জীবনের কিছু পুরোনো সমস্যা যুক্ত হয়ে মন একদম নাস্তানাবুদ হয়ে ছিলো। ইশার সালাতে টলমল করতে করতে গেলাম। সালাত শেষে বিশাল মসজিদের একটা কোণে নিভৃতে বসে একটা অনুভূতিই প্রগাঢ় হয়ে ঘিরে ধরছিলো আমাকে --এই দুনিয়াতে সম্ভবত মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত আমাদের জন্য খারাপ কিছু নেই। কেননা, তখন অবধি আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়ার সুযোগ আছে। পৃথিবীতে আমি যতটা খারাপই থাকিনা কেন -- হোক সেটা নিজের ভুলের মাশুল দিতে গিয়ে কষ্ট, হোক সেটা জীবনে অনাকাংখিত আপতিত যন্ত্রণা; এমন প্রতিটি বিষয়ই আমার জন্য আল্লাহর সাথে আমার সম্পর্ককে উন্নত করা বিষয়। কী হারালাম, কী পেলাম, কী হচ্ছে, কী হবে --এসব ভেবে লাভ নেই, নিজের কর্তব্যটুকু করে যেতে হবে। কে জানে, হয়ত সিজদা থেকে মাথা তুলতেই দেখব মালাকুল মাওত হাজির। যাবার সময় হয়ে গেলো। কী হবে তখন আমাদের এত যত্নের, এত ভালোবাসার সম্পদ এবং প্রিয়জন? কবর, কিয়ামাহ, হাশর তো অনেক বেশি সত্য। নিশ্চিত যাত্রাপথ...