১৪ অক্টো, ২০১২

আলোকিত মানুষদের জানা হয়নি এতকাল

ইমাম ইবনে তাইমিয়া, ইমাম শাফিঈ, ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম, ইমাম আবু হানিফা, ইমাম আয যাহাবী, ইমাম আর রাজী, ইমাম আস-সুয়ুতি , হাসান আল বাসরি .... (রহিমাহুল্লাহ)

জীবনের দীর্ঘ একটা সময় এই মানুষগুলাকে চিনতামই না প্রায়। নাম শুনলেও ধারণাই ছিলনা উনারা কারা, কখন এসেছিলেন এই দুনিয়ায়, কবে চলে গেছেন আল্লাহর কাছে। কি দিয়ে গেছেন তারা আমাদেরকে। কল্পনাই ছিলনা তারা কতটা অসাধারণ, কত গভীর আর উঁচুমাপের জ্ঞান রাখতেন !!

অথচ বিগত শতাব্দীর প্রায় সমস্ত বিখ্যাত লেখকদের আমি চিনি। অজস্র উপন্যাস আর অনুবাদ পড়েছি দেশ-বিদেশী লেখকদের। এমন একটা সময় ছিল জীবনের, আমি ইংরেজি সাহিত্যের বিগত কয়েক শতকের লেখকদের নাম, তাদের বিখ্যাত সবগুলো বই চিনতাম, কিছু কিছুর কাহিনীও জানতাম।

যেই জ্ঞান আমাকে আমার আসল পথের আলো হয়ে পথ দেখাবে, সেই আলোকবাহী মানুষগুলোকে আমি চিনিনি, তাদের অসাধারণ মোহমুগ্ধময়, অন্তরালোকিত করার সেই সাহিত্য, সেই দর্শন আমার অজানাই রয়ে গেছে। মাঝে মাঝে এখানে ওখানে কিছু উদ্ধৃতি পাই, কিন্তু জানিনা কবে তাদের লিখে যাওয়া বইগুলো পড়তে পারব। 

কত পড়া বাকী, কত যে শেখা বাকি, কত যে কাজ বাকী... 

জানতেই যদি না চাইলাম, জানতেই যদি না পারলাম, করতেই যদি না পারলাম কাজ, বদলে দিতে না চাইলাম, না পারলাম -- নিজেকে আর আমাদের সমাজকে, মানুষদেরকে... 
তবে, মুক্তি মিলবে কী করে? :(

১৩ অক্টো, ২০১২

আমার পছন্দের ওয়েবসাইট তালিকা

একটা সময় ইসলামের সাথে জীবনবোধকে কীভাবে সংযোগ করতে হবে, এমন কথাবার্তা খুঁজেই পেতাম না অনলাইনে বাংলা ভাষায়। দু'একজন শ্রদ্ধেয় বড় ভাই আর আপু অনলাইনে লিখতেন নিজেদের মতন করে, তাদের দেখে অনুপ্রেরণা পেয়েছিলাম। তবু, যারা ইসলামের নামে কুৎসা রটায়, তাদের প্রচেষ্টা আর ভলিউমের তুলনায় সেটা হয়ত হাজারগুণ ক্ষুদ্র ছিল। আমাদের হয়ত বুদ্ধিবৃত্তিক কিছু করার চাইতে আবেগ খাটানোর প্রক্রিয়াটা মাত্রাতিরিক্ত রকমের বেশি, তাই ঘুরে ফিরে সবখানে লোকজনকে দুষেই দিন যায়।

অনেকদিন আগে থেকে ঘাঁটতে ঘাঁটতে অনলাইনে আমি কিছু সুন্দর ওয়েবসাইটের খোঁজ পেয়েছিলাম একসময়। সেগুলোতে নিয়মিত গিয়ে ঘুরে ফিরে এলে মন ভালো হয়ে যেত। এমন কিছু ইংরেজি সাইটে এখনো ঢুঁ দেই মাঝে মাঝে, কতগুলোতে নিয়মিত যাই, চিন্তার খোরাক পাই, নতুন মাত্রা পাই।

একটা তালিকা উল্লেখ করছি, আমি বিশ্বাস করি, ভালো লাগবে ইনশাআল্লাহ!

 বাংলা ভাষায় কিছু বিশেষ সাইট
@@ এছাড়াও যে লেখাটি দেখতে পারেন:: বাংলা ভাষায় দারুণ কিছু ওয়েবসাইট ও ফেসবুক পেইজ

১১ অক্টো, ২০১২

যখন অস্থির লাগে প্রাণ


জীবনের উদ্দেশ্য কী আর সেই উদ্দেশ্যে নিজের জীবনকে কীভবে ধারণ করতে হবে, এটা বুঝে আমরা অনেকেই পুরোনো ভুল জীবনযাপন ধরনকে বদলে ফেলি। তখন বেশ কঠিন কিছু পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়।

আপনি যেদিন থেকে জীবনকে যখন *কেবলমাত্র* আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য ধারণ করতে চাইবেন, যেদিন পুরোনো অর্থহীন কাজকর্ম আর পরিচিতমহলের, বন্ধুমহলের তুচ্ছ সব কথাবার্তা, গীবত, পরশ্রীকাতর আলাপ, হট জোক্স টাইপের আলাপ থেকে ধীরে ধীরে সরিয়ে আনতে চাইবেন -- তখনই আপনার বন্ধুশূণ্যতা হবে, নিজেকে হয়ত নিজভূমে পরবাসী মনে হবে, কখনো কখনো নিজেকে ভুল ভুল মনে হতেও পারে...

১০ অক্টো, ২০১২

একজন মেঘমানুষ আর কিছু হাসিমুখ কথা

আমার কাছে মনে হয় কিছু মানুষ হলো একরাশ মেঘের মতন। তাদের কথাগুলো স্নিগ্ধ, কোমল, তাদের চিন্তাগুলো মায়ামাখা, আন্তরিক আর হৃদ্যতাপূর্ণ... তাদের সাথে কথা বললে মনে হয় যেন ঝিরিঝিরি বৃষ্টি ঝরছে মুখের উপরে...

আল্লাহ এমন বাঙময়, প্রিয়ভাষী/প্রিয়ভাষিণী মানুষদের সংখ্যা বাড়িয়ে দিন আমাদের মাঝে। তারা যেন তাদের স্নিগ্ধতা আর হৃদয়ের কোমলতা আর সৌন্দর্যে আমাদের মতন হতভাগাদের মনের, চিন্তার কষ্টকে সারিয়ে দেন আচানক রহমত হয়ে এসে... আল্লাহ রব্বুল আলামীন তাঁর রাহমাত যেন এমন মানুষদের উসিলায় আমাদের মাঝে ছড়িয়ে দিন আরো আরো বেশি...

আজ দিনভর বৃষ্টি হচ্ছে। সেটা খুব সুখানুভূতির উদ্রেক করছিল না কিছু কারণে। কিন্তু অমন মেঘময় মানুষদের সাথে কথা বলে মনের ক্ষতগুলো একদম দূর হয়ে গেলো... সুবহানাল্লাহ। মন সিক্ত হয়ে আছে... ভালো লাগায়, ভালোবাসায়...

যেসব মানুষের সাথে কথা বলে আল্লাহর স্মরণে অন্তর বিগলিত হয়, আল্লাহর প্রতি বেশি কৃতজ্ঞতা জাগে, তারাই আসলে আল্লাহর আলোয় আলোকিত অন্তর ধারণ করেন...

৮ অক্টো, ২০১২

ঘরে ফেরার আয়োজন

প্রতিদিন কত কিছুই তো ঘটছে জীবনে, ঘটবেও। উত্থান আর পতন প্রতিদিন, প্রতিবেলা। অজস্রবার, অজস্রভাবে... অনেক যন্ত্রণা আর কষ্ট। এরই মাঝে কিছু সুন্দর মূহুর্তও আছে, থাকবে। থাকবে --

অজস্র ভুল,
ভুলের সংশোধন,
অনুতাপ,
আঘাত,
ভালোবাসার বসন্ত,
অভাবের উত্তাপ,
অসুস্থতা,

৭ অক্টো, ২০১২

ইমাম ইবনে তাইমিয়ার নামে গুগল সার্চ

ইমাম ইবনে তাইমিয়ার নামে গুগল সার্চ দিয়ে একটা আস্তাকুঁড় ব্লগে চলে গিয়েছিলাম। আরেকটা ওয়েবসাইটে গিয়েছিলাম। আফসোস!! চোখে পানি আসতে বাকি ছিল। নরাধমগুলো এমনভাবে ভাষা ব্যবহার করেছে শাইখুল ইসলাম ইমাম ইবনে তাইমিয়্যা | Imam Ibn Taimiyyah (রাহিমাহুল্লাহ)-কে নিয়ে, যেন তাদের বাসার পাশের বস্তির রিকশাওয়ালাকে নিয়ে গীবত করতে বসেছে। অদ্ভুত আর আশ্চর্য হয়ে গিয়েছি। ইসলামের নামে ওয়েবসাইট খুলে রেখে, ব্লগ খুলে রেখে এসব দিয়ে আখিরাতের ভয়াবহতা বৃদ্ধি করা ছাড়া আর কি? আর আমরা যারা নিজেদের মুসলিম মনে করি, মুক্তি চাই আল্লাহর কাচে, আমাদের কর্মতৎপরতা কোথায়? আমরা আসলে কী করি? কয়টা প্রোডাক্টিভ কাজ করি একটা দিনে? কয়টা জিনিস শিখি? শেখাই? কাজে লাগাই জ্ঞান?

 আশ্চর্য লাগে, মানুষের বিশ্বাসে, চেতনায়, আচরনে, দৈনন্দিন জীবনধারণে ইসলামী অনুপ্রেরণা থাকে না, থাকেনা মানুষের প্রতি ভালোবাসা, সম্মান, শ্রদ্ধাবোধ -- অথচ মূর্খতায় ডুবে থাকা ঘৃণা উদগীরণে সদা তৎপর থাকে আমাদেরই সমাজের মানুষগুলো। একটা সময় এদের দেখে হতাশ হতাম -- এখন সম্পূর্ণ অনুপ্রেরণা পাই, এরা আমাকে আরো বেশি দৃঢ়চেতা করে দেয়। নিজের ভিতরের পশুটাকে ভালো করে চিনতে শেখায়। তার বিরুদ্ধে নিজেকে প্রস্তুত হতে অনুপ্রাণিত করে, সচেতন করে।

যেই মানুষগুলো জীবনকে বিলিয়ে দিয়েছেন আল্লাহর পথে -- জ্ঞানে, সৎকাজের প্রতিষ্ঠায়, অন্যায়ের তীব্র প্রতিবাদে যারা কাঁপিয়ে দিয়েছেন ন্যায়হীন নীতিহীন শাসকদের অন্তরাত্মা; এমন মানুষদের নিয়ে প্রবল তুচ্ছ জ্ঞানসম্পন্ন পাপাসক্ত মানুষগুলো গন্ডমূর্খ না হলে কীভাবে কুৎসা রটায়? যিনি আখিরাতে মুক্তি চাইবেন, তিনি অবশ্যই নিজের প্রতিটি কাজের প্রতি খেয়াল রাখবেন -- এটাই সত্য। আল্লাহ্‌ যেন আমাদের সরল সঠিক পথে রাখেন, যেন আমরা তার সন্তুষ্টি অর্জন করতে পারি। আমাদেরকে তিনি পথভ্রষ্ট অভিশপ্তদের দল থেকে যেন মুক্ত রাখেন। আমিন।


২৪ সেপ্টেম্বর, ২০১২

৫ অক্টো, ২০১২

ফেসবুকে নির্লজ্জতার প্রসার ও কিছু চিন্তা


আধুনিক তরুণ প্রজন্মের বিশাল একটা অংশ এখন ফেসবুক ব্যবহার করে। প্রযুক্তির উন্নয়নের সাথে সাথে এই সোশাল নেটওয়ার্কিং সাইটগুলোতে সবারই ব্যাপক পদসঞ্চালন। টুইটার ও ফেসবুকের মাধ্যমে ক্ষণিকের মাঝেই জেনে যাওয়া যায় সারা পৃথিবীর অনেক খবর। আন্তর্জাতিক সাংবাদিকগণ তাদের ব্যক্তিগত টুইটার অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে থাকেন খুবই নিয়মিভাবে। তেমনি সমস্ত ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানও এখানে সংযুক্ত হয়েছে সহজেই মানুষের কাছে পৌছাতে, তাদের কাছে নিজেদের সেবা ও পণ্য সম্পর্কে জানিয়ে দেয়া, ভোক্তাদের কাছ থেকে ফিডব্যাক নেয়া এবং সেই অনুযায়ী ব্যবসার উৎপাদন বৃদ্ধি করার নজীর রয়েছে পর্যন্ত। শিক্ষক, বুদ্ধিজীবী এবং খেলোয়ার ও অন্যান্য সেলিব্রিটিরাও তাদের ভক্তদের অনেক কাছে চলে যেতে ব্যবহার করে ফেসবুক, টুইটারসহ অন্যান্য সোশাল নেটওয়ার্ক।

৩ অক্টো, ২০১২

কী চাই? কেমন করে চাই?

কোন বাঁধা গৎ বলতে না, বরং স্রেফ একটা বই পড়তে গিয়ে একটা উপলব্ধির কথাগুলো বলতে ইচ্ছা করছে। বহুদিন ধরে দেখে আসা অনেকগুলো বিষয়ে নিজের একটা অনুধাবন হলো।

এই সমাজে বেশিরভাগ মানুষের কাছেই ইসলামটা একটা ধর্মীয় আচার, যেই ফ্রেমের বাইরে একসময় আমিও ভাবতে পারতাম না। "আমার জীবনের এই কাজটি কি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য বা তার নির্দেশিত পথে? " -- এই প্রশ্নটা যিনি তার প্রতিটি কাজেই করেন, করতে আগ্রহ রাখেন আন্তরিকভাবে -- মূলত তিনিই ইসলামকে দ্বীন হিসেবে বুকে জড়িয়ে ধরতে চান। তিনিই আসলে, আল্লাহকে রব হিসেবে মেনে তার দাসত্বে নিজেকে নিয়োজিত করতে চান।

২ অক্টো, ২০১২

[গ্রন্থচারণ] কুরআন অধ্যয়ন সহায়িকা : খুররম মুরাদ




ওস্তাদ খুররম মুরাদের লেখা 'Way To Quran' বইটার বাংলা অনুবাদ আমি সেদিন দোকানে পেয়ে চোখ বন্ধ করে খামচে ধরে কিনে ফেলেছি! বইটার নাম 'কুরআন অধ্যয়ন সহায়িকা'। এরকম রত্ন টাইপের জিনিসের দাম এত কম! বইটা হাতে নিয়ে বুক কেমন টলমল করে উঠেছিল। যেদিন ইংরেজিতে বইটা পড়তে শুরু করেছিলাম, অল্প ক'পৃষ্ঠা পড়ে বারবার মনে হচ্ছিল, আমি যদি অনুবাদ করে সবাইকে পড়তে দিতাম, সবার কতইনা উপকার হত!! এই বইটা উনি কুরআন পড়ার ব্যাপারে যারা শিক্ষানবীস, কোথায় কেমন করে পড়লে বেশি উপকৃত হওয়া যেতে পারে, তাদের জন্য কিছু দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। অনেকটা আমার মতন ছেলেপিলেদের জন্য। বাংলা অনুবাদটাও বেশ সুন্দর লাগলো পড়ে। কুরআন ছাড়া জীবনে কোন কিছুই ঠিকমতন করতে পারবনা আমরা, পারিনা, হয়না। এত সুন্দর এই মহান গ্রন্থটিকে কত অবহেলাতেই না আমরা ফেলে রাখি।

ইনশাআল্লাহ এই বইটি আমাদের উপকারে আসবে সবারই। দারুণ এই বইটার লিঙ্কঃ


ওস্তাদ খুররম মুরাদ কুরআন নিয়ে আমাদের জন্যই হয়ত বলেছিলেন সুন্দর একটা কথা:

"কেউ যদি কুরআনের শরণাপন্ন হওয়া সত্ত্বেও অন্তরে সংস্পর্শ না লাগে, হৃদয় আলোড়িত না হয়, জীবন অপরিবর্তিত থেকে যায়, খালি হাতে ফিরেন, যেভাবে এসেছিলেন ঠিক সেভাবেই প্রত্যাবর্তন করেন, তাহলে তার চেয়ে মর্মান্তিক দুর্ভাগ্য আর কি হতে পারে?" 

আল্লাহ যেন আমাদের দুর্ভাগাদের দলে না ফেলেন। আল্লাহ যেন তার এই গ্রন্থটিকে বুকে রেখে তার উপর আমল করে তার সন্তুষ্টি অর্জনপূর্বক দুনিয়া থেকে আমাদের নিয়ে যান তার কাছে। নিঃসন্দেহে আমরা সবাই আল্লাহরই এবং আমাদেরকে তার কাছেই ফিরে যেতে হবে...

* * * *
বইটি সম্পর্কে কিছু প্রয়োজনীয় তথ্য
বইয়ের নাম: কুরআন অধ্যয়ন সহায়িকা
লেখক: খুররম মুরাদ
সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য: ৬৫ টাকা
প্রকাশক: বাংলাদেশ ইসলামিক সেন্টার।

৩০ সেপ, ২০১২

স্বপ্নচারীর স্মৃতিচারণ


আজকে হঠাৎ ব্লগে ঢুকে পরিসংখ্যান দেখে খানিক চমকে উঠে ভালোলাগায় মন ভরে গেল। এরই মাঝে কখন যে ৭২ হাজার বার পড়া হয়ে গেছে আমার লেখাগুলো -- টেরও পাইনি আমি! অথচ, যেদিন ব্লগে একাউন্ট খুলেছিলাম, সেদিন একটা দুঃসাহস ছিল নিজের মাঝে -- জানতাম না কী লিখব, তবে তখন চারিদিকে অজস্র খারাপ কথা, রাজনৈতিক ক্যাচাল, আস্তিক-নাস্তিক ক্যাচালের বেড়াজালে ব্লগ পড়তে বিধ্বস্ত লাগত নিজেকে। মনে হত, যদি একটা সুস্থ জায়গা পেতাম, তাহলে এই জীবনে যে অনেক সুন্দর কিছু কথা আছে, সেগুলো নিয়ে অন্তত একাই লিখে যাব, কেউ পড়ুক বা না পড়ুক।

২৮ সেপ, ২০১২

বিয়েপাগলা ছেলেদের কথা


ঘটনা ১

আজকাল যার সাথেই দেখা হয়, সবার আগে প্রশ্ন করে, "ভাই, বিয়ে কবে করবেন" বা "কিরে, বিয়ে কবে তোর?" !!

এইতো সেদিন ভার্সিটির এক ছোট ভাইয়ের সাথে দেখা হলো, সালাম আর কুশলাদি বিনিময়ের পর সবার আগে প্রশ্ন,

-- "ভাই কি বিয়ে করেই ফেলেছেন?"
-- "না রে ভাই"।
-- "তাহলে কি শীঘ্রই দাওয়াত পাচ্ছি?"

২৬ সেপ, ২০১২

মনখারাপ যেভাবে হারিয়ে যায়

প্রায় সময়েই খুব মন খারাপ আমাকে আঁকড়ে ধরতে নেয়...
যখন আমারই চারপাশের কাছের মানুষদের মাঝে প্রায় সবাইকেই দেখি জাগতিক আর্থিক, বুদ্ধিবৃত্তিক, সামাজিক দিক থেকে এবং আত্মিক ও আধ্যাত্মিক দিক থেকেও উন্নতি করেই চলেছে ক্রমশ, অথচ আমি যেন ঠিক আগের জায়গাটাতেই আঁটকে আছি -- উন্নতির নামগন্ধও নেই। এত চেষ্টা করি তবু যেন বারবার পা পিছলে পড়ি সবধরনের প্রচেষ্টাতেই!

তখন খেয়াল হয়, আরো শত-সহস্রজন মানুষের চাইতে বেশি নিয়ামাত আল্লাহ আমাকে দিয়েছেন, যা পেয়েছি, তার হিসেবটুকুই কি দিতে পারবো? এটুকুও না থাকতে পারতো, এই শারীরিক অসুস্থতাটুকুই তো তাঁর ইচ্ছাতে শতগুণ বেড়ে যেতেই পারে, তখন হয়ত স্বাভাবিক চলাচলের যোগ্যতা দূরে থাক, কীবোর্ড চাপার মতন শক্তিও থাকবে না। এই জগতের হাজার হাজার নিয়ামাত আমি পেয়েছি একদমই বিনামূল্য, বিনা পরিশ্রমে... তবু কতই না অপ্রাপ্তি আমার!

২৪ সেপ, ২০১২

ফেবুলাপঃ যারা ফেসবুকে তর্কে জুড়ে শায়খ হয়ে গালাগালি করি, তাদের জন্য স্মরণিকা

একজন ফেসবুক শায়খকে বলছি, হ্যাঁ, আপনি যত বেশি স্কলারদেরকে ধুইতে পারবেন, যত তাদের গায়ে কালি লাগাইতে পারবেন, ততই বেশি নেকি হবে আপনার। ঈমানকে জিন্দা করতে হইলে প্রতিটা অপছন্দ হওয়া স্কলারের নামে একশ লাইন করে লিখতে হবে। নইলে কিন্তু আপনার জান্নাত হবেনা। প্রিয় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর অকলঙ্ক চরিত্রতে কুৎসা রটনার চেষ্টায় এক জঘন্য নীচ মানুষরূপী পশু ছবি বানিয়েছে। এই বিষয়ে বিভিন্ন রকম প্রতিক্রিয়া হতে পারত।

কিন্তু অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে যেন আসল কাজ হলো ফেসবুকে জিহাদ করা আর বাস্তব পৃথিবীতে যারা প্রতিবাদ করেছে -- ফেসবুকে আয়েশ করে বসে তাদেরকে ভুল প্রমাণিত করা। আর শুধু এই করেই হবেনা, অবশ্যই এক হালি করে স্কলারদের ধুইতে হবে। নিজে বাস্তব জীবনে একটা কুকুর বিড়ালকে ধরে রুটি খাওয়াতে না পারলেও স্কলার যারা কুরআন আর হাদিসের শিক্ষা দেন/দিয়েছেন সহস্র মানুষকে, যারা জীবনে অজস্র ত্যাগ স্বীকার করেছেন -- তাদের নামে কুৎসা ও নিন্দা করে নিজে বড় হইতে হবে।

ফেবুলাপঃ ফেসবুকের হিরোরা

ফেসবুকের হিরোরা প্রকৃতপক্ষে ডিলিউশানে থাকে। লাইক আর কমেন্টের জোয়ারে ভেসে গিয়ে নিজের বিকৃত নীচ চিন্তাকে সর্বজনবিদিত মহান অভিমত হিসেবে চিন্তা করার কিছু নেই। এটা নিছক একটা বিভ্রমমাত্র।

দু'ছত্র লিখতে শিখে বছরের পর বছর ধরে শ্রম দেয়া, মন দিয়ে কাজ করা জ্ঞানী-গুণী, কর্মী ও নেতাদের কাজকে, ভালোবাসা আর পরিশ্রমকে তাচ্ছিল্য করে উড়িয়ে দিয়ে আত্মতুষ্টি লাভ করা যেতে পারে, ফলশ্রুতিতে নিজেকে কেউকেটা মনে করাও যেতে পারে। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে এই হিরোগণ বাস্তব পৃথিবীতে একটা টিকটিকি ধরে মারার যোগ্যতা রাখেনা, রাখেনা একজন সাধারণ মানুষের জীবনে কিঞ্চিত পরিবর্তনও আনয়ন করতে।

ভার্চুয়াল জগত আর বাস্তব জগতের এই ব্যবধান উপলব্ধি করার বিষয়। এই সমাজের রীতিনীতি, রাস্ট্রীয় রাজনীতি, এই সময়ের জ্ঞান-তথ্য-মিডিয়া-সাহিত্য-সংস্কৃতিগুলো শত-শত বছর ধরে কোটি কোটি মানুষের ভিতরে রন্ধ্রে রন্ধ্রে ঢুকে সৃষ্টি হয়েছে। কীবোর্ডে ঝড় তুলে সবকিছুকে *নালিফাই* করে নাকচ করে দিলেই তা বদলে যাবে না -- এই পুনর্গঠনের জন্য শ্রম দিতে হবে, কাজ করতে হবে, মানুষের পাশে গিয়ে কাজ করতে হবে।

মুখভরা গালগল্পে জীবন বদলায় না, কেবল আত্মতুষ্ট হওয়া যায়। সম্মানিতদের অসম্মানের চেষ্টায় মহৎ হওয়া যায়না, নিজেকেই শুধু ছোট করা হয়।

১৬ সেপ, ২০১২

মীমাংসা ও আনুগত্য : সেরা মানুষের জীবনের আলোকে

এটা সেই অসাধারণ আয়াতগুলো। এই আয়াতগুলোর আলোচনা শুনেছিলাম উস্তাদ নুমান আলী খানের কাছে যা আমার সবচাইতে প্রিয় আলোচনাগুলোর একটা, ২০ মিনিটের মাত্র।

"নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদিগকে নির্দেশ দেন যে, তোমরা যেন প্রাপ্য আমানতসমূহ প্রাপকদের নিকট পৌছে দাও। আর যখন তোমরা মানুষের কোন বিচার-মীমাংসা করতে আরম্ভ কর, তখন মীমাংসা কর ন্যায় ভিত্তিক। আল্লাহ তোমাদিগকে সদুপদেশ দান করেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ শ্রবণকারী, দর্শনকারী।

হে ঈমানদারগণ! আল্লাহর নির্দেশ মান্য কর, নির্দেশ মান্য কর রসূলের এবং তোমাদের মধ্যে যারা বিচারক তাদের। তারপর যদি তোমরা কোন বিষয়ে বিবাদে প্রবৃত্ত হয়ে পড়, তাহলে তা আল্লাহ ও তাঁর রসূলের প্রতি প্রত্যর্পণ কর-যদি তোমরা আল্লাহ ও কেয়ামত দিবসের উপর বিশ্বাসী হয়ে থাক। আর এটাই কল্যাণকর এবং পরিণতির দিক দিয়ে উত্তম।" [সূরা নিসা ৫৮-৫৯]

অতীত স্মৃতি এবং খোঁটা দেয়া

অতীত স্মৃতি
অতীতের স্মৃতি সবাইকে ভোগায়। অতীতের ভুল অন্তরকে বিদ্ধ করে, অতীতের কষ্ট ক্রমাগত বেদনার উদগীরণ করে। বিশেষ করে যেই মানুষ আল্লাহকে ভালোবেসে, ইসলামের অনুপম সৌন্দর্যকে অনুধাবন করে দ্বীনকে ধারণ করতে চায় -- তাকে সেই অতীতের পাপ দংশন করতে থাকে, সেইটা বাঁধন-হারা কষ্টে রূপান্তরিত হয় যখন আরেকজন মুসলিম/মুসলিমাহ সেই ভুল নিয়ে কটাক্ষ করে।

১৫ সেপ, ২০১২

ফেবুলাপঃ ভালোবাসা আর উন্মত্ততা

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।

মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা, যিনি এই বিশ্বজগতের অধিপতি, তিনি জানেন সমস্ত মানুষের অন্তর। আমি একজন ক্ষুদ্র মানুষ। দুইটা চোখ আর একটা মাথা ছাড়া এই মূহুর্তে তেমন কোন উল্লেখযোগ্য ক্ষমতা নেই, তাও কেবল আল্লাহ তা দান করেছেন বলেই আছে। প্রিয় নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে কটাক্ষ করে একটা মুভি বানানোর দুঃসাহস দেখানোর পরে পর তার যেই দিশেহারা বহির্প্রকাশ মুসলিমদের কাছ থেকে -- তা হয়ত ইহুদী-খ্রিষ্টানদের যারা এই ষড়যন্ত্রে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ মদদ দিয়েছে, তাদের জানা ছিলো পুরোপুরি। লিবিয়ার পথে রণতরী রওনা হয়েছে পড়েছি পত্রিকায়। যে বা যারা আগুন জ্বালিয়ে হত্যাকান্ড চালিয়েছে, তারাই আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলার দরবারে ভালো জবাব দিতে পারবে -- তবে এতটুকু বুঝি, যারা মারা গেছে, তারা যদি নবীজীর (সা) নামে কুৎসা রটনার কাছে জড়িত থেকে না থাকে -- তাদের বিচার আল্লাহই জানেন, হত্যাকারীদের বিচার সহজ হবার কথা না। যেই প্রবল শক্তিশালী উন্মত্ত আগুণ জ্বলতে দেখলাম, তার কতটা বাস্তব, কতটা শো-অফ, সেটাও আল্লাহই ভালো জানেন।

৫ সেপ, ২০১২

আমার আঁধার, আমার ঘুম


আমার প্রতিটি যোগ্যতা -- প্রতিটি চিন্তার ক্ষমতা, সুস্থ সুন্দর হাসি দেয়া, কারো সাথে কথা বলা, সুন্দর পায়ে হেঁটে যাওয়া, কলম ধরে লিখতে পারা, কথা দেখে বুঝতে পারা, নিরোগ দেহে ঘুমাতে যাওয়া, প্রিয়জনদের সাথে অভিমান করতে চাওয়ার মনটাও, কষ্ট পাবার বোধটাও --- সব, স-অ-ব আমার আল্লাহ আমাকে দান করেছেন, এই নাদান, দুর্বল, মাটির তৈরি তুচ্ছ দেহটা সেই *আমার রূহ* ধারণ করেছি।

এই এত শত-সহস্র-নিযুত উপহারগুলোতে আমার কোনই অবদান নেই। তবু আমি দম্ভ করি, তবু আমি অহংকার করি, তবু আমি নিজেকে অনেক অনেক যোগ্য ভাবি... আমি এতই উজবুক আর বোকা। ওরে বেকুব, কখনো চারিদিকে তাকিয়ে দেখেছিস ওই পথচলার সময়? কত হাজার মানুষের কাছে তোর যা আছে তার অর্ধেকটাও নাই -- তার আর তোর মাঝে কোনই পার্থক্য নাই। ভেবেছিস এটা তোর জন্য একটা সুযোগমাত্র? এই উপহারগুলোর পার্থক্য কেবলই একই পরীক্ষার অন্য সেটের প্রশ্নমাত্র।

২ সেপ, ২০১২

দাওয়াতের নামে বিদ্বেষ ছড়ানো

ক'দিন আগে বেশ কিছু অভিজ্ঞতা হলো একই দিনে। সেদিন সন্ধ্যায় অফিসের বসের গাড়িতে করে বাড়ি ফিরছিলাম, উনি কথার প্রসঙ্গে বললেন, একটা হাদিসে তিনি পড়েছিলেন, একজন মানুষকে আল্লাহর কাছে যে কয়টা বিষয়ের হিসাব দিতে হবে তার কয়েকটা হলো, কীভাবে অর্থ উপার্জন করেছে, উপার্জিত অর্থ কীভাবে ব্যয় করেছে, যৌবন কীভাবে অতিক্রম করেছে...

এটুকু শুনে ড্রাইভার বলে উঠলো, "যদি হিসাব দিতে না পারি?"।
উনি বললেন, "তাহলে তো যা হবার সেটাই হবে, আল্লাহ ভালো জানেন"।
ড্রাইভার বললো, "এত কিছু না, নামায কালাম করতে হইবো, এইডা ঠিক। অন্যসব কথাই একেকটা মৌলভী একেক কথা কয়"।
- সবাই একই কথা বলে, আলাদা ভাষায় বলে।
- নাহ। আমাগের কাকরাইল মসজিদে যাই, সেইখানে তো নামাযের পরে মোনাজাত ধরেনা, সব মসজিদগুলানে হাত তুইলা দোয়া করনই লাগবো। কোথায় আছে যে মোনাজাত হাত তুইলা করতে হইবো।
- দোয়া তো হাত তুলেই করে। নামাজের পরে ভালো সময়
- ওই তো। একেক মৌলভীরা একেক কথা কয়। কেউ কয় এইটা ছিলনা, কেউ এইটা ছাড়া করবো না।

একজন ড্রাইভারের কাছে *মৌলভীদের* কথাকে দ্ব্যর্থক, ভিন্ন মনে হয়েছে কারণ একটা মোনাজাতের হাত তোলা নিয়ে *মৌলভীদের* ভিন্ন ভিন্ন বিচিত্র অবস্থান নিয়ে সে সন্দেহগ্রস্ত। এমনকি সেদিন আমাকে আরো একটা ফোন কল পেতে হয়েছে যেখানে এই ভিন্ন ব্যাখ্যা ও আরেকজনকে ভুল বলার কারণে সেই আমজনতা কনফিউজড হয়ে গিয়েছিলো।

জুজুর ভয়

এই জীবনে দুই যুগ পার হবার পর আমি চির আকাঙ্খিত জিনিসটা পেয়েছিলাম। আমার এই জীবনে তা এমন একটা দিকের নির্দেশনা যা বেঁচে থাকার, জীবনকে অর্থপূর্ণ আর কর্মময় করার অনুপ্রেরণা দেয়। মুসলিম পরিবারে মৌলিক ইবাদাতের ব্যাপারে খুব সিরিয়াসভাবে বড় হওয়া সত্বেও কিশোর বয়সে এই দেশের হতভাগা আরো লক্ষ লক্ষ ছেলেমেয়েদের মতন লক্ষ্যহীন এক জীবনে পা দিয়ে ফেলেছিলাম আমি। কেন? কারণ, জীবনে অজস্র উত্তরহীন প্রশ্ন ছিলো, আল্লাহর বান্দা হিসেবে জীবন চালানোর অনুপ্রেরণাই ছিলোনা, দিক নির্দেশনা ছিলোনা সেই কঠিন সময়ে গড়ে ওঠার ব্যাপারে। কত ভয়ংকর সব অভিজ্ঞতার মাঝে এই জীবনটাকে নিয়ে বেঁচে সরে এসেছি আল্লাহর অশেষ রহমতে, সেটা আমি জানি। অনেক বৈচিত্র্যময় মতাদর্শ দেখেছি, কোনটাই আমাকে স্পর্শ করতে পারেনি, কারণ তারা সবই আমার কাছে ঠুনকো লেগেছিলো সবসময়।