২৮ আগ, ২০১৪

মনের জানালা মাঝে # ১৬


(১৭১)
বিশুদ্ধতার প্রতি ভালোবাসা ও আগ্রহ কোন ভুল নয়। অশুদ্ধ এই পৃথিবী বেশিদিন থাকবে না। অনন্ত বিশুদ্ধতাকে পেতে হলে বুকে সেই আজন্ম আকাঙ্ক্ষা আগলে রাখতে হবে।

(১৭২)
কীভাবে বুঝবেন আপনি ক্ষতিগ্রস্ত কিনা?

যখন আপনার প্রিয়তম/প্রিয়তমার চেয়ে আল্লাহকে কম ভালোবাসবেন, যখন সেই প্রিয়জনকে আপনার এত বেশি ভালোলাগবে যে আল্লাহর সামনে সময়মতন দাঁড়ানোর কথা ভুলে যাবেন... তখন বুঝবেন আপনি ক্ষতিগ্রস্ত।

তখন শীঘ্রই নিজেকে সাবধান করুন। আপনার নিজের চেয়ে বেশি ভালোবাসতে হবে আপনার স্রষ্টাকে, যিনি আপনাকে পরম মমতায় অজস্র নিয়ামাত দান করেছেন। প্রিয়জনদের ভালোবাসা হবে সেই ভালোবাসার পরে... তবেই আপনার প্রিয়জনেরা ভালোবাসার এক উত্তম 'service' পাবেন balance রেখে। ভালোবাসার কেন্দ্রে আল্লাহ না থাকলে ভালোবাসার distribution একদমই imbalance হয়ে যায়।

(১৭৩)
যে মানুষটার সাথে আমরা ভালো হবার প্রতিযোগিতা করতে পারি সে হলো আমাদের গতকালকের আমি।

(১৭৪)
আহসানউল্লাহ ইউনিভার্সিটির (AUST) একটা ছেলে সমুদ্র দেখার অভিপ্রায়ে বের হয়েছিলো দলবেঁধে। সে মারা গেছে আরেকজনসহ পানিতে ডুবে, কয়েকজন নিখোঁজ। ছেলেটা পত্রিকার শিরোনাম হয়েছে। ছেলেটা রওনা হবার আগে ফাইজলামি করে/ফান করে/মজা করে হয়ত ফেসবুক স্ট্যাটাস দিয়েছিলো "দূরে চলে যাচ্ছি বহূ দূরে"... এই টাইপের। পোস্টটা দেখে আর কমেন্ট পড়ে মনে হয়েছে তার কনট্যাক্ট লিস্টের সবাই টিপিক্যাল 'ঢং' টাইপের পোস্ট বা ফান হিসেবে মনে করেছিলো।

নিশ্চয়ই আল্লাহ আমাদের প্রত্যেকের ক্বাদর লিখে রেখেছেন। তিনি ছেলেটির সেই অদ্ভুত ফেসবুক স্ট্যাটাসকে সত্য হিসেবেই প্রমাণিত করেছেন। পোস্টটা দেখে কষ্ট লেগেছে ছেলেটার জন্য। তার মৃত্যুটা আমার জন্য স্মরণিকা নিয়ে এসেছে, আমার ভয় হয়েছে নিজের কথা ভেবে। কত কথাই তো লিখেছি ফেসবুকে, টুইটারে, ব্লগে। এমন কথা যেন কখনো না লিখি, যা আমার আফসোসের কারণ হবে। প্রতিটি কথাই হিসেব করে লেখা উচিত।

মৃত্যু এত চরমতম বাস্তব! আল্লাহ যেন আমাদেরকে ঈমানী মৃত্যু দান করেন। আল্লাহ যেন আমাদেরকে হায়াতে তাইয়্যেবা দান করেন। আমাদের মৃত্যু যেন হয় জীবনের সবচেয়ে উত্তম কাজটি করতে থাকা অবস্থায়। একবার সালাফদের এক উপদেশবাণীতে শিখেছিলাম, এমন কাজ এড়িয়ে যাওয়া উচিত যা করার সময় আমি মৃত্যুবরণ করাকে অপছন্দ করি। কেননা, মালাকুল মাওত (মৃত্যুর ফেরেশতা) কখন এসে হাজির হবেন, আমরা জানিনা। তিনি এলে এক মূহুর্তও আর অবকাশ নেই। তাই সবসময়ে আমাদের জিহবা চলুক ক্ষমাপ্রার্থনায়, ইস্তিগফারে, আল্লাহর যিকিরে। আমাদের হৃদয়ের আর্তি হোক এই ক্ষুদ্র জীবনের পৃথিবী পেরিয়ে অনন্তকালে আল্লাহর সন্তুষ্টিতে শান্তির প্রত্য্যাশায়...

হে আমাদের রব! আমরা তো আপনার কাছেই মুখাপেক্ষী, আমরা দুর্বল, আমরা পাপী, আমরা অকৃতজ্ঞ। আপনি তো গাফুরুর রাহীম, আপনি তো রাহমানুর রাহীম, আপনি আমাদের দয়া করুন, মাফ করে দিন, জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা করুন, জান্নাতুল ফিরদাউসের জন্য কবুল করে নিন...

(১৭৫)
কখনো কখনো নীরবতা যেন শব্দের চেয়েও বেশি কথা বলে যায়...

(১৭৬)
আমরা যখন বেশি কথা বলি, তখন একই কথা বারবার বলি। চিরন্তন বাণীগুলো সবসময়েই মধুর,কিন্তু ব্যক্তিগত মতামতগুলো ক্লান্তিকর। অনেক সময় প্রিয়জনেরাও হাঁপিয়ে ওঠেন। হতে পারে সৌন্দর্যহীন কথা আমাদের মাঝে অদ্ভুত দুরত্ব তৈরি করে দিতে পারে। যদি সুন্দর কথা না বলতে পারি, চুপ থাকাই ভালো। অন্তত নীরবতার মাঝেও আমাদের হৃদ্যতা ও ভালোবাসা সঞ্চারিত হতে পারে, কিন্তু ক্লান্তিকর ও অসুন্দর ভাষা তার বিপরীতধর্মী কাজ করে।

(১৭৭)
আমাদের প্রিয়জনেরা যতটা সুন্দর, তার চেয়েও বেশি সুন্দর তারা আমাদের মনের সৌন্দর্যে। আপনি কোন একটা মূহুর্তকে অনেক বেশি সুন্দর করে হৃদয়ে ধরে রাখতে পারেন, বা সেই মূহুর্তটিকে অবিস্মরণীয় করে রাখতে পারেন আপনার মনের মাধুর্য, সৌন্দর্য, ভালোবাসা দিয়ে। মনটাকে সুন্দর করলে, ভালোবাসাময় আর উদার করতে পারলে আপনি জগতটাকেই দেখবেন অনেকটাই সুন্দর। তবে মনে রাখতে হবে, এই পৃথিবী কখনই নিখুঁত নয়। নিখুঁত ও সম্পূর্ণ আনন্দ ও সৌন্দর্য কেবল জান্নাতেই সম্ভব। সেই চাওয়া বুকে জাগলে আল্লাহর কাছে দোয়া করুন যেন তিনি আপনাকে জান্নাতের পথে পরিচালিত করেন।

(১৭৮)
মাঝে মাঝে মনে হয়, আল্লাহর জন্য যাদের ভালোবাসি তাদেরকে জন্য যে পরিমাণ ভালোবাসা অনুভব করি তা ধারণ করার জন্য এই বুকটা খুব ছোট।

(১৭৯)
ভালোবাসার গল্প শুনতে চাই আমরা। ভালোবাসার কতটুকু বুঝি? সত্যিই কি আমরা কাউকে ভালোবাসি? কয়েকটা কথা হয়ত আপনি আগে ভাবেননি। আপনি কি জানেন--

- আপনি আপনার প্রিয়জনকে ভালোবাসেন না যদি সে যা ভালোবাসে সেটাকেও আপনি ভালো না বাসেন।
- আপনি তখনই কাউকে ভালোবাসেন যখন তাকে যারা ভালোবাসে আপনি তাদেরকেও ভালোবাসেন।

# ভালোবাসা নিয়ে এমন আরো চমৎকার কিছু মনোমুগ্ধকর আলাপ শুনুন শাইখ হামজা ইউসুফের বক্তব্যের অংশবিশেষ নিয়ে এই ছোট্ট ক্লিপটিতে:

Tell Me about Love - Shaykh Hamza Yusuf : http://www.youtube.com/watch?v=ls_eQXGlXNA

২৭ আগ, ২০১৪

যখন মনে হয় "নাহ! আর পারছি না"

​​​​আমাদের অনেকের জীবনেই মাঝে মাঝে কিছু সময় আসে যখন মনে হয় "আর হবে নাহ/আর পারছি না",অথবা হয়ত কখনো জীবনের মূহুর্তগুলো এতই কঠিন লাগে যে আর আশা খুঁজে পাইনা, নিজের উপরে বিশ্বাস হারিয়ে যেতে থাকে। হয়ত কখনো কোন ভুলের কারণে হওয়া কষ্ট এত তীব্র হয় যে মনে হতে পারে জীবনের ফেলে আসা পথগুলো/কষ্টগুলো/প্রচেষ্টাগুলো আসলে ভুল ছিলো। আবার এমনও মনে হয়, আমি যে জীবন কাটাচ্ছি, হয়ত এ থেকে খুব ভালো কিছু দূরে থাক, এই কঠিন পৃথিবীতে কোনরকম কিছু করেও টিকে থাকতে পারবো বলে আশা করা যায় না...

২৬ আগ, ২০১৪

দাড়ি কেন রাখে ওই মুসলিম পুরুষগুলো?

অদ্ভুত এক মুসলিম সমাজ আমরা! নিজেকে মুসলিম মনে করা মানুষগুলো এমন এক চিন্তা ও শিক্ষা নিয়ে বড় হয়েছে যে কেউ দাড়ি রাখলে তাকে প্রশ্ন করে "কী ব্যাপার শিবির করো নাকি?/তুমি কি জঙ্গী-টঙ্গী হয়ে গেলা?"... ​​​আমাদের ইজ্জত নিয়ে কি আদৌ চিন্তা করি আমরা?

আমাদের এই সমাজটাকে জাহেল সমাজ বললে কি অত্যুক্তি হয় কিনা আমার জানা নেই। এখান প্রচলিত কনসেপ্টটাই এমন যে-- হজ্ব থেকে ফিরে দাড়ি রাখতে হয়, আর হজ্বে যেতে হয় বৃদ্ধ বয়সে!! এদিকে যৌবনে ছেলেদের গাল হবে চকচকা, টেলিভিশন কমার্শিয়ালে দেখানো হয় চকচকা গালের প্রতি নারীদের অনেক 'আকর্ষণ'!! মেয়েদের হিজাব প্রয়োজন এমন কনসেপ্টটা কমবেশি মুসলিম (যারা আসলেই নিজেদের মুসলিম মনে করেন) পরিবারগুলোতে থাকলেও ছেলেদের দাড়ির কনসেপ্টটা একদমই নেই। এই কারণেই সমাজে প্রো-সেক্যুলার লোকেরা দাড়িওয়ালা ছেলেদের নিয়ে একটু বেশি সহজে কৌতুক করার ধৃষ্টতা দেখায়। তবে আজকাল অনেক পরিবারেই চল্লিশ পেরিয়ে যাওয়া 'বোরকা পরা' মায়ের জিন্স-টিশার্ট পরিহিতা সন্তান পাওয়া যায়। পর্দার কনসেপ্টটাকে পানি দিয়ে গুলে খাওয়া হয়ত এটাকেই বলে!

আশাহত না হবার অনুরোধ জানাই

আমি আমার মুসলিম ভাইদের আশাহত না হবার অনুরোধ জানাই।

যখন বন্ধুদের মাঝে, আত্মীয়মহলে কিংবা পথে-ঘাটে আপনার মুখের দাড়ি কিংবা টাখনুর উপরে কাপড়, টিভিতে অবাধ নগ্নতা থেকে চোখ দূরে রাখা, মেয়েবন্ধু কিংবা মেয়ে-কলিগদের সাথে 'খাজুইরা আলাপ' থেকে নির্বিকার থাকা, মেয়ে 'কাজিনদের' সাথে অপ্রয়োজনীয় খুনসুঁটি না করা, হারাম অর্থোপার্জন 'সুদ' নিয়ে করা অর্থনৈতিক লেনদেনে সাবধান হয়ে থাকা, গান না শোনা, ইসলামী আলোচনা ও হালাকায় আগ্রহ থাকা নিয়ে আশেপাশে সবাই একটু হাসি-তামাশা ও অবাক হয়...

তখন জেনে রাখবেন, আপনি আল্লাহর এমন কিছু বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত যারা প্রচন্ড ভাগ্যবান। খুব অল্প মানুষই নামসর্বস্ব মুসলিম হবার পরে নিজেদেরকে বদলে ফেলার পথে আছে। আপনি এমন এক দায়িত্ব কাঁধে নিয়ে আছেন যে দায়িত্ব নিয়েছিলেন পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ মানুষটি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)। তিনি যে মূহুর্তটিতে দ্বীনের দায়িত্ব পেয়েছিলেন, তখন গোটা দুনিয়ায় তার পাশে একটি মানুষও ছিলো না। কিয়ামত পর্যন্ত যত মানুষ আসবে, তাদের সবাইকে আল্লাহর বাণী পৌঁছে দেয়ার দায়িত্ব ঐ মানুষটির দু'টি কাঁধে ছিলো-- ভেবে দেখুন তার সেই অনুভূতিটুকু...

জান্নাতকে ঘিরে রাখা হয়েছে অনাকর্ষণীয় সব বস্তুতে। জাহান্নামের চারপাশে আকর্ষণীয় বস্তু। দুনিয়ার  চাকচিক্য, গার্লফ্রেন্ড, সুদী ব্যাঙ্কের টাকা, বন্ধুদের সাথে পার্টিতে গিয়ে মদ-হুইস্কি-বিয়ার খাওয়া --আপনার অন্তরকে অন্ধকের থেকে অন্ধকারে নিয়ে চলে যেতে থাকবে। আপনি এমন বস্তুর থেকে যত দূরে থাকতে পারবেন, নিজেকে তত বেশি ভাগ্যবান মনে করতে পারবেন। আখিরাতের অনন্তকালের কষ্টের সাথে দুনিয়ার কষ্টগুলো তুলনাহীন।

তাই, যত কষ্টই হোক, আখিরাতের অনন্তজগতের সুখস্বপ্নকে বুকে নিয়ে
আমি আমার ভাইদেরকে আশাহত না হবার আহবান জানাচ্ছি।

[১৮ আগস্ট, ২০১৪]

২০ আগ, ২০১৪

বাসায় ডিশের লাইন

​আমাদের বাসায় কোনদিন 'ডিশের লাইন' (স্যাটেলাইট কানেকশন) ছিলো না। স্রেফ নামকাওয়াস্তে একটা টিভি ছিলো। আলহামদুলিল্লাহ আমাদের ভাইবোনদের মাঝে টিভি দেখার তেমন কোন ন্যুনতম আকর্ষণ কাজ করেনি, এখনো করে না। টিভি দেখা হতো না, হয় না শুনে অনেকে ' এটাকে 'অসম্ভব' বিবেচনা করে প্রশ্ন তুলতে চেষ্টা করেন আমাকে "এটা তো হারাম না। সাধারণ জ্ঞান বাড়ে, দেশ-বিদেশের খবর জানা যায়। ইসলাম মানেই তো সব টাইট করে রাখতে হবে এমন না।" ... মজার ব্যাপার হলো, এই ডাউটমার্কা কথাটা একটা মুখস্ত বুলি। ইসলামের পারমিশনকে এমন লোকজন থোড়াই তোয়াক্কা করে। তাই আলোচনায় ইসলাম 'টাইট' নাকি 'ঢিলা' প্রসঙ্গ এড়িয়ে গিয়ে আমাকে বলতে হয় যে আলহামদুলিল্লাহ আমাদের এতগুলা ভাইবোনদের সবাইকে কেউ কোনদিন বলতে পারেনি যে সাধারণ জ্ঞানের সীমাবদ্ধতা আছে বা আমরা অন্য সবার চেয়ে কিছুমাত্র কম জানি।

১১ আগ, ২০১৪

সুখ কোথায়?

​একদম সুনসান নিরবতা মনে হয় ঢাকা শহরে হয়ে ওঠে না। তিলোত্তমা নগরীতে​ সবসময়েই​ অনেক লোকের আনাগোনা চলতেই থাকে। একটু জায়গা পেলেই যেন মাটি ফুঁড়ে জেগে উঠে ডেভেলপার কোম্পানির নতুন প্রজেক্ট। নতুন অ্যাপার্টমেন্টগুলোতে নতুন কিছু সংসার --নতুন দম্পতি, পুরোনো দম্পতি, ব্যাচেলর। ​যেকোন এক ​নির্ঘুম রাতে জেগে উঠে আলো-আঁধারির মাঝে জানালা দিয়ে, বারান্দা দিয়ে বাইরে উঁকি দিলেই অন্য কাউকে পাওয়া যায় দূরে কোথাও -- এক টুকরো মোবাইলের আলোতে জেগে থাকা কিশোর, কিশোরী। অথবা হয়ত কোন তরুণ বা তরুণী। এভাবেই অপচয় হয় কৈশোরের, তারুণ্যের।

৪ আগ, ২০১৪

আমরা কী চাই আর কী পাই?

​​যদি আমরা জীবনের একটু পেছনে ফিরে তাকাই, মনে হয় সেখানে অনেক প্রাপ্তি পাবো, পাবো অনেক অপ্রাপ্তির অনুভূতি। যে জিনিসটা নিশ্চিত পাবো, তা হলো কিছু দগদগে ঘা। অনেক কষ্ট আর বেদনার ফেলে আসা অসহায় দিন, দুশ্চিন্তার রাত, শঙ্কা ও সঙ্কোচের মূহুর্তে ভরা অনেকগুলো দিন। জীবনে খুব ছোট ছোট ব্যাপারে ঠকে ঠকে, প্রতারিত হয়ে, অবহেলা পেয়ে, রিক্ত থেকেই আমরা স্বস্তির কিছু প্রাপ্তি পাই, প্রশান্তির নিঃশ্বাস নিতে পারি। দুনিয়াতে যারা বড় হয়, তারা কমবেশি সবাই অনেক ত্যাগ করেন। আল্লাহ পৃথিবীর সবকিছুই খুব 'সিসটেমেটিক' করে তৈরি করেছেন। নিপুণ সেই স্রষ্টার হাতের স্পর্শে সবকিছু অদ্ভুত এক দ্যোতনার মাঝে চলে। দিন না পেরিয়ে রাত হয়না, অঙ্কুরোদগম না হলে চারাগাছ ফোটে না, গর্ভকে ধারণ না করলে হয়না সন্তান -- অমন লক্ষ-কোটি উদাহরণ সৃষ্টিজুড়ে...

৩ আগ, ২০১৪

গাযযাতে চলমান হত্যাযজ্ঞের ছবিগুলোর প্রতি সবাই কেমন যেন ডিসেনসিটাইজড হয়ে গেছে

​গাযযাতে চলমান হত্যাযজ্ঞের ছবিগুলোর প্রতি সবাই কেমন যেন ডিসেনসিটাইজড (অনুভূতিহীন) হয়ে গেছে...

এই ব্যাপারটাতে আমার কিছু বলার আছে! পশ্চিমে বেড়ে ওঠায় এরকম মৃত্যু আমরা কেবল মুভিতেই দেখেছি। আমরা এতো বেশি মুভি দেখেছি যে আমাদের কাছে গাযযায় চলমান হত্যাকান্ড আর ম্যুভির বিষয়টা একই মনে হয়, শুধুই যেন পর্দায় ভেসে থাকা কিছু নিথর দেহ! তাই আমরা নতুন করে ডিসেনসিটাইজড হয়ে পড়িনি, আমাদের বেশিরভাগ মানুষই অনেক আগে থেকেই এরকম বিষয়ে ডিসেনসিটাইজড হয়ে আছি। যারা আমাকে বলছেন এসব শেয়ার না করতে তাদের বলছি, আমি ভাল করেই জানি আপনাদের অবস্থান এবং আমি আপনাদের উপদেশটা মনে রাখব। দয়া করে বুঝতে চেষ্টা করুন যে আমার পেশাদারিত্ব এবং আবেগের মাঝে আমি এক টানাপোড়েনে আছি। আমি আল-শিফা হাসপাতাল সংলগ্ন রাস্তায় বড় হয়েছি। এ্যাম্বুলেন্সের সাইরেন প্রতিদিন সকালে আমাদের ঘুম ভাঙ্গিয়ে দিত। আমি ও আমার বন্ধু মিলে আল-শিফার বাগানে অনেক খেলাধূলা করেছি! এই ভয়াবহতা স্রেফ একটা ছবির দেখার অনেক ভিন্ন একটা ব্যাপার। আমি নিজের চোখে আল-শিফা হসপিটালের দরজা দিয়ে ক্ষতবিক্ষত শরীরগুলো দেখে বাসায় ফিরে খবর দেখেছি কিন্তু এ বিষয়ে কোন কিছুই পাইনি সেখানে। সংবাদ মাধ্যমগুলো গাযাতে চলমান হত্যাযজ্ঞ এমনিভাবেই চেপে যাচ্ছে ঠিক যেমন করে তারা সিরিয়া, বার্মা, পাকিস্তানে চলমান জুলুম ও নিপীড়নকে চেপে যাচ্ছে। আমি এসব দেখে প্রচন্ড ক্ষেপে গিয়েছিলাম, আমি এখনো ক্ষেপে আছি। আমি প্রতিজ্ঞা করেছিলাম গোটা বিশ্বকে গাযার এমন চিত্র দেখাবো যা গাযায় বসবাসকারী মানুষদের চোখগুলো প্রতিদিন দেখে। অনলাইনে হয়ত আপনারা শুধু একটা ছবিই দেখেন। কিন্তু এই ছবির পেছনে থাকে অনেকগুলো গল্প, ছবিটা কেবলই একটা মৃতদেহ নয়। একজন মানুষের দেহ থেকে যখন তার আত্মা বের হয়ে যায় তখন শুধু মানুষটিই মারা যায় না, মারা যায় ভালোবাসা, সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য, সমবেদনা, স্বপ্ন। ছবিটি দেখতে কতটা  বীভৎস সেটিই কেবল বড় ব্যাপার নয়, বরং তিলতিল করে গড়ে ওঠা জীবনগুলোর কষ্ট ও হারানোর গল্পগুলো অনেক বড় ব্যাপার।

আমি আশা করি বুঝতে পেরেছেন।

-- মুহাম্মাদ জেয়ারা

[লেখক কাডায় জন্মগ্রহণ করা ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত এক নাগরিক। তিনি চিকিৎসাবিজ্ঞানে পড়াশোনা করেছেন। তিনি একজন বক্তা এবং মূলত তরুণদের প্রতি অনুপ্রেরণাদানকারী বক্তব্য রাখেন। অনলাইনে প্রকাশিত এডুকেশনাল এবং মোটিভেশনাল ভিডিওগুলোর জন্য তিনি বেশি পরিচিত। গাযযায় বেড়ে ওঠার সময়ে জীবনের ৮টি বছর তার জীবনের একটি বড় অভিজ্ঞতা। তার ফেসবুক প্রোফাইল: https://www.facebook.com/mzeyara/]

৩১ জুল, ২০১৪

​ বন্ধ রাফাহ ক্রসিং এবং সহস্র মৃত্যু

২০১২ সালের নভেম্বরে ইসরাইল আক্রমণ করেছিলো গাজাতে, নাম দিয়েছিলো 'অপারেশন কাস্ট লিড'। হামাসের প্রতিরোধে টিকতে পারেনি খুব বেশিদিন। তখন মিশরের প্রেসিডেন্ট ছিলেন মুহাম্মাদ মুরসি। রাফাহ ক্রসিং তখন খোলা ছিলো, তাই মুসলিম ব্রাদারহুডের অনেক সাহায্য পেয়েছিলো হামাস। সেই গ্লানিতে হিংস্র হয়ে থাকা ইসরাইল হয়ত তাই মুরসিকে প্রেসিডেন্ট থেকে সরিয়ে প্রকাশ্য হত্যাকান্ডের মাধ্যমে ক্যু করতে সাহায্য করেছিলো জেনারেল সিসিকে। এবার তাই রাফাহ বন্ধ। মিশরের সিসি, সৌদির আব্দুল্লাহ, আমিরাতের আমির মিলেছে ইসরাইলের সাথে এবং গাজ্জাবাসির উপরে অত্যাচারকে অসহনীয় করে তুলেছে। ক্রমাগত অস্ত্রের সরবরাহ দিয়ে চলেছে আমেরিকা।

টুকরো আলাপ: বাংলা ভাষায় গুগল সার্চ

​​বাংলা ভাষায় গুগলে কিছু সার্চ দিতে গেলে আমি মাঝে মাঝেই কীবোর্ডে তাড়াতাড়ি করে শব্দগুলো চেপে যাই। নইলে শুধু দু'একটা অক্ষর সার্চ বক্সে থাকলে গুগলের সাজেশনে যা দেখি, তাতে ঘেন্নায় বমি-বমি লাগে। একটা গোটা জাতির কী টপিকে কত বেশি পছন্দ সেটা বেশ পরিষ্কার দেখা যায় গুগলের এইসব সার্চ কী-ওয়ার্ড দেখলে। আল্লাহ আমাদের বাংলাভাষী মানুষগুলোকে বেশি করে হিদায়াহ দিন, আমাদের ভবিষ্যত প্রজন্মকে হেফাজত করুন।

এদিকে মাঝে মাঝে আমার ব্লগগুলোতে স্ট্যাটিসটিকস চেক করে গিয়ে দেখি এমন সব নোংরা কী-ওয়ার্ড সার্চ করে লোকে গুগলে গিয়ে আমার ব্লগে এসেছে! ভুলপথে চলে আসা লোকগুলো হয়ত বোকা হয়ে গেছে এইসব ব্লগে এসে। কখনো কখনো না হেসে পারিনা কিছু সার্চ কী-ওয়ার্ড দেখে... এত সব অদ্ভুত চিন্তা মানুষ করে কীভাবে!! এই যেমন আজকে একজন সার্চ দিয়েছিলেন যা লিখে তা হলো--

"নাবালক মেয়ে বিয়ে করার উপায়"​

টুকরো আলাপ: ড বিলালের ঢাকা ভ্রমণ

​ড বিলাল ফিলিপস আমার জীবনে বড় একজন মানুষ। যখন জন্মসূত্রে মুসলিম থাকা বিচিত্র বিশ্বাস আর আচার-সংস্কৃতির মানুষদের মাঝে পড়ে চিড়ে-চ্যাপ্টা হয়ে যাচ্ছিলাম তখন আল্লাহ এই মানুষটির লেকচারগুলো দিয়ে আমার জীবনে এক নতুন দিগন্তের সন্ধান দিয়েছিলেন। ঢাকায় ড. বিলালের লেকচারে উপস্থিত থাকার প্রবল ইচ্ছা ছিলো। কয়েক সপ্তাহ আগে থেকে প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম মনে মনে। শেষ মূহুর্তে যখন শুনলাম প্রোগ্রাম ক্যানসেল হয়ে গেছে তখন খুব চমকে যাইনি, হতভম্ব হইনি। নষ্টদের টাকা খাওয়া মিথ্যার বেসাতি নিয়ে প্রচার করা জঘন্য এক অনলাইন পত্রিকা যখন তার আগমনের আগেই মিথ্যা ছড়াচ্ছিলো তখনই টের পেয়েছিলাম এই দেশের মাটির নষ্টগুলো সেটাকে কন্টকময় করবে। আল্লাহই উত্তম পরিকল্পনাকারী। আমরা তো বড়জোর চেষ্টা করতে পারি, সফলতার মালিক আল্লাহ। ইনশাআল্লাহ নিশ্চয়ই আল্লাহ সেই মানুষগুলোর চাওয়াকে কবুল করে উত্তম প্রতিদান দিবেন যারা দ্বীনকে আরো ভালো করে বুঝতে আলোচনা শুনতে পরিকল্পনা করেছিলেন। মু'মিনদের পথ কখনই সহজ নয় কবরে পা দেওয়ার পূর্ব পর্যন্ত... আল্লাহ আমাদেরকে জান্নাতি হিসেবে কবুল করুন, আল্লাহ আমাদেরকে নষ্ট-অভিশপ্ত-মিথ্যুক হওয়া ও তাদের প্রতি সমর্থনকারী হওয়া থেকেও হেফাজত করুন। নিশ্চয়ই আমাদের সকল নামাজ, প্রার্থনা, আমাদের সকল ত্যাগ, আমাদের জীবন ও আমাদের মরণ কেবলই আল্লাহর জন্য...

[২১ জুন, ২০১৪]

৩০ জুল, ২০১৪

মুখের দাড়ি যখন ফান

​​দাড়ি নিয়ে ফান করাটা বেশ অতিমাত্রায় চলছে ইদানিং। 'মিডিয়াওয়াশড' মুসলিম মনগুলো খুবই করুণাদায়ক। মাঝে মাঝে তাদের বুদ্ধিবৃত্তিক অসারতা, আত্মপরিচয়হীনতা দেখে হতভম্ব হয়ে করুণা অনুভব করি। কিন্তু করুণা করতে গিয়েও যন্ত্রণায় পড়ি। মানসিক দারিদ্রতায় আক্রান্ত এই ছেলেমেয়েগুলো আবার ইসলামের শত্রুতা করে অবলীলায়। তাই, এদের অজ্ঞতা আর শয়তানি কাজগুলোকে নিস্পাপ চোখে দেখা সম্ভব হয় না।

ঈদ : একাল ও সেকাল

​​হাজার কিম্ভুত টাইপের হলেও ছেলেবেলার ঈদ খুব বেশি ম্লান ছিলো না। ঈদের আগের রাতের মধ্যেই ঈদকার্ড বিতরণের একটা ব্যাপার ছিলো। ২ টাকা আর ৫ টাকায় কিছু কার্ড পাওয়া যেত। ৫ টাকার কার্ডগুলো এমবোস করা থাকতো। তখনো গোটা এলাকায় কিছু 'বাড়িওয়ালার' ছেলে ভাইয়েরা বিল্ডিং এর উপরে 'সাউন্ড বক্স' লাগিয়ে গান বাজাতো। সম্ভবত সেগুলোকে 'ডেক সেট' বলা হতো। বিটিভিতে অনুষ্ঠানের ঘোষিকাদের মাথার কাপড় ফেলে দিয়ে ঈদের শুভেচ্ছা দেয়ার ব্যাপারটা থাকত ঈদ হবে কিনা তা জানার মূল উৎস।

[গ্রন্থচারণ] বিয়ে - স্বপ্ন থেকে অষ্টপ্রহর : মির্জা ইয়াওয়ার বেইগ


আজকে একটি বইয়ের ব্যাপারে লেখা প্রয়োজন মনে করছি যা এই সমাজে, এই সময়ের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বইটির নাম "বিয়ে : স্বপ্ন থেকে অষ্টপ্রহর" যা লিখেছেন শাইখ মির্জা ইয়াওয়ার বেগ। বিয়ে আমাদের প্রতিটি মানুষের জীবনের স্বপ্ন থাকে, একসময় সেটা আটপৌরে হয়ে যায়। নামকরণের দিক থেকে হিসেব করলে বইটি অসাধারণ হয়েছে এবং নামকরণ সার্থক হয়েছে। একজন মানুষ বিয়েকে স্বপ্ন হিসেবে কেমন করে, কী করে সুন্দর একটি বিয়ের দিকে আগানো যায় এবং বিয়ে যখন জীবনের একটা অংশ হয়ে যায় তখনো যে বিয়েকে নিজেদের উদ্যোগে কীভাবে সুন্দর ও স্বাস্থ্যকর সম্পর্ক হিসেবে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া যায় সেই বিষয়ে আলোকপাত করেছেন। ইসলামী জ্ঞানে ভাস্বর লেখক অল্প কথায় ছোট কলেবরে তার দীর্ঘ জীবনের অভিজ্ঞতার আলোকে দাম্পত্য নিয়ে খুব সুন্দর করে তুলে ধরেছেন এই বইটিতে।

২৭ জুল, ২০১৪

হামাস ও ইসরাইলের গাজা গণহত্যা নিয়ে কয়েকটি লিঙ্ক

​​​# প্রথম লিঙ্ক:
হামাস নেতা ওসামা হামদানের একটি সাক্ষাতকার প্রকাশিত হয়েছে আল জাযিরাতে। অনেক কিছু জানার মতন আছে এতে, বিশেষ করে হামাসের বলিষ্ঠ ও অবিচল লক্ষ্য। অভিশপ্ত ইয়াহুদিরা সবসময়েই চুক্তি লঙ্ঘন করতো, যতবারই তারা চুক্তি করে, ততবারই লঙ্ঘন করে। ওদের এইসব ফানি চুক্তি নাটক হামাস মোটেই বিশ্বাস করে না।

যতক্ষণ না পর্যন্ত তারা গাজা ছেড়ে দিচ্ছে এবং জেরুজালেমকে রাজধানী করে ফিলিস্তিন রাস্ট্রের উপরে অবৈধ দখল না ছাড়ছে, হামাস তাদের বিরুদ্ধে মুক্তি সংগ্রাম করেই যাবে। আল্লাহ সকল মুজাহিদিনকে হেফাজত করুন এবং তাদের বিজয় দান করুন।

@ http://www.aljazeera.com/news/middleeast/2014/07/hamas-leader-israelis-are-playing-games-201472685657718753.html

​​​# দ্বিতীয় লিঙ্ক:
আলজাজিরা এরাবিক প্রথমে 'ম্যসাকার এট ডন' নামে এই অনুষ্ঠান প্রচার করে। পরে আলজাজিরা ইংলিশ এটার ইংরেজি ভার্সন তৈরি করেছে। সম্প্রতি ইসরাইল ফিলিস্তিনের Shujayea শহরে যে ম্যাসাকার করেছে এ ডকুমেন্টারিতে এর ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। সেদিন সকালে হামলার এক্সক্লুসিভ সব ফুটেজ রয়েছে এ ডকুমেন্টারিতে। এক কথায় ভয়াবহ!

@ http://www.aljazeera.com/programmes/specialseries/2014/2014/07/shujayea-massacre-at-dawn-201472621348901563.html

​​​# তৃতীয় লিঙ্ক:
বিবিসির সাথে হামাস নেতা খালিদ মিশালের একটি এক্সক্লুসিভ ইন্টারভিউ প্রকাশিত হয়েছে।

@ http://www.bbc.co.uk/programmes/p023kld8

[২৭ জুলাই, ২০১৪]

ইসরাইলকে বয়কটের আন্দোলন

বিগত কিছুদিন যাবত গাজায় ইসরাইলের গণহত্যা শুরু হবার পর থেকে অনলাইনে অফলাইনে ইসরাইলকে বয়কট সংক্রান্ত অনেক কিছু পড়েছি যার সত্যতা নিয়ে সন্দিহান ছিলাম। অনেক কোম্পানিই ইসরাইলে অর্থায়ন করে কিন্তু তাদের অথেনটিক একটি তালিকা অন্তত দরকার। এসব খোঁজাখুঁজিতে গিয়ে জানলাম বিডিএস মুভমেন্ট সম্পর্কে...

BDS Movement হলো বিশ্বজুড়ে ফিলিস্তিনিদের একটি সংগঠিত আন্দোলন। বিডিএস মুভমেন্ট সত্যিকারের বয়কট, ডাইভেস্টমেন্ট ও স্যাংকশনের মাধ্যমে ইসরাইলকে জবাব দেয়ার জন্য শুরু হয়। এখন পর্যন্ত তারা বেশ সংগঠিত উপায়ে কাজ করে যাচ্ছে।

# ইসরাইলকে অর্থায়ন করা ৭টি কোম্পানির বিস্তারিত তথ্য নিয়ে একটি তালিকা:
http://www.bdsmovement.net/2014/freedom-and-justice-for-gaza-boycott-action-against-7-complicit-companies-12386

এগুলোর মাঝে বাংলাদেশের ভোক্তা হিসেবে পরিচিত পণ্যের মাঝে আপাতত হিউলেট প্যাকার্ড (এইচপি) HP কোম্পানিটিকে পেলাম পেলাম, এছাড়া গ্রুপ ফোর (G4S) সিকিউরিটি কোম্পানি বাংলাদেশেও কাজ করে।

# BDS মুভমেন্টের ওয়েবসাইট: www.bdsmovement.net

২৬ জুল, ২০১৪

তারিক রমাদানের কবিতা: জীবন


জীবন
বাবা-মায়ের ইন্তেকাল করা এবং বিদায় নিতে দেখা
সন্তানদের বেড়ে ওঠা এবং বিদায় নিতে দেখা
নিজেদের বয়স বাড়তে দেখা এবং বিদায় নেয়া

কিছু মানুষ বিদায় নিবে এবং বেঁচে রবে
বাদবাকিরা চলে যাবে, ফিরবে না কোনদিন।

আমরা সবাই তাঁর
তার কাছেই ফিরে যাবো
তার মুখোমুখি হবো আমরা, একদম একা।

-- তারিক রমাদান

* * *
[ড. তারিক রমাদানের অফিসিয়াল ফেসবুক পেইজে 'LIFE' শিরোনামে একটি কবিতা প্রকাশিত হয় ২২ জুলাই, ২০১৪ তারিখে। বিষয়বস্তু ভালো লাগায় ধুম অনুবাদের চেষ্টা করলাম]

রাস্ট্রের মিথ্যা প্রোপাগান্ডার মেশিন হিসেবে ব্যবহার হয় ইসরাইলি ছাত্ররা

​​​প্রথম খবরটা গতবছরের আগস্ট মাসের, পত্রিকাটা বৃটেনের দি ইন্ডিপেন্ডেন্ট, যারা বরাত দিয়েছে ইসরাইলি পত্রিকা হারেটজকে। খবরে এসেছে, ইসরাইলি সরকার তাদের ৭টি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় শত ছাত্রছাত্রীদের বৃত্তি প্রদান করবে যদি তারা বিদেশিদের কাছে ইসরাইলের ইমেজ রক্ষার জন্য ফেসবুকে পোস্ট দেয় এবং টুইটারে টুইট দেয়। (বিস্তারিত পড়ুন: http://ow.ly/zBzp2)

২১ জুল, ২০১৪

গাজা গণহত্যা - ২০১৪: ডায়েরির পাতা থেকে


১০ জুলাই, ২০১৪

আজ কয়েকদিন ধরে ফিলিস্তিনে বোমা হামলা করছে নরাধম ইহুদিবাদী ইসরাইল নামক জারজ রাস্ট্রের এয়ারফোর্স, যারা বিশ্বের চতুর্থ অস্ত্র রপ্তানিকারক দেশ। এই বিপুল অস্ত্রধারী ও প্রযুক্তিময় ইতর আর্মি ও এয়ারফোর্সের প্রতিপক্ষ গাজা নামক এক শহর, যার লোকেরা নিরস্ত্র, যাকে বিশ্বের সর্ববৃহৎ কারাগার বলেন অনেকে। আকাশে মিসাইল আর রকেট উড়লে তাদের মৃত্যুর অপেক্ষা করা ছাড়া আর কিছু করার থাকে না।

ক'দিন যাবত যাদের হত্যা করা হয়েছে তারা বেশিরভাগই নারী ও শিশু। ইসরাইল চায় না ফিলিস্তিনে নতুন প্রজন্ম আসুক। শিশুদের হত্যা করে, পুরুষদের কারাগারে নিয়ে অত্যাচার করে আহত-নিহত করে শেষ করে দিতে চায় পুরুষদের সংখ্যা যেন নতুন সন্তান না আসে পৃথিবীতে। এরাই সেই বনী ইসরাইলের বংশধর, যারা আল্লাহর নাফরমানী করাকেই নিজেদের কাজ হিসেবে ধরে নিয়েছিলো।

ইসরাইলি ইহুদিবাদী শয়তানগুলোর হত্যাকান্ডের বিরুদ্ধে কথা বলার আজ কেউ নেই। গোটা পৃথিবী আজ ফুটবল নিয়ে কাতর। মেসি মেসি করতে করতে কেটে যায় বাংলার দামাল যুবক আর পুরুষগুলোর রাত। মিডিয়া এসব বিশ্বকাপমার্কা খবরের শিরোনামে ভরে রাখে পত্রিকার পাতাগুলো।

কৃতজ্ঞতা

আল্লাহর এক অসাধারণ নিয়ামাত ​বাতাসের মাঝে ডুবে থেকে আমরা বাতাসের মূল্য ও বিশুদ্ধ বাতাসের মর্ম বুঝিনা, কিন্তু কিছুটা হয়ত বুঝতে পারে তারা যখন কেউ থাকে অ্যাজমা রোগী, নাক দু'টোর ফুটোকে তখন সুঁইয়ের ডগার মতন ক্ষুদ্র ছিদ্র মনে হয়, বুক আকুলি-বিকুলি করতে থাকে একটু বাতাসের জন্য...

আমাদের জীবনের ভালোবাসার বা সম্পর্কগুলোর ক্ষেত্রেও আমরা বড্ড উদাসীন থাকি। অনেক মানুষদের কাছে পাওয়া আদর, যত্ন-আত্মি ভালোবাসাকে আমরা 'স্বাভাবিক' প্রাপ্তি হিসেবে হিসেব করে বেখেয়াল থাকি। অথচ মানুষের প্রতিটি সুন্দর আচরণই কষ্টের একটা ফলাফল। ভালো মানুষেরা সেগুলো নিয়মিত প্রচেষ্টার পরে তবেই অর্জন করেন। এমনকি মা-বাবার ভালোবাসাও সবক্ষেত্রে একই না। এই জগতেও অনেক মা-বাবা আছেন চরম বেখেয়াল, আবার অনেকে আছেন তাদের সর্বস্ব বিলিয়ে দেন সন্তানের জন্য... তাই কোনকিছুই যে আপনাআপনি হয়না বা আমরা এমনিতেই পাইনা সে কথা আমাদের মাথায় রাখা উচিত।

আমাদের চারপাশে অনেক নিদর্শন আছে যা দেখে আমাদের বুঝে নেয়া উচিত আল্লাহর নিয়ামাত। মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞ হওয়া উচিত কেননা যে মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞ হয় না, সে আল্লাহর প্রতিও হয় না। একইভাবে, যে আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞ হয় না, তার প্রকৃতপক্ষে বান্দাদের প্রতি কৃতজ্ঞ হবার প্রশ্নই আসে না। আল্লাহ আমাদেরকে কৃতজ্ঞ বান্দা হবার তাওফিক দান করুন, অন্য বান্দাদের প্রতি সহমর্মী হবার তাওফিক দিন।

[১০ জুলাই, ২০১৪]