২৪ সেপ, ২০১২

ফেবুলাপঃ যারা ফেসবুকে তর্কে জুড়ে শায়খ হয়ে গালাগালি করি, তাদের জন্য স্মরণিকা

একজন ফেসবুক শায়খকে বলছি, হ্যাঁ, আপনি যত বেশি স্কলারদেরকে ধুইতে পারবেন, যত তাদের গায়ে কালি লাগাইতে পারবেন, ততই বেশি নেকি হবে আপনার। ঈমানকে জিন্দা করতে হইলে প্রতিটা অপছন্দ হওয়া স্কলারের নামে একশ লাইন করে লিখতে হবে। নইলে কিন্তু আপনার জান্নাত হবেনা। প্রিয় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর অকলঙ্ক চরিত্রতে কুৎসা রটনার চেষ্টায় এক জঘন্য নীচ মানুষরূপী পশু ছবি বানিয়েছে। এই বিষয়ে বিভিন্ন রকম প্রতিক্রিয়া হতে পারত।

কিন্তু অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে যেন আসল কাজ হলো ফেসবুকে জিহাদ করা আর বাস্তব পৃথিবীতে যারা প্রতিবাদ করেছে -- ফেসবুকে আয়েশ করে বসে তাদেরকে ভুল প্রমাণিত করা। আর শুধু এই করেই হবেনা, অবশ্যই এক হালি করে স্কলারদের ধুইতে হবে। নিজে বাস্তব জীবনে একটা কুকুর বিড়ালকে ধরে রুটি খাওয়াতে না পারলেও স্কলার যারা কুরআন আর হাদিসের শিক্ষা দেন/দিয়েছেন সহস্র মানুষকে, যারা জীবনে অজস্র ত্যাগ স্বীকার করেছেন -- তাদের নামে কুৎসা ও নিন্দা করে নিজে বড় হইতে হবে।

ফেবুলাপঃ ফেসবুকের হিরোরা

ফেসবুকের হিরোরা প্রকৃতপক্ষে ডিলিউশানে থাকে। লাইক আর কমেন্টের জোয়ারে ভেসে গিয়ে নিজের বিকৃত নীচ চিন্তাকে সর্বজনবিদিত মহান অভিমত হিসেবে চিন্তা করার কিছু নেই। এটা নিছক একটা বিভ্রমমাত্র।

দু'ছত্র লিখতে শিখে বছরের পর বছর ধরে শ্রম দেয়া, মন দিয়ে কাজ করা জ্ঞানী-গুণী, কর্মী ও নেতাদের কাজকে, ভালোবাসা আর পরিশ্রমকে তাচ্ছিল্য করে উড়িয়ে দিয়ে আত্মতুষ্টি লাভ করা যেতে পারে, ফলশ্রুতিতে নিজেকে কেউকেটা মনে করাও যেতে পারে। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে এই হিরোগণ বাস্তব পৃথিবীতে একটা টিকটিকি ধরে মারার যোগ্যতা রাখেনা, রাখেনা একজন সাধারণ মানুষের জীবনে কিঞ্চিত পরিবর্তনও আনয়ন করতে।

ভার্চুয়াল জগত আর বাস্তব জগতের এই ব্যবধান উপলব্ধি করার বিষয়। এই সমাজের রীতিনীতি, রাস্ট্রীয় রাজনীতি, এই সময়ের জ্ঞান-তথ্য-মিডিয়া-সাহিত্য-সংস্কৃতিগুলো শত-শত বছর ধরে কোটি কোটি মানুষের ভিতরে রন্ধ্রে রন্ধ্রে ঢুকে সৃষ্টি হয়েছে। কীবোর্ডে ঝড় তুলে সবকিছুকে *নালিফাই* করে নাকচ করে দিলেই তা বদলে যাবে না -- এই পুনর্গঠনের জন্য শ্রম দিতে হবে, কাজ করতে হবে, মানুষের পাশে গিয়ে কাজ করতে হবে।

মুখভরা গালগল্পে জীবন বদলায় না, কেবল আত্মতুষ্ট হওয়া যায়। সম্মানিতদের অসম্মানের চেষ্টায় মহৎ হওয়া যায়না, নিজেকেই শুধু ছোট করা হয়।

১৬ সেপ, ২০১২

মীমাংসা ও আনুগত্য : সেরা মানুষের জীবনের আলোকে

এটা সেই অসাধারণ আয়াতগুলো। এই আয়াতগুলোর আলোচনা শুনেছিলাম উস্তাদ নুমান আলী খানের কাছে যা আমার সবচাইতে প্রিয় আলোচনাগুলোর একটা, ২০ মিনিটের মাত্র।

"নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদিগকে নির্দেশ দেন যে, তোমরা যেন প্রাপ্য আমানতসমূহ প্রাপকদের নিকট পৌছে দাও। আর যখন তোমরা মানুষের কোন বিচার-মীমাংসা করতে আরম্ভ কর, তখন মীমাংসা কর ন্যায় ভিত্তিক। আল্লাহ তোমাদিগকে সদুপদেশ দান করেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ শ্রবণকারী, দর্শনকারী।

হে ঈমানদারগণ! আল্লাহর নির্দেশ মান্য কর, নির্দেশ মান্য কর রসূলের এবং তোমাদের মধ্যে যারা বিচারক তাদের। তারপর যদি তোমরা কোন বিষয়ে বিবাদে প্রবৃত্ত হয়ে পড়, তাহলে তা আল্লাহ ও তাঁর রসূলের প্রতি প্রত্যর্পণ কর-যদি তোমরা আল্লাহ ও কেয়ামত দিবসের উপর বিশ্বাসী হয়ে থাক। আর এটাই কল্যাণকর এবং পরিণতির দিক দিয়ে উত্তম।" [সূরা নিসা ৫৮-৫৯]

অতীত স্মৃতি এবং খোঁটা দেয়া

অতীত স্মৃতি
অতীতের স্মৃতি সবাইকে ভোগায়। অতীতের ভুল অন্তরকে বিদ্ধ করে, অতীতের কষ্ট ক্রমাগত বেদনার উদগীরণ করে। বিশেষ করে যেই মানুষ আল্লাহকে ভালোবেসে, ইসলামের অনুপম সৌন্দর্যকে অনুধাবন করে দ্বীনকে ধারণ করতে চায় -- তাকে সেই অতীতের পাপ দংশন করতে থাকে, সেইটা বাঁধন-হারা কষ্টে রূপান্তরিত হয় যখন আরেকজন মুসলিম/মুসলিমাহ সেই ভুল নিয়ে কটাক্ষ করে।

১৫ সেপ, ২০১২

ফেবুলাপঃ ভালোবাসা আর উন্মত্ততা

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।

মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা, যিনি এই বিশ্বজগতের অধিপতি, তিনি জানেন সমস্ত মানুষের অন্তর। আমি একজন ক্ষুদ্র মানুষ। দুইটা চোখ আর একটা মাথা ছাড়া এই মূহুর্তে তেমন কোন উল্লেখযোগ্য ক্ষমতা নেই, তাও কেবল আল্লাহ তা দান করেছেন বলেই আছে। প্রিয় নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে কটাক্ষ করে একটা মুভি বানানোর দুঃসাহস দেখানোর পরে পর তার যেই দিশেহারা বহির্প্রকাশ মুসলিমদের কাছ থেকে -- তা হয়ত ইহুদী-খ্রিষ্টানদের যারা এই ষড়যন্ত্রে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ মদদ দিয়েছে, তাদের জানা ছিলো পুরোপুরি। লিবিয়ার পথে রণতরী রওনা হয়েছে পড়েছি পত্রিকায়। যে বা যারা আগুন জ্বালিয়ে হত্যাকান্ড চালিয়েছে, তারাই আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলার দরবারে ভালো জবাব দিতে পারবে -- তবে এতটুকু বুঝি, যারা মারা গেছে, তারা যদি নবীজীর (সা) নামে কুৎসা রটনার কাছে জড়িত থেকে না থাকে -- তাদের বিচার আল্লাহই জানেন, হত্যাকারীদের বিচার সহজ হবার কথা না। যেই প্রবল শক্তিশালী উন্মত্ত আগুণ জ্বলতে দেখলাম, তার কতটা বাস্তব, কতটা শো-অফ, সেটাও আল্লাহই ভালো জানেন।

৫ সেপ, ২০১২

আমার আঁধার, আমার ঘুম


আমার প্রতিটি যোগ্যতা -- প্রতিটি চিন্তার ক্ষমতা, সুস্থ সুন্দর হাসি দেয়া, কারো সাথে কথা বলা, সুন্দর পায়ে হেঁটে যাওয়া, কলম ধরে লিখতে পারা, কথা দেখে বুঝতে পারা, নিরোগ দেহে ঘুমাতে যাওয়া, প্রিয়জনদের সাথে অভিমান করতে চাওয়ার মনটাও, কষ্ট পাবার বোধটাও --- সব, স-অ-ব আমার আল্লাহ আমাকে দান করেছেন, এই নাদান, দুর্বল, মাটির তৈরি তুচ্ছ দেহটা সেই *আমার রূহ* ধারণ করেছি।

এই এত শত-সহস্র-নিযুত উপহারগুলোতে আমার কোনই অবদান নেই। তবু আমি দম্ভ করি, তবু আমি অহংকার করি, তবু আমি নিজেকে অনেক অনেক যোগ্য ভাবি... আমি এতই উজবুক আর বোকা। ওরে বেকুব, কখনো চারিদিকে তাকিয়ে দেখেছিস ওই পথচলার সময়? কত হাজার মানুষের কাছে তোর যা আছে তার অর্ধেকটাও নাই -- তার আর তোর মাঝে কোনই পার্থক্য নাই। ভেবেছিস এটা তোর জন্য একটা সুযোগমাত্র? এই উপহারগুলোর পার্থক্য কেবলই একই পরীক্ষার অন্য সেটের প্রশ্নমাত্র।

২ সেপ, ২০১২

দাওয়াতের নামে বিদ্বেষ ছড়ানো

ক'দিন আগে বেশ কিছু অভিজ্ঞতা হলো একই দিনে। সেদিন সন্ধ্যায় অফিসের বসের গাড়িতে করে বাড়ি ফিরছিলাম, উনি কথার প্রসঙ্গে বললেন, একটা হাদিসে তিনি পড়েছিলেন, একজন মানুষকে আল্লাহর কাছে যে কয়টা বিষয়ের হিসাব দিতে হবে তার কয়েকটা হলো, কীভাবে অর্থ উপার্জন করেছে, উপার্জিত অর্থ কীভাবে ব্যয় করেছে, যৌবন কীভাবে অতিক্রম করেছে...

এটুকু শুনে ড্রাইভার বলে উঠলো, "যদি হিসাব দিতে না পারি?"।
উনি বললেন, "তাহলে তো যা হবার সেটাই হবে, আল্লাহ ভালো জানেন"।
ড্রাইভার বললো, "এত কিছু না, নামায কালাম করতে হইবো, এইডা ঠিক। অন্যসব কথাই একেকটা মৌলভী একেক কথা কয়"।
- সবাই একই কথা বলে, আলাদা ভাষায় বলে।
- নাহ। আমাগের কাকরাইল মসজিদে যাই, সেইখানে তো নামাযের পরে মোনাজাত ধরেনা, সব মসজিদগুলানে হাত তুইলা দোয়া করনই লাগবো। কোথায় আছে যে মোনাজাত হাত তুইলা করতে হইবো।
- দোয়া তো হাত তুলেই করে। নামাজের পরে ভালো সময়
- ওই তো। একেক মৌলভীরা একেক কথা কয়। কেউ কয় এইটা ছিলনা, কেউ এইটা ছাড়া করবো না।

একজন ড্রাইভারের কাছে *মৌলভীদের* কথাকে দ্ব্যর্থক, ভিন্ন মনে হয়েছে কারণ একটা মোনাজাতের হাত তোলা নিয়ে *মৌলভীদের* ভিন্ন ভিন্ন বিচিত্র অবস্থান নিয়ে সে সন্দেহগ্রস্ত। এমনকি সেদিন আমাকে আরো একটা ফোন কল পেতে হয়েছে যেখানে এই ভিন্ন ব্যাখ্যা ও আরেকজনকে ভুল বলার কারণে সেই আমজনতা কনফিউজড হয়ে গিয়েছিলো।

জুজুর ভয়

এই জীবনে দুই যুগ পার হবার পর আমি চির আকাঙ্খিত জিনিসটা পেয়েছিলাম। আমার এই জীবনে তা এমন একটা দিকের নির্দেশনা যা বেঁচে থাকার, জীবনকে অর্থপূর্ণ আর কর্মময় করার অনুপ্রেরণা দেয়। মুসলিম পরিবারে মৌলিক ইবাদাতের ব্যাপারে খুব সিরিয়াসভাবে বড় হওয়া সত্বেও কিশোর বয়সে এই দেশের হতভাগা আরো লক্ষ লক্ষ ছেলেমেয়েদের মতন লক্ষ্যহীন এক জীবনে পা দিয়ে ফেলেছিলাম আমি। কেন? কারণ, জীবনে অজস্র উত্তরহীন প্রশ্ন ছিলো, আল্লাহর বান্দা হিসেবে জীবন চালানোর অনুপ্রেরণাই ছিলোনা, দিক নির্দেশনা ছিলোনা সেই কঠিন সময়ে গড়ে ওঠার ব্যাপারে। কত ভয়ংকর সব অভিজ্ঞতার মাঝে এই জীবনটাকে নিয়ে বেঁচে সরে এসেছি আল্লাহর অশেষ রহমতে, সেটা আমি জানি। অনেক বৈচিত্র্যময় মতাদর্শ দেখেছি, কোনটাই আমাকে স্পর্শ করতে পারেনি, কারণ তারা সবই আমার কাছে ঠুনকো লেগেছিলো সবসময়।

৩১ আগ, ২০১২

অভিমানী মন

যদি কখনো আপনার ক্লাসমেট, চেনাজানা বা বন্ধুমহলে এমন কেউ থাকে, যে অল্প কথায় মন খারাপ করে ফেলে, অভিমান করে -- সে যদি ক্ষতিকর না হয়ে থাকে, তাহলে সম্ভব হলে তার প্রতি বিরক্ত হবেন না।

হয়ত সে কোনদিন ভালো ব্যবহার পায়নি তার গড়ে ওঠার সময়টাতে, হয়ত সে সুন্দর ব্যবহার কি তা-ই জানেনা, হয়ত সে ভালোবাসা পেতে শিখেনি আপনজনদের কাছ থেকে। হয়ত সে আজীবন কেবল তার সমালোচনা শুনেই বড় হয়েছে।

 হয়ত তার প্রতি আপনার ভালো ব্যবহারটুকু তার জীবন বদলে দিতে পারে। কে জানে, হয়ত আপনার এই ভালো ব্যবহারটুকু আপনার অনন্তকালের জীবনটাও বদলে দিতে পারে...

২৮ আগ, ২০১২

বিয়ে করতে কি কোন প্রস্তুতির দরকার হয়?

আমাদের সমাজে ছেলেমেয়েরা কেন বিয়ে করে? 
অনেক তরুণ-তরুণীরা হয়ত বিয়ে করতে চায় কারণ তাদের বন্ধুবান্ধবরা বিয়ে করে ফেলছে, কারও আবার বাবা-মা চাপ সৃষ্টি করছে বিয়ে করার জন্য, কেউ ঘরের পারিবারিক জীবনের সমস্যা থেকে মুক্তির জন্যও বিয়ে করতে চায়। কেউ কেউ অন্যের শারীরিক সৌন্দর্য দেখে বা অর্থ-সম্পদের কারণে বিয়ে করতে আগ্রহী হয়। কেউ কেউ খুঁজে একজন সঙ্গী, কেউ পারিবারিকভাবে শক্ত একটা অবলম্বন পেতেও বিয়ে করতে চায় যেটা একটা বিয়ের মাধ্যমে সম্ভব। আবার মুসলিম হিসেবে রাসূলের সুন্নাহ পালনের মাধ্যমে ইবাদাত হিসেবেও বিয়ে করতে চান।

আরেকটা মানুষের সাথে আজীবন থাকার অভিপ্রায়ে যখন যাত্রা শুরু হয় দু'জন ছেলে এবং মেয়ের, তখন তাদের অনেক রকমের প্রস্তুতির দরকার পড়ে। দু'টো পরিবারকে তারা জুড়িয়ে দেয়, এখানে আরেকটা পরিবারের সাথে *নিজেদেরকে* মানিয়ে নেয়ার ব্যাপার থাকে। অনেক ধরণের চারিত্রিক গুণ প্রয়োজন, যেগুলো ছাড়া দিব্যি সমস্যাবিহীন *সিঙ্গেল* লাইফ কাটানো গেলেও বিবাহিত তা অবধারিত প্রয়োজন। তাই এগুলোর অবর্তমানে যদি সম্পর্কে চাপ বা টানাপোড়েন সৃষ্টি হয়, অন্য কাউকে দায় দেয়ার নেই, ভোগান্তি তো হবেই।

বর্তমান সময়ে টেলিভিশন মিডিয়া, কমার্শিয়ালের মাঝে ডুবে থেকে অনেক ছেলেমেয়েরাই বিয়েকে মডার্ন ডেটিং টাইপের কিছু ভেবে বসেন। কেবল অবিমিশ্র সুখ, উদ্দাম আনন্দ। অথচ, বিয়ের পর দেখা যায় টুথব্রাশ এখানে কেন, টাওয়েল ওখানে কেন টাইপের ছোট ছোট জিনিসেও অমিল পাওয়া যায় একজন আরেকজনের। বিয়ের প্রথম দিকে ভালোবাসা উপচে পড়ার কারণে এইসব অগ্রাহ্য করলেও কিছুদিন পর আরেকজনের এইসব ছোটখাটো অমিলগুলোও অসহ্যবোধ হতে থাকে। 

১৭ আগ, ২০১২

বিয়ের অপর নাম প্রশান্তি, উচ্ছ্বাস আর দয়া

কিশোর বয়স থেকে বিয়ের ব্যাপারে আমার একটা প্রশ্ন ছিলো মনে, সেই  প্রশ্নটা যাদের করেছিলাম, তাদের উত্তর কিছু খুবই নিম্নমানের। তাই আদতে আমার কৌতুহল নিবৃত্ত হয়নি। প্রশ্নটি ছিলো, দু'জন মোটামুটি অপরিচিত মানুষ কীভাবে সারাটা জীবন একসাথে কাটিয়ে দিতে পারে? মোটামুটি অপরিচিত বললাম এই কারণে যে, বিয়ের আগে থেকে আসলে তেমন একটা জানাজানি একদমই সম্ভব না। একসাথে থাকতে গেলে তখন টের পাওয়া যায় যে অনেকে অনেক ছোট-ছোট বিষয়েই বিরক্ত হয়। আর তার উপরে যখন একটা বয়স পরে অনেকের শরীরে রোগবালাই  ভর করে, তখন তো অপরজন অপার ভালোবাসায় আর যত্নে তার দেখাশোনা করেন -- এমনটাই বা কী করে সম্ভব?

অবশেষে আমি আমার প্রশ্নের উত্তর পেলাম। তাও পেয়েছি পবিত্র কুরআনুল কারীমের আয়াত থেকে। নুমান আলী খানের আলোচনা থেকে শেখা সেই আয়াতটির ব্যাখ্যা এখানে উল্লেখ করছি --


আল্লাহ বলছেনঃ

"আর এক নিদর্শন এই যে, তিনি তোমাদের জন্যে তোমাদের মধ্য থেকে তোমাদের সংগিনীদের সৃষ্টি করেছেন, যাতে তোমরা তাদের কাছে শান্তিতে থাক এবং তিনি তোমাদের মধ্যে পারস্পরিক সম্প্রীতি ও দয়া সৃষ্টি করেছেন। নিশ্চয় এতে চিন্তাশীল লোকদের জন্যে নিদর্শনাবলী রয়েছে"।  [সূরা আর-রুমঃ ২১]

      
এই আয়াতটিতে আল্লাহ্‌ স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কের অতুলনীয়, সংক্ষিপ্ত এবং সম্পূর্ণ ব্যাখ্যা দিয়ে এই সম্পর্ককে তাঁর (সুবহানাহু ওয়া তা'আলা) একটি নিদর্শন (আয়াত) বলে উল্লেখ করেছেন। আসুন এই পবিত্র সম্পর্ক সম্বন্ধে আল্লাহ্‌ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা কি বলেছেন সেটা জানি। সম্পর্কটির বিভিন্ন পর্যায় তিনি তিনটি শব্দের দ্বারা ব্যাখ্যা করেছেন।

৮ আগ, ২০১২

আলোর স্পর্শ


ইদানিং কিছু যখন পড়তে গিয়ে মনে হয় বিশাল আবিষ্কার করে ফেলেছি, তখন ডানে বামে তাকিয়ে দেখি আমার চেয়ে কমবয়েসি অনেক মানুষ সেসব অনেক বছর আগেই পড়ে শেষ করে ফেলেছে।নিজেকে তখন হঠাত বাচ্চা বলে মনে হতে থাকে.... সেদিন একটা বই পড়তে গিয়ে একটা মজার জিনিস জানলাম, সেটা অভ্যাসবশত শেয়ার করার জন্য  লাফ দিয়ে ফোন হাতে নিয়েই থেমে গেলাম। ছোট ভাইটা নিশ্চয়ই এসব পড়ে রেখেছে অনেক বছর আগেই। সবাই তো আর আমার মতন মূর্খ ছিলনা!

আজকাল কুরআনের তাফসীর পড়তে গিয়ে দেখি আব্বু অজস্রবার পড়ে পড়ে গুরুত্বপূর্ণ জায়গাগুলোতে আন্ডারলাইন করে, হাইলাইটার দিয়ে হাইলাইট করে রেখেছেন। অথচ আমি হতভাগা একবারও পড়ি নাই।

ইদানিং দ্বীনের জ্ঞানের আলোয় আলোকিত সব মানুষগুলোকেই ব্যাপক হিংসা হয়... ছোটবড় কোন ছাড়াছাড়ি নাই...

১ আগ, ২০১২

তারিক রামাদান প্রবচনগুচ্ছ - ২

আগের পর্বঃ তারিক রামাদান প্রবচনগুচ্ছ - ১

ইসলামের বার্তার ব্যাপ্তি সামগ্রিক জীবন নিয়ে, যেখানে প্রতিটি বিশ্বাসের পাতায় পাতায় আছে যুক্তি, আছে কল্যাণ। প্রতিটি নিয়মের সাথে জুড়ে আছে আমাদের জীবনের পূর্ণাঙ্গ চিত্র। আর এই চিত্রকে অনুপ্রেরণার মাধ্যমে যিনি ছড়িয়ে দিতে পারেন বলে আমি বুঝেছি -- তিনি তারিক রামাদান। পশ্চিমের তরুণদের অনুপ্রেরণা এই ভিন্নমাত্রার ইসলামিক স্কলারের লেখা পড়তে গিয়ে এবং আলোচনা শুনতে গিয়ে গুরুত্বপূর্ণ মনে হওয়া কিছু প্রবচন আমি সংগ্রহ করার চেষ্টা করেছি। এই প্রচেষ্টার দ্বিতীয় পর্ব আজ প্রকাশ করছি।

৩০ জুল, ২০১২

অপেক্ষা [অণুগল্প]


বিশাল একটা স্টেশন, এখানে অজস্র মানুষের যাতায়াত প্রতিদিন। ট্রেনের হুইসেল বাজছে, মালপত্র মাথায় নিতে জনে-জনে গিয়ে চিত্কার করে অনুরোধ করছে কুলিরা, প্রিয়জনদের পেয়ে কেউ চিত্কার করে ডাকছে, কারো চোখে অশ্রু - কাছের মানুষদের মিলনে অথবা বিরহে।

মাহফুজ চুপচাপ বসে আছে ওয়েইটিং রুমের কোনার একটা চেয়ারে। এইখানে এত শত-শত মানুষ -- তাদের কেউ-ই তার আপন নয়, কাউকে চেনেনা। এখন গলা শুকিয়ে কাঠ হয়ে গেলেও এক গ্লাস পানি কেউ দিবেনা -- একথা ভাবতেই কেমন অস্থির হয়ে উঠলো তার মনটা। তার প্রিয়জনদের কথা ভাবতেই এমন লাগছে। অনেকদিন ধরে আজকের দিনটার জন্য অপেক্ষায় ছিল মাহফুজ। রুমের পড়ার টেবিলের উপরে রাখা ডেস্ক ক্যালেন্ডারটাতে দিন কেটে দিতে সে একটা লাল সাইনপেন কিনেছিল, লাল রঙ দিয়ে দাগ দিলে তাতে রাগ বেশি ঝাড়া যায়। কয়েক সপ্তাহ ধরে সে যত্ন করে কেটেছে একেকটা দিন। আজ সকালে ইস্ত্রি করা শার্টটা বের করে পরেছে, অডিকোলন গায়ে দিয়েছে, দিনের পরিশ্রমে যেন তার ছিমছাম পরিপাটি ভাবখানা ছুটে না যায় সেজন্য তার চেষ্টার কমতি নেই। অফিস থেকে বসকে বলে আগেই বেরিয়ে এসেছে, অনেকদিনের এই অপেক্ষার কথা অফিসের কলিগরা আগেই জানত, তারা সবাই মুচকি হেসে বিদায় দিলো দুপুরে লাঞ্চের পরেই।

২১ জুল, ২০১২

তারিক রামাদান প্রবচনগুচ্ছ

তারিক রামাদান আমার একজন মুগ্ধতার মানুষ। তার আলোচনাগুলো আমি মুগ্ধ হয়ে শুনি। ইসলামের জ্ঞান যখন দর্শনের সাথে মিশে যায়, তখন বুঝি আমার মতন তরুণ প্রজন্মের কাছে এমনই সুন্দর কারুকার্যময় মোহনীয় হয়ে ফিরে শব্দমালারা।

প্রফেসর রামাদানের সাথে পরিচয় আমার খুব বেশিদিনের নয়, দু'বছর হয়নি এখনো। আমি তার লেখা পড়ে যা অনুভব করি, তা খুবই অসাধারণ। ইসলামের বার্তার ব্যাপ্তি সামগ্রিক জীবন নিয়ে, যেখানে প্রতিটি বিশ্বাসের পাতায় পাতায় আছে যুক্তি, আছে কল্যাণ। প্রতিটি নিয়মের সাথে জুড়ে আছে আমাদের জীবনের পূর্ণাঙ্গ চিত্র। আর এই চিত্রকে অনুপ্রেরণার মাধ্যমে যিনি ছড়িয়ে দিতে পারেন বলে আমি বুঝেছি -- তিনি তারিক রামাদান। পশ্চিমের তরুণদের অনুপ্রেরণা এই ভিন্নমাত্রার ইসলামিক স্কলারের কিছু উদ্ধৃতি তথা প্রবচন উল্লেখ করছি  এই লেখায়। 

১৭ জুন, ২০১২

ইবনে তাইমিয়্যা প্রবচনগুচ্ছ


"কারো উপরে বেশি নির্ভরশীল হয়ে যেয়ো না। মনে রেখো,
অন্ধকারে তোমার নিজের ছায়াও তোমাকে ছেড়ে চলে যায়।"

-- ইমাম ইবনে তাইমিয়্যা

“আল্লাহর রজ্জুকে দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরা আর নিজেদের মাঝে বিভক্ত না হয়ে যাওয়া ইসলামের সবচেয়ে বড় উসূল (বুনিয়াদ) এর একটি ।”
– ইমাম ইবনে তাইমিয়্যা


  "ঈমানদারদের জীবন ক্রমাগত বিভিন্ন কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি করানো হয় তাদের ঈমানকে বিশুদ্ধ এবং তাদের পাপকে মোচন করানোর জন্য। কারণ, ঈমানদারগণ তাদের জীবনের প্রতিটি কাজ করেন কেবলমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য; আর তাই জীবনে সহ্য করা এই দুঃখ-কষ্টগুলোর জন্য তাদের পুরষ্কার দেয়া আল্লাহর জন্য অপরিহার্য হয়ে যায়।"
-- ইমাম ইবনে তাইমিয়্যা



১৩ জুন, ২০১২

আটলান্টিক পারের আলোকবর্তিকাঃ সুহাইব ওয়েব

ইমাম সুহাইব ওয়েব, আমার প্রিয় একজন মানুষ। তাকে সামনাসামনি কোনদিন দেখিনি, তবে তার কাছে শিখেছি অনেক কিছু, পেয়েছি অনেক অনুপ্রেরণা। তিনি জন্মেছিলেন খ্রিষ্টান ধর্মযাজক পরিবারে, এখন তিনি একজন আমেরিকান মুসলিম চিন্তাবিদ, প্রশিক্ষক এবং ইমাম। বড় একজন ইমাম হয়েও তরুণ প্রজন্মকে তিনি কাছে টেনে আনতে পেরেছেন নিজস্ব দক্ষতায়, ক্যারিশমাটিক আচরণে আর ভালোবাসায়। মার্কিন তরুণ-তরুণীরা যাদের আলোচনায়, ব্যাখ্যায়, উপস্থাপনায় ইসলামের মোহনীয়তা খুঁজে পেয়েছে, ডুবেছে মুগ্ধতায় -- সেই বিদগ্ধ জ্ঞানের মানুষদের মাঝে ইমাম সুহাইব ওয়েব একজন।

সমগ্র বিশ্বেই ছড়িয়ে আছে তার অজস্র শিক্ষানবীসের দল। ইমাম সুহাইব সোশাল নেটওয়ার্ক ফেসবুক এবং টুইটারে বেশ নিয়মিত থাকেন, তিনি তার সাথে আলোচনায় সবাইকে সুযোগ দেন। তাকে তাই অনেকে বলে থাকেন -- "তরুণদের ইমাম"। সাম্প্রতিক সময়ে নুমান আলী খান এবং আব্দুল নাসির জান্দার সাথে "Amazed By The Quran" নামের একটা আয়োজনে অংশগ্রহণ করছেন, বক্তব্য দিচ্ছেন কুরআনের গভীর সৌন্দর্য্য নিয়ে। এমন আয়োজন সমগ্র আমেরিকাতেই সাড়া ফেলে দিয়েছে। থেকে অনেক দূরে থাকলেও কুরআন নিয়ে নুমান আলী খান, আব্দুল নাসির, সুহাইব ওয়েবদের অসাধারণ সেইসব আলোচনা দেখে উপকৃত হই আমরাও।

৫ জুন, ২০১২

হামিংবার্ড ও আমরা

 এই সময়ের প্রতিটা দিনই বেঁচে থাকা যেন আতঙ্কময়। পত্রিকার পাতা খুললেই খুন, ধর্ষণ, গুম, হত্যা নতুন করে বলে দেয়না সমাজের পরিস্থিতি। তার উপরে প্রতিটি পদেই রয়েছে ঘুষ-সুদ, ক্ষমতাধরদের মদদপুষ্ট লোকদের নির্লজ্জ ক্ষমতা প্রদর্শন ও দুর্নীতি। পথে-ঘাটে, বাসে-ট্রেনে মানুষ দেশের চলমান পরিস্থিতির উপর হতাশা প্রকাশ করেন অবলীলায়। বেশিরভাগ মানুষ মোটেই আশাবাদী না। তারা বুঝেন যে দেশের সবাই-ই প্রায় চোর। কেউ সুযোগ পেলে দুইটা টাকা মেরে দিতে ছাড়েন না। তাই এই দুর্নীতি রন্ধ্রে রন্ধ্রে যেন ঢুকে গেছে। আইন আছে, প্রয়োগ নেই, পুলিশ আছে, তার উপরে জনগনের আস্থা নেই। ঘুরে ফিরে এই হতাশা আর নিরাশার দুষ্টচক্র থেকে বের হবার পথ কোথায় আমাদের? ছেলে-মেয়ে, প্রেমিক-প্রেমিকা সম্পর্কগুলো একেকটা নতুন নতুন পত্রিকার শিরোনামের জন্ম দিচ্ছে। পরকীয়া প্রেমের ফলে মারা যাচ্ছে মায়েরই সন্তান। এমন অজস্র নিরাশার গল্প চারপাশে।

১ জুন, ২০১২

প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তর


আমাদের চারপাশের মানুষগুলো থেকে আমরা কিছু মানুষ মনে হয় বুকের ভিতরে একটু ভিন্ন কিছু নিয়ে বেঁচে থাকি। এই বেঁচে থাকাতে জীবন-জীবিকার প্রতিদিনের যুদ্ধ করে ক্লান্ত হয়ে যাওয়া যায় না, একটা অন্যরকম প্রেরণা নিয়ে বেঁচে থাকা হয়। সেই প্রেরণা আত্মায় শান্তিকে সবার মাঝে ছড়িয়ে দেয়ার। যখন আমাদেরই বন্ধু-আত্মীয়-কলিগ দারুণ কিছু ভোগ্যপণ্য গাড়ি-বাড়ি-শপিং করে আনন্দে গান ভাঁজতে ভাঁজতে বাড়ি ফেরে, চ্যানেলে দুইটা খুনের ঘটনা দেখে জগতকে গালি দিয়ে শাপ-শাপান্ত করে ঘুমাতে যায় -- তখন আমার ভাইবোনদের আত্মায় থাকে মহান আল্লাহর নাম। সমাজের সর্বস্তরে সবাই যখন যেকোন উপায়ে টাকা কামানো মূল লক্ষ্য হিসেবে ছুটতে থাকে -- তখনো আমরা প্রচন্ড চুজি হয়ে ভাবতে থাকি এই কলুষ বলয় থেকে কীভাবে বের হবো। কীভাবে এখানে স্থাপন করবো সবার জন্য কল্যাণময় একটা সিস্টেম।

কোথা থেকে আসে এই প্রেরণা? 

৫ মে, ২০১২

টুকরো টুকরো ভালোলাগা - ৩



গতকালের ভোরটা আমার জন্য ছিলো স্নিগ্ধ সময়। একদিকে সাপ্তাহিক ছুটির দিন -- জুমুআর দিন, সেই সাথে বৃষ্টি ছিলো ঝির ঝির। স্নিগ্ধ সকাল বলতে অমনটাকে বোঝাবেই। প্রিয় বইটা হাতে নিয়ে কিছুক্ষণ বসে ছিলাম, শারীরিক অসুস্থতাটা তার আগের দিন কাটিয়ে উঠেছি, মানসিক প্রশান্তি এসেছিলো সুন্দর সকালের আবহাওয়ায়। আত্মিক প্রশান্তিটাও এসেছিলো বইটা হাতে নিয়ে -- পড়ছিলাম আমার প্রিয়তম জনের কথাগুলো, আমার প্রতি তাঁর ভালোবাসা, নির্দেশাবলী, উপদেশাবলী একসাথে করে দিয়েছেন তিনি যেখানে!