ক'দিন আগে রাস্তা দিয়ে হাঁটছিলাম, একটা গান কানে এলো পথের ধার থেকে -- "এর বেশি ভালোবাসা যায়না, ও আমার প্রাণপাখি ময়না"। প্রেমিক লোকের চিৎকার করা আর্তনাদ। এই প্রেমিক গায়ক আবার ভালোবাসার একটা স্কেল আবিষ্কার করেছেন, যার সর্বোচ্চ রেটিং-এর ভালোবাসা তিনি বেসেও ফেলেছেন। সম্ভবত এইটা চেক করে দেখার পর তিনি আরো জোরে চিৎকার করছিলেন, এবং তার সমস্ত চিৎকার তার প্রাণপাখি ময়নার উদ্দেশ্যে হলেও ভুলক্রমে আমার সাথে আরও বহু পথচারীর কর্ণকুহর ফুটো করে দেয়ার উপক্রম করছিলো।
১৫ ফেব, ২০১২
নুমান আলী খান : লক্ষ তরুণের অনুপ্রেরণা
দীর্ঘদিন অযত্নে পড়ে থাকলে শক্তিশালী লোহাতেও মরিচাতে পড়ে ক্ষয়ে যায়।
একজন মুসলমানের ঈমানের যত্ন না নিলে তেমনি ক্কালবের উপরে প্রলেপ পড়ে যায়,
নষ্ট হয়ে যেতে থাকে সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ জিনিস -- আমাদের আত্মা। এই
ব্যাপারটা নিজ জীবনে উপলব্ধি করেছি জীবনে আমি। একটা প্র্যাক্টিসিং মুসলিম
পরিবারে জন্ম নিয়েও পরিবারের বাইরে পড়াশোনা করতে গিয়ে একটা সময় যেন
হারিয়ে গিয়েছিলাম নিজের কাছ থেকেই। কোন কাজেই শান্তি পেতাম না, কোন
কিছুতেই স্বস্তি পেতাম না ।
এমন এক সময়ে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার রাহমাতে ক'জন মানুষের সাথে পরিচয় হয় আমার। সেই সময়টাকে আমি আমার জীবনের "রেঁনেসা" বলে মনে করি। তাদের মাধ্যমে আমি অনলাইনের বিশাল রিসোর্সের খোঁজ পাই। চিনতে পারি আত্মিক জ্ঞানের শিক্ষকদের, আল্লাহর দ্বীন নিয়ে পড়াশোনা করা আর সেই সুন্দরতম জ্ঞানকে ছড়িয়ে দেয়ার মহান কাজে ব্রতী কিছু স্কলারকে। আমার প্রথম উস্তাদ ছিলেন নুমান আলী খান। তারপর ধীরে ধীরে চিনলাম ইমাম সুহাইব ওয়েব, ডক্টর বিলাল ফিলিপস, ইয়াসির ফাজাগা, ইউসুফ এস্তেত, তারিক রামাদান, হামযা ইউসুফ, আবদুল নাসির জান্দা, উয়িসাম শারিফ, খালিদ ইয়াসিন, আসিম আলহাকিম এবং ইয়াসমিন মোজাহেদ এবং আরো অনেককে। আমার ক্ষুদ্র জীবনের ক্ষুদ্র আত্মা এক অন্য দিগন্তের খোঁজ পায় সেদিন থেকে। আল্লাহ তাদের সবাইকে কবুল করে নিন এবং জান্নাতুল ফিরদাউসে তাদের জায়গা বরাদ্দ করে দিন।
উস্তাদ নুমান আলী খানের কথা আলাদা করে না বললেই না। দৈনন্দিন জীবনের অনেক কিছুতে আমার মনে হতো -- এটা কেন এমন, ওটা কেন অমন হয়, কেন এসব এমন হয়না, সবকিছু এরকম কেন হয় টাইপের। আমি নিশ্চিত জানতাম যে এইসবের পরিষ্কার উত্তর আমাদের রব আল্লাহ তা'আলার দেওয়া জীবনবিধানে পরিষ্কারভাবেই আছে। কিন্তু সেগুলো কীভাবে বুঝতে হয়, কীভাবে মনের এই সময়গুলোকে "ডিল" করতে হয় তা জানতাম না। যেহেতু প্রশ্নগুলো দার্শনিক দৃষ্টিভঙ্গির যার সাথে আত্মিক বিশ্বাস যুক্ত -- এমন মানুষ পাইনি যারা অমন প্রশ্নের উত্তর দিতে পারেন। কিন্তু নুমান আলী খানের অল্প কিছুক্ষণের কয়েকটা ভিডিও দেখেছিলাম। আমার মনে জেগে ওঠা সাধারণ ও সমস্যামূলক অনেক জিজ্ঞাসার অসাধারণ সুন্দর সমাধান পেয়েছিলাম তার কথাতে।
আমার জীবনের একটা অভিজ্ঞতা হলো -- সাধারণত কিশোর-তরুণরা গড়ে ওঠার সময়ে দ্বীন-ইসলাম সংক্রান্ত প্রচুর প্রশ্নের সম্মুখীন হই মনে মনে। হতে পারে সেটা পর্দা নিয়ে, কোন ক্রিটিক্যাল প্রশ্ন নিয়ে, ফিকহ অথবা থিওলোজি সংক্রান্ত প্রশ্ন, হয়ত কোন অশ্লীল বিষয়কে কীভাবে ডিল করতে হবে তা নিয়ে, অথবা কীভাবে দান করতে হয়, নিয়্যাত কেমন থাকা উচিত -- এরকম হাজারো প্রশ্নের উত্তর জানতে ইচ্ছে করে। অথচ এই বিশ্বাসী তরুণ-তরুণীরা উত্তর না পেয়ে শেষে ভুল করতে থাকে। একদিন হয়ত তাদের ইচ্ছেটাই হারিয়ে যায়... কুরআনের স্বতঃস্ফূর্ত পড়াশোনা, ইসলামেকে তরুণ প্রজন্মের কাছে সুন্দর করে উপস্থাপনার আয়োজন বাংলাদেশে, আমাদের সমাজে খুবই কম। এই অদ্ভূত অবস্থায় আমার মতন ছেলেদের জন্য অশেষ রাহমাত অনলাইনের রিসোর্সে পাওয়া স্কলাররা -- যারা তরুণ প্রজন্মের সাথে খোলামেলা আলাপ করেন, কীভাবে চিন্তা করতে হবে শেখান, কীভাবে ভাবতে হয় সেটা শেখান। আর সেগুলোর ভিডিও অ্যাভেইলেবল পাওয়া যায় ইন্টারনেটে। বস্তুতঃ হিদায়াতের মালিক তো একমাত্র আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা।
গুরুত্বপূর্ণ লিঙ্কসমূহঃ
ফেসবুক পেইজঃ নুমান আলী খান
লেকচার ডাউনলোড লিঙ্কঃ নুমান আলী খান কালেকশন [অডিও এবং ভিডিও]
ড্রিম তাফসীরের ওয়েবসাইটঃ লিঙ্গুইস্টিক মিরাকল
সমস্ত ভিডিও এখানে পাবেনঃ ইউটিউব লিঙ্ক
নুমান আলী খানের সমস্ত অডিও লেকচার
লেকচার কালেকশন হালাল টিউব চ্যানেল :: নুমান আলী খান
নুমান আলী খান আমার জীবনে পাওয়া সেরা বক্তাদের একজন, যার কথার ভঙ্গি আর শব্দচয়নে আমি মুগ্ধ হয়ে যাই। সুবহানাল্লাহ!! উনি এত সুন্দর করে দ্বীনের বিভিন্ন বিষয়ের ব্যাখ্যা দেন। আমি বিয়ে বিষয়টা নিয়ে সবার মতই বেশি এক্সাইটেড এবং কনফিউজড ছিলাম। যদিও এই সংক্রান্ত বিষয়ে তাফসীরগ্রন্থ পড়েছিলাম কয়েকটা, তাতে অনেক বিষয় ছিলো আলোচনায় -- কিন্তু সেই জিনিসগুলোকে মাথায় নিয়ে আসলে কীভাবে চিন্তা করতে হবে আমার প্রতিদিনের জীবনে সেটা ভেবে পাচ্ছিলাম না বা বুঝতে পারছিলাম না। নুমান আলী খানের হেলদি ম্যারেজ একটা অসাধারণ আলোচনা। আমি অনেকবার শুনেছিলাম এবং আমার প্রাথমিক ধারণাটা আলহামদুলিল্লাহ পরিষ্কার হয়ে যায় -- কী কর্তব্য, কী দ্বায়িত্ব একটি পারিবারিক জীবনে।
উস্তাদ নুমান আলী খানের বক্তব্যের সুন্দর দিক হলো, তিনি সাধারণ আর সরল ভাষায় তরুণদের বোধগম্য হবার মতন করে বিষয়গুলো আলোচনা করেন। আমি দেখেছি, আলহামদুলিল্লাহ একেকটা লেকচার শোনার পর আমার মধ্যে ওই বিষয়ক খটকা এবং প্রশ্ন থাকেনা এবং পালন করার ব্যাপারে সন্দেহ আর অজুহাত থাকেনা। হয়ত এইটুকু বুঝতে হলে আমাকে পৃষ্ঠার পর পৃষ্ঠা পড়তে হতো। আলোচনা শোনার অর্থ পড়াশোনা কমিয়ে দেয়া নয়, পড়াশোনা তো আমাদের আবশ্যকীয় দ্বায়িত্ব। কিন্তু মুমিনদের সাথে দ্বীন নিয়ে আলোচনা আমাদের জন্য কল্যাণকর হয়, বোধকে সুন্দর করে, ঈমানকে সুদৃঢ় করে।
নুমান আলী খানের ইসলাম এবং ইগো ভিডিও লেকচারটিকে বর্তমানকালের সেরা ১০ টি ভিডিওর একটি হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে জনপ্রিয় ওয়েবসাইট মুসলিমম্যাটারস । এছাড়াও এই সরল, সাদামাটা, হাস্যোজ্বল লোকটার আলোচনা বিশ্বজুড়ে তরুণদের ইসলামের জন্য উদ্বোধিত করে, অনুপ্রাণিত করে, আগ্রহী করে দ্বীনের প্রতি। বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মও ব্যতিক্রম নয়। বর্তমানে তিনি DREAM নামের তাফসীর কোর্স নিয়ে সম্পূর্ণ সময় দিচ্ছেন। এই তাফসীর কোর্সের অসাধারণ দিক হলো কুরআনুল কারীমের শাব্দিক অলংকার আর ব্যবহারের অনুপম সৌন্দর্য পরিষ্কার হয় আমাদের কাছে। নুমান আলী খানকে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন যেই সুন্দর যোগ্যতা দিয়েছেন, তার একটা প্রয়াস এই তাফসীর কন্টেন্টগুলো। আল্লাহ উস্তাদ নুমান আলী খানকে কবুল করুন, তার যোগ্যতা আরো বাড়িয়ে দিন, তার মাধ্যমে দ্বীনের দাওয়াতকে আরো ছড়িয়ে দিন বিশ্বের এক প্রান্তর থেকে অন্য প্রান্তরে।
নুমান আলী খানের বায়োগ্রাফিঃ
নুমান আলী খান একজন মুসলিম দা’ঈ । কুরআনের জ্ঞানে তার অসাধারণ গভীরতা এবং সুন্দর উপস্থাপনা শৈলীর কারণে সমগ্র বিশ্বের তরুণ প্রজন্মের কাছে তিনি অত্যন্ত জনপ্রিয় একজন ব্যক্তিত্ব। বাংলাদেশ এবং বাংলাভাষাভাষী অনেক ইসলাম অনুরাগী তরুণ প্রজন্ম তার অসাধারণ আলোচনা থেকে উপকৃত হচ্ছে নিয়মিত। নুমান আলী খান যুক্তরাস্ট্রে অবস্থিত বাইয়্যিনাহ ইনস্টিটিউট [ওয়েবসাইট] নামক একটি আরবি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের CEO এবং প্রতিষ্ঠাতা। বায়্যিনাহ এর কোর্স "ফান্ডামেনটালস অফ ক্লাসিক্যাল এরাবিক" এবং "ডিভাইন স্পিচ" এর প্রধান বক্তা।
আরবি ভাষার উপরে তার শিক্ষাজীবন শুরু হয় সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে। যেখানে তিনি তার প্রাথমিক পর্যায়ের শিক্ষা সম্পন্ন করেন। তিনি আরবি ব্যাকরণ শিখেন পাকিস্তানে। সেখানে তিনি ১৯৯৩ সালে অনুষ্ঠিত পরীক্ষায় জাতীয় পর্যায়ের মেধাতালিকায় প্রথম ১০ জনের মধ্যে স্থান দখল করেন। কিন্তু আরবিতে তার গভীর পড়াশোনা শুরু হয় ১৯৯৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রে ডক্টর আব্দুস সামি এর তত্বাবধানে। ডক্টর আব্দুস সামি পাকিস্তানের ফয়্সালাবাদের কুরআন কলেজের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ যিনি মাঝে মাঝে আমেরিকাতে যেতেন আরবি শিক্ষা এবং কুরঅনের তাফসিরের উপরে গভীরতাপূর্ণ বক্তব্য রাখতে। তার অধীনে পড়াশুনায় নুমান আলী খান আরবি ভাষা ও ব্যাকরণের উপরে তীক্ষ্ম এবং গভীর জ্ঞান অর্জন করেন। তিনি পরবর্তীতে ডক্টর আব্দুস সামির কাছে আরো উপকৃত হন তার সম্পূর্ণ শিক্ষাদান পদ্ধতিকে আত্মস্থ করে, তিনি ডক্টর সামির করা কাজগুলোকে ইংরেজিতে অনুবাদ করেন তার নিজের ছাত্রদের উপকারের জন্য।
তিনি ১৯৯৯ সাল থেকে যুক্তরাস্ট্রে আধুনিক এবং ক্লাসিক্যাল আরবি শিক্ষাদান শুরু করেন। ২০০৬ সাল পর্যন্ত ৭ বছর ধরে নুমান আলী খান নাসাউ কমিউনিটি কলেজে মডার্ন শিক্ষকতা করেন। সেখানে তিনি "মডার্ন স্ট্যান্ডার্ড অ্যান্ড ক্লাসিক্যাল অ্যারাবিক" শেখান দেশজুড়ে। তিনি মূলত তার দাওয়াত প্রচার করে থাকেন ভিডিও বক্তৃতার মাধ্যমে। তিনি ICNA আয়োজিত কনভেনশনে নিয়মিত বক্তব্য দিয়ে থাকেন। নুমান আলী খান ইসলামের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন -- জীবন, পরিবার এবং ইসলামী মূল্যবোধের উপরে তিনি আলোকপাত করে থাকেন।
বর্তমানে তিনি সম্পূর্ণভাবে মনোনিবেশ করেছেন বিভিন্ন জায়গায় ১০ হাজারেরও বেশি ছাত্রছাত্রীকে নিয়ে সাত বছরের বড় একটি প্রজেক্টে। এই প্রজেক্টে কুরআনের শাব্দিক শৈল্পিক সৌন্দর্যকে মূল ধরে ইংরেজিতে তাফসির সিরিজ করা হচ্ছে, যার নাম DREAM প্রোগ্রাম। এই তাফসীর সিরিজের বিভিন্ন কন্টেন্ট রেকর্ডিং Linguistic Miracle ওয়েবসাইটটিতে ওয়ার্ড ডকুমেন্ট এবং অডিও ফরম্যাটে পাওয়া যাচ্ছে।
# তথ্যসূত্রঃ উইকিপিডিয়া বাইয়্যিনাহ ডট কম
এমন এক সময়ে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার রাহমাতে ক'জন মানুষের সাথে পরিচয় হয় আমার। সেই সময়টাকে আমি আমার জীবনের "রেঁনেসা" বলে মনে করি। তাদের মাধ্যমে আমি অনলাইনের বিশাল রিসোর্সের খোঁজ পাই। চিনতে পারি আত্মিক জ্ঞানের শিক্ষকদের, আল্লাহর দ্বীন নিয়ে পড়াশোনা করা আর সেই সুন্দরতম জ্ঞানকে ছড়িয়ে দেয়ার মহান কাজে ব্রতী কিছু স্কলারকে। আমার প্রথম উস্তাদ ছিলেন নুমান আলী খান। তারপর ধীরে ধীরে চিনলাম ইমাম সুহাইব ওয়েব, ডক্টর বিলাল ফিলিপস, ইয়াসির ফাজাগা, ইউসুফ এস্তেত, তারিক রামাদান, হামযা ইউসুফ, আবদুল নাসির জান্দা, উয়িসাম শারিফ, খালিদ ইয়াসিন, আসিম আলহাকিম এবং ইয়াসমিন মোজাহেদ এবং আরো অনেককে। আমার ক্ষুদ্র জীবনের ক্ষুদ্র আত্মা এক অন্য দিগন্তের খোঁজ পায় সেদিন থেকে। আল্লাহ তাদের সবাইকে কবুল করে নিন এবং জান্নাতুল ফিরদাউসে তাদের জায়গা বরাদ্দ করে দিন।
উস্তাদ নুমান আলী খানের কথা আলাদা করে না বললেই না। দৈনন্দিন জীবনের অনেক কিছুতে আমার মনে হতো -- এটা কেন এমন, ওটা কেন অমন হয়, কেন এসব এমন হয়না, সবকিছু এরকম কেন হয় টাইপের। আমি নিশ্চিত জানতাম যে এইসবের পরিষ্কার উত্তর আমাদের রব আল্লাহ তা'আলার দেওয়া জীবনবিধানে পরিষ্কারভাবেই আছে। কিন্তু সেগুলো কীভাবে বুঝতে হয়, কীভাবে মনের এই সময়গুলোকে "ডিল" করতে হয় তা জানতাম না। যেহেতু প্রশ্নগুলো দার্শনিক দৃষ্টিভঙ্গির যার সাথে আত্মিক বিশ্বাস যুক্ত -- এমন মানুষ পাইনি যারা অমন প্রশ্নের উত্তর দিতে পারেন। কিন্তু নুমান আলী খানের অল্প কিছুক্ষণের কয়েকটা ভিডিও দেখেছিলাম। আমার মনে জেগে ওঠা সাধারণ ও সমস্যামূলক অনেক জিজ্ঞাসার অসাধারণ সুন্দর সমাধান পেয়েছিলাম তার কথাতে।
আমার জীবনের একটা অভিজ্ঞতা হলো -- সাধারণত কিশোর-তরুণরা গড়ে ওঠার সময়ে দ্বীন-ইসলাম সংক্রান্ত প্রচুর প্রশ্নের সম্মুখীন হই মনে মনে। হতে পারে সেটা পর্দা নিয়ে, কোন ক্রিটিক্যাল প্রশ্ন নিয়ে, ফিকহ অথবা থিওলোজি সংক্রান্ত প্রশ্ন, হয়ত কোন অশ্লীল বিষয়কে কীভাবে ডিল করতে হবে তা নিয়ে, অথবা কীভাবে দান করতে হয়, নিয়্যাত কেমন থাকা উচিত -- এরকম হাজারো প্রশ্নের উত্তর জানতে ইচ্ছে করে। অথচ এই বিশ্বাসী তরুণ-তরুণীরা উত্তর না পেয়ে শেষে ভুল করতে থাকে। একদিন হয়ত তাদের ইচ্ছেটাই হারিয়ে যায়... কুরআনের স্বতঃস্ফূর্ত পড়াশোনা, ইসলামেকে তরুণ প্রজন্মের কাছে সুন্দর করে উপস্থাপনার আয়োজন বাংলাদেশে, আমাদের সমাজে খুবই কম। এই অদ্ভূত অবস্থায় আমার মতন ছেলেদের জন্য অশেষ রাহমাত অনলাইনের রিসোর্সে পাওয়া স্কলাররা -- যারা তরুণ প্রজন্মের সাথে খোলামেলা আলাপ করেন, কীভাবে চিন্তা করতে হবে শেখান, কীভাবে ভাবতে হয় সেটা শেখান। আর সেগুলোর ভিডিও অ্যাভেইলেবল পাওয়া যায় ইন্টারনেটে। বস্তুতঃ হিদায়াতের মালিক তো একমাত্র আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা।
গুরুত্বপূর্ণ লিঙ্কসমূহঃ
ফেসবুক পেইজঃ নুমান আলী খান
লেকচার ডাউনলোড লিঙ্কঃ নুমান আলী খান কালেকশন [অডিও এবং ভিডিও]
ড্রিম তাফসীরের ওয়েবসাইটঃ লিঙ্গুইস্টিক মিরাকল
সমস্ত ভিডিও এখানে পাবেনঃ ইউটিউব লিঙ্ক
নুমান আলী খানের সমস্ত অডিও লেকচার
লেকচার কালেকশন হালাল টিউব চ্যানেল :: নুমান আলী খান
নুমান আলী খান আমার জীবনে পাওয়া সেরা বক্তাদের একজন, যার কথার ভঙ্গি আর শব্দচয়নে আমি মুগ্ধ হয়ে যাই। সুবহানাল্লাহ!! উনি এত সুন্দর করে দ্বীনের বিভিন্ন বিষয়ের ব্যাখ্যা দেন। আমি বিয়ে বিষয়টা নিয়ে সবার মতই বেশি এক্সাইটেড এবং কনফিউজড ছিলাম। যদিও এই সংক্রান্ত বিষয়ে তাফসীরগ্রন্থ পড়েছিলাম কয়েকটা, তাতে অনেক বিষয় ছিলো আলোচনায় -- কিন্তু সেই জিনিসগুলোকে মাথায় নিয়ে আসলে কীভাবে চিন্তা করতে হবে আমার প্রতিদিনের জীবনে সেটা ভেবে পাচ্ছিলাম না বা বুঝতে পারছিলাম না। নুমান আলী খানের হেলদি ম্যারেজ একটা অসাধারণ আলোচনা। আমি অনেকবার শুনেছিলাম এবং আমার প্রাথমিক ধারণাটা আলহামদুলিল্লাহ পরিষ্কার হয়ে যায় -- কী কর্তব্য, কী দ্বায়িত্ব একটি পারিবারিক জীবনে।
উস্তাদ নুমান আলী খানের বক্তব্যের সুন্দর দিক হলো, তিনি সাধারণ আর সরল ভাষায় তরুণদের বোধগম্য হবার মতন করে বিষয়গুলো আলোচনা করেন। আমি দেখেছি, আলহামদুলিল্লাহ একেকটা লেকচার শোনার পর আমার মধ্যে ওই বিষয়ক খটকা এবং প্রশ্ন থাকেনা এবং পালন করার ব্যাপারে সন্দেহ আর অজুহাত থাকেনা। হয়ত এইটুকু বুঝতে হলে আমাকে পৃষ্ঠার পর পৃষ্ঠা পড়তে হতো। আলোচনা শোনার অর্থ পড়াশোনা কমিয়ে দেয়া নয়, পড়াশোনা তো আমাদের আবশ্যকীয় দ্বায়িত্ব। কিন্তু মুমিনদের সাথে দ্বীন নিয়ে আলোচনা আমাদের জন্য কল্যাণকর হয়, বোধকে সুন্দর করে, ঈমানকে সুদৃঢ় করে।
নুমান আলী খানের ইসলাম এবং ইগো ভিডিও লেকচারটিকে বর্তমানকালের সেরা ১০ টি ভিডিওর একটি হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে জনপ্রিয় ওয়েবসাইট মুসলিমম্যাটারস । এছাড়াও এই সরল, সাদামাটা, হাস্যোজ্বল লোকটার আলোচনা বিশ্বজুড়ে তরুণদের ইসলামের জন্য উদ্বোধিত করে, অনুপ্রাণিত করে, আগ্রহী করে দ্বীনের প্রতি। বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মও ব্যতিক্রম নয়। বর্তমানে তিনি DREAM নামের তাফসীর কোর্স নিয়ে সম্পূর্ণ সময় দিচ্ছেন। এই তাফসীর কোর্সের অসাধারণ দিক হলো কুরআনুল কারীমের শাব্দিক অলংকার আর ব্যবহারের অনুপম সৌন্দর্য পরিষ্কার হয় আমাদের কাছে। নুমান আলী খানকে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন যেই সুন্দর যোগ্যতা দিয়েছেন, তার একটা প্রয়াস এই তাফসীর কন্টেন্টগুলো। আল্লাহ উস্তাদ নুমান আলী খানকে কবুল করুন, তার যোগ্যতা আরো বাড়িয়ে দিন, তার মাধ্যমে দ্বীনের দাওয়াতকে আরো ছড়িয়ে দিন বিশ্বের এক প্রান্তর থেকে অন্য প্রান্তরে।
নুমান আলী খানের বায়োগ্রাফিঃ
নুমান আলী খান একজন মুসলিম দা’ঈ । কুরআনের জ্ঞানে তার অসাধারণ গভীরতা এবং সুন্দর উপস্থাপনা শৈলীর কারণে সমগ্র বিশ্বের তরুণ প্রজন্মের কাছে তিনি অত্যন্ত জনপ্রিয় একজন ব্যক্তিত্ব। বাংলাদেশ এবং বাংলাভাষাভাষী অনেক ইসলাম অনুরাগী তরুণ প্রজন্ম তার অসাধারণ আলোচনা থেকে উপকৃত হচ্ছে নিয়মিত। নুমান আলী খান যুক্তরাস্ট্রে অবস্থিত বাইয়্যিনাহ ইনস্টিটিউট [ওয়েবসাইট] নামক একটি আরবি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের CEO এবং প্রতিষ্ঠাতা। বায়্যিনাহ এর কোর্স "ফান্ডামেনটালস অফ ক্লাসিক্যাল এরাবিক" এবং "ডিভাইন স্পিচ" এর প্রধান বক্তা।
আরবি ভাষার উপরে তার শিক্ষাজীবন শুরু হয় সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে। যেখানে তিনি তার প্রাথমিক পর্যায়ের শিক্ষা সম্পন্ন করেন। তিনি আরবি ব্যাকরণ শিখেন পাকিস্তানে। সেখানে তিনি ১৯৯৩ সালে অনুষ্ঠিত পরীক্ষায় জাতীয় পর্যায়ের মেধাতালিকায় প্রথম ১০ জনের মধ্যে স্থান দখল করেন। কিন্তু আরবিতে তার গভীর পড়াশোনা শুরু হয় ১৯৯৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রে ডক্টর আব্দুস সামি এর তত্বাবধানে। ডক্টর আব্দুস সামি পাকিস্তানের ফয়্সালাবাদের কুরআন কলেজের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ যিনি মাঝে মাঝে আমেরিকাতে যেতেন আরবি শিক্ষা এবং কুরঅনের তাফসিরের উপরে গভীরতাপূর্ণ বক্তব্য রাখতে। তার অধীনে পড়াশুনায় নুমান আলী খান আরবি ভাষা ও ব্যাকরণের উপরে তীক্ষ্ম এবং গভীর জ্ঞান অর্জন করেন। তিনি পরবর্তীতে ডক্টর আব্দুস সামির কাছে আরো উপকৃত হন তার সম্পূর্ণ শিক্ষাদান পদ্ধতিকে আত্মস্থ করে, তিনি ডক্টর সামির করা কাজগুলোকে ইংরেজিতে অনুবাদ করেন তার নিজের ছাত্রদের উপকারের জন্য।
তিনি ১৯৯৯ সাল থেকে যুক্তরাস্ট্রে আধুনিক এবং ক্লাসিক্যাল আরবি শিক্ষাদান শুরু করেন। ২০০৬ সাল পর্যন্ত ৭ বছর ধরে নুমান আলী খান নাসাউ কমিউনিটি কলেজে মডার্ন শিক্ষকতা করেন। সেখানে তিনি "মডার্ন স্ট্যান্ডার্ড অ্যান্ড ক্লাসিক্যাল অ্যারাবিক" শেখান দেশজুড়ে। তিনি মূলত তার দাওয়াত প্রচার করে থাকেন ভিডিও বক্তৃতার মাধ্যমে। তিনি ICNA আয়োজিত কনভেনশনে নিয়মিত বক্তব্য দিয়ে থাকেন। নুমান আলী খান ইসলামের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন -- জীবন, পরিবার এবং ইসলামী মূল্যবোধের উপরে তিনি আলোকপাত করে থাকেন।
বর্তমানে তিনি সম্পূর্ণভাবে মনোনিবেশ করেছেন বিভিন্ন জায়গায় ১০ হাজারেরও বেশি ছাত্রছাত্রীকে নিয়ে সাত বছরের বড় একটি প্রজেক্টে। এই প্রজেক্টে কুরআনের শাব্দিক শৈল্পিক সৌন্দর্যকে মূল ধরে ইংরেজিতে তাফসির সিরিজ করা হচ্ছে, যার নাম DREAM প্রোগ্রাম। এই তাফসীর সিরিজের বিভিন্ন কন্টেন্ট রেকর্ডিং Linguistic Miracle ওয়েবসাইটটিতে ওয়ার্ড ডকুমেন্ট এবং অডিও ফরম্যাটে পাওয়া যাচ্ছে।
# তথ্যসূত্রঃ উইকিপিডিয়া বাইয়্যিনাহ ডট কম
১১ ফেব, ২০১২
এখনো বাতাস বইছে চারিধারে
এখনো বাতাস বইছে চারিধারে, আজো দিন শেষে রাত নেমেছে ।
অথচ ওযুর পানির রঙ লাল যেন হয়ে ঝরছিলো -- উষ্ণ রক্তের মতন
মুয়াজ্জিনের আজানের ধ্বনি বুক কাঁপিয়ে দেয় হঠাৎ
ইমামের অশ্রুভেজা চোখের তিলাওয়াত কানে ভেসে আসে যেন
"আর যারা আল্লাহর রাস্তায় নিহত হয়, তাদের মৃত বলো না,
বরং তারা জীবিত, কিন্তু তোমরা তা বুঝো না। "
অথচ ওযুর পানির রঙ লাল যেন হয়ে ঝরছিলো -- উষ্ণ রক্তের মতন
মুয়াজ্জিনের আজানের ধ্বনি বুক কাঁপিয়ে দেয় হঠাৎ
ইমামের অশ্রুভেজা চোখের তিলাওয়াত কানে ভেসে আসে যেন
"আর যারা আল্লাহর রাস্তায় নিহত হয়, তাদের মৃত বলো না,
বরং তারা জীবিত, কিন্তু তোমরা তা বুঝো না। "
৩ ফেব, ২০১২
এই জীবন, ভালোবাসা আর ফেলে আসা সময়েরা
অদ্ভূত একটা সময়ে বেঁচে আছি। কাগজের উপরে ২০১২ সাল লিখতে গেলে হাতে কেমন যেন বেঁধে যায়। দু'হাজার বছর পেরিয়ে আরেকটা যুগ কেটে যাচ্ছে হযরত ঈসা আলাইহিস সালাম চলে যাবার পরে। আজ থেকে পনের'শত বছর আগে চলে গেছেন পৃথিবীর সবচাইতে সুন্দর চরিত্রের মানুষটি। হয়ত হাজার-কোটি বছরের আগের এই পৃথিবী -- তার একটা আবশ্যকীয় ধ্বংসের নিশ্চিত বারতা ছিলো নবীকরীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বিদায়ের মাঝেই।
এরপর আরো কতকিছুর ইতিহাস! মিশরের ফারাওদের পিরামিডগুলোর ছবি দেখছিলাম সেদিন একটা ওয়েবসাইটে, দেখছিলাম সেই ফিরাউন 'নেমেসিস' এর মৃতদেহটার চিত্র। বনী ইসরাইল জাতিগোষ্ঠীর মাঝে কত যে নবী এসেছিলেন আল্লাহর দ্বীনের দাওয়াহ প্রচারের জন্য! হযরত মুসা আলাইহিস সালাম এবং হযরত হারুন আলাইহিস সালামের পরেই শেষ হয়ে যায় প্রবল প্রতাপশালী ফিরাউন এর "খোদায়ী"। তাদের ইতিহাসটা জানতে আগ্রহী হয়েছিলাম পবিত্র কুরআনুল কারীম তিলাওয়াতের সময় বারবার "ইয়া বানী ইসরাইল" আসে বলে...
পিরামিড কীভাবে বানিয়েছিলো, কীভাবে অত বছর আগে এতগুলো মৃতদেহকে 'মমি' করে রেখে দিয়েছিলো ফারাওরা -- সেই রহস্য আজো উন্মোচিত হলো না আমাদের এই 'ড্রোন হামলার' যুগেও। সেই ক্ষমতাশালী রাজারাও হারিয়ে গেছে... কোথায় হারালো তারা? মৃত্যুর কাছেই। যেখানে এই জগতের সমস্ত প্রাণের একটাই নিশ্চয়তা আছে -- সেটা হলো মৃত্যু।
আচ্ছা, ইতালির পম্পেই নগরীতে কী হয়েছিলো? আগ্নেয়গিরির অগ্নুৎপাত না? পুরো নগরীটাই হারিয়ে গিয়েছিলো সেই উত্তপ্ত লাভাতে। ভষ্মীভূত হয়ে গিয়েছিলো একটা রঙ্গিন শিল্পকলার নগরী। পিসার হেলানো মিনারের মতন আর কিছু কেন আর কেউ হেলাতে পারলো না? এখনো কেন সবাই যখন উঁচু উঁচু টাওয়ার বানাচ্ছে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং এর প্রবল প্রযুক্তিতে তখনো সেই সহস্র বছর আগেকার হারিয়ে যাওয়া সভ্যতাগুলোকে কেন বুড়ো আঙ্গুল দেখানো যাচ্ছেনা?
আমার কাছে অনুভব হয় -- আমরা যেমন আইফোন, আইপ্যাড আর স্মার্টফোনের যুগে আঙ্গুলের স্পর্শে কল করে, ছবি তুলে, ফেসবুকে স্ট্যাটাস আপডেট করে 'কানেক্টেড' থেকে 'কমিউনিকেট' করে নিজেদের স্মার্ট মনে করছি -- অমন স্মার্ট সভ্যতা এই পৃথিবী হাজার হাজার পেয়েছে। আমরা খালি একটা সময়কে অতিক্রম করছি। ঘুরে ফিরে এই জীবনধারণে একটা গুগল ও মাইক্রোসফটের প্রোগ্র্যামার হওয়াতে, ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোতে উঁচু বেতনের চাকুরি করার কৃতিত্ব আসলে গর্বিত হবার এমন কিছু না যা কিনা কোটি বছরের এই পৃথিবীর সমুদ্রসমান ইতিহাসে জায়গা পাবার একটা ফোঁটা জল হতে পারে!!
আমরা এতই ক্ষুদ্র একেকটা স্বত্ত্বা। তবে হ্যাঁ, এরই মাঝে সফলতাও আছে। দেখা যায়না! আমার পাশের বাড়ির টিনের চালার ঘরে বড় হওয়া করিম আর সামনের দিকের অ্যাপার্টমেন্টের ন্যান্সী আপুর ভাই এরিক -- এই দু'জনের জীবনে জন্মের আকাশ-পাতাল ব্যবধান। তাতে কারো কোন ক্রেডিট নাই। করিম, এরিকদের সাথে আম্রিকাতে জন্ম নেয়া জাস্টিন বিবার আর সিডনির মাইকেলের জন্ম আর জীবনধারণের উপকরণ আর পরিবেশে আকাশ-পাতাল পার্থক্য। আবার এই মার্কিন ও ইংরেজ হিসেবে জন্মানো জাস্টিন বিবার আর এমা ওয়াটসনদের তুলনায় সেই ফারাওদের রাজপ্রাসাদের খেনশা ও খুফুদের জীবন খুব খারাপ ছিলোনা। তাদের ছিলো অবারিত রাজ্যক্ষমতা আর বিশাল এলাকার রাজত্ব -- অসামান্য প্রযুক্তি -জ্যোতির্বিজ্ঞান -শিল্পকলা।
তাহলে সফলতা কোনটা? আইফোন, ম্যাকবুক, মজার বিছানা, হিপহপ গান শুনে নিজেকে স্মার্ট ভাবা, জোশিলা বয়ফ্রেন্ড আর খুউল গার্লফ্রেন্ড থাকা, ব্যাটে/জিপিতে অথবা মাইক্রোসফটে চাকুরি করে বিশাল টাকা ঘরে আনা? এই টাইপেরই স্মার্ট মানুষ এই জগতে আরো শতকোটি ছিলো। কিন্তু খুব কম জনই আসলে সফল। এই জীবন কেন -- এই প্রশ্নের উত্তরে কেউই আসলে ভাবতে চায়নি। নিজেদের ভাবনাদের মাটিচাপা দিয়ে আবার ফিরে যাওয়া শরীরের চাওয়ার কাছেই...
ডাক্তার হয়ে, ইঞ্জিনিয়ার হয়ে, বিশাল বাড়ি-গাড়ি করে, অনেক টাকার ব্যাংক-ব্যালেন্স করে, পার্লারে গিয়ে চুলস্ট্রেইট-রিবন্ডিং-ম্যানিকিউর-পেডিকিউর করে, চুলে জেল লাগিয়ে স্পাইক করে দামী পার্ফিউম লাগিয়ে নতুন লেটেস্ট মডেলের বাইকে ভুমভুম করে রাস্তা কাঁপানোতে? এগুলো আসলে কোন সফলতা না। সফলতা আসলে সেই মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলার দাসত্ব করাতে -- যেই আল্লাহর দাসত্ব করা এই পৃথিবীর প্রথম মানুষ আদম আলাইহিস সালাম তার জীবনসঙ্গিনী হযরত হাওয়াকে নিয়ে দু'জন মিলে ছিলেন কেবল তখনো একমাত্র কাজ ছিলো। ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র মানুষ আমরা -- একটা ভূমিকম্প, একটা সুনামি আমাদেরকে ভাসিয়ে গ্রাস করে দেয়। আমাদের এই দুনিয়া অনন্ত জগতের আখিরাতের শস্যক্ষেত্র। যেই অনন্ত জগতের শুরুতেই আমার পৃথিবীতে আমি যতটুকুই সুবিধা পেয়েছি তার অনুপাতেই বিচার হবে -- বিচারক হবেন মহাবিশ্বের অধিপতি আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা। যিনি সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম জিনিসেরও নিপুণ বিচার করবেন।
আল্লাহ রাব্বুল আলামীন আমাদের সবারই সমান আপন। সৌদিতে জন্ম নেয়া পবিত্র কাবার খতীবের যতটা কাছে তিনি, সেনেগালের আব্দুল্লাহ নামের ছেলেটাই হোক, উইসকনসিনের ইয়াসমিন হোক, ঢাকার তানভীরই হোক, মিশরের নুসাইবা হোক -- সবারই তিনি সমান আপন, একটুও পার্থক্য নাই। গায়ের রঙ-বংশ-বর্ণ-গোত্র-সময়-সম্পদ-জ্ঞান সবকিছুর উর্ধে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন আমাদের প্রিয়তম, অন্তরতম, আপনতম। জীবনের প্রতিটি ক্ষণ আমাদের সবারই সমান স্কেলে মূল্যায়ন হবে উনার কাছে। আল্লাহ শুধু দেখবেন অন্তরের আর্তিগুলো, জীবনে পাওয়া সময়ে তার নির্দেশ পালনের প্রতি ভালোবাসাটুকু, তার স্মরণে চোখের পানিগুলো -- এটাই না জীবন!! সব সংকীর্ণতা,শংকার উর্ধে অর্থপূর্ণ জীবন আমাদের সবারই!
এই অল্প ক'টি বছরের এই জীবনের পাওয়া না পাওয়া নিয়ে ব্যস্ত হয়ে দুঃখী হলে কি চলে? যেদিন জান্নাতে সুন্দর লেকের উপরে বয়ে যাওয়া রাস্তা দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে হয়ত দেখা হবে হযরত ইদ্রিসের সাথে, হযরত আবু বকরের সাথে, হয়ত আমাদের আব্বু-আম্মুর সাথে, হযরত আসিয়া আর হযরত ফাতিমাদের সাথে , আর আমাদের জীবনে পাওয়া প্রিয় ভাই-বোন-বন্ধুদের সাথে -- সেদিন অনুভব করতে পারবো আমাদের জীবনটা কতটা সুন্দর ছিলো, ছিলো অর্থপূর্ণ! "দুনিয়া আখিরাতের শস্যক্ষেত্র" -- আমরা জানি বলেই তো চারা বুনেছি ঈমান দিয়ে এই বুকে। পানি দিয়ে উর্বর করবো আমল দিয়ে, যখন নিড়ানি দিবো তখন কষ্ট হয়ে যাবে বুকের উপর ; যন্ত্রণা হবে। আবার যত্ন নেবো ঈমানের, আমলের। ভালোবাসবো আল্লাহকে, নবীদেরকে, আব্বা-আম্মাকে, আর তাদেরকে যারা আল্লাহকে ভালোবাসেন। ফল তো আজকে না -- এই শস্যের চালান আমরা রিসিভ করবো ইয়াওমুল কিয়ামাহ তে গিয়ে।
আমাদের রব, বিশ্বজাহানের প্রতিপালক, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা আমাদের ঈমানকে শক্তিশালী করে দিন, আমাদেরকে তিনি সিরাতাল মুস্তাকীমের পথ দেখান, আমাদের মুসলিম উম্মাহকে একই পতাকাতলে আসার তাওফিক দান করুন, আমাদেরকে আল্লাহ ও তার রাসূলকে সবার চাইতে ভালোবাসার এবং তাদের নির্দেশিকা অনুযায়ী দুনিয়ার জীবন পরিচালনা করে অনন্ত জগতে সফলদের দলে অন্তর্ভুক্ত হবার যোগ্য করে দিন।
ফেব্রুয়ারি ২০১২
এরপর আরো কতকিছুর ইতিহাস! মিশরের ফারাওদের পিরামিডগুলোর ছবি দেখছিলাম সেদিন একটা ওয়েবসাইটে, দেখছিলাম সেই ফিরাউন 'নেমেসিস' এর মৃতদেহটার চিত্র। বনী ইসরাইল জাতিগোষ্ঠীর মাঝে কত যে নবী এসেছিলেন আল্লাহর দ্বীনের দাওয়াহ প্রচারের জন্য! হযরত মুসা আলাইহিস সালাম এবং হযরত হারুন আলাইহিস সালামের পরেই শেষ হয়ে যায় প্রবল প্রতাপশালী ফিরাউন এর "খোদায়ী"। তাদের ইতিহাসটা জানতে আগ্রহী হয়েছিলাম পবিত্র কুরআনুল কারীম তিলাওয়াতের সময় বারবার "ইয়া বানী ইসরাইল" আসে বলে...
পিরামিড কীভাবে বানিয়েছিলো, কীভাবে অত বছর আগে এতগুলো মৃতদেহকে 'মমি' করে রেখে দিয়েছিলো ফারাওরা -- সেই রহস্য আজো উন্মোচিত হলো না আমাদের এই 'ড্রোন হামলার' যুগেও। সেই ক্ষমতাশালী রাজারাও হারিয়ে গেছে... কোথায় হারালো তারা? মৃত্যুর কাছেই। যেখানে এই জগতের সমস্ত প্রাণের একটাই নিশ্চয়তা আছে -- সেটা হলো মৃত্যু।
আচ্ছা, ইতালির পম্পেই নগরীতে কী হয়েছিলো? আগ্নেয়গিরির অগ্নুৎপাত না? পুরো নগরীটাই হারিয়ে গিয়েছিলো সেই উত্তপ্ত লাভাতে। ভষ্মীভূত হয়ে গিয়েছিলো একটা রঙ্গিন শিল্পকলার নগরী। পিসার হেলানো মিনারের মতন আর কিছু কেন আর কেউ হেলাতে পারলো না? এখনো কেন সবাই যখন উঁচু উঁচু টাওয়ার বানাচ্ছে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং এর প্রবল প্রযুক্তিতে তখনো সেই সহস্র বছর আগেকার হারিয়ে যাওয়া সভ্যতাগুলোকে কেন বুড়ো আঙ্গুল দেখানো যাচ্ছেনা?
আমার কাছে অনুভব হয় -- আমরা যেমন আইফোন, আইপ্যাড আর স্মার্টফোনের যুগে আঙ্গুলের স্পর্শে কল করে, ছবি তুলে, ফেসবুকে স্ট্যাটাস আপডেট করে 'কানেক্টেড' থেকে 'কমিউনিকেট' করে নিজেদের স্মার্ট মনে করছি -- অমন স্মার্ট সভ্যতা এই পৃথিবী হাজার হাজার পেয়েছে। আমরা খালি একটা সময়কে অতিক্রম করছি। ঘুরে ফিরে এই জীবনধারণে একটা গুগল ও মাইক্রোসফটের প্রোগ্র্যামার হওয়াতে, ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোতে উঁচু বেতনের চাকুরি করার কৃতিত্ব আসলে গর্বিত হবার এমন কিছু না যা কিনা কোটি বছরের এই পৃথিবীর সমুদ্রসমান ইতিহাসে জায়গা পাবার একটা ফোঁটা জল হতে পারে!!
আমরা এতই ক্ষুদ্র একেকটা স্বত্ত্বা। তবে হ্যাঁ, এরই মাঝে সফলতাও আছে। দেখা যায়না! আমার পাশের বাড়ির টিনের চালার ঘরে বড় হওয়া করিম আর সামনের দিকের অ্যাপার্টমেন্টের ন্যান্সী আপুর ভাই এরিক -- এই দু'জনের জীবনে জন্মের আকাশ-পাতাল ব্যবধান। তাতে কারো কোন ক্রেডিট নাই। করিম, এরিকদের সাথে আম্রিকাতে জন্ম নেয়া জাস্টিন বিবার আর সিডনির মাইকেলের জন্ম আর জীবনধারণের উপকরণ আর পরিবেশে আকাশ-পাতাল পার্থক্য। আবার এই মার্কিন ও ইংরেজ হিসেবে জন্মানো জাস্টিন বিবার আর এমা ওয়াটসনদের তুলনায় সেই ফারাওদের রাজপ্রাসাদের খেনশা ও খুফুদের জীবন খুব খারাপ ছিলোনা। তাদের ছিলো অবারিত রাজ্যক্ষমতা আর বিশাল এলাকার রাজত্ব -- অসামান্য প্রযুক্তি -জ্যোতির্বিজ্ঞান -শিল্পকলা।
তাহলে সফলতা কোনটা? আইফোন, ম্যাকবুক, মজার বিছানা, হিপহপ গান শুনে নিজেকে স্মার্ট ভাবা, জোশিলা বয়ফ্রেন্ড আর খুউল গার্লফ্রেন্ড থাকা, ব্যাটে/জিপিতে অথবা মাইক্রোসফটে চাকুরি করে বিশাল টাকা ঘরে আনা? এই টাইপেরই স্মার্ট মানুষ এই জগতে আরো শতকোটি ছিলো। কিন্তু খুব কম জনই আসলে সফল। এই জীবন কেন -- এই প্রশ্নের উত্তরে কেউই আসলে ভাবতে চায়নি। নিজেদের ভাবনাদের মাটিচাপা দিয়ে আবার ফিরে যাওয়া শরীরের চাওয়ার কাছেই...
ডাক্তার হয়ে, ইঞ্জিনিয়ার হয়ে, বিশাল বাড়ি-গাড়ি করে, অনেক টাকার ব্যাংক-ব্যালেন্স করে, পার্লারে গিয়ে চুলস্ট্রেইট-রিবন্ডিং-ম্যানিকিউর-পেডিকিউর করে, চুলে জেল লাগিয়ে স্পাইক করে দামী পার্ফিউম লাগিয়ে নতুন লেটেস্ট মডেলের বাইকে ভুমভুম করে রাস্তা কাঁপানোতে? এগুলো আসলে কোন সফলতা না। সফলতা আসলে সেই মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলার দাসত্ব করাতে -- যেই আল্লাহর দাসত্ব করা এই পৃথিবীর প্রথম মানুষ আদম আলাইহিস সালাম তার জীবনসঙ্গিনী হযরত হাওয়াকে নিয়ে দু'জন মিলে ছিলেন কেবল তখনো একমাত্র কাজ ছিলো। ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র মানুষ আমরা -- একটা ভূমিকম্প, একটা সুনামি আমাদেরকে ভাসিয়ে গ্রাস করে দেয়। আমাদের এই দুনিয়া অনন্ত জগতের আখিরাতের শস্যক্ষেত্র। যেই অনন্ত জগতের শুরুতেই আমার পৃথিবীতে আমি যতটুকুই সুবিধা পেয়েছি তার অনুপাতেই বিচার হবে -- বিচারক হবেন মহাবিশ্বের অধিপতি আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা। যিনি সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম জিনিসেরও নিপুণ বিচার করবেন।
আল্লাহ রাব্বুল আলামীন আমাদের সবারই সমান আপন। সৌদিতে জন্ম নেয়া পবিত্র কাবার খতীবের যতটা কাছে তিনি, সেনেগালের আব্দুল্লাহ নামের ছেলেটাই হোক, উইসকনসিনের ইয়াসমিন হোক, ঢাকার তানভীরই হোক, মিশরের নুসাইবা হোক -- সবারই তিনি সমান আপন, একটুও পার্থক্য নাই। গায়ের রঙ-বংশ-বর্ণ-গোত্র-সময়-সম্পদ-জ্ঞান সবকিছুর উর্ধে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন আমাদের প্রিয়তম, অন্তরতম, আপনতম। জীবনের প্রতিটি ক্ষণ আমাদের সবারই সমান স্কেলে মূল্যায়ন হবে উনার কাছে। আল্লাহ শুধু দেখবেন অন্তরের আর্তিগুলো, জীবনে পাওয়া সময়ে তার নির্দেশ পালনের প্রতি ভালোবাসাটুকু, তার স্মরণে চোখের পানিগুলো -- এটাই না জীবন!! সব সংকীর্ণতা,শংকার উর্ধে অর্থপূর্ণ জীবন আমাদের সবারই!
এই অল্প ক'টি বছরের এই জীবনের পাওয়া না পাওয়া নিয়ে ব্যস্ত হয়ে দুঃখী হলে কি চলে? যেদিন জান্নাতে সুন্দর লেকের উপরে বয়ে যাওয়া রাস্তা দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে হয়ত দেখা হবে হযরত ইদ্রিসের সাথে, হযরত আবু বকরের সাথে, হয়ত আমাদের আব্বু-আম্মুর সাথে, হযরত আসিয়া আর হযরত ফাতিমাদের সাথে , আর আমাদের জীবনে পাওয়া প্রিয় ভাই-বোন-বন্ধুদের সাথে -- সেদিন অনুভব করতে পারবো আমাদের জীবনটা কতটা সুন্দর ছিলো, ছিলো অর্থপূর্ণ! "দুনিয়া আখিরাতের শস্যক্ষেত্র" -- আমরা জানি বলেই তো চারা বুনেছি ঈমান দিয়ে এই বুকে। পানি দিয়ে উর্বর করবো আমল দিয়ে, যখন নিড়ানি দিবো তখন কষ্ট হয়ে যাবে বুকের উপর ; যন্ত্রণা হবে। আবার যত্ন নেবো ঈমানের, আমলের। ভালোবাসবো আল্লাহকে, নবীদেরকে, আব্বা-আম্মাকে, আর তাদেরকে যারা আল্লাহকে ভালোবাসেন। ফল তো আজকে না -- এই শস্যের চালান আমরা রিসিভ করবো ইয়াওমুল কিয়ামাহ তে গিয়ে।
আমাদের রব, বিশ্বজাহানের প্রতিপালক, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা আমাদের ঈমানকে শক্তিশালী করে দিন, আমাদেরকে তিনি সিরাতাল মুস্তাকীমের পথ দেখান, আমাদের মুসলিম উম্মাহকে একই পতাকাতলে আসার তাওফিক দান করুন, আমাদেরকে আল্লাহ ও তার রাসূলকে সবার চাইতে ভালোবাসার এবং তাদের নির্দেশিকা অনুযায়ী দুনিয়ার জীবন পরিচালনা করে অনন্ত জগতে সফলদের দলে অন্তর্ভুক্ত হবার যোগ্য করে দিন।
ফেব্রুয়ারি ২০১২
১ ফেব, ২০১২
টূকরো টুকরো ভালোলাগা ১
মন খারাপ করতে কারণ লাগেনা, পত্রিকার পাতায় তাকালে অথবা রাস্তায় বের হলেই মন খারাপ হতে বাধ্য। নিজ জীবনের ঘটনাগুলোর কথা না হয় বাদই দিলাম। তাতে আছে অনেক কষ্ট, না পাওয়া, সমস্যায় জরাগ্রস্ততা আরো কত কী! আমি নিশ্চিত জানি, আমার জীবনটা অনেক নিয়মের সীমানার ভিতরেও অনেক বেশি স্যাক্রিফাইসের মধ্যে অনেক কঠিন শারীরিক আর মানসিক পরীক্ষার মধ্যে দিয়ে যায় -- যা প্রায় সময়েই আমার মন ভেঙ্গে দেয়। ডিপ্রেশনে ভুগতে শুরু করি... তখন মনে হয় যেন সমস্ত সমস্যা কেবল আমাকে কেন্দ্র করেই হয়, সব অপ্রাপ্তিগুলো কেবল যেন আমাকেই ক্ষয় করে।
২১ জানু, ২০১২
স্বপ্নবেলার ভালোবাসা
এক সুবিশাল সমাবেশের কথা হয়ত হঠাৎ করেই স্মরণ হয়
স্মরণ হয় চারিদিকে থাকা অজস্র মানুষদের কথা।
আমরা একসাথেই ছিলাম -- তারপর একে একে এলাম
কেউ আগে, কেউবা পরে এই মাটির পৃথিবীর স্পর্শে।
আমি বাবার পাশে বসে থেকে তার জীবনস্পন্দন অনুভব করি,
এই মানুষটির আদর্শ আর ভালোবাসায় আমার জীবনভোর ডুবে থাকা।
লোকে বলে, যেতে নাকি হবেই, চলে যাওয়াই নিয়ম।
আমি যেতে চাইনা বলে মায়ের হাতখানি চেপে ধরি কেন?
অথচ ফিরে যাওয়ার মাঝেই নাকি আসবার কারণ গেঁথে আছে।
চলে গেলে নাকি অনন্তের জীবন -- যার শুরু আছে, শেষ নেই।
সেই জগতের মুক্তির জন্য সুন্দরাত্মাদের অশ্রু ঝরে অহর্নিশি।
আমি সেই আত্মাদের ভালোবাসি, আমি তাদের সান্নিধ্য চাই অনাদিকালে।
ভালোবাসা মানে কি ভোগ করতে চাওয়া? যখন সবই তো নশ্বর আর ক্ষণস্থায়ী !
আমি বুঝি ভালোবাসা মানে বুকে জড়িয়ে থাকা, হৃদয় জুড়ানোর অনুভূতি।
আমি এই ভালোবাসার স্পর্শের ছড়িয়ে যাবো জগত থেকে অনন্তে
ফিরদাউসের বাগানে বাবা-মায়ের হাত ধরে ঘুরবো স্বপ্নময়তায়।
আমার স্বপ্নগুলো স্তব্ধ হয়না আর। আমার স্বপ্ন ফিরে আসে অতীত থেকে অনন্তে
আমার স্বপ্নেরা আঁকড়ে ধরে স্রষ্টার আলোতে উদ্ভাসিত আত্মার স্পর্শকে
স্বপ্নেরা ছড়িয়ে দিতে চায় ভালোবাসার আবীরা রাঙ্গা স্বপ্নলোকের সুন্দরকে
স্বপ্ন পাখা মেলে ভাই-বোন-বন্ধুদের নিয়ে কাটানো সুখের বেলাতে, আদনের বাগানে।
মধ্যরাত্রি। ঢাকা
স্মরণ হয় চারিদিকে থাকা অজস্র মানুষদের কথা।
আমরা একসাথেই ছিলাম -- তারপর একে একে এলাম
কেউ আগে, কেউবা পরে এই মাটির পৃথিবীর স্পর্শে।
আমি বাবার পাশে বসে থেকে তার জীবনস্পন্দন অনুভব করি,
এই মানুষটির আদর্শ আর ভালোবাসায় আমার জীবনভোর ডুবে থাকা।
লোকে বলে, যেতে নাকি হবেই, চলে যাওয়াই নিয়ম।
আমি যেতে চাইনা বলে মায়ের হাতখানি চেপে ধরি কেন?
অথচ ফিরে যাওয়ার মাঝেই নাকি আসবার কারণ গেঁথে আছে।
চলে গেলে নাকি অনন্তের জীবন -- যার শুরু আছে, শেষ নেই।
সেই জগতের মুক্তির জন্য সুন্দরাত্মাদের অশ্রু ঝরে অহর্নিশি।
আমি সেই আত্মাদের ভালোবাসি, আমি তাদের সান্নিধ্য চাই অনাদিকালে।
ভালোবাসা মানে কি ভোগ করতে চাওয়া? যখন সবই তো নশ্বর আর ক্ষণস্থায়ী !
আমি বুঝি ভালোবাসা মানে বুকে জড়িয়ে থাকা, হৃদয় জুড়ানোর অনুভূতি।
আমি এই ভালোবাসার স্পর্শের ছড়িয়ে যাবো জগত থেকে অনন্তে
ফিরদাউসের বাগানে বাবা-মায়ের হাত ধরে ঘুরবো স্বপ্নময়তায়।
আমার স্বপ্নগুলো স্তব্ধ হয়না আর। আমার স্বপ্ন ফিরে আসে অতীত থেকে অনন্তে
আমার স্বপ্নেরা আঁকড়ে ধরে স্রষ্টার আলোতে উদ্ভাসিত আত্মার স্পর্শকে
স্বপ্নেরা ছড়িয়ে দিতে চায় ভালোবাসার আবীরা রাঙ্গা স্বপ্নলোকের সুন্দরকে
স্বপ্ন পাখা মেলে ভাই-বোন-বন্ধুদের নিয়ে কাটানো সুখের বেলাতে, আদনের বাগানে।
মধ্যরাত্রি। ঢাকা
১৩ জানু, ২০১২
টুকরো আলাপ: মজলুম ও জালিম
আমি নিজেকে আল্লাহর দাস বলে মনে করি। আমার জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপ আল্লাহ কুরআনে যেভাবে বলেছেন সেভাবে মানতে হবে বলে বিশ্বাস করি। আমি বিশ্বাস করি এই পৃথিবীটা অল্প কিছুদিনের একটি নিবাস -- তারপর ফিরে যেতে হবে প্রবল প্রতাপশালী এবং আমাদের রব আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলার কাছেই। এই জীবনের প্রতিটি ঘটনাই হতে হবে আল্লাহ ও তার রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নির্দেশমতে। সেটি ঘুমানো, খাওয়া, লেনদেন থেকে শুরু করে কথাবার্তার শব্দচয়ন পর্যন্ত। আমি কখনই সহ্য করবনা, একজন মু'মিন হিসেবে আমাকে কী করতে হবে, তা শিখিয়ে দেবে একজন অবিশ্বাসী, ইন্দ্রিয়ভোগী ক্ষুদ্র জঘন্য আত্মার কোন মানুষ। আমি আল্লাহকে ভয় করি, আমি বিনম্র ও শান্তিকামী, কিন্তু আল্লাহর নাফরমানীর ব্যাপারে কঠোর। এটাই আমার পরিচয় বলে মনে করি।
৬ জানু, ২০১২
একটি নিউ ইয়ার এবং কিছু নতুনত্ব
আমার কাছে সালাম দেয়াকে উহ্য রেখে এই অযথা তিনটি শব্দ উচ্চারণের কোন অর্থ হয়না। দেখা হলে সালামের কোন বিকল্পই খুঁজে পাইনা। প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন যেন আমরা জমীনের বুকে সালামকে প্রতিষ্ঠা করি। একটা দোয়া এই সালাম -- যা ভনিতা নয়, বরং সুন্দর করে 'আসসালামু আলাইকুম' উচ্চারণ করে অপরের জন্য শান্তি বর্ষণের দু'আ করা আমাদের বিশ্বাসের সংস্কৃতি -- যে সংস্কৃতি মহান আল্লাহর প্রতি নিজেদের আনুগত্য থেকে উৎসারিত আর প্রবাহিত।
৪ ডিসে, ২০১১
মিশর একটি ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে -- ড. তারিক রামাদান
বর্তমান দিনগুলো মিশরের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। মিশরীয়রা তাহরীর স্কোয়ারে জমায়েত হচ্ছে আর দাবী জানাচ্ছে সেনাবাহিনীর পতনের জন্য। তারা চাইছে একটি সত্য আর স্বচ্ছ গণতান্ত্রিক পদ্ধতি যার মাধ্যমে বেসামরিক জনগণ তাদের আইনত অবস্থান আর ভূমিকা খুঁজে পাবে। আপাতত এতটুকু নিশ্চিত যে সামরিক সরকারের অভিপ্রায় এবং কর্মপদ্ধতি এরকম কিছু নয় একদমই। প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগপত্র গ্রহণ করার পরপরই ক্ষমতাসীন সামরিক জান্তা হোসনি মুবারকের লেফটেনেন্ট, ৭৭ বছর বয়স্ক কামাল জানজুরির নাম প্রকাশ করে। একজন প্রার্থীর নাম প্রকাশের এই ছোট্ট ঘটনাটা বলে দেয় সামরিক সরকার কীভাবে অবস্থা সামলানোর চেষ্টা করছে। ফিল্ড মার্শাল তানতাওয়ি এবং তার লোকজন একটি গণতান্ত্রিক উপায়ে ক্ষমতা হস্তান্তরের জন্য প্রস্তুত নয় এবং আগ্রহীও নয়। তারা দৃশ্যপটের বাইরের কাউকে খুঁজছে যাকে মিত্র হিসেবে পাওয়া যাবে, চাইছে কিছু চুক্তি করতে যেন নিজেদের রক্ষা করা যায় এবং দেশের ক্ষমতাও সামলে রাখা যায়।
২২ নভে, ২০১১
১৮ নভে, ২০১১
একটা মিছিলের গল্প
মিছিল শব্দটি শুনলেই একটা দৃশ্য ভেসে ওঠে আমার চোখে। একদম সামনে কিছু মানুষ -- হাতে তাদের কিছু প্ল্যাকার্ড অথবা ব্যানার, পেছনে সারিতে সারিতে তাদের অনুসরণ করছে একদল মানুষ। তারা একটা নির্দিষ্ট কারণেই সবাই একসাথে, একই ছন্দে হেঁটে চলেছেন কোন একটা ময়দানে জমায়েত হবেন বলে। যে কারণে তারা সবাই একসাথে এগিয়ে চলেছেন -- হতে পারে সেটা কোন প্রাপ্তির বহির্প্রকাশ, হতে পারে সেটা কোন দাবী আদায়ের আকাঙ্খা। কারণ যেমনটাই হোক, তারা একই সাথে, একই গলায় শব্দোচ্চারণ করেন, একই পদক্ষেপে এগিয়ে চলেন সামনের দিকে।
এমন একটা মিছিলের কথা আমার মনের দৃশ্যপটে জেগে উঠছিলো বারংবার। অমন একটা মিছিলে আমিও শামিল হয়েছি। আমার চারপাশে একদল মানুষ -- তাতে বৃদ্ধ-বৃদ্ধা, তরুণ-তরুণী, কিশোর-কিশোরীরাও আছে। দৃঢ় তাদের চেতনা, বুকে তাদের অজস্র ভালোবাসা, চিত্ত তাদের ভয়শূণ্য, দৃপ্ত তাদের পদক্ষেপ। আমি চারপাশে চেয়ে থেকে ভাবছিলাম -- এ আবার কোন মিছিল? আমি কীভাবে এখানে এলাম?
এমন একটা মিছিলের কথা আমার মনের দৃশ্যপটে জেগে উঠছিলো বারংবার। অমন একটা মিছিলে আমিও শামিল হয়েছি। আমার চারপাশে একদল মানুষ -- তাতে বৃদ্ধ-বৃদ্ধা, তরুণ-তরুণী, কিশোর-কিশোরীরাও আছে। দৃঢ় তাদের চেতনা, বুকে তাদের অজস্র ভালোবাসা, চিত্ত তাদের ভয়শূণ্য, দৃপ্ত তাদের পদক্ষেপ। আমি চারপাশে চেয়ে থেকে ভাবছিলাম -- এ আবার কোন মিছিল? আমি কীভাবে এখানে এলাম?
১৭ নভে, ২০১১
বিচ্ছুরিত আলোর নতুন প্রত্যয়
পথ চলতে আঁধারের সমুদ্র দেখে হতচকিত
স্বাপ্নিক আশাবাদী আত্মায় জাগে বিষের যন্ত্রণা।
আলো না থাকাকেও ওরা আলো বলতে চায়, কিন্তু
আমি বুঝেছি এটি আঁধার, যা আসলে আলোর বিচ্ছিন্নতা।
এই সমাজের আলোক উৎসগুলোর ছড়িয়ে পড়ার
পথ রুদ্ধ করে দেয় কিছু আলোকময় অন্ধকার অবয়ব,
তাদের বিশালাকার মূর্তিতে মুগ্ধ হয়, আর
অবনত হয় সহস্র মস্তক -- কিশোরীর দল, কিশোর ছেলে।
আলো বঞ্চিত করতে হলে কি তোমায় অন্ধকার করে দিতে হবে? নাহ!
আলোর ছুটে আসা ধারাকে বিচ্ছিন্ন করে ছড়িয়ে দিলেই ষড়যন্ত্র সফল।
একদল তাজা প্রাণ এই ছায়াকেই আলো মনে করে বেড়ে ওঠে,
ভালোবেসে গড়ে তোলে আঁধার-প্রাঙ্গন।
দীর্ঘ সময় আবছা আলোয় কাটালে সূর্যালোকে সবাই বিরক্ত হয়।
অথচ সেই আলোই আসলে তার বেঁচে থাকার প্রাণশক্তির সঞ্চয়।
সত্যকে দেখে ছিটকে পড়ে তাজা প্রাণগুলো, প্রতিবাদ করে তখনই
মিথ্যে দেখে যখন ভুলে যায় সত্যের সুগন্ধময় বিচরণ।
অথচ, প্রতিটি হীরের টুকরা হতে পারে আলোর উৎস।
সমাজের প্রতিটি আলোকময় আত্মা হতে পারে তেমনি
একেকটি আলোকজ্বল আলোর সৌন্দর্যময় ঝলকানি
হতে পারে সত্যের আর সুন্দরের সুসজ্জিত বাহন।
এই অন্ধকার বিদীর্ণ করে আসতে চাওয়া আলোকে দেখা যায় আজ
এই আলোর দল আর কখনো অপবর্তিত হবেনা।
ঝলসে উঠবে অজস্র আলোক আভার বিচ্ছুরিত সত্যে
অনন্তকালের এক সত্য চিরন্তন আলোর সাথে মিশে যাবার দৃঢ় প্রত্যয়ে, স্বপ্নে।
** অনেকদিন পরে কাব্য লেখার একটা প্রচেষ্টা করলাম। এরকম অনুভূতি দিয়ে কাব্য লেখা যায়, তা দেখেছি এই বাংলার বড় বড় কবিদের মাঝে। কাজী নজরুল ইসলাম, ফররুখ আহমদ, আল মাহমুদ লিখেছেন অসাধারণ কাব্য। এই শতাব্দীর কবি মতিউর রহমান মল্লিক, আসাদ বিন হাফিজ -- যারা শব্দ দিয়ে খোদার ভালোবাসা জাগানিয়া আর সমাজকে নিয়ে আশা দেখানিয়া মানুষ। আল্লাহ তাদের সকলের রুহের মাগফিরাত দান করুন এবং তাদের উত্তম বিনিময় দান করুন।
.....
ঢাকা, বাংলাদেশ
১৭/১১/২০১১
স্বাপ্নিক আশাবাদী আত্মায় জাগে বিষের যন্ত্রণা।
আলো না থাকাকেও ওরা আলো বলতে চায়, কিন্তু
আমি বুঝেছি এটি আঁধার, যা আসলে আলোর বিচ্ছিন্নতা।
এই সমাজের আলোক উৎসগুলোর ছড়িয়ে পড়ার
পথ রুদ্ধ করে দেয় কিছু আলোকময় অন্ধকার অবয়ব,
তাদের বিশালাকার মূর্তিতে মুগ্ধ হয়, আর
অবনত হয় সহস্র মস্তক -- কিশোরীর দল, কিশোর ছেলে।
আলো বঞ্চিত করতে হলে কি তোমায় অন্ধকার করে দিতে হবে? নাহ!
আলোর ছুটে আসা ধারাকে বিচ্ছিন্ন করে ছড়িয়ে দিলেই ষড়যন্ত্র সফল।
একদল তাজা প্রাণ এই ছায়াকেই আলো মনে করে বেড়ে ওঠে,
ভালোবেসে গড়ে তোলে আঁধার-প্রাঙ্গন।
দীর্ঘ সময় আবছা আলোয় কাটালে সূর্যালোকে সবাই বিরক্ত হয়।
অথচ সেই আলোই আসলে তার বেঁচে থাকার প্রাণশক্তির সঞ্চয়।
সত্যকে দেখে ছিটকে পড়ে তাজা প্রাণগুলো, প্রতিবাদ করে তখনই
মিথ্যে দেখে যখন ভুলে যায় সত্যের সুগন্ধময় বিচরণ।
অথচ, প্রতিটি হীরের টুকরা হতে পারে আলোর উৎস।
সমাজের প্রতিটি আলোকময় আত্মা হতে পারে তেমনি
একেকটি আলোকজ্বল আলোর সৌন্দর্যময় ঝলকানি
হতে পারে সত্যের আর সুন্দরের সুসজ্জিত বাহন।
এই অন্ধকার বিদীর্ণ করে আসতে চাওয়া আলোকে দেখা যায় আজ
এই আলোর দল আর কখনো অপবর্তিত হবেনা।
ঝলসে উঠবে অজস্র আলোক আভার বিচ্ছুরিত সত্যে
অনন্তকালের এক সত্য চিরন্তন আলোর সাথে মিশে যাবার দৃঢ় প্রত্যয়ে, স্বপ্নে।
** অনেকদিন পরে কাব্য লেখার একটা প্রচেষ্টা করলাম। এরকম অনুভূতি দিয়ে কাব্য লেখা যায়, তা দেখেছি এই বাংলার বড় বড় কবিদের মাঝে। কাজী নজরুল ইসলাম, ফররুখ আহমদ, আল মাহমুদ লিখেছেন অসাধারণ কাব্য। এই শতাব্দীর কবি মতিউর রহমান মল্লিক, আসাদ বিন হাফিজ -- যারা শব্দ দিয়ে খোদার ভালোবাসা জাগানিয়া আর সমাজকে নিয়ে আশা দেখানিয়া মানুষ। আল্লাহ তাদের সকলের রুহের মাগফিরাত দান করুন এবং তাদের উত্তম বিনিময় দান করুন।
.....
ঢাকা, বাংলাদেশ
১৭/১১/২০১১
১৪ নভে, ২০১১
আমি তোমার সঙ্গে বেঁধেছি আমার প্রাণ কোন সে বাঁধনে
সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে, বদলে যাচ্ছে আমাদের প্রজন্ম। আমাদের সময়, আমাদের পরিবার, আমাদের বন্ধন আর আমাদের চারপাশ! তথ্য প্রযুক্তিতে থ্রি-জি, ফোর-জি এর জেনারেশন বদলের চাইতেও দ্রুত বদলে যাচ্ছে আমাদের জেনারেশন, তার "ইন্টারনাল টেকনোলজি" আর ইভোলিউশন হচ্ছে অস্বাভাবিক দ্রুতগতিতে।
আগে একটা সময়ে আমাদের প্রজন্মের আব্বা-আম্মারা তাদের মধ্যে কথাবার্তা 'মেলামেশা' ছাড়াই বিয়ে-শাদী করেছিলেন। সারাটা জীবন কাটিয়ে দিয়েছেন। আমাদের দেখলে গলার কণ্ঠ নামিয়ে তর্ক-ঝগড়া করতেন। কথায় কথায় মায়েরা বাপের বাড়ি 'যাও', 'যাবো' বলতে পারতেন না, বলতেন না... একাট্টা হয়ে দু'জনে মিলে যুদ্ধ করে সংসার নামের নৌকাটার হাল ধরতেন সংসার জীবনের চরম দুর্দিনেও... পারস্পরিক সম্মান, অগাধ বিশ্বাস আর দু'জনের মিলিত "কমিটমেন্টের" মাধ্যমে তারা পাড়ি দিয়েছেন বিশাল পথ। ভালোবাসা শব্দটা নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করতে দেখিইনা আমরা তাদেরকে!
আগে একটা সময়ে আমাদের প্রজন্মের আব্বা-আম্মারা তাদের মধ্যে কথাবার্তা 'মেলামেশা' ছাড়াই বিয়ে-শাদী করেছিলেন। সারাটা জীবন কাটিয়ে দিয়েছেন। আমাদের দেখলে গলার কণ্ঠ নামিয়ে তর্ক-ঝগড়া করতেন। কথায় কথায় মায়েরা বাপের বাড়ি 'যাও', 'যাবো' বলতে পারতেন না, বলতেন না... একাট্টা হয়ে দু'জনে মিলে যুদ্ধ করে সংসার নামের নৌকাটার হাল ধরতেন সংসার জীবনের চরম দুর্দিনেও... পারস্পরিক সম্মান, অগাধ বিশ্বাস আর দু'জনের মিলিত "কমিটমেন্টের" মাধ্যমে তারা পাড়ি দিয়েছেন বিশাল পথ। ভালোবাসা শব্দটা নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করতে দেখিইনা আমরা তাদেরকে!
২৭ অক্টো, ২০১১
বেদনা মধুর হয়ে যায়
বেদনা মধুর হয়ে যায়,তুমি যদি দাও,
মুখের কথায় হয় যে গান তুমি যদি গাও...
গানটা মনে পড়ছিলো। বেদনাক্লিষ্ট হয়ে এই গানটাই মনে পড়লো কারণ আজকের দিনটা ছিলো অনেক বেদনাক্লিষ্ট, সময়টাই যাচ্ছে বেদনাময়। চারিদিকে বেদনার ধোঁয়াশা। তাছাড়া গানটির শিল্পী জগজিত সিং। বিখ্যাত আর জনপ্রিয় এই শিল্পী ক'দিন আগে চলে গেছেন এই পৃথিবী ছেড়ে। তার একটা অন্যতম বহুল প্রচলিত আর খ্যাত একটা সঙ্গীত এই "বেদনা মধুর হয়ে যায়"।
২৪ অক্টো, ২০১১
তারিক রামাদানঃ এক অনুপ্রেরণা আর মুগ্ধতার নাম
তারিক রামাদান নামটার সাথে আমার পরিচয় বছরখানেক হবে। একটা বক্তব্য দেখেছিলাম যেটা তিনি মুসলিম স্টুডেন্টস এসোসিয়েশন (এমএসএ) আয়োজিত একটা অনুষ্ঠানে রেখেছিলেন। অসম্ভব মুগ্ধতায় ভরে গিয়েছিলো আমার মন। তারপর খুঁজে পেতে পেলাম আলজাজিরা টেলিভিশনে রিজখান শো তে দেয়া একটা সাক্ষাতকার। বিভিন্ন স্পর্শকাতর বিষয়ে তারিক রামাদানকে প্রশ্ন করে বিব্রত করা হয়। এই প্রশ্নগুলো আমি আরো অনেকজনকে ঘায়েল হয়ে যেতে দেখেছি জীবনে — কিন্তু প্রফেসর রামাদান সেগুলো তার জ্ঞানের গভীরতা, প্রজ্ঞা দিয়ে নির্দ্বিধায় উত্তর দিয়েছিলেন।
২৩ অক্টো, ২০১১
মুখে তোমার কতনা মধু
আমার ছোট একটা ভাতিজা আছে, সে প্রতিদিন একটা করে শব্দ উচ্চারণে চেষ্টা করে। সে যেদিন প্রথম "এই যেএএএ" আর "আবুউউউ" উচ্চারণ করলো -- সেদিন তার বাবা-মায়ের কিশোর-কিশোরীসুলভ আনন্দের উচ্ছ্বলতা দেখে আমি বিমোহিত হয়েছিলাম। সন্তান মুখে কথা বলবে -- এই জিনিসটা কতনা সুন্দর! আর বাবা-মা সেই দুআ করছিলেন দু'জনে একসাথে। এক বছরের কম সময় আগে পৃথিবীর বুকে আসা সেই শিশুটার মুখের শব্দে এত যাদু -- তা আমি একটু আগে একটা ঘন্টা কাটিয়ে বুঝলাম নতুন করে। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলার কী অপার রাহমাত।
১৭ অক্টো, ২০১১
সখী ভালোবাসা কারে কয়
"ভালোবাসা" আমার জীবনের অপার বিষ্ময়ের একটা শব্দ। সেই কৈশোর থেকে যখন বুঝতে শিখেছিলাম -- আমি এই শব্দ দিয়েই পড়েছি কবিতা, সমস্ত গানেই পেয়েছি এই শব্দ। প্রথম পড়েছিলাম রোমিও-জুলিয়েট। কী অপার বিষ্ময়কর সেই "ভালোবাসা", কী চরম বিভেদ তাদের দুই পরিবারে, তারপরেও তাদের সেই "গভীর ভালোবাসা" তাদের নিয়ে গেলো মৃত্যুর টানে। একজন বিষ খেলো দেখে আরেকজন ছুরি বসিয়ে বিদায় নিলো পরপারে। শেক্সপীয়রীয় সাহিত্য -- সাহিত্যজগতে সর্বাধিক পাঠ্যগুলোর একটা এই রোমিও-জুলিয়েট, নিঃসন্দেহে বলা যায়। আমি এই পাঠে শেখার চেষ্টা করেছিলাম "ভালোবাসা" কী জিনিস।
সবাই বলতো দেবদাসের কথা। সেই কিশোর বয়সেই হাতে তুলে নিলাম শরৎ রচনাসমগ্র। পথের দাবী, দেবদাস, বড়দিদি, মেজদিদি ছিলো আজো মনে রাখার মতন। কিন্তু দেবদাসের জীবনটাও সেইরকম "ভালোবাসার"। পড়তে পড়তে স্বভাবসুলভভাবে নিজেকে বসিয়ে দিতাম দেবদাসের জায়গায়। পার্বতী এলোচুলে যখন বাসায় বসে, আমি বহুদূর থেকে ফিরে তাদের বাড়িতে গিয়ে পার্বতীকে দেখে মুগ্ধ হয়ে যাবার চেষ্টা করলাম কল্পনায়। তারপর নিজের সমস্ত বিশেষত্ব, প্রতিভা জলাঞ্জলি দিয়ে শহরে "ভালোবাসায়" চুর হয়ে চন্দ্রমুখীর বাহুবন্ধনে জ্ঞানহারা হবার ব্যাপারটাতে নিজেকে কিছুতেই বসাতে পারিনি। শেষ পর্যন্ত মৃতদেহ যখন পার্বতীর বাড়ির সামনে পড়ে থাকলো --তখনো সেই "ভালোবাসার" স্বরূপ উদঘাটনপূর্বক অনুভব করতে না পারার কষ্টে আমি দেবদাসের বিশেষত্ব নিয়ে গল্প করিনি। এই মুভি (বাংলা বা হিন্দী) কোনটাই দেখতে যাইনি। আমি বইয়ের প্রতিটি লাইন যেভাবে গভীরতায় অনুভব করেছিলাম, চলচ্চিত্র সেখানে কোন প্রকৃত "ভালোবাসা" চেনাতে পারবে বলে বিশ্বাস করিনি।আরেকটু বড় হতেই হাবিবের গান খুব ভালো লাগতো -- "দিন গেলো তোমার পথ চাহিয়া, মন পোড়ে সখী গো কার লাগিয়া, সহেনা যাতনা, তোমারো আশায় বসিয়া, মানেনা কিছুতে মন আমার যায় যে কাঁদিয়া, পুড়ি আমি আগুনে..." তারপরের লাইনে ছিলো "যার কথা মন ভেবে যায়, যার ছবি মন এঁকে যায়, যারে হায় এ মন যায়, জীবনে পাবো কি তার দেখা"... শুনতে এত ভালো লাগতো যে কারো জন্য "মন পোড়াতে" ইচ্ছে করতো। শেষের লাইনটা হতাশার -- জীবনে পাবো কি তার দেখা। সুরের মূর্ছনায় ডুবে সব জলাঞ্জলি দিয়ে "কারো জন্য" অপেক্ষার ব্যাপারটাতেই "ভালোবাসা" পাওয়া যায় বলে বোদ্ধা বন্ধুদের দাবী ছিলো। আমি আরেকটা স্বরূপ পেলাম, যাকে ঠিক বিশেষায়িত করতে পারলাম না তখনো।
টাইটানিক মুভিটিতে নাকি কেট আর ডিক্যাপ্রিওর ছিলো অমর প্রেম, অনবদ্য ভালোবাসা। ভালোবাসার খোঁজে সেই মুভিটাও দেখেছিলাম। কিশোর ছেলের জন্য উষ্ণতা দেয়া ছাড়া, আর বিশাল টাইটানিকের ডুবে যাওয়ার মাঝে আমি "ভালোবাসা" খুঁজে পাইনি। তারপর "দিলওয়ালে দুলহানিয়া লে যাউঙ্গা" দেখতে বসেছিলাম -- সেটাও বন্ধুদের দাবীর "অপার ভালোবাসা" খুঁজে পেতে। পারিবারিক কোন্দলকে বাড়িয়ে দেয়ার "চলচ্চিত্র" কাহিনীর মাঝে বাস্তবিক "ভালোবাসা" আমার খুঁজে পাওয়া হয়নি। শুধু নায়িকার রূপসৌন্দর্যে নিজের ভিতরের বুভুক্ষু প্রেমিকটা আরেকটু 'বিরহে' পড়ে গিয়েছিলো।
এই কাহিনীর ফিরিস্তি দিতে গেলে ক্লান্ত পরিশ্রান্ত হয়ে যাবো। হয়ত এরকম আরো অন্তত ৫০গুণ লাইন লিখতে হবে -- কেবল অভিজ্ঞতা তথা অনুভূতি/ভাবনা শেয়ার করা হবে। কিন্তু আসল কথা হলো--সবকিছুর পরেও ছিলাম অন্ধকারেই। এরপর তারুণ্য পেরিয়ে যৌবনে এলাম। চারপাশে যৌবনের জয়জয়কার। এই যৌবন কোন বাধা মানে না। এই যৌবনে আছে "ভালোবাসা" যেটা বাবা-মায়ের অগোচরে রোমান্টিক হওয়া। সিনেমার নায়িকাদেরকে নিজের "প্রেমিকা", যাকে "তোমাকে ভালোবাসি" বলে অ্যাচিভ করা হয়েছে তার মাঝে খুঁজে পাবার শত চেষ্টা। কত বান্ধবীর যে পোশাক বদলে গেলো প্রেমের ফলে! বলাই বাহুল্য, এটুকু আমি শিখেছিলাম যে অপার ভালোবাসায় পতিত হবার পর সেটা যখন শেকলে আবদ্ধ হয় -- তাকে প্রেম বলে। সবই আমার শেখা --আমার পারিপার্শ্বিকে আমি জীবনে এই শিক্ষাটা সস্তায় এবং সর্বাধিক পেয়েছিলাম -- 'ভালোবাসা কারে কয়'। দুঃখের ব্যাপার হলো -- আমি বুঝিনি। আমি ভালোবাসার "ডেফিনিশান"টাই বুঝিনি।
কোথায় আমার লাইলি-মজনু, শিরি-ফরহাদ, রোমিও-জুলিয়েট, দেবদাস-পার্বতী, অপূর্ব-প্রভা, শাহরুখ-গৌরি সবাই আমাকে এমন কিছু দিয়ে গেলো। যা আমার জীবন দিয়ে অর্জন করা সম্ভব না। আমি ধুম করে মরে যেতে পারবো না এমন কারো জন্য যে আজ না হয় কাল মরেই যেতো। আমার যেই জীবনটার জন্য আমি দুই-তিনটি বছরের কোনরাতেই মা-কে ঘুমাতে দেইনি, লাথি দিয়ে, পেশাব করে, চিৎকার করে জীবনটা ফ্যানা ফ্যানা করে দিয়েছিলাম যেই মা'র, তার কথা না ভেবে আমি একটা নারীর জন্য মৃত্যুকে আলিঙ্গন করে অমর "প্রেম" রচনা করে ভালোবাসার সাক্ষর রেখে যাবো বলে বিশ্বাস করিনা, করিনি।
কবিগুরু আমার মত করেই প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়েছিলেন, হয়ত সেদিনও উনি কনফিউজড ছিলেন (কবিতাটির ব্যাকগ্রাউন্ড জানিনা বলে ইউজ ভুল হতে পারে)। বেশ মজার লাইনগুলো। কবিতাংশটা অনেকটা এরকম --
তোমরা যে বল দিবস রজনী
'ভালোবাসা, ভালোবাসা' -
সখী ভালোবাসা কারে কয়?
সে কি কেবলই যাতনাময়!
সে কি কেবলই চোখের জল? সে কি কেবলই দুখের শ্বাস?
লোকে তবে করে কি সুখেরই তরে এমনই দুখের আশ!
ক্যারিয়ারের চিন্তা করে বহু সায়েন্সের বন্ধুদের জিজ্ঞেস করেছিলাম, বাংলা-ইংরেজি পড়বি? ওদের উত্তর ছিলো -- তাদের চাকরি-বাকরি নাই, এই জিনিস পড়ার প্রশ্নই উঠেনা। সবচাইতে কম চিন্তার গভীরতাসম্পন্ন বন্ধুরাও এই উত্তরটাই দিতো। কী চিন্তা! যেখানে বিশেষ "লাভ" নেই বলে জানে, সেখানে পা দিবে না -- এটাই সুস্থ মানবিক গুণাবলী। অথচ, নিশ্চিত "দুখের শ্বাস" সমৃদ্ধ ভালোবাসাতে কারো আগ্রহের কমতি থাকতো না। আমি জীবনের বহুবছর এই "ভালোবাসা" নাক জিনিসটার সঠিক কোন সংজ্ঞা পাইনি। উইকিপিডিয়া টাইপের সাইটের লিঙ্ক দিয়ে লেখাটার ভার বাড়াতে চাইছিনা। সংজ্ঞার চাইতে অনুভূতিটা নিয়েই ভাবছি আপাতত।
আমার বন্ধু ছিলো -- ধরি তার নাম আকাশ আর তার প্রেমিকা নীলা। তিন বছর সম্পর্কের পর তারা পরষ্পরের নামে এমন সব কথা বলে বেড়াত নিজ নিজ মহলে। যেই কথা শুনলে, তার অশ্লীলতা চিন্তা করলে কানে আঙ্গুল দিয়েও নিবৃত্ত হতে পারিনি। প্রভা-রাজিবদের ঘটনাগুলো সেলিব্রিটি বলে কানে এসেছে -- অমন দেহসর্বস্ব ভালোবাসা এখন তারুণ্যের মাঝে খুব খুব বেশি এভেইলেবল। আর এই ঘটনাগুলোও একই ছাঁচে বাঁধা। যার জন্য পরান দিওয়ানা বলে সবাই জানতো -- কোন এক সময়ের স্রোতে তার প্রতিই ঘৃণা, ক্রোধ জমা হয়ে জিঘাংসা তৈরি হলো... সবচাইতে আশ্চর্যজনক বিষয় হলো -- ভালোবাসি ভালোবাসি বলে যার নাম বলে এসেছি "রিলেশনশিপ স্ট্যাটাসে", পরমূহুর্তে তাকেই "খারাপ, ঘৃণা করি" বলে চিৎকার করার মাঝে যে নিজেরই অতীতকে অস্বীকার করা হয় -- সেটা কেন কারো মাথায় আসে না?
আমি ভালোবাসা কারে কয় জানিনা। তবে বুঝেছি এই ভালোবাসা আমরা শিখেছি নাটকের সুন্দরী মেয়েটার প্রতি ছেলেটার শব্দচয়ন থেকে। সিনেমায় ক্যাটরিনা কাইফের, প্রিয়াংকা চোপড়ার হাসিতে মুগ্ধ হয়ে যাওয়া শাহেদ কাপুরদের অস্থির আচরণ থেকে। আমি পথ চলতে দেখি "দীঘল কালো চুলের বাঁধনে বাঁধুন প্রিয়জনকে", ভুরু প্লাক করে, চুল সিল্কি করে নিজেকে সুন্দর করে উপস্থাপন করে "ভালোবাসা" ধরে রাখাটা শিখেছি "গীত, কাহানি ঘর ঘর কী" টাইপ শত-সহস্র সিরিয়াল থেকে। আমার জীবনের সবচাইতে "ক্রুশিয়াল, সফিস্টিকেইটেড" তথা গুরুত্বপূর্ণ আর সংবেদনশীল শিক্ষার ভার আমি টেলিভিশনের থেকে, প্রথম আলোর নকশা আর আনন্দ আলোর পাতা থেকেই শিখছি। অথচ ঢাকার সবচাইতে দামী টিচার "আজমল" স্যারের বাসায় লাইন ধরে অ্যাডভান্স ভর্তি হয়ে নিশ্চিত করি জীববিজ্ঞান শিক্ষা।
আসলে পুরো ব্যাপারগুলোই কেবল বয়ে যেতে দেয়া! সবাই চিন্তা ছাড়াই চালিয়ে দেয়। স্কুল-কলেজের রেজাল্টটা দেখা যায় তাই বাবা মা কনসার্নড। কিন্তু জীবনের এই শিক্ষাগুলোর পরীক্ষার মার্কসগুলো দেখা যায়না বলেই এই আধুনিক বাবা-মায়েরা যার-তার হাতে সন্তানের শিক্ষাটা তুলে দিচ্ছেন। আসলে আমি ভাবছিলাম, ভালোবাসা কী আমাকে জিঘাংসু হতে শেখায়? যাকে ভালোবাসতাম, তার সামনের শুভ্র-সুন্দর দিনের সম্ভাবনা থাকলেই কেন পুরোনো প্রেমিক তার গর্দান নিতে দৌড়ে যায়? তাহলে কেন এই ভালোবাসা? তা কেবলই ভোগের জন্য? ক্ষতিই যদি করতে চাই, তাহলে তো সে আমার নিজের হলেও তার ক্ষতিতে আমার কিছু যেত আসতো না! কী ভয়ংকর আমাদের রূপ! কী ভীষণ স্বার্থপর আমরা!!
ভালোবাসা যেন কেবল আমারই কোর্টের বল! তার অন্যথা হলেই, ভোগ করতে না পারলেই পাশবিক রূপ বের হয়ে পড়ে। এই ইন্দ্রিয়ের ভালোবাসার নামই আসলে ভালোবাসা-- লোকে যাকে প্রেম নাম কহে। আমার দেহ, আমার চোখ, আমার কানকে তুমি যতক্ষণ সার্ভিস দিচ্ছ -- ততদিন আমি ভালো, তোমায় ভালোবাসি। এর অন্যথা হলেই তোমায় ঘৃণা করি। আবার এই দামী জীবনটা যাদের বছরের পর বছরের কষ্টে, ক্লেদে, পরিশ্রমে বেড়ে উঠেছে -- সেই মা-বাবা, ভাই-বোনেরাও দুধভাত হয়ে যায় একটা পুরুষ বা নারীর জন্য, যে আসলে তার ফিটনেস পরীক্ষায় পাসও করেনি। হয়ত প্রিয়জনদের কয়েক যুগের অপজিটে দশদিন কনসিস্টেন্সি রাখার যোগ্যতাও তার নেই।
যিনি আমার দেহের প্রতিটি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ তৈরি করেছেন অপরূপ সুষমায়, যিনি আমাকে জ্ঞান-বুদ্ধি-মেধা দিয়েছেন তাকে ভালোবাসার কথা ভেবেও দেখিনা কখনো। উনি যদি "তোমার জন্য এত করলাম, তুমি আমার দিকে ফিরেও দেখলেনা, এখন তোমার খবর আছে" বলে আমাদের দেখে নিতেন -- হলফ করে বলতে পারি এই পৃথিবীময় কেবল ছাই দেখা যেত কমপক্ষে। আমার এই ভালোবাসা কাকে দেবো বলে অনেকদিন ফ্যা-ফ্যা করে ঘুরে বেড়িয়েছি। জনমভোর বিদঘুটে ঘটনা, অপবিত্র-অশ্লীল ঘটনার মূলে আমাদের সমাজের লোকের কাছে শেখা "ভালোবাসা"কে খুঁজে পেয়ে আমি ক্লান্ত হয়েছি।
তারপর, একদিন সংকল্প করেছি ভালোবাসাকে নষ্ট হতে দেবো না। সুন্দরতম, প্রিয়তম, প্রেমময়, অন্তরতম জন, যিনি সবসময় আমাকে ভালোবাসতেন, ভালোবাসবেন -- আমি তাকেই ভালোবাসবো। সবচাইতে বিপদের দিন যখন জগতের কেউ আমার পাশে আসবে না-- সেদিন যিনি বিচারকের সামনে আমার পক্ষে হয়ে কথা বলবেন -- তাকে ভালোবেসেই আমি স্বার্থপর হবো। এই স্বার্থপরতায় জগতে ক্ষতি নেই, এই প্রেমে নেই উন্মাদনা, নেই প্রচলিত নোংরা পরিণতি। এই ভালোবাসাতে হোক আমার জগত ভালোবাসাময়। এই ভালোবাসা ছড়িয়ে যাক সৃষ্টি চরাচরে, আমি চাই প্রেমময় পৃথিবী, আমি অর্থহীনতার মাঝে আমার ভালোবাসাকে উজাড় করে দিতে চাইনা। এক ভালোবাসাতেই ভালোবাসা ছেয়ে যাবে আমার চারপাশের মানুষের প্রতি। সবাই পাবে স্বার্থহীন ভালোবাসার স্পর্শ। যার পাওনা কেবল অনন্ত জগতেই, এই ক্ষুদ্র জীবনে তাই ভোগের স্বপ্ন নেই। অথচ সুন্দরতম ভালোবাসা আমি পাবই ইনশাআল্লাহ। এই স্বপ্নটাও দেখতে পারি কেবল উনাকে ভালোবাসবো বলেই! আর তাইতো আমি আর কাউকে হন্তদন্ত হয়ে প্রশ্ন করবো না -- "সখী, ভালোবাসা কারে কয়।"
সবাই বলতো দেবদাসের কথা। সেই কিশোর বয়সেই হাতে তুলে নিলাম শরৎ রচনাসমগ্র। পথের দাবী, দেবদাস, বড়দিদি, মেজদিদি ছিলো আজো মনে রাখার মতন। কিন্তু দেবদাসের জীবনটাও সেইরকম "ভালোবাসার"। পড়তে পড়তে স্বভাবসুলভভাবে নিজেকে বসিয়ে দিতাম দেবদাসের জায়গায়। পার্বতী এলোচুলে যখন বাসায় বসে, আমি বহুদূর থেকে ফিরে তাদের বাড়িতে গিয়ে পার্বতীকে দেখে মুগ্ধ হয়ে যাবার চেষ্টা করলাম কল্পনায়। তারপর নিজের সমস্ত বিশেষত্ব, প্রতিভা জলাঞ্জলি দিয়ে শহরে "ভালোবাসায়" চুর হয়ে চন্দ্রমুখীর বাহুবন্ধনে জ্ঞানহারা হবার ব্যাপারটাতে নিজেকে কিছুতেই বসাতে পারিনি। শেষ পর্যন্ত মৃতদেহ যখন পার্বতীর বাড়ির সামনে পড়ে থাকলো --তখনো সেই "ভালোবাসার" স্বরূপ উদঘাটনপূর্বক অনুভব করতে না পারার কষ্টে আমি দেবদাসের বিশেষত্ব নিয়ে গল্প করিনি। এই মুভি (বাংলা বা হিন্দী) কোনটাই দেখতে যাইনি। আমি বইয়ের প্রতিটি লাইন যেভাবে গভীরতায় অনুভব করেছিলাম, চলচ্চিত্র সেখানে কোন প্রকৃত "ভালোবাসা" চেনাতে পারবে বলে বিশ্বাস করিনি।আরেকটু বড় হতেই হাবিবের গান খুব ভালো লাগতো -- "দিন গেলো তোমার পথ চাহিয়া, মন পোড়ে সখী গো কার লাগিয়া, সহেনা যাতনা, তোমারো আশায় বসিয়া, মানেনা কিছুতে মন আমার যায় যে কাঁদিয়া, পুড়ি আমি আগুনে..." তারপরের লাইনে ছিলো "যার কথা মন ভেবে যায়, যার ছবি মন এঁকে যায়, যারে হায় এ মন যায়, জীবনে পাবো কি তার দেখা"... শুনতে এত ভালো লাগতো যে কারো জন্য "মন পোড়াতে" ইচ্ছে করতো। শেষের লাইনটা হতাশার -- জীবনে পাবো কি তার দেখা। সুরের মূর্ছনায় ডুবে সব জলাঞ্জলি দিয়ে "কারো জন্য" অপেক্ষার ব্যাপারটাতেই "ভালোবাসা" পাওয়া যায় বলে বোদ্ধা বন্ধুদের দাবী ছিলো। আমি আরেকটা স্বরূপ পেলাম, যাকে ঠিক বিশেষায়িত করতে পারলাম না তখনো।
টাইটানিক মুভিটিতে নাকি কেট আর ডিক্যাপ্রিওর ছিলো অমর প্রেম, অনবদ্য ভালোবাসা। ভালোবাসার খোঁজে সেই মুভিটাও দেখেছিলাম। কিশোর ছেলের জন্য উষ্ণতা দেয়া ছাড়া, আর বিশাল টাইটানিকের ডুবে যাওয়ার মাঝে আমি "ভালোবাসা" খুঁজে পাইনি। তারপর "দিলওয়ালে দুলহানিয়া লে যাউঙ্গা" দেখতে বসেছিলাম -- সেটাও বন্ধুদের দাবীর "অপার ভালোবাসা" খুঁজে পেতে। পারিবারিক কোন্দলকে বাড়িয়ে দেয়ার "চলচ্চিত্র" কাহিনীর মাঝে বাস্তবিক "ভালোবাসা" আমার খুঁজে পাওয়া হয়নি। শুধু নায়িকার রূপসৌন্দর্যে নিজের ভিতরের বুভুক্ষু প্রেমিকটা আরেকটু 'বিরহে' পড়ে গিয়েছিলো।
এই কাহিনীর ফিরিস্তি দিতে গেলে ক্লান্ত পরিশ্রান্ত হয়ে যাবো। হয়ত এরকম আরো অন্তত ৫০গুণ লাইন লিখতে হবে -- কেবল অভিজ্ঞতা তথা অনুভূতি/ভাবনা শেয়ার করা হবে। কিন্তু আসল কথা হলো--সবকিছুর পরেও ছিলাম অন্ধকারেই। এরপর তারুণ্য পেরিয়ে যৌবনে এলাম। চারপাশে যৌবনের জয়জয়কার। এই যৌবন কোন বাধা মানে না। এই যৌবনে আছে "ভালোবাসা" যেটা বাবা-মায়ের অগোচরে রোমান্টিক হওয়া। সিনেমার নায়িকাদেরকে নিজের "প্রেমিকা", যাকে "তোমাকে ভালোবাসি" বলে অ্যাচিভ করা হয়েছে তার মাঝে খুঁজে পাবার শত চেষ্টা। কত বান্ধবীর যে পোশাক বদলে গেলো প্রেমের ফলে! বলাই বাহুল্য, এটুকু আমি শিখেছিলাম যে অপার ভালোবাসায় পতিত হবার পর সেটা যখন শেকলে আবদ্ধ হয় -- তাকে প্রেম বলে। সবই আমার শেখা --আমার পারিপার্শ্বিকে আমি জীবনে এই শিক্ষাটা সস্তায় এবং সর্বাধিক পেয়েছিলাম -- 'ভালোবাসা কারে কয়'। দুঃখের ব্যাপার হলো -- আমি বুঝিনি। আমি ভালোবাসার "ডেফিনিশান"টাই বুঝিনি।
কোথায় আমার লাইলি-মজনু, শিরি-ফরহাদ, রোমিও-জুলিয়েট, দেবদাস-পার্বতী, অপূর্ব-প্রভা, শাহরুখ-গৌরি সবাই আমাকে এমন কিছু দিয়ে গেলো। যা আমার জীবন দিয়ে অর্জন করা সম্ভব না। আমি ধুম করে মরে যেতে পারবো না এমন কারো জন্য যে আজ না হয় কাল মরেই যেতো। আমার যেই জীবনটার জন্য আমি দুই-তিনটি বছরের কোনরাতেই মা-কে ঘুমাতে দেইনি, লাথি দিয়ে, পেশাব করে, চিৎকার করে জীবনটা ফ্যানা ফ্যানা করে দিয়েছিলাম যেই মা'র, তার কথা না ভেবে আমি একটা নারীর জন্য মৃত্যুকে আলিঙ্গন করে অমর "প্রেম" রচনা করে ভালোবাসার সাক্ষর রেখে যাবো বলে বিশ্বাস করিনা, করিনি।
কবিগুরু আমার মত করেই প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়েছিলেন, হয়ত সেদিনও উনি কনফিউজড ছিলেন (কবিতাটির ব্যাকগ্রাউন্ড জানিনা বলে ইউজ ভুল হতে পারে)। বেশ মজার লাইনগুলো। কবিতাংশটা অনেকটা এরকম --
তোমরা যে বল দিবস রজনী
'ভালোবাসা, ভালোবাসা' -
সখী ভালোবাসা কারে কয়?
সে কি কেবলই যাতনাময়!
সে কি কেবলই চোখের জল? সে কি কেবলই দুখের শ্বাস?
লোকে তবে করে কি সুখেরই তরে এমনই দুখের আশ!
ক্যারিয়ারের চিন্তা করে বহু সায়েন্সের বন্ধুদের জিজ্ঞেস করেছিলাম, বাংলা-ইংরেজি পড়বি? ওদের উত্তর ছিলো -- তাদের চাকরি-বাকরি নাই, এই জিনিস পড়ার প্রশ্নই উঠেনা। সবচাইতে কম চিন্তার গভীরতাসম্পন্ন বন্ধুরাও এই উত্তরটাই দিতো। কী চিন্তা! যেখানে বিশেষ "লাভ" নেই বলে জানে, সেখানে পা দিবে না -- এটাই সুস্থ মানবিক গুণাবলী। অথচ, নিশ্চিত "দুখের শ্বাস" সমৃদ্ধ ভালোবাসাতে কারো আগ্রহের কমতি থাকতো না। আমি জীবনের বহুবছর এই "ভালোবাসা" নাক জিনিসটার সঠিক কোন সংজ্ঞা পাইনি। উইকিপিডিয়া টাইপের সাইটের লিঙ্ক দিয়ে লেখাটার ভার বাড়াতে চাইছিনা। সংজ্ঞার চাইতে অনুভূতিটা নিয়েই ভাবছি আপাতত।
আমার বন্ধু ছিলো -- ধরি তার নাম আকাশ আর তার প্রেমিকা নীলা। তিন বছর সম্পর্কের পর তারা পরষ্পরের নামে এমন সব কথা বলে বেড়াত নিজ নিজ মহলে। যেই কথা শুনলে, তার অশ্লীলতা চিন্তা করলে কানে আঙ্গুল দিয়েও নিবৃত্ত হতে পারিনি। প্রভা-রাজিবদের ঘটনাগুলো সেলিব্রিটি বলে কানে এসেছে -- অমন দেহসর্বস্ব ভালোবাসা এখন তারুণ্যের মাঝে খুব খুব বেশি এভেইলেবল। আর এই ঘটনাগুলোও একই ছাঁচে বাঁধা। যার জন্য পরান দিওয়ানা বলে সবাই জানতো -- কোন এক সময়ের স্রোতে তার প্রতিই ঘৃণা, ক্রোধ জমা হয়ে জিঘাংসা তৈরি হলো... সবচাইতে আশ্চর্যজনক বিষয় হলো -- ভালোবাসি ভালোবাসি বলে যার নাম বলে এসেছি "রিলেশনশিপ স্ট্যাটাসে", পরমূহুর্তে তাকেই "খারাপ, ঘৃণা করি" বলে চিৎকার করার মাঝে যে নিজেরই অতীতকে অস্বীকার করা হয় -- সেটা কেন কারো মাথায় আসে না?
আমি ভালোবাসা কারে কয় জানিনা। তবে বুঝেছি এই ভালোবাসা আমরা শিখেছি নাটকের সুন্দরী মেয়েটার প্রতি ছেলেটার শব্দচয়ন থেকে। সিনেমায় ক্যাটরিনা কাইফের, প্রিয়াংকা চোপড়ার হাসিতে মুগ্ধ হয়ে যাওয়া শাহেদ কাপুরদের অস্থির আচরণ থেকে। আমি পথ চলতে দেখি "দীঘল কালো চুলের বাঁধনে বাঁধুন প্রিয়জনকে", ভুরু প্লাক করে, চুল সিল্কি করে নিজেকে সুন্দর করে উপস্থাপন করে "ভালোবাসা" ধরে রাখাটা শিখেছি "গীত, কাহানি ঘর ঘর কী" টাইপ শত-সহস্র সিরিয়াল থেকে। আমার জীবনের সবচাইতে "ক্রুশিয়াল, সফিস্টিকেইটেড" তথা গুরুত্বপূর্ণ আর সংবেদনশীল শিক্ষার ভার আমি টেলিভিশনের থেকে, প্রথম আলোর নকশা আর আনন্দ আলোর পাতা থেকেই শিখছি। অথচ ঢাকার সবচাইতে দামী টিচার "আজমল" স্যারের বাসায় লাইন ধরে অ্যাডভান্স ভর্তি হয়ে নিশ্চিত করি জীববিজ্ঞান শিক্ষা।
আসলে পুরো ব্যাপারগুলোই কেবল বয়ে যেতে দেয়া! সবাই চিন্তা ছাড়াই চালিয়ে দেয়। স্কুল-কলেজের রেজাল্টটা দেখা যায় তাই বাবা মা কনসার্নড। কিন্তু জীবনের এই শিক্ষাগুলোর পরীক্ষার মার্কসগুলো দেখা যায়না বলেই এই আধুনিক বাবা-মায়েরা যার-তার হাতে সন্তানের শিক্ষাটা তুলে দিচ্ছেন। আসলে আমি ভাবছিলাম, ভালোবাসা কী আমাকে জিঘাংসু হতে শেখায়? যাকে ভালোবাসতাম, তার সামনের শুভ্র-সুন্দর দিনের সম্ভাবনা থাকলেই কেন পুরোনো প্রেমিক তার গর্দান নিতে দৌড়ে যায়? তাহলে কেন এই ভালোবাসা? তা কেবলই ভোগের জন্য? ক্ষতিই যদি করতে চাই, তাহলে তো সে আমার নিজের হলেও তার ক্ষতিতে আমার কিছু যেত আসতো না! কী ভয়ংকর আমাদের রূপ! কী ভীষণ স্বার্থপর আমরা!!
ভালোবাসা যেন কেবল আমারই কোর্টের বল! তার অন্যথা হলেই, ভোগ করতে না পারলেই পাশবিক রূপ বের হয়ে পড়ে। এই ইন্দ্রিয়ের ভালোবাসার নামই আসলে ভালোবাসা-- লোকে যাকে প্রেম নাম কহে। আমার দেহ, আমার চোখ, আমার কানকে তুমি যতক্ষণ সার্ভিস দিচ্ছ -- ততদিন আমি ভালো, তোমায় ভালোবাসি। এর অন্যথা হলেই তোমায় ঘৃণা করি। আবার এই দামী জীবনটা যাদের বছরের পর বছরের কষ্টে, ক্লেদে, পরিশ্রমে বেড়ে উঠেছে -- সেই মা-বাবা, ভাই-বোনেরাও দুধভাত হয়ে যায় একটা পুরুষ বা নারীর জন্য, যে আসলে তার ফিটনেস পরীক্ষায় পাসও করেনি। হয়ত প্রিয়জনদের কয়েক যুগের অপজিটে দশদিন কনসিস্টেন্সি রাখার যোগ্যতাও তার নেই।
যিনি আমার দেহের প্রতিটি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ তৈরি করেছেন অপরূপ সুষমায়, যিনি আমাকে জ্ঞান-বুদ্ধি-মেধা দিয়েছেন তাকে ভালোবাসার কথা ভেবেও দেখিনা কখনো। উনি যদি "তোমার জন্য এত করলাম, তুমি আমার দিকে ফিরেও দেখলেনা, এখন তোমার খবর আছে" বলে আমাদের দেখে নিতেন -- হলফ করে বলতে পারি এই পৃথিবীময় কেবল ছাই দেখা যেত কমপক্ষে। আমার এই ভালোবাসা কাকে দেবো বলে অনেকদিন ফ্যা-ফ্যা করে ঘুরে বেড়িয়েছি। জনমভোর বিদঘুটে ঘটনা, অপবিত্র-অশ্লীল ঘটনার মূলে আমাদের সমাজের লোকের কাছে শেখা "ভালোবাসা"কে খুঁজে পেয়ে আমি ক্লান্ত হয়েছি।
তারপর, একদিন সংকল্প করেছি ভালোবাসাকে নষ্ট হতে দেবো না। সুন্দরতম, প্রিয়তম, প্রেমময়, অন্তরতম জন, যিনি সবসময় আমাকে ভালোবাসতেন, ভালোবাসবেন -- আমি তাকেই ভালোবাসবো। সবচাইতে বিপদের দিন যখন জগতের কেউ আমার পাশে আসবে না-- সেদিন যিনি বিচারকের সামনে আমার পক্ষে হয়ে কথা বলবেন -- তাকে ভালোবেসেই আমি স্বার্থপর হবো। এই স্বার্থপরতায় জগতে ক্ষতি নেই, এই প্রেমে নেই উন্মাদনা, নেই প্রচলিত নোংরা পরিণতি। এই ভালোবাসাতে হোক আমার জগত ভালোবাসাময়। এই ভালোবাসা ছড়িয়ে যাক সৃষ্টি চরাচরে, আমি চাই প্রেমময় পৃথিবী, আমি অর্থহীনতার মাঝে আমার ভালোবাসাকে উজাড় করে দিতে চাইনা। এক ভালোবাসাতেই ভালোবাসা ছেয়ে যাবে আমার চারপাশের মানুষের প্রতি। সবাই পাবে স্বার্থহীন ভালোবাসার স্পর্শ। যার পাওনা কেবল অনন্ত জগতেই, এই ক্ষুদ্র জীবনে তাই ভোগের স্বপ্ন নেই। অথচ সুন্দরতম ভালোবাসা আমি পাবই ইনশাআল্লাহ। এই স্বপ্নটাও দেখতে পারি কেবল উনাকে ভালোবাসবো বলেই! আর তাইতো আমি আর কাউকে হন্তদন্ত হয়ে প্রশ্ন করবো না -- "সখী, ভালোবাসা কারে কয়।"
আমাদের লেখালেখি, সাহিত্য এবং শেষ নিয়ে কথা
শীর্ষেন্দুর বইয়ের প্রতি আমার একটা বিশেষ দুর্বলতা ছিলো -- সেটা পার্থিব পড়ে খুব বেশি মনে হয়েছিলো। ভাবনার গভীরে, চরিত্রগুলোর প্রতিটির চিন্তাধারাকে পাঠক হিসেবে এক্সপ্লোর করার ব্যাপারটা অত্যন্ত আনন্দের সাথে উপভোগ করতাম। চয়নের অনুভূতিগুলো যেন বুঝতে পারতাম, হেমাঙ্গের কথাও মনে হয় আজো। কী যেন নাম ছিলো মেয়েটার ঝিমলি নাকি অঞ্জলী আর একটা প্রবাসী মেয়েটা -- তাদের চরিত্রের স্বরূপগুলো অনুভব করতে পেরেছিলাম এটা মনে আছে। প্রায় বছর দশেক আগের স্মৃতি হিসবেও এই স্মৃতিচারণ মন্দ হলোনা!
১২ অক্টো, ২০১১
অনিবার্য সেই সময়ের প্রতীক্ষায়
নিউজার্সি, টেক্সাস, প্যারিস, লন্ডন, শিকাগো, ক্যানবেরা, জেনেভা কেন্দ্রিক এই পৃথিবীতে আমাদের চলাচলের যান হবে ইচ্ছে হলেই টেক অফ করবে এমন এক 'অটোকার'| ত্রিমাত্রিক অবয়বের মানুষটির চিত্র এসেই সামনে বা পাশে বসে কথা বলবে মোবাইল ফোন অন করার সাথে সাথে। সুশোভিত হবে কল্পনাকে ছাড়িয়ে চলে এই সভ্যতার। সেই সাথে সেখানে থাকবে অবর্ণনীয় কষ্টে থাকা মানুষ। দু'বেলা খেতে পাবেনা তারা। যেভাবেই হোক বড়লোক হবার প্রবল আগ্রহে ছুটে চলা মানুষরা কেউ কাউকে ছেড়ে কথা কয়না এখনই। ভোগ করতে চাওয়ার প্রবল আগ্রহে অন্যকে ঠকিয়ে, সুদ-ঘুষে জমানো টাকা দিয়ে গার্মেন্টসের মালিক -- যিনি গাড়ি কিনে স্ত্রী সন্তান নিয়ে 'আউটিং' এ যাওয়া হাসমত সাহেব একদিন ধুম করে টিপু মাস্তানের গুলিতে মরে যাবে। ভোগের প্রবল স্বপ্নে কখনই সময়মত ফিরতে না পারা হাসমত সাহেবের ছেলেটা কৈশোরেই 'টাইমপাস' করতে বান্ধবী আর নেশার মাঝে আটকে গেছে তা জানবেনও না। এক অনিবার্য পরিণতিতেই সন্তানের হাতে শূণ্য হবে ''হাসমত গার্মেণ্টস এন্ড ডাইং''।
কাউকে ঠকিয়ে বড়লোক হলে দারিদ্রের সীমানার নিচে থাকা খুপড়ির ঘরের ছেলেটা কীভাবে চেয়ে চেয়ে সহ্য করবে সামনের রাস্তার পার্লারে লিসা আর সিমি হাজার হাজার টাকা দিয়ে পার্লারে ত্বক আর চুলের যত্নেই কাটিয়ে যাচ্ছে দিনের অনেক সময়। এই ক্রমঃবর্ধমান ব্যবধানই একটা অবধারিত সময়ের দিয়ে বয়ে নিয়ে যাবে।
১১ অক্টো, ২০১১
আমি অপার হয়ে বসে আছি
"আমি অপার হয়ে বসে আছিগানটার কথা হঠাৎই মনে পড়ে গেলো। লালনের এই গানটা কবে শেষ শুনেছিলাম জানিনা। কিন্তু এখন মনে পড়লো কারণ বারবার মনে হচ্ছে আমি তো অপেক্ষাই করছি। এটাকে কি অপার হয়ে বসে থাকা বলে? অপার শব্দটার মানে আমি অনলাইনে ঘাঁটাঘাঁটি করে কিছু পেলাম না। পার হওয়া মানে তো অতিক্রম করা। ''অ' উপসর্গটা এখানে 'না-বোধক' যুক্ত হয়ে সম্ভবত অপার এনেছে। অর্থাৎ অতিক্রান্ত হতে না পারাকে অপার হওয়া। অপার হয়ে বসা থাকা মানে তীরে এসে অপেক্ষা করা। কেউ এসে পার করে দিবে। অপর পাড়ে যাবো। তখন পার হবো। যতক্ষণ না পার হতে পারছি না, ততক্ষণ অপার হয়ে বসে আছি।
ও হে দয়াময়
পারে লয়ে যাও আমায়" ...
এতে সদস্যতা:
পোস্টগুলি (Atom)




