৩০ জানু, ২০১১

নীরবতা হীরন্ময়

খনো ভাবিনি এরকম কিছু লিখতে বসবো। কিন্তু কিছু কথা আজ বলতে ইচ্ছা করছে। এই কথাগুলো আমার বিগত জীবনে আবিষ্কার করা একদম গভীর উপলব্ধি থেকে বলা। 

ছোটবেলা থেকেই যে শিক্ষায় আমি বড় হয়েছি, তা ছিলো একটা পূর্ণাঙ্গ ইসলাম। যেই ইসলামের অর্থ শান্তি। যেই শান্তির পরশ শুধু এই জাগতিক জীবনকে ছাড়িয়ে অনন্তকালের আখিরাতকেও পূর্ণ করে। এই শান্তি জীবনের প্রতিটি ভাবনা, চিন্তা আর ব্যবহারের মাঝে প্রতিফলিত হয়। আচরণে আর মনের কাছে 'তীব্র' অনুভূতিগুলোকে শীতল সঞ্জীবনীর স্পর্শে স্বাভাবিক গ্রহণীয় করে তোলে। তখন আর মানুষ কিছুতেই 'হায় হায় সব চলে গেলো', '"এ জীবনের আর কী পেলাম" -- জাতীয় ভাবনা থেকে বহুদূরেই থাকে। জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপেই বোধকরি তাই আমি 'এক্সট্রিম' হতে পারিনি। ব্যক্তিগতভাবে আমার সবসময়েই এটা নিয়ে একটা হালকা আক্ষেপ মতন ছিলো। কিন্তু কিছু স্বভাব মানুষের বদলে ওঠা ব্যাপক কষ্টসাধ্য, তার ভিন্নরূপ সঠিক পথকে খুঁজে বের করা তখন জরুরী হয়ে পড়ে। ধীরে ধীরে এই জ্ঞানের মাঝে আবিষ্কার করলাম কিছু সুন্দরতম পথনির্দেশনা। আমার মহান রব, যিনি বিশ্বজাহানের প্রতিপালক তিনি আমাকে নিকটবর্তী আর অত্যন্ত কল্যাণকর একটা পথের নির্দেশনা দিয়েছেন পবিত্র কুরআনুল কারীমেই। যার নাম এক কথায়-- মধ্যমপথ।

আমার দুঃখিনী মায়ের প্রতি

মা, আজ তোমার কাছে নতজানু হয়ে ক্ষমা চাইছি মা। সত্যি বলছি মা, খোদার কসম, আমার চোখে অশ্রু বয়ে চলেছে অবিরাম। মা জানো, আমি এই দুঃখবোধকে কীভাবে চাপাবো জানি না, তাই তোমাকে লিখতে বসেছি মা। জানি তুমি পাবেনা, জানি নপুংসকের দল তার আগেই এটা কেড়ে নেবে। তবু তোমায় না লিখলে আমার অপরাধবোধগুলো যে আমাকে কুরে কুরে খাবে গো মা!


মা, সে-ই কবে তুমি আমাদের মা হয়েছিলে বলতে পারো? আজ অনেক বছর হলো, তাইনা? তোমার সন্তানেরা এলো তোমার কোল জুড়ে। কত স্বপ্নই না ছিলো তাদের নিয়ে তোমার। তুমি স্বপ্ন দেখতে চেয়েছিলে একদল সুন্দর প্রজন্মের। তারা আকাশে বাতাসে আনন্দের হর্ষধ্বনি করবে... তারা তোমার মুখে হাসি ফোটাবে। সেই স্বপ্ন তো তোমার অমূলক ছিলো না গো মা। তুমি তো কম কষ্টে মা হওনি। তুমি দেখেছিলে, তোমার জন্য কতগুলো প্রাণ তাদের বুকের তাজা খুন ঝরিয়েছিলো। তুমি জানতে একদিন তুমি মুক্তি পাবে। সেদিন তোমার সন্তানেরা তোমার মুখ উজ্জ্বল করবে। এই আশা করাটা তোমার অধিকার ছিলো-- তুমি তো আর কম কষ্ট সহ্য করনি!

মা গো, তুমি চল্লিশটা বছর ধরে দেখছো মা-- কী অবর্ণনীয় নোংরা হয়েছে তোমার সন্তানেরা। মা গো, আজ তোমারই বাড়ির সীমানায় কতগুলো অসচ্চরিত্র, লাজহীন মেয়েদের উলঙ্গ নৃত্য দেখতে খরচ করছে তোমারই সন্তানেরা। এক ভাই যখন একবেলা খেতে পায় না, তখন হাজার হাজার টাকা খরচ করে আরেকজন প্রমোদানন্দ করে মা, তার অনেক খায়েশ! মা, এসব তো তোমারই দোষ। তুমি ভেবেছিলে তোমার এক সন্তান অপরজনকে না দিয়ে খাবে না। তুমি ভেবেছিলে তারা একে অপরের সাথে মন খুলে আলাপ করবে, অপরের ভুল দেখলে প্রতিবাদ করে তাকে শুধরে দেবে। তারা ভালোবাসার এক পরিবার রচনা করবে! কোথায় গো মা? এতগুলো বছর পর তোমার সন্তানেরা অনেক দল হয়েছে। তাদের মধ্যে যারা শক্তিশালী, তারা আজ অপর সবাইকে ছুরি চাকু দিয়ে হত্যা করতে চায়। কেউ চায় তার অর্থ দিয়ে সবকিছু কিনে অন্যদের ভিটেছাড়া করতে। মা গো, তুমি এই-ই চেয়েছিলে?

পড়শিদের সুন্দরী মেয়েগুলো যখন স্বল্পবসনে ঘুরে বেড়ায়, আমার বেশিরভাগ ভাইগুলো তাদের গিলে গিলে খায়। ওই বাড়ির লম্পট ছেলেটা দেখতে সুন্দর হলেও আমার বোনেরা ওর ঠোঁটের স্পর্শ পাওয়ার জন্য লাইন ধরে দাঁড়ায়, জানো মা? ওরা জানে আমাদের এই দুর্বলতা, আর তাই সুযোগ পেলেই মেয়েগুলো আর ছেলেগুলো আমাদের আঙ্গিনায় আসে, ঢলাঢলি করে, তারপর অনেক টাকা নিয়ে চলে যায়। আমি জানি মা, এসব কথা জেনে তুমি কখনই সহ্য করতে পারবে না, কিন্তু মা এই সত্য তো একদিন না একদিন তুমি জানবেই। একদিন হয়ত ওদের বাড়ির মেয়েগুলো, ওদের বাসার সুন্দর গাছ আর জলাশয়ের লোভে তোমাকেই বেচে দিতে পারে ওরা! -- এই আশংকা আমায় স্বস্তি দেয় না গো মা।

আমরা তোমাকে মা মা করে চিৎকার করেছি, তোমার মাটিকে সোনা সোনা বলে দাবী করেছি। আবার তোমাকেই বেচে দিতে যাছি পড়শিদের কাছে। মা, এই অসহায় সন্তানকে ক্ষমা করো। মা, এই দুর্বল সন্তানটা তোমাকে অনেক ভালোবাসতো মা। মা, আমার চোখের ঝরঝর ঝরে যাওয়া অশ্রুগুলো কেবলি তোমাকে ভালোবেসে-- বিশ্বাস করো। তোমাকে ওরা কীভাবে কলংকিত করতে পারে ভেবে আমি শিউরে উঠছি ক্রমাগত। মা গো, আমার ভাইগুলোকে অনেক বুঝাতে চাইছি, চেয়েছি। কিন্তু ওরা একদম মজে গেছে মা। শরাব, অর্থ, নারীর লোভে ওরা ভুলেই গেছে এই সম্পত্তি, এই বাড়িঘরের দেখাশোনার দ্বায়িত্বটা তুমি কতটা আদর করে দিয়েছিলে আমাদের।


ওরা আজ তোমার প্রতি ভালোবাসার অনুভূতি নিয়ে ব্যবসা করে। মা, বড় বোন মাঝে মাঝেই পড়শির বাড়ি বেড়াতে যায়। ফিরে এসে আমাদের নতুন নতুন আদেশ করে। জানো, সবগুলো কাজই কেমন যেন অদ্ভূত, তবু পালন করি। তুমি তো শিখিয়েছিলে বড়দের নির্দেশ পালন করতে! আমি তো তোমার কথাগুলো শুনি, ওরা কেন তবে এমন? ওরা কেন তোমার প্রতি সমস্ত প্রতিজ্ঞাই ভুলে গেলো?


আমি জানিনা আমার কী হবে। আমি জানিনা তোমার কী হবে মা। আমাকে ক্ষমা করিও। আমাকে ক্ষমা করিয়ো। আমি জানি তুমি আমার দুখিনি মা। তোমাকে কিছু দিতে পারলাম না মা। আমি ভীষণ লজ্জিত, মাগো! আমায় ক্ষমা করো।
---------
 ২৬ ডিসেম্বর ২০১০, দুপুর ০৩:৩০

জানি চলে যাবো একদিন

জানি একদিন চলে যাবো।
এই সকালের ঘাসগুলো আর আমার পায়ের স্পর্শ পাবেনা।
জানি সেদিন ঝরে যাওয়া পাতাদের আর কেউ মাড়িয়ে ঝুরঝুর করে দেবেনা।

জানি আটকে পড়া চড়ুইটাকে আর আমার মতন করে কেউ জানালা দিয়ে বের করে দেবেনা।
এই আমার আর পথ চলতে চলতে থেমে যাওয়া ঠেলাগাড়িটাকে ঠেলে দেয়া হবেনা।

সেদিন যেমন মায়ের কপালে হাত বুলিয়ে দিচ্ছিলাম তখন মনে হচ্ছিলো-- কতদিন আমার মামণিকে এভাবে পাবো জানিনা! এই মায়ের কোলে কোলেই বড় হয়েছি কতগুলো বছর! এই ছোট শরীরটার উপর কতনা পরিশ্রম বাড়িয়েছি সেই ছোট্টবেলায়। মামনির কত রাত যে ঘুম হয়নি আমার জন্য তা তো গুণেও হয়ত শেষ করা যাবেনা!

আজ আদরের ছোট বোনটার সাথে অভিমান করে কথা বলছি না দুপুর থেকে, হয়ত সে এখনো বুঝেনি আমাকে ফেলে রেখে বাসায় চলে এলো বলে এতটা পথ হেঁটে ফিরেছি নিজেকে কষ্ট দিতেই। তবু ওর উপর রাগ করবো না, ভালোবাসা একটুও কমবে না। কালই হয়ত ও চাইবে বলে সন্ধ্যাবেলায় বাইরে ছুটে যাবো সিংগাড়া নিয়ে আসতে।
কারণ, মাঝে মাঝেই মনে হয়-- একদিন হয়ত চাইলেও আর এত কাছে পাবো না, এভাবে করে ভালোবাসতে পারবো না।

মাঝে মাঝে অনেকের উপর অনেক রাগ হয়। অনেক মানুষের উপর! কেন তারা এত কষ্ট দিতে পারে অন্যদেরকে? প্রতিহিংসার আগুনে জ্বলি না। খানিকক্ষণ নিজেকে বুঝাই, রাগ অন্যায়ের জন্ম দেয়...
এই যালিম মানুষদের বেশিরভাগের জন্যই করুণা হয়-- হায়! যদি তোমরাও একটু অনুধাবন করার ক্ষমতা হতো-- এই ছন্নছাড়া অল্প ক'দিনের বেড়াতে আসাটা খুব দম্ভের কিছু নয়।

ইদানিং কারো উপর রাগ করিনা, আক্রোশ দেখাই না। হয়ত কিছুদিন পরেই চলে যাবো একদম সবাইকে ছেড়ে-- এই মাঠ-ঘাট-প্রান্তর আর প্রিয়জনদের ছেড়ে।
সকালের স্নিগ্ধ আলোর পরশ হয়ত সেদিন চলে যাওয়া অনেকের মতন আমিও পাবো না।
রাতের এই জোছনার আলোতে পথে আমার ছায়াটাকে আলাদা করে দেখতে পাবো না। ছায়ার মাথাটাকে পা দিয়ে চেপে দেয়ার চেষ্টা করতে করতে বাসার গেটে চলে আসা হবেনা।

একদিন হয়ত চাইলেও কিছুই বলতে পারবো না, শুধু অনুভব করে যাবো। হয়ত সেদিন সব বুঝেও না বলতে পারার আক্ষেপে যন্ত্রণাদগ্ধ হবো।
অথবা হয়ত একদিন কেবলি ভালোবাসা পাবো। যে ভালোবাসা পেলে আর কিছু লাগেনা! আনন্দে আর স্মিত হাসিতে কেটে যাবে অনন্তকাল।

একদিন......... কতদূরেই না চলে যাবো!!

(পুনশ্চঃ এটা কবিতা নয়, কেবলি স্রোতের মতন করে ভাবনাদের বয়ে যাওয়া)
--------------------------
১৮ ডিসেম্বর ২০১০, রাত ১০:০৭

স্বপ্নগাঁথা রূপকথা

একদেশে এক রাজা ছিল। তার রাজত্বে সুখের অন্ত ছিলো না। রাজ্যের সব লোক সুখে ছিলো। সেই রাজ্যে কেউ মিথ্যা কথা বলতো না। কেউ অভাবে থাকলেও রাজা ও তার মন্ত্রীরা এসে খোঁজ করতো তার খাওয়া দাওয়া চলে কিনা। না হলে রাজকোষ থেকে তাদের সাহায্য করা হতো। মোটকথা, রাজ্যের সবার মুখে কেবলি রাজার গুণগান।

সেই রাজ্য ক্রমাগত বড় হতে থাকলো। রাজার প্রতি অনুগত যোদ্ধাদের সংখ্যাও বাড়তে লাগলো আর তারা সবাই মিলে ছুটে যেতে লাগলো রাজ্যের দৈর্ঘ্য বড় করার জন্য। রাজাও খুশি তার বাহিনীর উপর। তার চাইতে সে আরো বেশি খুশি ছিলো তার রাজকুমারের প্রতি। অমন রাজকুমার পাওয়া আনন্দেরই ব্যাপার বটে। পিতার সমস্ত সুন্দর গুণাবলী রপ্ত করেছিলো সে। রাজকুমারের বীরত্বের গাঁথা-গল্প রাজ্যের রমনীকূলের কানে মুখে চলতো। অমন শৌর্যবীর্যের অধিকারী যেই রাজকুমার, তাকে পছন্দ হবেই না কেন? কিন্তু রাজকুমারের এসবে ভ্রূক্ষেপ ছিলো না। সে জানতো, তার কাজ সে করে গেলে একদিন কুঁচবরণ রাজকন্যার মতন সুন্দরী অপরূপা ঠিকই তার অন্দর আলোকিত করবে।

রাজকুমারকে নিয়ে রাজার অনেক আশা ছিলো। তার আশা, তার মৃত্যুর পর তার ছেলে হাল ধরবে রাজ্যের। কিন্তু সে তার ছেলের বীরত্বের চাইতে তার ছেলের শিক্ষাদানের গুণাবলীতে আরো বেশি আশাবাদী ছিলো। রাজকুমার কখনই তার সিপাহসালারদের রণকৌশল শেখাতে কার্পণ্য করে না। বরং, রাজকুমার চাইতো তার সেনাবাহিনীর সবাই তার মতই অসাধারণ বীরত্ব অর্জন করুক। সবাই যখন ক্ষুরধার যুদ্ধবাজ হবে, তখনই তো তাদের সফলতা!

কিন্তু সেই সুখ বেশিদিন রইলো না। রাজ্যের কিছু হিংসুটে দুষ্ট লোক শত্রুদের রাজ্যের দৈত্যদের সাথে আঁতাত করলো। কিছু দৈত্য মানুষের রূপ ধারণ করে রাজ্যে ঘুরে বেড়াতো। তাদের ডেকে এনে সেই লোকগুলা রাজদরবারের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ফাঁস করতে লাগলো। শত্রুরাও জানলো রাজকুমার আর তার সিপাহসালারদের কী করে ভুলিয়ে রাখা যায়। তারা যদি কিছুদিন তাদের যুদ্ধকৌশল নিয়ে চর্চা না করে, তাহলে ক্রমেই তাদের দুর্বল করে দেয়া যাবে। রাজকুমার আর তার সৈন্যেরা প্রতিদিন কয়েকবেলা করে তাদের নিশানা চর্চা করতো। দৈত্যরা এই জিনিসটাকে খুব ভয় পেতো।

একদিন রাজা চলে গেলেন। নতুন রাজকুমার হবে রাজা। কিন্তু সবাই শোকগ্রস্ত। কেউই কাজে মনোযোগী না। এমন সময়ে দৈত্যরা তাদের মনিবের আদেশে প্রথমে সৈনিকদের লক্ষ্য করলো। সাহায্যকারী লোকদের সাহায্যে কিছু সুন্দরীদের দিয়ে কানপড়া দিলো তাদের। তারপর, সৈনিক, উজীর-নাজির-সিপাহসালাররাও মদ-শূরায় মত্ত হয়ে চিত্তবিভ্রম হয়ে পড়ে রইলো এক নাচনেওয়ালীর আড্ডায়। সেদিন হঠাৎ রাজ্য আক্রমণ হলো। দৈত্যের দল কাউকে রেহাই দিলো না। সমগ্র রাজ্যে রক্তের বন্যা বয়ে গেলো। শুধু রাজকুমারের মতন কিছু বীর, যারা সজাগ ছিলো সেদিন--তারাই কেবল প্রাণ নিয়ে পালাতে পারলো।

রাজকুমার গহীন বনে ছুটে চললো। তার পেছন পেছন ছুটছিলো প্রজাদের অনেকেই। খাল-বিল-নদী-পাহাড় পেরিয়ে তারা ছুটছে তো ছুটছেই। অনেক বছর চলে গেলো, অনেক সময় পেরিয়ে গিয়ে তারা থামলো। গায়ে তাদের ছিন্ন বস্ত্র। বেশিরভাগকেই হারিয়েছে তারা পথে। রাজকুমার একা ছুটে চলছিলো। তার মনে অনেক দুঃখ। বন জুড়ে কেবলি ভয়। একটা বুলবুলি পাখি এলো তার কাছে। রাজকুমারের কাছে কিছু সৈন্য জানিয়েছে তারা বেঁচে আছে, তারা একটু সুস্থ হলেই আবার রাজ্যের খোঁজে যাবে।

এরপর শুধু অপেক্ষার পালা। আশ্রয়হীনভাবে, ছিন্ন পোশাকে কেবলি তারা অপেক্ষায় ছিলো। তারপর একদিন এক পাখি উড়ে এলো তাদের হারানো রাজ্য থেকে। তার পায়ে লেখা চিঠি থেকে জানতে পারলো রাজ্যের শত্রু রাজার মৃত্যু হয়েছে। নতুন রাজা অনেক উদার মানুষ। তাদের ডেকে পাঠিয়েছে। আনন্দভরা মন নিয়ে আবার রাজ্যের পথে বেরিয়ে এলো তারা। পথে অনেকেই যোগ দিতে শুরু করলো। নিজেদের রাজ্যে ফিরে গেলে নিশ্চয়ই তাদের ফেলে দেবে না। তারা সেই রাজ্যে ফিরে গেলে কত আনন্দ হবে, এই ছিলো পথের কষ্ট ভুলে যাবার সবচাইতে বড় সান্তনা।

তারপর সবকিছু ভুলে গিয়ে পথ চলতো রাজকুমার। পথের ক্লান্তি তাকে ছেঁকে ধরতো, বিশালাকার দৈত্যরা পথে আক্রমণ করতো, খাবলে ধরতো গায়ের কাপড়, হত্যা করবে বলে তারা পিছু ছুটতো! কৌশল করে সে পালিয়ে বাঁচতো। রাজকুমার হতাশ হতো না কেননা সে জেনেছিলো একদিন সে তার গন্তব্য পৌঁছবেই। সেদিন তাকে ফুল দিয়ে বরণ করে নেয়া হবে। নতুন রাজকুমারী ফুলময়ী তাকে জানিয়েছে তার বীরত্বের অনেক গল্প শুনেছে সে। কথাটা ভেবে আনন্দে ভরে যায় রাজকুমারের মন। খালি পায়ে কাঁটাভরা পথে হেঁটে চলেছে তো কী হয়েছে? এই পথের শেষ মঞ্জিল হলো এক সুন্দর বাগান দিয়ে। ফুল-ফল-স্বচ্ছপানির স্রোত... সেই অপেক্ষাতেই আছে সে।

স্বপ্ন নিয়েই হেঁটে চলে সে... সুখের দিন তো বেশি দূরে নয়!

----------
১০ ডিসেম্বর ২০১০, রাত ১১:৪৮

২৫ জানু, ২০১১

সাইমুম সিরিজের বইসমূহের ই-বুক লিঙ্ক

আবুল আসাদের অসাধারণ একটি সিরিজ সাইমুম সিরিজ। আদর্শ, কৌশল, অ্যাডভেঞ্চার এবং আরো অনেক অনেক স্বাদের মিলিত লেখনী এই সাইমুম সিরিজ। ছোটকালে পড়া বইগুলোর প্রতি অনেক আবেগ জড়িয়ে আছে আমার। আল্লাহ আবুল আসাদকে উত্তম বিনিময় দান করুন :)


  • এই লিঙ্কে  সাইমুমের অনেকগুলো বইয়ের ডাউনলোড লিঙ্ক পাওয়া যাবে। বইগুলো যদিও স্ক্যান করা, তবু পড়া তো যায়! 

৫ ডিসে, ২০১০

ঔদাসিন্যে চিন্তাবিদ্ধ এইসব দিনরাত্রি

অদ্ভূত সব দিন কেটে যাচ্ছে। ক্রমাগত... ইদানিং একদম লিখতে ইচ্ছে করেনা।  একটা তীব্র অনিচ্ছা আমাকে আষ্টেপৃষ্ঠে বেঁধে রাখে। একটা তীব্র অনাগ্রহ আমাকে ক্রমাগত উদাসীন করে চলেছে সবকিছুর প্রতি... তারই একটা ধকল হয়ত 'না লেখালেখি'। অথচ কিছু ভাবনা যে আমাকে যন্ত্রণাদগ্ধ করেনা, তা না। বরং বিপরীতটাই হচ্ছে। অনেক রকমের 'আনসলভড থিংকিং' আমাকে স্তব্ধ করে রেখেছে!

৩ নভে, ২০১০

পথ চলা, ফিরে দেখা, আর কিছু দীর্ঘশ্বাস

সেদিন সন্ধ্যায় বাড়ি ফেরার আশায় দাঁড়িয়ে ছিলাম ধানমন্ডির এক বাস কাউন্টারের সামনে। পূর্ববর্তী বাস স্টপেজ থেকে বাসগুলো পুরাই ভর্তি হয়ে আসছিলো। অফিসফেরত, কলেজ ফেরত, মার্কেটফেরত লোকজনের ভীড়ে কোন একটা দরজাতে যে জায়গা করে নিবো-- সেই সুযোগও হচ্ছিলো না।

তবু ভাবলাম, তারুণ্যের এই শক্তিকে কাজে লাগিয়ে কোনরকম একটা চিপাচাপায় জায়গা করে নিতেই হবে। ফাঁকা রাস্তায় যেই দুরত্বে লাগে মাত্র ১৫ মিনিট, যখন ব্যস্ত দিনে বাসে চড়ি তখন সেটুকুতেই লেগে যায় দেড় থেকে দু'ঘন্টা (ব্যস্ত ঢাকাবাসীর ভীড়ের মর্জিমতন)। আর সেই বাসটাতে উঠবার সৌভাগ্য অর্জন করতে আবার প্রায় আধাঘন্টা দাঁড়িয়ে থাকতে হয় নিত্য। কিন্তু সেদিন যেন আর তর সইছিলো না...

পরের বাসে সুযোগ করে কোনমতে দরজার সামনেই জায়গা করে নিলাম, অন্ততঃ পথের ধোঁয়া মিশ্রিত বাতাসটা হলেও যেন গ্রহণ করা যায়। নতুবা বাসের ভিতরের দমবন্ধ হয়ে আসা বাতাসে ঘর্মক্লান্ত বাংলার মানুষদের আধা ইঞ্চি দুরত্বে ঠায় দাঁড়িয়ে থাকাটা খুব বিরক্তিকর, অসহায়ত্ব... অসহায়ত্ব বললাম এই জন্য যে, যখন হঠাৎ বাসটা ব্রেক কষে, তখনই আরেকজনের গায়ের উপরে বেঁকে যেতে হয়, আর তখন সেই মানুষটা কিঞ্চিৎ বোধস্বল্প হলেই ঝাড়ি অবধারিত... তখন এরকম একটা অনাকাংখিত ঘটনা নিয়ে ক্লান্ত দেহ আর তিক্ত মনে কী করবো ভেবে খুবই মন খারাপ হয়। তাই, একটু বেশিই সাবধান থাকি...

তবু একটুও স্বস্তি হয়না, নতুন স্টপেজে আরো কিছু মানুষকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখি... আমি যেমন যেভাবেই হোক ওঠার জন্য ত্রস্তব্যস্ত ছিলাম-- এই মানুষগুলোর চোখেও একই দৃশ্য দেখে বড্ড মায়া হয়। কোনরকমে এক পা ঝুলে যেতে চাওয়া ছেলেটাকে জায়গা করে দিলাম সেদিন। আমারই বয়েসি ছেলে। কিন্তু নিজের জায়গাটা হয়ে যাবার পর সে কিছুতেই আর মানুষকে উঠতে দেবে না!! অথচ পরের স্টপেজে দু'জন মানুষ নেমে যাওয়ায় খালি হওয়া জায়গাতে অন্তত একজন গায়ে গা লাগিয়ে হলেও যেতে পারে... অফিসফেরত ক্লান্ত মানুষগুলো কতনা অসহায় হয়ে বাড়ি ফিরতে চায়!! একটু তীক্ষ্ম দৃষ্টি দিলেই আমাদের ঢাকাবাসীদের প্রতি করুণা জেগে উঠবে অন্য যে কোন মানবমনের...

সেই তরুণ ওই দরজার সামনে ঝুলে থেকেই দেশের মানুষকে, রাজনীতিবিদদেরকে গালাগালি শুরু করলো। তার কথার তুবড়িতে সারাদিনের ক্লান্তিকে আরো বেশি নির্মম লাগতে থাকে। পারতপক্ষে অযথা স্থানে এলোমেলো কথা না বলার চেষ্টা করি আমি। তবু তখন ধৈর্য্যের বাঁধ ভেঙ্গে তাকে প্রশ্ন করে বসলাম-- "ভাই, আপনার পক্ষ থেকে সলিউশান বলেন দেখি এই অবস্থার!" সে কিছুই বলতে পারলো না-- যুক্তিহীন কিছু অপলাপ করলো মিনিটখানেক।

এরপর সুন্দরভাবে তাকে যা বললাম গরম মেজাজে তা আমার কাছে ভালোই লেগেছিলো। কথাগুলো এমন ছিলোঃ
-- আমাদের দেশের সরকার মানে আমাদেরই প্রতিচ্ছবি। আমরা যেমন তেমনটাই হচ্ছে, স্রেফ পরিষ্কার ব্যাপার!!
-- একটা ফ্লাইওভার যদি প্রতিদিনের এই যানযটে কোন সুরাহার একটা পদক্ষেপ হয়-- সেইটা বানাতে আপনি রাস্তা খুঁড়বেন-- তখন রাস্তা আরো চিপা হবে-- আরো বেশি জ্যাম হবে...
-- প্রতিদিন অন্তত হাজার মানুষ এই তিলোত্তমা নগরীতে ঢুকে। কেউ বের হয় কিনা জানিনা।
-- রাস্তায় বাসগুলোতে যারা উঠেন, সেই মহিলাদের কোলে-কাঁখে পিচ্চি-পুসকা থাকে, হাত ধরে থাকে আরেকটা...


প্রতিদিন যেই মানুষগুলো ঢাকায় ঢুকছেন-- তারা বাইরে কেন জীবিকার সন্ধান পাচ্ছেন না? সরকার যিনিই আসছেন ক্ষমতার গদিতে-- অদ্ভূত কিছু ইস্যু নিয়ে, আবেগময় কথন দিয়ে আমাদের "ভ্যাকুয়াম হেড" কে ভাসিয়ে নিয়ে চলেছেন বছরের পর বছর... নৈতিক আর ব্যক্তিগত চরিত্রে অতিশয় দীন, হীন রিক্ত নেতা আর রাজনীতিবিদ, সুবিধাভোগী মানুষগুলোর ব্যঙ্ক একাউন্টগুলো অর্থে সিক্ত...

আর আমরা সেই আমজনতা... প্রতিদিন রোদে পুড়ি... ঘামে ভিজি... বৃষ্টিতে সিক্ত হই... প্রায় সমস্ত জাতীয় সুযোগকে করুণার মতন করে পেয়ে চলি... তারপর, পরিষ্কারভাবে দ্বি-বিভক্ত দেশের রাজনীতির কোন এক অংশের অন্ধ আনুগত্যকে আপন করে বিলিয়ে দেই নিজেকে...

হায়! জাতীয় জীবনের অর্থই তো বোধ করি আমরা জানবো না কোনদিন... পৃথিবীটা অনেক সুন্দর আর সহজ হতে পারতো! মাঝে মাঝে নিজের প্রতি, নিজেদের প্রতি বড্ড করুণা হয় আমার!

* * *
১৮ অক্টোবর ২০১০, রাত ০৮:১৫

বদলে যাওয়া নিয়ে কিছু কথা


আমরা উত্তরোত্তর আধুনিক হচ্ছি। উন্নত থেকে উন্নততর।

আগে আব্বা আম্মারা তাদের মধ্যে কথাবার্তা 'মেলামেশা' ছাড়াই বিয়া-শাদী করেছিলেন। সারাটা জীবন কাটিয়ে দিয়েছেন। আমাদের দেখলে গলার কণ্ঠ নামায়া ঝগড়া করতেন। কথায় কথায় তারা বাপের বাড়ি 'যাও', 'যাবো' বলতে পারতেন না, বলতেন না... একাট্টা হয়ে দু'জনে মিলে যুদ্ধ করে সংসার নামের নৌকাটার হাল ধরতেন চরম দুর্দিনেও...

আমরা 'দেখাদেখি' 'মিলামিলি' আর 'মিশামিশি' ছাড়া কল্পনাই করতে পারিনা বিয়েশাদী। আধুনিকা মেয়েরা অচেনা ছেলেদের সাথে বিয়ে করাকে "শুয়ে পড়া" বলে 'ডিনোট' করতে পছন্দ করেন। আধুনিক আমাদের পুলাপাইনরা ফেসবুকে দিনে রাতে স্ট্যাটাস বদলায়া "সিঙ্গেল" থেকে "ইন আ রিলেশনশিপ" আর "ইটস কম্পলিকেটেড" বানায়......ভাইস ভার্সা।

লোকে আমায় কাব্য লিখতে নিষেধ করে

লোকে আমায় কাব্য লিখতে নিষেধ করে
কাব্যে তারা খুঁজে পান স্থবিরতা
কাব্য নাকি কঠিন লাগে!!

অথচ আমি জানি আমি 'কাব্য' লিখতে পারিনা!
আমি চাই শুধু শব্দগুলো দিয়ে অনুভূতির মালা গেঁথে যেতে
অবিশ্রান্ত; অপার ভালোবাসায় আর অনুপ্রেরণায়,
কখনবা হতাশা আর তীব্র কষ্টের অনুভূতিতে।

কাব্য ছাড়া ভালোবাসা কী করে প্রকাশ হবে?
আমার অনুভূতিগুলোর আঁচড়ে কীভাবে
রূপ পাবে শত সহস্র শব্দমালা
আর ভালোবাসার রাতগুলো, স্বপ্নগুলো!


আজ তোমাদের মাঝে এসেছি,
এই জনারণ্যে-- লোকায়তনে
আমাকে ছড়িয়ে দেয়ার অভিপ্রায়ে।
আমার শব্দ আর ঐকতান নিয়ে,
তোমাদের মাঝে মিশে যেতে
আমি এসেছি তোমাদের মাঝে
নিঃসঙ্গ এই সাঁঝে।

ভালো থেকো বন্ধুরা,
আবারো কাব্য! -- তাই করিয়ো ক্ষমা...


২৫ সেপ্টেম্বর ২০১০, সন্ধ্যা ০৬:৪৩

অনুভূতিমালার বিচ্ছিন্ন বচন

রাত কেটে সকাল হলো 
আর দুপুর পেরিয়ে সন্ধ্যা 
জাগতিক নিয়মের ব্যত্যয় ঘটেনি একটুও 
ঘটেনি নিয়মের জালে নিজেকে আটকানোর 
অন্তহীন প্রচেষ্টা। তাই স্তব্ধ আমি। 

নিরুপায় হয়ে আটকে আছি আজ ভদ্রদের মাঝে 
বুকের মাঝে চেপে থাকা কান্নাগুলোকে সাথে করে 
হাসিমুখে কথা বলি বসের সাথে, কলিগের সাথে। 
 
 অথচ আমার ইচ্ছে করে আংরাভাসা নদীর তীর দেখতে 
ইচ্ছে করে অপুর সাথে চৈতালি হাটে বেড়াতে যেতে। 
আমার বড্ড কাঁদতে ইচ্ছে করে। 
ইচ্ছে করে উন্মাতাল ঢেউতে ভেসে যাই... 
তবু তো অভিমানে হারিয়ে যাওয়া যাবে! 

১৫ সেপ, ২০১০

ক্ষমা করো হে বৃদ্ধাশ্রমের বাবা-মা

আমার বাসায় 'ডিশের লাইন' নাই। বিটিভি দেখাও হয় না। ঈদ উপলক্ষ্যে 'ইত্যাদি' দেখতে বসেছিলাম ঈদের আনন্দ নেবার অংশ হিসেবে। একদম শেষ এসে 'সাবিনা ইয়াসমিনের কণ্ঠে গানটা হচ্ছিলো -- বৃদ্ধাশ্রম নিয়ে। লিরিক অসামান্য, আর সেই ভিডিওতে অংশ নিয়েছেন ওল্ড হোমের বৃদ্ধ-বৃদ্ধারা...

গানের একটা অংশে দেখাচ্ছিলো এক বাবা তার জমানো সমস্ত টাকা দিয়ে ছেলেকে বিদেশ পাঠালেন-- সেই ছেলেও আর খোঁজ নিলো না তার। শেষ বয়েসে তার ঠিকানা হলো বৃদ্ধাশ্রম। এই জায়গাটায় এসে চোখের অশ্রু আর রুধতে পারলাম না।

অদ্ভূত মনুষ্যত্ববোধ আমাদের! দিন দিন এই বৃদ্ধাশ্রমের সংখ্যা বেড়ে চলেছে এই দেশে। দুঃখজনক আর কষ্টকর। নচিকেতার বৃদ্ধাশ্রম গানটি মনে হয় সবাইকেই স্পর্শ করে যায়।

যেই মা প্রতিদিন অনেক অনেকবার করে গায়ে পেশাব-পায়খানা করা সন্তানকে পরিষ্কার করেছেন, পরিপূর্ণ অসহায় অবস্থায় থাকা সন্তানকে শত সমস্যাতেও ছাদ হয়ে বড় করেছেন-- কীভাবে বড় হয়ে তাকে 'বুড়া আঙ্গুল' দেখিয়ে দূরে সরিয়ে রাখা সম্ভব!!

ক্রমাগত স্বার্থপরতায় আচ্ছন্ন হয়ে যাচ্ছি আমরা। তাই যখন বড় হয়ে যায় সন্তান-- তখন বৃদ্ধ বয়েসে আবারো শিশুসুলভ অসহায়ত্ব চলে আসা বাবা-মা কে ওল্ডহোমে পাঠিয়ে দিচ্ছি... পশ্চিমাদের ভালো গুণ না-- তাদের এই নোংরা গুণকে আয়ত্ব করছে নতুন প্রজন্ম...

জানিনা এই 'ইভোলিউশনের' শেষ কোথায়...

কখনো কখনো ভাবনারা ঠিক প্রকাশ হয় না। অনুভূতির তীব্রতায়। আমার বুক জুড়ে এখন তিতকুটে অনুভূতি... অথচ লেখায় আসছে না কোন প্রকাশ...

ঘৃণা করি আমাদের এই "পরিবর্তন", এই "প্রোগ্রেসিভ" সমাজকে।

২ সেপ, ২০১০

সুগন্ধে মৌ মৌ চারিধার

লেখার আগেই শিরোনাম দিয়ে বসলাম। সচরাচর এই কাজটা আমি করিনা, তবু আজকে করলাম। হয়ে গেলো। আসলে আমি আপাতত কোন ফুল বাগিচায় বসে নেই। আহারে, ফুল বাগিচা শব্দটা লিখতেই একটা গানের কথা মনে পড়ে গেলো-- "যত ফুল ফুটে, ফুল বাগিচায়... তারা সবাই তো নয় গোলাপ ফুল"...

যাক গে, সুগন্ধে মৌ মৌ চারিধার--- এই কথাগুলো মনে হয় কোন একটা বিজ্ঞাপনে শুনেছিলাম। আমি আসলে কোন পারফিউমের দোকানেও নাই। তাহলে সুগন্ধ কীসের?? এই প্রশ্ন আসাটাই অতীব স্বাভাবিক। একটু পরে বলি?

আমিও রোদ্দুর কী হতে চেয়েছিলাম অমলকান্তির মতন !

আমার অনেক কিছু ইচ্ছে করে। লিখতে বড্ড ইচ্ছে করে... ইচ্ছে করে লিখে লিখে পাতা ভরিয়ে দিবো। ইচ্ছে করে কখনো কল্পনাগুলোকে সত্য করে ডানা ছড়িয়ে দিতে দিবো।

ইচ্ছে করে অমলকান্তির মতন রোদ্দুর হতে... অমলকান্তি রোদ্দুর হতে পারেনি। অথচ ওর বন্ধুরা সবাই পেরেছিল, কেউ ডাক্তার কেউ ইঞ্জিনিয়ার, কেউবা শিক্ষক।

সবাই পারলো। শুধু অমলকান্তিই পারেনি। সে তো রোদ্দুর হতে চেয়েছিলো। সবকিছু ছেড়ে রোদ্দুর কেন? আমার বড্ড তারা হতে ইচ্ছে করে যেমনি করে, ওভাবেই? জানিনা। হয়ত অমনটাই কিছু হবে। আমিও চেয়েছিলাম তারা হয়ে রাতের আকাশটায় জেগে থাকতে, মানুষ হয়ে এই ভারসদৃশ জীবনটা বয়ে বেড়াতে চাইনি।

বন্ধুরা সবাই অনেক কিছু হয়ে গেলো। ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, ব্যরিস্টার... আর আমি আগের স্বপ্নচারীই থেকে গেলাম... শুধু স্বপ্ন দেখে বেলা কেটে যায়... অপসৃয়মান সূর্যালোকে তাকিয়ে মাঝে মাঝে বুঝি দু'একটা নিঃশ্বাস ফেলি বৈকি! দিন শেষে সন্ধ্যা নামে... আমি দিগন্তে চেয়ে থাকি...

রোদ্দুরও হতে পারলাম না। পারলাম না রাতের আকাশের তারা হতে... একদম একজন মানুষই রয়ে গেলাম... হয়ত আমাকে নিয়ে আমার কোন বন্ধু একসময় কবিতা লিখবে, "স্বপ্নচারী রোদ্দুর হতে চেয়েছিলো, চেয়েছিলো আকাশের তারা হতে"......

[২ সেপ্টেম্বর, ২০১০]