২৬ নভে, ২০১৩

অনুপ্রেরণা - ২



* * *
ভালোকাজের মেঘ থেকে বৃষ্টি ঝরে। যখন সময় হয় কেবল তখনই তার বর্ষণ হয়। আল্লাহ বৃষ্টি বর্ষণ করেন শুকনো মৃত মাটির উপরে; একদম সঠিক সময়েই। যখন পথ অবারিত হবার সময় হবে, তখনই সেই পথ প্রশস্ত হবে। তিনি তার সময় অনুযায়ীই সেই কাজটি করেন, আমাদের সময়ের হিসেবে নয়। আর এটা আমাদের ক্বাদরের ব্যাপারে সন্তুষ্ট থাকার একটি অংশ এবং যা হয়েছে তা আপনার জন্য নির্ধারিত ছিলো বলেই হয়েছে। ~ শাইখ হামজা ইউসুফ, [সংক্ষেপিত, ২০১১ রিহলা]

২৫ নভে, ২০১৩

মালিক শাহবাজ (ম্যালকম-এক্স)

বর্তমান মিডিয়া বলতেই সবাই বুঝে বিবিসি, সিএনএন, ইন্ডিপেনডেন্ট ইত্যাদি ইত্যাদি... নতুন বিশ্বের এইরকম চেহারা হবে, সেখানে মিডিয়ার ব্যাপক প্রভাব থাকবে, তা তো বেশ পুরোনো পরিকল্পনা। হয়ত এসব অনুধাবন করে সেই খোদ আমেরিকায় অনেক বছর আগে মালিক শাহবাজ (ম্যালকম এক্স) নামক সাহসী মানুষটি একটি কথা বলেছিলেন যা আমার প্রায়ই মনে পড়ে--

"আপনি যদি সতর্ক না থাকেন তাহলে পত্রিকাগুলো আপনাকে নিপীড়িত-অত্যাচারিত মানুষদেরকে ঘৃণা করতে শেখাবে এবং যারা অত্যাচারী-নিপীড়নকারী তাদের প্রতি ভালোবাসা জাগাবে।" ~ ম্যালকম-এক্স

মালিক আল-শাহবাজ 'ম্যালকম এক্স' নামে সুপরিচিত। তিনি আফ্রো-আমেরিকান মুসলিম, ঘটনাবহুল জীবনের এক পর্যায়ে তিনি ইসলাম গ্রহণ করেন। আমেরিকায় ব্ল্যাকদের অধিকার আদায়ের এক অবিস্মরণীয় নেতা। বক্তব্য প্রদানকালীন সময়ে একদিন তাকে বিরোধীরা কয়েকজন মিলে ২১টি গুলিতে বিদ্ধ করে, সেদিনই তিনি আল্লাহর ডাকে সাড়া দিয়ে দুনিয়া থেকে বিদায় নেন।

জন্ম :  ১৯২৫, মৃত্যু : ১৯৬৫

ম্যালকম-এক্সের উদ্ধৃতি:

"ভবিষ্যত তো তাদের জন্যই যারা আজকে তা গড়ে তুলতে কাজ করে।"
~ মালিক আল-শাহবাজ (ম্যালকম এক্স)

* * *
"আপনি যদি সতর্ক না থাকেন তাহলে পত্রিকাগুলো আপনাকে নিপীড়িত-অত্যাচারিত মানুষদেরকে ঘৃণা করতে শেখাবে এবং যারা অত্যাচারী-নিপীড়নকারী তাদের প্রতি ভালোবাসা জাগাবে।"
~ ম্যালকম-এক্স মালিক শাহবাজ [১৯২৫-১৯৬৫]

* * *
"যে কোন কিছুর পক্ষে দৃঢ় হয়ে দাঁড়ায় না সে সবকিছুতেই ভেঙ্গে পড়ে।"
~ মালিক আল-শাহবাজ (ম্যালকম এক্স)

* * *
​​হোঁচট খাওয়া মানেই পড়ে যাওয়া নয়। ~ ম্যালকম এক্স

অনুপ্রেরণা - ১



"যে মানুষটাকে ভালোবাসি, তাকে আমাদের অবশ্যই বুঝতে হবে। আমাদের ভালোবাসা যদি হয় কেবল কাউকে দখল করে রাখার কোন চাওয়া, তাহলে তা ভালোবাসা নয়। আমরা যদি শুধু আমাদেরকে নিয়ে চিন্তা করি, শুধু আমাদের প্রয়োজনগুলোই বুঝি এবং অন্যদের প্রয়োজনকে এড়িয়ে যাই, তাহলে আমরা কখনই ভালোবাসতে পারবো না। যাদের ভালোবাসি তাদের প্রয়োজন, চাওয়া, ভালোলাগা এবং কষ্টগুলো আমাদেরকে অবশ্যই গভীরভাবে খেয়াল করতে। এটাই প্রকৃত ভালোবাসার পথ। আপনি যখন কাউকে সত্যিকার অর্থে বুঝতে পারবেন, তখন তাকে ক্রমাগত ভালোবেসে যাওয়া থেকে আপনি নিজেকে ঠেকাতে পারবেন না।" [গ্রন্থ : Peace Is Every Step: The Path of Mindfulness in Everyday Life]

 * * *
"আপনাকে যারা ভালোবাসে তারা আপনার করা ভুলগুলো অথবা আপনার বাজে স্মৃতিগুলোকে মনে রাখার বোকামি করবে না। আপনাকে যখন দেখতে খারাপ লাগে তখন তারা আপনার সৌন্দর্যকে স্মরণ রাখে, আপনি যখন ভেঙ্গে পড়েন তখন আপনার পূর্ণতার সময়গুলোকে মনে রাখে, আপনি যখন অপরাধবোধে ভুগেন তখন আপনার সরলতাকে খেয়ালে রাখে এবং আপনি যখন দ্বিধায় থাকেন তখন আপনার উদ্দেশ্যকে মনে রাখে। [অ্যালান কোহেনের উদ্ধৃতির ভাবানুবাদ]

 * * *
জীবনের যেসব বিষয় নিয়ে হিসাব-নিকাশ মেলেনি, সেগুলোর ব্যাপারে ধৈর্য ধরুন। সেই উত্তর-না-পাওয়া প্রশ্নগুলোকেই ভালোবাসতে চেষ্টা করুন, যেমন করে আপনি গ্রহণ করে থাকেন বন্ধ দরজার একটি ঘর অথবা ভিনদেশি ভাষায় লেখা কোন একটা বই। এখনই সব উত্তর খুঁজতে ব্যস্ত হবেন না। আপনাকে সেই প্রশ্নগুলোর উত্তর এখন দেয়া হবে না কেননা সেসব জেনে আপনি ঠিকভাবে বাঁচতে পারবেন না। তাছাড়া, এই বিষয়গুলো হলো অভিজ্ঞতার পথ দিয়ে যাওয়া। জীবনের এই দিনগুলোতে আপনার এই প্রশ্নগুলো বুকে নিয়েই বাঁচতে হবে। হয়ত, সময়ের সাথে কোন একদিন, আপনি নিজের অজান্তেই ধীরে ধীরে প্রশ্নগুলোর উত্তর জেনে যাবেন। [রেইনার রিলকার 'Letters To A Young Poet' থেকে উদ্ধৃত অংশের ভাবানুবাদ]

 * * *
যারা আপনাকে সাধারণ কিছু স্নিগ্ধ ও শান্ত কথা বলে একটুখানি স্বস্তি এনে দিতে চেষ্টা করেন, তাদের দেখে  এমনটা ভেবে বসবেন না যে তাদের জীবনটা যন্ত্রণাবিহীন। তার জীবনেও দুঃখ-কষ্ট এবং যন্ত্রণা থাকতে পারে যা হয়ত আপনার চাইতেও বেশি। যদি তেমনটা না-ই হতো, তাহলে তিনি এমন কিছু শব্দ কখনো খুঁজে পেতেন না।
~ রেইনার রিলকা [অস্ট্রিয়ান ঔপন্যাসিক, ১৮৭৫-১৯২৬]

২৪ নভে, ২০১৩

ফেসবুক : অগোচরে ক্ষতি করতে থাকা এক ভয়ংকর

​ফেসবুকের মাধ্যমে আমার ব্যক্তি জীবনে কিছু প্রাপ্তি আছে বটে, কিন্তু ফেসবুক থেকে সম্ভাব্য ক্ষতির কথা ভাবে যে পরিমাণ ভীতি আমার মাঝে কাজ করে তার পরিমাণ বোধকরি অনেক অনেকগুণ বেশি। একটা জিনিস খুব ভয় হয়। তা হলো, সহজেই যাচ্ছেতাই লেখা যায়। লিখতেই আছি, কমেন্টে, পোস্টে, ইনবক্সে -- যেন লেখাটা কিছুই নয়। খুব অবহেলায় অনেক লিখেছি অনেক জায়গায় অনেক কিছু...

ফেসবুকের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহারে আমাদের মনগুলো কীভাবেই না পরিবর্তিত আর পথভ্রষ্ট হয়েছে। একটা কিছু হলেই ফেসবুকে পোস্ট দেয়ার একটা উদগ্র বাসনা ভিতরে কাজ করে। ছবি আপলোড করে লাইক আর কমেন্টেই যেন ফুটে উঠে আমার *গ্রহণযোগ্যতা* সবার কাছে কতটুকু, কিংবা আমরা দেখতে কতটুকু সুন্দর। একটা কিছু লিখেই অপেক্ষায় থাকি লাইক আর কমেন্টের। যেখানে উদ্দেশ্যগুলো হবার কথা আল্লাহর সন্তুষ্টি। খুব ক্ষীণ একটা লাইনের ওপারে আমাদের অজান্তেই সেটা হয়ে যায় কিছু লাইক আর কমেন্ট প্রাপ্তি...

একটা বড় ক্ষতি হলো, আমাদের অনুভূতিগুলোকে পানসে করে দেয়া। প্রতিটা জিনিসই যখন ফেসবুকে, তখন সামনাসামনি অনেকদিন/অনেকক্ষণ পর পাওয়া মানুষটার সাথে কথা/অনুভূতি ভাগাভাগির গভীরতাটা থাকেই না। অথচ আমি দ্বীনের শিক্ষাতে শিখেছিলাম, বিরতি দিয়ে দিয়ে ভাইদের সাথে মিলিত হতে এতে করে পারস্পারিক সম্প্রীতি বাড়বে।

আমরা সবাই ভেবে নিয়েছি আমাদের অভিমত খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তাই সমস্ত বিষয়ে লাগামহীন মন্তব্য, তর্ক, কুরূচিপূর্ণ শব্দ দিয়ে ভরিয়ে দিচ্ছি ইনবক্স/কমেন্টবক্স/পোস্টগুলো। আমাদের যোগ্যতা, জ্ঞানের গভীরতা এবং সেই সাথে সময়ের ব্যবহার কতটুকু 'ইফেক্টিভ' হচ্ছে সেই হিসেবে এইসব কাজ অকল্পনীয় ক্ষতিকর হয়ে যাচ্ছে। আখিরাতে জবাবদিহিতার বিষয়টা আমাদের ভাবায় না?

বাস্তব জীবনে কেউ বাঁকা কথা বললে সহ্য করে নিই আমরা, জানি কে কীভাবে আমাকে জানে। অনেক অপমানকে গায়ে না মাখলেও চলে। ফেসবুকে কেউ কাউকে কিছু বললে *উপযুক্ত শিক্ষা* না দিলে পেটের ভাত যেন চাউল হয়ে যাবে ভাব নিয়ে মাঠে নেমে পড়তে দেখেছি অনেককে। আল্লাহ মাফ করুন আমাদের। এমন কত বড় বড় অন্যায়ের অংশ হয়ে যাচ্ছি লাইক/শেয়ারের মাধ্যমে, কত সহজেই, ভেবে কি দেখেছি?

নিশ্চিত যে অনন্তকালের জীবন, তাকে জটিল বা ব্যর্থ করে দেয়ার এই অদ্ভুত আয়োজনে আমরা কত আগ্রহেই না যোগ দেই প্রতিদিন। ভালো কাজের সংখ্যা আমাদের এমনিতেই কম। লাইক/কমেন্ট/শেয়ারের লোভ, চ্যাটিং-এ মানুষের সাথে অনর্থক আলাপের আগ্রহ আমাদের কোথায় ঠেলে দিচ্ছে প্রতিদিন... ভেবে দেখেছি কি আপন মনে? আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা আমাদেরকে ক্ষমা করুন, সরল সঠিক পথে পরিচালিত করুন।

- এই প্রসঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ দু'টি লিঙ্ক:

1. Faceboook : The Hidden Danger : Yasmin Mogahed http://www.suhaibwebb.com/society/entertainment/facebook-the-hidden-danger/

2. Fiqh of Facebook : http://www.suhaibwebb.com/society/media/the-fiqh-of-facebook/

২৩ নভেম্বর, ২০১৩

২৩ নভে, ২০১৩

মনের জানালা মাঝে # ৪



(৩৮)
ঠিক আপনার মতই জীবন আর কারো নেই। মানুষের সাথে মিশে দেখবেন তাদের শৈশব, কৈশোর অথবা বাল্যকাল আপনার চাইতে অন্যরকম, কিংবা তাদের পারিবারিক জীবন আলাদা। অথবা তাদের শারীরিক কোন অসহ্যকর কষ্ট আছে যা আপনার নেই। নিজের কষ্টগুলো নিয়ে যখন ভার মনে হবে, আশেপাশে মিশবেন। আল্লাহর সৃষ্টির মাঝে নিজেকে ছড়িয়ে দিবেন। একজন অথবা দু'জন মানুষ খুঁজলে হয়ত মনে হবে সবাই আপনার চেয়ে সুখী। তখন সেই ভ্রান্তি কেটে উঠবে না। একটু বেশি করে নানান রকম মানুষের সাথে মিশতে হবে। আপনার গন্ডি ছাড়িয়ে অন্যদের জীবনকে জানলে দেখবেন আপনি হয়ত কারো জীবনের কথা ভেবে কাঁদতে শুরু করবেন।

(৩৯)
যখন খুব কষ্ট লাগে, তখন জানি, এই কষ্টের দুনিয়া খুব বেশিদিনের জন্য না। আর একটুই তো। কাটিয়ে দেয়াই কাজ...  যখন সুন্দর প্রকৃতিতে নিঃশ্বাস নিই আনন্দে, তখন জানি এই পৃথিবী ছেড়ে যাবার পর যা পাওয়া যায় তা এর চাইতেও অনেক সুন্দর। সেটা চাই, হে দয়াময়...

(৪০)
পৃথিবীর কোন কিছুর জন্য অপেক্ষার একটা সীমারেখা আছে। একটা সময় পরে অপেক্ষার বস্তুটার আবেদন হারিয়ে যায়, মনের অনুভূতিটাও শুকিয়ে যায় অপেক্ষায় ক্লান্ত হয়ে। একসময় তা অনীহায় পরিণত হয়।

(৪১)
আপনি খারাপ থাকলে কারো কিছু আসে যায় না। কারো কাছে খারাপ থাকা বর্ণনা করলেও আসলে কেউ কিছু করবে না। মূলত মানুষ নিজেরাই খুব অসহায়। নিজেকে যেভাবেই হোক ভালো রাখাই উচিত, আল্লাহর কাছেই কেবল সাহায্য চাওয়া উচিত।

(৪২)
জীবনের পরতে পরতে খুশি-আনন্দ-কষ্টের মাঝে আল্লাহ আপনাকে মেসেজ দিয়ে চলেছেন... তার আরো কাছে যেতে, তার দিকে মুখ ফিরিয়ে নিতে বলছেন। খেয়াল করে পড়ে দেখুন...


(৪৩)
একজন বললো, স্বপ্ন দেখে কী হয়? স্বপ্নেরা কখনো সত্যি হয় না। কথা সত্যি। সব স্বপ্ন সত্য হয় না। কিন্তু এটাও সত্য, স্বপ্ন ছাড়া কিছুই হয় না। কিছু পেতে হলে স্বপ্ন দেখতে হয়, মানুষের মন কোন অবস্থাতেই আশা ছাড়া থাকে না। উচ্চাশা করা সঠিক নয়, কিন্তু স্বপ্ন দেখতে হয়। ছোট ছোট স্বপ্ন, স্বপ্নেরা শিশির বিন্দুর মতন, ঘাসের উপরে চকচকে হীরার কণার মতন ঝলক দেয় কষ্টের মাঝে, দুঃখের মাঝে। কঠিন সময়ে তাই স্বপ্ন বেশি করে দেখতে হয়, কারণ, একদিন খারাপ সময় কেটে যাবে।

(৪৪)
বাস্তবতাকে উপভোগ করে দেখার কিছু নেই, সে আপনাকে জোর করেই স্বাদ নেয়াবে... কখনো টেনে-হিঁচড়ে হলেও আপনাকে বাস্তবতার স্বাদ নেয়াবে। বাস্তবতা হলো সেই জীবন, যা পার্থিব; যা আমাদের সব চাওয়ার মাঝে থাকে না, প্রায় সময়েই আমাদের না-চাওয়া বিষয়গুলো নিয়েও থাকে। কিন্তু আমাদের স্বপ্নগুলো শুধু পার্থিব না, তাতে অপার্থিব জগতের সৌন্দর্য মাখানো থাকে... এই রূঢ় বাস্তবতার নখর থেকে বাঁচতে চাইলে স্বপ্ন দেখতেই হবে। স্বপ্নেরা আশা জাগায়, ভালোবাসা জাগায়, হৃদয়কে কোমল করে...

(৪৫)
আমরা কেউ অন্য কারো মতন না, অন্য কেউ আমাদের মতন না। অন্যদের স্কেলে নিজেদের বিচার করা বোকামি, অন্যদের সাথে তুলনা করাও নির্বুদ্ধিতা। লক্ষ্য একটাই, মৃত্যুর পরের সফলতা, পৃথিবীটা শুধু পেরিয়ে যাওয়ার। কোন পূর্ণতা প্রাপ্তি এই জগতে হয় না, হতে পারে না...

(৪৬)
আমাদের এ এক অদ্ভুত সমাজ !! অজস্র অবিবাহিত ছেলে-মেয়ে এমনভাবে জীবন কাটাচ্ছে যেন তারা বিবাহিত। অজস্র বিবাহিতরা এমনভাবে জীবন কাটায় যেন তারা একা। সমস্যা কেন এত?

(৪৭)
অপেক্ষার পর, পরিশ্রমের পর যখন ঈপ্সিত জিনিসটি পাওয়া যায়, সেই আনন্দ, সেই উদ্বেলিত হৃদয়ের অনুভূতি কি কখনো ভাষায় প্রকাশ করা যায়? যারা অমন করে অপেক্ষা করেনি তারা কীভাবে বুঝবে অপেক্ষার পরে প্রাপ্তির মাঝে ভালোবাসা কত তীব্র থাকে, তাতে কত গভীরতা থাকে, হৃদয়ে কত গভীর আনন্দের ধারা বয়ে যায়...

(৪৮)
আপনি যে জীবনে সত্যিকারের কল্যাণময় পরিবর্তন চান তার সম্ভবত প্রথম প্রকাশ হচ্ছে আপনি নিজের বিষয়ে ভালো কথা বলতে না পারলেও, খারাপ কথা বলবেন না। আশাবাদী কিছু শোনাতে না পারলেও নৈরাশ্য ও হতাশার কথা বলবেন না। যতদিন নিরাশা বা হতাশার সাথে থাকবেন, আপনি অবশ্যই কোন সত্যিকারের উন্নতি বা পরিবর্তন আনতে পারবেন না। উন্নতির মূল শর্ত হলো -- হয় ভালো কথা বলো নয়ত চুপ থাকো।

(৪৯)
আমাদের সবার অজস্র সীমাবদ্ধতা, ভুল, নীচতা, হীনতা, খুঁত আছে। এটা সত্যি। হয়ত অনেক ক্ষেত্রে ভালোগুলোর পরিমাণ খারাপগুলোর চেয়ে কম, এরকমটাও হতে পারে। কিন্তু তাতে কোন ক্ষতি নেই। বিষয়টা হচ্ছে, একজন মানুষ তার কোন সত্ত্বাকে মূল্য দিচ্ছে, কোন গুণাবলীকে ফুটিয়ে তুলতে চাইছে।

২১ নভে, ২০১৩

মনের জানালা মাঝে # ৩



(২৬)
সুখী হতে হলে ছোট ছোট বিষয়ে আনন্দিত হওয়া শিখতে হয়।

(২৭)
দু'আ করার সময় তাদেরকে স্মরণ রাখুন যারা আপনাকে একজন উন্নত মুসলিম হবার পথে সাহায্য করেছেন, করছেন।

(২৮)
মানুষের সাথে নিজের দুঃখ-দুর্দশার কথা শেয়ার করলে বেশিরভাগ মানুষ আনন্দিত হয়, সে তখন চিন্তা করতে থাকে সে আসলে কত ভালো আছে! বিষয়টা অদ্ভুত বাস্তব...সত্যিকার সমব্যথী দুস্প্রাপ্য, তা পেতে চাওয়া বোকামি; অনায্যও বটে...

(২৯)
যতবার মানুষকে বেশি মূল্য দিয়েছি, মানুষের কাছে প্রত্যাশা করেছি; ততবার কষ্ট পেয়েছি, ততবার যন্ত্রণাদগ্ধ হয়েছি। প্রত্যাশা করার প্রয়োজন কেবলই আল্লাহর কাছে। শুধুই তিনি, কেবলই তিনি। সমস্ত ক্ষমতা তো কেবলই তাঁর।

(৩০)
নিজেকে নিজের কাছেই প্রমাণ করার চেষ্টা করুন, অন্যদের কাছে নয়।


(৩১)
সবকিছুর জন্য একটা নির্দিষ্ট সময় নির্ধারিত আছে। তাই কোন শংকা, দুশ্চিন্তায় থাকার কোন অর্থ নেই। আল্লাহর উপরে নির্ভর করে পথ চলুন। যা হবার এমনিতেই হবে...

(৩২)
দুনিয়ার যেসব জিনিস আপনি পেতে চেয়ে না পাবার অতৃপ্তিতে ভুগছেন, সেগুলোর বেশিরভাগ জিনিস আপনি পেলেও আপনার অন্তর এমন থাকত। যে অশান্তিতে থাকে, তার কারণ লাগে না। যে সন্তুষ্ট থাকার, সে এমনিতেই থাকে...

মনের জানালা মাঝে # ২



(১৩)
স্বপ্নকে অবজ্ঞা করবেন না। আপনি আসলে সেই মানুষ যা আপনি স্বপ্ন দেখেন। ভেবে দেখুন, যখন স্বপ্ন দেখেন সুন্দর একটা ব্যক্তিত্বের, তার যাত্রা কিন্তু এই মূহুর্তেই শুরু হয়ে যায়, এখনই নিজের মাঝে পরিবর্তনের দোলায় আসে। স্বপ্নগুলো হোক সুন্দর. আপনি হয়ে উঠুন স্বপ্নকে সত্য করার জন্য প্রত্যয়ী...

(১৪)
'চলার পথের সকল কুকুরের ঘেউঘেউগুলোর উত্তর দিতে গেলে আপনি ঠিকমতন গন্তব্যে পৌঁছাতে পারবেন না।' ~জনৈক

(১৫)
আগামীকালকের দিনটি হোক আজকের চাইতে উত্তম।

(১৬)
লিখতে চাইলেই কি লেখা হয়? কখনো কখনো হাতে কীবোর্ড নিয়ে হা করে মনিটরের দিকে তাকিয়ে থাকা হয়, এভাবে কয়েকদিন চলে যায়, অনুভূতিগুলো আর লেখা যায় না...

নিশ্চয়ই আল্লাহই সকল ক্ষমতার অধিকারী। তিনি না চাইলে কিছুই হয় না, যতই যোগ্যতা থাকুক আমাদের। যোগ্যতাটাও তো আল্লাহরই দান।

(১৭)
ধৈর্যের বাঁধ ভাঙ্গার আগে একটু ভাবুন, আপনার ব্যাপারে আল্লাহ কতটা ধৈর্যশীল...

(১৮)
ইতিহাসের সবচাইতে বড় শিক্ষা হলো, ইতিহাস থেকে মু'মিনরা ব্যতীত অন্য কেউ শিক্ষা নেয় না।

(১৯)
কারো কথা বুঝতে চাইলে কান খোলা থাকলেই হয়না, মনটাও খোলা রাখতে হয়।

(২০)
সুযোগের অপেক্ষায় বসে থাকতে নেই, সুযোগ তৈরি করে নিতে হয়...
(২১)
জ্ঞানী মানুষেরা সবসময় চুপ থাকেন না, কিন্তু তারা জানেন কখন চুপ থাকতে হয়।

(২২)
দুনিয়া আছেই আমাদের হৃদয়কে ভেঙ্গে খানখান করে দেবে বলে। পাহাড়ের গুহায়, গর্তে, ঘরের কোণায় বসে থাকলেও এই ভাঙ্গন থেকে রক্ষা নেই।

(২৩)
নির্বিঘ্নে নিশ্চিন্তে শ্বাস নিতে পারা এই মূহুর্তটা কতই না সুন্দর ! পার্থিব কতরকমের যন্ত্রণা আর প্যাঁচে পড়ে হয়ত অনেক মানুষ নিশ্চিন্তে থাকতেই ভুলে গেছে। আজ যখন রাস্তার পাশে মোটা কাগজের উপরে শুয়ে থাকা শিশুটিকে গভীর প্রশান্তির ঘুমে দেখলাম তখন মনে হলো, মানুষ নিশ্চিন্তে ঘুমাতে পারেনা শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ঘরে শুয়েও। খুব বেশি কিছু লাগে কি? আমরাই আমাদের অভাবকে লাগামছাড়া করি, এরপর সেই অভাবের শোকে অশান্তিতে পুড়ি। সীমানা তো আমাদেরই মাঝে, সুখ সে তো আমাদেরই মনে।

(২৪)
একদিন আপনি কিছু মানুষের কাছে কেবলই স্মৃতি হয়ে যাবেন। প্রাণপন চেষ্টা করুন যেন তা ভালো স্মৃতি হয়...

(২৫)
আমাদের সবচাইতে বড় ব্যর্থতা আমাদের নিজেদের ক্ষমতাটুকুর খবর আমরা জানিনা। আমরা জানিনা কতটা শক্তি আমাদের প্রত্যেকের ভেতরে লুকিয়ে আছে। আমাদের জীবনের উদ্দেশ্য প্রতিদিনের ঘানি টানার জন্য নয়, আমাদের সৃষ্টি আরো অনেক বিশাল কাজ করার জন্য। নিজেদের শক্তি ভুলে কোথায় মাথা কুটে মরি আমরা?

মনের জানালা মাঝে # ১



 (১)
সত্যি কথা বলতে, আগামী জীবনে অবসর নেই, নেই তেমন একটা সময়, নেই সুস্থতাপূর্ণ সময়, নেই দায়িত্ব হালকা থাকা সময়। যা করার আজই করতে হবে। এই এখন থেকেই শুরু করতে হবে। আলসেমি নয়, আজ থেকেই অন্তরের সুন্দরগুলো বাড়াতে, আজ থেকেই সুন্দরকে প্রতিষ্ঠা করতে কাজ করতে হবে।

(২)
আমরা আমাদের সম্পর্কগুলোকে নিজেরাই জটিল করি। অথচ হয়ত হৃদ্যতাপূর্ণ কিছু কথা, ভালোবাসার অনুভূতিগুলো হৃদয়কে ছুঁয়ে গেলে দুরত্বগুলোও ঘুঁচে যায়। রাগ করে কি সম্পর্কের টানপোড়েন দূর হয়? প্রয়োজন ভালোবাসা, অনুভূতিকে বুঝতে চেষ্টা করা... আর আন্তরিক ভুল স্বীকার ও সংশোধনের ইচ্ছা...

(৩)
পৃথিবীতে অনেক মানুষ আছে, কাউকে দেখে মোহিত হই, কাউকে দেখে বিরক্ত হই, কেউ যন্ত্রণায় দেয়, কেউ অযাচিত ভালোবাসায় সিক্ত করে। আমি কিন্তু আমার জায়গাতেই থাকি, আমার সম্পদ আমার হৃদয়, অনুভূতি, বুদ্ধি, চিন্তাশক্তি এবং কাজগুলো। এই আমার সাথে অন্যদের বিস্তর ফারাক থাকতে পারে, কেউ আমাকে উপহাস করতে পারে। তাতে কী? আল্লাহর সাথে আমার সম্পর্ক সঠিক থাকলে পৃথিবীর আর কোন কিছুতেই আঁটকে যাবার, দুঃখ পাবার কিছু নেই। হৃদয় যেন অকারনে যার-তার কারণে না ভাঙ্গে খেয়াল রাখতে হবে।

(৪)
বেঁচে যখন আছি, ভালো হোক আর খারাপ হোক -- এই সময়টা কেটে যাবে।  যদি আগামীরটা খারাপ হয়, তখন এই ভালোটাতে লাভ হবেনা। আগামীর সময়টা ভালো হলে, এই খারাপটা প্রভাব ফেলবে না।  পৃথিবীর জীবনে তবে কী লাভ এত হিসেব করে?

(৫)
আপনি যখন ভালোবাসার জন্য আহাজারি করছেন। ডানে-বামে তাকিয়ে দেখেন কেউ খাবারের জন্য কাঁদছে, মরেও যাচ্ছ। আবার অসুস্থতায় ও চিকিৎসাহীনতায় মারা যাচ্ছে।
(৬)
আমারে ফাঁকি দিলা রে বন্ধু,
তিনি তো দেখিলেন সবই...

(৭)
যে এখন কিছু না পাওয়ায় তৃপ্ত হয়না, সে ঐটা পেলেও নতুন না পাওয়ায় অতৃপ্ত থাকে।  অদ্ভুত!!
নিশ্চয়ই মানুষ বড়ই অকৃতজ্ঞ..

(৮)
যতই আফসোস করুন, আপনার অতীত বদলাতে পারবেন না।
যতই দুশ্চিন্তা করুন, আপনার ভবিষ্যত তাতে বদলাবে না।

(৯)
আপনার চোখের পানি হলো নিজ জীবনের জন্য বৃষ্টির মতন। বৃষ্টি ছাড়া কোন কিছুই সতেজ হয়ে বেড়ে ওঠে না।

(১০)
সবাই যেমন পেতে চায় সে মানুষটা নয়, বরং নিজে যেমন চান সেই মানুষটি হতে চেষ্টা করুন।

(১১)
আমরা অন্যের কর্তব্য আর নিজেদের অধিকার নিয়ে যতটা ব্যস্ত থাকি,
নিজের কর্তব্য আর অপরের অধিকার নিয়ে সময় ব্যয় করলে পৃথিবীটা সুন্দর হত।

(১২)
অতীত নিয়ে আঁকড়ে ধরে থাকলে কখনই সামনে আগাতে পারবেন না। অতীতের ভুলগুলো সংশোধন করে সামনে এগিয়ে চলুন। এই দিনগুলোই কিন্তু আপনার ভবিষ্যত নির্ণয় করে দিবে...



[প্রকাশ- ২১ নভেম্বর, ২০১৩]

১৬ অক্টো, ২০১৩

কী অর্থ আমাদের জীবনের?


ঈদের দিনটা সবার মত আমারও অন্য সকল দিনের চাইতে আলাদা, ভিন্ন আমেজের। আজ সকালে আব্বা এবং মামা তাদের দাদাদের নিয়ে আলাপ করছিলেন। তাদের দাদারা দু'জন খুব ভালো বন্ধু ছিলেন, গোটা গ্রামে তাদের পারস্পারিক হৃদ্যতার কথা সবাই জানত। কোন কোন কাজ অপরজনের অপেক্ষায় বসে থেকে থেকে করতেন। নাতিদের পাঠাতেন বন্ধুকে ডেকে আনতে, নাতি বসে থেকে দাদার বন্ধুকে সাথে নিয়ে তবেই বাড়ি ফিরতে পারতো। তারা আজ কেউ নেই, এমনকি আমার দাদাজানও নেই। আল্লাহর ডাকে সাড়া দিয়ে চলে গেছেন সবাই... যেতেই হবে, যেতে হয় সবাইকে। চলে যাওয়াই নিয়ম...

১১ অক্টো, ২০১৩

পড়াশোনা শেষ করে তবেই বিয়ে করার সংস্কৃতি নিয়ে বিলাল ফিলিপস যা বলেছেন

"বয়সে যারা নবীন তাদেরকে তাদেরই মতন নবীনদের বিয়ে করতে উৎসাহিত করা হয়েছে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে, বর্তমান মুসলিম বিশ্বে সন্তানদেরকে বলা হয় তাদের পড়াশোনা আগে শেষ করতে, বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি, অন্যান্য ডিগ্রি ইত্যাদি শেষ করে তারপর বিয়ে করতে। এই কারণে অনেক সন্তানকে তাদের জীবনের সবচাইতে কঠিন সময়টা অবিবাহিত অবস্থায় পার করতে হয়। যখন তারা ত্রিশের কাছাকাছি পৌঁছে, তখন তারা বিয়ে করে। তাহলে ১৩ থেকে ৩০ বছরের এই প্রায় বিশটি বছর কী ঘটে? কী হয় তাদের জীবনে? আর এই ভুলের জন্য দায়ী কে? প্রাথমিকভাবে, এটা বাবা-মায়ের দোষ। যখন সন্তানরা বয়ঃসন্ধিতে পৌঁছে যায় এবং শারীরিকভাবে সাবালক হয় তখন তাদের সকল কাজের দায়ভার অবশ্যই তারাই বহন করে, কিন্তু বাবা-মায়েরাও তাদের এই বিশাল পাপের ভাগীদার হয় তাদেরকে এই অবস্থাটি থেকে মুক্তি পেতে সাহায্য না করার জন্য।"

--- ড. আবু আমিনাহ বিলাল ফিলিপস

বেশি কথা বলার ব্যাপারটা কেমন?

​ ছোটবেলায় মনটা আমার খুব কোমল ছিলো, লেখকদের কথায় খুব প্রভাবিত হতাম। 'লা মিজারেবল' টাইপের বই পড়ে জাঁ ভালজাঁর জন্য কেঁদেছিলাম, 'হ্যাঞ্চব্যাক অফ নোতরদাম' পড়ে কোয়াসিমোডোর জন্যেও চোখ ভিজেছিলো। আকুল হয়ে কেঁদেছিলাম নসীম হিজাযীর 'ভেঙ্গে গেলো তলোয়ার', 'আঁধার রাতের মুসাফির', 'সীমান্ত ঈগল' পড়ে। বই পড়ার জন্য একসময় মন ছটফট করতো, দু'দিন ছুটি পেলে বই পড়ার মতন না থাকলে খুব কষ্ট হতো। ক্লাস ফাইভের টার্ম ফাইনালের পরে একবার 'শার্লক হোমস রচনাসমগ্র' গিলে শেষ করেছিলাম সপ্তাহের মধ্যেই। প্রায় দু'দশক পেরিয়ে এখনো ছুটি আসে জীবনে, হঠাৎ খেয়াল হয় বই কি আছে সাথে? এখন পূজার সাথে ঈদের ছুটি মিলে বড় ছুটি পাচ্ছি ইনশাআল্লাহ, গত ৫/৬ মাসে হাজার হাজার টাকার বই কিনে চোখের সামনে রেখে চোখের ক্ষুধা মিটিয়েছি, মনের কেন যেন আমার ক্ষুধামন্দা, প্রায় প্রতিদিন স্পর্শ করার পরেও পড়া হচ্ছেনা বইগুলো।

৬ অক্টো, ২০১৩

প্রযুক্তির চাপে হারিয়ে যায় পাঠক

​আমার প্রায়ই মনে হয় আমাদের প্রযুক্তির যুগে আমরা যা হারিয়েছি, হারাচ্ছি তা হচ্ছে পাঠক। আমাদের সমাজে একটা অদ্ভুত প্রজন্ম গড়ে উঠছে যারা শুধুই মোবাইল আর টেলিভিশনের স্ক্রিনে চোখ সেঁটে রাখে, যাদের চিন্তা ও বোধের জগতটা সংকীর্ণ হতে হতে হয়ত আবেগশূণ্য-বিবেকশূণ্য একটা অদ্ভুত প্রাণীতে পরিণত হবে। বিবেক ও বোধহীন আবেগ তো মূলত নফসের দাস, সেই অনুভূতির প্রকাশকে আবেগ বলার চাইতে 'খায়েশ' বলাই বোধহয় অধিক যুক্তিযুক্ত। আমরাও বোধহয় তাদেরকে বইগামী করতে পারিনা, আমরা হয়ত চাইও না। সামগ্রিকভাবে আমাদের এই সমাজ কী অপরিসীম ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে তা বোধকরি যে কেউ অনুমান করতে পারবেন। তাদের থাকবে বুকে বুকে ঘৃণা, মানুষকে বুঝে না বুঝে ঘৃণা করা কিন্তু ভালোবাসতে পারে না কাউকে। 'আমি এইটা পছন্দ করি, আমি ঘৃণা করি' -- টাইপের কথা বলতে পারে, অথচ আরেকটা মানুষকে সম্মান আর বিনয় দেখানো পারে না। আরেকটা মানুষকে বুঝতে হলে, তার হয়ে ভাবতে পারাটা একটা নিয়মিত অনুশীলন যেটা বই পাঠ থেকে শেখা যায়। একজন পাঠক প্রতিটি বইতেই অনেকগুলো জীবনকে যাপন করেন। যে কখনো বই পড়েনা, সে একটাই জীবনকে যাপন করে, আর মনের দিক থেকে খুব অসহায় আর দরিদ্র সেই জীবন।

৪ অক্টো, ২০১৩

জীবনের চক্রগুলো থেকে মুক্তি মিলে কেমন করে?

​মনে পড়ে সেই সময়গুলোর কথা, প্রথম চাকুরিতে ঢুকেছি। অসহায় অনভিজ্ঞ যুবকের কাঁধে অনেক দায়িত্ব। অল্প ক'টা টাকা বেতন পাই, কিছুই হয় না সে টাকায়। বাসের লাইনে দাঁড়িয়ে থাকি, হাতল ধরে ঝুলতে ঝুলতে যাতায়াত করি, সকালে বেরিয়ে বাড়ি ফিরি রাতে এশার পরে। চাকুরি জীবনে এসে সপ্তাহের ৬ টি দিনই এই অদ্ভুত চক্রে বাঁধা পড়ে বারবারই মনে হত -- এই জীবন চাইনা, এই জীবনের অর্থ নেই কোন। ফেলে আসা ১৬ বছরের পড়াশোনা যথেষ্টই ঠিকমতন করে এলাম, এরপরেও এই অর্থহীন চক্রে ঘোরার নাম কি জীবন হতে পারে? টাকা টাকা টাকা, ভোগ... অন্যদের বানানো সিস্টেমে আমি একটা কাঁচামালমাত্র। ওরা যেভাবে সব তৈরি করেছে, এভাবেই জীবনকে চালিয়ে দিলে কী অর্থ এই প্রাণের? প্রশ্নগুলো ভেতরে গুমরে মরলেও বলার মতন কেউ ছিলো না। তখনকার ভাবনাগুলোকে এমন গুছিয়ে ছিলো না সেটাও নিশ্চিত।

স্বপ্নগুলো বড় বলে কি মুছে ফেলতে হবে?

মানুষের সাথে মিশে নতুন করে উপলব্ধি করছি, সবার জীবনে স্বপ্ন থাকে। মুখে উচ্চারণ করি বা না করি, স্বীকার করি বা না করি, সবাই কিছু স্বপ্ন বুকে ধারণ করে রাখে। ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র বিষয় থেকে অনেক বড় কিছু করার ইচ্ছা থাকে অনেকের হৃদয়ের মাঝে। যারা আল্লাহকে ভালোবাসেন, তারা আল্লাহ যেমনটি ভালোবাসেন তেমন করেই জীবনকে রাঙ্গাতে চান। মানুষ হিসেবে হয়ত সীমাবদ্ধতা রয়ে যায়, হয়ত স্বপ্নগুলো বড়, সামর্থ্য কম -- তবু হৃদয়ের গভীরে জমে থাকা স্বপ্নগুলো কেন মুছে ফেলতে হবে? যদি তা আল্লাহর অপছন্দনীয় কিছু না হয়, তাহলে তাকে মুছে ফেলার কিছু নেই। হৃদয়কে তিক্ত করারও কিছু নেই। পৃথিবীর সমস্ত ক্ষমতাই কেবলমাত্র আল্লাহর কাছে। কেবলমাত্র তার ইচ্ছাতেই সবকিছু হয়, তার নির্দেশেই প্রতিটি ঘটনা ঘটে।

২৮ সেপ, ২০১৩

আপনার বর্তমান অবস্থানের কারণে গর্ববোধ করবেন না

"পৃথিবীর ক্ষমতাশালী রাজাদের প্রত্যেকেই একসময় কান্নাকাটি করা একটা শিশু ছিলো, প্রতিটি বিশালাকার ভবন একসময় ছিলো কেবলই একটি নকশা। আপনি আজকে কী, সেটা খুব বেশি গুরুত্বপুর্ণ বিষয় নয়; সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ হলো আগামীকাল আপনি কোথায় থাকবেন। কখনো, কোনভাবেই আপনার বর্তমান অবস্থানের কারণে গর্ববোধ করবেন না। ভেবে দেখুন, দাবা খেলা শেষ হবার পরে রাজাকেও কিন্তু সৈন্যের সাথে একই বাক্সে যেতে হয়।"

আল্লাহ যেন পৃথিবী থেকে আমাদের বিদায়ের পরে জান্নাতের বাগানসমূহের একটি বাগানে স্থান করে দেন এবং জাহান্নামের আগুনে দগ্ধ হবার হাত থেকে আমাদেরকে রক্ষা করেন।

[সংগৃহীত; ইংরেজি থেকে অনুবাদকৃত]

যে মানুষটাকে ভালোবাসি তাকে আমাদের অবশ্যই বুঝতে হবে

"যে মানুষটাকে ভালোবাসি, তাকে আমাদের অবশ্যই বুঝতে হবে। আমাদের ভালোবাসা যদি হয় কেবল কাউকে দখল করে রাখার কোন চাওয়া, তাহলে তা ভালোবাসা নয়। আমরা যদি শুধু আমাদেরকে নিয়ে চিন্তা করি, শুধু আমাদের প্রয়োজনগুলোই বুঝি এবং অন্যদের প্রয়োজনকে এড়িয়ে যাই, তাহলে আমরা কখনই ভালোবাসতে পারবো না। যাদের ভালোবাসি তাদের প্রয়োজন, চাওয়া, ভালোলাগা এবং কষ্টগুলো আমাদেরকে অবশ্যই গভীরভাবে খেয়াল করতে। এটাই প্রকৃত ভালোবাসার পথ। আপনি যখন কাউকে সত্যিকার অর্থে বুঝতে পারবেন, তখন তাকে ক্রমাগত ভালোবেসে যাওয়া থেকে আপনি নিজেকে ঠেকাতে পারবেন না।"

[যে গ্রন্থ থেকে অনুবাদ : Peace Is Every Step: The Path of Mindfulness in Everyday Life]

২৬ সেপ, ২০১৩

আমাদের মনের জানালা দিয়ে দেখা


একটা গল্প, কিছু কথা, বলে দেয় অনেক কিছুই...
.....

নববিবাহিত দম্পতি নতুন বাসা নিয়েছে। পরদিন সকালে তারা যখন নাশতা করছিলো, মেয়েটি জানালা দিয়ে পাশের বাড়ির দিকে তাকিয়ে দেখতে পেলো কাপড় শুকাতে দিয়েছে ঘরের কর্ত্রী। সে বলে উঠলো,
- 'কাপড়টা পরিষ্কার হয়নি, ঐ বাসার মহিলা ভালো করে কাপড় ধুতে জানেনা। তার মনে হয় ভালো কোন কাপড় কাচার সাবান দরকার।" মেয়েটির স্বামী সেদিকে তাকালো, কিন্তু নিশ্চুপ রইলো।

যতবারই পাশের বাড়ির মহিলাটি কাপড় শুকাতে দিতো, ততবারই এই মেয়েটি একই মন্তব্য করতো।

মাসখানেক পরে সেই বাড়িতে সুন্দর পরিষ্কার কাপড় শুকানোর জন্য ঝুলতে দেখে মেয়েটি অবাক হয়ে তার স্বামীকে বললো,"দেখো, অবশেষে উনি শিখেছেন কীভাবে ঠিকভাবে কাপড় ধুতে হয়। আমি তো ভাবছি কে তাকে শেখালো!!"
তখন ছেলেটি বলে উঠলো, "শোনো, আজ ভোরে আমি আমাদের জানালার কাঁচ পরিষ্কার করেছি!"

.....

আমাদের জীবনটাও এমনই --

"আমরা কোন কিছু দেখার সময় যা দেখি তা নির্ভর করে আমাদের সেই জানালার পরিচ্ছন্নতার উপর যা দিয়ে আমরা দেখি। কোন সমালোচনা করার আগে আমাদের নিজের মনের অবস্থাটা খেয়াল করে নেয়া প্রয়োজন, নিজেদেরকে প্রশ্ন করা দরকার যে আমরা কি তার মাঝে কোন ভালো দেখতে চাই আদৌ? নাকি মানুষটার দিকে তাকাচ্ছি তার ভুলগুলো খুঁজে পেতে বিচার করবো বলেই।"

সবাই তো পড়লাম... আসুন তা নিজেদেরকে স্মরণ করিয়ে দিই।

[শাইখ যাহির মাহমুদের ফেসবুক পেইজের পোস্ট থেকে ভাষান্তর]

২৪ সেপ, ২০১৩

যদি কিছু ভালো না লাগে, অস্থির লাগে তাহলে কিছু আইডিয়া

কিছু কিছু সময় আছে যখন 'কেন যেন ভালো লাগতেসেনা' টাইপের ফিলিং হয়। বয়ঃসন্ধিকালে যখন এরকম হতো, তখন বইপত্র ঘেঁটে এইটার কারণ উদঘাটন করতে গিয়ে পড়ে নিজেকে বুঝ দিয়েছিলাম যে এখন আসলে শরীর-মনে পরিবর্তন আসছে তাই একটু মন খারাপ/উদাস হতেই পারে। সমস্যা সমাধান হয়নি, বরং সময়ের সাথে সাথে প্রকট হয়েছিলো। ভার্সিটি লাইফে উপলব্ধি করলাম হল জীবনটা হলো সুতোকাটা ঘুড়ির মতন, এখানে 'কী যেন নেই' অনুভূতি আরো বেড়ে গিয়েছিলো। আশেপাশে সবাইকে দেখে টের পেতাম, এরকম অনুভূতিকে খুব কম ছেলেই আলাদা ধরতে পারত, কিন্তু পালিয়ে বাঁচতে তাস খেলা, কম্পিউটার গেমস, মুভি দেখা টাইপের অর্থহীন সময় নষ্টের কাজের মাঝেই 'এন্টারটেইনমেন্ট' খুঁজে নিতো, কিন্তু কখনই অন্তরের শূণ্যতা দূর করতে পারত না কেউ। মনের সাথে সামনে দাঁড়িয়ে বোঝাপড়া করার সাহসটাই বেশিরভাগ মানুষের থাকে না, মনকে তখন 'চিন্তা এড়িয়ে' যেতে দেয় সবাই। সমস্যার সমাধান তখন আর হয়না ।

প্রেম করা এবং ছ্যাঁকা খাওয়া জীবনগুলোর কথা

ভার্সিটি জীবনে অনেককে 'ছ্যাঁকা' খায়। ছ্যাকার আগে তো প্রেম হতে হয় -- আমাদের সময়ের বেশিরভাগ প্রেমের সূত্রপাত ছিলো কলেজ লাইফের কোচিং সেন্টারগুলোতে, নইলে কলেজে পড়ার সময় কোন এক 'কাজিনের বান্ধবী' টাইপের জায়গা থেকে। অথবা, 'ফোন' নাম্বার পেয়েছিলো কোন বন্ধুর কাছে -- সেই জিনিস থেকে কথা বলতে বলতে প্রেম। কিছুদিন এইসব প্রেম চলে দুর্দান্ত মুডে। ক্লাস থেকে বের হয়েই কানে ফোন নিয়ে হাঁটতে হাঁটতে রুমে ফেরা। সব বন্ধুরা একসাথে হল থেকে বের হয়ে যখন নাশতা করতে বের হয়, তখন 'প্রেমিকরা' কানে ফোন নিয়ে পেছনে থাকত। এই দৃশ্য সার্বজনীন, সকল ভার্সিটিতে, সকল সেমিস্টারের ছেলেপিলেদের মাঝে এখনো এমন দৃশ্য আছে বলে মনে হয় আমার।

ইদানিং দেখতে পাই ঢাকার রাস্তায় ব্যস্ত পথেও কিছু ছেলেমেয়ে ফোনে কথা বলতে বলতে পার হয় এবং তারা কথাতে এতটাই ডুবে থাকে যে খেয়ালই করে না বড় গাড়িগুলোকে, তারা কেবল আল্লাহর প্রচন্ড দয়ার কারণেই দুর্ঘটনা থেকে বেঁচে যায়। এইসব ছেলেমেয়েদের পথচলতে চারপাশের ব্যাপারে উদাসীন অথচ হাসিমুখ দেখে আমার কেন যেন মনে হয় অন্য প্রান্তে বিপরীত লিঙ্গেরই কেউ আছে হয়ত। তাদের মাঝে হারাম সম্পর্কের জোয়ার বইছে, শয়তান তাদের অনুভূতিতে বেশি করে উচ্ছ্বাস মাখিয়ে দিচ্ছে, ফলে এই ভালোবাসার নেশার মাতলামিতে ডুবে থাকছে তারা।আবেগের ভাগাভাগি, কিছু স্বপ্ন আর খুঁনুসুঁটি তো আনন্দেরই বটে! কিন্তু নদীতে তো জোয়ার হলে ভাটাও আসে, অনৈতিক সম্পর্কের উদ্দাম আনন্দের জোয়ার পেরিয়ে প্রেমে ভাটার টান আসে, সে টান তারা সামলাতে পারে না। সে টানে দু'জনাই ভেসে যায়, একদম হারিয়েই যায় বেশিরভাগ সময়েই। এই ভাটারই ফল ছ্যাঁকা খাওয়া। সুস্থ-স্বাভাবিক এক যুবক হতাশা আর উচ্ছন্নতাকে আলিঙ্গন করে নেয় এমন সময়ের পরেই।

আত্মাছেঁড়া কষ্ট

জীবনে কত রকম কষ্টই না হয়! কিছু কিছু কষ্টকে আত্মাছেঁড়া কষ্ট বলা যায়। বুক জ্বলে যায় এমন কষ্টও তো হয়। আসলে, এমন অনুভূতি প্রতিটা মানুষের জীবনেই আছে। সেটা পরিশ্রমের ফল না পাওয়ায় হতে পারে, প্রিয়জনের বিদায়ে হতে পারে, অনাকাংখিত ঘটনা থেকে হতে পারে, আপনজনের বিদায় থেকেও হতে পারে, বড়-ছোট রোগবালাই থেকেও হতে পারে। যেভাবেই হোক, কষ্ট হয়না এমন মানুষ তো আমরা নই।

কিন্তু অদ্ভুত ব্যাপারটা হলো, কষ্টের ফলাফল কিন্তু একেকজন একেক রকম পায়। যে মানুষটা আল্লাহর জন্য জীবনধারণ করে, সে জানে -- আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা এই দুনিয়া ও সৃষ্টিজগতের মালিক। তিনিই এই কষ্টটা দিয়েছেন, সেই তিনিই আমাকে সুস্থ শরীর দিয়েছিলেন, আমার জীবনে রিযিকের ব্যবস্থা করেছিলেন, করছেন। আমাদের হারানোর কিছু নেই, শুধুই প্রাপ্তি। এই কষ্টের মূহুর্তটাতেও যদি সবর করি, ধৈর্যধারণের ফলস্বরূপ তিনি আমাকে দুনিয়া ও আখিরাতে তার পছন্দানুযায়ী এমন দান করবেন যা আমার কল্পনাতীত। সমস্ত সফলতার মালিক কেবলই তিনি। আমার জীবনের উদ্দেশ্যও কেবলই তার সন্তুষ্টি।