(৫০৮)
আপনার চোখগুলো যা দেখতে চায়, আপনি তো কেবল সেটাই দেখতে পান।
মূল দেখার বস্তুগুলো আমাদের কন্ট্রোলের বাইরে, আল্লাহ যা চান, সেটাই হয়। তাই, ঘটনাগুলো দেখতেই হয়। কিন্তু ঘটনা তো প্রতি মূহুর্তেই আমাদেরই চারপাশে অজস্র। ফ্যান ঘুরলে কাপড় নড়ে, বাইরে পাখি ডাকে, কেউ কাউকে কিছু বলতেসে, এমন হাজারো ঘটনা। এগুলোর মাঝে আমরা যেটা চাই, সেটাই কেবল খেয়াল করি। আর যা খেয়াল করি, তাকে নিজেদের ইচ্ছেমতন ব্যাখ্যা করি। রাস্তায় কেউ কাউকে থাপ্পড় দিলো-- এই দৃশ্য দেখে আপনি ভাবতে পারবেন এটা অন্যায়, ভাবতে পারবেন দুর্বলদের উপরে সবলের অত্যাচার, ভাবতে পারবেন এটা বড় ভাই ছোট ভাইকে শাসন করেছে। ঘটনা যাই হোক, যে অনুভূতি আপনি পেতে চান, আপনি নিজেকে সেটাই বিশ্বাস করান, ঘটনা তখন তেমনটিই মনে হয়।
[২৪ এপ্রিল, ২০১৬]
(৫০৯)
সচরাচর আমাদের হাসি থাকে মৃদু, উচ্চস্বরে নয়। সেটাই উত্তম। কিন্তু মাঝে মাঝে খ্যাক খ্যাক করে হাসতে হয়, মাঝে মাঝে হিহিহি করে, আবার কখনো হোহোহো করেও হাসতে হয়। কখনো হাসি হবে মুচকি, কখনো নিঃশব্দে দাঁত বের করেও হাসা উচিত। হৃদয়কে বৈচিত্র্য দিয়ে আনন্দ দেয়া উচিত, তাহলে মানুষটার ব্যক্তিত্বের মাঝেও আনন্দময় ভিন্নতা তৈরি হতে পারে।
যে প্রাণখুলে হাসতে জানে না, তার প্রাণের উচ্ছ্বলতা প্রকৃতপক্ষে মরেই থাকে। হাসিতে থাকে আমাদের হৃদয়ের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি।
(৫১০)
শাইখ হামজা ইউসুফ হ্যানসনের আব্বা মারা গেছেন ক'দিন আগে, পৃথিবীর অনেক স্কলাররাই তাদের ভালোবাসা প্রকাশ করছেন, দোয়া জানিয়ে। ৮৯ বছর বয়সে এসে তিনি মৃত্যুর কিছুকাল আগে কালেমা শাহাদাত পাঠ করেন। কী সুন্দর বিদায়! যার ছেলে সবাইকে ভালোবেসে গিয়েছে, শেখায় উদারতা, সহমর্মিতা আর জ্ঞানের গভীরতা; তার পিতা ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা পাবেন-- এটাই তো স্বাভাবিক। আল্লাহ হামজা ইউসুফের পিতাকে জান্নাতবাসী করুন এবং আমাদের উত্তম, সহজ, ঈমানী মৃত্যু দান করুন।
[১৯ এপ্রিল, ২০১৬]


















