৩ আগ, ২০১৪

গাযযাতে চলমান হত্যাযজ্ঞের ছবিগুলোর প্রতি সবাই কেমন যেন ডিসেনসিটাইজড হয়ে গেছে

​গাযযাতে চলমান হত্যাযজ্ঞের ছবিগুলোর প্রতি সবাই কেমন যেন ডিসেনসিটাইজড (অনুভূতিহীন) হয়ে গেছে...

এই ব্যাপারটাতে আমার কিছু বলার আছে! পশ্চিমে বেড়ে ওঠায় এরকম মৃত্যু আমরা কেবল মুভিতেই দেখেছি। আমরা এতো বেশি মুভি দেখেছি যে আমাদের কাছে গাযযায় চলমান হত্যাকান্ড আর ম্যুভির বিষয়টা একই মনে হয়, শুধুই যেন পর্দায় ভেসে থাকা কিছু নিথর দেহ! তাই আমরা নতুন করে ডিসেনসিটাইজড হয়ে পড়িনি, আমাদের বেশিরভাগ মানুষই অনেক আগে থেকেই এরকম বিষয়ে ডিসেনসিটাইজড হয়ে আছি। যারা আমাকে বলছেন এসব শেয়ার না করতে তাদের বলছি, আমি ভাল করেই জানি আপনাদের অবস্থান এবং আমি আপনাদের উপদেশটা মনে রাখব। দয়া করে বুঝতে চেষ্টা করুন যে আমার পেশাদারিত্ব এবং আবেগের মাঝে আমি এক টানাপোড়েনে আছি। আমি আল-শিফা হাসপাতাল সংলগ্ন রাস্তায় বড় হয়েছি। এ্যাম্বুলেন্সের সাইরেন প্রতিদিন সকালে আমাদের ঘুম ভাঙ্গিয়ে দিত। আমি ও আমার বন্ধু মিলে আল-শিফার বাগানে অনেক খেলাধূলা করেছি! এই ভয়াবহতা স্রেফ একটা ছবির দেখার অনেক ভিন্ন একটা ব্যাপার। আমি নিজের চোখে আল-শিফা হসপিটালের দরজা দিয়ে ক্ষতবিক্ষত শরীরগুলো দেখে বাসায় ফিরে খবর দেখেছি কিন্তু এ বিষয়ে কোন কিছুই পাইনি সেখানে। সংবাদ মাধ্যমগুলো গাযাতে চলমান হত্যাযজ্ঞ এমনিভাবেই চেপে যাচ্ছে ঠিক যেমন করে তারা সিরিয়া, বার্মা, পাকিস্তানে চলমান জুলুম ও নিপীড়নকে চেপে যাচ্ছে। আমি এসব দেখে প্রচন্ড ক্ষেপে গিয়েছিলাম, আমি এখনো ক্ষেপে আছি। আমি প্রতিজ্ঞা করেছিলাম গোটা বিশ্বকে গাযার এমন চিত্র দেখাবো যা গাযায় বসবাসকারী মানুষদের চোখগুলো প্রতিদিন দেখে। অনলাইনে হয়ত আপনারা শুধু একটা ছবিই দেখেন। কিন্তু এই ছবির পেছনে থাকে অনেকগুলো গল্প, ছবিটা কেবলই একটা মৃতদেহ নয়। একজন মানুষের দেহ থেকে যখন তার আত্মা বের হয়ে যায় তখন শুধু মানুষটিই মারা যায় না, মারা যায় ভালোবাসা, সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য, সমবেদনা, স্বপ্ন। ছবিটি দেখতে কতটা  বীভৎস সেটিই কেবল বড় ব্যাপার নয়, বরং তিলতিল করে গড়ে ওঠা জীবনগুলোর কষ্ট ও হারানোর গল্পগুলো অনেক বড় ব্যাপার।

আমি আশা করি বুঝতে পেরেছেন।

-- মুহাম্মাদ জেয়ারা

[লেখক কাডায় জন্মগ্রহণ করা ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত এক নাগরিক। তিনি চিকিৎসাবিজ্ঞানে পড়াশোনা করেছেন। তিনি একজন বক্তা এবং মূলত তরুণদের প্রতি অনুপ্রেরণাদানকারী বক্তব্য রাখেন। অনলাইনে প্রকাশিত এডুকেশনাল এবং মোটিভেশনাল ভিডিওগুলোর জন্য তিনি বেশি পরিচিত। গাযযায় বেড়ে ওঠার সময়ে জীবনের ৮টি বছর তার জীবনের একটি বড় অভিজ্ঞতা। তার ফেসবুক প্রোফাইল: https://www.facebook.com/mzeyara/]

৩১ জুল, ২০১৪

​ বন্ধ রাফাহ ক্রসিং এবং সহস্র মৃত্যু

২০১২ সালের নভেম্বরে ইসরাইল আক্রমণ করেছিলো গাজাতে, নাম দিয়েছিলো 'অপারেশন কাস্ট লিড'। হামাসের প্রতিরোধে টিকতে পারেনি খুব বেশিদিন। তখন মিশরের প্রেসিডেন্ট ছিলেন মুহাম্মাদ মুরসি। রাফাহ ক্রসিং তখন খোলা ছিলো, তাই মুসলিম ব্রাদারহুডের অনেক সাহায্য পেয়েছিলো হামাস। সেই গ্লানিতে হিংস্র হয়ে থাকা ইসরাইল হয়ত তাই মুরসিকে প্রেসিডেন্ট থেকে সরিয়ে প্রকাশ্য হত্যাকান্ডের মাধ্যমে ক্যু করতে সাহায্য করেছিলো জেনারেল সিসিকে। এবার তাই রাফাহ বন্ধ। মিশরের সিসি, সৌদির আব্দুল্লাহ, আমিরাতের আমির মিলেছে ইসরাইলের সাথে এবং গাজ্জাবাসির উপরে অত্যাচারকে অসহনীয় করে তুলেছে। ক্রমাগত অস্ত্রের সরবরাহ দিয়ে চলেছে আমেরিকা।

টুকরো আলাপ: বাংলা ভাষায় গুগল সার্চ

​​বাংলা ভাষায় গুগলে কিছু সার্চ দিতে গেলে আমি মাঝে মাঝেই কীবোর্ডে তাড়াতাড়ি করে শব্দগুলো চেপে যাই। নইলে শুধু দু'একটা অক্ষর সার্চ বক্সে থাকলে গুগলের সাজেশনে যা দেখি, তাতে ঘেন্নায় বমি-বমি লাগে। একটা গোটা জাতির কী টপিকে কত বেশি পছন্দ সেটা বেশ পরিষ্কার দেখা যায় গুগলের এইসব সার্চ কী-ওয়ার্ড দেখলে। আল্লাহ আমাদের বাংলাভাষী মানুষগুলোকে বেশি করে হিদায়াহ দিন, আমাদের ভবিষ্যত প্রজন্মকে হেফাজত করুন।

এদিকে মাঝে মাঝে আমার ব্লগগুলোতে স্ট্যাটিসটিকস চেক করে গিয়ে দেখি এমন সব নোংরা কী-ওয়ার্ড সার্চ করে লোকে গুগলে গিয়ে আমার ব্লগে এসেছে! ভুলপথে চলে আসা লোকগুলো হয়ত বোকা হয়ে গেছে এইসব ব্লগে এসে। কখনো কখনো না হেসে পারিনা কিছু সার্চ কী-ওয়ার্ড দেখে... এত সব অদ্ভুত চিন্তা মানুষ করে কীভাবে!! এই যেমন আজকে একজন সার্চ দিয়েছিলেন যা লিখে তা হলো--

"নাবালক মেয়ে বিয়ে করার উপায়"​

টুকরো আলাপ: ড বিলালের ঢাকা ভ্রমণ

​ড বিলাল ফিলিপস আমার জীবনে বড় একজন মানুষ। যখন জন্মসূত্রে মুসলিম থাকা বিচিত্র বিশ্বাস আর আচার-সংস্কৃতির মানুষদের মাঝে পড়ে চিড়ে-চ্যাপ্টা হয়ে যাচ্ছিলাম তখন আল্লাহ এই মানুষটির লেকচারগুলো দিয়ে আমার জীবনে এক নতুন দিগন্তের সন্ধান দিয়েছিলেন। ঢাকায় ড. বিলালের লেকচারে উপস্থিত থাকার প্রবল ইচ্ছা ছিলো। কয়েক সপ্তাহ আগে থেকে প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম মনে মনে। শেষ মূহুর্তে যখন শুনলাম প্রোগ্রাম ক্যানসেল হয়ে গেছে তখন খুব চমকে যাইনি, হতভম্ব হইনি। নষ্টদের টাকা খাওয়া মিথ্যার বেসাতি নিয়ে প্রচার করা জঘন্য এক অনলাইন পত্রিকা যখন তার আগমনের আগেই মিথ্যা ছড়াচ্ছিলো তখনই টের পেয়েছিলাম এই দেশের মাটির নষ্টগুলো সেটাকে কন্টকময় করবে। আল্লাহই উত্তম পরিকল্পনাকারী। আমরা তো বড়জোর চেষ্টা করতে পারি, সফলতার মালিক আল্লাহ। ইনশাআল্লাহ নিশ্চয়ই আল্লাহ সেই মানুষগুলোর চাওয়াকে কবুল করে উত্তম প্রতিদান দিবেন যারা দ্বীনকে আরো ভালো করে বুঝতে আলোচনা শুনতে পরিকল্পনা করেছিলেন। মু'মিনদের পথ কখনই সহজ নয় কবরে পা দেওয়ার পূর্ব পর্যন্ত... আল্লাহ আমাদেরকে জান্নাতি হিসেবে কবুল করুন, আল্লাহ আমাদেরকে নষ্ট-অভিশপ্ত-মিথ্যুক হওয়া ও তাদের প্রতি সমর্থনকারী হওয়া থেকেও হেফাজত করুন। নিশ্চয়ই আমাদের সকল নামাজ, প্রার্থনা, আমাদের সকল ত্যাগ, আমাদের জীবন ও আমাদের মরণ কেবলই আল্লাহর জন্য...

[২১ জুন, ২০১৪]

৩০ জুল, ২০১৪

মুখের দাড়ি যখন ফান

​​দাড়ি নিয়ে ফান করাটা বেশ অতিমাত্রায় চলছে ইদানিং। 'মিডিয়াওয়াশড' মুসলিম মনগুলো খুবই করুণাদায়ক। মাঝে মাঝে তাদের বুদ্ধিবৃত্তিক অসারতা, আত্মপরিচয়হীনতা দেখে হতভম্ব হয়ে করুণা অনুভব করি। কিন্তু করুণা করতে গিয়েও যন্ত্রণায় পড়ি। মানসিক দারিদ্রতায় আক্রান্ত এই ছেলেমেয়েগুলো আবার ইসলামের শত্রুতা করে অবলীলায়। তাই, এদের অজ্ঞতা আর শয়তানি কাজগুলোকে নিস্পাপ চোখে দেখা সম্ভব হয় না।

ঈদ : একাল ও সেকাল

​​হাজার কিম্ভুত টাইপের হলেও ছেলেবেলার ঈদ খুব বেশি ম্লান ছিলো না। ঈদের আগের রাতের মধ্যেই ঈদকার্ড বিতরণের একটা ব্যাপার ছিলো। ২ টাকা আর ৫ টাকায় কিছু কার্ড পাওয়া যেত। ৫ টাকার কার্ডগুলো এমবোস করা থাকতো। তখনো গোটা এলাকায় কিছু 'বাড়িওয়ালার' ছেলে ভাইয়েরা বিল্ডিং এর উপরে 'সাউন্ড বক্স' লাগিয়ে গান বাজাতো। সম্ভবত সেগুলোকে 'ডেক সেট' বলা হতো। বিটিভিতে অনুষ্ঠানের ঘোষিকাদের মাথার কাপড় ফেলে দিয়ে ঈদের শুভেচ্ছা দেয়ার ব্যাপারটা থাকত ঈদ হবে কিনা তা জানার মূল উৎস।

[গ্রন্থচারণ] বিয়ে - স্বপ্ন থেকে অষ্টপ্রহর : মির্জা ইয়াওয়ার বেইগ


আজকে একটি বইয়ের ব্যাপারে লেখা প্রয়োজন মনে করছি যা এই সমাজে, এই সময়ের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বইটির নাম "বিয়ে : স্বপ্ন থেকে অষ্টপ্রহর" যা লিখেছেন শাইখ মির্জা ইয়াওয়ার বেগ। বিয়ে আমাদের প্রতিটি মানুষের জীবনের স্বপ্ন থাকে, একসময় সেটা আটপৌরে হয়ে যায়। নামকরণের দিক থেকে হিসেব করলে বইটি অসাধারণ হয়েছে এবং নামকরণ সার্থক হয়েছে। একজন মানুষ বিয়েকে স্বপ্ন হিসেবে কেমন করে, কী করে সুন্দর একটি বিয়ের দিকে আগানো যায় এবং বিয়ে যখন জীবনের একটা অংশ হয়ে যায় তখনো যে বিয়েকে নিজেদের উদ্যোগে কীভাবে সুন্দর ও স্বাস্থ্যকর সম্পর্ক হিসেবে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া যায় সেই বিষয়ে আলোকপাত করেছেন। ইসলামী জ্ঞানে ভাস্বর লেখক অল্প কথায় ছোট কলেবরে তার দীর্ঘ জীবনের অভিজ্ঞতার আলোকে দাম্পত্য নিয়ে খুব সুন্দর করে তুলে ধরেছেন এই বইটিতে।

২৭ জুল, ২০১৪

হামাস ও ইসরাইলের গাজা গণহত্যা নিয়ে কয়েকটি লিঙ্ক

​​​# প্রথম লিঙ্ক:
হামাস নেতা ওসামা হামদানের একটি সাক্ষাতকার প্রকাশিত হয়েছে আল জাযিরাতে। অনেক কিছু জানার মতন আছে এতে, বিশেষ করে হামাসের বলিষ্ঠ ও অবিচল লক্ষ্য। অভিশপ্ত ইয়াহুদিরা সবসময়েই চুক্তি লঙ্ঘন করতো, যতবারই তারা চুক্তি করে, ততবারই লঙ্ঘন করে। ওদের এইসব ফানি চুক্তি নাটক হামাস মোটেই বিশ্বাস করে না।

যতক্ষণ না পর্যন্ত তারা গাজা ছেড়ে দিচ্ছে এবং জেরুজালেমকে রাজধানী করে ফিলিস্তিন রাস্ট্রের উপরে অবৈধ দখল না ছাড়ছে, হামাস তাদের বিরুদ্ধে মুক্তি সংগ্রাম করেই যাবে। আল্লাহ সকল মুজাহিদিনকে হেফাজত করুন এবং তাদের বিজয় দান করুন।

@ http://www.aljazeera.com/news/middleeast/2014/07/hamas-leader-israelis-are-playing-games-201472685657718753.html

​​​# দ্বিতীয় লিঙ্ক:
আলজাজিরা এরাবিক প্রথমে 'ম্যসাকার এট ডন' নামে এই অনুষ্ঠান প্রচার করে। পরে আলজাজিরা ইংলিশ এটার ইংরেজি ভার্সন তৈরি করেছে। সম্প্রতি ইসরাইল ফিলিস্তিনের Shujayea শহরে যে ম্যাসাকার করেছে এ ডকুমেন্টারিতে এর ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। সেদিন সকালে হামলার এক্সক্লুসিভ সব ফুটেজ রয়েছে এ ডকুমেন্টারিতে। এক কথায় ভয়াবহ!

@ http://www.aljazeera.com/programmes/specialseries/2014/2014/07/shujayea-massacre-at-dawn-201472621348901563.html

​​​# তৃতীয় লিঙ্ক:
বিবিসির সাথে হামাস নেতা খালিদ মিশালের একটি এক্সক্লুসিভ ইন্টারভিউ প্রকাশিত হয়েছে।

@ http://www.bbc.co.uk/programmes/p023kld8

[২৭ জুলাই, ২০১৪]

ইসরাইলকে বয়কটের আন্দোলন

বিগত কিছুদিন যাবত গাজায় ইসরাইলের গণহত্যা শুরু হবার পর থেকে অনলাইনে অফলাইনে ইসরাইলকে বয়কট সংক্রান্ত অনেক কিছু পড়েছি যার সত্যতা নিয়ে সন্দিহান ছিলাম। অনেক কোম্পানিই ইসরাইলে অর্থায়ন করে কিন্তু তাদের অথেনটিক একটি তালিকা অন্তত দরকার। এসব খোঁজাখুঁজিতে গিয়ে জানলাম বিডিএস মুভমেন্ট সম্পর্কে...

BDS Movement হলো বিশ্বজুড়ে ফিলিস্তিনিদের একটি সংগঠিত আন্দোলন। বিডিএস মুভমেন্ট সত্যিকারের বয়কট, ডাইভেস্টমেন্ট ও স্যাংকশনের মাধ্যমে ইসরাইলকে জবাব দেয়ার জন্য শুরু হয়। এখন পর্যন্ত তারা বেশ সংগঠিত উপায়ে কাজ করে যাচ্ছে।

# ইসরাইলকে অর্থায়ন করা ৭টি কোম্পানির বিস্তারিত তথ্য নিয়ে একটি তালিকা:
http://www.bdsmovement.net/2014/freedom-and-justice-for-gaza-boycott-action-against-7-complicit-companies-12386

এগুলোর মাঝে বাংলাদেশের ভোক্তা হিসেবে পরিচিত পণ্যের মাঝে আপাতত হিউলেট প্যাকার্ড (এইচপি) HP কোম্পানিটিকে পেলাম পেলাম, এছাড়া গ্রুপ ফোর (G4S) সিকিউরিটি কোম্পানি বাংলাদেশেও কাজ করে।

# BDS মুভমেন্টের ওয়েবসাইট: www.bdsmovement.net

২৬ জুল, ২০১৪

তারিক রমাদানের কবিতা: জীবন


জীবন
বাবা-মায়ের ইন্তেকাল করা এবং বিদায় নিতে দেখা
সন্তানদের বেড়ে ওঠা এবং বিদায় নিতে দেখা
নিজেদের বয়স বাড়তে দেখা এবং বিদায় নেয়া

কিছু মানুষ বিদায় নিবে এবং বেঁচে রবে
বাদবাকিরা চলে যাবে, ফিরবে না কোনদিন।

আমরা সবাই তাঁর
তার কাছেই ফিরে যাবো
তার মুখোমুখি হবো আমরা, একদম একা।

-- তারিক রমাদান

* * *
[ড. তারিক রমাদানের অফিসিয়াল ফেসবুক পেইজে 'LIFE' শিরোনামে একটি কবিতা প্রকাশিত হয় ২২ জুলাই, ২০১৪ তারিখে। বিষয়বস্তু ভালো লাগায় ধুম অনুবাদের চেষ্টা করলাম]

রাস্ট্রের মিথ্যা প্রোপাগান্ডার মেশিন হিসেবে ব্যবহার হয় ইসরাইলি ছাত্ররা

​​​প্রথম খবরটা গতবছরের আগস্ট মাসের, পত্রিকাটা বৃটেনের দি ইন্ডিপেন্ডেন্ট, যারা বরাত দিয়েছে ইসরাইলি পত্রিকা হারেটজকে। খবরে এসেছে, ইসরাইলি সরকার তাদের ৭টি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় শত ছাত্রছাত্রীদের বৃত্তি প্রদান করবে যদি তারা বিদেশিদের কাছে ইসরাইলের ইমেজ রক্ষার জন্য ফেসবুকে পোস্ট দেয় এবং টুইটারে টুইট দেয়। (বিস্তারিত পড়ুন: http://ow.ly/zBzp2)

২১ জুল, ২০১৪

গাজা গণহত্যা - ২০১৪: ডায়েরির পাতা থেকে


১০ জুলাই, ২০১৪

আজ কয়েকদিন ধরে ফিলিস্তিনে বোমা হামলা করছে নরাধম ইহুদিবাদী ইসরাইল নামক জারজ রাস্ট্রের এয়ারফোর্স, যারা বিশ্বের চতুর্থ অস্ত্র রপ্তানিকারক দেশ। এই বিপুল অস্ত্রধারী ও প্রযুক্তিময় ইতর আর্মি ও এয়ারফোর্সের প্রতিপক্ষ গাজা নামক এক শহর, যার লোকেরা নিরস্ত্র, যাকে বিশ্বের সর্ববৃহৎ কারাগার বলেন অনেকে। আকাশে মিসাইল আর রকেট উড়লে তাদের মৃত্যুর অপেক্ষা করা ছাড়া আর কিছু করার থাকে না।

ক'দিন যাবত যাদের হত্যা করা হয়েছে তারা বেশিরভাগই নারী ও শিশু। ইসরাইল চায় না ফিলিস্তিনে নতুন প্রজন্ম আসুক। শিশুদের হত্যা করে, পুরুষদের কারাগারে নিয়ে অত্যাচার করে আহত-নিহত করে শেষ করে দিতে চায় পুরুষদের সংখ্যা যেন নতুন সন্তান না আসে পৃথিবীতে। এরাই সেই বনী ইসরাইলের বংশধর, যারা আল্লাহর নাফরমানী করাকেই নিজেদের কাজ হিসেবে ধরে নিয়েছিলো।

ইসরাইলি ইহুদিবাদী শয়তানগুলোর হত্যাকান্ডের বিরুদ্ধে কথা বলার আজ কেউ নেই। গোটা পৃথিবী আজ ফুটবল নিয়ে কাতর। মেসি মেসি করতে করতে কেটে যায় বাংলার দামাল যুবক আর পুরুষগুলোর রাত। মিডিয়া এসব বিশ্বকাপমার্কা খবরের শিরোনামে ভরে রাখে পত্রিকার পাতাগুলো।

কৃতজ্ঞতা

আল্লাহর এক অসাধারণ নিয়ামাত ​বাতাসের মাঝে ডুবে থেকে আমরা বাতাসের মূল্য ও বিশুদ্ধ বাতাসের মর্ম বুঝিনা, কিন্তু কিছুটা হয়ত বুঝতে পারে তারা যখন কেউ থাকে অ্যাজমা রোগী, নাক দু'টোর ফুটোকে তখন সুঁইয়ের ডগার মতন ক্ষুদ্র ছিদ্র মনে হয়, বুক আকুলি-বিকুলি করতে থাকে একটু বাতাসের জন্য...

আমাদের জীবনের ভালোবাসার বা সম্পর্কগুলোর ক্ষেত্রেও আমরা বড্ড উদাসীন থাকি। অনেক মানুষদের কাছে পাওয়া আদর, যত্ন-আত্মি ভালোবাসাকে আমরা 'স্বাভাবিক' প্রাপ্তি হিসেবে হিসেব করে বেখেয়াল থাকি। অথচ মানুষের প্রতিটি সুন্দর আচরণই কষ্টের একটা ফলাফল। ভালো মানুষেরা সেগুলো নিয়মিত প্রচেষ্টার পরে তবেই অর্জন করেন। এমনকি মা-বাবার ভালোবাসাও সবক্ষেত্রে একই না। এই জগতেও অনেক মা-বাবা আছেন চরম বেখেয়াল, আবার অনেকে আছেন তাদের সর্বস্ব বিলিয়ে দেন সন্তানের জন্য... তাই কোনকিছুই যে আপনাআপনি হয়না বা আমরা এমনিতেই পাইনা সে কথা আমাদের মাথায় রাখা উচিত।

আমাদের চারপাশে অনেক নিদর্শন আছে যা দেখে আমাদের বুঝে নেয়া উচিত আল্লাহর নিয়ামাত। মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞ হওয়া উচিত কেননা যে মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞ হয় না, সে আল্লাহর প্রতিও হয় না। একইভাবে, যে আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞ হয় না, তার প্রকৃতপক্ষে বান্দাদের প্রতি কৃতজ্ঞ হবার প্রশ্নই আসে না। আল্লাহ আমাদেরকে কৃতজ্ঞ বান্দা হবার তাওফিক দান করুন, অন্য বান্দাদের প্রতি সহমর্মী হবার তাওফিক দিন।

[১০ জুলাই, ২০১৪]

২৬ জুন, ২০১৪

ফেসবুকে প্রচুর সময় নষ্ট হয়

ফেসবুকে প্রচুর সময় নষ্ট হয় আমার। খুব সম্ভব প্রায় সবারই এভাবে অবলীলায় সময় নষ্ট হয় ফেসবুকে। ফেসবুক তথা ভার্চুয়াল ওয়ার্ল্ড এক অদ্ভুত ভ্রমময় জায়গা। নিজের পছন্দের কথা শুনতে ও শুনাতেই সবাই ফ্রেন্ড লিস্ট সাজায়। ভুল হোক, শুদ্ধ হোক -- পরবর্তীতে অনেক বেশি রেসপন্স পাওয়ার পরে মানুষটি ভুলে যায় প্রকৃতপক্ষে খুব কম লোকই তার মতন মত ধারণ করে। আমার জীবনের উপলব্ধি হলো-- এই সমাজে তীব্র খারাপের সংখ্যা যেমন কম, ভালো করতে চাওয়া দল-মতের মানুষও খুব কম। কিন্তু আছে প্রচুর জাহেল বা অজ্ঞ-মূর্খ লোক, ভালো-খারাপকে আলাদা করার আগ্রহও বা জ্ঞান নাই যাদের; তারা প্রকারান্তরে খারাপদেরকেই সাহায্য করে। নিজের সমমনা লোকদের ফ্রেন্ড লিস্টে/গ্রুপে/ফলো লিস্টে নিয়ে "অনেক বেশি কাজ হচ্ছে/ অনেক ভালো আছি/ আমাদের মতটাই সঠিক/ আমরাই ঠিক ভাবছি/আমরা জনমত বদলে দিচ্ছি" টাইপের মূর্খতা আর অজ্ঞতায় ভরা চিন্তা যেই বিভ্রমে রেখে দেয় আমাদেরকে তা অনেক ক্ষতিকর।

২৩ জুন, ২০১৪

রামাদান পরিকল্পনা : হিজরি ১৪৩৫

​​​​​​​ইসলামকে নতুন করে বুঝতে শেখার পর রামাদান আমার কাছে অন্যরকম আবেদন নিয়ে হাজির হয়! বিগত কয়েক বছর রজব পেরিয়ে শাবান মাসে এসে অনেক পরিকল্পনা করেছিলাম রামাদানের জন্য। খানিকটা পড়াশুনা করে, বুঝে আর শুদ্ধ আবেগ থেকে আমি 'অ্যাম্বিশাস' বা উচ্চাভিলাসী পরিকল্পনা না করার চেষ্টা করেছিলাম। তবু ক্রমাগত ঠেকে শিখছি! আলেমরা সবসময়েই বলেন রামাদানে অতি উঁচু লক্ষ্য আর পরিকল্পনা না করে বরং বর্তমান জীবনধারার সাথে মিলে যায় এমন কিছু লক্ষ্যস্থির করতে।

আল্লাহ এমন আমলকে পছন্দ করেন যা হয়ত আকারে ছোট, কিন্তু যদি তা নিয়মিত করা হয়। এই বিষয়টাকে মাথায় রেখে অন্যান্যবারের মতন তাই রামাদানে আহামরি কিছু ঠিক করিনি। এখনকার অবস্থান থেকে নিজেকে উন্নত দেখতে চাই তাই মূলত কুরআনকে ঘিরেই কিছু পরিকল্পনা করেছি। অন্য বছরগুলোতে ইসলামি সাহিত্য ও আলোচনা নিয়ে চিন্তাভাবনা ও ঘাঁটাঘাঁটি করতাম। এইবার কুরআন তিলাওয়াত, তার অনুবাদ এবং শুধু ত্রিশ পারার সূরাসমূহের তাফসির গভীরভাবে পড়ার মাঝেই মূল পড়াশোনা স্থির রাখবো। উস্তাদ নু'মান আলী খানের তাফসীর আলোচনাগুলোর অডিও mp3 শুনতে চেষ্টা করবো নিয়মিত ইনশাআল্লাহ। [http://www.nakcollection.com/download-tafsir.html]
ব্যাস এতটুকুই! কুরআনকে ঘিরে কুরআন নাযিলের মাসে পরিকল্পনায় আল্লাহ অনেক বারাকাহ দিবেন ইনশাআল্লাহ!

প্রতিদিন চাকুরিস্থলে, ঘরে দা'ওয়াহ সংক্রান্ত কাজ করার জন্য কিছু ছোট ছোট পরিকল্পনাও করেছি। অনলাইন জগত থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করবো, যেহেতু এখানে আমার অযথাই অনেক সময় নষ্ট হয়, না চাইলেও অনেক ছবি দেখে ফেলতে হয় যা অনুচিত, অনেক তুচ্ছ আলোচনা পড়ে ফেলতে হয় যা দুনিয়া ও আখিরাতে কোন কল্যাণ আনবে না বরং সন্দেহ ও ঘৃণা দিয়ে মনকে বিষিয়ে দেয়।

একটা বিষয় গুরুত্বপূর্ণ ম নে হয়-- রামাদানে নিজের মধ্যে আনা প্রতিটি পরিবর্তনকে একদম সবসময়ের জন্য ধারণ করতে চাওয়ার তৃষ্ণার্ত মানসিকতা। গীবত, ক্ষতিকর সমালোচনা, হিংসা, ঘৃণা, আজেবাজে আলাপ, খেলাধূলার মতন তুচ্ছ বিষয়ে দেদারসে সময় নষ্ট করার মতন বিষয়ে প্রচন্ড সতর্কতা যেন আজীবনের জন্য নিজের মাঝে গেঁথে যায় এমন চেষ্টা করা গুরুত্বপূর্ণ বলে অনুভব করছি।

প্রতিটি মুসলিমই রামাদানের জন্য অস্থির হয়ে অপেক্ষা করে, প্রস্তুতি নেয়। প্রাণপ্রিয় অতিথি রামাদানের জন্য মনের ঘরদোর পরিষ্কার করে বসে থাকার মাঝে আছে অন্যরকম এক আনন্দ! আল্লাহ আমাদের জন্য রহমত ও মাগফিরাতময় রামাদান কবুল করুন।

বর্ষণস্নাত  ঢাকা নগরী, 
২৩ জুন, ২০১৪ দুপুর

২২ জুন, ২০১৪

মনের জানালা মাঝে # ১৫

(১৬০)
আমাদের অনেকের জীবনের ক্ষুদ্র একেকটা অংশই একেকটা গল্প-উপন্যাসের চেয়ে অনেক অনেক বেশি নাটকীয় হয়। গল্প-উপন্যাসের কাহিনীগুলো তখন হাস্যকর রকমের তুচ্ছ মনে হতে থাকে...

(১৬১)
মাঝে মাঝে কিছু মানুষকে দেখে মুগ্ধ হতে হয় যারা ভালো কাজে, দ্বীনের জ্ঞানের মাঝে এত আগ্রহ, এত প্রাণশক্তি নিয়ে লেগে থাকেন। তাদের দেখে অবাক হয়ে মনে হয়, এত অনুপ্রেরণা তারা কোথা থেকে পান! তাদের নিরহংকার ও আন্তরিক আহবানে অনেক কিছু শেখা হয়ে যায়। সুবহানাল্লাহ! আল্লাহ এমন মানুষদেরকে রহম করুন, তাদেরকে দুনিয়া ও আখিরাতে উত্তম প্রতিদান দান করুন।

 (১৬২)
আমাদের অতীতের প্রতিটি ঘটনা, প্রতিটি গল্পই আমাদের কাছে অনুপ্রেরণা আর উদ্দীপনার গল্প হয়ে এসেছে। কিন্তু আমরা কীভাবে তাদেরকে ব্যাখ্যা করি, সেটা আমাদের উপরে নির্ভর করে।

(১৬৩)
সৌন্দর্যের বসবাস আমাদের ভেতরে, আমাদের হৃদয়ে, আমাদের চোখে, আমাদের মুখের শব্দগুলোতে, আমাদের দৃষ্টিতে, আমাদের চাহনিতে... সৌন্দর্য প্রকাশিত হয় আমাদের গোটা সত্ত্বাজুড়ে।

(১৬৪)
যে আল্লাহর সামনে হাঁটু গেঁড়ে সিজদাহ করতে পারে সে সবার সামনে দৃঢ় হয়ে শক্তভাবে দাঁড়িয়ে থাকতে পারে।

(১৬৫)
আমি আল্লাহর কাছে অনেককিছু চেয়েছিলাম এবং তিনি আমাকে কিছু সুযোগ দিয়েছিলেন। আমি হয়ত যা চেয়েছি তা পাইনি কিন্তু তা-ই পেয়েছি যা আমার প্রয়োজন ছিলো।

(১৬৬)
অন্যদের হক রক্ষা করতে গিয়ে, কষ্টে থাকা লোকের উপকার করতে গিয়ে নিজেকে বঞ্চিত ও হতভাগা মনে করা ঠিক নয়। যাকে খুশি করতে বা যার নির্দেশ মেনে এই কষ্টগুলো করা হয়ে তার কথা মনে করা উচিত। তিনি এই দুনিয়া ও সকল বিশ্বজগতের প্রতিপালক। তিনি যখন পুরষ্কার দিবেন, তখন কল্পনাতীত উপায়ে দিবেন। সেই প্রাপ্তির সৌন্দর্য আমাদের কল্পনাকেও ছাপিয়ে যায়, সুবহানাল্লাহ!

(১৬৭)
যদি মনে করেন দাড়িতে কাউকে দেখতে অনাকর্ষণীয় লাগে, তাহলে মনে রাখবেন সৃষ্টির সেরা মানুষ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কথা, তার দাড়ি ছিলো এবং তিনি দেখতে অনুপম সুন্দর ছিলেন।

(১৬৮)
আপনি হয়ত ফেসবুক সেলিব্রেটি টাইপের কেউ নন বা হতেও চাননি, আপনার নাম ধরে হয়ত খুব বেশি মানুষ চেনে না। আপনি সাদামাটা থাকেন বলে যদি কখনো মন খারাপ হয় তাহলে মনে রাখবেন আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা আপনাকে নাম ধরেই চিনেন এবং তিনি প্রতি মূহুর্তেই আপনার কাজগুলো আগ্রহের সাথে দেখছেন।

(১৬৯)
ভালোবাসার গভীরতম সম্পর্কটি তার সাথে ঠিক করে রাখুন, তিনি গোটা পৃথিবীকে আপনার জন্য ঠিক করে দেবেন।

(১৭০)
সুরা আর-রুম একটা অসম্ভব সুন্দর সূরা, অসম্ভব সুন্দর এর অর্থ। শুধু রিডিং পড়ে গেলেও বুকে অদ্ভুত এক গভীর অনুভূতি হয়। আল্লাহ কেমন করে তার নিদর্শনগুলো বলেছেন এখানে, এত সুন্দর এক ভাষায় তা ভাবলেও বিষ্মিত হতে হয়। সুবহানাল্লাহ!!

সুরা আর-রুম: http://tanzil.net/#trans/bn.bengali/30:1

জমির মালিকানা ও ক্ষমতার লোভ এবং তাদের স্থায়িত্বকাল

​​​​​​​একসময় ইতিহাস পড়তে গিয়ে অত্যাচারী শাসক বাপকে হত্যা করে তার সন্তানের রাজা হবার অনেকগুলো দৃষ্টান্ত দেখেছিলাম। পার্সিয়ান আর রোমান সাম্রাজ্যের এমন বেশ কিছু গল্প মনে আছে, মুঘলদের মাঝেও ক্ষমতার এই লোভ নিয়ে ঘটনা ছিলো। নবাব সিরাজউদ্দৌলার খালা হিংসার একটি দৃষ্টান্ত। এমন হিংসুটে মানুষ পৃথিবীতে এসেছে যুগে যুগে, আবার চলেও গেছে নিঃস্ব হয়ে। শুধু পৃথিবীর সময়টা অনেক মানুষকে নিরতিশয় যন্ত্রণা দিয়েছে তারা।

২১ মে, ২০১৪

মনের জানালা মাঝে # ১৪


(১৪৬)
জেনে রাখুন, মন খারাপের বেলায় কেউ কখনো কোনদিনই পাশে থাকবে না।
আপনার ভাঙ্গা হৃদয় কখনো জোড়া লাগবে না যদি তা আল্লাহর কাছে সঁপে দিতে না পারেন।

(১৪৭)
কেউ আমাদের ভুল ধরিয়ে দিলে আমাদের মাথায় আগুণ ধরে যায়। আবার, কিছু কিছু মানুষ সবসময়ে খালি অন্যের ভুল ধরে -- দুটো ব্যাপারই ইগো থেকে হয়। সমালোচনার কাজটা করে তারা নিজেদের সুপিরিয়র অবস্থায় নিয়ে যেতে পারে। আত্মিক দৈন্য যতটাই হোকনা কেন, সেটা পাতলা হয়ে যায় অন্যের ভুল ধরার মাধ্যমে। may Allah save us from this ego too....and help us to overcome our mistakes...

(১৪৮)
আমাদের বাবা-মায়েরা প্রত্যাশা করেন আমরা যেন *তাদের মত করে* ভালো থাকি...
কিন্তু, তাদের চাওয়া আর আমাদের চাওয়ার বৈপরীত্য অনেক বেশি।

(১৪৯)
ফেসবুকে ছদ্মনামে প্রোফাইল খোলার মানে কিন্তু এই না যে এই অ্যাকাউন্টের কর্মকান্ড কিরামান-কাতিবিনের হিসেবের খাতার বাইরে চলে যাবে। খেয়াল রাখা উচিত আমাদের...

(১৫০)
নিশ্চিত থাকুন, এই পৃথিবীতে কোনদিন, কোন অবস্থাতেই, আপনি সবকিছু ঠিকঠাক করে পাবেন না। পেরেশানি, অশান্তি, যন্ত্রণা তাড়া করে ফিরবেই। তাই, অন্তরে শান্তি আদায় করে নিতে হবে আল্লাহর প্রতি নির্ভর করে। তবে, এই জীবনের যারা শান্তিতে থাকে, তারাই অনন্তকালেও শান্তি পাবে। এই দুই সময়েই শান্তি পাওয়ার কেন্দ্র একজনই --যার হাতে সব ক্ষমতা। মানুষ তো অকৃতজ্ঞ, অন্যায়কারী; মানুষের কাছে আশা করলে ধাক্কা খেতেই হবে।

(১৫১)
ভালোবাসার মানুষটিকে ভালোবাসার চেয়ে শ্রদ্ধা করতেই আমরা অনেকে বেশি ভালোবাসি। ভালোবাসাটা তখন আরো মজবুত হয়, তার প্রতি শ্রদ্ধামাখা আচরণগুলো হয় বিনীত, নম্র... অনেক বেশি সুন্দর!

(১৫২)
কখনো কখনো মনে হয়, অপেক্ষাই মনে হয় অনেক সুন্দর!

কষ্টে থেকে সুন্দরের অপেক্ষায় থাকলে তখন একটা জ্বালা থাকে চামড়ার ভেতরের প্রান্তে, চামড়ার উপরে প্রান্তেই আবার ঠিক তখনই হিমেল বাতাস বয়, বুকে একটা চাপা কষ্ট থাকে, তাই মুক্ত নিঃশ্বাসটাও কেমন

ভারী হয়ে আসে। প্রাপ্তি? সে তো কেবল আল্লাহর ইচ্ছা। অপেক্ষা? সে তো আমাদের সবর (ধৈর্য), আমাদের ত্যাগ, আমাদের কর্ম যা আশ্বাস দেয় আল্লাহর পুরষ্কারের...

(১৫৩)
আমরা অন্যদের জীবনের গল্প পড়ে ঈর্ষান্বিত হই, মুগ্ধ হই, দুঃখিত হই। কী দরকার? আপনার জীবন তো একদমই আলাদা। নিজের জীবনের গল্প নিজেই লিখুন, সেটা নিশ্চিতভাবেই আনন্দ-বেদনা-সফলতার

গল্পভরা অন্যরকম এক সমৃদ্ধ রচনা...

(১৫৪)
কেবলমাত্র বোকারাই অস্থায়ী পৃথিবীতে স্থায়ী বাড়ি/গাড়ি/সম্পর্ক খুঁজে হয়রান হয়...

(১৫৫)
কেউ আপনাকে বুঝে না বলে দুঃখ হচ্ছে? আচ্ছা ভালো কথা, আপনি নিজেই কি নিজেকে বুঝেন?

(১৫৬)
অনুভূতিদের মেরে ফেলতে চান? স্রেফ ফেলে রাখেন, ওরা আপনাআপনি মরে যাবে...

(১৫৭)
অতৃপ্ততার স্পর্শ যেসব মানুষের হৃদয়, অদ্ভুত সুন্দর মায়ামাখা প্রশান্তির জন্য তাদের দরকার মসজিদে ভোরে ফজরের সলাত শেষ হবার পরে মানুষ যখন রাস্তা দিয়ে হেঁটে চলে তখন সেই মূহুর্তগুলোতে অন্যদের

সাথে আলাপ না করে রাস্তায়/বারান্দায়/ছাদে দাঁড়িয়ে নিজেকে নিজের সামনে নিয়ে আসা...

(১৫৮)
এই যে জীবনের এত কষ্ট-ক্লান্তি-চাওয়া-পাওয়া, আনন্দ-হাসি-গান ... কিছুই রবে না বেশিদিন। থাকবেন শুধু আমাদের রব আল্লাহ, যিনি আল হাইয়্যু, আল কাইয়্যুম...

(১৫৯)
উস্তাদ নুমান আলী খান আমার জীবনের মোড় ঘুরানো এক মানুষ। কত কিছু যে শিখেছিলাম তার কাছে!! অনেকদিন কোন ভিডিও লেকচার দেখিনি উনার। আজকে রবার্ট ডাভিলার ভিডিওটার কথাগুলো

জেনে কেঁদেই ফেললাম। 'রবার্ট ডাভিলা' এক অদ্ভুত প্রাণশক্তির নাম, প্রিয় রাব্বুল আলামীনের এক ভালোবাসার নাম। কী সুন্দর এক আলোকপ্রাপ্তির গল্প!

হে আমার রব! আপনার ভালোবাসার চিহ্নগুলো চারপাশে দেখতে পাই মাঝে মাঝেই খুব বেশি স্পষ্ট করে। আপনি এই মানুষগুলোকে উত্তম প্রতিদান দিন, তাদের হিফাজত করুন। আমাদেরকে হিদায়াত দিন,

আমাদের ঈমান বাড়িয়ে দিন।

# ভিডিও: রবার্ট ডাভিলার গল্প : নুমান আলী খান : http://www.youtube.com/watch?v=vthRr3gk4W4

১০ মে, ২০১৪

ভালোবাসব বাসব রে বন্ধু


আজকে একটা সম্ভাব্য প্রেমের ধ্বংস দেখতে পেলাম !!

অফিস থেকে ফিরছিলাম, রিকসা থেকে যেখানে নামলাম, সেখানে অচেনা দু'টো ছেলে আর একটা মেয়ে দাঁড়ানো, একটা রিকসা দাঁড়ানো পাশে। সেই মেয়েটার বান্ধবীকে সম্ভবত একটা' ছেলে *লাইক* করে, সেই কথাটা বন্ধুটা মেয়েটাকে বলছিলো বলে বুঝলাম। মেয়েটা কিছু একটা উত্তর দিলো। পরে শুনলাম বন্ধুটি মেয়েটিকে বললো, ''ও কি ফ্রেন্ডশিপ টাইপের রিলেশনও করবেনা?"। মেয়েটা রিকশায় উঠতে উঠতে বললো, "তোমরা রাগ কইরো না, ঠিকাছে? ভালো থাইকোওও, বাআআই!! " (একটু সুর করে)

১ মে, ২০১৪

মনের জানালা মাঝে # ১৩


(১৩৬)
মানুষের জীবনের অভিজ্ঞতালব্ধ আলাপ শুনতে খুবই ভালো লাগতো ছোটবেলা থেকেই। এমনকি কোন বড়ভাই যদি জীবনের অভিজ্ঞতা শেয়ার করতেন, তবে আমি পাশে গিয়ে দাঁড়িয়ে শুনতাম। এভাবেই একবার শিখেছিলাম সম্ভবত কোন স্যারের কাছে--

"সবসময় বড়দেরকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করতে চেষ্টা করবে কেননা সে তোমাকে তার অভিজ্ঞতা থেকে শেখাতে পারবে। পক্ষান্তরে ছোটদের বন্ধু হলে তোমাকে দেয়ার কাজ করতে হবে এবং তাতে তুমি শিখতে পারবে না, তোমার উন্নতিও হবে না।"


(১৩৭)
জীবন থেকে শিখলাম, আমাকে আপন মনে করা মানুষদের কেউ যদি কোন সাধারণ তথ্য জিজ্ঞাসা করে একটু রহস্য রেখে, তাহলে তাকে বেশি প্রশ্ন না করাই উচিত। সম্ভবত আরো কেউ তাকে আপন মনে করে সেই বিষয়টি জানতে চেয়েছে তাই তিনি পরিচয়টা আমাকে জানতে দিতে চাইছেন না।

ছোট ছোট উপলব্ধিগুলো মাঝে মাঝে বেশ মজার হয়!

(১৩৮)
"গোলাপের সৌন্দর্যে এবং গন্ধে আকৃষ্ট হলে তার কাঁটার আঘাতকেও মেনে নিতে হবে।"
-- পুরা কথাটা উপলব্ধি করিয়া বাকহারা হইয়া গিলুম! কী গভীর এক দর্শন নিহিত রহিয়াছে এই বাক্যের গভীরে... আহা! মরি মরি!

(১৩৯)
প্রতিদিন নানান কিসিমের মানুষের সাথে মিশতে মিশতে ইদানিং বারবার একটা কথা উপলব্ধি হয় যে, কেন ভালো কাজের উপদেশদাতা আর সবর বা ধৈর্য ধরতে উপদেশ দেয়া ছাড়া সব কাজই ক্ষতিকর...

সবরের (ধৈর্য) চেয়ে বেশি দরকারি আর কল্যাণকর গুণ খুব কমই আছে। ধৈর্যধারণ করে সময় অতিক্রান্ত করলে, আল্লাহর কাছে দোয়া করলে একদিন উপকার হয়। অধৈর্য হয়ে ভুল করে বসলে তার মাশুল দিতে হয় জনমভর... তবে, মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত তো তাওবা আর দু'আ করার পথ খোলা থাকে...

(১৪০)
সুন্দর হৃদয়ের মানুষদের সান্নিধ্য পাওয়াই অনেক সময় সাহস ও অনুপ্রেরণা হয়ে যায়। তাদের অল্প কথাতেই খুঁজে পাওয়া যায় শক্তি, সাহস ও আত্মবিশ্বাস। সুবহানাল্লাহ!

(১৪১)
আমি  নিশ্চিত করে বলতে পারি, জীবনে সত্যিকারের একটা কল্যাণময় পরিবর্তন অর্জন করতে চাইলে নিজের সাথে শুধু একটা বিষয়ে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ হতে হবে যে কেউ যখন প্রশ্ন করবে, "কেমন আছেন" তখন তার উত্তরে মুখে বলতে হবে "আলহামদুলিল্লাহ ভালো" এবং তা মনে অনুভব করতে হবে।

 (১৪২)
কত মানুষকেই তো ভালোবাসি, কত কিছুকেই তো আপন করে কাছে রাখি অনেক আশায়, স্বপ্নে, দয়ায়। অথচ, জীবনের কঠিন সময়ে সবাই চলে যায়, ভুল বুঝে যায়। কেবল একজনই হৃদয়ের গুমরে ওঠা কষ্ট বুঝেন, অঝোরে ঝরে যাওয়া কান্না শোনেন, ভালোবাসায় প্রাণে শান্তির পরশ এনে দেন... তিনি আমাদের মালিক, আল্লাহ। যিনি প্রেমময় ও ক্ষমাশীল এবং পরম দয়ালু।

(১৪৩)
রেগে গিয়ে করা ভুলের ক্ষতির আফসোস করা ও ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার পরিশ্রমের চেয়ে না রাগ করে সেই বিষয়টিতে ভুগতে থাকাও তো অনেক ভালো...

(১৪৪)
রোজা থাকার দিনে বিকেলে কেউ খেতে বললে যেই অনুভূতি হয় তাতে বুঝা যায়, হাল না ছাড়ার নামই প্রাপ্তি।

(১৪৫)
আপনি যদি মোবাইলের এসএমএস লিখতে গিয়ে বড় আকারের গোটা গোটা বাক্য লিখেন, তাহলে মেসেজের বিশাল সাইজ হয়ে যাবে। আগেকার দিনের টেলিগ্রাম মেসেজের মতন করেই না লিখতে হবে! তাহলেই কেবল ব্যাপক ফায়দা হবে। কম টাইপ করতে হবে, খরচ কম হবে!