২১ মে, ২০১৪

মনের জানালা মাঝে # ১৪


(১৪৬)
জেনে রাখুন, মন খারাপের বেলায় কেউ কখনো কোনদিনই পাশে থাকবে না।
আপনার ভাঙ্গা হৃদয় কখনো জোড়া লাগবে না যদি তা আল্লাহর কাছে সঁপে দিতে না পারেন।

(১৪৭)
কেউ আমাদের ভুল ধরিয়ে দিলে আমাদের মাথায় আগুণ ধরে যায়। আবার, কিছু কিছু মানুষ সবসময়ে খালি অন্যের ভুল ধরে -- দুটো ব্যাপারই ইগো থেকে হয়। সমালোচনার কাজটা করে তারা নিজেদের সুপিরিয়র অবস্থায় নিয়ে যেতে পারে। আত্মিক দৈন্য যতটাই হোকনা কেন, সেটা পাতলা হয়ে যায় অন্যের ভুল ধরার মাধ্যমে। may Allah save us from this ego too....and help us to overcome our mistakes...

(১৪৮)
আমাদের বাবা-মায়েরা প্রত্যাশা করেন আমরা যেন *তাদের মত করে* ভালো থাকি...
কিন্তু, তাদের চাওয়া আর আমাদের চাওয়ার বৈপরীত্য অনেক বেশি।

(১৪৯)
ফেসবুকে ছদ্মনামে প্রোফাইল খোলার মানে কিন্তু এই না যে এই অ্যাকাউন্টের কর্মকান্ড কিরামান-কাতিবিনের হিসেবের খাতার বাইরে চলে যাবে। খেয়াল রাখা উচিত আমাদের...

(১৫০)
নিশ্চিত থাকুন, এই পৃথিবীতে কোনদিন, কোন অবস্থাতেই, আপনি সবকিছু ঠিকঠাক করে পাবেন না। পেরেশানি, অশান্তি, যন্ত্রণা তাড়া করে ফিরবেই। তাই, অন্তরে শান্তি আদায় করে নিতে হবে আল্লাহর প্রতি নির্ভর করে। তবে, এই জীবনের যারা শান্তিতে থাকে, তারাই অনন্তকালেও শান্তি পাবে। এই দুই সময়েই শান্তি পাওয়ার কেন্দ্র একজনই --যার হাতে সব ক্ষমতা। মানুষ তো অকৃতজ্ঞ, অন্যায়কারী; মানুষের কাছে আশা করলে ধাক্কা খেতেই হবে।

(১৫১)
ভালোবাসার মানুষটিকে ভালোবাসার চেয়ে শ্রদ্ধা করতেই আমরা অনেকে বেশি ভালোবাসি। ভালোবাসাটা তখন আরো মজবুত হয়, তার প্রতি শ্রদ্ধামাখা আচরণগুলো হয় বিনীত, নম্র... অনেক বেশি সুন্দর!

(১৫২)
কখনো কখনো মনে হয়, অপেক্ষাই মনে হয় অনেক সুন্দর!

কষ্টে থেকে সুন্দরের অপেক্ষায় থাকলে তখন একটা জ্বালা থাকে চামড়ার ভেতরের প্রান্তে, চামড়ার উপরে প্রান্তেই আবার ঠিক তখনই হিমেল বাতাস বয়, বুকে একটা চাপা কষ্ট থাকে, তাই মুক্ত নিঃশ্বাসটাও কেমন

ভারী হয়ে আসে। প্রাপ্তি? সে তো কেবল আল্লাহর ইচ্ছা। অপেক্ষা? সে তো আমাদের সবর (ধৈর্য), আমাদের ত্যাগ, আমাদের কর্ম যা আশ্বাস দেয় আল্লাহর পুরষ্কারের...

(১৫৩)
আমরা অন্যদের জীবনের গল্প পড়ে ঈর্ষান্বিত হই, মুগ্ধ হই, দুঃখিত হই। কী দরকার? আপনার জীবন তো একদমই আলাদা। নিজের জীবনের গল্প নিজেই লিখুন, সেটা নিশ্চিতভাবেই আনন্দ-বেদনা-সফলতার

গল্পভরা অন্যরকম এক সমৃদ্ধ রচনা...

(১৫৪)
কেবলমাত্র বোকারাই অস্থায়ী পৃথিবীতে স্থায়ী বাড়ি/গাড়ি/সম্পর্ক খুঁজে হয়রান হয়...

(১৫৫)
কেউ আপনাকে বুঝে না বলে দুঃখ হচ্ছে? আচ্ছা ভালো কথা, আপনি নিজেই কি নিজেকে বুঝেন?

(১৫৬)
অনুভূতিদের মেরে ফেলতে চান? স্রেফ ফেলে রাখেন, ওরা আপনাআপনি মরে যাবে...

(১৫৭)
অতৃপ্ততার স্পর্শ যেসব মানুষের হৃদয়, অদ্ভুত সুন্দর মায়ামাখা প্রশান্তির জন্য তাদের দরকার মসজিদে ভোরে ফজরের সলাত শেষ হবার পরে মানুষ যখন রাস্তা দিয়ে হেঁটে চলে তখন সেই মূহুর্তগুলোতে অন্যদের

সাথে আলাপ না করে রাস্তায়/বারান্দায়/ছাদে দাঁড়িয়ে নিজেকে নিজের সামনে নিয়ে আসা...

(১৫৮)
এই যে জীবনের এত কষ্ট-ক্লান্তি-চাওয়া-পাওয়া, আনন্দ-হাসি-গান ... কিছুই রবে না বেশিদিন। থাকবেন শুধু আমাদের রব আল্লাহ, যিনি আল হাইয়্যু, আল কাইয়্যুম...

(১৫৯)
উস্তাদ নুমান আলী খান আমার জীবনের মোড় ঘুরানো এক মানুষ। কত কিছু যে শিখেছিলাম তার কাছে!! অনেকদিন কোন ভিডিও লেকচার দেখিনি উনার। আজকে রবার্ট ডাভিলার ভিডিওটার কথাগুলো

জেনে কেঁদেই ফেললাম। 'রবার্ট ডাভিলা' এক অদ্ভুত প্রাণশক্তির নাম, প্রিয় রাব্বুল আলামীনের এক ভালোবাসার নাম। কী সুন্দর এক আলোকপ্রাপ্তির গল্প!

হে আমার রব! আপনার ভালোবাসার চিহ্নগুলো চারপাশে দেখতে পাই মাঝে মাঝেই খুব বেশি স্পষ্ট করে। আপনি এই মানুষগুলোকে উত্তম প্রতিদান দিন, তাদের হিফাজত করুন। আমাদেরকে হিদায়াত দিন,

আমাদের ঈমান বাড়িয়ে দিন।

# ভিডিও: রবার্ট ডাভিলার গল্প : নুমান আলী খান : http://www.youtube.com/watch?v=vthRr3gk4W4

১০ মে, ২০১৪

ভালোবাসব বাসব রে বন্ধু


আজকে একটা সম্ভাব্য প্রেমের ধ্বংস দেখতে পেলাম !!

অফিস থেকে ফিরছিলাম, রিকসা থেকে যেখানে নামলাম, সেখানে অচেনা দু'টো ছেলে আর একটা মেয়ে দাঁড়ানো, একটা রিকসা দাঁড়ানো পাশে। সেই মেয়েটার বান্ধবীকে সম্ভবত একটা' ছেলে *লাইক* করে, সেই কথাটা বন্ধুটা মেয়েটাকে বলছিলো বলে বুঝলাম। মেয়েটা কিছু একটা উত্তর দিলো। পরে শুনলাম বন্ধুটি মেয়েটিকে বললো, ''ও কি ফ্রেন্ডশিপ টাইপের রিলেশনও করবেনা?"। মেয়েটা রিকশায় উঠতে উঠতে বললো, "তোমরা রাগ কইরো না, ঠিকাছে? ভালো থাইকোওও, বাআআই!! " (একটু সুর করে)

১ মে, ২০১৪

মনের জানালা মাঝে # ১৩


(১৩৬)
মানুষের জীবনের অভিজ্ঞতালব্ধ আলাপ শুনতে খুবই ভালো লাগতো ছোটবেলা থেকেই। এমনকি কোন বড়ভাই যদি জীবনের অভিজ্ঞতা শেয়ার করতেন, তবে আমি পাশে গিয়ে দাঁড়িয়ে শুনতাম। এভাবেই একবার শিখেছিলাম সম্ভবত কোন স্যারের কাছে--

"সবসময় বড়দেরকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করতে চেষ্টা করবে কেননা সে তোমাকে তার অভিজ্ঞতা থেকে শেখাতে পারবে। পক্ষান্তরে ছোটদের বন্ধু হলে তোমাকে দেয়ার কাজ করতে হবে এবং তাতে তুমি শিখতে পারবে না, তোমার উন্নতিও হবে না।"


(১৩৭)
জীবন থেকে শিখলাম, আমাকে আপন মনে করা মানুষদের কেউ যদি কোন সাধারণ তথ্য জিজ্ঞাসা করে একটু রহস্য রেখে, তাহলে তাকে বেশি প্রশ্ন না করাই উচিত। সম্ভবত আরো কেউ তাকে আপন মনে করে সেই বিষয়টি জানতে চেয়েছে তাই তিনি পরিচয়টা আমাকে জানতে দিতে চাইছেন না।

ছোট ছোট উপলব্ধিগুলো মাঝে মাঝে বেশ মজার হয়!

(১৩৮)
"গোলাপের সৌন্দর্যে এবং গন্ধে আকৃষ্ট হলে তার কাঁটার আঘাতকেও মেনে নিতে হবে।"
-- পুরা কথাটা উপলব্ধি করিয়া বাকহারা হইয়া গিলুম! কী গভীর এক দর্শন নিহিত রহিয়াছে এই বাক্যের গভীরে... আহা! মরি মরি!

(১৩৯)
প্রতিদিন নানান কিসিমের মানুষের সাথে মিশতে মিশতে ইদানিং বারবার একটা কথা উপলব্ধি হয় যে, কেন ভালো কাজের উপদেশদাতা আর সবর বা ধৈর্য ধরতে উপদেশ দেয়া ছাড়া সব কাজই ক্ষতিকর...

সবরের (ধৈর্য) চেয়ে বেশি দরকারি আর কল্যাণকর গুণ খুব কমই আছে। ধৈর্যধারণ করে সময় অতিক্রান্ত করলে, আল্লাহর কাছে দোয়া করলে একদিন উপকার হয়। অধৈর্য হয়ে ভুল করে বসলে তার মাশুল দিতে হয় জনমভর... তবে, মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত তো তাওবা আর দু'আ করার পথ খোলা থাকে...

(১৪০)
সুন্দর হৃদয়ের মানুষদের সান্নিধ্য পাওয়াই অনেক সময় সাহস ও অনুপ্রেরণা হয়ে যায়। তাদের অল্প কথাতেই খুঁজে পাওয়া যায় শক্তি, সাহস ও আত্মবিশ্বাস। সুবহানাল্লাহ!

(১৪১)
আমি  নিশ্চিত করে বলতে পারি, জীবনে সত্যিকারের একটা কল্যাণময় পরিবর্তন অর্জন করতে চাইলে নিজের সাথে শুধু একটা বিষয়ে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ হতে হবে যে কেউ যখন প্রশ্ন করবে, "কেমন আছেন" তখন তার উত্তরে মুখে বলতে হবে "আলহামদুলিল্লাহ ভালো" এবং তা মনে অনুভব করতে হবে।

 (১৪২)
কত মানুষকেই তো ভালোবাসি, কত কিছুকেই তো আপন করে কাছে রাখি অনেক আশায়, স্বপ্নে, দয়ায়। অথচ, জীবনের কঠিন সময়ে সবাই চলে যায়, ভুল বুঝে যায়। কেবল একজনই হৃদয়ের গুমরে ওঠা কষ্ট বুঝেন, অঝোরে ঝরে যাওয়া কান্না শোনেন, ভালোবাসায় প্রাণে শান্তির পরশ এনে দেন... তিনি আমাদের মালিক, আল্লাহ। যিনি প্রেমময় ও ক্ষমাশীল এবং পরম দয়ালু।

(১৪৩)
রেগে গিয়ে করা ভুলের ক্ষতির আফসোস করা ও ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার পরিশ্রমের চেয়ে না রাগ করে সেই বিষয়টিতে ভুগতে থাকাও তো অনেক ভালো...

(১৪৪)
রোজা থাকার দিনে বিকেলে কেউ খেতে বললে যেই অনুভূতি হয় তাতে বুঝা যায়, হাল না ছাড়ার নামই প্রাপ্তি।

(১৪৫)
আপনি যদি মোবাইলের এসএমএস লিখতে গিয়ে বড় আকারের গোটা গোটা বাক্য লিখেন, তাহলে মেসেজের বিশাল সাইজ হয়ে যাবে। আগেকার দিনের টেলিগ্রাম মেসেজের মতন করেই না লিখতে হবে! তাহলেই কেবল ব্যাপক ফায়দা হবে। কম টাইপ করতে হবে, খরচ কম হবে!

২৫ এপ্রি, ২০১৪

মনের জানালা মাঝে # ১২


(১২৬)
অনেক সম্পদশালী রোলস রয়েস গাড়িওয়ালা কারো সামনে কিংবা ঝা তকতকে কর্পোরেট হাউসের ভেতরে আটপৌরে সাধারণ পোশাকের আমি হয়ত কখনো কখনো *অস্বস্তি* অনুভব করি ...

কিন্তু আজ টের পেলাম, বিশাল সমুদ্রের সামনে বা পাহাড়ের চূড়ায়, জ্ঞানী মানুষদের সামনে আমি অস্বস্তি নয়, রীতিমতন *অসহায়* অনুভব করি। প্রবল অসহায়... যে অসহায়ত্ব আমাকে দংশন করে...

জ্ঞানের সাথে কি সমুদ্রের অনেক মিল? দুটোই কি আমার জন্য বসে বসে দূর দিগন্ত দেখে দীর্ঘশ্বাস ফেলার জন্যই ফিরে ফিরে সামনে আসবে?

(১২৭)
মানুষকে কষ্ট-যন্ত্রণা দিলে তার ভোগান্তির আগুনে আপনাকে জ্বলতেই হবে..

(১২৮)
ক্রমাগত অভাবনীয় এবং অনাকাঙ্খিত ধাক্কা খাওয়ার ব্যাপারগুলোতে অবাক হবেন না, এটাই স্বাভাবিক। এমনটা না হওয়াই অবাক করা ব্যাপার!

(১২৯)
কোন মানুষের সাথে কথা বলে যদি নিজেকে ছোট আর ভুলে ভরা মনে হয়, আপনি আশাবাদী হতে না পারেন, বুঝবেন আপনি ভুল মানুষের সাথে আলাপ করেছেন। ভবিষ্যতে তার থেকে দূরে থাকবেন।

(১৩০)
কারো ভালোবাসা পাওয়ার মাঝে রয়েছে আনন্দ,
কাউকে ভালোবাসতে পারার মধ্যে রয়েছে মুক্তি।

(১৩১)
প্রতিদিন চারপাশে বেশিরভাগ মানুষ নিজেদের ধ্বংস করে জাহান্নামের পথে গর্ত খুঁড়তে থাকে মেধা ও শ্রম দিয়ে যখন...

তখনো কিছু মানুষ জান্নাতে যাবার প্রবল স্বপ্নে ছোট ছোট ভালো কাজ করতে থাকে প্রতিদিন, আত্মসমালোচনা আর কল্যাণমুখী শ্রমের বেলুনে চেপে উড়ে যেতে থাকে নিঃশব্দে...

গন্তব্যে পৌঁছানো আসলে একটা সিদ্ধান্ত, একটা প্রার্থনা, আর প্রতিদিনের কিছু কাজ...

(১৩২)
অযুর পানির সাথে সাথে যখন অশ্রুগুলো ধুয়ে যায়, তখন অদ্ভুত একটা অনুভূতি হয়...

(১৩৩)
কম চ্যাটিং এবং মোবাইলে বা আড্ডায় বেশিক্ষণ অপ্রয়োজনীয় কথাবার্তা না বলা অন্তরকে হু-হু শূণ্যতা থেকে অনেকখানি রক্ষা করে। তবে, কুরআন তিলাওয়াত এবং নিয়মিত নামাজে দাঁড়িয়ে আল্লাহর কাছে কান্নাকাটি করলে অন্তর প্রায় পুরোপুরি প্রশান্তি পায়...

(১৩৪)
আমরা আসলে যত বেশি ভালোবাসি, ততই প্রিয়জনের ভালো গুণগুলোকে বড় করে দেখে তাতে মুগ্ধ হতে থাকি আর সীমাবদ্ধতা ও ত্রুটিগুলোকে এড়িয়ে গিয়ে ভুলে যেতে থাকি...

(১৩৫)​
শেষ রাত থেকে ঘুম হয়নি। উঠে বসে ছিলাম। ফজরের পরে জোর করে ঘুমুতে চাইলেও কয়েকবার কেমন অস্পষ্ট স্বপ্ন দেখে ধরফর করে উঠে বসলাম। উপায়ন্তর না পেয়ে বেশ সকাল সকাল তাই অফিসে রওনা হয়ে গেলাম।

অমন সকালে যেমন ফুরফুরে মেজাজে অফিসে আসার কথা, তেমন মেজাজ ছিলো না। একটু যেন বিরক্তই ছিলাম। রিকসা থেকে নামতেই এক মধ্যবয়েসি মহিলা বেশ অধিকারের ভঙ্গিতে শক্তপোক্ত গলায় টাকা দাবী করলো... ভিক্ষা চাইছেন তিনি। বিরক্তি আমার ধুম করে বেড়ে গেলেও নিচু স্বরে "মাফ করেন চাচী" বলে এগিয়ে গিয়ে বিরক্তি ঝাড়লাম যেন সিঁড়িগুলোর উপরে। সিড়ি বেয়ে উঠতে উঠতে খেয়াল হলো, এই মূহুর্তে যদি পা ফসকে পড়ে গিয়ে গড়াতে থাকি আর ঐ ভিখারিনী চাচীর সামনে গিয়ে পড়ি -- আমার এই বিরক্তি কি আর থাকবে? আমি কি আর তখন ওভাবে "মাফ করেন" বলার সময়ের মতন করে কথা বলতে পারবো?

আল্লাহর কাছে মাফ চেয়ে কৃতজ্ঞ হবার মতন শত-শত জিনিস মনে হয় চারপাশে থাকে। টের পাইনা আমরা। মাঝে মাঝে টের পেলেও হয়ত আমলে নিই না।

১৫ এপ্রি, ২০১৪

ভয়ংকর ফেসবুক

​আপনি যখন ফেসবুকে নিয়মিত থাকবেন, মোটামুটি নিশ্চিত থাকুন আপনি আর আগের মতন নিজেকে খেয়াল করতে পারেন না। আপনি সবসময় অন্যদের বিষয়গুলোকে আপনার নিজের বিষয়ের উপরে না হলেও সাথে সাথে ভাবতে থাকেন। মানুষের সাথে তুলনা করার রোগটি এবং দরকারে-অদরকারে, ভালো এবং খারাপে মানুষের সাথে তাল মিলানোর উদগ্র কামনা আপনার ফেসবুকে সময় কাটানোর সাথে সাথে বাড়তে থাকে। আপনার মনোযোগ আর আগের মতন গভীর থাকে না, আপনি একটু পর পর কে কী বললো সেটা নিয়ে ভাবতে থাকেন। আপনার চিন্তা যতই তুচ্ছ আর অদরকারী হোক, আপনার আলু-পটলের তরকারি খাওয়ার বিষয়টা হোক বা আজকে একটা ভালো রেজাল্ট করেছেন-- সেটাই হোক, সবার *প্রতিক্রিয়া* আপনার মূল ক্রিয়াকেই প্রভাবিত করে। অন্যদের প্রতিক্রিয়া আপনার কাছে এতই বড় হয়ে যায় যে আপনার নিজস্ব পছন্দ, আপনার নৈতিকতা, আপনার আদর্শ বিষয়গুলো আপনি তেমন একটা ভাবতেই পারেন না।

৮ এপ্রি, ২০১৪

​ মনের ​ জানালা মাঝে # ১১​


(১১২)
যিনি বিনয়ী, তিনি কখনো কোনভাবেই অসম্মানিত হন না। বরং তারা ক্ষণিক সময় নিজেদের প্রদর্শিত না করায় লোকের অন্তরে স্থায়ী ভালোবাসা লাভ করেন। মানুষ দীর্ঘ সময় পরে যখন কোন বিনয়ী মানুষের কথা ভাবে, তখন কেবলই শ্রদ্ধা অনুভব করে।

(১১৩)
তেমন কিছুই মনমতন পাইনি, তবুও দুনিয়ার জীবনে অনেক অনেক বছর কেটে গেছে কষ্টে হলেও, ক্ষণিকের আনন্দ হলেও। জান্নাতে সবকিছু পাবো, আল্লাহর সন্তুষ্টি পাবো... ভাবলেই কেমন শিহরিত হই। আল্লাহ গুনাহ মাফের আশ্বাস দিয়েছেন, তাওবা কবুলের আশ্বাস দিয়েছেন, ভালো নিয়াত রেখে দোয়া করতে থাকলে পথ দেখাবেন -- এতকিছুর পরেও বাকিটা জীবন আল্লাহর জন্য কাটিয়ে জান্নাতে যাওয়ার চেষ্টাটায় কেন এত কমতি করি? হে আল্লাহ! আমাদেরকে পথ দেখান, আমাদের অন্তরকে দ্বীনের দিকে ঘুরিয়ে দিন...

(১১৪)
ফেসবুকে অনেকদিন একদমই না লগইন করার কল্যাণ সীমাহীন। সামাজিক নেটওয়ার্কে আমরা যা দেখি তার বেশিরভাগই বস্তাপচা আবর্জনা। অন্তরকে খুব বেশি অস্থির করে, অপ্রয়োজনীয় তথ্যে মস্তিষ্ককে ভরিয়ে দেয়...

(১১৫)
একটা মুসহাফ আর রিয়াদুস সলিহীনের সাথে কয়েকটা দিন একান্তে কাটানোর অনুভূতি মানুষমাত্রই উপলব্ধি করতে পারবেন। সুন্দর হোক আমাদের অন্তরগুলো, পরিচ্ছন্ন হোক আমাদের হৃদয়গুলো...

(১১৬)
পরিবার হতে পারে হৃদয় শীতল করা শান্তির, নয়ত হৃদয় উত্তপ্ত করা দুঃসহ যন্ত্রণার...

(১১৭)
অনেক সম্পর্ক নষ্ট হয় যখন আমরা পরস্পরের সঙ্গটুকুর চেয়ে ভুলত্রুটিগুলোর দিকেব বেশি মন দেই...

(১১৮)
আমি তো অন্য কেউ হতে পারতাম। অন্য কোন দেহে এই মন, অথবা অন্য কোন মনে এই দেহ...

(১১৯)
সুন্দর চিন্তাগুলো আমাদের হৃদয়কে সতেজ করে। 'খারাপ আছি, খারাপ হবে' এই চিন্তাগুলো আপনার অন্তরকে বিষাক্ত করে মেরে ফেলবে।

(১২০)
আপনি হয়ত অনেক কিছুই পারেন না। কিন্তু আপনি কিছু না কিছু কাজ খুব ভালো পারেন। সেটাই আপনার সম্পদ। সেটাকে ঘিরে আখিরাতের মুক্তির স্বপ্নে কাজ করুন।

(১২১)
প্রতিটি সকালই অকুন্ঠ কৃতজ্ঞতার। আরেকটি দিন দেখতে পাওয়ার, আরেকবার তাওবা করার, দোয়া করার, মাফ পাওয়ার সম্ভাবনায় ভরপুর সকাল। আলহামদুলিল্লাহ!

(১২২)
খুব বিশ্রাম নিতে ইচ্ছা করে। কিন্তু হায়! পূর্বেকার অনুকরণীয় মানুষগুলোর জীবনে তাকিয়ে বুঝি, বিশ্রাম তো কবরে পিঠ ঠেকানোর পরে যেন শান্তিমতন হয় আজীবন --সেই কারণেই এই জীবনে বিশ্রামের কথা ভুলে যাওয়া উচিত; সৎকাজের প্রসারে ও অন্যায়কে বন্ধের জন্য কাজ করা উচিত। নইলে, এখানে বিশ্রামটাও পুরোপুরি বিশ্রাম না, আর কবরের পরের জীবনটা হবে খুবই কষ্টের...

(১২৩)
যেসব ছেলেমেয়েদের খুব ভালো করে চিনি, তারা ফেসবুকে লোকের কাছে ফাপড় দিতে যখন বানোয়াট 'শো-অফ' করে, খুব ইচ্ছা করে সত্যটা বলে দিই। ধৈর্যধারণ করে তার সম্মান রাখি। কিছু কিছু শো-অফে লোকে হয়ত ভালো দিকেই অনুপ্রাণিত হচ্ছে। আর আল্লাহর কাছে দু'আ করি, আমার সবরের উসিলায় নিশ্চয়ই তিনি আমাকে একদিন পুরষ্কার দিবেন। এটা ভেবে তখন আমার অন্তর প্রশান্ত হয়...

(১২৪)
ফেসবুকের একই পাতায় কারো পিরিতির আলাপ, কারো বিয়ে, কারো ছ্যাবলা মন খারাপ, কারো কবিতাবিলাস, কারো দুঃখবিলাস, কোথাও টেনেহিঁচড়ে পিটিয়ে মুসলিম নিধন, কোথাও রক্তাক্ত লাশের উপরে পা দেয়া মানুষ, কোথাও ভাবের আলাপ...

হঠাৎ কষ্টে বুক মুচড়ে আসে নিজের অনুভূতির অসহায়ত্ব। হে আমার রব, শত গঞ্জনা আর আর্তির মাঝে আমার নিজেকে আপনার কাছেই সোপর্দ করলাম... আমার হৃদয়কে আপনি আপনার পছন্দের পথে পরিচালিত করুন। নিশ্চয়ই আপনার কাছে ফিরে যাওয়াই আমাদের জন্য সবচেয়ে বড় সত্য...

(১২৫)
জুমার খুতবা চলছে। বসেছি নিচতলার ভেতরের অংশের দরজাটার এক কাতার পেছনে। সামনে দরজাটার উপরে ঘড়িতে সময় দেখাচ্ছে, নিচের ডান কোনায় লেখা দেখতেসি, Dajjal Electronics..

দাজ্জালের কথা ভাবতেই বুক ধক করে উঠলো...
এরপর ভালো করে খেয়াল করে দেখলাম লেখা আছে, Digital Electronics।

রিয়াদুস সলিহীন চতুর্থ খন্ডের একদম শেষ দিকের হাদিসগুলো পড়ে দাজ্জালের ফিতনাহর ভয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের শেখানো দোয়াটা প্রতিদিন প্রতি ওয়াক্তে পড়ার চেষ্টায় করছিলাম বিগত অনেকদিন যাবত। সেই চেষ্টারই একটা সাইড ইফেক্ট মনে হয় এটা... :P

একগুচ্ছ অনুবাদ [৩]

মনের দুঃখ হালকা করতে কারো কাঁধে মাথা রাখার কোন প্রয়োজন আপনার নেই যখন এই বিশাল জমিন রয়ে গেছে আপনার কপাল স্পর্শ করার জন্য। ~ জনৈক

 * * *
- ​আমরা খুব ভালো করে জানি, ফিলিস্তিনিদের স্বাধীনতা ছাড়া আমাদের স্বাধীনতা অপূর্ণ রয়ে যাবে। ~ নেলসন ম্যান্ডেলা


 * * *
একজন পুরুষের চরিত্র আপনি বুঝতে পারবেন সে কেমন নারীকে জীবনসঙ্গী হিসেবে পছন্দ করেছে তা দেখে। ~ জনৈক

 * * *
কখনো কখনো নিজ জীবনের পেছন দিকে ফিরে আপনি আল্লাহর কাছে শুকরিয়া করেন এই ভেবে যে আপনি এমন অনেক কিছু চেয়েছিলেন যা আল্লাহ আপনাকে দেননি, কিন্তু সেগুলো না পাওয়া আপনার জন্য সীমাহীন কল্যাণকর হয়েছে। ~জনৈক


 * * *
অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা আপনার আগামীকালকের সমস্যাগুলোকে দূর করে দিবে না, কিন্তু আপনার আজকের শান্তিগুলোকে দূর করে দিবে। ~জনৈক

 * * *
চোখের পানিগুলো ঝরে গিয়ে চোখকে পরিষ্কার করে, আর পরিষ্কার করে আমাদের হৃদয়টাকেও। ~ ইয়াসমিন মোগাহেদ

 * * *
অনেকে মনে করেন ক্ষতচিহ্নগুলো কদাকার। কিন্তু আমি মনে করি ক্ষতচিহ্নগুলো অপূর্ব। তারা প্রমাণ রেখে যায় আপনি বেঁচে ছিলেন, ভালোবেসেছিলেন, শিখেছিলেন। -- ইয়াসমিন মোগাহেদ

 * * *
আমরা যখন কোন হারাম/অশ্লীল/অন্যায় কিছুর প্রেমে পড়ি এবং সেগুলোকে ভালোবাসতে থাকি, তখন আমরা হালাল এবং পবিত্রতাকে ভালোবাসার যোগ্যতা হারিয়ে ফেলতে থাকি। ~ আবদেল রাহমান মারফি


 * * *
আপনি যখন কোন যন্ত্রণার মাঝে থাকেন, মনে রাখবেন, আল্লাহ খুব ভালো করে জানেন তিনি আপনার জীবনে কী ঘটাচ্ছেন। ~ ইয়াসমিন মোগাহেদ

 * * *
অনেকে মনে করেন ক্ষতচিহ্নগুলো কদাকার।কিন্তু আমি মনে করি ক্ষতচিহ্নগুলো অপূর্ব। তারা প্রমাণ রেখে যায় আপনি বেঁচে ছিলেন, ভালোবেসেছিলেন, শিখেছিলেন। ~ইয়াসমিন মোগাহেদ

 * * *
আপনি যখন কিছু বলে ফেলেন, তখন তা আর আপনার অধিকারে থাকে না। সুতরাং আগামীতে যখন মুখ খুলবেন, তখন কথা বলার আগে তা মেপে নিয়ে বলুন নইলে মুখে ছিপি এঁটে দিন। ~ শাইখ আসিম আল-হাকীম

* * *
মুভিতে দেখা বিয়েগুলোর সাথে আপনার বিয়ের তুলনা করতে যাবেন না। মুভির বিয়েগুলো লিখেছে স্ক্রিন-রাইটাররা, আপনারটা লিখেছেন আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা। ~ জনৈক

 * * *
জীবনের কোন মূহুর্তেই আমাদের আল্লাহর প্রতি ভালোবাসা ছাড়া এমন কোন ভালোবাসাতে জড়িয়ে পড়া উচিত নয় যা ছাড়া আমরা জীবনটাকে ধারণ করাই অসম্ভব হয়ে পড়ে। কেননা, এই 'ভালোবাসা' কোন ভালোবাসা নয় বরং তা এক ধরণের দাসত্ব যা কষ্ট ছাড়া আর কোন কিছুই দিবে না। ~ ইয়াসমিন মোগাহেদ

 * * *
এক ব্যক্তি অনেক বেশি দান করতেন তাই লোকে তাকে তা করতে নিষেধ করতো। তিনি উত্তর দিলেন: "যখন তুমি এক বাড়ি ফেলে অন্য বাড়িতে স্থানান্তর হও, তুমি কি আগের বাড়িতে কিছু ফেলে আসো?" ~ আসিম আল-হাকিম

 * * *
মানসিকভাবে সুস্থতা এবং ভারসাম্য বজায় রাখতে নির্জনে আপনার চরিত্র এবং প্রকাশ্যে আপনার আচরণগুলোর মাঝে একটা সঙ্গতি থাকা প্রয়োজন। আপনার নিজের কাছে এবং চারপাশের মানুষদের কাছে অকৃত্রিম হোন। ~হালেহ বানানি

 * * *
​​হোঁচট খাওয়া মানেই পড়ে যাওয়া নয়। ~ ম্যালকম এক্স

আল্লাহ জান্নাতবাসী করুন শাইখ মুহাম্মাদ কুতুবকে

০৪ এপ্রিল, ২০১৪

​ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রজিউন... নিশ্চয়ই আমরা আল্লাহরই এবং তার কাছেই আমাদের প্রত্যাবর্তন। ইদানিং একের পর এমন সব মানুষদের বিদায় দিচ্ছি যাদের কাছ থেকে আমি শক্তি নিতে শুরু করেছিলাম কেবল... আলেমদের বিদায়ে আমার খুব কষ্ট হয়, একটা হাদিসের কথা স্মরণ হয়। আল্লাহ আমাদের উপর থেকে অভিভাবকদের, জ্ঞানের আলোকবর্তিকাদের সরিয়ে নিচ্ছেন না তো? আল্লাহ আমাদেরকে মাফ করুন, দয়া করুন।

উস্তায সাইয়্যেদ কুতুব (রাহিমাহুল্লাহ)-কে আমরা কমবেশি সবাই চিনি তার শক্তিশালী গ্রন্থ "ইসলামী সমাজ বিপ্লবের ধারা" পড়ে। তারই ভাই শাইখ মোহাম্মদ কুতুবকে (রাহিমাহুল্লাহ) আমি চিনেছিলাম "ভ্রান্তির বেড়াজালে ইসলাম" বইটি পড়ে... এইতো মাত্র কয়েক মাস আগেই বইটি পড়ছিলাম। ফেসবুকে বইটির কিছু চুম্বক অংশ শেয়ারও করেছিলাম। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা তার এই বান্দার মৃত্যু আজ নির্ধারিত করে রেখেছিলেন। সৌদি আরবের মক্কা নগরীতে ৯৫ বছর বয়সে এই মহান ব্যক্তিত্ব আজ আল্লাহর দরবারে পাড়ি জমিয়েছেন।

ভয় হয় সন্তানদের জন্য কেমন সমাজ যে রেখে যাচ্ছি তা ভেবে

​​মাঝে মাঝে খুব ভয় আর আফসোস লাগে আমাদের সন্তানদের জন্য কেমন একটা সমাজ যে রেখে যাচ্ছি তা ভেবে। নিজেদের তারুণ্য আর যৌবনটাই অশ্লীলতা-নোংরামি-নির্লজ্জতা-পাপাচারের স্রোতের বিপরীতে হাঁচড়ে-পাচড়ে বেঁচে থাকার চেষ্টাতে কেটেছে তাই জানি এখনকার মুসলিম কিশোর-কিশোরীদের জীবনটা কতই না কঠিন। এখনকার সকল মুসলিম সন্তানদের অভিভাবকদের আর দোষ দিতে আগ্রহ পাইনা বিয়েতে বড় প্রতিবন্ধকতা বাবা-মা হয়ে তৈরি করার জন্যই কেননা তাদের ধারণাতেও সম্ভবত নেই যে এই সন্তানগুলো কতটা যুদ্ধ করে নিজেদের নফসকে নিয়ন্ত্রণের পিছনে। চারপাশে বন্যার পানির মতন নির্লজ্জতা আর পাপাচারের উপকরণ, নিজেকে আশ্বাস দেয়ার যেই 'বিয়ে' ব্যাপারটা, সেটাও অর্থনৈতিক-সামাজিক-পারিবারিক কারণের বেড়াজালে দূর-বহুদূর...

স্যাডনেস ইজ... SADNESS IS...

​​ছেলেবেলার এক বন্ধু এখন ডাক্তার। তার সাথে দেখা করতে গিয়েছিলাম ঢাকার এক হাসপাতালে। খানিক পরেই ফোন পেলাম আরেক সহপাঠী অ্যাক্সিডেন্ট করেছে, হাসপাতালে ভর্তি হতে এসেছে। অগত্যা ছুটে গেলাম, এক্সরে করে দেখা গেলো পায়ের হাড় দু'টুকরো হয়ে ভেঙ্গে গেছে। ওর আব্বা-আম্মা আর স্ত্রীর  কান্নাকাটি, হৃদয়বিদারক পরিস্থিতি। বাইরে চেয়ারে বসে থেকে দেখলাম কয়েকজন বৃদ্ধা হুইলচেয়ারে বসে আছেন, মলিন মুখ, চোখে শূণ্যতা তাদের। নাকে স্পিরিটের গন্ধ, কানে কান্নার শব্দ, চোখের সামনে অনেকজন রোগী... অস্থির এক অসহায়ত্ব!

ডাক্তার বন্ধুটির সাথে দেখা হবার পরেই বলছিলো ইদানিং 'মৃত্যু' নিয়ে ওর 'ডিসেনসিটাইজড' হয়ে যাওয়ায় খারাপ লাগার কথা নিয়ে-- খুব সহজেই নাকি তার সিনিয়রদের বলে "আজকে কী হইসে জানেন স্যার? পেশেন্টটা মরেই গেলো"... কিন্তু দীর্ঘকালের বন্ধুত্বের সুযোগে আমি জানি ওর অন্তরটা খুব সুন্দর। মৃত্যু নিয়ে এই নির্বিকারতা অনুভব করে ওর খারাপ লাগছে কারণ এই মৃত্যু নিয়েই একসময় অনেক আলাপ করতাম আমরা, সেই কিশোরবেলাতে... হয়ত পেশাগত কারণে ভয়াবহ আর কষ্টময় ঘটনা "মৃত্যু"র সাক্ষী হতে হতে তার কাছে সহজ হয়ে গেছে। কিন্তু আমার কাছে তো তা সহজ হয়নি। আমার কাছে হাসপাতালের ওয়ার্ডে বেড না পেয়ে বারান্দায় লাইন ধরে পড়ে থাকা মানুষগুলোর চেহারায় দেখে নিজেকে অকৃতজ্ঞ মনে হতে থাকে খুব। অপরাধবোধ আর খারাপ লাগায় কেমন ছোট্ট হয়ে যাই নিজের কাছেই...

৪ এপ্রি, ২০১৪

রুমী কবিতা (দ্বিতীয় কিস্তি)



* * *
তুমি জন্মেছিলে
অমিত সম্ভাবনা নিয়ে,
বিশ্বস্ততা আর কল্যাণ নিয়ে,
আদর্শ আর স্বপ্ন নিয়ে
বিশালতা নিয়ে,
উন্মুক্ত ডানা নিয়ে।

তুমি হামাগুড়ি দিতে আসনি,
এভাবে আর নয়, থেমে যাও।

তোমার আছে ডানা, মেলে দাও
উড়তে শিখে দূরে হারিয়ে যাও।

~ জালালুদ্দিন রুমী


* * *
 তোমার কিছু চিন্তাকে ঘুম পাড়াও! ওদের ছায়া হতে দিও না, তোমার অন্তরের চাঁদটাকে ঢেকে ফেলে যে ছায়া। ছায়ারূপী ভাবনায় নিমগ্ন থেকো না।~রুমী

* * *
আমি সমস্ত কাঁটা তুলে ফেলতাম! কিন্তু তুমি আবার ফিরে এলে, আমার কন্টকময়তাকেই করে তুললে পাঁপড়িশোভিত সুগন্ধময়। ~ রুমী

* * *
​আল্লাহ তোমাকে একটা অনুভূতি থেকে আরেকটা অনুভূতির দিকে ঘুরিয়ে দেন এবং এই বিপরীতধর্মী দুই অনুভূতি দিয়ে তোমাকে কিছু শেখাতে চান, যেন তুমি তোমার দু'টো ডানা দিয়ে উড়তে পারো, একটি দিয়ে নয়! ~ জালালুদ্দিন রুমী​

* * *
এমন কি যখন পৃথিবী দগ্ধ হয়, সুপ্ত বীণার তান তখনও বেজে যায়। ~ রুমী

* * *
গ্রন্থি পড়ুক সহস্র, রজ্জু কিন্তু একটাই! ~রুমী
 (এইটার ফাজলামি অনুবাদ হলোঃ যতই গিট্টু বাঁধো, দড়ি কিন্তু একখানাই আছে!)

* * *
ভালোবাসার বাগানে অনন্ত শ্যামলিমা বিরাজ করে। সেখানে দুঃখ কিংবা সুখ ছাড়াও অজস্র ফল ফলে।~ রুমী

* * *
একটা প্রদীপ হও, অথবা প্রাণরক্ষাকারী কোন তরী, কিংবা উর্ধ্বগামী কোন সিঁড়ি। কারো হৃদয়ের যন্ত্রণার উপশম করো।~রুমী

১ এপ্রি, ২০১৪

নাটক-সিনেমা-উপন্যাসে সবকিছু এক্সট্রিম হয় কিন্তু বাস্তব জীবন তেমন নয়

নাটক-সিনেমায় সবকিছু বেশি বেশি হয়। যখন প্রেম হয়, তখন বেশি বেশি। নায়ক নায়িকা কলেজে ব্যাগ ছাড়া বই বহনকালে ঠুয়া খেয়েই প্রেমে পড়ে যায়। আবার তাদের ট্র্যাজেডিটাও বেশি বেশি। রাস্তার রিকসাওয়ালা কোটিপতি চৌধুরী সাহেবের মেয়ের সাথে প্রেম করে। রোমিও আর জুলিয়েটের পরিবারের শত দ্বন্দ্বের পরেও তাদের পেরেম চলতেই থাকে। একটা বেকুব মরে দেখে অপরজনেও আত্মহত্যা করে। এইরকম 'এক্সট্রিম' (Extreme) বিষয় মানব জীবনের জন্য স্বাভাবিক না। আসলে, বাস্তবতা আর নাটক-উপন্যাসের কোন তুলনাই চলে না।

বাস্তব জীবন অনেক অন্যরকম। এখানকার ট্র্যাজেডিতে এইরকম প্রেম কাহিনী থাকে না। এই ট্র্যাজেডিতে আত্মসম্মানবোধ রাখতে, সামাজিক মর্যাদা অটুট রাখতে যে কষ্ট হয়, তার মাঝে সব পেরেম-টেরেম হারিয়ে যায়, পালিয়ে যায়। বাস্তব জীবনে রাস্তার পাশের খুপরিতে বড় হওয়া পিচ্চিটার কাছে ডাবগাছের শাখাটা নিয়ে আনন্দের খেলাধূলার অংশ থাকে। চৌধুরী সাহেবদের কাছে চাঁদাবাজের আতঙ্ক, মেয়ের বেয়াড়া হয়ে যাওয়া, শাশুড়ির ক্যান্সার ধরা পড়ায় কেমোথেরাপির শিডিউল সামলানোর মতন কষ্ট থাকে। সব চৌধুরী সাহেবরা এখন নাইট ড্রেস পরে ডুপ্লেক্সে ঘুমাতে পারে না।

বাস্তব জীবনটা সুন্দর, তবে ভাষায় অপ্রকাশ্য। প্রতিটি মানুষের জীবনই একেকটা গল্পের চেয়েও বেশি। প্রত্যেকের জীবনেই সুন্দর কিছু গল্প আছে, কিছু প্রাপ্তি আছে, কিছু তীব্র বেদনা আছে। সব মিলিয়েই, সবাই মানুষ। এই সকল অপ্রাপ্তি-বঞ্চনা-গঞ্জনার বিপরীতে উত্তম প্রতিদান মিলিয়ে দিবেন আল্লাহ। বেঁচে থাকার সুখ আর দুঃখ সবই আল্লাহর জন্যই। সবাই আমরা তারই, তার কাছেই তো ফিরে যাবো। দুনিয়াতে এসে এই ফিরে যাওয়া অবধি কাহিনীগুলো হোক অনন্যসুন্দর এক ভালোবাসার মহাকাব্য...

[৩১ মার্চ, ২০১৪]

২৫ মার্চ, ২০১৪

শূণ্যতা-পূর্ণতা আর সৌম্য বিশালতায় প্রশান্তির আলাপ

সলাত শেষ হয়ে গেলে যখন সবাই মসজিদ থেকে চলে যায়, মসজিদের ভেতরের অংশের পেছন দিকে বসে মিম্বারের সামনে রেখে গোটা মসজিদের সৌম্য বিশালতাকে দেখতে আমার ভালো লাগতো। কেমন যেন প্রাণের শূণ্যতা তৈরি হয়, এবং সেই শূণ্যতা এক অদ্ভুত পূর্ণতা পায় একটা নির্ভরতায়। এই অনুভূতিটা মসজিদে বসে যতটা হয়, অন্য কোথাও হয় না। এক অদ্ভুত প্রশান্তি জনশূণ্য মসজিদে তিলাওয়াতের প্রতিধ্বনিতে হয়, যার তুলনা করার মতন অন্য কিছু পাইনি কোনদিন...

আমি শহরের বাইরে 'ট্র্যাভেলিং করতে' খুব বেশি ঘুরতে যাইনি। সবাই দলবেঁধে অনেক জায়গায় যায়, মজা করে, ছবি তোলে, ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে লাইক কমেন্ট নেয় -- এই বিষয়গুলো কেন যেন আমাকে তেমন একটা টানেনি। কিন্তু আমি জেনেছি যে একটানা শহুরে জীবনে বা পারিবারিক জীবনে অনেক কাজকর্ম করতে করতে চাপে পিষ্ট হয়ে গেলে একটু 'রিল্যাক্সড' হওয়া প্রয়োজন, মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য তা উপকারী...

আমি আলহামদুলিল্লাহ আজীবনই বড় বড় মসজিদগুলোতে সলাত আদায়ের যে সুযোগ পেয়েছিলাম, সেখানে সলাতের পরে একটু বসে থেকে আল্লাহর স্মরণ করতে করতে নিজের তুচ্ছতাকে তার হাতে সোপর্দ করে ভারমুক্ত হতাম। হয়ত হৃদয়ের ক্লেশ-কষ্ট-ক্লান্তি-দুঃখগুলো আল্লাহর কাছেই ঝেড়ে ফেরা যায় মসজিদ থেকে, তাই 'আউটিং' করার সময়-সুযোগ না পাওয়াটা আফসোসে পরিণত হয়নি।

অনেক মানুষকেই দেখি সলাতের পরে মসজিদে চুপচাপ বসে চাইতে থাকেন, কাঁদতে থাকেন। তখন অনুভূতি হয়, কারা আসলেই অনেক সম্পদশালী। যেই মানুষগুলো এভাবে চাইতে পারেন, কান্নাকাটি করতে পারেন, তাদের গ্রহণযোগ্যতা আল্লাহর কাছে কোনমাত্রায়, তা ভাবলে নিজেকে কেমন তুচ্ছাতিতুচ্ছ সত্ত্বা বলে মনে হয়! আমি ব্যক্তিগতভাবে চেনা অনেকের জীবনে দেখেছি তারা চাওয়ার বিনিময় পেয়েছেন, অনেকে পার্থিব কিছু হয়ত পাননি, ঈমানকে পেয়েছেন আরো মজবুত করে! এই কারণেই হয়ত অভিজ্ঞ মানুষদের মুখে শোনা যায়, 'আল্লাহর কাছে চাওয়ার মতন চাইতে হয়'। আমাদের চারপাশে কত সাধারণ পোশাকে এমন অনেক আল্লাহর প্রিয় কিছু অসাধারণ মানুষ লুকিয়ে আছে! আফসোস! আমরা তাদের হয়ত আলাদা করে চিনিও না...

[২৪ মার্চ, ২০১৪]

২৪ মার্চ, ২০১৪

মনের জানালা মাঝে # ১০


(১০০)
নিশ্চিত থাকুন, সুন্দর স্বপ্ন বুকে ধারণ করে আপনি কখনো ঠকবেন না।

(১০১)
পৃথিবীতে সুন্দর মানুষ আছে। অবশ্যই আছে। এই বিশ্বাস থাকলে তার দেখাও আপনি পাবেন। হয়ত নিজের ইচ্ছেমতন সময়ে না, ইচ্ছেমতন জায়াগায় না। অন্য কোথাও, অন্যসময়। আল্লাহর ইচ্ছেমতন...

(১০২)
অতীতের সুখস্মৃতিগুলো মাঝে মাঝে প্যাকেটে ভরে রেখে দেয়া উচিত। জীবনের চলার পথে যত গ্লানি, তখন অতীতের প্রাপ্তি, মধুর সময়গুলোর প্যাকেট খুলে ঘ্রাণ নিয়ে মন ভালো করার চেষ্টা করা উচিত। আল্লাহর প্রতি সন্তুষ্টি ভিতরে জাগরূক করার এটি একটি পদক্ষেপ হতে পারে -- 'একসময় আমার সুন্দর সময় ছিলো, আমার খুব সুন্দর কিছু প্রাপ্তির অনুভূতি ছিলো। আগামীতেও হবে ইনশা আল্লাহ। একদিন এই সব যন্ত্রণার শেষ হবেই।'

তিক্ত সময়গুলোকে আঁকড়ে ধরলে তার সম্ভাব্য ১০০ টা অপকারিতা এবং ০ টি  উপকারিতা আছে। ভালো খারাপ যা-ই হোক, সময়কে যেতে দেয়া দরকার। পৃথিবীকে বিদায় দেয়ার পর থেকে সফলদের আর গ্লানি নেই, সেই যাত্রাটা যেন হয় সুন্দর, সফল হয়ে।

(১০৩)
কথা দিচ্ছি ভাই, নিশ্চিত থাকতে পারেন, আপনি যখন সমাজ বদলাতে চাইবেন, তখন তা কখনই সহজ না। আপনি কখনই ত্যাগ ছাড়া স্রোত উলটে দিতে পারবেন না।

(১০৪)
প্রচুর বই কিনবেন। বই কিনে ক্ষতি নাই। যতটুকুই পড়বেন তা লাভ। সীমাহীন লাভ। এই লাভ আপনাকে বদলে দিবে। অন্য কোন বস্তুগত দ্রব্য মানুষ বদলায় না।

(১০৫)
অনেক ঘাটের পানি খেয়েছি বিভিন্ন ধরণের জ্ঞানের উৎসের খোঁজ পাওয়ার পরে। ঘুরে ফিরে সেই জায়গাতেই স্থির হই, কিংবা বলা যায় যে সেখানেই শান্তি পাই আর মন-প্রাণ-চিন্তাতে খোরাক পাই যেখানে কুরআনের আলাপ হয়, যা কুরআন নিয়ে আলাপ করে।

(১০৬)
একটা প্রজন্ম দরকার যারা প্রচুর পড়বে এবং তা পালন করবে। বইমুগ্ধ একদঙ্গল ছেলেই দরকার যারা এই ধ্বসে পড়া সমাজটাকে গড়বে।

(১০৭)
শ্রোতার ভাষা, জনমানুষের ভাষা ও আবেগ পড়তে না পারলে জ্ঞান কপচে লাভ নেই, তাতে কিছু বদলাবে না। মানুষকে বদলে দিতে হলে তার মন ও হৃদয়কে মুগ্ধ করতে হয়।

(১০৮)
জীবনের পথচলায় সঙ্গী পাওয়ার অপেক্ষায় যাত্রাটাই ভন্ডুল হয়ে গেলে কী লাভ? পথের গন্তব্য সম্পর্কে তাই সঠিক ধারণা মাথায় রাখা জরুরি।

(১০৯)
ইদানিং অনেকগুলো মানুষের জীবনের কাহিনী শুনে বারবারই মনে হচ্ছে, মানুষ আল্লাহকে পুরোপুরি ভুলে গিয়ে চলমান সময়ের চারপাশের প্রতিযোগিতাকে সবকিছু ধরে জোর করে, জোর করে, জোরাজুরি করেই নিজ জীবনকে জটিল করেছে; অশান্তি ও দুঃসহ যন্ত্রণাময় করেছে। অথচ, আল্লাহর দ্বীনের পথে পরীক্ষা থাকলেও, কতই না সরল, কতই না সহজ, কতই না জটিলতাবিহীন...

আল্লাহ তো আমাদের বোঝা হালকা করতে চান, আমাদেরকে দুর্বল করে সৃষ্টি করা হয়েছে...

(১১০)
যখন আমি বিভিন্ন জায়গায় যাই, দেখি বেশিরভাগ মানুষের ব্যবহার নোংরা, তারা অসৎ, বোধহীন, নীতিহীন।

যখন আমি ফেসবুকে আসি, দেখি বেশিরভাগ মানুষ আলট্রা স্মার্ট, ব্রিলিয়ান্ট, সুন্দর/সুন্দরী!!

(১১১)
আনন্দ আর শান্তির অনুভূতি কেবলই হৃদয়ে। হৃদয়টার যত্ন নেয়া দরকার। যা-তা থেকে আনন্দ নিলে তা অসুস্থ হয়ে যাবে। রবের আলোয় হোক হৃদয়ের পথচলা।

১৯ মার্চ, ২০১৪

আমাদের সম্পর্কগুলো সচরাচর খুব নাজুক হয়

আমাদের সম্পর্কগুলো সচরাচর খুব নাজুক হয়। টিকিয়ে রাখতে হলে শ্রম দিতে হয়, নতুনত্ব আনতে হয়। হাদিস থেকে শিখেছিলাম, বিরতি দিয়ে দিয়ে পরস্পরের সাথে মিলিত হলে সম্প্রীতি বৃদ্ধি পায়। এরপর থেকে দ্বীনি ভাইদের সাথে একটু বিরতি বজায় রাখার চেষ্টা করেছি। এতে বিরতির পরের প্রথম দেখায়, আন্তরিক উষ্ণতাটুকু অনুভব করে সেই জ্ঞানটার নিপুণতা অনুভব করেছি।

কিন্তু, পরিবারের সম্পর্ক? সেখানে তো বিরতি দেয়ার উপায় নেই। এই সম্পর্কগুলো নিত্যদিনের, আটপৌরে ব্যাপার। এখানে থাকে পারস্পারিক সাহায্য-সহযোগীতা ও নির্ভরশীলতার ব্যাপার। এখান থেকেই তৈরি হয় পরস্পরের প্রতি দয়াশীলতা। কিন্তু তবুও, প্রতিদিন একই মানুষ, একই ধরণের জীবনধারণ, বাইরে থেকে ঘরে ফেরা, পরিবার ও দেশ নিয়ে মন্তব্য -- সবকিছুতে বাক্যগুলোও যেন একই রকম...

একটা উপায় খুঁজে পেয়েছি জীবনে। তা হলো, নিজের মাঝে পরিবর্তন আনা। এই পরিবর্তন উদ্ভট কিছু নয়, বরং প্রতিদিন অন্তত কিছু শেখা। প্রতিদিন নিজেকে আগের চেয়ে একটু ভালো মানুষে উন্নীত করা। প্রতিদিন একটু কম সমালোচনা করা, একটু বেশি আশাবাদী আলাপ করা।

পরিষ্কার পানির বদ্ধ জলাধার দীর্ঘদিন একই রকম করে রেখে দিলে তাতে শ্যাওলা পাওয়া যাবে একসময়। কিন্তু, স্রোতময় সমুদ্রের মাঝে ময়লা ফেললেও তা পরিষ্কারই রয়ে যায়। আমাদের সত্ত্বাকে তাই প্রতিদিন একটু হলেও নতুন চিন্তায়, নতুন উদ্দীপনায়, নতুন ভালোবাসায় উদ্বোধন করা দরকার। আমাদের চিন্তা আর জ্ঞানের বিশালতাকে সমুদ্রের মতন করে আর ভালোবাসার ও স্বপ্নের গতিময়তাকে স্রোতের মতন করে আমাদের সত্ত্বার মাঝে আমরা ময়লা-আবর্জনা-কষ্টের জঞ্জালকে দূরে সরিয়ে দিতে পারবো ইনশা আল্লাহ।

প্রতিদিন অন্তত একটা কুরআনের আয়াত থেকে অনুধাবন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) রেখে যাওয়া মহান জীবনাদর্শ থেকে নেয়া অন্তত একটা ঘটনাকে অনুসরণের চেষ্টা করলে, নিজেকে বদলে দেয়া যায় অনেকখানি। প্রিয়জনদের সাথে আলাপচারিতায় একটা নতুন বিষয় যদি হয় এমন কিছু যা হৃদয়কে আলোকিত করে, সেই সম্পর্কগুলো গতানুগতিকতার হাত থেকে হয়ত মুক্তি পেতে পারে...

[১৮ মার্চ, ২০১৪]

১৮ মার্চ, ২০১৪

বাবা-মা ও স্ত্রীর অধিকার

​​​​আজকে একটা সেমিনারে গিয়েছিলাম যার বিষয়টা বেশ আগ্রহ উদ্দীপক ছিলো - "বাবা-মা ও স্ত্রীর অধিকার", এতে বক্তব্য রেখেছিলেন ড এম সাইফুল্লাহ। প্রথমে প্রায় দেড় ঘন্টা আলাপে কুরআন এবং হাদিসের উদ্ধৃতি দিয়ে আব্বা-আম্মার অবস্থানটা এতই উঁচুতে থাকাটা পরিষ্কার করলেন যে মাঝে মাঝে অতীত জীবনের জন্য চোখ মুছতে হয়েছে, অন্তর কেঁপেছে নিজ জীবনের ব্যাপারে আল্লাহর কাছে জবাবদিহিতার কথা ভেবে... তবে, স্ত্রীর অধিকার সংক্রান্ত বিষয়টা খুব অল্প আলোচনা করে 'টি ব্রেক' হওয়ায় কিঞ্চিত হতাশ হয়েছিলাম কারণ সেটা ভালো করে জানাও খুব জরুরি মনে করেছিলাম...

বিরতির পর ছিলো 'কোশ্চেন-আন্সার' সেশন। এসময় সেই হতাশা কেটে গিয়েছে সুন্দর সেশনটির কারণে। উপস্থিত ভাই ও বোনদের প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে স্ত্রী এবং বাবা-মায়ের মধ্যকার সমন্বয় করতে যে কষ্ট করতে হয় ছেলেদের, কিংবা স্বামী-শশুর-শাশুড়ি নিয়ে মুসলিমাহ মেয়েদের যে কষ্ট করতে হয় সেসব ব্যাপারে কিছু অসাধারণ প্র্যাকটিক্যাল টিপস দিয়েছিলেন শ্রদ্ধেয় শাইখ সাইফুল্লাহ। শিখেছি অনেক কিছু, উপলব্ধি আর অনুধাবনের অংশে যোগ হয়েছে অনেক বেশি, আলহামদুলিল্লাহ।

অনুষ্ঠানে হালকা নাশতা আর পানি ছিল, একটা নোটবুক আর কলমও উপহার হিসেবে দিয়েছিলো আয়োজক আইসিডি। উপহার পাওয়া সেই নোটবুকে কুরআন-হাদিসের আলোকে হওয়া মনোমুগ্ধকর আলোচনা থেকে আমার শেখা কিছু ছোট ছোট পয়েন্ট তুলে রেখেছি --

- বাবা মায়ের সাথে ইহসান করা উচিত। খুবই সুন্দর আচরণ করতে হবে যা হবে দয়া আর ভালোবাসাপূর্ণ। তাদের মনে কষ্ট হতে পারে এমন আচরণ কিছুতেই করা যাবে না।
- যদি চাই আমাদের দোয়াগুলো আল্লাহ কবুল করুক, তাহলে আব্বা-আম্মাকে সন্তুষ্ট রাখতে হবে।
- দুনিয়ার বুকে দীর্ঘ হায়াত পেতে চাইলে আব্বা-আম্মাকে সন্তুষ্ট রাখা উচিত।
- রিযিকে প্রশস্ততা পেতে হলে আব্বা-আম্মাকে খুশি রাখার চেষ্টা করা দরকার।
- নিজের সন্তানের কাছে যদি ভালো ব্যবহার পেতে চাই, আব্বা আম্মার সাথে ভালো ব্যবহার করতে হবে।
- পুত্রসন্তান হিসেবে আমি এবং আমার সকল সম্পদেই রয়েছে আমার পিতার সম্পূর্ণ অধিকার।
- পিতামাতার অবাধ্যতা আমাদেরকে পৃথিবীর বুকেই দ্রুত আজাবপ্রাপ্তির ব্যবস্থা করে দেয়।

- আব্বা-আম্মা যদি মারা যান তবে কয়েকটি কাজ করা উচিত: (১) তাদের জন্য দু'আ করা, (২) তাদের হয়ে অন্যদের কাছে ক্ষমা চেয়ে নেয়া, (৩) তাদের অসিয়ত পূর্ণ করা, (৪) তাদের যারা বন্ধুবান্ধব ও আত্মীয়স্বজন ছিলেন তাদের খোঁজখবর নেয়া ও তাদের সাথে সদ্ব্যবহার করা।

- ছেলেদের জন্য স্ত্রী হলো দুনিয়ার বুকে শ্রেষ্ঠ সম্পদ, সন্তানরা পিতামাতার শ্রেষ্ঠ উপার্জন।
- স্বামী স্ত্রীর সম্পর্কের ক্ষেত্রে একে অন্যকে দোষারোপ করার অভ্যাস না থাকা উচিত।
- নিজের কোন চাহিদা থাকা সত্বেও যদি অন্যের প্রয়োজনকে অগ্রাধিকার দিয়ে তার অভাব পূরণকে প্রাধান্য দেয়া হয় তাহলে আল্লাহর কাছ থেকেই উত্তম প্রতিদান পাওয়া যাবে।
- সময়ের সাথে সাথেই স্বামী-স্ত্রীর মধুর সম্পর্কটি প্রগাঢ় হয়, যে অনুভূতিটাকে 'রাহমাহ' বলা হয়েছে।
- কারো কোন বক্তব্য না শুনে তার ব্যাপারে কোন অভিযোগ থেকে সিদ্ধান্ত নেয়া ঠিক নয়।
- কারো মৃত্যুর আগে তার সম্পদ বন্টনের কোন ধরণের সুযোগ নেই।
- অধিকার দাবী করা যেতেই পারে, তাতে অধিকার প্রতিষ্ঠা হয় না। অন্যদের প্রতি উত্তম আচরণ ও তাদের অভাবপূরণের চেষ্টা করা অধিকার প্রতিষ্ঠিত হবার উত্তম উপায়। যে দুনিয়াবাসীর প্রতি রহম করে, আল্লাহ তাকে রহম করেন।

আলোচনা শুনে টুকে নেয়া এই নোটে কোন ভুল থাকলে তার দায় একান্তই আমার। আল্লাহ আমার ভুলত্রুটি ক্ষমা করে সবার সাথে শেয়ার করার সদিচ্ছাটুকু কবুল করে নিন। [১৭ মার্চ, ২০১৪]

ফেসবুকে তর্ক তো অনেকটাই জীবন ধ্বংসকারী

​​আমি জীবন থেকে জেনেছি, আমাদের এখনকার সময় দ্বীন হিসেবে ইসলামকে বেছে নেয়া মানুষগুলো এক অন্যমাত্রার। তারা ঠিক আমাদের পূর্বের কয়েক প্রজন্মের মানুষদের বেশিরভাগের মতন আনুষ্ঠানিকতা ও বিশ্বাস হিসেবে ইসলাম বেছে নেননি, বরং প্রচুর টানাপোড়েন, কষ্ট ও এই জীবনের অর্থ ও জীবনকে ধারণ করার আবশ্যকীয় ত্রাণকারী হিসেবে পেয়েছেন -- ইসলাম। চারদিকে যখন শয়তানী বুদ্ধির জয়জয়কার, নাস্তিক ও ইসলামবিদ্বেষীদের আগ্রাসন এসেছে পরিকল্পনার মাধ্যমে সুচতুরভাবে শিক্ষাক্ষেত্রে, সাহিত্যে, সঙ্গীত ও সংস্কৃতিতে, পথ চলতে প্রতিটি ব্যানার-ফেস্টুন আর বিলবোর্ডে, চাকুরিক্ষেত্রের বিভিন্ন নিয়মাবলীতে -- তখনো সত্যসন্ধানী মানুষেরা খুঁজে বের করে নিয়েছেন তাদের দুনিয়া ও আখিরাতের রক্ষা করবে যেই বিধান, সেই ইসলামকে। এ তো শুধু ভাষায় লেখা কিছু কথা নয়, এই বিষয়গুলো উপলব্ধির, অনুভবের...

১০ মার্চ, ২০১৪

সেরাদের সেরা যারা তাদের স্মরণে


বিভিন্ন সময়ে স্কলারদের জীবনী পড়ে চোখে পানি চলে আসে... কতটা ত্যাগ, পরিশ্রম আর কষ্ট ছিলো তাদের কাজ করতে, তবু কী বিনয়! তবু কতই না মোহাব্বত তাদের হৃদয়ে মানুষের জন্য। এই সবই সেই দ্বীন আল ইসলামের সৌন্দর্য, যা আল্লাহ তাদের প্রতি দয়া করে দিয়েছেন। ইসলামের সাথে যিনি নিজেকে সংলগ্ন রাখেন, তিনিই এমন ভাগ্যবান হয়ে পড়েন। তবু, আলেমদের ব্যাপারটা অন্যরকম সুন্দর। যখন কিছু পড়তে যাই, মনে হয়, এই মানুষগুলোর শ্রম আর ভালোবাসার বদৌলতে সেই প্রায় সাড়ে ১৪০০ বছর আগের আলোচনা আর ঈমানের স্বাদ একদম অকৃত্রিম করে অনুভব করতে পারছি।

মাঝে মাঝে নিজেকে অপরাধী লাগে খুব। যে মানুষগুলোর রক্তস্রোত বয়ে আমরা দুনিয়াতে শান্তির ছিটেফোঁটা হলেও পাচ্ছি, যে মানুষগুলোর নির্ঘুম রাত আর বিশ্রামহীন দিনগুলোর জ্ঞান অন্বেষনের বিনিময়ে আমরা ইলম পেয়েছি -- তাদের কয়দিন কয়বার স্মরণ করে দোয়া করি? তারা ইনশা আল্লাহ সফল, আল্লাহ তাদের উত্তম বিনিময় দান করুন। কিন্তু সম্ভবত আমরা হতভাগা, যারা তাদের দোয়া করে আল্লাহর আরো কাছাকাছি যেতে পারছি না, আল্লাহর ভালোবাসাকে আরো বেশি করে পাচ্ছিনা...

সালাম ও দোয়া বর্ষিত হোক এই বিশ্বজগতের প্রতি রাহমাতস্বরূপ প্রেরিত রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতি, রাহমাত বর্ষিত হোক সাহাবীদের প্রতি, তাবিঈদের প্রতি, তাবে'তাবিঈদের প্রতি এবং তাদের পরবর্তী সকল সৎকর্মশীল মানুষদের প্রতি, আলেমদের প্রতি, মুজাহিদদের প্রতি যারা কিয়ামাত পর্যন্ত দুনিয়ার বুকে পা রাখবেন...

আল্লাহ যেন আমাদেরকে সৎকর্মশীলদের দলে অন্তর্ভুক্ত করেন। আমিন।

৮ মার্চ, ২০১৪

হাফিজের কবিতা [১] : আশা ও আনন্দ

​কেউ যদি আমার সাথে বসে,
আর আমরা আমাদের সেই প্রিয়তমকে নিয়ে আলাপ করি

যদি আমি তার অন্তরে স্বস্তি বয়ে আনতে না পারি.
যদি আমি তাকে আগের চেয়ে ভালো অনুভব করাতে না পারি
তাকে নিয়ে এবং এই পৃথিবীকে নিয়ে,

তাহলে হাফিজ,
দ্রুত ছুটে যাও মসজিদে আর সিজদাবনত হও --

কেননা তুমি এইমাত্র
আমার জানা একমাত্র পাপটি করেছ।

-- পারস্যের কবি হাফিজ

[আই হার্ড গড লাফিং: পোয়েমস অফ হোপ এন্ড জয়]

৭ মার্চ, ২০১৪

শামস তাবরিজি [১]



অতীত আমাদের মনে ঘন কুয়াশার মত। আর ভবিষ্যত? সম্পূর্ণ একটা স্বপ্ন। আমরা ভবিষ্যত কেমন হবে তা ধারণাই করতে পারি না, যেমন পারিনা অতীতকে বদলে দিতে।~ শামস তাবরিজি

 * * *
যখন সবাই কিছু একটা হতে চাইছে, তখন তুমি বরং কিছুই হতে যেয়ো না। শূণ্যতার সীমানায় নিজেকে মেলে দাও। মানুষের উচিত একটা পাত্রের মতন হওয়া। একটি পাত্রের মধ্যকার শূণ্যতা যেমন তাকে ধরে রাখে, তেমনি একজন মানুষকে ধরে থাকে তার নিজের কিছুই না হয়ে থাকার সচেতনতা। ~ শামস তাবরিজি

 * * *
"লোকের ছলচাতুরি আর প্রতারণা নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ো না। কিছু লোক যদি তোমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে এবং তোমাকে কষ্ট দিতে চায়, তবে আল্লাহও তো তাদের জন্য  কৌশল করছেন। যারা ফাঁদ পাতে তারা তাদের নিজেদের পাতা ফাঁদেই পড়ে যায়। কোন খারাপ কাজই শাস্তিবিহীন থাকে না, কোন ভালো কাজই পুরষ্কার ছাড়া যায় না। ন্যায়বিচারের উপরে বিশ্বাস রাখো এবং বাকিটা ছেড়ে দাও। ~ শামস তাবরিজি

 * * *
শেখার জন্য তুমি পড়াশোনা করো, কিন্তু বুঝতে হলো তোমার প্রয়োজন ভালোবাসা। ~ শামস তাবরিজি

 * * *
​এই​ পথ কোথায় গিয়ে ঠেকেছে তা জানার চেষ্টা করা অর্থহীন। তুমি শুধু প্রথম ধাপটি নিয়ে চিন্তা করো, পরেরগুলো এমনিতেই চলে আসবে।" ~ শামস তাবরিজি ​

 * * *
পৃথিবীটা সুউচ্চ পর্বতের মতন, এখানে প্রতিধ্বনি নির্ভর করে তোমার উপরেই। তুমি যদি ভালো কিছুর জন্য চিৎকার করো, পৃথিবীও তোমাকে তেমন প্রতিদান দিবে। তুমি যদি খারাপ কথা বলে চিৎকার দাও, সে তোমাকে তেমনই ফেরত দিবে। কেউ যদি তোমার সম্পর্কে খারাপ কিছু বলে, তাদের সম্পর্কে ভালো কথা বলো। পৃথিবীকে বদলে দিতে তোমার হৃদয়কে বদলে দাও। ~ শামস তাবরিজি

 * * *
জীবনের পরিবর্তনগুলোর বিরুদ্ধে রুখে না দাঁড়িয়ে বরং আত্মসমর্পণ করুন। জীবনকে আপনার বিরুদ্ধে না রেখে বরং আপনার সঙ্গী করে নিন। "আমার জীবনটা পুরো উলটে যাবে" মনে করে দুশ্চিন্তা করতে যাবেন না। আপনি কেমন করে জানেন সেই ওলটানো জীবন এই সোজা অবস্থাটির চেয়ে ভালো হবে না? ~ শামস তাবরিজি

[উদ্ধৃতিগুলোর ইন্টারনেট থেকে ইংরেজিতে সংগৃহীত এবং অনুবাদকৃত]